

Buy সাঁঝবাতি Online in Bangladesh
লেখক: মুহম্মদ আলমগীর তৈমূর
- Author: মুহম্মদ আলমগীর তৈমূর
- Publisher: বিবলিওফাইল প্রকাশনী
- Number Of Pages: 160
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2025
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
“ওই বাক্সের ভেতর কমলা মায়ের জেড পাথরের যে মূর্তিটা আছে, ওটাই আসল। গুপ্তধনের থেকেও হাজার গুণ বেশি দামি। গুপ্তধন একবার পেতে পারেন। উড়নচণ্ডী হলে খরচ হতেও বেশি দেরি হবে না। কিন্তু মা কমলা স্বয়ং লক্ষ্মী। তার ভাণ্ডার কখনও শেষ হওয়ার নয়। ঠিকমতো উপাচার সাজিয়ে সঠিক নৈবেদ্য দিয়ে মায়ের পুজো করলে অসীম ধন লাভ হবে। যতবার চাইবেন ততবার পাবেন। না, মা নিজে এসে আপনার সিন্দুক ভরে দিয়ে যাবেন না। যা হবে তা হলো: আপনি যেখানে হাত দেবেন, সেখানেই সোনা ফলবে। পুজো করবেন আর আঙুল ফুলে কলাগাছ হবেন। তবে হ্যাঁ, যতদিন যাবে ভারী হবে পুজোর নৈবেদ্য।”“ভারী নৈবেদ্য আবার কী?”“প্রথমে ফুলফল, বেলপাতা, আর কুমড়ো বলি দিয়ে পুজো দিলেও শেষ দিকে পশুবলি থেকে শুরু করে নরবলি অব্দি গড়াতে পারে।”.............প্রিয় পাঠক, বুঝতেই পারছেন। নরবলি অব্দি গড়িয়েছে ব্যাপারটা। কিন্তু কেন? লাভ কী? কার বলি দেওয়া হলো? দিলই বা কে? সেসবের সঙ্গে কী সম্পর্ক নিরীহ তালেবে-এলেম, হজরত আলীর?জানতে হলে . . . ? আরকি . . . পড়ে ফেলুন সাঁঝবাতি!
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

========= কাহিনী সংক্ষেপ ========== “সব রাস্তা-ই কোথাও না কোথাও গিয়ে শেষ হয়। আসলেই কি তাই? না, ব্যাপার সেরকম মোটেও না। পথ, পথের জা’গাতেই থাকে। শেষ হয় সে, যে ওই পথে হাঁটে। পথ না, খতম হয় পথিক!” দুই ভাই, এক বোন ও বাবা-মার অভাবের সংসারে হযরত আলি একমাত্র আলিয়া মাদ্রাসার গণ্ডি পর্যন্ত যেতে পেরেছে। কিন্তু অভাবের তাড়নায় সেটাও বন্ধের উপক্রম হলো যখন তার পড়াশোনার খরচ চালানো মেজ মামাও পরপারে পাড়ি জমালো। তাই পড়াশোনার চাইতে বরং পেটের তাড়নাতেই আলি পরিবারের আশায় না থেকে লজিং বা জায়গির খোঁজায় চেষ্টায় মন দিলো। এমনি এক জুম্মাবারে আলি খুঁজতে খুঁজতে দেখা পায় তপন চৌধুরী নামে এক যুবকের। তখন আশির দশকের গোড়ার দিকের বাংলাদেশ; সবেমাত্র কুরিয়ার সার্ভিসের পথচলা শুরু। তিনিই তখন আলির দুরাবস্থা দেখে জায়গিরের বদলে কুরিয়ার সার্ভিসে তাকে স্বল্প বেতনের একটি চাকরির সুযোগ করে দেন। তবে চাকরি খুব সুবিধাজনক না হলেও আলির করুণ আর্থিক দৈন্যদশা ঘুচাতে সেই চাকরিই ছিলো তার একমাত্র আশার আলো। শুরু হলো আলির নতুন পথচলা। চাকরির সুবাদেই উত্তরবঙ্গের এক জেলাতে কুরিয়ারের পার্সেল ডেলিভারি করতে যেয়ে গ্রাহকের খোঁজে আলি রওনা দেয় এক মোষের গাড়িতে চড়ে। গাড়োয়ানের সাথে আলাপচারিতায় চলে এলো তার পারিবারিক ইতিহাস, লোভ, গুপ্তধন, রহস্যময় মূর্তি ও তার বিচিত্র পূজা এবং শেষে নরবলি! আলির হাতে থাকা পার্সেল কি গ্রাহকের হতে গিয়ে পৌঁছেছিলো নাকি এটাই ছিলো আলির শেষ গন্তব্য? ========= পাঠ প্রতিক্রিয়া ========== তৈমুর স্যারের সর্বশেষ বই পড়েছিলাম ‘বেতাল’। তবে সেই বইটিতে সামান্য আশাহত হয়েছিলাম; কারণ বইটি অনেকটা হয়ে গিয়েছিলো ভ্রমণকাহিনী কাম অতিপ্রকৃত রহস্য। তবে এই বইটি অনকটাই সেখান থেকে উতরে গিয়েছে। এই লেখায় ইতিহাস, মিথ, অতিপ্রাকৃত রহস্য সবই রয়েছে পরিমাণমতো। অনেকটা এক বসাতেই বইটা শেষ করে ফেললাম। বইয়ের কাহিনীর আকর্ষণও ছিলো দারুণ। নেই অতিমাত্রায় চরিত্রের ঘনঘটা ও বাহুল্য বিবরণ। স্যারের লেখায় উঠে আসা মিথলজি, হরর, সাসপেন্স এবং অতিপ্রাকৃত রহস্য অত্যন্ত মোহগ্রস্থ এক পরিবেশ তৈরি করে; যা পাঠককে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে বইয়ের শেষ পাতা পর্যন্ত। সাঁঝবাতির ক্ষেত্রেও একদম শেষ পর্যন্ত তাই হয়েছে। তবে শেষটা হয়েছে একেবারে হটাৎ করেই। যা আমার কিছুটা খারাপ লেগেছে। বরং সেখানেও একটু নাটকীয়তা, হরর ও সাসপেন্স থাকলে বইটি আরো জমজমাট হতো। যাই হোক রহস্যপ্রিয় পাঠকদের কোনক্রমেই বইটি মিস করা উচিত হবে না। আর স্যারের পরবর্তী লেখার জন্য শুভকামনা রইলো। প্রোডাকশনঃ কভার ডিজাইন ও বইয়ের ভিতরের ইলাস্ট্রেশনগুলো আমার কাছে দারুণ লেগেছে। বইয়ের পৃষ্ঠা ও ছাপার কোয়ালিটিও দারুণ ছিলো। এক্ষেত্রে একটা ধন্যবাদ দিতেই হয়। কোন বানান ভুল চোখে পড়েনি। ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৮.৫/১০।

বইঃ সাঝঁবাতি লেখকঃ মুহম্মদ আলমগীর তৈমূর প্রকাশনীঃ বিবলিওফাইল একবসায় পড়ে শেষ করলাম মুহম্মদ আলমগীর তৈমূর স্যারের "সাঝঁবাতি" বইটি। গল্পের পটভূমি শুরু হয় আশির দশকের দিকে, "হযরত আলী"নামের এক যুবককে নিয়ে;যে দারিদ্রতার কারণে মাদ্রাসার পড়াশোনা শেষ করতে না পেরে শেষমেশ পরিবারের হাল ধরতে চাকুরি নেয় সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের।তার কাজ মূলত ওভারনাইট পার্সেল ডেলিভারি করা। এভাবে পার্সেল ডেলিভারি করতে গিয়ে পথিমধ্যে দেখা হয় "বলরাম বাইন" নামে এক মোষের গাড়ির গাড়োয়ানের সাথে।গল্প এখান থেকেই শুরু, গল্পটা মূলত বলরামের কিন্তু এখানে হযরত আলীর ভূমিকা আসলে কি? সে কি আসলে শুধুই একজন শ্রোতা মাত্র ? বলরামই বা কে?? শেষ পর্যন্ত সব এক সূত্রে গেথে দিয়ে হিন্দু পুরাণ,অতিপ্রাকৃত,হরর,তন্ত্র-মন্ত্র,নরবলি এসবকিছুর মিশেলে এক অপূর্ব গা শিউরে উঠা আখ্যান তৈরী করেছেন আলমগীর তৈমূর স্যার। তিনি মূলত লেখকদেরও লেখক। বরাবরেই মতোই দূর্দান্ত লেখনশৈলী,অসাধারণ গল্প-বুননের ফলে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উপন্যাসিকাটি পরিপূর্ণ মনোযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে।💜 পুনশ্চঃঅনেক বড়ো পরিসরে আলোচনা করার ইচ্ছে ছিলো কিন্তু বইটি যেহেতু নতুন তাই স্পয়লার বিহীন সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া জানালাম নাহলে নতুন পাঠকরদের জন্য সমস্যা হতে পারে। হ্যাপি রিডিং।🙏
সাঁঝবাতি মুহম্মদ আলমগীর তৈমুর লোভে পাপ..পাপে মৃত্যু...আবার এমন পাপ ও আছে যাতে মৃত্যুর পরে প্রেতাত্মা হয়েও ছাড় নেই! কোনো স্পয়লার নেই দরিদ্র মাদরাসা ছাত্র হজরত আলী পেটের দায়ে সেই আশির দশকে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসে (জি,বছরের প্রথম দিনে ফি বাড়ানো আমাদের সুন্দরবন) জরুরি কাগজ প্রাপকের হাতে পৌঁছে দেয়ার কাজ নেয়,এক অজ পাড়াগাঁয়ে ডেলিভারি দিতে গিয়ে দেখে সেই লোক আছে তার শশুরবাড়ি,আরেক অজপাড়াগাঁ। সেইদিকে যাবার সময় ভাগ্যক্রমে এক মোষের গাড়ির দেখা পায় যে কেরু এন্ড কোং এর মিষ্টি গন্ধের কাঁচামাল চিটাগুড় নিয়ে ওইদিকেই যাচ্ছে। মূল কাহিনীর কথক এই মোষের গাড়ির গাড়োয়ান বলরাম(!) আসলে আলমগীর তৈমুর স্যারের লেখা যারা পড়েছেন তারা ভালোই জানেন যে ওনার লেখায় ইতিহাসের অনেক অজানা বিষয় থাকে বিশেষত উপমহাদেশীয় মিথলজি,হরর,সাসপেন্স এবং সর্বোপরি অত্যন্ত উচ্চমানের হিউমার একজন পাঠককে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে বইয়ের শেষ পাতা পর্যন্ত। সাঁঝবাতিও একদম শেষ পর্যন্ত তাই হয়েছে। তৌফির হাসান উর রাকিব ভাই এর ভূমিকার সাথে সম্পূর্ণ একমত পোষণ করে বলতে চাই " স্যার যে কতো বড়মাপের লেখক,সেটা বাংলাভাষী আপামর পাঠকরা এখনও সঠিকভাবে অনুধাবন করতে পারেনি।" আমার চোখে স্যার লিভিং লিজেন্ড,উপমহাদেশীয় মিথলজি,হরর জনরায় স্যারের মত এমন অসাধারণ মৌলিক কাজ খুব বেশি চোখে পড়েনা। পরিশেষে এরপর কি হয় কি হয় করতে করতে মাত্র ১৫৮ পৃষ্ঠায় শেষ হয়ে গেলো গল্পটা,বেচারাম আর হজরত আলীর কি হলো সেটা বই শেষ করেও ভাবছি আর আবার কবে স্যারের বই পাবো সেটা ভেবে চুল ছিঁড়ছি!

























