দ্য রেড সুলতান
বই কালেকশন

Buy দ্য রেড সুলতান Online in Bangladesh

লেখক: মুহাম্মদ জাহিদ হোসাইন

4.55
(18 টি কাস্টমার রিভিউ)| স্টকে আছে
Highlights:
  • Author: মুহাম্মদ জাহিদ হোসাইন
  • Publisher: অনুজ প্রকাশন
  • Number Of Pages: 208
  • Language: বাংলা
  • Edition: 1st Published, 2025
৳ 315৳ 42025% ছাড়
স্টকে আছে
উপলব্ধ প্রোমো কোডসমূহ:
দ্রুত ডেলিভারি
৭ দিনের রিটার্ন
১০০% অথেনটিক

পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)

ফ্ল্যাপ:একদিন হঠাৎ সুলতান দ্বিতীয় আব্দুল হামিদের দরবারে ঢুকে পড়ে এক অচেনা আগন্তুক। শরীর জুড়ে ক্ষত, কপাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে রক্ত, তবুও হাসপাতালে না গিয়ে ছুটে এসেছে সরাসরি সুলতানের কাছে। কারণ তার কাছে আছে এমন এক গোপন তথ্য, যা ফাঁস হলে উন্মোচিত হবে সাম্রাজ্য কাঁপানো এক গোপন ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্র।কিন্তু যখন সে মুখ খুলতে যাচ্ছে, তখনই যন্ত্রণায় জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। সাথে সাথে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয় এবং অজানা থেকে যায় সেই গোপন তথ্য।কে এই রহস্যময় আগন্তুক? কী সেই গোপন তথ্য, যে তথ্যের ফাঁস রোধ করতে মৃত্যুই হয়ে গেল তার একমাত্র পরিণতি। শেষ পর্যন্ত কি সুলতান সেই অন্ধকার রহস্য উন্মোচন করতে পারবেন? কারা রয়েছে এই চক্রান্তের আড়ালে, আর তাদের আসল উদ্দেশ্যই বা কী?প্রিয় পাঠক, আপনাকে স্বাগতম এমন এক খেলায়—যেখানে সত্য এবং রহস্য দম বন্ধ করে, ষড়যন্ত্র ফাঁদ পাতে আর বিশ্বাসঘাতক হাসে ছায়ার আড়ালে।“দ্য রেড সুলতান”—ওসমানীয় সাম্রাজ্যের খলিফা সুলতান আব্দুল হামিদের শাসনামলের প্রেক্ষাপটে রচিত এক রাজনৈতিক থ্রিলার। এখানে রয়েছে টুইস্ট, অ্যাকশন, রহস্য আর আবেগের সমন্বয়। সুলতান বনাম পশ্চিমাদের রাজনীতি আর মাইন্ড গেম এমনভাবে ফুটে উঠেছে যে, প্রতিটি অধ্যায় শেষে আপনাকে পরের পৃষ্ঠা উল্টাতে বাধ্য করবে।উপন্যাস - দ্য রেড সুলতানলেখক - মুহাম্মদ জাহিদ হোসাইন

রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

4.55
(18 টি কাস্টমার রিভিউ)
5
72%
4
28%
3
0%
2
0%
1
0%
880****706
880****706 ভেরিফাইড
19 Mar 2026

#bookreview ফিলিস্তিন-ইস*রা*য়েল সংঘাত বর্তমানে বেশ আলোচনার বিষয়। কিন্তু এই সংঘাতের গল্প হঠাৎ করে শুরু হয়নি। এর পিছনে লুকিয়ে আছে ওসমানীয় সাম্রাজ্যের নানান ভূমিকা। সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে ছিলেন অত্যন্ত সাহসী, আপোষহীন সুলতান আব্দুল হামিদ দ্বিতীয়। তিনি পশ্চিমাদের কাছে ছিলেন 'দ্য রেড সুলতান' নামে পরিচিত। 'দ্য রেড সুলতান' নামের যথার্থতা না থাকলেও এই নামেই তাকে চিত্রিত করা হয়েছে। ‎ ‎তবে তুর্কি লেখায় এর ভিন্ন চিত্রই উঠে আসে এই বইয়ের মতো। লেখক মুহাম্মদ জাহিদ হোসাইনের লেখা দ্য রেড সুলতান বইয়ে জানা যায় পশ্চিমাদের কালো ষড়যন্ত্র। কিভাবে এই ইতিহাস বিকৃত হয়ে আসছে তা ভাবলে বেশ অবাকই হতে হয়। তবে শুধুমাত্র এই বইটি পড়েই শতভাগ নিশ্চিতভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব না সেই সময়ের অবস্থা বা পরিস্থিতির কথা। তবে বর্তমান পশ্চিমা বিশ্বের দিকে তাকালে বইয়ে উল্লিখিত সব যে মিথ্যা না তা নিসন্দেহে বলা যায়। বরং তাদের ষড়যন্ত্রের করাল গ্রাস কতটা বিধ্বংসী সেটা অনুমান করে শিউরে উঠতে হয়। ‎ ‎◾বইয়ের শুরুটা বেশ নাটকীয়। অধ্যাপিকা কানিজ ফাতেমা ইতিহাস বিভাগের প্রধান। ফলে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার থিসিস পেপার তিনি দেখে দেন। তার মতামতকেই চূড়ান্ত হিসেবে ধরা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় সুলতান আব্দুল হামিদ সম্পর্কে একটি ডকুমেন্ট হাতে আসে তার। অল্প একটু পড়ে তার মেজাজ খারাপ হয়। ঘটনাচক্রে স্বয়ং লেখক আসেন এবং পরবর্তী গল্প আমরা লেখকের মুখেই জানতে পারি। ‎ ‎◾সুলতান আব্দুল হামিদ যখন সিংহাসনে বসেন তখন ওসমানীয় সাম্রাজ্য নানান সমস্যায় জর্জরিত। ঋণের বোঝা থেকে সুলতানের দূরদর্শিতা, প্রজ্ঞার কারণে উন্নতির পথে আসলেও বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় অভ্যন্তরীণ ও বহির্বিশ্বের ষড়যন্ত্র। বারবার শত্রুদের ষড়যন্ত্রের হাত নস্যাৎ করার কারণে শত্রুরা আরো মরিয়া হয়ে উঠে। এইসব ঘটনার মাঝেই হঠাৎই একদিন সুলতানের দরবারে হাজির হয় এক রহস্যময় আগন্তুক। আগন্তুক ও আগন্তুকের ছায়া পুরো বইয়ে উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করে। এই ষড়যন্ত্র, রাজনৈতিক মারপ্যাচ, প্রতিহিংসার শেষ কোথায়? কে এই আগন্তুক? সুলতানের সিংহাসন টিকিয়ে রাখতে এই আগন্তুক ও তার ছায়ার বিশেষ কোন ভূমিকা আছে? সুলতানের শেষ পরিণতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা জানতে রুদ্ধশ্বাসে এগোবে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা। রহস্যের সমাধান পাঠকই করবেন বইয়ের পাতায়! ‎ ‎ ‎◾পুরো বইয়ে বেশ টানটান উত্তেজনা। জানার আগ্রহ শেষ পর্যন্ত থাকলেও বইয়ে ভুলের পরিমাণ একেবারে কম ছিল এও বলা যায় না। ‎ ‎. প্রথমে যেই ত্রুটিটি নজরে আসে তা হলে বইয়ের শুরুর দিকে উল্লেখিত সালের ক্ষেত্রে। উলেখিত সর্বপ্রথম সালটি হচ্ছে ১৯৮১, দুপুর ১২ টা। অর্থাৎ, কানিজ ফাতেমা ও লেখকের মাধ্যমে আমরা যখন কাহিনী জানছি তখন তার সময় ১৯৮১ সাল উল্লেখ করেছেন লেখক। আমরা ধরে নিতে পারি, ১৯৮১ হচ্ছে আমাদের বর্তমান সময়। এরপরের টপিকে এসেছে ১৯৯৬ সালের উল্লেখ। ১৯৮১ সালে বসে ১৯৯৬ সালের কথা আমাদের জানা সম্ভব না। এরপরের সালটি ১৮৭৬ সাল। এই সালটি মানানসই। ১৮৭৬ সালের পর আর কোন সালের উল্লেখ নেই। ধরে নেওয়া যায় আমরা ১৮৭৬ সালের কাহিনীই এরপর জেনেছি পুরোটা সময়। ‎তারিখের ক্ষেত্রে এমন অসামঞ্জস্য কেন? টাইপিং মিস্টেক? নাকি এর কোন ব্যাখ্যা আছে তা লেখকের কাছে জানতে আগ্রহী। ‎ ‎. এরপর যদি ফ্ল্যাপের দিকে তাকাই সেখানে উল্লেখ আছে আগন্তুককে 'সাথে সাথে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়'। তবে বইয়ে এর ভিন্ন চিত্র আছে। আগন্তুক অজ্ঞান অবস্থায় আরো বেশ কিছুদিন ছিল। এরপর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মৃত ঘোষণা করা হয়। ফ্ল্যাপের মধ্যে আরো স্পষ্ট করে খোলাসা করার দরকার ছিল। নয়তো বইয়ে এই বিষয়টি ফ্ল্যাপের সাথে মিল রাখার প্রয়োজন ছিল। ফ্ল্যাপের মধ্যে ছোটখাটো ভুলও দৃষ্টিকটু দেখায়। ‎ ‎◾বইয়ের সম্পাদনা ঠিকঠাক হয়েছে কিনা বলতে পারবো না। তবে সম্পাদনা হলে এই ভুলগুলো নজরে পড়ার কথা। বিশেষ করে সালের বিষয়টি। এছাড়া বইয়ে শুরুতে বানান ভুল কম থাকলেও ধীরে ধীরে এর মাত্রা বেড়েছে। বানান নিয়ে তেমন সমস্যা না হলেও টানটান উত্তেজনাপূর্ণ মুহুর্তে বাঁধার সৃষ্টি করে। ‎অনেক জায়গায় দেখা যায় এক বাক্যের সাথে আরেক বাক্য সাংঘর্ষিক। একজায়গায় বলা হচ্ছে ‎..... স্থির কিন্তু নিস্পৃহ। নিস্পৃহ মানে আগ্রহ না থাকা। যার কোন আগ্রহ নেই তার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার অপেক্ষায় থাকা মানানসই নয়। এমন আরো দুয়েক জায়গায় ছিল। ‎ ◾‎লেখকের লেখনী শুরুতে সাবলীল ভাবে পড়ে গেছি। ৯০ পৃষ্ঠার পর থেকে কিছুটা জড়ানো, ধীরগতির মনে হলো। বেশ কয়েক পৃষ্ঠা এমন ছিল। অবশ্য শেষের দিকে টুইস্টের পর টুইস্ট পেয়ে অত্যন্ত উত্তেজিত ছিলাম। কি হবে না হবে এই ভাবনায় কেটেছে। তখন অবশ্য দ্রুত পড়ে যেতে তেমন কোন সমস্যা হয়নি। ◾অনুজ প্রকাশনের বইয়ের কোয়ালিটি বেশ ভালো ছিল। কাগজের মান, বইয়ের কভার সুন্দর ছিল। প্রচ্ছদও মোটামুটি সুন্দর। ‎ ‎◾বইয়ের শুরুতে এবং বই পড়া শেষে উইকিপিডিয়া, চ্যাটজিপিটি থেকে সুলতান আব্দুল হামিদ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেছিলাম। সুলতানকে কঠোর রাজনৈতিক পদক্ষেপের কারণে পশ্চিমারা নাম দেয় 'দ্য রেড সুলতান '। শুরুতেই বলেছি এটি কতটা মিথ্যা তা বই পড়ার মাধ্যমেই উপলব্ধি করা যাবে। তবে এটি পড়েই সুলতান সম্পর্কে শতভাগ ধারনা করা যাবে না। অনেক জানাশোনার প্রয়োজন আছে। লেখক এই বইয়ের মাধ্যমে ফিকশনের আদলে বলেছেন অনেক কিছু। এর পরবর্তী খণ্ডে আশা করি ভুল ত্রুটির পরিমাণ কম থাকবে। সম্পাদনা আরো ভালো হবে এই আশা করায় যায়। পরবর্তী পার্টের অপেক্ষায়। ‎ ‎ ‎◾ইতিহাস আমাদের বারবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় বাহিরের শত্রুর থেকে ভিতরের শত্রু কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে। আপন লোকের বিশ্বাসঘাতকতার কারণেই পরাজয় হয়েছে বড় বড় সাম্রাজ্যের, রাজাদের। সুলতানের পরিণতি আমাদের জানা। এরপরও আমরা জানি না বিশ্বাসঘাতকরা কতটা ভয়ানকভাবে পিছে ছুরি মারতে পারে। এবং ইস*রা*য়েল রাষ্ট্রের সৃষ্টিতে ইহুদিদের তো ভুমিকা আছেই সাথে আছে কিছু মুসলিম নামধারী লোভী, বিশ্বাসঘাতকের হাতও। বইয়ের বিষয়বস্তু খুবই আকর্ষণীয়। লেখক অনেক পড়াশোনা করে কাহিনী বিন্যাস সাজিয়েছেন তা বুঝায় যায়। সুলতান আব্দুল হামিদ সম্পর্কে জানতে, ইস*রা*য়েল রাষ্ট্রের শুরুর প্রেক্ষাপট জানতে হাতে তুলে নিতে পারেন 'দ্য রেড সুলতান ' ‎ ‎ ‎বই : দ্য রেড সুলতান। ‎লেখক : Mohammad Zahid Hossain ‎মুদ্রিত মূল্য : ৪২০ টাকা। ‎পৃষ্ঠা সংখ্যা : ২০৮। ‎প্রকাশনী : অনুজ প্রকাশন।

880****425
880****425 ভেরিফাইড
11 Mar 2026

​আমাদের দেশের সমকালীন থ্রিলার পাঠকদের মধ্যে বিদেশি অনুবাদের প্রতি ঝোঁক বেশি দেখা যায়। যারফলে মৌলিক বইগুলো চাপা পড়ে যায়। 'দ্য রেড সুলতান'-এর মতো মৌলিক পলিটিক্যাল থ্রিলার নিয়ে আলোচনা তুলনামূলক কম। এই বইটি আরও বেশি হাইপ পাওয়ার দাবি রাখে। এমন একটি শক্তিশালী প্লটে উল্লেখযোগ্য ত্রুটিহীন একটা বই লিখতে লেখকের কি পরিমাণ খাটতে হয়েছে তা আমাদের বোধগম্য। একজন লেখকের পরিশ্রম তখনি অর্থপূর্ণ হবে যখন পাঠক তার লিখা পড়ে উপকৃত হবে, জানবে, শিখবে। দ্য রেড সুলতান তেমনই একটা বই।

Alomgir Kazi
Alomgir Kazi ভেরিফাইড
06 Mar 2026

ই জরায়েল - ফি লিস্তিন যুদ্ধের বিষয়টি বর্তমানে আমাদের সকলরেই জানা। বর্তমানের এটি আলোচিত বিষয় হলেও এর সূত্রপাত, ফিলিস্তিন নিয়ে ইহুদিদের ষড়যন্ত্র, পরিকল্পনা, এবং তা বাস্তবায়ন করার লক্ষ্য বিভিন্ন কর্মকান্ডের সূত্রপাতটা হয়েছিলো আজ থেকেও প্রায় দেড়শো বছর আগে। সেই সময়কার ফিলিস্তিনের অভিভাবক ছিলেন, ওসমানীয় সাম্রাজ্যের সুলতান দ্বিতীয় আব্দুল হামিদ। " দ্য রেড সুলতান " পশ্চিমাদের  সুলতান আবদুল হামিদকে দেওয়া উপাধী। যার মাধ্যমে তাকে বর্বর, স্বৈরাচারী আর গণহত্যাকারী একজন শাসক হিসবে তারা চিহ্নিত করতো। 🔸কাহিনি সংক্ষেপ : দ্য রেড সুলতান " বইটা পলিটিক্যাল থ্রিলার জনরার একটি উপন্যাস। যার মূল চরিত্র সুলতান আবদুল হামিদ খান।উপন্যাসের শুরু কিছুটা নাটকীয়ভাবে। দুজন মানুষের কথোপকথনের মাধ্যমে। একজন লেখক যিনি পুরো গল্পটা বলে গেছেন। অধ্যাপক ফাতিমা যিনি ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের প্রধান। যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় তার মতামতকেই চূড়ান্ত হিসেবে ধরা হয়। তার কাজের সূত্র হিসেবেই তিনি কিছু গবেষকদের থিসিস পেপার যাচাই করতে বসেন। সেখানে সুলতান আবদুল হামিদের নামের  শিরোনামের একটি থিসিস পেপার পড়তে গিয়ে তার মেজাজ খারাপ হয়। তিনি থিসিস পেপারের গবেষক লেখক জাইদ মাসুদকে ডেকে পাঠান। পরবর্তীতে তার মুখেই আমরা জানতে পারি ইতিহাসের সমালোচিত এক সুলতানের দূরদর্শিতার কথা। সুলতান আবদুল হামিদের সিংহাসনে আহরোণের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক জটিলতার সম্মুখীন হয়েছেন। তখন উসমানীয় সাম্রাজ্য ডুবে ছিলো ঋণ এবং অভ্যন্তরীণ আর বহিরাগতদের বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে। সুলতান আবদুল হামিদ তার রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে সেই সকল  প্রতিকূলতার মোকাবেলা করেছেন। পশ্চিমা বিশ্ব আর ইহুদিদের লাগাতার ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা করেছেন, কিছু কিছু সময় হতাশ হয়েছেন আবার কখনো জয়ী হয়েছেন। বিভিন্ন ঘটনা, ষড়যন্ত্রের মাঝেই একদিন সুলতানের দরবারে হাজির হয় এক অচেনা লোক। যার সমস্ত শরীর জুড়ে ক্ষত থাকলও সেই আগন্তুক সেই সবকিছুর পরোয়া না করে সুলতানের কাছে ছুটে আসেন৷ কারণ আগন্তুক এমন কিছু তথ্য জানেন যার মাধ্যমে উসমানীয় সাম্রাজ্যের ভবিষ্যৎ জুড়ে আছে। আগন্তুক যখনই সুলতানকে কিছু জানাতে যাবে তখনই জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পরে, হাসপাতালে পৌছালে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। সেই রহস্য সুলতানের অজানাই থেকে যায়। সুলতানের অগোচরে তার সাম্রাজ্যের পবিত্র ভূমিতে নতুন এক রাষ্ট্র তৈরির ষড়যন্ত্র  চলছে। সেই নতুন রাষ্ট্রের পতাকা তৈরি সহ, তাদের  দীর্ঘ ১০ বছরের ষড়যন্ত্র  বাস্তবায়নের জন্য সমস্ত পরিকল্পনা করা শেষ। এখনো শুধু সঠিক সময়ের অপেক্ষা তা বাস্তবে রপদানের জন্য। অপরদিকে সুলতানের রাজধানীর অভিমুখে এক গুপ্তচর রওনা করেছে। যে একজন তুখোড় রাজনীতিবিদ ও অর্থনীতিবিদ। যে টাকার জন্য সবকিছু করতে পারে, তার বর্তমান উদ্দেশ্য সুলতানের পতন কিন্তু এই গুপ্তচরের চেহারা এখনো কেউ দেখে নি৷ কেউ জানে না সে দেখতে কেমন। 🔸পাঠ -প্রতিক্রিয়া : বইয়ের শুরুটা নাটকীয়ভাবে হলেও আমার কাছে প্রথম থেকেই একটা বিষয় ভালো লাগে নি। গল্পে অধ্যাপিকা কানিজ ফাতেমা দেশের একজন সর্বোচ্চ পর্যায়ের ইতিহাসবিদ অথচ তিনি সুলতান হামিদকে  নিয়ে এমন বিরুপ চিন্তা পোষণ করে এটা আমার কাছে একটু বেশিই কাল্পনিক লেগেছিলো। বইটা শেষ করার পরে যখন আমি গুগলে সার্চ করি তখন এই ধারণাটা পুরোপুরি গায়েব হয়ে যায়। কারণ উইকিপিডিয়াসহ বিভিন্ন পোর্টালে সুলতান আবদুল হামিদকে একজন স্বৈরাচারী শাসক হিসেবে এখনো পরিচয় দেওয়া হয়। অথচ তুর্কি বিভিন্ন লেখক কবিদের লেখা পড়লেই জানা যাবে এটা কত বড় মিথ্যা ইতিহাস। History tells us, Abdul Hamid was the dictator ruler for the people. History was wrong. Abdul Hamid was the nightmare for the zionists. ( বই থেকে)   থ্রিলার আমার পছন্দের জনরা হলেও এই পলিটিক্যাল থ্রিলার পড়ে কতটুকু তৃপ্তি পাবো তা নিয়ে আশঙ্কা ছিলো। কিন্তু বইটা যতই পড়েছি পড়েছি ততোই মুগ্ধ হয়েছি। পলিটিক্যাল থ্রিলার বললে মাথায় আসে বিভিন্ন রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। সেইসবের মাঝে কতটুকু থ্রিল থাকবে সেটাও প্রশ্নের বিষয় ছিলো। কিন্তু বইটা যে এমনভাবে লেখা হয়েছে যাতে পাঠক কোনোভাবেই হতাশ না হয়। এটাতে মারামারি, ষড়যন্ত্র, বিশ্বস্ততা, বিশ্বাসঘাতকা সবকিছুর স্বাদ ছিলো অল্প করে।  প্রথম থেকেই ষড়যন্ত্রের একটা ছায়া ছিলো যা বইয়ের শেষ পাতা পর্যন্ত অব্যাহত ছিলো। প্রথম থেকেই বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন ষড়যন্ত্র তার সমাধান বা সম্মুখীন হওয়া পাঠককে ছোট ছোট থ্রিলের স্বাদ দিবে। কিন্তু যদি  টানটান উত্তেজনার থ্রিল নিয়ে বলি তাহলে, বইয়ের মধ্যে এমন একটা অধ্যায় পাঠক পাবে যেখানে বইয়ের চরিত্রগুলোর থেকেও বেশি উত্তেজিত থাকবে পাঠক কি হয় জানার জন্য। ঐতিহাসিক কোনো চরিত্র বা ঘটনা নিয়ে লেখা পড়ার ক্ষেত্রে আমার কাছে তখনই লেখাটা স্বার্থক মনে হয়, যখন আমি জানি ঘটনা বা চরিত্রটার শেষ পরিণতি কি তবুও লেখাটা পড়ার সময় মনে হয় এমনটা যেন না হয় বা উপসংহারটা আমাকে আবারও মুগ্ধ বা ব্যথিত করে। দ্য রেড সুলতান বইটা পড়ার সময়েও আমার তেমন মনে হয়েছে। আমি জানি সুলতান বেঁচে নেই বা তার পরিণতিটা কি হয়েছে তবুও পড়ার সময় মনে হয়েছে সুলতান এই পরিস্থিতি কিভাবে মোকাবিলা করবে, বা এর পরে কি হয়েছলো। এখানেই বইটার স্বার্থকতা। এছাড়াও চরিত্রদের অহেতুক সংলাপ, দীর্ঘ পরিচয় বর্ননার লোভ দেখা যায়নি। যতটুকু দরকার ততোটুকুই সীমিত আকালে তুলে ধরা হয়েছে। বইটা পড়ার আগে আমি ততোটা আশা রাখি নি কারণ প্রথমত বইটার কাহিনী সম্পর্কে আগে থেকে কোনো ধারণা ছিলো না। দ্বিতীয়ত লেখকের লেখার সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিলো না। কিন্তু পড়া শেষ করার পরে মনে হয়েছে একটা সুন্দর আর ভালো বই পড়েছি। 🔸ভাষা ও লেখনশৈলী : লেখকের এটা সম্ভবত চতুর্থ বই। যদিও আমি বইটার পড়ার সময় জানতাম না। আমি লেখকের প্রথম বইয়ের মতো করেই পড়েছি। কিন্তু যততম বইই হোক আমার কাছে বইটার লেখা, ভাষা, শব্দের ব্যবহার সবকিছু মার্জিত, গোছানো আর সুন্দর লেগেছে। লেখকের বর্ণনা করার ধরণ সুন্দর ছিলো। মূলত লেখকের স্টোরি টেলিং আর গল্পের ঘটনার বিন্যাসের দক্ষতার কারণেই বইটা ভালো লেগেছে বেশি। ২০৮ পৃষ্ঠার একটা বই হলেও যে কেউ চাইলে একবসায় বইটা শেষ করতে পারবে। 🔸সমালোচনা : যেকোনো কিছু যতই ভালো হোক না কেন কিছু না কিছু খুঁত অবশ্যই থেকে যায়। কারণ একেকজনের চাহিদা আর রুচির ধরণ আলাদা। তাই আমার কাছে যেটা পারফেক্ট মনে হয় সেটা অন্য কারো কাছে সাধারণ কিছু মনে হতেই পারে৷ এই বইটা আমার পছন্দের একটা বইয়ের তালিকায় থাকলও এর কিছু জিনিস আমার কাছে একটু দুর্বল মনে হয়েছে। প্রথমত : লেখায় কিছু জায়গায় বানান ভুল নজরে এসেছে যদিও পরিমাণে খুব কম। আশা করি পরবর্তী মুদ্রণে সেগুলো ঠিক হয়ে যাবে। কিছু জায়গায় মনে হয়েছে বানান ভুল নয় হয়তো লেখাতেই ভুল হয়েছে। যেমন : খ্রিস্টানরা আমাদের ওপর কষ্ট করেছে -(পৃষ্ঠা ৬০) দ্বিতীয়ত : কানিজ ফাতেমা আর লেখক জাইদ মাসুদের দৃশ্যটা সাউথের বিখ্যাত এক মুভির সাথে মিলে আছে অনেকটা বলে মনে হয়। যদিও এর ফলে গল্পে কোনো প্রভাব পরে না। এটা কাকতালীয় হতে পারে কিন্তু পড়ার সময় প্রথমেই এটা মাথায় এসেছে। তৃতীয়ত : লেখক বিভিন্ন ঘটনা বিভিন্ন গ্রন্থ থেকে হয়তো সংগ্রহ করেছেন। এক জায়গায় এমন এক গ্রন্থের কথাও এসেছে। যদি তথ্যসূত্রগুলো টিকাকারে সংযোজন করে দিতেন তাহলে আরও বেশি ভালো হতো। 🔸পছন্দের কিছু লাইন : ১. অর্থ, সম্পদ এবং সাম্রাজ্য - আপনার ( আল্লাহর) গোলামিতেই নিহিত। বাকি সব মূল্যহীন। ২. মৃত্যুর উপর কারো নিয়ন্ত্রণ নেই। আজরাইল যখন ডেকে নেয়, তখন কোনো শক্তিই তাকে ফিরিয়ে দিতে পারে না। ৩. ইংরেজরা বড় নিষ্ঠুর জাতি। পশ্চিমের সাদা চামড়া জাতি ছাড়া বাকি সবাইকেই তারা সবকিছু থেকে বঞ্চিত রাখে। ৪. ধৈর্য তাকেই বলে যখন তোমার গলা দিয়ে কাঁটা প্রবেশ করে আর তুমি নিরবতার সাথে কাঁটাটির নিম্নগামী হওয়ার অপেক্ষা করো। ৫. আশার আলো যখন নিভে যায়, আল্লাহর দরজা তখন আলো ছড়ায়। 🔸প্রচ্ছদ, প্রোডাকশন : বইয়ের প্রচ্ছদ আর নামেই বইয়ের কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে। আর কাগজ, বাঁধাই সবকিছু টপ নচ। পরিশেষে, এটা ইতিহাস জানার জন্য যথেষ্ট নয় বলে লেখক এটাকে থ্রিলার ফিকশন হিসেব পড়তে বলেছেন। তবুও বইটা পড়ার পরে পাঠক ইতিহাসের কিছু বিষয় নিয়ে ধারণা নিতে পারবেন। কিভাবে পশ্চিমা বিশ্ব, ইহুদিরা কালে কালে মুসলিমদের টার্গেট করেছে, কিভাবে মুসলিম সংস্কৃতি,ঐতিহ্য, রাজনীতি, সাম্রাজ্য ধ্বংস করেছে। বিভিন্ন তুর্কি সিরিজ দেখার ফলে আমার উসমানীয় সাম্রাজ্য নিয়ে পড়ার আগ্রহ ছিলো না কখনোই।  বইটা পড়ার পরে মনে হয়েছে আমাকে আরও জানতে হবে, আমি আসলে কিছুই জানি না। যদিও ইতিহাস রিলেটেড যেকোনো বই পড়লেই এটা মনে হয়। তবুও বইটা আমাকে আবদুল হামিদ সম্পর্কে আরও উৎসাহী করে তুলেছে। এটা যেকোনো পাঠকের পড়ার উপযুক্ত একটা বই। 🔸রেটিং :৪.৫/৫ বই : দ্য রেড সুলতান লেখক : মুহাম্মদ জাহিদ হোসাইন প্রকাশনী : অনুজ প্রকাশন প্রচ্ছদ মূল্য : ৪২০৳ পৃষ্ঠা : ২০৮

afi****com
afi****com ভেরিফাইড
25 Feb 2026

উপন্যাসে ক্ষমতা, রাজনীতি, ষড়যন্ত্র ও সাম্রাজ্য রক্ষার সংগ্রাম খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। লেখক সুলতানের চরিত্রকে একদিকে কঠোর শাসক, অন্যদিকে দূরদর্শী ও কৌশলী নেতা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। গল্পে ঐতিহাসিক ঘটনার সাথে কল্পনার মিশেল আছে, যা পড়তে আগ্রহ বাড়ায়। সংলাপ ও বর্ণনা শক্তিশালী, ফলে পাঠক সহজেই সেই সময়ের রাজপ্রাসাদ ও রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে ডুবে যেতে পারেন। সংক্ষেপে, ইতিহাসভিত্তিক গভীর ও চিন্তাশীল গল্প পছন্দ করলে The Red Sultan অবশ্যই পড়ার মতো একটি উপন্যাস। 📚

Shahriar Alom soikot
Shahriar Alom soikot ভেরিফাইড
09 Feb 2026

প্রায় ৬০০ বছরের বিশাল উসমানীয় সাম্রাজ্য যে সাম্রাজ্য একসময় গোটা পৃথিবীর রাজনীতিকে প্রভাবিত করেছিল। সেই দীর্ঘ শাসনকালকে কেন্দ্র করেই নির্মিত মুহাম্মদ জাহিদ হোসাইনের থ্রিলার উপন্যাস “দ্য রেড সুলতান। ঐতিহাসিক থ্রিলার পড়তে গিয়ে আমরা যে সমস্যাটা প্রায়ই ফেস করি, তা হলো অতিরিক্ত চরিত্রের ভিড়। অনেক সময় এত বেশি চরিত্র থাকে যে গল্পের স্রোত ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায়। কিন্তু এই বইয়ে লেখক খুব সহজ সাবলীল ভাষায় এবং গোছানো বর্ণনায় ইতিহাসকে এক দারুণ ফিকশন থ্রিলারের আদলে উপস্থাপন করেছেন যেটা পড়তে গিয়ে ভারী মনে হয় না, বরং আরও জানার কৌতূহল তৈরি হয়। গল্পের সূচনা হয় এক PHD ক্যান্ডিডেটের থিসিস পেপারকে কেন্দ্র করে। তিনি এমন কিছু তথ্য তুলে ধরেন, যা প্রকাশিত হলে শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো এশিয়াই বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে। কারণ তার গবেষণায় এমন কিছু সত্য উঠে এসেছে, যা এতদিনের প্রচলিত ইতিহাসকে পুরোপুরি প্রশ্নবিদ্ধ করে। কাহিনির মূল প্রেক্ষাপট ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগ। অটোমান সাম্রাজ্যের আকাশে তখন ঘন কালো মেঘ। পশ্চিমাদের চোখে যিনি “দ্য রেড সুলতান” আর উম্মাহর কাছে শেষ মহান খলিফা সেই সুলতান দ্বিতীয় আব্দুল হামিদের দিকে তাক করা ইউরোপীয় শক্তিগুলোর অসংখ্য বন্দুকের নল। ইলদিজ প্রাসাদের ভেতরে চলছে এক ভয়ংকর দাবার খেলা যেখানে প্রতিটি চালের দাম একেকটা জীবন। ঠিক এমন উত্তপ্ত সময়ে প্রাসাদের কঠোর নিরাপত্তা ভেদ করে দরবারে হোঁচট খেয়ে পড়ে এক রক্তাক্ত মানুষ। সারা শরীরে ক্ষত চোখে মৃত্যুভয় তবুও সে হাসপাতালে না গিয়ে ছুটে এসেছে খলিফার কাছে। তার কাছে এমন এক ভয়াবহ গোপন বার্তা ছিল যা ফাঁস হলে হয়তো ৪০০ বছরের সাম্রাজ্য তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ত… অথবা প্রকাশ পেত কাছের মানুষের মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক বিশ্বাসঘাতক। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস সত্য বলার ঠিক আগমুহূর্তেই মৃত্যু তাকে থামিয়ে দেয়। সে কে ছিল? সুলতানের নিজের গোয়েন্দা? নাকি অনুতপ্ত কোনো বিশ্বাসঘাতক? কী ছিল সেই বার্তা, যার মূল্য দিতে হলো জীবন দিয়ে? ইতিহাস আর কল্পনার অপূর্ব মিশেলে লেখা এই উপন্যাসে প্রতিটি পাতায় অপেক্ষা করছে ষড়যন্ত্র, রক্তপাত আর এক অদম্য সুলতানের বেঁচে থাকার লড়াই

প্রশ্ন ও উত্তর (Q/A)

দুঃখিত, কোনো প্রশ্ন উত্তর পাওয়া যায়নি।

সাদৃশ্যপূর্ণ পণ্যসমূহ (Similar Products)