

Buy প্রজেক্ট হেইল মেরি Online in Bangladesh
লেখক: অ্যান্ডি উইয়ার
- Author: অ্যান্ডি উইয়ার
- Publisher: অবসর প্রকাশনা সংস্থা
- Isbn: 9789848801376
- Number Of Pages: 512
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2023
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
পৃথিবীবাসী এক প্রাণঘাতী হুমকির মুখে। এ থেকে পরিত্রাণের উপায় হিসেবে ‘হেইল মেরি’ মহাকাশযানকে পাঠানো হয়েছে দূর গ্যালাক্সিতে। গন্তব্যে পৌঁছে নিজেকে একাকী আবিষ্কার করে রাইল্যান্ড গ্রেস। এখন তার ঘাড়েই চেপেছে পুরো দুনিয়াকে বাঁচানোর দায়িত্ব। সমস্যা একটাই, অজানা কোনো কারণে স্মৃতি হারিয়ে ফেলেছে। মহাকাশে অভিযান চালিয়ে পৃথিবীকে বাঁচানোর মিশন তো দূর, নিজের নামটাই মনে পড়ছে না তার। নিজ গ্রহ থেকে লক্ষ লক্ষ মাইল দূরে একাকী টিকে থাকতে গ্রেসের একমাত্র সম্বল হলো তার ঘোলা হয়ে যাওয়া মগজটাই। নিজের টিকে থাকার প্রবৃত্তি আর উপস্থিতবুদ্ধিকে সম্বল করে এক মহাজাগতিক ধাঁধা সমাধান করতে হবে তাকে। হাতে সময়ও খুব সীমিত। আরেকটা কথা। নিজের প্রজাতির কাউকে সঙ্গী হিসেবে পাওয়ার ভাগ্য হয়নি তার। কিন্তু ভিনগ্রহের কেউ যে তার আশপাশে নেই, সেটা কিন্তু নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না!
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
এক কথায় অসাধারণ অনুবাদ
The salvation of the whole world began with the Hail Mary. Sorrow fades away when we say Hail Mary. The power of One Hail Mary can change the world. 🟥উপরের উক্তিতে হেইল মেরি নামের একটি প্রার্থনার কথা বলা হয়েছে। উপন্যাসটিকে প্রজেক্ট হেইল মেরি বলার কারণ Hail Mary প্রার্থনার মত এটি হচ্ছে সমগ্র মহাজাগতিক প্রাণীর বেঁচে থাকার শেষ সম্বল। আমাদের সৌরজগতের একমাত্র আলোক শক্তির উৎস সূর্যকে অ্যাস্ট্রোফেজ নামের অতি ক্ষুদ্র ভিন গ্রহের জীব খেয়ে ফেলছে। প্রথমে টাউ সেটি আক্রান্ত করেছে এপসিলন ইরিডানি ও 40 ইরিডানিকে আর এপসিলন ইরিডানি থেকে আক্রান্ত হয়েছে সিরিয়াস। এভাবে টাউ সেটি থেকে ছড়িয়ে পুরো মহাবিশ্বের সব নক্ষত্রকে ধীরে ধীরে তারা গ্রাস করেছে। অ্যাস্ট্রাফেজগুলো আমাদের সূর্যকে যত বেশি আক্রান্ত করবে ধীরে ধীরে সূর্যের উত্তাপ তত কমতে থাকবে। সূর্যের উত্তাপ কমে গেলে এক সময় পৃথিবী পরিণত হবে এন্টার্কটিকার মতো বরফ শীতল গ্রহে। এভাবে চলতে থাকলে মাত্র ১৯ বছরের মধ্যেই পৃথিবীর অর্ধেক মানুষ মারা যাবে। আর এই অবস্থা থেকে যদি কোনো পরিত্রাণ পাওয়া না যায় তাহলে সব বাস্তুসংস্থান ধ্বংস হয়ে পৃথিবী থেকে চিরতরে মুছে যাবে মানব সভ্যতার অস্তিত্ব। এই কেয়ামত থেকে বাঁচার জন্য হেইল মেরি মহাকাশযানকে পাঠানো হয় দূর গ্যালাক্সি টাউ সেটিতে। হেইল মেরি মহাকাশযান প্রায় ১২ আলোকবর্ষ দূরের টাউ সেটিতে পৌঁছালে রাইল্যান্ড গ্রেস কোমা থেকে উঠে নিজেকে আবিষ্কার করে পুরো ভিন্ন একটি সৌরজগতে এসে পড়েছে সে। পৃথিবী থেকে লক্ষ লক্ষ মাইল দূরে একাকী টিকে থাকার জন্য রাইল্যান্ড গ্রেসের সামনে সবচেয়ে বড় সমস্যা সে কিছুই মনে করতে পারছে না আর কোনো এক অজানা কারণে তার মনে হচ্ছে আশেপাশেই কোনো ভিনগ্রহের বুদ্ধিমান প্রাণী আছে। উপরে কাহিনির একটা সংক্ষিপ্ত ধারণা দিয়েছি। যারা শর্ট রিভিউ পড়তে চান তাদের এতটুকু জানিয়ে রাখি সাই-ফাই লাভার নাহলেও আপনি এই বইটা পড়ে মজা পাবেন। আপাতত এতটুকু ধারনাই বইটা পড়ার জন্য যথেষ্ট। এবার যারা বড় রিভিউ পড়তে চান তাদের জন্য বিস্তারিত আলোচনায় আসা যাক। 🟥হেইল মেরির উপন্যাসের বিষয়ে প্রথমেই বলতে হয় কাহিনির শুরু এবং শেষাংশ দুর্দান্ত। লেখক উপন্যাসের শুরু থেকে মূল চরিত্র রাইল্যান্ডকে এত চমৎকারভাবে বিল্ডআপ করেছেন সেটা সত্যি প্রশংসনীয়। একজন মানুষ সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশে, নিজের স্মৃতিশক্তি হারিয়ে, একাকী অবস্থায় নিজের পরিচয়, নিজের উদ্দেশ্য খুঁজে বের করার জন্য হাতড়ে মরছে; কিন্তু সে নিজেই জানে না কি তার পরিচয় বা কোথায় থেকে এসেছে সে। দূর মহাবিশ্বের কোনো প্রান্তে নিজেকে এভাবে কল্পনা করতে পারবেন? ঘটনাক্রমে 40 ইরিডানি সৌরজগত থেকে আসা এলিয়েন রকির সাথে রাইল্যান্ডের দেখা হবার পুরো ঘটনাটা পড়ার সময় যেন বারবার মনে হচ্ছিলো বিজ্ঞানের নতুন কিছু আবিষ্কার করার মতো। সাই-ফাই হলেও এই বইটার প্রাণশক্তি আপনি খুঁজে পাবেন রাইল্যান্ড-রকির সম্পর্কের মাঝে। বন্ধুত্ব, দায়িত্ববোধ আর একাকীত্ব কিভাবে দুটো ভিন্ন প্রজাতির জীবের মধ্যে অদ্ভুত রকমের বন্ধন তৈরি করে সেটা বইয়ের প্রতিটা পাতায় আপনি অনুভব করতে পারবেন। তাদের কথোপকথন যতটা হাস্যকর লাগবে, অর্থগুলোর গভীরতা ততটাই বাস্তবতার করুণ আঁচড় দিয়ে যাবে আপনার অবচেতন মনে। প্রজেক্ট হেইল মেরির আরেকটা শিক্ষনীয় বিষয় হচ্ছে একজন মানুষের বেঁচে থাকার মর্ম উপলব্ধি করা। এত সুন্দর পৃথিবীর বুকে শান্তিতে থাকতে কিন্তু আপনি নিজের পটেনশিয়াল কখনোই বুঝতে পারবেন না, হয়তো বা বোঝার চেষ্টাই করবেন না। হয়তো দূর মহাকাশে জীবন-মরণ সমস্যায় আপনার সুপ্ত গুনাবলী বার হয়ে আসবে। এজন্যই লেখক রাইল্যান্ড বা রকিকে দিয়ে জটিল অনেক কাজ করিয়েছেন যেটা আপনার কাছে অসম্ভব মনে হতে পারে। আদতে বিষয়টা দিয়ে দেখানো হয়েছে যে, There are many ways to survive as long as there are survivors. 🟥সাই-ফাই হলেও এই বইয়ে অনেক টুইস্ট আর টার্ন আছে। বইয়ের কাহিনি বর্তমানে শুরু হয়ে বর্তমানেই চলতে থাকবে তবে ফ্ল্যাশব্যাকে লেখক সময় মতো বারবার অতীতের ঘটনাগুলো টেনে এনেছেন। দুটো আলাদা সময়ের ঘটনা পরস্পরের সাথে সঙ্গতি রেখেই এগিয়েছে। এই উপন্যাসে একটা বড় অংশে দেখা যাবে সায়েন্টিফিক এক্সপেরিমেন্ট নিয়ে বিস্তর কথাবার্তা এবং বাকি অংশে দেখা যাবে দুজন বেপরোয়া নভোচারীর দুরবস্থা ও ভবিষ্যত কর্মপন্থা। কাহিনির সমাপ্তিতে বুঝতে পারবেন সময়, পরিস্থিতি কিভাবে একজন মানুষের ব্যক্তিত্বকে সম্পূর্ণ রূপে বদলে দিতে পারে। সমাপ্তি যেভাবে আশা করেছিলাম তার চেয়ে অনেক বেশি ভাল লেগেছে। এই সমাপ্তি আপনাকে বিষন্ন করবে, নিজেকে নিয়ে নতুন করে ভাবতে শেখাবে। এই উপন্যাসকে আপনি শুধু একটা সাই-ফাই নয়; এটাকে সারভাইভাল, এপোক্যালিপটিক সাব-জনরার ভিতরেও ফেলতে পারবেন। ৫১২ পেজের বিশাল সাইজের বইটি অ্যান্ডি উইয়ারের লেখনশৈলীর সহজাত হিউমার ও অনুবাদকদের সাবলীল ভাষাশৈলীর ব্যবহারে আপনার কাছে উপভোগ্য হয়ে উঠবে। এখানে সায়েন্সের কঠিন টার্ম আছে, বোঝার মত অনেক হিসাব-নিকাশ আছে কিন্তু সেগুলো আপনার পড়ার গতিকে একটুও স্লো করবে না। বিজ্ঞানের জটিল বিষয়গুলো অনুবাদক দক্ষতার সাথে রুপান্তর করেছেন। সাই-ফাই পড়তে ভাল লাগে না যাদের আমি বলব তারা এই বইটা দিয়ে একবার হলেও চেষ্টা করে দেখতে পারেন। 🟥এবার উপন্যাসটার কিছু সমালোচনায় আসা যাক। আমার কাছে পড়ার সময় একটা কথা বারবারই মনে হয়েছে যে লেখক উপন্যাসের আড়ালে একটা মুভির স্ক্রিপ্ট লিখতে চেয়েছেন। অবশ্য ওনার লেখনশৈলী এরকম আগেও খেয়াল করেছি। (❌লাইট স্পয়লার এ্যালার্ট) রাইল্যান্ড গ্রেসের এই মিশনে যাওয়ার কথা ছিল না সেজন্য তার নিজের কোন জিনিসপত্র শিপে দেয়া হয়নি। এখানে দুটো বিষয়ে আমার খটকা লেগেছে। প্রথমত ডুবয়ের জিনিসপত্র সব শিপে আছে কিন্তু প্রথমে খুঁজতে গিয়ে তিনজন ক্রুর ভিতরে তার জামাটা ছিল না, সেখানে ছিল রাইল্যান্ডের জামা। আরেকটা বিষয় হচ্ছে মিশন প্যাচে(Emblem) ডুবয়ের জায়গায় রাইল্যান্ড গ্রেসের নাম থাকার কথা নয়। জামাকাপড় কয়েক দিনের ভিতর বানাতে পারলেও মিশন প্যাচ এত দ্রুত সম্ভব না। বইয়ের একটা দিক লেখক কেনো বাদ দিয়েছেন সে বিষয়টা আমি বুঝতে পারিনি। সেটা হচ্ছে হেইল মেরি শিপটা আর্থ থেকে লঞ্চ হবার ঘটনাগুলোর কোনো বিবরণ উপন্যাসে ছিল না। এই বিষয়টা যদিও আমার কাছে তেমন জরুরী না কিন্তু এটার সাথে রিলেটেড একটা জরুরী বিষয় আছে। শিপ লঞ্চ হবার আগে সব ঠিকঠাক আছে কিনা রি-চেক করার জন্য অবশ্যই চেকলিস্ট দেখা হয়। রাইল্যান্ড গ্রেস কোমা থেকে ওঠার পর নিজের পরিচয় ও শিপ চালানোর জন্য অনেক কিছু খোঁজাখুঁজি করেছে কিন্তু কোথাও চেকলিস্টের কোন কথা উল্লেখ করা ছিল না। এত জরুরী মিশনে এমন সিরিয়াস বিষয় বাদ যাবার কথা নয়। মূল বইয়ের সাথে স্পেসশিপের ছবি ছিল যেটা দেয়া হয়নি। অন্তত সেন্ট্রিফিউজ মোড কিভাবে কাজ করে সেটা বোঝার জন্য হলেও ছবি দুটি দিলে ভাল হতো। 🟥প্রজেক্ট হেইল মেরির তুখোড় অনুবাদ করেছেন কুদরতে জাহান। বিশাল সাইজের এরকম সাই-ফাই বইয়ের এত চমৎকার অনুবাদ আমি আশা ও করিনি। আমার চোখে কোনো বানান ভুল ধরা পড়েনি আর সবচেয়ে অবাক হয়েছি এত মোটা বইয়ে শুধুমাত্র একটা শব্দ মিসিং ছিলো। কিছুদিন আগে একটা পোস্টে পড়েছিলাম এই অনুবাদটা উনি মাতৃত্বকালীন অবস্থায় করেছেন। প্রজেক্ট হেইল মেরি ও আপনাকে একই কথাই বলা উচিত_Great achievement is usually born of great sacrifice.























