

Buy ঘুম The Sleep Online in Bangladesh
লেখক: নাঈম হোসেন ফারুকী
- Author: নাঈম হোসেন ফারুকী
- Publisher: বইবাজার প্রকাশনী
- Number Of Pages: 64
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Edition 2023
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
ফোনটা বের করে তাড়াতাড়ি সময় দেখলেন তিনি। ভাগ্য ভালো মাত্র পনেরো মিনিট পার হয়েছে। পরীক্ষা শেষের আরও আধঘণ্টা বাকি। ছাত্ররা লিখতে ব্যস্ত, কেউ হয়তো খুব একটা খেয়াল করেনি তিনি ঘুমাচ্ছেন। পুরা ক্লাস আর একবার মনিটর করার জন্য তিনি উঠে দাঁড়ালেন। সহস্রবুদ্ধির বুদ্ধিমান দুই চোখ এড়িয়ে আজ পর্যন্ত কেউ নকল করতে পারেনি। আজকেও পারবে না। কিন্তু উঠে দাঁড়িয়েই তিনি টের পেলেন, কেউ আসলে নকল করার অবস্থাতেই নেই। সবাই ঘুমাচ্ছে, অথবা ঘুম থেকে উঠছে। প্রফেসর সহস্রবুদ্ধি কী মনে করে আর একবার মোবাইলটার দিকে তাকালেন। পনের মিনিট পার হয়নি; পার হয়েছে চব্বিশ ঘণ্টা পনের মিনিট। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পৃথিবীবাসী জেনে গেল – ২০২২ সালের ১১ থেকে ১২-ই মের ভেতর চব্বিশটা ঘণ্টা আসলে তাদের প্রত্যেকের জীবন থেকে হারিয়ে গেছে। কী ঘটেছিল সেদিন?
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
''ঘুম'',,,এই নামের বইটি চোখে পড়ায় খুবই কৌতুহলী হয়ে পড়ি। Review গুলো দেখে আগ্রহ আরো বাড়ে আর কোনো কিছু না ভেবেই অর্ডার করে ফেলি।এটা আমার পড়া এই লেখকের প্রথম বই।বইটি পড়েই আমি উনার ফ্যান হয়ে যাই।বইটি চিন্তাভাবনা কে বইয়ের টপিকের দিকে আকৃষ্ট করে।আর সবগুলো প্লট কম্বাইন করে সমাধান করার বিষয়টি সত্যিই খুবই ইউনিক।Writer,seller and publisher সকলকে ধন্যবাদ এমন একটি বই উপহার দেয়ার জন্য।


"নাঈম ভাইয়ের বই, সো কেনাই যায়, অত ভাবনা চিন্তার কোনো কারন নাই" (কেউ প্লিজ ফ্যালাসি ধরে বইসেন না) হাতে পাওয়ার পর খানিকটা হতাশই হয়েছিলাম বলা যায়। গায়ের দাম দুশো টাকা অথচ বই দেখি পিচ্চি। পেইজ মোটে ৬৪ টা, আর সাইজ রেগুলার বইগুলোর চেয়ে বেশ ছোটো। মিনি বুক আরকি। রেখে দিলাম শেলফে অন্য বইগুলোর উপর। সারাদিন ইংরেজি গ্রামার পড়ে খুব বিরক্ত লাগছে। এমন সময় আমার ছোট্ট লাইব্রেরির দিকে নজর গেলো। ঘুম The Sleep ছোটো বই, শেষ করতে বেশিক্ষণ লাগবে না। ধরলাম, খানিকক্ষণ পরে বাবা ঝাড়ি মারলো। এতো রাত জাগলে শরীর শেষ হবে। লাইট অফ করে বিছানায় ফোনের হালকা হলুদ আলোয় পড়া জমলো ভালো। অপার্থিব জিনিসপত্রের ভয় আমার প্রায় কেটে গেছে বহুদিন। যদিও এটা কোনো ভুতের বই না, বাট কিছুক্ষণ পর ওদিকে একবার যখন যেতে হলো, ফোনে আলো, রুমে আলো, জানালা দিয়ে বাইরে তাকানো, বারবার পাশে ঘোরা সবকিছুই বলে দিচ্ছিলো, আমি চরম ভয় পাচ্ছি। ঠিক কীসের? জানিনা। এই বই কাদের জন্য? এমন প্রশ্নের উত্তর একটাই- এলিট পাঠকদের জন্য। আমি অনেক গর্বিত(!) যে এই বই কিনে পড়ার যোগ্যতা অন্তত রাখি। মিনি মন্সটার্স বইটার মতো এটার ব্যাপারেও তেমন কিছু ইনফো দিলাম না। ভেতরের একটা ওয়ার্ড বলে দিলেও স্পয়লার খেয়ে যাবেন। নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন কী মারাত্মক লেভেলের থ্রিল, সেটা অবশ্য লেখক যতটা সরাসরি দেবেন, তারচেয়ে বেশি আপনারই মাথা থেকে বেরোবে! যে অল্প কয়েকটা বই আমি দ্বিতীয়বার পড়তে চাই তাদের সাথে এটা যোগ হলো। এবার একটু এক্সটেন্ড করে শুধু বইয়ের জন্য বলি- Don't judge a book by it's size. (কভার অবশ্য ভালোই, জাজ করলে পজিটিভ রিভিউই আসে)
ঘুম: THE SLEEP / নাঈম হোসেন ফারুকী যেন ক্রিস্টোফার নোলানের বাংলা ভাষায় লেখা একটা সাইন্স ফিকশন বই। সলিড এস্ট্রোনমি, জেনারেল রিলেটিভিটি, কোয়ান্টাম মেকানিক্সের নানান টার্ম যেকোন সুস্থ পাঠকের মাথা আউলিয়ে দিতে যথেষ্ঠ। যারা হুমায়ূন আহমেদ, জাফর ইকবালের সাইন্স ফিকশন পড়ে, নিজেদের অনেক বড় কল্পবিজ্ঞান প্রেমী আখ্যা দেন, তাদের চেখে দেখা উচিৎ। (স্পয়লার) রজার প্যানরোসের, সাইকেলস অফ টাইমের উপর খানেকটা বেজ করে লেখা বইটি। সহজ বাংলা কথায় বলতে গেলে, বিগ ব্যাং শুরু হওয়ার পর থেকে মহাবিশ্বের সবকিছুই প্রসারিত হয়েছে এবং হচ্ছে। কিন্তু একসময় গিয়ে আবার সংকুচিত হতে থাকবে। প্রসারন শেষে সংকোচন শুরু হবার ঠিক মধ্যিখানের গল্প "ঘুম: THE SLEEP" খুব ছোটখাটো একটা বই। নিয়মিত রিডারদের দুই/তিন ঘণ্টার বেশি লাগার কথা না। মোট ১১টি চ্যাপ্টার থাকলেও, লেখকের ভাষ্যমতে প্রথম ১০টা চ্যাপ্টারে দেওয়া পাজেল মিলালেই উত্তর পেয়ে যাবে পাঠক। তবে সাতের দিমাগের মানুষ হলে কি হচ্ছে তা এর আগেই বুঝে যাবার কথা। শেষে আবার আধ পৃষ্ঠার দুটি অনুবিজ্ঞানগল্প আছে। এবার বলি ভালো-মন্দ নিয়ে— নাঈম হোসেন ফারুকী স্যারের লেখা মোটেও আর ১০ জন লেখকের মত নয়। সাহিত্য ও সেই ধর্মী লেখনির বড়ই অভাব দেখা দিয়েছে বেশ কিছু জায়গায়। গল্পের কাঠামোসহ, সাসপেন্স, ইমোশন ও থ্রিলারের আরো কড়া করে ব্যবহার হতে পারতো, বিশেষ করে আজমতের বিষয়গুলো পরিস্থিতি বিচারে আরো সুপার থ্রিলিং ফিল দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু ওই সময় অনেকেরই হজবরল মনে হতে পারে সবটা। দ্বিতীয় পর্ব, স্বপ্ন: The Dream-এ একটা বিরাট অসঙ্গতি চোখে পড়েছে। মহাঘুম ঘটনার ৭ দিন পর, একটি ইন্টারভিউতে সাংবাদিক নিপা মজুমদারকে ডাকা হলে একপর্যায়ে তিনি বলেন, "সিসিটিভি ফুটেজে কুকুর বেড়াল-সহ বহু প্রাণীকে জাগ্রত থাকতে দেখা গেছে" হে প্রত্যুত্তরে প্রশ্নকর্তা প্রশ্ন করে বসেন "সিসিটিভি গুলো চালু ছিল তাহলে? কম্পিউটার আর অন্য স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি?" এখন বড় প্রশ্ন হলো, ঘটনার ৭ দিন পরেও, একজন টিভি চ্যানেলের ইন্টারভিউয়ার সহ গোটা জগৎবাসী, কিভাবে জানে না যে সিসিটিভি ক্যামেরা চালু ছিল! আরো কিছু কিছু অসঙ্গতি ছিল, তবে সব কিছু ছাপিয়ে সাহিত্যের অভাবটাই বারবার এসে উপস্থিত হচ্ছিল। সর্বোপরি, যারা গতানুগতিক ধারার সাইন্স ফিকশন পড়ে অভ্যস্ত তাদের জন্য বইটি মাস্ট রিড টাইপ হতে পারে। বইবাজার প্রকাশনী গায়ের মূল্য: ২০০৳

২০০ শব্দে রিভিউঃ যতটা সরলসিধা ভাবে শুরু হয় এই বড় গল্পটির সমাপ্তিটা ঠিক ততটাই জটিল এবং দুর্বোধ্যতায় ভরপুর। প্রথমে বইটি থেকে একটা থ্রিলার থ্রিলার সুবাস ছড়াচ্ছিলো, মনে হচ্ছিল মিসির আলীর মত এই গল্পের নায়ক প্রফেসর এন্ডারসন শুরু থেকে ঘটতে থাকা উদ্ভট ঘটনাগুলোর সলিড প্রুফ নিয়ে সামনে হাজির হবেন, আর আমরা পরিষ্কার একটা ধারণা পাবো আসলে পুরো গল্পটা জুড়ে হচ্ছে টা কী! কিন্তু সেরকম কিছুই ঘটে না। বইটা সত্যিকার অর্থেই যদি কারোর ভালো লাগে তাহলে নিঃসন্দেহে সে কথা না বাড়িয়ে এই বইটি পড়া শেষ করে মাত্রই বইয়ের পাজলটা সলভ করার জন্য নিজে আদাজল খেয়ে মাঠে নামবে। কোথায় আছে এই পাজলের সমাধান সূত্র? উত্তর খুব সিম্পল—বিজ্ঞানে! জেনারেল রিলেটিভিটি, ডারউইনের বিবর্তন তত্ত্ব, তেজস্ক্রিয় পদার্থবিজ্ঞান সহ একটুখানি জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে জানার তীব্র একটা কৌতুহল জাগায় এই বই। বইটাকে আমি সায়েন্স ফিকশন ঘরানার একটা বড়গল্প বলব৷ বইটার অধ্যায়গুলোর পিকিউলিয়ার নামকরণ, শেষে অণুকল্পবিজ্ঞান নামে দুটো আপাত অর্থে অপ্রাসঙ্গিক গদ্যাংশ জুড়ে আসলে আমাদের পাঠকদেরই কিছু ভুল পদক্ষেপ আর সিদ্ধান্তের ওপর লেখকের চপেটাঘাত বইটাকে বিশিষ্টতা দান করেছে। বইটা সচেতনা তৈরি করে, বিজ্ঞানের টপিকগুলো নিয়ে জানতে কৌতুহল বাড়ায়, একবসায় শেষ করে উঠতে পাঠককে বাধ্য করে (Unputdownable) এবং সেইকারণেই সবরকম পাঠকদের জন্য বইটি অবশ্যপাঠ্য।

বইয়ের নামঃ ঘুম the Sleep লেখকঃ নাঈম হোসেন ফারুকী জনরাঃ সাইন্স ফিকশ রেটিংঃ ৯.৮/১০ ডাক্তার ঘুম থেকে উঠে দেখেন তার পাশে জমাট বাধা রক্তের স্তুপ। রোগী মারা গেছেন অনেক্ষণ আগে।মারা যাওয়ার কারণঃ সার্জারির সময় ডাক্তার কোনো আশ্চর্য কারণে ঘুমিয়ে গেছিলেন! জি,আপনি ঠিকই পড়েছেন। আর শুধু ডাক্তার নয়, কোনো এক কারণে পৃথিবীর প্রত্যেক মানুষ ২০২২ সালের ১১ই মে ২৪ ঘন্টার জন্য ঘুমিয়ে পরে! তারপরই শুরু হয় একে একে সব অঘটন। কিছু কিছু মানুষ নানা আজগুবি স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু এরপরে পৃথিবীতে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো স্বপ্নকে হার মানাবে। হঠাৎ কোনোরকম ওয়ার্নিং ছাড়া হাজার হাজার মানুষ নিখোজ হচ্ছে। এর সাথে কি মহাকাশ রিসার্চ স্টেশনের উল্কার সম্পর্ক রয়েছে? ঢাকার বুরিগঙ্গার নদীর তীরের মানুষের শেষমেষ তুশারপাত দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। কিন্তু এর জন্যে কি তেরো লক্ষ মানুষের জীবন বলি দেওয়া টা worth it ছিল? কিভাবেই বা সোনার গুদাম লোহা্র গুদামে পরিণত হল? মাদ্রাসার সেই দারোয়ান ই বা কে যে মুরগির রক্ত দিয়ে দেয়ালে রহস্যজনক ধাধা লেখে? বিজ্ঞানীদের মাথায় হাত, কারণ আইন যে বদলে গেছে! ৬০ পেজের ছোট একটা বই। সাইন্স ফিকশনে সাইন্স পাওয়াটা আমার মতে রেয়ার, হুমায়ূন আহমেদের পড়া সাইফাই গুলোতে আমি বিজ্ঞান পেয়েছি,তিনি এই ব্যাপারটাও উল্যেখ করেছিলেন। তারপর এই লেখকের বই এ সেরকম পেলাম। বইটি ১০টা ছোট পাজেলে ভাগ করা,প্রত্যেক চ্যাপ্টার পড়ে প্রশ্নের সংখ্যা কমার বদলে বাড়তে থাকবে। শেষ চ্যাপ্টার এ মিলবে আপনার প্রশ্নের উত্তর।শেষে আরো দুটি ফানি গল্প আছে। লেখকের স্টোরি টেলিং অসম্ভব রকমের সুন্দর। মিস্টারিয়াস স্টাইলে যেভাবে প্রত্যেকটি চ্যাপ্টার বর্ণনা করা হয়েছে, তার ফলে পুরো বই এক বসায় শেষ না করে উঠা কঠিন। সাইন্স ফিকশন লাভার দের জন্য এই বইটা মাস্ট। ভবিষ্যতেও এরকম সাইফাই উপহার দেওয়ার জন্যে লেখকের কাছে অনুরোধ থাকবে। হ্যাপি রিডিং🖤






















