

Buy অনন্ত নক্ষত্র বীথি Online in Bangladesh
লেখক: হুমায়ূন আহমেদ
- Author: হুমায়ূন আহমেদ
- Publisher: কাকলী প্রকাশনী
- Isbn: 9847013300284
- Number Of Pages: 68
- Language: বাংলা
- Edition: 7th Printed, 2013
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
"অনন্ত নক্ষত্র বীথি"বইটির প্রথমের কিছু অংশ: অদ্ভুত এক ধরনের শব্দ হচ্ছে। পরিচিত কোনাে শব্দের সঙ্গে এর বিন্দুমাত্র মিল নেই বলে শব্দটাকে ঠিক ব্যাখ্যা করা যাবে না। লক্ষ লক্ষ ঝিঝি পােকার আওয়াজকে যদি কোনাে উপায়ে কমিয়ে। অতি সূক্ষ্ম পর্দায় নিয়ে আসা যায় এবং সেই আওয়াজটাকে দিয়ে ঘূর্ণির মতাে কিছু করা যায়, তাহলে বােধহয় কিছুটা ব্যাখ্যা হয়। না, তাও হয় না। আওয়াজটার মধ্যে ধাতব ঝংকার আছে। ঝিঝি পােকার আওয়াজে কোনাে ধাতব ঝংকার নেই। শব্দটা অস্বস্তিকর। স্নায়ুর ওপর চাপ ফেলে। আমাকে বলা হয়েছে এই শব্দ সহ্য হয়ে যাবে। মানুষের সহ্য করবার শক্তি অসীম। কাজেই সহ্য হলেও হতে পারে। কিন্তু আমার এখনাে হচ্ছে না। কোনাে দিন হবে বলেও মনে হয় না। আমি খুবই অস্থির বােধ করছি। মহাশূন্যযান — “গ্যালাক্সি টু-তে আজ আমার তৃতীয় দিন। এর আগে আমি। কখনাে কোনাে মহাশূন্যযানে ওঠা দূরে থাক, তার ভেতরের ছবি পর্যন্ত দেখি নি। মহাশূন্যের প্রতি আমার কোনাে আগ্রহ নেই। অযুত-নিযুত লক্ষ-কোটি মাইল দূরের গ্রহগুলি কেমন? সেখানে প্রাণের বিকাশ ঘটেছে কিনা তা নিয়ে আমি মাথা ঘামাই ।। | আমি একজন টিভি প্রােগ্রাম মনিটর কার্যক্রমের অতি সামান্য কমর্চারি। আমার কাজ হচ্ছে বিশেষ বিশেষ কোনাে টিভি প্রােগ্রাম দর্শকদের কেমন লাগল তা মনিটর করে স্ট্যাটিসটিক্স তৈরি করা। যেমন টিভি চ্যানেল থ্র-তে একটা হাসির সিরিয়েল হচ্ছে, নাম – ‘কথা বলা না-বলা। আমার কাজ হচ্ছে প্রােগ্রাম চলাকালীন সময়ে বিভিন্ন বাড়িতে টেলিফোন করে অত্যন্ত ভদ্রভাবে জানতে চাওয়া, ‘ম্যাডাম (বা স্যার), আপনি কি এই মুহূর্তে টিভি দেখছেন? যদি উত্তর হয় ‘হ্যা’, তাহলে বলা, ‘কোন চ্যানেল দেখছেন?
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
বইটি পড়ে দারুণ লেগেছে। এটি এমন এক সায়েন্স ফিকশন যা আপনাকে নিয়ে যাবে, এক সুদূর চিন্তার সমুদ্রে। হুমায়ূন আহমেদ-এর লেখার সহজ ও সাবলীল ভঙ্গি আবারও মুগ্ধ করেছে। কাহিনীর বুনন এতটাই চমৎকার যে একবার পড়া শুরু করলে শেষ না করে ওঠা যায় না। বইটি পড়ার সময় মনে হয়েছে আমি যেন গল্পের প্রতিটি চরিত্রের সাথেই হেঁটে চলেছি। নতুন যারা হুমায়ূন আহমেদের লেখা শুরু করতে চান, তাদের জন্য এই বইটি একটি আদর্শ পছন্দ হতে পারে।
অসাধারণ
সেরাহ। রিকোমেন্ডেড থাকলো।

#আড্ডাখানায়_রকমারি #রিভিউ_২০২৩ v বই - অনন্ত নক্ষত্র বীথি v লেখক – হুমায়ুন আহমেদ v প্রকাশনী – কাকলী প্রকাশনী কাহিনী সংক্ষেপ গল্পের মূল চরিত্র একটি টিভি প্রোগ্রাম অফিসের কর্মচারী। তার কাজ হচ্ছে টিভি প্রোগ্রাম এর দর্শকদের মতামতের উপর ভিত্তি করে রিপোর্ট জমা দেওয়া আর মাস শেষে বেতন তুলে নেওয়া। সে সাধারণ একজন মানুষ। একদম স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে। একদিন একটি বিস্ময়কর ঘটনা ঘটলে তাঁর জীবন পালটে গেল। সে জানতে পারলো তাকে একটি স্পেইস এক্সপেডিশনে আরও সাত জনের সাথে পাঠানো হবে। স্পেইস শিপটি হাইপার ডাইভ দিতে পারে। প্রটাগনিস্টকে নেওয়ার কারন হচ্ছে তাঁর এক্সট্রা সেনসরী পারসেপশন ক্ষমতা আছে যা সে অভিযানে ব্যাবহার করতে পারবে। অভিযান শেষে জীবিত ফিরে আসার কোন সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। যদিও তারা ফিরে আসতে পারে তত দিনে পৃথিবীর বয়স বেড়ে যাবে অনেক। কারণ একটি হাইপার ডাইভ দিলে পৃথিবীর বয়স ১০০ বছর বেড়ে যেতে পারে। প্রটাগনিস্টের প্রিয় বান্ধবীর সাথে আর কোন দিন দেখা হবে না। তা জেনেও মূল চরিত্র আরও সাত জন সাথে করে নিয়ে মহাবিশ্বে অভিযান শুরু করে। পাঠ প্রতিক্রিয়া হুমায়ুন আহমেদ বাংলা সাহিত্যে আমার সবচাইতে প্রিয় লেখক। ছোটবেলা থেকেই উনার বই আমি অনেক পছন্দ করি। হুমায়ুন আহমেদ এর সায়েন্স ফিকশান নিয়ে আমার উন্মাদনার শেষ হবে না কখনো। আমার মতে উনার বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী গুলোর কোন তুলনা হয় না। বাংলায় আমি সায়েন্স ফিকশান বলতে গেলে হুমায়ুন আহমেদ আর মুহাম্মাদ জাফর ইকবাল এর বইগুলোই পড়েছি। আমি মনে করি উনাদের সাবলীল আর সহজ লেখনী একজন পাঠককে বইয়ের পাতায় ধরে রাখতে পারে যা অন্য কোন লেখক এর লেখায় আমি মনে করি না আছে। আমি কল্পনা করতে খুব ভালোবাসি। আমি যখন অনেক ছোট ছিলাম তখন ভাবতাম কোন এক দিন একটা মহাকাশ যান নিয়ে অনন্ত কালে হারিয়ে যাব। মহাকাশযান দিয়ে বিভিন্ন গ্রহ নক্ষত্রে ঘুরে বেড়াব। এমনকি একটা টাইম মেশিনে করে অনন্তের উদ্দেশে পাড়ি দিব চিন্তা করতাম। সময় পরিভ্রমন ও প্যারালাল ইউনিভার্স আমার অসম্ভব প্রিয় বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম। এই জন্য টাইম ট্র্যাভেল ও প্যারালাল ইউনিভার্স বিষয়গুলো আমাকে সবসময় বিস্মিত ও রোমাঞ্চিত করে। ভয়েজার স্পেসশীপ আমাকে যদি আজীবন অসীম এর উদ্দেশে নিয়ে যেতে পারত তাহলে অসাধারণ হত। এই সাই–ফাই এ হুমায়ূন আহমেদ তার প্রতিভার সাক্ষর রেখেছেন যথেষ্ট। যদিও তিনি সামাজিক উপন্যাস লিখেই তার ক্যারিয়ার এর বেশির ভাগ সময় কাটিয়েছেন, এটা স্বীকার করতেই হবে যে তাঁর সায়েন্স ফিকশান গুলো বাংলা ভাষায় লেখা সবচেয়ে দুর্দান্ত ও আনন্দদায়ক। সাই-ফাই জনরা তে তাঁর অনেক চমৎকার সৃষ্টি আছে। কিন্তু হুমায়ূন আহমেদ খুব কম সায়েন্স ফিকশান লিখেছেন যে কারনে তাঁর লেখার প্রতি আমার একটা আক্ষেপ আছে। যদিও অনেকে হুমায়ূন আহমেদ কে কমার্শিয়াল লেখক বলেন, তাদের উচিত তাঁর লেখা আরও অনেক বেশী করে পড়া। অনন্ত নক্ষত্র বীথি বইটি হয়তো সবাই পরে ফেলেছেন যারা বাংলা সায়েন্স ফিকশান পড়তে পছন্দ করেন। এই বইটি পড়ে বুঝতে পারবেন কি অসাধারণ আর অসামান্য সায়েন্স ফিকশান লিখে গেছেন শ্রদ্ধেয় লেখক। এই বইয়ের প্লট ভীষণ শক্তিশালী যদিও অনেক ছোট। বইটির কাহিনী ও কনসেপ্ট আমার দারুন লেগেছে। এই বইটা অনেকটা নেটফ্লিক্স সিরিজ ডার্ক এর কথা মনে করিয়ে দেয়। প্যারালাল জগতের নেভার এন্ডিং সাইকেল সম্পর্কে পড়তে খুব মজা পাবে পাঠক। বাক্তিগত আবেগ ও আছে। প্যারালাল ইউনিভার্স নিয়ে অনন্ত নক্ষত্র বীথি বইটি লিখা হয়েছে। এই বিষয়ে এত আবেগঘন গল্প হয়তো কোন লেখকই বাংলায় লিখতে পারেন নি। সেই আবেগ দিয়ে গল্পের মূল চরিত্র বস্তুজগতকে ধ্বংস করেছে বারবার যা থেকে ক্রমাগত সৃষ্টি হয়েছে পরাবাস্তব জগত। সব কিছু মিলিয়ে লেখকের একটি মারাত্মক সাই-ফাই বই। মাত্র ৫৪ পেইজের একটা বই আমাকে বাক্রুদ্ধ করে ফেলবে তা কখনো ভাবতে পারিনি। হুমায়ূন আহমেদ এর সাই-ফাই সবসময়ই ভিন্ন মাত্রার। তার সাই-ফাই বইয়ের সুন্দর উপস্থাপনা আর দুর্দান্ত প্লট যে কোন পাঠকের মনে দাগ কাটবেই নিশ্চিত। হিমু ও মিসির আলীর দাপটে লেখকের অন্য কাজ বিশেষ করে সায়েন্স ফিকশান গুলো যখন কোণঠাসা হয়ে যায় তখন কোন হুমায়ূন ভক্ত যখন এই বইটি পড়বে, তখন বুঝতে পারবে হুমায়ূন আহমেদ এর সাই-ফাই গুলো আসলে কতটা সুনিপুণ। স্পেস ট্রাভেলিং আর প্যারাডক্স এর সাথে মানুষের মনের সীমাবদ্ধতা নিয়ে অসাধারণ একটি কাহিনী ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক। যদি আপনার চিরচেনা জগতকে ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখতে চান, তাহলে এই বইটি আপনার জন্য রেকমেনড করবো। আপনি সত্যি মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে পড়ে যাবেন। হাইপার স্পেস, টাইম লুপ ও প্যারালাল ইউনিভার্স কনসেপ্ট গুলো নিয়ে লেখক একটি টপ নচ সাই-ফাই তৈরি করেছেন। আপনি পরাবাস্তব জগতে হারিয়ে যাবেন অনেকক্ষণ এবং শূন্যতায় ডুবে থাকবেন। ক্লাইমাক্স টা অনেক ম্যাজিকাল। নিজেকে প্রটাগনিস্ট এর জায়গায় ভাবতে শুরু করবেন। তার একাকীত্ব অনুভব করতে পারবেন। এমনকি যখন গল্প শেষ হয়ে যাবে তার পর ও কিছুক্ষণ বাক্রুদ্ধ হয়ে থাকবেন। ঘোর কাটবেনা। হুমায়ূন আহমেদ এর বই মানেই ম্যাজিকাল কিছু। তার লেখনশৈলী খুবই সুন্দর, শাবলীল ও সহজ। যদি একাবার পড়া আরম্ভ করেন তাহলে এক টানে পড়ে যেতে পারবেন শেষ না হওয়া পর্যন্ত। বিরক্তি বা ক্লান্তি অনুভব করবেন না। এটাই তার লেখার মূল আকর্ষণ ও বৈশিষ্ট্য। অনন্ত নক্ষত্র বীথি বইটির ক্ষেত্রেও একি অভিজ্ঞতা হবে আপনার। রিডার্স ব্লক যদি কাটাতে চান তাহলে হুমায়ূন আহমেদ এর বই আপনার জন্য সবচেয়ে ভাল সিলেকশন হবে। আমার পছন্দের জনরা হচ্ছে সায়েন্স ফিকশান। তাই এই বইটি আমাকে মাজিকের মত রোমাঞ্চিত করেছে। আসলে হুমায়ূন আহমেদ এর যেকোনো বইই রিডার্স ব্লক কাটানোর জন্য যথেষ্ট। অনন্ত নক্ষত্র বীথি বইটি এক কথায় একটি মাস্টারপিস। ভাবতে পারিনি এটি পড়ার মত সুযোগ আমি কখনো পাব।
good
প্রশ্ন ও উত্তর (Q/A)
এটা কি হার্ড কভার?
প্রিয় গ্রাহক, জি, বইটি হার্ডকভার। ধন্যবাদ।
এটা কি হার্ড কভার?
প্রিয় গ্রাহক, জি, বইটি হার্ডকভার। ধন্যবাদ।






















