

Buy সবুজ মানুষ রহস্য Online in Bangladesh
লেখক: নিলয় নন্দী
- Author: নিলয় নন্দী
- Publisher: পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স
- Isbn: 9789849714187
- Number Of Pages: 112
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2023
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
শহরে এসেছে রিভলাইফ নামের এক নতুন প্রতিষ্ঠান। তাদের দাবি, তারা ফিরিয়ে আনতে পারবে মৃত মানুষদের। সত্যিকারের মানুষ নয় মোটেই, হুবহু আসলের মতোই নকল এক মানুষ। দলে দলে রিভলাইফে গিয়ে ভিড় করতে লাগল স্বজনহারা মানুষেরা। সত্যিই কি তারা বানিয়ে দিতে পারবে তেমন কিছু? রহস্য ক্রমেই ঘনীভূত হয়ে উঠল যখন খামখেয়ালী, উদাসী এক কর্মহীন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার গিয়ে তার বাবাকে ফিরিয়ে আনতে চাইল। একই সময়ে রাষ্ট্রপতিকে কেন শহরের দু জায়গায় দেখা যাচ্ছে? কেন প্রশাসনের ভেতরের কেউ কেউ উধাও হয়ে যাচ্ছে? কী নিয়ে এত লুকোচুরি খেলা হচ্ছে জনগণের সাথে? দুই তরুণ সাংবাদিক মাঠে নামল ছায়ামানুষের রহস্য উদঘাটনে। হঠাৎ করেই সাড়া পড়ে গেছে ঔষধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে। সামান্য একজন মানুষের কারণে হাজার হাজার কোটি টাকার ব্যাবসা ধসে পড়তে শুরু করেছে! কী করেছেন তিনি? অক্সিমেডি কোম্পানির কর্মকর্তারা উঠেপড়ে লাগলেন ব্যাবসার ধস ঠেকাতে। বিজ্ঞান ও কল্পবিজ্ঞানের মিশেলে লেখা এমনই কিছু গল্পের অনবদ্য সংগ্রহ সবুজ মানুষ রহস্য। গল্পগুলো পাঠককে শুধু আনন্দই দেবে না, যোগাবে গভীর ভাবনার খোরাক। এই বইয়ের মাধ্যমেই বাংলা কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের জগতে যুক্ত হলো নতুন, বর্ণিল একটি পাতা।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
#আড্ডাখানায়_রকমারি #রিভিউ_২০২৩ বই: সবুজ মানুষ রহস্য লেখক: নিলয় নন্দী জনরা: সায়েন্স ফিকশন প্রচ্ছদ: তৌহিদুল ইকবাল সম্পদ প্রকাশনী: পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি. প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২০২৩ পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১১ মুদ্রিত মূল্য: ২৬০/- আজ থেকে একশত বা পাঁচশত বছরের পরের পৃথিবী কেমন হবে বলে আপনার মনে হয়? আজকের পৃথিবীর কথা কি অতীতের মানুষেরা কল্পনা করতে পেরেছিল? ভবিষ্যৎ পৃথিবী নিয়ে যেমন আছে আমাদের কল্পনা তেমনি আছে আশা। অবশ্য সে চাওয়ার রকমফেরও আছে। বইয়ে লেখক এমনিই কিছু সম্ভাব্য কল্পনার কথা বলেছেন। মোট সাতটা অংশ আছে বইয়ে। প্রথম ছয়টা অংশ ছয়টা আলাদা আলাদা গল্প। সপ্তম অংশ বেশ কিছু অণুগল্প নিয়ে। ১। ছায়ামানব: একই ব্যক্তি একই সময়ে ভিন্ন ভিন্ন জায়গায়! কীভাবে সম্ভব? এমন অদ্ভুত খবর পাওয়ার পর অনুসন্ধানে নামে দুই সাংবাদিক। সাবেক সিকিউরিটি অফিসার শোনায় এক আজব গল্প। জনসাধারণের আড়ালে বছরের পর বছর ধরে হয়ে আসছে ভয়াবহ সব গবেষণা! কারা আছে এসবের আড়ালে? উদ্দেশ্যই বা কী? পলিটিক্স কন্সপিরেসি নিয়ে লেখা ভবিষ্যৎ পৃথিবীর ছোট একটা গল্প। ক্ষমতাকে পুঞ্জিভূত করতে বের করা হয়েছে অভিনব এক পদ্ধতি। যদিও কল্পকাহিনি তবুও প্লট ও সমাপ্তি বাস্তবিকই মনে হয়েছে আমার কাছে। কে জানে আজ থেকে একশত বছর পরের পৃথিবী এমন হয় কিনা! ২। জয়নাল ডাক্তার আর হায়দার আলীর গল্প: নিখাদ ভালো মানুষ বলতে যা বুঝায় ডাক্তার জয়নাল খন্দকার এমনিই একজন মানুষ। কিন্তু এখন বসে আছেন একজন কন্টাক্ট কিলারের সামনে! ডাক্তারের ভাষ্যমতে এই খুন খুবই জরুরি শুধু তার না বরং সমগ্রজাতির জন্য। কিন্তু কেন? ❝ডক্টর জেকিল অ্যান্ড মিস্টার হাইড❞ বই যদি পড়ে থাকেন বা মুভি দেখে থাকেন তো গল্পটা পড়ে মজা পাবেন না। কারণ ডক্টর জেকিল বইয়ের আদলেই এই গল্পটা লেখা হয়েছে। ৩। ফাইল নাম্বার সেভেনটি সেভেন: বাড়ি ফিরে অনীকে দেখে চমকে যান তার বাবা। ছোট মেয়েটা এমন অদ্ভুত আচরণ কেন করছে? পুরুষালী কন্ঠস্বর! দিনকে দিন বিষাক্ত হয়ে যাচ্ছে বায়ুমণ্ডল। দূষিত বায়ু শরীরে প্রবেশ করলে ফলাফল কী হতে পারে? যদিও গল্পটা শুরুতে প্যারানরমাল কিছু মনে হচ্ছিল কিন্তু শেষে যৌক্তিক একটা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। ৪। নীলক্ষেতের বই: বইপড়ুয়াদের জন্য এক আবেগের নাম বই। কিন্তু হঠাৎই নীলক্ষেতে পাওয়া যাচ্ছে বিষাক্ত কিছু বই! বিষাক্ত কারণ বইগুলোর জন্য ছেলেমেয়েদের মানসিক বিকৃতি দেখা যাচ্ছে। অদ্ভুত রাসায়নিক মেশানো হচ্ছে বইয়ের পাতায় যা ধীরে ধীরে প্রবেশ করছে পাঠকদের শরীরে। এসবের আড়ালে লুকিয়ে আছে কে? মেধাবীদের প্রতি আমাদের স্বভাবতই আলাদা অনুভূতি কাজ করে। দেশে, জাতি, সমাজের জন্য কিছু করবে এমনই আশা থাকে। প্রচুর বই পড়ে যারা ধরে নেওয়া যায় তারা মেধাবী। থ্রিলার যারা পড়ে তাদের এনালাইসিং, প্রবলেম সল্ভিং ক্যাপাবিলিটি বাকিদের তুলনায় বেশি। এমনটাই ধারণা গল্পের এন্টাগোনিস্টের। ধারণা থেকে এক ভয়ানক এক্সপেরিমেন্টে নেমে যায়। আর হাতিয়ার হিসেবে ব্যাবহার করে নীলক্ষেতের নির্দিষ্ট কিছু বই। কিন্তু গবেষণার উদ্দেশ্য ও ফলাফল আমি বললো না। পাঠককে নিজে পড়ে জানতে হবে। ৫। অমৃতের সন্ধানে: মৃত্যুকে আমরা কমবেশি সবাই ভয় পাই। কিন্তু এই মৃত্যুকেই যদি কেউ ব্যবসা বানিয়ে ফেলে তখন? অক্সিমেডি এমনই এক কোম্পানি। আবু নাঈমের স্ত্রী মারা যাওয়ার পর জানতে পারে বাঁচানো সম্ভব ছিল প্রিয়তমকে যদি সঠিক ওষুধ নিয়ে নোংরা ব্যাবসা শুরু না করতো একদল লোভী! শুরু হয় প্রতিবাদ কিন্তু ফলাফল কী হবে? একজন সর্বহারা ব্যক্তি, একজন বিপথগামী, কিছু অসাধু ব্যক্তি, কিছু সুবিধাভোগীদের নিয়ে মোটিভেশন, দর্শনের আলোকে আশার একটা গল্প। ভালোমন্দ নিয়েই মানবজীবন কিন্তু কেউ যেমন শতভাগ ভালো হতে পারে না তেমনি কেউ শতভাগ খারাপও না, লেখক এটাই বলতে চেয়েছেন। ৬। সবুজ মানুষ রহস্য: মৃত প্রিয়জনকে ফিরিয়ে দিবে এক কোম্পানি! কীভাবে? থ্রিডি মডেলের এক বক্স থেকে বেড়িয়ে আসবে হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তি। কেমন জানি লাগছে তাই না? স্পষ্ট করে বললে, হলোগ্রাফিক থ্রিডি মডেলের ডিভাইস জায়গা দখল করে নিবে শূন্যস্থান। কিন্তু সেই থ্রিডি মডেল সত্যিই কি পারবে খালি জায়গা পূরণ করতে? গল্পের নামে যখন বইয়ের নাম বুঝতেই পারছেন গল্পটা বিশেষ কিছু। আসলেই তাই। পিচ্চি গল্পটা আমার বেশ পছন্দ হয়েছে। বিদেশ ফেরত এক ছেলে বাবার মৃত্যু রহস্য সমাধানে নামে এবং সাথে নেয় হলোগ্রাফিক থ্রিডি মডেলের সাহায্য। রহস্যের কিনারা হবে কিনা পড়লেই জানা যাবে। ৭। একগুচ্ছ অণু সায়েন্স ফিকশন: নামেই শুধু অণু না আসলেই অণু। কয়েক লাইনের এক একটা খুবই ছোট ছোট পনেরোটা গল্প নিয়ে এই অংশ। গল্পগুলো নিয়ে আলাদা করে কিছু বলবো না শুধু এতটুকুই বলবো যে সাধারণ, অসাধারণ কয়েকটা গল্প। পুরো বইটাই আসলে কিশোর উপযোগী সায়েন্স ফিকশন। বিজ্ঞানের সাধারণ কিছু তত্ত্ব, কল্পনা, সম্ভাবনা, থিওরি নিয়ে লেখা। বইয়ের কয়েকটা সুন্দর ইলাস্ট্রেশন আছে। ওভারঅল প্রোডাকশন ভালো হয়েছে। অল্প কিছু বানান ভুল আছে। বইয়ের প্রচ্ছদ ছয় নম্বর গল্পের দিকে ইঙ্গিত করে।
প্রথম গল্প দুটো পড়ার পর একটা বিরতি, তারপর একটানা পড়ে ফেললাম। দেশি স্বাদের এমন কল্পবিজ্ঞানের গল্প কমই লেখা হয়। চমৎকার গদ্য, অসাধরণ গাঁথুনি, সাবলিল ফিনিশিং, প্রতিটা গল্প পাঠককে ধরে রাখতে ষোলয়ানা সক্ষম। বইয়ের শেষদিকের অণু সায়েন্স ফিকশনগুলোও চমৎকার। লেখকের কাছে এ ধরনের কল্পবিজ্ঞান আরও চাই!






















