

Buy মুহাম্মদ Online in Bangladesh
লেখক: ওসমান সজীব
- Author: ওসমান সজীব
- Publisher: চিলেকোঠা পাবলিকেশন
- Isbn: 9789849704836
- Number Of Pages: 77
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Edition
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
পন্ডিত ভয়ে ভয়ে সম্রাটকে একটা গল্প বলে। “আপনার বাবা রাতে ছদ্মবেশে বের হত।চারদিকে কেবল শুনতে পেত মুহাম্মদের জয়গান।যারা প্রশংসা করত তাঁদের হত্যা করত।ফরমান রাজি করেছিল মুহাম্মদের নাম কেউ উচ্চারণ করলেই মৃত্যুদণ্ড। ফিসফাস করে মুহাম্মদের জয়গান কেউ করছে এই সন্দেহও তাদের হত্যা করেছে।বীভৎস হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল।মানুষ মুহাম্মদের নাম উচ্চারণ করতে ভুলে গেল।তখন এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটল। ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি আসতে লাগল।পুরো রাজ্যে ছেয়ে গেল সেই পাখি দিয়ে।সেই পাখির নাম কেউ বলতে পারল না। আগে কেউ দেখেওনি!কোথা থেকে এই পাখিরা এলো?কেউ কেউ বলল এই পাখি স্বর্গীয় পাখি।মুহাম্মদের নাম উচ্চারণ করায় সম্রাট নিরীহ মানুষদের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে,তার প্রতিশোধ নিতে এই স্বর্গই পাখিরা এসেছে। মানুষ যখন মুহাম্মদের প্রশংসা করেছিল তখন আপনার বাবার পাগল হওয়া বাকি ছিল।স্বর্গীয় পাখি এসে পাগল বানিয়ে দিয়ে গেছে।সেই স্বর্গীয় পাখিরা কেবল একটা শব্দই উচ্চারণ করত।উড়ে উড়ে ঘুরে ঘুরে কেবল ডাকত মুহাম্মদ... মুহাম্মদ...।আপনার বাবা পাখি হত্যা করার নির্দেশ দিল।রাজ ফরমান জারি করল।পাখি হত্যা করতে পারলে রাজকোষাগার থেকে মোটা অংকের অর্থ পাবে।সবাই পাখি নিধনে লেগে গেল।অবস্থা হলো আরো খারাপ।এত এত পাখি আসতে লাগল যে প্রজারা ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল পাখি হত্যা করতে করতে।রাজকোষাগার শূন্য হওয়ার অবস্থা হয়।পাখিদের মুহাম্মদ ডাকাটা বন্ধ করতে পারল না।আপনার বাবা আত্মাহত্যা করল। আত্মহত্যার জন্য মুহাম্মদই দায়ী।মুহাম্মদকে হত্যা করবেন না?বাবার হত্যার প্রতিশোধ নেবেন না?” বিঃদ্রঃ এ বইটি হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কিত কোনো বই বা ফ্যান্টাসি নয়। গল্পের মূল চরিত্র মুহাম্মদ সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি মিস্টিক্যাল ক্যারেক্টার।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

========= বইয়ের কাহিনী/সার-সংক্ষেপ ========= “আজ এই যুদ্ধে বহু নিরীহ মানুষ এসেছে। তারা হুকুমের দাস, বেতনভুক্ত। জানে না কোনটা ন্যায়, অন্যায়, কোনটা ঠিক, বেঠিক। কেউ এসেছে প্রাণের ভয়ে। ছোটবেলা থেকে এদের কুশিক্ষা দেওয়া হয় জালেমের সৈনিক-অনুসারী হতে পারলেই মোটা বেতন। নিশ্চিত বেতন। আরো অনেক সুযোগ-সুবিধা আছে। মোটা বেতন আর সুযোগ-সুবিধায় পরিবার ভালো থাকবে। তাই পরিবার থেকে বারবার উৎসাহ দেওয়া হয় গোলাম হওয়ার জন্য। জালেম শাসকের বেতনভুক্ত দাস হওয়ার জন্য এবং জানায় সবাই কম-বেশি জুলুম করে। একটু-আধটু জুলুম করলে, অন্যায় করলে সমস্যা নেই। তেমন দোষের কিছু নেই। আনন্দে তারা গোলামীতে নাম লেখায়। যুগ যুগ ধরে ইহকালে ভালো থাকার জন্য তারাও এই শিক্ষা দিয়ে বড় করে তোলে পরবর্তী প্রজন্মকে।” মহা প্রতাপশালী এবং কারাস সাম্রাজ্যের পরাক্রমশালী শাসক সম্রাট লেবলন। নিজেকে তিনি দাবি করেন পৃথিবীর শাসনকর্তা হিসেবে। পৃথিবীতে এমন কোন জাতি বা সেনাবাহিনীর বহর নেই যে তার রণ হুংকারে ভীত-সন্তস্ত্র ও তার বিশাল সেনাবাহিনীর কাছে নত হয়নি। সম্রাট লেবলনের সমনে মাথা তুলে দাঁড়াবে এমন কেউই আর নেই। কিন্তু একদিন এক ঝড়ের কবলে পড়ে সম্রাট লেবলন ও তার সেনাপতি আকস্মিকভাবে উপস্থিত হয় তার রাজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন অচেনা-অজানা এক ভূখন্ডে। পরে সেনাপতি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন এর নাম উইকল্যান্ড। যে রাজ্যের নাই কোন ঐশর্য, নেই নূন্যতম প্রতিরোধ বুহ্য, নেই কোন সেনাবাহিনী ও অস্ত্র-শস্ত্র। তাই সম্রাট লেবলন উইকল্যান্ডকে নিজের কারাস সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দেন। কিন্তু সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিতভাবে সেই উইকল্যান্ডের অভিভাবক মুহাম্মদ কারার রাজ্যের সেনাপতির চোখে চোখ রেখে ঘোষণা দেন উইকল্যান্ড একটি পবিত্রভূমি এবং উইকল্যান্ড যতই দূর্বল ও অভাবগ্রস্থ হোক না কেন প্রয়োজনে তারা যুদ্ধ করবে কিন্তু কখনোই সম্রাট লেবলনের দাসত্ত্ব মেনে নেবে না। শুরু হলো সম্রাট লেবলন ও মুহাম্মদের মধ্যে এক অসম যুদ্ধ। ক্রমশঃ সে যুদ্ধ পরিণত হলো যুগ যুগ ধরে পৃথিবীতে চলে আসা হক ও বাতিলের। ========= পাঠ প্রতিক্রিয়া ========== ওসমান সজীবের লেখা এটা আমার প্রথম পড়া বই। বইটিকে উপন্যাসের চেয়ে আমার কাছে এটি অনেকটা শিক্ষণীয় ঈশপের গল্পের মতো মনে হয়েছে। যেখানে নিশ্চিতভাবেই চিরাচরিত আদর্শিক নিয়মানুযায়ী বাতিলের ধ্বংস ও হকের চূড়ান্ত বিজয়কেই তুলে ধরা হয়েছে। যা বইয়ের শুরু থেকেই অনেকটাই অনুমেয় ছিলো। অবশ্য কিছুটা রহস্যের ভাবটা শেষ পর্যন্ত ছিলো এবং শেষে একটি রহস্য দিয়েই বইটি শেষ করেছেন কিন্তু থ্রিলিংয়ের বিষয়টা আমার কাছে জমে নাই। বইয়ের মূল কাহিনীর প্লটও বেশ ছোট এবং তেমন খুব বেশি চরিত্রেরও ঘনঘটা নাই। বইয়ের সমাপ্তিও আগেই বলেছি অনেকটাই অনুমেয় ছিলো; তবে আমার ব্যক্তিগত মতামত হলো বইটির কাহিনীর প্লট অনুযায়ী এর কলেবর এবং চরিত্র উভয়েই বৃদ্ধি করা যেত। আবার সম্রাটের পন্ডিত চরিত্রটির ভূমিকাও আমার কাছে ঠিক পরিষ্কার না। সে সবই জানে কিন্তু কাজের সময় তার জ্ঞানের বাস্তব প্রয়োগ কোথায় হইলো সেটাই বুঝলাম না। আরেকটি বিষয় উইকল্যান্ড নাম নিয়ে। নিঃসন্দেহে লেখকের অন্য কোন নাম দেয়া দরকার ছিলো; যা বইয়ের কাহিনীর সাথে যুতসই হতো। আর বইয়ের নামকরণ দেখেই অনেকে ভাবতেই পারে এটা কি হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জীবনী বা তার কোন ঘটনা নিয়ে কোন বই কিনা? স্পষ্ট উত্তর হচ্ছে “না”। বইয়ের সাথে হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জীবনীর বা তৎসংশ্লিষ্ট ঘটনার কোন সম্পর্ক নাই। তাই বইয়ের নামকরণের মাহাত্ম কি সেটা আমার বুঝে আসে নাই। কারণ যদি প্রধান চরিত্রের নামের জন্যই বইয়ের এই নামকরণ হয় তাহলে প্রধান চরিত্রের নাম ভিন্ন কিছুও দেয়া যেত। যাই হোক ছোট আকারের উপন্যাস বা গল্প যাই বলেন রহস্যপ্রিয় পাঠকেরা বইটি পড়ে দেখতে পারেন। একেবারে খারাপ লাগবে না। প্রোডাকশনঃ বইটির প্রচ্ছদ ঠিক বুঝি নাই; কোন অর্থ বহন করে কিনা সেটাও জানা নাই। পৃষ্ঠার কোয়ালিটি ছিলো ভালোই। আর ফন্টের সাইজ বড় ও লাইন স্পেসিং বেশি দেয়ার উদ্দেশ্য কি শুধু পৃষ্ঠার সংখ্যা বৃদ্ধি করে একে একটি বইয়ে রূপান্তর করা? ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৬.৫/১০।

‘মুহাম্মদ’- বইয়ে সবল রাষ্ট্রের দুর্বল দেশ বা রাষ্ট্রের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়ার বিষয়টা প্রবলভাবে আছে বলে একে বৈশ্বিক এক উপন্যাসিকা হিসেবে চিন্তা করা যায়। সার্বিকভাবে, এটা খুব ছোট বই হলেও এর ক্যানভাসটা বিশাল। অতীত থেকে শুরু করে বর্তমানের বৈশ্বিক রাজনীতিকে খুব সহজেই ছুঁয়ে দেয় বইয়ের থিম। উপন্যাসিকায় দেখা যায়, স্রেফ ইগো থেকে উইকল্যান্ডকে অধীনে আনতে চায় এক সম্রাট। উইকল্যান্ডে কোনো সম্পদ নেই, আকর্ষণীয় কোনো বস্তু নেই। সেখানে বাস করা লোকেরা দাস বানানোর মতো উপযুক্তও নয় সম্রাটের কাছে। তবু সম্রাট উইকল্যান্ড চায়। যদি প্রশ্ন করি কেন? তবে উত্তরে বলা যায়- ক্ষমতাবানের নিছক খেয়াল মেটাতে। কোনো কারণ নেই, এমনকি ভবিষ্যতে কখনো উইকল্যান্ড সম্রাটে সাম্রাজ্যের প্রতি হুমকি হয়ে উঠবে না তবু সম্রাটের জেদ একটাই- যে কোনো মূল্যে উইকল্যান্ডকে পদানত করতে হবে। সম্রাটের ইচ্ছের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় উইকল্যান্ডের নেতা মুহাম্মদ। উইকল্যান্ডের সকলেই যেখানে ভয়ে কাঁপতে থাকে সেখানে মুহাম্মদ সবাইকে আশ্বস্ত করেন- উইকল্যান্ডবাসীকে কেউ হারাতে পারবে না। মুহাম্মদের স্থির-আশ্চর্য-আত্মবিশ্বাসী বাণী উইকল্যান্ডের মানুষদের ঠিক ভরসা না দিলেও মুহাম্মদকে অনুসরণের সিদ্ধান্ত নেয় তারা। ক্রোধান্ধ সম্রাটের বাহিনী উইকল্যান্ডবাসীকে পিষে ফেলার জন্য ধেয়ে আসে। শেষতক সমীকরণটা এমন দাঁড়ায় যে, সম্রাটের পঞ্চাশ লাখ সেনার সামনে প্রতিরোধের জন্য উইকল্যান্ডে প্রস্তুত হয় মাত্র নিরানব্বইজন যোদ্ধা! তাদের আবার সবার কাছে তলোয়ারও নেই। উপন্যাসিকাটার ধরন ডায়ালেক্টিক। মতামত, দ্বিমত, প্লট নির্মাণ, ক্লাইম্যাক্সে পৌছানো- সবকিছু কথোপকথনের ভেতর দিয়ে এগিয়েছে। লেখক এটা সচেতনভাবে করেছেন কিনা আমার জানা নেই, তবে কোনো একটা দৃশ্যপট ফুটিয়ে তুলতে ডায়ালগগুলো যথেষ্ট ছিল। দুর্বলতা বলতে যেটা বলে সেটা হতে পারে উপন্যাসিকায় নাটকীয়তার আধিক্য। বা আদৌ একে উপন্যাস-থ্রিলার বলা যায় কিনা সেটাও আলোচনার বিষয় । যদিও লেখক একে বলছেন মিস্ট্রি থ্রিলার। কিন্তু নাটকীয় সংলাপের আধিক্যের কারণে তিন অঙ্কের একটা নাটক হিসেবে এটা যথার্থ রচনা হতে পারতো। যেহেতু ডায়ালগই গল্প এগিয়ে নিয়ে গেছে সে হিসেবে উপন্যাস বা থ্রিলারের স্বাদ কিঞ্চিত স্তিমিত হয়ে পড়ে ‘মুহাম্মদ’ বইয়ে। অন্য কোনো পাঠকের হয়তো দ্বিমত থাকতে পারে। অবশ্য আমার পর্যবেক্ষণের আরেকটা ভিত্তি হলো, এ বইয়ের লেখক ওসমান একজন নাট্যকার। তার লেখা বেশকিছু জনপ্রিয় নাটক রয়েছে। সেদিক বিবেচনায় বলা যায়, নাট্যকার হিসেবে অবচেতনেই বোধহয় উপন্যাসিকাটায় নাটকের বৈশিষ্ট্য ঢুকে পড়েছে। এরপরও আকৃতির কারণে একে আমি উপন্যাসিকাই বলতে আগ্রহী। যাক এসব, বইয়ের ধরন নিয়ে পাঠকের সিদ্ধান্ত যাই হোক না কেন গল্পটা বিগত বছরগুলোতে আমার পড়া উল্লেখযোগ্য একটা বই। কারণ, ট্রেডিশনাল গল্পের বাইরের গল্পের স্বাদ এতে আছে, বিগ স্কেলের থিম আছে। কিছু সিম্বলিক ব্যাপার আছে যেমন উইকল্যান্ড বলতে আপনার চোখে ভাসতে পারে ফিলিস্তিনের চিত্র বা এখন ইউক্রেনকেও কেউ কেউ বলতে পারেন উইকল্যান্ড। আবার উইকল্যান্ড বলতে আদর্শ বা ধর্মবিশ্বাসকে ধরে নেয়া যেতে পারে। কারণ আদর্শ বা ধর্মরক্ষার জন্য মানুষ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও রুখে দাঁড়ায়। আবার একে প্রাচ্য ও পশ্চিমের দ্বন্দ্ব বিষয়ক গল্পও বলা যায়। বলা যায় এক ধ্বংসযজ্ঞ এড়িয়ে শান্তিতে থাকতে চাওয়া এক সুপারহিরোর গল্প.... শুভকামনা, ‘মুহাম্মদ’ ও এর লেখকের প্রতি।

উপন্যাসে একটা ঘটনা গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে।হাড় হিম করা ভয়ে ডুবে গিয়েছিলাম কিছু সময়। পৃথিবী থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়!সে একা নয়।মুহাম্মদ আর তাঁর ৯৯ জন যোদ্ধা!কোথায় অদৃশ্য হয়ে কোথায় যায় মুহাম্মদ?অন্য কোনো পৃথিবীতে তাঁর ৯৯ যোদ্ধা নিয়ে বসাবাস শুরু করে? পৃথিবীতে ভেসে থাকা সম্ভব নয় এক মাসে জুড়ে ১০০ জন মানুষ!এক মাসে ধরে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। যদি পৃথিবীতে কোথাও অদৃশ্য হয়ে থাকে তাহলে তো সম্রাটের কথা প্রমাণ হয়ে যায় এক বড় জাদুকর মুহাম্মদ! আরো ভয়ের কথা হলো অদৃশ্য হওয়ার আগে বিকট শব্দে উইকল্যান্ড কেঁপে ওঠে!এমনভাবে কেঁপে ওঠে আকাশ থেকে ১০০০ মাইল গতিতে অশরীরী কেউ নেমে এসে মুহাম্মদ আর তাঁর ৯৯জন যোদ্ধাকে ছোঁ মেরে তুলে নিয়ে যায়!এত ক্ষমতাবান যে একাই মুহাম্মদ আর তাঁর ৯৯জন যোদ্ধাকে তুলে নিয়ে যেতে পারে!অন্য কোনো জগতে? আরো ভয়ের কথা হলো মুহাম্মদ বেঁচে আছেন।যখন পৃথিবীতে ফিরবেন তখন তাঁর বয়স কত হবে?কোন সময়কালে ফিরবে?অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার আগে সে নেতা ছিল।যখন ফিরবে তখন নেতা কে হবে! আত্মা শুকিয়ে আসে এই কথা মনে করলে!উপন্যাস বলা হচ্ছে বিশ্বরাজনৈতিক বা ফ্যান্টাসি জনরার।এটা ভুল জনরা।অথচ পিলে চমকে যাওয়ার মতো এটা একটা হরর উপন্যাস!শরীরে নয় যে হরর মস্তিষ্কে বিস্ফোরণ ঘটায়!

অত্যাচারী সম্রাট একের পর এক রাজ্যে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে মহান সম্রাট বনে গিয়েছে।কিন্তু এক রাজ্যহীন সম্পদহীন এক মামুলি মানুষের গুনাগুণ করতে থাকে সম্রাটের প্রজারা।সম্রাট রেগে গিয়ে ফরমান জারি করল কেউ মুহাম্মদ এর প্রশংসা করতে পারবে না।করলেই হত্যা।মানুষ লুকিয়ে লুকিয়ে প্রশংসা করতে লাগল।এটা দেখে সম্রাট রেগে গিয়ে উন্মাদের মতো হত্যা করতে লাগল নিরীহ প্রজাদের।কেউ কিছু করতে পারল না।মুহাম্মদের প্রশংসা বন্ধ হয়ে গেল।তারপরই একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটল!হত্যাযজ্ঞ এর প্রতিবাদে কোথা থেকে যেন লাখ লাখ পাখি আসতে লাগল।রাজ্য ভরে গেল।সারাক্ষণ পাখিরা 'মুহাম্মদ..মুহাম্মদ' ডাকত থাকল।মানুষ যার নাম উচ্চারণ করায় হত্যাযজ্ঞ চালাক সেই উচ্চারণ পাখির মুখে শোভা পেল। উপনাসের এই অংশ পড়ে ভীষণ রোমাঞ্চিত হয়েছি!শরীরে যেন একটা কাঁপুনি ধরে গেল।স্তব্ধ হয়ে রইলাম। এক রোমাঞ্চেকর উপন্যাস।সত্য সুন্দর।দারুণ রোমাঞ্চ অনুভব করলাম।নতুন কিছু নতুন স্বাদ।

এক অবিশ্বাস্য অভাবনীয় উপন্যাস! অনন্য এক প্লটের মধ্যে দিয়ে কল্পনার অবয়বে নবীজির চারিত্রিক গুণাবলিকে বা তাঁর কথা কাজ, বিশ্বাস,আদর্শের সৌন্দর্যকে মহিমান্বিত করা হয়েছে। সমগ্র জীবনে কতটা সত্য,সুন্দর মানবিক, দয়ালু ছিলেন সেটা দিয়ে চিত্রিত করা হয়েছে।এ যেন ইসলামের চেতনায় আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে ওঠার গল্প! একবারেও উল্লেখ নেই মুসলমানদের কথা! একবারেও উল্লেখ নেই আল্লাহর কথা! একবারেও উল্লেখ নেই পবিত্র মক্কার কথা! উপন্যাসের পবিত্র ভূমি উইকল্যান্ড মানে পবিত্র মক্কা! উপন্যাসের দূর্বল মানুষ মানে ইসলামের সাথে চিরশত্রুতা করে আসা ইউরোপ আমেরিকা দ্বারা যুগ যুগ ধরে নিপীড়িত মুসলমান।আফগানিস্তান।ইরাক।সিরিয়া।ফিলিস্তিনের দূর্বল মুসলমানরা। উপন্যাসের এক ও অদ্বিতীয়,পরাক্রান্ত, প্রজ্ঞাময়,সৃষ্টিকর্তা মানে আল্লাহ! এমন একটা উপন্যাস খুব দরকার ছিল।ব্রাভো!ব্রাভো!ব্রাভো!























