

Buy মায়াচক্র Online in Bangladesh
লেখক: রাইয়ান জহির
- Author: রাইয়ান জহির
- Publisher: বঙ্গ বই
- Isbn: 9789843558428
- Number Of Pages: 144
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2024
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
দেশ বরেণ্য মোটিভেশনাল স্পিকার নৃশংস ও লজ্জাজনকভাবে খুন হন তার এক নারী ভক্তের হাতে। গোটা দেশ তার ফাঁসির দাবি করলেও যৌক্তিক কারণেই দাবি পাল্টে যায়, মুক্তি পায় সে। শিল্পপতিকন্যা, মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ তার এক পেসেন্ট, মানসিক রোগীর জীবনের ঘৃণার গল্প শুনে তার জীবনে একটা মিরাকল ঘটিয়ে দিতে চায়। নিজের চেয়ে বয়সে অনেক ছোট সেই রোগীকে বিয়ে করে সে। বড়লোকের মেয়ে বিয়ে করে হঠাৎ আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে ওঠা ভদ্রলোক গ্রেফতার হয় তার অফিসের রিসেপশনিস্ট ধর্ষণ ও হত্যা মামলায়। গোটা উপন্যাসজুড়ে বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ড! অথচ ফাঁসি হয় এমন একজনের যে খুনটি সে করেনি। বিশ্বাসঘাতকা, প্রতারণা, খুন, ঘৃণা ও বিদ্বেষ নিয়ে গড়ে ওঠা এই গল্পের একটা বড় অংশ জুড়ে আছে মায়া। যে মায়াচক্রে বন্দী সবাই।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

#Book_Insights 42 কী এক মানব জীবন! সারাজীবন নিজের সাথে বসবাস অথচ নিজেকে চেনার সুযোগ নিজের হাতে নেই! মায়াবতী একজন মানসিক রোগের চিকিৎসক। তার প্রিয় একজন মোটিভেশনাল স্পিকারকে অনৈতিক কর্মের জের ধরে হত্যা করা হয়েছে। সেই একই দিনে মায়াবতীর একজন রোগী নওশাদ এসে হাজির হয়েছে তার বাড়িতে। শহরে থাকার জায়গা খুঁজে না পাওয়ায় তার ঠাঁই হয়েছে মায়াবতীর বাড়িতে। গল্পটা সম্ভাবনাময় ছিলো • উপন্যাসের মূল গল্পটা বেশ দারুন ভাবেই শুরু হয়েছিলো। প্রথম দিকে মনে হয়েছে অবাক করা কিছু কাণ্ড হবে, চমকে যাবো হয়তো। কিন্তু এ ধারণা পুরোপুরি সত্যি হলো না। সামাজিক উপন্যাস হলেও পড়তে পড়তে একটা আধ্যাত্বিক অনুভূতি হচ্ছিলো। যেটা সচরাচর হিমু কিংবা মিসির আলি পড়ার ক্ষেত্রে অনেকের হয়। না, হিমু কিংবা মিসির আলির মতো রহস্যময় চরিত্র এখানে নেই, তবে এর পার্শ্বচরিত্রদের মাঝে সে রহস্য আছে। বিশেষ করে মায়াবতীর বাবা এবং বাসার কাজের লোক নসিমনের অদ্ভুত সব ব্যবহার, কথাবার্তা একদিকে হাস্যরসের জন্ম দিচ্ছে, অন্যদিকে পাঠককে কৌতূহলী করার চেষ্টাও করছে। কিন্তু এসবকিছু মুহূর্তেই পাল্টে গেলো উপন্যাসের মাঝামাঝি এসে। • উপন্যাসকে আমি দুই ভাগে ভাগ করবো। প্রথম ভাগে একটা স্বাভাবিক গল্প। সেখানে বাবা মেয়ের স্নেহ আছে, মায়া আছে, আর আছে একটুখানি প্রেম অনুভূতি। সাথে তরিকুল নামক এক বিপ্লবী চরিত্রের অল্প সময়ের আবির্ভাব। প্রথমাংশের সমাপ্তি হয়েছে মায়াবতীর একটা পরিণয়ের মাধ্যমে। তারপর আট বছরের লম্বা একটা টাইম জাম্প। দ্বিতীয়াংশে ঠিক কী থেকে শুরু হয়ে গল্পটাকে কোনদিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, ঠিক ধরা যায়নি। এ অংশে পূর্বের চরিত্রগুলো ভিন্ন, তাদের আচার আচরণ পূর্বের চেয়ে ভিন্ন, উদ্দেশ্য ভিন্ন এবং উপন্যাসের টোনও পুরোপুরি ভিন্ন। এ অংশে কয়েকবার করেই টাইম জাম্প করা হয়েছে। কখনো এক মাসের, তো কখনো এক বছরের। • দুই ভাগে যে বিভক্ত করলাম, এই দুই ভাগেই উপন্যাসের একটা বিষয় কমন। আর তা হলো, ফিলোসফি কিংবা দার্শনিক মতবাদ। উপন্যাসের এক এক চরিত্রের আচার আচরণ ও সংলাপের মাধ্যমে এক এক সময়ে এক এক বিষয়ের যুক্তি, দর্শন এমনকি সামাজিকভাবে প্রচলিত হিপোক্রিসির কিছু বিষয় দেখানো হয়েছে। লেখনশৈলি: লেখকের লেখার মান ভালো। বরং উঠতি লেখক হিসেবে যথেষ্টই ভালো। তবে স্টোরি ও ক্যারেক্টার ডেভলপমেন্ট এর বিষয়টা আমাকে পাঠক হিসেবে হতাশ করেছে। এ ধরনের গল্পের জন্য 'ক্যারেক্টার ডেভলপমেন্ট' হলো প্রাণস্বরুপ। ডেভলপমেন্ট ছাড়া যতই মিরাকল দেখানো হোক না কেনো, পাঠক তাতে অবাক হবে না, আনন্দ অনুভূতি পাঠককে কানেক্ট করতে পারবে না। আমার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে মায়াবতী এবং নওশাদের মাঝের রসায়নকেই ধরে নেই। চরিত্র দুটির মাঝে অনুভূতির আদান প্রদান কিংবা দুজনের পরিণয়ের সম্ভাবনা দেখিয়ে পাঠককে লোভ দেখানোর যে সুযোগ ছিলো, তার সঠিক ব্যবহার লেখক করতে পারেননি। প্রথমবারের বিস্তারিত আলাপেই 'ভালোবাসার' কথা উল্লেখ এবং পরেরবারই নওশাদের গ্রামের উদ্দেশ্যে মায়াবতীর রওনা হয়ে যাওয়ার বিষয়টা ভালো লাগেনি। এর মাঝের সময়টাতে আরও সাসপেন্স, অনুভূতি নিয়ে একে অপরের দ্বিধার উল্লেখ থাকা উচিৎ ছিলো। • একইভাবে নসিমন ও বিজলীর মতো অদ্ভুত চরিত্রকে আরো বেশি বিস্তর করার দরকার ছিলো। তাদের অদ্ভুত সব কথা-বার্তা এবং আচার-আচরণকে পুঁজি করে আরো গল্প বলা যেতো। মায়াবতীর বাবার হুটহাট বনে বাঁদাড়ে ঘুরে বেড়ানোর বিষয়টাকে লক্ষ্য করে কিছু লেখা যেতো। তরিকুলের মতো বিপ্লবী চরিত্রকে নিয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করা যেতো। উপন্যাসের গল্পকে পোক্ত করতে এ বিষয়গুলো বেশ কাজে দিতো। • যেমনটা বলেছিলাম, দ্বিতীয়াংশে চরিত্রগুলো ভিন্ন ভাবে উঠে এসেছে উপন্যাসে। আবার সাথে কখনও আট বছর, কখনও মাস, কখনও দুয়েক বছরের টাইম জাম্প তো আছেই। এইযে চরিত্রের পরিবর্তন, সময়ের পরিবর্তন, এগুলো পাঠক হিসেবে উপলব্ধি করার সুযোগ পাইনি। যেনো একেকটা অধ্যায় একেকটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। প্রতিটি অধ্যায় পৃথকভাবে অর্থ বহন করছে, সেখানে লেখকের লেখাও ভালো লাগছে; কিন্তু একটা অধ্যায় থেকে অন্য অধ্যায়ে যাওয়ার সময়টায় অনুভূতি হচ্ছে মিশ্র। আমার ধারণা, লেখক উপন্যাসটা যেভাবে উপস্থাপন করতে চেয়েছিলেন, তার জন্য যথেষ্ট স্পেস রাখেননি। কোথাও একটা তাড়াহুড়ো করে ফেলেছেন। • লেখার সাজসজ্জা: সাজসজ্জা বলতে উপস্থাপনাকে বুঝাচ্ছি। প্রতিটি লেখায় অনুচ্ছেদ বড় একটা ভূমিকা রাখে। কোথায় কতটুক পর নতুন অনুচ্ছেদ দিতে হবে, কোন অনুচ্ছেদ লেখার বিষয়ের কতটুক ধারণ করবে, তার উপর লেখার সৌন্দর্য অনেকটা নির্ভর করে। বইয়ে অনেকবারই দেখা গেছে বিশাল বিশাল অনুচ্ছেদ, কোনো কোনোটা সারা পৃষ্ঠা জুড়ে। কোনো ঘটনার ব্যাখ্যা কিংবা প্রেক্ষাপটের ক্ষেত্রে সেটা মানা যায়, কিন্তু যখন স্বাভাবিক দৃশ্যায়নের সময়ও বিশাল বিশাল অনুচ্ছেদ রাখা হয়, তখন পাঠকের কাছে সেটা বিরক্তিকর। পাঠক কোথায় বিরতি নিতে পারে, কতটুকু পড়ে দৃশ্যটা এনালাইসিস করতে পারে তার একটা সূক্ষ্ম ধারণা থাকা দরকার। অন্যথায়, পাঠকের মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায়। অবশ্য এর জন্য আমি লেখকের চেয়ে বেশি প্রকাশনী ও প্রুফ রিডারের দায়ভার বেশি মনে করি। • ব্যক্তিগত রেটিং: ৩.৩৫/৫ • বই: মায়াচক্র • লেখক: রাইয়ান জহির • ধরণ: সামাজিক উপন্যাস • প্রকাশনী: বঙ্গ বই • প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারি ২০২৪ • প্রচ্ছদ: জাহেদ রবিন • পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪০ ~ ইয়াসির আল সাইফ
মায়াচক্র একটি চমৎকার থ্রিলার বই। থ্রিলারের পাশাপাশি ফ্যামিলি ক্রাইসিসটাও সুন্দরভাবে তুল ধরেছেন লেখক। সামাজিক অসঙ্গতিও ফুটে উঠেছে লেখায়।
It's a amazing book . I want 2nd part.
ভালো লেগেছে। পার্ট ২ চাই। শুভ কামনা।
সাধারণত বই পড়া হয় না। পরিচিতি লেখক বলেই পড়েছি। কিন্তু পড়ে মনে হলো ওনার নিয়মিত লেখা উচিৎ। অস্থির থ্রিলার মায়াচক্র। আমার অফিসের ম্যাডামের জন্য একটা অর্ডার করছি।























