

Buy ম্যাপ অভ বোনস Online in Bangladesh
লেখক: জেমস রলিন্স
- Author: জেমস রলিন্স
- Publisher: বিবলিওফাইল প্রকাশনী
- Isbn: 9789849604365
- Number Of Pages: 480
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2022
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
প্রাচীন রহস্য...এবং বর্তমানের সন্ত্রাসবাদ: দুটোকেই এক সুতোয় গেঁথেছে হাড়গুলো। ওগুলোর পেছনে ছোটা মানে—নিশ্চিত মৃত্যু! জার্মানির এক ক্যাথেড্রালে, জনাকীর্ণ সার্ভিস চলার সময়, একদল সশস্ত্র অনুপ্রবেশকারী সন্ন্যাসীর ছদ্মবেশে চালাল ধ্বংসলীলা। তবে হত্যাকারীদের লক্ষ্য স্বর্ণ নয়; তার চায় আরও মূল্যবান পুরস্কার: মেজাইদের হাড়, যারা একদা নবজাতক মসিহকে শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন! সেই হাড়গুলো এমন এক গুপ্তধন, যা বদলে দিতে পারে পুরো বিশ্বের কাঠামো। অশান্ত ভ্যাটিকানে গ্রেসন পিয়ার্সের নেতৃত্বে সিগমা ফোর্স ঝাঁপিয়ে পড়ল নিজেদের কাজে। এমন এক রহস্যের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ল যা ওদেরকে নিয়ে গেল পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের একটা থেকে আরেকটায়; শেষ হলো এক প্রাচীন, রহস্যময় এবং ভয়ঙ্কর গুপ্তসঙ্ঘের সামনে এসে। কেননা ওই চোরাই, পবিত্র দেহাবশেষ নিয়ে এমন অনেকের গোপন পরিকল্পনা আছে যা মানব্জাতির ভবিষ্যতটাইকেই বদলে দেবে। বিজ্ঞান আর ধর্ম হাতে হাত মিলিয়ে এমন এক বিভীষিকাকে সামনে এনে খাড়া করিয়ে দিল, যেমনটা সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকে এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি!
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

জেমস রলিন্স মানেই উত্তেজনা।

#Book_Mortem 43 #ম্যাপ_অফ_বোনস লেখকঃ জেমস রলিন্স অনুবাদকঃ মোঃ সাব্বির হোসেন প্রকাশনীঃ বিবলিওফাইল পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৪৭৭ মূদ্রিত মূল্যঃ ৫৬০ টাকা জার্মানির কোলন শহরের এক চার্চ থেকে কারা যেনো চুরি করে নিলো কয়েক শতাব্দী ধরে রক্ষিত থাকা মেজাইদের দেহাবশেষ। চুরির সময় খুবই অদ্ভুত এবং নৃশংসভাবে খুন করা হলো চার্চে উপস্থিত সবাইকে। তদন্তে নামলো সিগমা ফোর্স। আর এই তদন্ত তাদেরকে নিয়ে গেলো হারিয়ে যাওয়া প্রাচীন সপ্তাশ্চর্যের দিকে। রহস্য উদঘাটন করতে হলে জানতে হবে প্রাচীন মিশরীয় রাজাদের ব্যাপারে, জানতে হবে মোজেস, যিশু, আলেক্সান্ডার দ্য গ্রেট কিংবা নাইট টেম্পলারদের ব্যাপারে। কি এমন গুপ্ত জ্ঞ্যন যা যুগ যুগ ধরে প্রখর বুদ্ধিমত্তার সাথে লুকিয়ে রেখেছে কোনো এক প্রাচীন গোষ্ঠী?? এতো বছর পর কেনোই বা তা আবার উঠে এলো পাদ প্রদীপের আলোয়? #পর্যালোচনাঃ স্যান্ডস্টর্ম পড়েছিলাম প্রায় ৮ মাস আগে। এরপর দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে শেষ করলাম সিরিজের ২য় বই ম্যাপ অফ বোনস। স্যান্ডস্টর্মে ঐতিহাসিক বিভিন্ন বিষয়াবলীর ব্যাপারে জানতে পেরে যে উত্তেজনা, শিহরন আর ভালোলাগা বোধ কাজ করেছিলো, ম্যাপ অফ বোনস যেনো সেগুলোকে আবার নতুন করে উপলব্ধি করার সুযোগ করে দিলো৷ নতুন অনেকগুলো বিষয় জানতে পারলাম এই বই থেকে। আগের বইয়ে পানির ভিন্ন এক গঠন সম্পর্কে জানতে পেরেছিলাম, এখানে জানলাম স্বর্নের ভিন্ন গঠনের ব্যাপারে। এছাড়াও আলেক্সান্ডার দ্য গ্রেট, যিশু এবং তিন মেজাই, খ্রিস্টান ধর্মের গসপেল গুলো, নস্টিক মতবাদ কিংবা পোপ আর চার্চ, জানার মতো আসলে অনেক কিছুই ছিলো। রহস্য উন্মোচনে সূত্রের খোঁজ করা, একের পর এক সেই সূত্র ধরে বিভিন্ন পাজল সমাধানের মাধ্যমে নতুন সূত্রের দিকে ধাবিত হওয়া, এবং এই সবকিছুকে বিভিন্ন ঐতিহাসিক রেফারেন্সের মাধ্যমে একসাথে জোড়া লাগানোর ব্যাপারটা আমাকে বিমল আনন্দ দেয়। এই বইতেই যেমন পৃথিবীর প্রাচীন সপ্তাশ্চর্যের সাথে আলেক্সান্ডার দ্য গ্রেটের একটা যোগসাজশ দেখানো হয়েছে। প্রাচীন কোনো কিছু আবিষ্কৃত হওয়ার ব্যাপারগুলো কেনো যেনো সব সময়েই আমাকে প্রবলভাবে নাড়া দেয়। বারবার মনে হয় ইশ!! আমি যদি ওই জায়গাটায় থাকতে পারতাম!! আলেক্সান্দ্রিয়ার সেই লাইব্রেরিটা ধ্বংস হয়ে যাওয়াটা যে মানব জাতির জন্য কতবড় একটা ধাক্কা তা এই বইগুলো পড়লে নতুন করে উপলব্ধি করি। স্যান্ডস্টর্মের তুলনায় এই বইয়ে লেখক কারেক্টারাইজেশন এবং ডিটেইলস এর দিকে বেশী নজর দিয়েছেন বলে আমার মনে হয়েছে। যেটা অবশ্যই ভালো দিক। সবকিছুই চিরন্তন রলিন্সিও ব্যাপার স্যাপার হলেও এই বইয়ে কিছু টুইস্ট ছিলো যা বেশ ভালোভাবেই ধাক্কা দিয়েছে। কেনো না এই ধরণের বইগুলো আসলে ইতিহাস, মিথ, একশন আর এডভেঞ্চার হিসাবেই পড়ার মানসিকতা নিয়ে বসি। এর সাথে এমন মাথা ঘুরানো টুইস্টগুলো বাড়তি প্রাপ্তির খাতায় যোগ হয়। বিশেষ করে ৩৮০ তম পেইজের টুইস্টটা একেবারেই অকল্পনীয় ছিলো। এই বইতে আগের বইয়ের তুলনায় একশনের চেয়ে বুদ্ধিমত্তার দিকে নজর দেয়া হয়েছে বেশী। যেটা পার্সোনালি আমার বেশী ভালো লেগেছে। তবে যথারীতি খটমটে কিছু বৈজ্ঞানিক ব্যাখা এবং কষ্টকর কল্পনাময় কিছু লোকেশন ছিলো। যা ব্যক্তি বিশেষে উপভোগ কিংবা বিরক্তির জন্ম দিতে পারে। এবং বরাবরের মতোই শেষে এসে লেখকের বক্তব্য "সত্য নাকী কল্পনা" সেই জায়গায়টুকু পড়ে বিস্মিত হয়েছি। বিশেষ করে ড্রাগন কোর্ট নামক প্রাচীন গুপ্ত সংগঠন আসলেই আছে এটা ভাবতে পারিনি। ওভারঅল রলিন্সের বই থেকে যা যা আশা করেছিলাম, তার সবকিছুর প্রাপ্তি ছিলো এই বই। #চরিত্রায়নঃ পেইন্টার ক্রো এর জায়গায় এই বইয়ে সিগমার নতুন ফিল্ড অপারেটিভ হিসাবে কমান্ডার গ্রে পিয়ার্সকে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়েছে। শুরুতে ভেবেছিলাম পেইন্টার ক্রো কে হয়তো মিস করবো। কিন্তু গ্রে পিয়ার্স এর কারেক্টার অনেকটা পেইন্টারের আদলেই গড়ে তুলেছেন লেখক, সাথে যোগ করেছেন মানবিক কিছু গুনাবলী এবং বাড়তি জ্ঞ্যন। যা এক পর্যায়ে পেইন্টারকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে। এছাড়া প্রোটাগনিস্ট দলের সদস্য হিসাবে মঙ্ক, ক্যাট, র্যাচেল, ভিগর এরা প্রত্যেকেই স্ব স্ব মহমায় উজ্জ্বল ছিলো। এতোটাই গুছানো চরিত্রায়ন ছিলো যে কখনোই মনে হয়নি কেউ একাই সবটুকু ফ্লোর দখল করে নিচ্ছে। প্রত্যেকে নিজ নিজ এবিলিটি অনুসারে যথাযথ ভাবে কাহিনীতে অবদান রেখেছে। এন্টাগনিস্ট রাউলের চরিত্রটা ছিলো ভয়াবহ রকমের ডার্ক। এবং যথারীতি শেষে এসে তার এন্ডিং এ লেখক একটা করুন ভাব ফুটাতে চেয়েছেন। ওভারঅল আগের বইয়ের তুলনায় পরিণত এবং গুছানো চরিত্রায়ন ছিলো এই বইয়ে। #অনুবাদঃ এসে গেলাম বইয়ের সমালোচনার জায়গায় 😑। রলিন্সের এর আগে ২টা বই পড়েছিলাম। দুইটারই অনুবাদক ছিলেন ফুয়াদ আল ফিদাহ এবং সেগুলো ছিলো পারফেক্ট। এই ম্যাপ অফ বোনস ও বাতিঘরের রবিন জামান খানের অনুদিত কপি আমি কিনেছিলাম। তবে সেটা অর্ধেক পড়েই রেখে দিতে হয়েছিলো, কারন অনুবাদক মূল লেখার অনেক কিছুই বাদ দিয়ে এবং নিজের মতো পরিবর্তিত করে অনুবাদ করেছিলেন। যেহেতু বিবলিওফাইল অনুমোদন নিয়ে কাজ করছে, তাই বেটার কিছু পাবো এই আশা ছিলো। হ্যা মূল লেখার ভাবধারা ধরে রাখা কিংবা অপরিবর্তিত রেখে দেয়া এইটুকু ঠিকি ছিলো এই বইয়ের অনুবাদে। সমস্যা হলো প্রচন্ড রকমের আক্ষরিক অনুবাদ করা হয়েছে। শুরুর দিকে ব্যাপক আড়ষ্টতা লক্ষ্য করার পর, মাঝে গিয়ে আবার অনায়াসে পড়তে পারছিলাম। এমন করে বেশ কিছু জায়গা পার হওয়ার পর বুঝতে পারলাম; সংলাপ, ঐতিহাসিক অংশগুলো কিংবা কোনো চরিত্রের মনোভাব প্রকাশের জায়গাগুলোতে অনুবাদ টপ নচ। কিন্তু একশন সিকুয়েন্স, সায়েন্টিফিক বর্ণনা এবং পাজল সলভিং এড়িয়া গুলোর অনুবাদ বেশ কাঠখোট্টা। এমনিতেই রলিন্সের এইসব জিনিস বুঝতে কিংবা ভিজ্যুয়ালাইজ করতে কষ্ট হয়, তার উপর অনুবাদ এমন কাঠখোট্টা হওয়ায় তা আরো হতাশার জন্ম দিচ্ছিলো। এক পর্যায়ে আমাকে বইটা একই সাথে মূল ইংলিশ এবং রবিন জামানের অনুবাদের সাথে মিলিয়ে পড়তে হচ্ছিলো। কিছু কিছু জায়গায় তো এমনকি ইংলিশটাই বরং সহজবোধ্য লাগছিলো। এছাড়া "দেউরি, কুলুঙ্গি, খিলানযুক্ত, পীড়ন, দেহলি, অবগুণ্ঠনযুক্ত, বর্তুলকার, অবলেহন, পোতাশ্রয়, খারেজি, দূর্গপ্রাকার, ভারা, চারজানু" জাতীয় অসংখ্য অপ্রচলিত শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে অনুবাদে। যার মধ্যে কিছু শব্দকে চাইলেই আর সহজবোধ্য কোনো শব্দ দ্বারা পরিবর্তন করা যেতো, কিছু শব্দকে মূল ইংলিশে রেখে দিলেই বরং ভালো হতো। এই শব্দগুলোর মধ্যে এমন কিছু শব্দ আছে যেগুলা এমনকি আমি নিজেই এই প্রথম শুনেছি কিংবা জানতে পেরেছি। এখন এখানে প্রশ্ন আসতে পারে, বই কি শুধুই এন্টারটেইনমেন্ট এর জন্য পড়া হয়, বই থেকে কিছু শেখাও তো উচিত। ইদানিং টুকটাক লিখালিখি করা ২/৪ জনকে এমন পোস্ট দিতে দেখেছি। অন্যদের ব্যাপারে বলা উচিত না, তবে আমার পরিচিত পাঠকেরা এবং আমি নিজে চাই অনুবাদ বইগুলো সহজভাবে পড়ে যেতে। এই বয়সে এসে নতুন কিছু শেখার আসলে কতোটা প্রয়োজন আমার? বিশেষ করে যে শব্দগুলো কেউই সহজে উচ্চারনও করবে না, এবং যেগুলোর বেশ সুন্দর প্রচলিত অলটারেনেটিভসও আছে। এছাড়া রলিন্সের কিছু বিষয় এমনিতেই বুঝা কঠিন সেগুলাকে আরো কঠিন করার মানে হয় না। সহজভাবে ভাবানুবাদ করেও যে মূল লেখকের টোন ধরে রাখা যায়, তার উদাহরণ তো একই প্রকাশনীর অন্য অনুবাদক অলরেডি দেখিয়েই দিয়েছেন!! তাই আশা করবো ভবিষ্যতে অনুবাদক আরো একটু সহজবোধ্য কাজ উপহার দিবেন আমাদেরকে। যেহেতু উনারা অনুমোদন নিয়েছেন, তাই মার্কেটে উনারাই এক ও অদ্বিতীয়। এই অবস্থায় উনারা আরো আন্তরিক না হলে আমরা পাঠকেরা আসলে বিরাট সমস্যায় পড়ে যাবো। #প্রোডাকশনঃ বিবলিওফাইলের গতানুগতিক প্রোডাকশন। উনাদের প্রচন্ড কঠিন বাইন্ডিংস নিয়ে অলরেডি অনেক সমালোচনা হয়েছে বিভিন্ন জায়গায়। তবে কি না প্রকাশকের একটা পোস্টে সেটার ব্যাখ্যা দেখার পর এখন আর সেটা নিয়ে কথা বলার মানে হয় না। শুধু অপেক্ষা করতে হবে উনাদের বাইন্ডারের সঠিক বাঁধাইয়ের কৌশলটা খুঁজে বের করার। কিছু মূদ্রণ বিভ্রাট ছিলো বইয়ে, ২/১টা জায়গায় বাক্য গঠনে অসামঞ্জস্যতা কিংবা চরিত্রের নামের বিভ্রান্তি লক্ষ্য করেছি, যেটা খুব একটা সমস্যার উদ্রেক করে না। পেইজ কোয়ালিটি চমৎকার ছিলো, আর বিবলিওর ফন্টটা পার্সোনালি আমার খুবই ভালো লাগে। তবে রলিন্সের বইয়ে যেসব চিত্র দেয়া থাকে এই বইয়ে সেগুলার ছাপাটা একটু লো কোয়ালিটির মনে হয়েছে আগের বইটির তুলনায়। প্রচ্ছদটাও এভারেজ মনে হয়েছে। মানে বইয়ে এতো এতো কিছুর অবতারণা করা হয়েছে যে, আমার মনে হয়েছে প্রচ্ছদে সেটার প্রতিফলন হয়নি খুব একটা। তারমানে এই না যে প্রচ্ছদ খারাপ, জাস্ট আরো বেটার হতে পারতো। #পার্সোনাল_রেটিংঃ ৭.৫/১০ (স্যান্ডস্টর্মের মতো অতোটাও বিমোহিত হতে পারিনি, ওইদিকে আবার যা যা আশা করেছিলাম তার সবই পেয়েছি। তাই এই রেটিং। অনুবাদটা পারফেক্ট হলে হয়তো আরো কিছুটা বেশী দিতে পারতাম) #পরিশিষ্টঃ পড়তে একটু কষ্ট হলেও পাঠকদেরকে আমি এই বইয়ের এই অনুবাদটাকেই প্রেফার করবো। কারন এই ধরণের বইয়ের কাটাছেঁড়া কিছু পড়ে আসল স্বাদটুকু পাওয়া যাবে না। আর যারা সিগমা ফোর্স সিরিজের ফ্যান তাদের জন্য তো অবশ্যই #মাস্টরিড বই। এবার কিছুদিন গ্যাপ দিয়ে ব্ল্যাক অর্ডারটা শুরু করে দিবো।























