

Buy ইশতেহার Online in Bangladesh
লেখক: আবুল ফাতাহ
- Author: আবুল ফাতাহ
- Publisher: ভূমিপ্রকাশ
- Isbn: 9789849499732
- Number Of Pages: 192
- Language: বাংলা
- Edition: 2nd Published, 2025
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
একটি ক্যারেকটার কার্ড ও দুটি বুকমার্ক ফ্রি। ঢাকার অভিজাত এলাকার এক বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে অবিশ্বাস্য কিছু একটা দেখে ফেলল চোর। যা প্রকাশ পেলে দেশে গৃহযুদ্ধ লেগে যাওয়াও বিচিত্র না। ড. আসাদ কায়সার। বাংলাদেশের নিকট ইতিহাসে তাঁর মতো জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা আর আসেননি। তাঁর প্রধানমন্ত্রী হওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র। ঠিক তখনই তাঁকে হত্যা করার জন্য নিয়োগ দেওয়া হলো নিতান্তই আনাড়ি এক কন্ট্রাক্ট কিলারকে। প্রাইভেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি সিক্রেট শ্যাডো’র কাছে এলো অদ্ভুত এক ফোনকল। কলারের লোকেশন ট্রেস করে মিলল কেবল একটা সেলফোন। কিন্তু সেই সেলফোনটাই যেন এক আস্ত ধাঁধা। এদিকে বহু বছর আগে রোপণ করা এক বিষবৃক্ষে আজ ফল ধরেছে। আঠারো কোটি মানুষকে আক্রান্ত করার আগেই উপড়ে ফেলতে হবে শেকড়সহ। মঞ্চে আবির্ভূত হলো মেজর সাইফ হাসান। অসংখ্য প্রশ্ন, একের পর এক হামলা আর ইঁদুর-বেড়াল খেলায় কালঘাম ছুটে যাচ্ছে মেজর সাইফের। আর হ্যাঁ, এতকিছুর মধ্যে ওই কালো গাড়ির রহস্যটাই বা কী? দূরন্ত গতির এই থ্রিলার আপনাকে ঘুরিয়ে আনবে রাজনীতি আর ষড়যন্ত্রের অন্ধকার ভূবন থেকে।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
দারুণ একটা বই। দেশী কনসেপ্টে বিদেশি আবহ।

Good One
বইঃ ইশতেহার লেখকঃ আবুল ফাতাহ প্রচ্ছদঃ সজল চৌধুরী প্রকাশনাঃ ভূমি প্রকাশ প্রকাশকালঃ ২০২১ মুদ্রিত মূল্যঃ ৩২০ ঢাকার অভিজাত এলাকার এক বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে অবিশ্বাস্য কিছু একটা দেখে ফেলল চোর। যা প্রকাশ পেলে দেশে গৃহযুদ্ধ লেগে যাওয়াও বিচিত্র না। ড. আসাদ কায়সার—বাংলাদেশের নিকট ইতিহাসে তাঁর মতো জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা আর আসেনি। তাঁর প্রধানমন্ত্রী হওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র। ঠিক তখনই তাঁকে হত্যা করার জন্য নিয়োগ দেওয়া হলো অভিজ্ঞতায় আনাড়ি এক কন্ট্রাক্ট কিলারকে। প্রাইভেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি সিক্রেট শ্যাডোর কাছে এলো অদ্ভুত এক ফোনকল। কলারের লোকেশন ট্রেস করে মিলল কেবল একটা সেলফোন। কিন্তু সেই সেলফোনটাই যেন এক আস্ত ধাঁধা। এদিকে বহু বছর আগে রোপণ করা এক বিষবৃক্ষে আজ ফল ধরেছে। আঠারো কোটি মানুষকে আক্রান্ত করার আগেই উপড়ে ফেলতে হবে শেকড়সহ। মঞ্চে আবির্ভূত হলো মেজর সাইফ হাসান। অসংখ্য প্রশ্ন, একের পর এক হামলা আর ইঁদুর-বিড়াল খেলায় কালঘাম ছুটে যাচ্ছে মেজর সাইফের। আর হ্যাঁ, এত কিছুর মধ্যে ওই কালো গাড়ির রহস্যটাই বা কী? দুরন্ত গতির এই থ্রিলার আপনাকে ঘুরিয়ে আনবে রাজনীতি আর ষড়যন্ত্রের অন্ধকার ভুবন থেকে। পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ আবুল ফাতাহ, মূলত একজন প্রচ্ছদকার হিসেবেই চিনতাম। আমার পড়া এটা উনার প্রথম বই হলেও বইয়ের শেষে ফ্ল্যাপের লেখা দেখে ত চমকে গেছি পুরো। ইশতেহার সহ লেখকের বইয়ের সংখ্যা দশ ছাড়িয়েছে। ইশতেহার বইটি মূলত পলিটিক্যাল থ্রিলার। ফ্ল্যাপের লেখা পড়েই ঠিক করে ফেলেছিলাম এই বই পড়া লাগবেই৷ পলিটিক্স মানেই থ্রিল, সাসপেন্স, টুইস্ট, মাইন্ডগেম। বিশাল সমাবেশে জনপ্রিয় নেতা আসাদ কায়সার এর উপর হামলা থেকে কাহিনীর সূত্রপাত। বইয়ের শুরুতে প্রকাশক বলেন সিট বেল্ট বেঁধে নিতে। মনে মনে ভাবলাম রোলার কোস্টারে চড়তে যাচ্ছি নাকি? ঠিক তাই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনে হলো এক রোলার কোস্টার রাইডে ছিলাম। লেখকের স্টোরি টেলিং, গল্পের গতি, একের পর এক সাসপেন্স, টুইস্ট এ ভর্তি পুরোটা গল্প গোগ্রাসে গিলেছি। এক মুহুর্তের জন্য বিরক্তি ধরেনি পুরো বইতে৷ খুব সাবলীল ভাবে গল্প বলেছেন৷ মেজর সাইফ হাসান এই বইয়ের প্রটাগনিস্ট৷ উনার নামেই এই বই এর সিরিজ৷ লেখক মেজর সাইফ সিরিজ বলছেন বইটিকে৷ বইয়ের প্রত্যেকটি চরিত্র মোটামোটি ভালোভাবে বিল্ড আপ করা৷ প্রত্যেকটা চরিত্র সব সিকোয়েন্সে ভালোভাবে প্লেসড ছিল। আবির চরিত্র টি আমার পার্সোনালি অনেক ভালো লেগেছে৷ সিক্রেট শ্যাডোকেও বেশ প্রমিসিং ভাবে প্রেজেন্ট করা হয়েছে৷ কয়েকটা সিকোয়েন্স এ অবশ্য নাটকীয়তার পরিমাণ কিছুটা বেশী ছিল। ক্লাইমেক্সে কিছুটা তাড়াহুড়ো ছিল। এছাড়া আর তেমন কিছু অসংগতি পরিলক্ষিত হয়নি৷ সর্বোপরি পুরো বইটা বিরক্তিহীন ভাবে একটানে পড়ে ফেলার মত। আর পুরোটা সময় বেশ উপভোগ্য ছিল৷ আসলেই মনে হয়ে রোলার কোস্টার রাইডে ছিলাম। বইয়ের প্রোডাকশন ভালো আছে, বাইন্ডিং, পেজ সবই মোটামুটি ভালো। প্রচ্ছদ টা চমৎকার, প্রচ্ছদে প্রটাগনিস্ট এর উপস্থিতির পাশাপাশি রিলেটেড এলিমেন্টস এর উপস্থিতি বেশ ভালো লেগেছে৷
অনিল কাপুর অভিনীত 'নায়ক' মুভি তো দেখেছেন? একদিনের জন্য মুখ্য মন্ত্রী হয়ে দেশ কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন। জং ধরা সিস্টেমকে পরিবর্তন করতে চেয়েছিলেন। কী অসাধারণই না ছিল! আবার, মার্ক রুফালো অভিনীত 'Now you see me' তে কি আউটস্ট্যান্ডিং কৌশলে চুরি করে। চুরি বললে মনে হয় একটু অবিচার হয়ে যায়। হাইস্ট করে অসাধারণ সব টেকনিকে। হাইস্টের এতসব অভিনব কৌশল দেখে একসময় তো মনে হয়েছিল আমি নিজেই চোর হয়ে যাই। কিন্তু সিঁধ কাঁটা চোরের বেশি কিছু হতে পারব না বলে সেই ইচ্ছা মাটিচাপা দিয়ে দিলাম। একজন চোর। যেনতেন চোর না। আবার 'Money Heist' এর মতো দল নিয়ে রাগঢাক করেও চুরি করে না। স্মার্ট চোর রাতের আঁধারে অভিজাত এলাকার জানালা দিয়ে ঢুকে কাঙ্খিত জিনিস নিয়ে আবার নেমে যায় জানালা দিয়ে। এক রাতে ঢাকার অভিজাত এলাকার এক বাড়িতে চুরি করতে ঢুকে সম্মুখীন হয় এমন এক বিষবৃক্ষের, যা উপড়ে না ফেললে দেশে নেমে আসবে অকল্পনীয় বিপদ। গৃহযুদ্ধ লাগলেও অবাক করা কিছু হবেনা। কী সেই তথ্য? ঢাকার নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল সায়েন্সের অধ্যাপক। বর্তমানে দেশের লাইমলাইটে এসেছেন সরকারের করা এক আত্মঘাতী চুক্তির বিরুদ্ধে লিখে। তার লেখা রীতিমত জনগণের কাছে হটকেক। জনগণের তুমুল সাপোর্টে মিডিয়ার সাহায্য ছাড়াই একেবারে জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে এসেছেন। পিতৃতুল্য আশরাফ জামানের কথায় রাজনীতিতে পা রাখলেন সারাদেশে হাইপ সৃষ্টি করা ড. আসাদ কায়সার। সরকারী-বিরোধীদলের মাঝে তৈরি হলো নতুন এক রাজনৈতিক দল 'জনবন্ধু'। পার্টির নেতা হাইপ সৃষ্টি করা এই লোকটি। আসন্ন নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হওয়া এখন যার সময়ের ব্যাপার মাত্র। দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরের জং ধরা রাজনীতিতে পরিবর্তনের ছোঁয়া আসবে এই আশায় বুক বেধেছে দেশের সাধারণ জনগণ। কিন্তু ভালো কাজ কি রক্তপাত ছাড়া হয়েছে? আসাদ কায়সারের জন্যও পথটা মসৃণ না। পিছু নিয়েছে আনাড়ি কন্ট্রাক্ট কিলার সালাম। কার্য হাসিল হবে কি? দেশীয় প্রাইভেট ইনভেস্টিগেশন সংস্থা 'সিক্রেট শ্যাডো'। খ্যাতি রয়েছে বেশ। হাতে তুলে নিয়েছে দেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী আসাদ কায়সারের নিরাপত্তার দায়িত্ব। পারবে কি রক্ষা করতে? সিক্রেট শ্যাডোর কাছে এলো এক অদ্ভুত ফোনকল। দেশের সামনে সমূহ বিপদ। মজা করার ছলে কেউ এমন কল করল না কি তা বলা যায়না। কারণ কলারের কন্ঠে ছিল ভয়। সাহায্য করার জন্য ছেড়ে গেছে কিছু ক্লু। পারবে কি ক্লু গুলোকে গ্লু দিয়ে জোড়া দিতে? মেজর সাইফ হাসান সিক্রেট শ্যাডোর হেড অব অপারেশন। দেহাকৃতি, চাল-চলন ও কাজে একেবারে জেমস বন্ড বললে ভুল হবে না। নীতিতে অটল এই ব্যক্তিটি সাবেক আর্মি। সমাধানে নেমেছে দুইটি কেসের। এক, জনসভায় আসাদ কায়সারের উপর হামলাকারী আনাড়ি সালামকে নিযুক্ত করেছে কারা তাদের হদিস পেতে হবে। দুই, অদ্ভুত কলারের থেকে পাওয়া একটা স্মার্টফোন। যার সূত্র ধরে খুঁজে পেতে হবে তাকে। জানতে হবে আসন্ন বিপদের কথা। আদতে সে শুধুমাত্র একটা স্মার্টফোন দিয়ে কী বোঝাতে চাইছে? যেখানে মেলেনি কোন ফিঙ্গারপ্রিন্ট। গোটা স্মার্টফোনটাই কী নির্দেশ করে? কলারের থেকে পাওয়া এই সূত্র থেকে আরো সূত্রের ডালপালার খোঁজ পেতে কাজ করে যাচ্ছে সিক্রেট শ্যাডোর আরো দুই একপার্ট সাবের ও আবির। ওদিকে আসন্ন নির্বাচনে প্রচারণার জন্য ব্যস্ত সময় পার করছেন আসাদ কায়সার। তাকে নিরাপত্তা দিতে ব্যস্ত সিক্রেট শ্যাডোর আরেক এজেন্ট মাসুদ। এরই মাঝে আশরাফের ড্রাইভার থেকে মাসুদ জানতে পারে এক চমদপ্রদ তথ্য। যার সূত্র সে দেয় সাইফকে। ঘটনা মোড় নেয় একেবারে ১৮০° কোণে। সাবের আর আবিরের ট্যালেন্টে অদ্ভুত কলারের হদিস মেলে ঠিকই কিন্তু সত্য জানার আগেই সব এলোমেলো করে দেয় সেই কালো এসইউভি গাড়ি। সাইফ কি জানতে পেরেছিল আসন্ন বিপদের কথা? অদ্ভুত কলারের ভাগ্যে কী ঘটেছিল? তার দেয়া প্রচ্ছন্ন ক্লু কি সাইফ পেরেছিল জানতে? মাসুদের দেয়া তথ্যের উপর ভিত্তি করে সিক্রেট শ্যাডোর আরেক এজেন্ট সাজ্জাদকে সাইফ পাঠায় আশরাফ জামানের ঠিকুজি বের করতে। মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ধারী জাঁদরেল এই ব্যবসায়ীর অতীত নিয়ে একটা গল্প সবাই জানে। কিন্তু তার গ্রামের ফজলুল নামক এক মুরগী ব্যবসায়ী ঠিক উলটো কথা বলে আসন্ন নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট আশরাফ জামান সম্পর্কে। আশরাফ জামান আসলে কে? দুইটা ভিন্ন কেস নিয়ে চলতে চলতে মেজর সাইফ এমন এক সত্যের মুখোমুখি হয় যা নাড়িয়ে দিতে পারে গোটা দেশকে। দ্রুত এই বিষবৃক্ষ উপরে না ফেললে যার ফল একেবারে লন্ডভন্ড করে দেবে দেশের মানুষকে। বিষবৃক্ষটা আসলে কী ছিল? এসব কিছুর মাস্টারমাইন্ড কে? মেজর সাইফ কি পারবে তার সমাধান করতে? নির্বাচনে আসাদ কায়সার কি পেরেছিলেন জয়ী হয়ে পঞ্চাশ বছরের একঘেয়ে স্বার্থপরতার রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে নতুন সূর্যোদয় ঘটাতে? না-কি সেই আজব উটের পিঠেই দেশের অসীম যাত্রা অব্যাহত রয়েছে? পাঠ প্রতিক্রিয়া: ভালো দিক: লেখকের প্রথম কোন বই পড়লাম। পলিটিক্যাল, এনেস্পিওনাজ থ্রিলার বলতে যা বোঝায় তার পুরোটাই ১৯২পৃষ্ঠার বইতে ছিল। প্রথম অধ্যায় থেকে যে থ্রিল দিয়ে শুরু করেছিলেন একেবারে উপসংহার পর্যন্ত সেই থ্রিল ধরে রেখেছিলেন। অধ্যায় দুই এ দেয়া বর্ণনাতে ঠিক এত পরিমাণ টুইস্ট ছিল, নার্ভ ধরে রাখা কঠিন ছিল। এইটুক অংশ আমি দুইবার পড়েছি। একশন দৃশ্যটা এক কথায় অনবদ্য লেগেছে। সংকোচ ছাড়াই এক বসায় পড়ে ফেলার মতো যথেষ্ট উপাদান ছিল বইতে। একই ধরনের কী হয় কী হয় ফিলিংস হয়েছে বইয়ের শেষের দুই অধ্যায়ে। হিন্দি সিরিয়াল হলে ব্যাকগ্রাউন্ডে যেন ধুম তানানানা, বজ্রপাতের শব্দ হয় ঠিক তেমন মনে হচ্ছিল। চরিত্রায়ন আমার কাছে ভালো লেগেছে। প্রতিটা চরিত্রকে আপন আলোয় জ্বলার স্পেস দেওয়া হয়েছিল। যেটুকু বর্ণনা দরকার ঠিক সেইটুকুই দিয়েছেন। চরিত্রদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ছিল চোখে পড়ার মতো। যেমন: সাইফকে আবির যখন ফোড়ন কেঁটে বলে 'আমি সকালে পরোটা আর ভাজি দিয়ে নাস্তা করেছি' এই অংশটুক পড়ে এত হাসি পেয়েছে। আবিরের করা নিছক মজাগুলো হাসির উদ্রেক করেছে। রিসোর্টে সব গাড়ির হাওয়া বের করে সাজ্জাদের দেয়া উক্তিটাও বেশ মজার ছিল। যেমন হাসির কিছু কথা ছিল তেমন ছিল কিছু কষ্ট। হারানোর কষ্ট। শেষের টুইস্টে সাইফ যখন বলেছিল 'এটা মুশতাকের জন্য' এই অংশটুক যথেষ্ট ইমোশনাল ছিল। মেজর সাইফকে আমার অনেক ভালো লেগেছে। সিক্রেট শ্যাডো টিমটাও আমার অনেক পছন্দ হয়েছে। আশা করি লেখক সিক্রেট শ্যাডোকে ভবিষ্যতে আরো সমৃদ্ধ করবেন। হোয়াইট হোল ব্যাপারটা বেশ লেগেছে। সাদা সবসময়ই যে সুখকর বা সৌন্দর্যের বস্তু হয়না হোয়াইট হোল তার প্রমাণ। খারাপ দিক: বইটা আরেকটু বড়ো হতে পারত। শেষের দিকে খুব দ্রুত এগিয়েছে। শেষে কেমন একটা বিমর্ষ ভাব রয়ে গেছে। বানান ভুল তেমন নজরে পরেনি। তবে 'আরোহী' কে আরওহী লিখেছেন অনেক জায়গায়। প্রিন্টিং মিস্টেক তেমন দেখিনি তবে কিছু শব্দের প্রিন্ট ঝাপসা ছিল। প্রচ্ছদ: প্রচ্ছদ এভারেজ লেগেছে। বইয়ের উলটোপিঠের এলিমেন্ট গুলো বইয়ের সাথে মিলে গেছে ভালো। তবে প্রচ্ছদের সামনের ভাগ তেমন ভালো লাগেনি।



#Book_Mortem 09 #ইশতেহার ইশতেহার শেষ করার পর একই সাথে ভালো লাগা আর এক ধরণের হতাশায় আচ্ছন্ন হয়ে গেছি!! হতাশ এ কারনে যে, আহা!! এমন দেশপ্রেমী এবং তুখোর একটা "সিক্রেট শ্যাডো" এজেন্সি যদি বাস্তবে আমাদের দেশে থাকতো 🙂!! এই Meme পাগল আর সবকিছু নিয়ে হেসে উড়িয়ে দেয়া জেনারেশনটাকে অন্তত দেখে রাখতে পারতো কেউ!! ইশতেহারের কাহিনী শুরু হয়েছে এক চোরকে দিয়ে। যার হাত ধরে বিশাল এক রহস্যের শুরু হয়। যে রহস্য উদঘাটনের উপর নির্ভর করে পুরো দেশের ভাগ্য। ষড়যন্ত্র, সূত্র, প্ল্যানিং, আঘাত, পাল্টা আঘাত আর রাজনৈতিক মারপ্যাচের পর যা উদঘাটিত হয় তা যেমন ভয়ানক তেমনি রোমাঞ্চকর। #পর্যালোচনাঃ ইশতেহার কেনার পোস্টেই বলেছিলাম আমি পলিটিক্স পছন্দ করি না, শুধুমাত্র লেখকের সেরা কাজের প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য এই বইটা কেনা এবং পড়া। তবে বই শেষ করার পর এই "পলিটিক্যাল থ্রিলার" নামক জিনিসটা আমার আর খারাপ লাগার তালিকায় নেই৷ যদিও এই বইটাকে একচুয়েলি পুরাপুরি পলিটিক্যাল থ্রিলার বলাও যায় না। এটা বরংচ আমার কাছে এসপিওনাজ টাইপ থ্রিলার মনে হয়েছে, যার একটা বড় উপাদান পলিটিক্স। লেখক বইটাতে বেশ মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন। প্রায় ২০০ পৃষ্টার বই আমি একদিনেই শেষ করে ফেলতে পেরেছি, বইয়ের গতিময়তার কারনে। শুরু থেকেই বই এগিয়েছে দূর্দান্ত গতিতে। শুরুর দিকে প্রতিটা চরিত্রের ব্যাকগ্রাউন্ড বর্ণনা দিয়ে তাদেরকে পাঠকের কাছে বেশ সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন তিনি। এর মাঝেই গল্পের প্রয়োজনে ধাপে ধাপে বেশ কিছু চরিত্রকে এনেছেন, যাদের বর্ণনা কম হলেও তাদের উপস্থিতি গল্পে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মেজর সাইফ এর বাইরে কম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসাবে আবির আর সাবের চরিত্র ২টি অসম্ভব ভালো লেগেছে। আসলে সিক্রেট শ্যাডোর সকল চরিত্রকেই বড্ড বেশী আপন মনে হয়েছে৷ সিক্রেট শ্যাডোর কর্মপদ্ধতির বর্ণনা, একের পর এক রহস্য উন্মোচন করা, অনেক গুছালো ভাবে সুন্দর করে বুঝিয়ে দিয়েছেন লেখক। ২টা রহস্যের জাল আলাদা আলাদা ভাবে বিছানো এবং তার সূত্র ধরে সমাধানের পাশাপাশি ছিলো বেশ সুন্দর কিছু প্ল্যানিং আর একশন দৃশ্য। তবে বইয়ের শেষে এসে, যে ষড়যন্ত্রের বর্ণনা দেয়া হয় আর সাথে যে টুইস্ট ছিলো তা এক কথায় মাইন্ড ব্লোয়িং। আমি কল্পনাও করি নাই এই রকম কিছু শেষে বের হয়ে আসবে। এই সবকিছুর বাইরেও লেখক "মশারা এমন উপাদেয় সভ্য খাবার পেয়ে অন্য পাড়া থেকে স্বজনদের দাওয়াত করে নিয়ে এসেছে" টাইপ হালকা চালের কিছু লাইন লিখেছেন, যা আদতে গল্পটাকে আরো এনজয়েবল করে তুলেছে আমার কাছে। দেশের রাজনীতি এবং পার্শ্ববর্তী দেশের হস্তক্ষেপ নিয়ে যে কথাগুলা লেখক বলেছেন তা যে নিতান্তই ফিকশন নয় এটা অনেকেই জানেন আশা করি। এইসব বিষয়গুলো লেখকের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। মোদ্দাকথা এটা একটা পারফেক্ট প্যাকেজ আমার জন্য 😍। #প্রোডাকশনঃ ভালো লাগা আর হতাশার বাইরে খারাপ লাগার জায়গা যদি বলতে হয় তাহলে বলতে হবে এই বইয়ের প্রোডাকশনের কথা। অসম্ভব সুন্দর প্রচ্ছদের ডাস্ট কাভার সম্বলিত বইটা ধরলে একটা প্রিমিয়াম ফীল হয়। কিন্তু কাভার উলটে পড়া শুরু করলেই, একটু নড়বড়ে বাইন্ডিংস আর অতিরিক্ত পাতলা নিম্ন মানের কাগজ মোটেও প্রিমিয়াম কিছুর ফীল দেয় না। যদিও ভূমি প্রকাশের অন্যান্য বইয়ে আমি এরচেয়ে ঢের ভালো প্রোডাকশন দেখেছি। পৃষ্টা উল্টানোর সময় বারবার মনে হচ্ছিলো একটু অসাবধানতায় ছিড়ে যেতে পারে!! তবে প্রচ্ছদ ছিলো এক কথায় সেরা। লেখক Abul Fattah Munna ভাই অতিরিক্ত বর্ণনাবিহীন মেদমুক্ত ঝরঝরে লেখার জন্য অলরেডি আমার প্রিয় দেশীয় লেখকদের একজন হয়ে গিয়েছেন। সামনে উনার আরো কিছু বই কালেক্ট করার প্ল্যান আছে। উনার জন্য শুভকামনা রইলো। ইশতেহারের মতো একটা বই কি না উনাকে অফার দিয়ে সেল করতে হয়েছে এটা খুবই দুঃখজনক। তবুও অনেকের হাতে এই উছিলায় বইটি পৌছে গিয়েছে, যেটা লেখককে উনার ভবিষ্যৎ প্রজেক্টের ব্যাপারে একটা বুস্ট করবে বলেই আমার বিশ্বাস। রেটিংঃ ৯/১০ (একদম জিরো এক্সপেক্টেশন নিয়ে শুরু করার কারনেই মনে হয় বইটা একটু বেশীই ভালো লেগেছে। এই জাতীয় কাছাকাছি কাহিনীর বই আমি এর আগে একটাই পড়েছি "কন্ট্রাক্ট"। কেউ মাইরেন না, আমার কাছে এইটা কন্ট্রাক্ট থেকেও বেটার লাগছে 🙊)























