

Buy এক চাপ কা Online in Bangladesh
লেখক: নসিব পঞ্চম জিহাদী
- Author: নসিব পঞ্চম জিহাদী
- Publisher: বুক স্ট্রিট
- Number Of Pages: 184
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2023
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
রূপক রাতে ঘুমায় না; মুখোশ পরে বাড়িজুড়ে ঘোরাফেরা করে। ভাবে। প্রচুর ভাবে। একসময় সে ভাবনাগুলো প্রকাশ পায় পৃষ্ঠাজুড়ে। রচিত হয় উপন্যাস। প্রকাশ হয় বিচিত্র এক ছদ্মনামে। সে নাম - মার্লবরো র. হাসান। যার শখ, ফাঁসির দড়ি সংগ্রহ করা। জেলখানায় পরিচিত লোক আছে তার। আসামীরা যে রশিতে ঝুলে ফেলে শেষ নিঃশ্বাস, সে রশিই হাত ঘুরে শোভা পায় ওর স্টাডিতে। মালবরো র. হাসান ওরফে রূপক বশির মুর্তজার জীবনে একটা অদ্ভুত ঘটনা আছে। কয়েক প্ৰস্থ মোটা শেকলে প্যাচানো এক প্রাচীন আলমারি থেকে সে একবার এক নগ্ন নারীকে বের হতে দেখেছিলো। যার পরিচয় কখনও জানা যায়নি। কারণ; সে নারীর মাথা ঢাকা ছিলো একটা লাল বালতি দিয়ে। তবে তাতে চলাফেরায় কোন সমস্যা হয়নি তার। বরং সে রূপককে বানিয়ে খাইয়েছিলো ওর জীবনের শ্রেষ্ঠ চা! এদিকে জহির আর কিসলুর জীবনে কোনো দিশা নেই। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার হয়েছে। মুরুব্বিদের দোয়ায় জেলও খেটেছে কয়েক মাস। ডিগ্রি নেই, তবুও চাকরি আছে; প্রচণ্ড যত্ন নিয়ে বানানো জাল সার্টিফিকেটের কল্যাণে। তবে এককালে ওদের জীবন এমন ছিলো না। তখন বসন্তের পাগলা বাতাস ওদেরও চুল এলোমেলো করে দিয়ে যেতো মরণোত্তর ম্যাটেরিয়েলিস্টিক বাস্তবতার আশ্বাস। সে সময় গভীর এক রাতে ওরাও দেখেছিলো তাকে। তবে সে নারী নয়, পুরুষ। পিঠ ভর্তি পশম। রোগা-পটকা শরীর। প্রবল ঝড়ের মাঝে হামাগুড়ি দিচ্ছিলো ছাদে। আর মাথা ঢাকা ছিলো একটা বড় লাল বালতি দিয়ে। সম্পূর্ণ আলাদা মেরু থেকে আসা কিছু মানুষ এ ঘটনার কল্যাণে বন্দী হয় একই বৃত্তে। ফলাফল - এক কাপ চা নয়, এক চাপ কা!
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

বইটা ব্যাপক ভালো লেগেছে। অসাধারণ।

একটা 'Perfect' বইয়ের ডেফিনেশন দিতে বললে এই বইয়ের নাম বলাই যায়



#Book_Insights 25 লাল বালতি দেখে ভয় পেয়েছেন কখনো? মানসিকভাবে অস্থিতিশীল রূপক ভয় পেয়েছিলো একবার। নাম পরিচয়হীন এক বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে সে দেখেছিলো লাল রঙের বালতি মাথায় দিয়ে চলা এক নারীকে। একইরকম দৃশ্য দেখে ভয় পেয়েছিলো জহির আর কিসলু। ক্ষেত্রবিশেষে, এই দুই বন্ধুর জায়গা হলো রূপকের বাড়িতে। ফাঁসির দড়ি, গরুর চোখ সংগ্রহ করার মতো আরো অদ্ভুত সব ঘটনায় জড়িয়ে থাকা, বিপত্নীক রূপকের জীবন ঘাটাতে লাগলো তারা দুজন। • গল্পের ধরণ ও চরিত্র: শুরুতে উপন্যাসের গল্পটা বলতে গেলে একদমই সাধারণভাবে শুরু। কিন্তু এ সাধারণ গল্প কখন যে রহস্যময় এক গলিতে ঢুকে পড়বে পাঠকের জন্য তা ধরতে পারা মুশকিল। উপন্যাসের গল্পে ডিটেকটিভ দের আনাগোনা নেই, তাও কেমন যেনো মনে হবে ডিটেকটিভ উপন্যাস। কখনোবা অনুভূত হবে অশরীরীর উপস্থিতি। চরিত্রগুলোও সেই মাপেই লেখা। বলতে গেলে, উপন্যাসের এ জগতটাই অস্বাভাবিক। এখানকার প্রায় সকল চরিত্রই অদ্ভুত, আধ্যাত্মিক কিংবা উন্মাদ ধরনের। পার্শ্বচরিত্রে থাকা কারো কারো মাঝে এর লক্ষণ বেশি। মুখ্য চরিত্রের কয়েকজনের মাঝে অবশ্য কিঞ্চিৎ স্বাভাবিকতা আছে। সংলাপের ধরনে লেখক এখানে মুখ্য চরিত্রদেরকে আলাদা রাখার চেষ্টা করেছেন। বন্ধুত্বের তাগিদে হোক কিংবা পছন্দের লেখক হওয়ার কারণেই হোক, কিছু বাস্তব চরিত্র ও লেখকের বাস্তব নাম এবং প্যারোডি নাম ব্যবহার করা হয়েছে উপন্যাসের কিছু চরিত্রের নামে। • লেখনশৈলী: আমাদের দেশের লেখকদের মাঝে এ প্যাটার্নের লেখা সচরাচর দেখা যায়না; আমি পাইনি। পশ্চিমবঙ্গের লেখকদের মাঝে এ ধরনের প্যাটার্ন পরিলক্ষিত। আমার ধারণা, যারা বইটা পড়েছেন তারা আমার এ মন্তব্যে সহমত পোষণ করবেন। আগেই বলেছিলাম, উপন্যাসের এ জগৎটা স্বাভাবিক নয়। তবুও অস্বাভাবিক এ জগতের সাথে পাঠক হিসেবে কানেক্ট করতে সাহায্য করেছে লেখকের লেখনশৈলী। পড়তে গিয়ে শুরুতে মনে প্রশ্ন জাগলেও, এক সময় আর জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করে না, রূপকের অস্বাভাবিক জীবনে জহির-কিসলু এতোটা কৌতুহল নিয়ে জড়াচ্ছে কেনো। লেখার ধরন নিয়ে আরেকটা যে বিষয়, এখানে ঘটনাগুলো চরিত্রের ক্রমে সাজানো নেই। বুঝিয়ে বলছি। ধরা যাক, একটা অধ্যায়ের শেষে একটা চরিত্রের নাম এলো, যার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য পাওয়া যেতে পারে। পরের অধ্যায়েই কিন্তু গল্প ওই চরিত্রের কাছে চলে যাবে না, ওই চরিত্রের দেখা পাওয়া যাবে আরেকটা কিংবা দুটো অধ্যায় পরে। এক্ষেত্রে, পাঠক সিকোয়েন্স ও চরিত্রের নাম মনে রাখলে সুবিধে হবে। • সমাপ্তি ও অন্যান্য: অন্যসব রহস্য উপন্যাসে রহস্যের শেষ উদঘাটন যেমন বেশ উদ্দীপনা নিয়ে হয়, এখানে তেমন নেই। এখানে রহস্যের সমাধান হয়েছে বেশ শান্তশিষ্ট উপায়ে। তাই বলে, একঘেয়েমির সুযোগ নেই। বরং, হরর ও সাইকোলজিক্যাল বিষয়বস্তু দিয়ে যার সূত্রপাত, তার সম্পূর্ণ মোড় ঘুরে যাবে সমাপ্তিতে। প্রকাশনার উদ্দেশ্যে বইটি নিয়ে (স্পয়লার না থেকেও স্পয়লারযুক্ত) কিছু কথা বলি। [বইটির প্রচ্ছদ দেখে সাদামাটা মনে হলেও, মূল টুইস্ট এর ডিটেইলটা প্রচ্ছদ বহন করে। প্রচ্ছদে নামলিপির সাথে যেভাবে ভাস্কর্যের ছবিটা ব্লেন্ড করা হয়েছে, তাতে আমার মত খুঁতখুঁতে পাঠকেরা বই পড়ার আগে এটা খুঁটিয়ে দেখলে সমাপ্তি অংশে টুইস্টটা আসার আগেই বুঝতে পারার কথা। কারণ শেষটা শান্ত প্রকৃতির কথপোকথনের মাধ্যমে হলেও, ভাস্কর্যের উল্লেখ কিন্তু তার আগেই করা হয়েছিলো। এক্ষেত্রে পরবর্তী মুদ্রণে প্রচ্ছদটা পরিবর্তন করে হিডেন ডিটেইলযুক্ত (যেমন: লাল বালতি মাথায় নারী/পুরুষ) রাখলে মন্দ হবে না। এটা অবশ্য সম্পূর্ণ আমার নিজস্ব মতামত। • ভ্রান্তি: স্পয়লার অংশটাও এর আয়ত্তে পড়ে। এছাড়া, ভুল বলতে বইয়ে কিছু বানান ভুল পেয়েছি। আবার, পৃষ্ঠা ৫৮ এর শেষ অনুচ্ছেদে জহিরকে একবার 'রূপক' বলা হয়েছে। উক্ত বিষয়গুলোর সংশোধন প্রয়োজন। • ব্যাক্তিগত রেটিং: ৪.৫/৫ (বাইন্ডিং ও কাগজের মানের দিক থেকে প্রোডাকশন আমার কাছে সন্তোষজনক। তবে ফন্ট নিয়ে আমি একটু খুঁতখুঁতে। তাই এই বইয়ের লেখায় যে ফন্টের ব্যবহার করা হয়েছে, তা প্রথমে একটু অস্বাভাবিক লেগেছিলো; বিশেষ করে দাড়ি চিহ্ন বুঝতে শুরুতে সমস্যা হচ্ছিলো।) এক নজরে, • বই: এক চাপ কা • লেখক: নসিব পঞ্চম জিহাদী • ধরণ: রহস্য-থ্রিলার উপন্যাস • প্রকাশনী: বুক স্ট্রিট • পরিবেশক: সফা প্রকাশনী • প্রচ্ছদ: রাফুল আহাম্মেদ • মুদ্রণ: একুশে প্রিন্টার্স • প্রথম প্রকাশ: অক্টোবর'২০২৩ • পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮৪ ~ ইয়াসির আল সাইফ
#আড্ডাখানায়_রকমারি #রিভিউ_২০২৩ “জাগতিক চাওয়াকে বিদীর্ণ করে দিলাম, যাও – এই দেখো কলবের ভেতর, ইয়ারব! আমাকে দেখায়ে দিলো, বুঝায়ে দিলো, এই অস্তিম অপূর্ণতার কাছে অপেক্ষমান নিখিল চন্দ্রা এক্সপ্রেস খাবি খায়! এই যে স্পর্শ করছে না, শরীরে লাগছে না; সব শুন্যতাকে বাতাস উড়িয়ে কোথায় নিয়ে যায়? একের পর এক প্রার্থনা এবং সিজদায় কোথায় যেন যাচ্ছি। যাচ্ছি। যাচ্ছি। গোচরহীন, সুদুরসন্ধানী। এই যে তারা ছিঁড়ে ফেলছি, আক্রোশে!” একটি উপন্যাস কীভাবে লেখা হয়? বর্ণের মিলনে হয় শব্দ, শব্দের খেলায় বাক্য। বাক্যে বাক্যে গঠিত হয় গল্প। আর একাধিক গল্পের সমষ্টিতে হয় একটি উপন্যাস। মার্লবরো র. হাসান একজন ঔপন্যাসিক। ছদ্মনামে গল্প লিখে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। একজন লেখকের দুইটি সত্য থাকে। এক সত্তায় সে একজন সাধারণ মানুষ। অন্য সত্তায় সে লেখক। শব্দের খেলায় গল্পের স্রোতে যে উপন্যাস গঠিত হয়, তা কী শুধুই লেখকের কল্পনা? কেবলই কি মস্তিষ্কের সূক্ষ নিউরোনে জমে থাকা ভাবনাগুলো? না-কি বাস্তব কোনো অভিজ্ঞতার মিশেল? কে জানে? জানে তো কেবল সেই লেখকই। আর— লেখকের লেখাগুলো। জহির আর কিসলু— দুই বন্ধুর জীবনটা অন্যরকম হয়ে গিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতিতে জড়িয়ে সিনিয়র নেতার প্ররোচনায় একটি ভুল, সেই ভুলের মাশুল গুনে শিক্ষা জীবনের পরিসমাপ্তি। কিন্তু জীবন তো থেমে থাকে না। বেঁচে থাকতে হলে কিছু তো করে খেতে হবে। তাই অসৎপথে পা বাড়ানো। জাল সার্টিফিকেটের ভরসায় কিসলুর একটা গতি হয়েছে। এবার জহিরের পালা। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বড়ো ভাইয়ের অফিসে চাকরি। হিসাবকিতাব রাখতে হবে। জীবন বদলে যাওয়ার সময়ে পারিবারিক অস্থিরতায় জহিরের চাকরিদাতা ও বড়ো ভাইয়ের সাথে এক ধরনের সখ্যতা গড়ে ওঠে। সেই সখ্যতা থেকে রূপক বসির মুর্তজা, জহির আর কিসলুকে নিজ বাড়িতে থাকার আমন্ত্রণ জানায়। একাকীত্ব বড্ড পীড়া দেয়, সেই পীড়া থেকে বাঁচার যে উপায় নেই। রূপকের জীবনে দুঃখের অভাব নেই। এই জীবনে যে সে একা। বাবা-মা গত হয়েছে অনেক আগেই। ফ্যানের সাথে ঝুলে থাকা স্ত্রীর ম র দেহ উদ্ধার হয়েছে নিজ বাসা থেকে। তারও আগে তাদের একমাত্র সন্তান নিখোঁজ হয়, যাকে খুঁজেও পাওয়া যায়নি। পাওয়া গিয়েছে কেবল একটি মাত্র পায়ের খন্ড অংশ। তারই জন্য কি না জানা নেই, মানসিকভাবে সুস্থ নয় রূপক। কিংবা তারও আগে থেকে মানসিকভাবে অস্বাভাবিক সে। এই কারণেই মনস্তত্ত্ববিদের কাছে যাওয়া। যার কাছে এক আত্মজীবনীমূলক পাণ্ডুলিপি দিয়েছে সে। যেখানে আছে এক ধরনের স্বীকারোক্তি, যা প্রকাশ পেলে মার্লবরো র. হাসানের সকল জনপ্রিয়তা ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। কী ছিল সেখানে? তার আগে নিজেকে শেষ করে দেওয়ার চেষ্টাই বা করেছে কেন? এই স্বীকারোক্তি কি প্রকাশ পাবে? নেশার কাছে মানুষ বিক্রি হয়, হারিয়ে ফেলে নিজস্ব সত্তা। জেন মেয়েটা এভাবে নিজেকে সঁপে দিয়েছে নিজেকে। যার সাথে জহিরের পরিচয় দেওয়া নেওয়ায়। চাকরির আগে সে এসব নেশাজাতীয় দ্রব্য অন্যের হাতে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করত। সেখান থেকে এক মিষ্টি মধুর সম্পর্ক গড়ে ওঠে জেন আর জহিরের। মার্লবরো র. হাসানের লেখা পড়ে তার অন্যরকম লাগে। কিছু একটা রহস্য খুঁজে পেতে চায়। জহিরও যেন সেই কৌতূহল খুঁজে ফেরে। কেননা তাদের এক বাস্তব ভয়ংকর অভিজ্ঞতার সাক্ষী রূপকও। লাল বালতির সেই রহস্য যে কী, আজও বুঝে উঠতে পারে না! জেনের বাবা তরুণ পাশা শখের গোয়েন্দা। উপর মহলে ভালো যোগাযোগ আছে তার। তারই সাহায্য সহযোগিতায় তারা এমন কিছু আবিস্কার করেছে, যা যেমন বিভৎস! তেমন বিস্ময়কর। শুধু যে বাংলাদেশে, এমন নয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই লাল বালতির রহস্য দেখা গিয়েছে। কী ছিল সেখানে? এমনভাবে নানান জায়গায় দেখা পাওয়ার কারণ কী? এই গল্পে আছে মানসিক অস্থিরতা, মিথ্যেকে সত্য করে দেখানোর প্রয়াস, ছোটবেলার কোনো ঘটনা মনের মধ্যে পুষে রেখে প্রতিশোধের নেশায় মত্ত হওয়া মানুষ। যার মূলে রয়েছে — এক চাপ কা… ▪️পাঠ প্রতিক্রিয়া : বর্তমান সময়ে যে কয়জন লেখকের লেখায় ভরসা করতে পারি, মুগ্ধ হতে পারি— লেখক নসিব পঞ্চম জিহাদী নিঃসন্দেহে তাদের মধ্যে একজন। দুর্দান্ত লেখনী, সেই সাথে অসাধারণ সব উপমায় বর্ণনা যেভাবে মুগ্ধতা ছড়ায়— লেখকের প্রশংসা এখানে করতেই হয়। মুগ্ধ হয়ে পড়েছি, গল্পের মধ্যে ডুবে গিয়েছি। লেখক তার লেখা দিয়ে এক ধরনের সংযোগ স্থাপন করতে পারেন। আর এতে বই আরও প্রানবন্ত হয়ে ওঠে। “এক চাপ কা” ব্যতিক্রম এক নাম। যে নামেতেই আগ্রহ জাগে। কিন্তু এমন নামের কারণ কী? তা জানতে হলে বই পড়তে হবে। রহস্য যে এখানেই। নাম নিয়ে বেশি কচকচানিতে যাব না। এই বইটির শুরুটা বেশ সাদামাটা। দুইজন মানুষের গল্প দিয়ে শুরু। কিসলু আর জহির। সাথে ঘটনাক্রম দিয়ে লেখক জেনের পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। পরে দৃশ্যপটে আবির্ভাব রূপক বসির মুর্তজা, কিংবা মার্লবরো র. হাসানের। সেখান থেকেই মূলত গল্পের সূত্রপাত। আমি লেখকের গল্প বলার ধরনের ভীষণ ভক্ত। সাবলীলভাবে লেখক গল্প বলে যান। খুব যে কঠিন কিছু করেন, তেমন না। তবুও আগ্রহ জেগে ওঠে। প্রতিটি পৃষ্ঠা পড়ার আগ্রহ জাগে। লেখকের লেখায় অসাধারণভাবে ফুটে ওঠে সব আবেগ অনুভূতি। ভয়, আবেগ, হাসি, কান্না— সবকিছুই জীবন্ত মনে হয়। ভয়ের অনুভূতিতে শিউরে উঠতে হয়। হিউমার সমৃদ্ধ লেখায় পাঠক হাসতে বাধ্য। অনেক লেখায় দেখা যায়, জোর করে সমস্ত অনুভূতি ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। এখানে তেমন কিছু ছিল না। স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, গল্পের গতিতে একাধিক অনুভূতিতে নিজেকে আবিষ্কার করা যায়। এই গল্পে খুব যে বেশি চরিত্র ছিল, তেমন না। মূল চরিত্র চার পাঁচজনেই সীমাবদ্ধ ছিল। রূপক চরিত্রকে বেশ রহস্যময় লেগেছে। যেই রহস্য পুরো গল্পে ছড়িয়ে গিয়েছিল। জহির, কিসলু না জেন স্বাভাবিক ধারায় প্রানবন্ত ছিল। তাদের এই রহস্যে ডুবে যাওয়ার মূল কারণ ছিল কৌতূহল। মানুষ কৌতূহলী প্রাণী। কৌতূহল থেকেই তারা যেকোনো কঠিন থেকে কঠিনতম কাজে ডুবে যায়। হয়তো সফলতাও পায়। সেই সফলতায় সেতু হিসেবে কাজ করেছে তরুণ পাশা। ইন্টারেস্টিং চরিত্র। সেই সাথে বইয়ের পছন্দের চরিত্রও। এছাড়া আরো কিছু চরিত্র গল্পের প্রয়োজনে এসেছে। আবার কাজ শেষে বিদায়ও নিয়েছে। লেখকের একাধিক চমকের মধ্য দিয়ে নানান চরিত্র, নানান ঘটনার আবির্ভাব হয়েছে। ঘটনার দৃশ্যপট এমনভাবে পরিবর্তিত হচ্ছিল যেন শেষে কী হবে যেন ঠিক বোঝা যায় না। শেষটা আসলেই চমকপ্রদ। আগে থেকে আন্দাজ করা যায় না। চরিত্র, সংলাপ আর গল্পের ধারায় ঘটনা ঠিক কোথায় এসে থামবে? বইটি মানুষের মনস্তাত্বিক দিকটি খুবই অসাধারণভাবে উন্মুক্ত করে। আমরা হয়তো অনেকেই অনেকভাবে মজা করি। বন্ধু মানুষকে খোঁচা দেওয়ার নামে এমন কিছু কথা বলি, সেটা আমার কাছে মজাদার হলেও সেই মানুষটির কাছে অপমানের। এমন উপহাস মানুষকে ভিতরে ভিতরে ধ্বংস করে দেয়। জন্ম নেয় ক্ষোভ। সেই ক্ষোভ জমা হয়ে এমন এক পরিস্থিতির তৈরি করে, যা একদিন না একদিন আগ্নেয়গিরির লাভার মতো বেরিয়ে আসে। আর যখন আসে, অতীতের সেই মানুষটিও হয়তো এরূপ দাবানলে ছারখার হয়ে যায়। এই বইটির সমাপ্তি কেমন হলো? এই বিষয় নিয়ে বলতে গেলে দোটানায় পড়তে হয়। লেখক শেষ সময়ে কিছু ঘটনা পাঠকের কল্পনার উপর ছেড়ে দিয়েছেন। কী ঘটেছে, সেটা আন্দাজ করা গেলেও ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয়নি। হয়তো অনেকের পছন্দ হবে না। কিন্তু আমার কাছে যথাযথ মনে হয়েছে। তার কারণ, সব যদি পাঠককে বিস্তারিত বলে দেওয়া হয় তবে পাঠকের কল্পনার সাথে তো সংযোগ স্থাপন করা যায় না। কী ঘটেছে সেটা অবশ্য বোঝা যায়, সেজন্য আসলে সমস্যা হয়নি। তারপরও কিছু ঘটনা লেখক স্পষ্ট করতে পারতেন। যেমন, ঊষার বাসায় কী, কীভাবে ঘটেছিল? কিংবা ঊষার চাওয়া কী ছিল? এগুলোর ব্যাখ্যা প্রয়োজন ছিল। যদি না লেখক সিরিজ আমার চিন্তা করেন! তাহলে হয়তো পরবর্তীতে খোলসা হবে। আর না হলে এখানেই খোলসা হওয়ার প্রয়োজন ছিল। ▪️অন্যান্য : এই বইয়ের প্রচ্ছদ আমার জোস লেগেছে। ধরলে দারুণ লাগে। প্রোডাকশন কোয়ালিটি অসাধারণ। বানান ভুল, বা সম্পাদনার ঘাটতি চোখে পড়েনি। ছাপার ভুল, শব্দের এদিক ওদিক কিছুটা ছিল। সেগুলো গল্পের গতিতে বাঁধা হতে পারেনি। ▪️পরিশেষে, এত দারুণ বই শেষ করে আর কী বলব? লেখক কিছু কাব্যিক উক্তিতে ভরিয়ে রেখেছিলেন বইটি। যার প্রায় অধিকাংশ আমার ভীষণ ভালো লেগেছে। শুরুতে একটা দিয়েছি। আমার সবচেয়ে প্রিয় উক্তিটা দিয়ে শেষ করি… “নির্বিকার, নিলিপ্ত প্রস্থান। অমোঘ হয়তো। সূর্যাস্তের বিপরীতে দাঁড়িয়ে থাকে নিঃসঙ্গ রেডিও টাওয়ারের মতো। ঠিক যেন শেষ প্রান্তের জট পড়া হতো। পুরানো, অবিশ্রান্ত একটা কল - মধ্যরাতে টিপটিপ ডাকাডাকি; আমার যত মহববত! হারাবো, অথবা হারাবো না। চাইবো, অথবা চাইবো না। জ্বলে উঠতে চায় দিনের আখেরী স্বর্ণপত্র। কিন্তু বুকের কালো দাগ তখন অন্তরের কালো দাগ হয়ে উঠতে চায়। অতঃপর এই রূপান্তরে কিছু অস্থিরতা। নিভে যেতে থাকে। সয়ে যেতে থাকে, আমার - সপ্রতিভ ডিলেমা!” ▪️বই : এক চাপ কা ▪️লেখক : নসিব পঞ্চম জিহাদী ▪️প্রকাশনী : বুক স্ট্রিট ▪️পৃষ্ঠা সংখ্যা : ১৮১ ▪️মুদ্রিত মূল্য : ৪২০ টাকা ▪️ব্যক্তিগত রেটিং : ৪.৫/৫























