

Buy রুম নম্বর ১০১ Online in Bangladesh
লেখক: তানজিম তানিম
- Author: তানজিম তানিম
- Publisher: শব্দকথা প্রকাশন
- Isbn: 9789849955391
- Number Of Pages: 104
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2025
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
একটি নিঃশব্দ রাত।আশফাক সাহেব আত্মহত্যার সমস্ত প্রস্তুতি সেরে ফেলেছেন। কালিয়াকৈর বাজার থেকে আনা এক কৌটা বিষ, জল্লাদের গিঁট দেওয়া দড়ি, এক পাতা ক্লোনাজেপাম—সবই বিকল্প হিসেবে পাশে রাখা। পাশের ঘরে ছেলে আদনান ঘুমাচ্ছে নির্ভার, আর তিনি নিজে নিঃশব্দে এগোচ্ছেন এক চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে। ওয়ালেটে গুঁজে রেখেছেন শেষ বার্তা:"আমি আর এ দুঃস্বপ্নের ভার বইতে পারছি না।"কিন্তু ঠিক তখনই ঘটে অপ্রত্যাশিত কিছু।রাত গভীর হলে দেখা যায়—আদনান ছুরি হাতে বসে আছে তার ঘরের সোফায়। দৃশ্যটা যেন কোনো পুরনো দুঃস্বপ্নের পুনরাবৃত্তি। বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলাচলে তিনি আবার ঘুমিয়ে পড়েন। ফের জেগে ওঠেন, এবং এবার—ঘটনাটি সত্যি!এই উপন্যাস শুধুমাত্র এক ব্যক্তির আত্মহননের গল্প নয়—এ এক শ্বাসরুদ্ধকর মানসিক ভ্রমণ, দুঃস্বপ্ন, দায়বদ্ধতা ও পারিবারিক মানসিক ভারসাম্যের এক নির্মম খতিয়ান।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
অন্ধকার, অপরাধ আর নৈতিকতার সীমারেখা যেখানে মিশে যায়, ঠিক সেখানেই দাঁড়িয়ে “রুম নম্বর ১০১।” একটা খুন, এক নিখোঁজ, আর ক্ষমতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা ভয়ঙ্কর সব সত্য—যা শেষ পর্যন্ত কাউকে ছাড়ে না। বই: রুম নাম্বার ১০১ লেখক: তানজিম তানিম ধরন: থ্রিলার মূল্য: ৩৮০ টাকা প্রচ্ছদ: আদনান আহমেদ রিজন প্রকাশনী: শব্দকথা প্রকাশন ★পাঠ সংক্ষেপ: একজন উচ্চপদে থাকা মানুষ যখন নিজের মাথার ভেতরেই আটকে যায়, তখন বাস্তব আর নিষিদ্ধ কাজ দুটোই তার কাছে স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। “রুম নম্বর ১০১”-এ সেই ভাঙাচোরা মানসিকতার ভেতর ঢুকে দেখতে পাবেন কীভাবে একজন পুলিশ অফিসার নিজের তৈরি অন্ধকারে ডুবে যায়। একটা খুন, একটা নিখোঁজ হওয়া মানুষ — আর তার পরপরই জীবনের নানা স্তরের নিচে চাপা পড়ে থাকা অসংখ্য পাপ, চাপা ভয় আর গোপন সত্য আস্তে আস্তে ভেসে ওঠে। গল্পের গতি এমন, যে আপনি বুঝতেই পারবেন না কখন তদন্ত, সম্পর্ক, অপরাধ আর মানসিক ভাঙনের থ্রেডগুলো একে অন্যকে জড়িয়ে দিয়েছে। এটা কোনো ডিটেকটিভ কেসের সোজা লাইন নয় বরং এখানে নৈতিকতা, ক্ষমতা, লজ্জা আর ব্যক্তিগত ক্ষত সব মিলিয়ে তৈরি হয় এমন এক স্টেজ, যেখানে সত্য কখনো পরিষ্কার নয় কেবল ধীরে ধীরে নোংরা হয়ে ওঠে। ★চরিত্র বিশ্লেষণ: ১. আশফাক—একজন পুলিশ অফিসার, সমাজে সম্মানিত, পরিবারে কঠোর। কিন্তু তার চোখের পেছনে আছে এমন এক অন্ধকার, যার গভীরতা সে নিজেই ঠিক বোঝে না। অফিসের দায়িত্ব, ক্ষমতার প্রভাব আর ভেতরের অপরাধবোধ—সব মিলে তার জীবনটা যেন এক ধোঁয়ার আস্তর। ২. নীলা—তার স্ত্রী। বাইরে থেকে স্বাভাবিক, ভেতরে ভাঙা। নিজের অসম্পূর্ণতা ঢাকতে সে খোঁজে অন্যরকম আশ্রয়, আর সেই জায়গা থেকেই শুরু হয় নতুন টানাপোড়েন। ৩. রিয়ান আর জিয়ান—দুই জমজ ভাই। একে অন্যের মতো দেখতে, কিন্তু চিন্তায় একদম আলাদা। তাদের উপস্থিতি যেন এই গল্পের কেন্দ্রবিন্দু, যেখানে এক ভাইয়ের নিখোঁজ হওয়া আর অন্যজনের ছায়া মিশে যায় আশফাকের দুঃস্বপ্নে। ৪. আর আছে আদনান—নির্ভার, নরম চোখের এক ছেলে, যে জানেই না তার চারপাশের মানুষগুলো আসলে কারা। ★পাঠ অনুভূতি: লেখক তানজিম তানিম ভাইয়ার লেখা আমার আগেও পড়া হয়েছে। । তাঁর লেখায় একটা ভিন্ন টান সবসময়ই থাকে। গল্প যত গভীরে যায়, পাঠক হিসেবে ততটাই কৌতূহল বাড়ে। “রুম নম্বর ১০১” পড়তে গিয়ে ঠিক সেই পুরনো টানটাই আবার অনুভব করলাম, তবে এবার বিষয়টা অনেক বেশি অন্ধকার, মানসিক, আর বাস্তবের কাছাকাছি। আশফাক চরিত্রটা পড়তে পড়তে রাগও লাগছিল, আবার কেমন যেন মায়াও হচ্ছিল। একজন মানুষ কতটা বিকৃতভাবে নিজের ভিতরের দানবকে লালন করতে পারে এই বই সেটা খুব বাস্তবভাবে দেখিয়েছে। নীলা, রিয়ান, জিয়ান—সব চরিত্রের মাঝেই একটা টানাপোড়েন, যেটা গল্পটাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে নিজের মতো করে। পুরো বইটা পড়তে গিয়ে একটা মানসিক চাপ কাজ করছিলো যেন কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে, কিন্তু ঠিক ধরতে পারছি না কী। লেখকের লেখনীর শক্তি এখানেই—তিনি পাঠককে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখেন, একবারও বিচ্ছিন্ন হতে দেন না। কিছু জায়গায় গল্পটা একটু দ্রুত মনে হলেও, থ্রিলটা একটুও নষ্ট হয়নি। শেষের পরেও একটা অদ্ভুত অস্বস্তি থেকে যায়—যে অস্বস্তিটাই হয়তো লেখক চেয়েছিলেন আমাদের মধ্যে রেখে যেতে। সব মিলিয়ে “রুম নম্বর ১০১” আমার কাছে ছিল এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা—অন্ধকার, বাস্তব আর চিন্তাজাগানিয়া। চমৎকার সময় কেটেছে বইটার সাথে। ★প্রচ্ছদ, লেখনশৈলী, প্রোডাকশন ও অন্যান্য: বইটার প্রচ্ছদই প্রথম নজর কেড়ে নেয়—রহস্যময় ও অন্ধকার আবহ গল্পের সঙ্গে মানানসই। তানজিম তানিম ভাইয়ার লেখন সহজ, সাবলীল কিন্তু গভীর সংলাপ ও বর্ণনা বাস্তবসম্মত। কিছু জায়গায় গল্প আরও সময় নিয়ে সাজালে ভালো হতো, তবে মোটের ওপর ভাষা ও ভাব ঠিক আছে। প্রোডাকশন মান খুব ভালো—কভার, প্রিন্ট, বাইন্ডিং আর ফন্ট সবই পড়ার জন্য আরামদায়ক। সম্পাদনা কিছুটা আরও যত্নসহ হতে পারত, তবুও বড় কোনো সমস্যা নেই। ★পছন্দের কিছু লাইন: ১. "পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী বস্তু পিতার কাঁধে সন্তানের লাশ"। ২. " পুরুষ মানুষের কাঁদতে হয় না"। ৩. "সংসারে অশান্তি হলে সর্বশেষ কোপটা পুরুষ মানুষের ঘাড়েই পড়ে"। ৪. " এক জীবনের নিস্তব্ধতা যা আজীবন ভাবায়"। ৫. "ঘর-সংসার হারিয়ে গেলেও হয়তো বেঁচে থাকা যায় কিন্তু নিজের থেকে নিজেকে হারিয়ে ফেললেলে সেটা শুধু দেহ টেনে চলা"। ★শেষ কথা: সব মিলিয়ে “রুম নম্বর ১০১” এক অন্যরকম থ্রিলার। গল্প এগোয় টানটান, চরিত্রগুলো জীবন্ত, আর তাদের সম্পর্ক ও কর্মকাণ্ড গল্পকে গভীরতা দেয়। আশফাক, নীলা, রিয়ান ও জিয়ানের আবহ পাঠকের মনকে ধরে রাখে। লেখকের সহজ, সরল কিন্তু গভীর লেখন খুব ভালো লেগেছে। প্রোডাকশন, প্রচ্ছদ ও বাইন্ডিং সবই চোখে আরামদায়ক। কিছু ছোটখাটো জায়গায় আরও যত্ন থাকলে ভালো হতো, তবুও পুরো অভিজ্ঞতা মজার। থ্রিলার ও রহস্যপছন্দ পাঠকদের জন্য বইটি একেবারে ঠিক। রিভিউতে: শাহানাজ রিয়া রেটিং: ৪.৮/৫ (ভুলত্রুটি মার্জনীয়)


"মরে গেলেও তাও তথ্য থাকে মানুষটা মরে গেছে, কিন্তু হারিয়ে গেলে? হারিয়ে গেলে এক নিস্তব্ধতা। এক জীবনের নিস্তব্ধতা, যা আজীবন ভোগায়।" হামিদুর রহমান সাহেবের দুই জমজ ছেলেই বুয়েটে পড়তো। এর মধ্যে একজনের লাশ পাওয়া গিয়েছে। আরেকজন সম্পর্কে এখনো কোন খোঁজ বের করতে পারেনি পুলিশ।তদন্তের দায়িত্ব থাকা পুলিশ অফিসার আশফাক সাহেবও এই পরিবারের পরিচিত। আশফাক সাহেবের স্মৃতি নীলা এই দুই টুইনসের সাথে জুড়ে আছেন। এই দুই ভাইয়ের উপর ভর করেই এই থ্রিলার এগোতে থাকে। শুরু হয় এক ক্রিমিনালের মনস্তাত্ত্বিক গল্প। গুম-খুনের মধ্যেই উঠে আসে কয়েকটি সম্পর্কের গল্প। হামিদুর রহমানের একটি জলজ্যান্ত পরিবার মুহুর্তেই নিঃশেষ হয়ে যাবার গল্প। মাদকের কড়াল গ্রাসে এলিনের মত মেয়ের গল্প। আশফাক সাহেবের অবৈধ টাকা আর তার স্ত্রী নীলার গল্প। সেই গল্পের ছোট চরিত্রের বড় অংশ হিসেবে আসে আশফাক ও নীলার ছেলে আদনানের কথা। সবকিছু ছাপিয়ে এই সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারে উঠে আসে এক অপরাধীর মনস্তাত্ত্বিক বিষয়গুলো। হরেক রকম ক্রাইমকে বাস্তবে রূপ দিতে লেখক গাজীপুরের পরিচিত এক সেটিংসকে বেছে নিয়েছেন। গল্পের প্রতিটা লোকেশন মনে হচ্ছিলো চোখের সামনে। ঘটনাগুলো ঘটছে একদম সামনে। রিসোর্টের ১০১ নাম্বার রুমের চাবি হয়তো আমার হাতেই আছে। যেকোন সময় রিসোর্টে যেয়ে কিছু ক্রাইম আটকে দিতে ইচ্ছে হচ্ছিলো। জিয়ানের খোঁজ এনে দিতে না পারলেও রিয়ানকে হয়তো পৃথিবীর বুকে বাঁচিয়ে রাখা যেত। তবে ঘটনাতো আর কারো জন্যে থেমে থাকে না। সেভাবেই এগিয়ে গিয়েছে এই গল্প। পড়ে ফেললাম তরুণ লেখক Mohammad Tanjimul Islam (তানজিম তানিম) এর মৌলিক থ্রিলার "রুম নম্বর ১০১" । বাংলাদেশে থ্রিলার লেখা হয় কম। এই ধারা অব্যাহত রেখে এগিয়ে যান আমাদের পাঠকদের জন্যে। #হ্যাপি_রিডিং





বই: রুম নম্বর ১০১ লেখক: তানজিম তানিম প্রকাশনী: শব্দকথা প্রকাশন প্রচ্ছদ: আদনান আহমেদ রিজন কাহিনী সংক্ষেপ: গল্পের প্রধান চরিত্রে আশফাক। যিনি একজন পুলিশ অফিসার। কিন্তু নৈতিক চরিত্রের আড়ালে তার আছে ভয়ংকর পরিচয়। আশফাকের আছে নিজস্ব অপরাধ জগত। ধ*র্ষণ আর মানুষ খু*ন তার নে*শা। স্রোতবহা রিসোর্টের ১০১ নম্বর কক্ষে আশফাক তার সবশেষ খু*নটি করে। নিহত হওয়া ব্যক্তিটা বুয়েটের ছাত্র, নাম রিয়ান। কিন্তু রিয়ানকে খু'ন করার পর থেকে তার জমজ ভাই জিয়ানকেও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আশফাক বুঝে উঠতে পারছে না, সে রিয়ানকে খু*ন করল নাকি জিয়ানকে। এ সূত্র ধরে গল্প আগায় আর আশফাকের একের পর এক অপকর্মের তথ্য উঠে আসে। কিন্তু রিয়ান ও জিয়ান দুই ভাইয়ের কাকে খু*ন করেছে ও খু*নের কারণ—যেন গল্প রহস্যময় করে তুলেছে। অন্য দিকে আশফাকের স্ত্রী নীলা, যাকে আশফাক খুব পছন্দ করত। সে ছিল ‘পেনিয়াফোবিয়া’ রোগী। প্রাচুর্য আর আধিক্যের বদভ্যাসে তার এ রোগ হয়েছে। রিয়ান ও জিয়ান দুভাইয়ের সাথে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। যে সম্পর্কটা আশফাকের কাছে ছিল বিষের মতো। নীলাকে সে তাদের সাথে মেনে নিতে পারত না। তাদের একমাত্র সন্তান আদনান। যে মায়ের লেখা একটি ডাইরিতে পেয়ে যায় তার আসল পরিচয়। পাঠপ্রতিক্রিয়া: প্রথম পর্ব থেকেই গল্পটা রহস্যময় ছিল। আশফাক চরিত্রটা ছিল একই দিক থেকে ঘৃণিত, আবার অন্য দিক থেকে প্রেমিক পুরুষ। আশফাক সাহেবের আত্মহ*ত্যার প্রস্তুতি দিয়েই গল্প শুরু হয়। তারপর একে একে নানা জট খুলতে থাকে। জানতে পারি তার আত্মহ*ত্যার ইচ্ছার কারণ। রিয়ান ও জিয়ানের চরিত্রগুলো দিয়েও লেখক টুইস্ট দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু এলিন নাম চরিত্র, যাকে আমরা জিয়ানের প্রেমিকা হিসেবে পরিচয় পাই—সে চরিত্রটা ছিল খাপ ছাড়া। তাকে উপস্থাপনই উদ্দেশ্যহীন মনে হয়েছে। তবে এতকিছুর মাঝেও গল্পটা খুব দৌড়াচ্ছিল বলে মনে হয়েছে। গল্প বিশ্লেষণ: সব মিলিয়ে মোটামুটি ভালো গল্প বলব—রুম নম্বর ১০১! একটি অপরাধ জগতের গল্প, ডিটেকটিভ গল্প, কিংবা ক্রা*ইম থ্রিলার নাম দেওয়া যাবে। তবে সবগুলো বিষয় তার যথাযথ দিক খুব বেশি সময় নিয়ে ফুটে ওঠেনি। এজন্য টুইস্টের জায়গায় এসে—নিরস থেকে যেতে হয়েছে। তবে এ গল্পে সামাজিক অবক্ষয় দিকগুলো ভালোই ফুটে উঠেছে। যে আশফাক সাহেবের মতো পুলিশ অফিসার, যারা রক্ষক হবেন, তারা ভক্ষক হয়ে আছে। নারী ধ*র্ষণ, খু*ন, হেমোসে*ক্সে আসক্ত সে। তবে সে তার স্ত্রীর পরপুরুষের সাথে মেলামেশা পছন্দ করে না। আবার যে নীলাকে আশফাক সবকিছু দিয়েছে, সে তাকে ছেড়ে জড়িয়ে গেছে কলেজ ছাত্রদের কাছে। নীলার ডাইরিটা গল্পে সামান্য ভূমিকা রেখেছে। যা নীলার ছেলে আদনানকে চিনিয়েছে তার আসল পরিচয়। জানিয়েছে কে তার বাবা। লেখক সম্পর্কে: ইতোপূর্বে লেখকের দুটো বই পড়েছি, ১, মুয়াযযিন—যা মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস। ২, জীবনগদ্য—কাব্যগ্রন্থ। তবে ওই দুটোর তুলনায় আমার কাছে রুম নম্বর ১০১ একই খুব ভালো মনে হয়েছে। প্রচ্ছদ ও কন্ডিশন: প্রচ্ছদ ছিল দারুণ। প্রচ্ছদ দেখেই অনেকে বইটি পড়তে আগ্রহী হবে। আর বাইন্ডিং ইত্যাদি কোয়ালিটিও ছিল চমৎকার। যা চোখের জন্য আরামদায়ক ও পাঠে তৃপ্তিদায়ক। রেটিং: ৭/১০


অবসেসিভ কমপালসিভ ডিজঅর্ডার একটা মানুষকে কোন পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে তানজিম তানিম ভাইয়ের রুম নাম্বার ১০১ বইটি পড়লে বুঝতে পারবেন। আর সেই রোগটি যদি হয় প্রশাসনের ক্ষমতাধর কোনো ব্যক্তির তাহলে তার প্রভাব কতদূর পর্যন্ত পড়তে পারে তা জানতে হলেও রুম নাম্বার ১০১ পড়া উচিৎ আপনার। রিয়ান - জিয়ান জমজ দুই ভাই একই দিনে নিখোঁজ হয়। একজনের লাশ পাওয়া গেলেও বাকি জনের কোনো হদিস নেই। আর ভাগ্যে কী ঘটেছে তা জানতে বইয়ের শেষ পৃষ্ঠাটি পর্যন্ত পড়তে হবে আপনাকে। এর মধ্যে বর্ণিত হয়েছে অন্ধকার জগতের নানা দিক। টান টান উত্তেজনার একটি প্লটে লেখকের মুন্সিয়ানা দারুণ। কিছু ক্ষেত্রে লেখকের তাড়াহুড়া ও প্রকাশনীর সম্পাদনা বিষয়ক অযত্ন চোখে পড়েছে। এর বাহিরে রুম নাম্বার ১০১ আমার কাছে ভালো লেগেছে।


পাঠক অবেক্ষণ 'রুম নম্বর ১০১' লেখক: তানজিম তানিম প্রতিক্ষার প্রহর কাটিয়ে অবশেষে 'রুম নম্বর ১০১' উপন্যাসটি পড়া শেষ করেছি। একবার নয়;দুই বার। অনেক দিন পর ভিন্ন একটা লেখা পড়লাম। ব্যতিক্রমধর্মী এই লেখা থেকে প্রাপ্ত তৃপ্তিও ব্যতিক্রম। মূলত এটা থ্রিলারধর্মী উপন্যাস। যারা থ্রিলার পছন্দ করেন আমি বলব বইটি তাদের জন্য। আমার মতো যারা পাঠের রস কম বোঝেন তারা গোলক ধাঁধায় পড়তে পারেন। পরিবেশ ও আবহ তৈরির চেষ্টায় লেখককে সিদ্ধহস্ত বলে মনে হয়েছে। লেখকের শব্দ চয়ন অনন্য ও সমৃদ্ধ। কিছু শব্দের সাথে নতুন করে পরিচিত হতে পেরেছি। ইংরেজি-বাংলা ও প্রচলিত শব্দের ব্যবহার করেছেন স্বাচ্ছন্দ্যে। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র নীলা। লেখকের বর্ণনার গুণে চরিত্রটি সাধারণ গৃহিণীর অবস্থান ছাড়িয়ে অসাধারণ হয়ে ওঠেছে। কল্পনাপ্রবণ মানুষগুলো চোখের সামনে সুতনু নীলাকে দেখতে পাবেন নিজ প্রেয়সীর রূপে। উপন্যাসের অন্যতম প্রধান চরিত্র আশফাক যেটি পাঠককে ধাঁধিয়ে দিতে যথেষ্ট। কখনো মনে হবে তিনি পাপ দ্বারা তাড়িত আবার কখনো মনে হবে দৈব রোগ দ্বারা তিনি প্রভাবিত ৷ উপন্যাসের আরেকটি নারী চরিত্র এলিন। চরিত্রটি কেন্দ্রীয় চরিত্র রিয়ান-জিয়ানকে ছাপিয়ে আলাদাভাবে নজর কাড়ে ৷ যদিও এলিন চরিত্রটি সাধারণ প্রেমিকার আদলে গড়া কিন্তু তার জীবনের বৈচিত্র্য পাঠককে রোমাঞ্চিত করবে। উপন্যাসের প্রথমে পাঠক কিছু জটের সম্মুখীন হতে পারেন। তবে সেই জট খুলতে বেশি সময় লাগবে না ৷ বইয়েই শেষ পাতাগুলোতে রয়েছে প্রতিটা রহস্যময় জটের সরল সমাধান। অতঃপর আদনান চরিত্রটির নাটকীয় আবির্ভাব পাঠককে রোমাঞ্চিত করবে বলে মনে করি । উপন্যাসের কয়েকটি চৌম্বক লাইন যা আমাকে অভিভূূত করেছে: ১! "পৃথিবীতে সবচেয়ে ভারী বস্তু পিতার কাঁধে সন্তানের লাশ।" ২! "পুরুষ মানুষের কাঁদতে হয় না।" ৩! "সংসারে অশান্তি হলে সর্বশেষ কোপটা পুরুষ মানুষের ঘাড়েই পড়ে।" ৪! "এক জীবনের নিস্তব্ধতা যা আজীবন ভোগায়।" ৫! "ঘর-সংসার হারিয়ে গেলেও হয়তো বেঁচে থাকা যায় কিন্তু নিজের থেকে নিজেকে হারিয়ে ফেললে সেটা শুধু দেহ টেনে চলা।" ছোটগল্প নিয়ে রবীন্দ্রনাথের সেই বিখ্যাত উক্তিটি যেন এই উপন্যাসের জন্যও সত্য। "শেষ হয়েও হইল না শেষ!"























