

Buy মিরপুর এগারো হইতে সাবধান Online in Bangladesh
লেখক: হাসিন ইশরাক
- Author: হাসিন ইশরাক
- Publisher: প্রিমিয়াম পাবলিকেশন্স
- Number Of Pages: 144
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2026
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
সগির আলী একজন উন্মাদ। ঢাকার রাস্তায় সে ঘুরে বেড়ায়। নিজের ইচ্ছেমত উদ্ভট সব কথাবার্তা বলে পথিকদের বিরক্তির কারণ হয়। অন্যদিকে, শিউলি বেগম এক কালে বাসা বাড়িতে কাজ করত এমন এক চরিত্র। তাদের দুই সন্তান। রাজু ও টুনি। রাজু টোকাইয়ের কাজ করে এবং টুনি পথে পথে মালা বিক্রি করে ফিরে। তারা প্রত্যেকে সারাদিন যে যার মত এদিক সেদিক ছুটে বেড়ালেও রাতের আগেই একত্রিত হয় এক ঘরে। বলা বাহুল্য, ঘরটি এক পরিত্যক্ত ভবনের অংশ।পরিবার অনেক রকমের হয়। প্রত্যেক পরিবারের চিন্তা আলাদা, মূল্যবোধ আলাদা। এই কাহিনীতে আমরা খুবই অদ্ভুত এক পরিবারকে নিয়ে জানব। মিরপুর এগারোর সাথে তাদের সম্পর্ক নিয়ে জানব।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
Valo chilo.porer part er Jonno opekkha kortasi
আমার পড়া প্রথম থ্রিলার বই "মিরপুর এগারো হইতে সাবধান"। হাসিন ইশরাকের লেখা দ্বিতীয় বই। বইটিতে রহস্যের ভাঁজে নিম্নবিত্তের জীবনের বাঁচার দায়ে জড়িয়ে যাওয়া নানা সংগ্রামের চিত্র বেশ গঠনমূলক রচনাশৈলীর মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। রাজূ, টুনি, শিউলি বেগম এবং সগীর আলীর ছোট্ট তবে ব্যতিক্রমী সংসার। মূলত তাদের কেন্দ্র করেই ঘটনা প্রবাহ। গল্পের প্রধান চরিত্র সমূহের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি এবং জীবনের গল্প ও সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক। গল্প যেখানে বাস্তবতার মুখোমুখি, রহস্য সেখানে কাঙ্ক্ষিতই। ইন্ডিং ও ছিল বেশ আনস্পেক্টেড। একবারেই পড়ে শেষ করার মতো নাতি দীর্ঘ বইটি বেশ কিছু অংশে তুলে ধরেছে চরম কিছু সত্য। সবমিলিয়ে আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। যদিও থ্রিলার বই সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান নেই, তবে ওভারঅল বই হিসেবে বেশ ভালো ছিল।
বই: মিরপুর এগারো হইতে সাবধান লেখক: হাসিন ইশরাক প্রকাশনী: প্রিমিয়াম পাবলিকেশন ঢাকায় বসবাস করা একটি নিম্নবিত্ত পরিবারের জীবনের গল্প নিয়ে লেখা "মিরপুর এগারো হইতে সাবধান"। যেখানে আছে সগির আলি নামের একজন উন্মাদ, যে কিনা আসলে উন্মাদ নয়।বরং তার এই মুখোশের পেছনে লুকিয়ে আছে গুরুতর কিছু অপরাধ।তার স্ত্রী শিউলি বেগম মৃত্যুপথযাত্রী।তবু তাকে ঘিরে সগির আলির সবকিছু। সে তাকে বাঁচাতে সবকিছু করতে রাজি থাকে।আর আছে তাদের দুই সন্তান রাজু এবং টুনি। রাজু টোকাই, সারাদিন পরিশ্রম করে যা অর্থ পায় সবটাই ব্যায় করে মায়ের চিকিৎসায়।টুনি সারাদিন ঢাকার রাস্তায় ফুল বিক্রি করে। বাস্তুহারা হয়ে তারা আশ্রয় নেয় মিরপুর এগারোর একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে।বাইরে থেকে একটি পরিত্যক্ত বাড়ি হলেও এর ভেতরে চলতে থাকে লোমহর্ষক কিছু ঘটনা।এই ছোট্ট পরিবারটি ক্রমে নিজেদের এক বিশাল অপরাধের সাথে জড়িয়ে ফেলে।কেউ অপরাধ করে আবার কারো সাথে অপরাধ করা হয়। গল্পের অন্যান্য চরিত্রদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্র বাবু।সে রাজুর বন্ধু।ঢাকার শহরে অলিতে গলিতে দুজনে ঘুরে বেড়ায়, টোকাইয়ের কাজ করে। আবার মাঝে মধ্যে চুরি, ছিনতাই ও করে। তাদের বন্ধুত্ব বেশ গভীর। বন্ধুর থেকে বেশি তারা যেনো দুই ভাই।সেই বন্ধুত্বের রুপরেখাও সময় এবং পরিস্থিতির কারনে মোড় নেয় এক নতুন দিকে। রাজু এবং বাবু একদিন রেলস্টেশনে এক ব্যক্তিকে ছিনতাই করতে গিয়ে চুরি করা ব্যাগ থেকে খুজে পায় কিছু অপ্রত্যাশিত জিনিস।বিপদ বুঝে সেখান থেকে পালিয়ে গেলেও এই বিপদ তাদের পিছু ছাড়ে না।এই বিপদ তাদের কোথা থেকে কোন পরিস্থিতিতে নিয়ে যায় সেসব ঘটনা নিয়েই এগোতে থাকে গল্প। সগির আলির অপরাধও তাকে নিয়ে যায় এক অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে।যা সবকিছুই একই সূত্রে গাথা। অন্যদিকে শিউলি বেগম আর তার মেয়ে টুনির চরিত্র বেশ রহস্যময়।দুজনেই ধারন করছে এক অপ্রিয় সত্য যা হয়তো ভেংঙে দিতে পারে পুরো পরিবারকে।।।। সব মিলিয়ে লেখকের লেখনশৈলী বেশ চমৎকার। লেখার ফ্লো ভালো, পড়ার মাঝে আটকে থাকা যায়।সামান্য কিছু বানান ভুল, এবং এক জায়গায় সময়ের বর্ননা করতে গিয়ে কিছুটা ভুল হয়েছে।সেসব খুব বেশি চোখে পরার মতো না। ছোট একটা বই হলেও অপ্রয়োজনীয় কিছু ছিলো না।যতটুকু ছিলো তা একেবারেই যথেষ্ট। ছোট বই, তার ওপর আবার থ্রিলার, এবং তা আবার সাইকোলজিকাল থ্রিলার। এই জনরার বই পড়ার অভিজ্ঞতা থেকে ধারনা করেছিলাম গল্পটা কিছুটা ধধীরগতির হবে।তবে তা একদমই হয়নি।প্রথম দিক থেকেই বেশ ধরে রাখছিল।প্রতিটা অধ্যায় পড়ার পর পরের অধ্যায় পড়ার জন্য ইচ্ছা হবে।
#পাঠ_প্রতিক্রিয়া #সাইকোলজিক্যাল_থ্রিলার #বই_০৩ ⬛ বইটি নিয়ে ব্যক্তিগত অভিব্যক্তি/ফ্লপের কাহিনী নিয়ে বিশ্লেষণ: আমাদের জীবনটা কতই না ক্ষুদ্র?কতই না নগণ্য?জীবনের মায়াজালে কিছু ঘটনা আমাদের চেনা-পরিচিত আবার কিছু কিছু ঘটনা আমদের পরিবেশ-পরিস্থিতিকে দেখে মানিয়ে নিয়ে চলতে শেখায়। ভালো-মন্দের সংমিশ্রণ মিলেই আমাদের জগতের এই প্রেক্ষাপট রচিত,মানুষ শুধু তার উপলক্ষ্য মাত্র। "মিরপুর এগারো হইতে সাবধান" বইটিতে তেমনই কতক সাধারণ চরিত্রের মাধ্যমে অসাধারণ বর্ণনা ফুটে উঠেছে।যেখানে স্থান দেওয়া হয়েছে কতক নিম্ন-জীবনযাপন করা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজনদের। মিরপুর ১১ নং বাড়িকে কেন্দ্র করে চলতে থাকে একের পর এক গা শিউরে উঠার মতো কাহিনী। যেখানে সগীর আলীর মতো রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো পাগল,ঢাকা শহরের মতো শহরে পথে-ঘাটে হেঁটে ফুল বিক্রি করা টুনি,অন্যের বাড়িতে গৃহ-কর্ম করে বেড়া শিউলি বেগম এবং সদ্য শৈশবে পা দেওয়া রাজু,বাবুসহ দেশের বড় বড় প্রভাবশালী মাথাদের জড়িত হওয়ার গন্ধ ভেসে আসে প্লটে। গল্পে করিম চাচাদের মতো কাহিনী আমাদের বাস্তব জগতের কিছু অস্বাভাবিক ঘটনাকেও ইঙ্গিত করে যার নির্যাস গল্পের প্রধান বিষয়বস্তুকে স্পর্শ করে। কি ছিলো করিম চাচাদের মতো মানুষদের ভাগ্যে?কেনো নেপথ্যে সেই পুরোনো মিরপুর ১১ নাম্বার বাড়ি? আর কেনই বা দেশের বড় বড় মাথারা এসবের মতো তুচ্ছ্য শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে জড়িত?এসব কিছুই বইটিতে রাজকীয়ভাবে থ্রিলার আকারে লেখক প্রকাশ করেছেন বইটিতে। যার নাম মাত্র সমাপ্তি আপনাকে চমকে দিতে বাধ্য করবে গল্পের শেষাংশে। 🛑আমার পছন্দের জায়গাগুলো: সাধারণত সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারগুলোতে আমরা দেখতে পারি গল্পের শুরুর দিকে প্লটের গতিপথ কিছুটা পন্থর হয়ে থাকে কিন্তু "মিরপুর এগারো হইতে সাবধান" বইটিতে আমি ভিন্ন স্বাদ পেয়েছি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত টপ টু বোটাম সবকিছুর মধ্যে রহস্যের গন্ধ পেয়েছি। লেখকের লেখনীর ভাষা যতেষ্ট স্বচ্ছ। পড়তে কোনো বেগ পেতে হয় নি। ঝড়ঝড়ে লেখনী। ১৪৪ পৃষ্ঠার বইটি এক বসায় শেষ করার মতো ন। অনেকে একটা বিষয়ে আমার সাথে একমত নাও হতে পারেন।সাধারণত গল্পের লেখনীগুলোতে যেকোনো একটা চরিত্রকে বিশেষ মূল্যায়ণ করে প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ধরা হয় কিন্তু এই গল্পে সকল চরিত্রকে অত্যন্ত সাবলিলভাবে সম-মূল্যায়ণ করা হয়েছে। যেখানে দেখে বুঝার উপায় নেই কোনটি প্রধান চরিত্র আর কোনটি নয়। যা আমার বইটির প্রতি ভালো লাগার অন্যতম প্রধান কারণ। 🔵কিছু সংশোধনের ক্ষেত্র: বইটিতে অল্প কয়েক জায়গায় সামান্য বানানের ভুল পেয়েছি এছাড়া মেজর কোনো সমস্যা চোখে পড়ে নাই। আর ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে বইয়ে কিছু ইলাস্ট্রেশন দেওয়া যেতে পারতো তাতে লেখনীকে আরও সুন্দরভাবে উপলব্ধি করা যেতে পারতো এবং বইটিকে আরও আকর্ষণীয় মনে হতো। 🔴প্রকাশনীকে নিয়ে কিছু কথা: প্রিমিয়াম পাবলিকেশন্সের বই বেশ কিছু সংগ্রহে রয়েছে এবং তাদের ছোট বইগুলোর কাজ বেশ ভালো। তার উদাহরণ এই বইটিতেও পেয়েছি যা কোনো ব্যতিক্রম ঘটনা নয়। বাঁধাই+মলাট+পেজের কোয়ালিটি সব মানান সই। এ ব্যাপারে পাঠক হিসেবে আমি সন্তুুষ্ট। 🟣লেখকের উদ্দেশ্য কিছু কথা: শুরুতেই আমার শ্রদ্ধেও বড় ভাই Hasin Ishraq ভাইকে মনের অন্তস্থল থেকে ধন্যবাদ জানাই এতো ইউনিক একটা টপিককে নিয়ে পাঠক মহলে থ্রিলারের স্বাদ পৌঁছে দেওয়ার জন্য। নিম্নমহলকে নিয়ে এই ধরণের টপিক আমার দেখা এটাই প্রথম। বইখানায় যে টান টান উত্তেজনা ১ম থেকে শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত রেখেছেন আর যে টুইস্ট দিয়ে প্লটের নামমাত্র ইতি টেনেছেন পাঠক হিসেবে তা আমি কল্পনা করতে পারি নাই এবং এর রেশ বহুদিন মাথায় থেকে যাবে। আপনার নিকট একটাই চাওয়া এর ২য় পাঠ খুব দ্রুত বাজারে নিয়ে আসুন। 🔘ফ্ল্যাপের কাহিনী: সগির আলী একজন উন্মাদ। ঢাকার রাস্তায় সে ঘুরে বেড়ায়। নিজের ইচ্ছেমত উদ্ভট সব কথাবার্তা বলে পথিকদের বিরক্তির কারণ হয়। অন্যদিকে, শিউলি বেগম এক কালে বাসা বাড়িতে কাজ করত এমন এক চরিত্র। তাদের দুই সন্তান। রাজু ও টুনি। রাজু টোকাইয়ের কাজ করে এবং টুনি পথে পথে মালা বিক্রি করে ফিরে। তারা প্রত্যেকে সারাদিন যে যার মত এদিক সেদিক ছুটে বেড়ালেও রাতের আগেই একত্রিত হয় এক ঘরে। বলা বাহুল্য, ঘরটি এক পরিত্যক্ত ভবনের অংশ। পরিবার অনেক রকমের হয়। প্রত্যেক পরিবারের চিন্তা আলাদা, মূল্যবোধ আলাদা। এই কাহিনীতে আমরা খুবই অদ্ভুত এক পরিবারকে নিয়ে জানব। মিরপুর এগারোর সাথে তাদের সম্পর্ক নিয়ে জানব। বইয়ের নাম: মিরপুর এগারো হইতে সাবধান লেখক: হাসিন ইশরাক জনরা: সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার প্রকাশনী: প্রিমিয়াম পাবলিকেশন্স পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪৪ মুদ্রিতমূল্য: ১৭৫৳










দারুণ লেখা, বইটি পড়া শুরু করলে শেষ না করে উঠা সম্ভব নয়। পরবর্তী পার্ট ২ এর জন্য অপেক্ষায় রইলাম আশা করি খুব দ্রুত পেয়ে যাবো। আর পাঠকদের পড়ার জন্য High Recommend রইল। আশা করি ভাল লাগবে ।























