

Buy জান্নাত কে পাত্তে Online in Bangladesh
লেখক: নিমরাহ্ এহমাদ
- Author: নিমরাহ্ এহমাদ
- Publisher: ছাপাখানা প্রকাশনী
- Isbn: 9789843588623
- Number Of Pages: 783
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2026
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
ফ্ল্যাপহায়া সুলেমানের জীবন তখনই বদলে যায়, যখন সে ইস্তানবুলের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্কলারশিপের অফার পায়। নতুন দেশ, নতুন মানুষ, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়। সে উদ্দীপ্তও বটে, আবার অস্থিরও! কারণ কেউ একজন আছে, যে তার উপর নজর রাখছে। কেউ একজন, যে তাকে অজ্ঞাতনামা চিঠি পাঠায়। কিন্তু কে সে?হায়া কি এই অপরিচিত দেশে নিজেকে নিরাপদ রাখতে পারবে? আর যে মানুষটিকে খুঁজে পাওয়ার জন্য সে এই যাত্রা শুরু করেছিল, হায়া কি তাকে খুঁজে পাবে? জিহান সিকান্দারের সন্ধান কি সে আদৌ পাবে?২০১৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের সবচেয়ে বেশি পঠিত উপন্যাস “জান্নাত কে পাত্তে” এমন একজন তরুণীর গল্প, যে এক অপরিচিত দেশে গিয়ে নিজেই অপরিচিত হয়ে যায়। তার এই যাত্রা, অনুভূতি আর সংগ্রামের কাহিনি পাঠকের হৃদয়ের গভীরে স্পর্শ করবে।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

বিশাল বড় এই বইটা শেষ করতে তিন দিনের একটু বেশি সময় লেগেছে। এত বড় বই অথচ একটুও বিরক্তিবোধ কিংবা একঘেয়েমি কাজ করেনি। বরং যত কাহিনী আগাচ্ছিল আগ্রহ বেড়ে যাচ্ছিল। নিমরাহ্ এহ্মাদের লেখার ফ্যান হয়ে গেছি আমি রীতিমতো এটা পড়ে। সুখ-দুঃখ,হাসি-কান্না,প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি সবকিছুর টেস্ট এক বইতেই পেয়ে গেছি। এক কথায় অনুভূতির প্যাকেজ ছিল। জিহান,হায়া,আইশে গুল,বাহারে গুল সবাইকে আমার এত আপন লাগছিল, ওদের দারুণভাবে অনুভব করতে পারছিলাম এক কথায় লেখক স্বার্থক। বইটা শেষ করেও আমি ঘোরের মধ্যে আটকে ছিলাম। বহু বহু দিন এর রেশ থেকে যাবে আমার মাঝে! অনুবাদক হিসেবে আফিফা পারভীন আপুর প্রথম বই ছিল এটা। আপুর অনুবাদ পড়তে আরাম লেগেছে অনেক। খুব সুন্দর এবং সাবলীলভাবে অনুবাদ করেছেন আপু। আমার যদি ক্ষমতা থাকত আমি এই বইটা প্রতিটা বইপড়ুয়াকে ধরে ধরে পড়াতাম🤍 মাস্ট মাস্ট & মাস্ট রিড একটা বই!
বুক রিভিউ বই- জান্নাত কে পাত্তে (JKP) লেখক - নিমরাহ্ আহমেদ অনুবাদক- আফিফা পারভীন প্রকাশনী- ছাপাখানা মু্দ্রিত মূল্য- ১৫৯০ টাকা। ""যখন বাবা, ভাই, অভিভাবকেরা মেয়েকে কিছু বোঝাতে চায়, তারা সাধারণত নিজের মতামতই চাপিয়ে দেয়। তারপর অভিযোগ তোলে 'মেয়েরা শোনো না কেন মানে না কেন!' কিন্তু যদি একবার তারা আল্লাহর কথা শুনিয়ে দিত, তাহলে তারা বুঝতো, মুসলমান মেয়ে ছোট হোক বা বড়, নরম ডালের মতো হোক বা কাচের মতো কঠিন, হৃদয় তার একটাই হয়। আর সেই হৃদয়, যে একবার আল্লাহর বাণী শুনে ঝুঁকে যায়, তার আর কোনো উপদেশ, কোনো বক্তৃতা, কোনো দাওয়াতের প্রয়োজন থাকে না।একটি আয়াত, মাত্র একটি আয়াতই জীবন বদলে দেয়। ব্যস, একটিমাত্র আয়াত।"" ভাবা যায়, সমকালীন কোন একটা উপন্যাসের অংশ চমৎকার এই কথাগুলো!! শুধুমাত্র এটাই না, বরং এমন ছোট ছোট/ ছোট বড় অসংখ্য কথার দেখা মিলে এই বইয়ে যেগুলো আমাদের মনের ভেতর ঘুরপাক খায় কোন না কোন সময়। কিছু অজানা, অব্যক্ত ভাবনার সাক্ষাৎও পাওয়া যায়। আছে কিছু কিছু কোরআনিক আয়াতের ব্যাখা যা মুসলমান হিসেবে আমাদের জানা তো উচিত, কিন্তু আমরা এড়িয়ে চলি বলেই বিষয়গুলো অজানা থেকে যায়। অথচ বইটা টানটান উত্তেজনায় ঠাসা। রহস্যে ঘেরা তার প্রতিটি পাতা, প্রতিটি অধ্যায়। আছে শেষ পাতা পর্যন্ত আটকে রাখার এক দুর্দান্ত আকর্ষণ। বলছিলাম ছাপাখানা প্রকাশনী থেকে সদ্য প্রকাশিত বই জান্নাত কে পাত্তের কথা। পাকিস্তানি লেখক নিমরাহ এহমাদ তার দুর্দান্ত মেধাশক্তি কাজে লাগিয়ে বইটি লিখেছেন। এত এত চরিত্র, জায়গা আর ঘটনার ঘনঘটার সম্মিলন নি:সন্দেহে তার দুর্দান্ত মেধাশক্তির পরিচায়ক। আর বাংলাদেশের অনুবাদক আফিফা পারভীন তার প্রচন্ড যত্ন আর লেখনশৈলীর প্রখরতা কাজে লাগিয়ে দুর্দান্ত একটা বই উপস্থাপন করেছেন। এত মনোরম, মনোহর উপস্থাপন পড়তে গিয়ে কখনো মনেই হয়নি অনুবাদ পড়ছি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ফ্লোলেস লিখেছেন। নিজের মাতৃভাষায় অনুবাদ বইয়ের পরিপূর্ন আস্বাদন এই জান্নাত কে পাত্তে। জান্নাত কে পাত্তে ৭৮০ পৃষ্ঠার বিশাল আকারের টেক্সটবুক সাইজের বই। তাই তার কাহিনি ও তার গভীরতাও বিশাল। এমন বইয়ের স্টোরিলাইন বলা যেমন সম্ভব না, তেমনি একটা কিছু বলতে গেলেও স্পয়লারের আশংকা থেকে যায় প্রচুর। তাই ওগুলো আমি এড়িয়ে চলি। #কাহিনী_সংক্ষেপ: ফ্ল্যাপ থেকেই বুঝা যাচ্ছে, গল্পটা হায়া সোলেমানের। আসলে গল্প না বলে জার্নি বলা উচিত। তার অনিশ্চিত জীবনের জার্নি। পুরো বইটাই হায়া সোলেমানের দৃষ্টিকোণ থেকেই এগিয়ে চলে। হায়া যখন যেখানে ছিল বা গেছে তখন সেখানকার জায়গা, ব্যক্তি আর ঘটনাই প্রাধান্য পেয়েছে। সেই সূত্র ধরেই আমরা তার নিজ দেশ ও পরিবারের সদস্যদের জানার পরেই দেখতে পাই সে এক্সচেঞ্জ স্টুডেন্ট হিসেবে তুরস্কের সাবানজি ইউনিভার্সিটির পথে যাত্রা শুরু করেছে। অবশ্য যাত্রা শুরু করার আগেই কেউ একজন একজন তাকে সাদা গোলাপের বুকে পাঠাচ্ছে। সেই থেকে শুরু, কিছুটা রহস্য আর কিছুটা এডভেঞ্চারের। প্রতিটা জায়গায় হায়া পৌছানোর আগে বুকে পৌঁছে যাচ্ছে। ভেবেছিলাম অদ্ভুত রহস্যের ভয় পেয়ে হায়া থেমে যাবে। কিন্তু না তার যাত্রা চলতে থাকে। সাহসী, বুদ্ধিমান, আত্মপ্রত্যয়ী হায়া সব বাধা উপেক্ষা নয় বরং সাথে নিয়েই উড়ে যায় শাবানজি ইউনিভার্সিটির উদ্দেশ্যে। তার সঙ্গী হয় খাদিজা রানা উরফ ডিজে। দুজনের মুখরিত পদচারণায় আমরাও ইউনিভার্সিটির পাশাপাশি ঘুরে বেড়াই তুরস্কের বিভিন্ন দর্শনীয় জায়গায়। সাথে বন্ধু হিসেবে আবির্ভূত হয় বিভিন্ন দেশের আরও কুয়েকজন স্টুডেন্ট, যারা বলা যায় একেকজন একেকটি রাষ্ট্রেরও প্রতিনিধি। তুরস্কে হায়ার আরও দেখা হয় তার ফুফু সাবিন আর ফুপুর ছেলে জিহান সিকান্দারের সাথে। পেছনে রহস্যমানবের ঘুরঘুর সত্ত্বেও মোটামুটি শান্তিতেই কেটে যাচ্ছিল হায়ার শিক্ষা জীবন। সাবানজির শিক্ষা জীবন শেষ হওয়ার কাছাকাছি সময়েই হায়ার শান্তিপূর্ণ জীবনে হটাৎই নেমে আসে জাহান্নামের দুর্যোগ। কোন মতে দুর্যোগের ঘোরাটেপ কাটাতে পারলেও অদ্ভুত অনুভুতিতে বদলে যেতে থাকে তার জীবন দর্শন। খুঁজতে শুরু করে আল্লাহ প্রদত্ত নুরের। দৈবক্রমে দেখা হয় জেকেপির সবচাইতে নির্মল, পরিশুদ্ধ একজন মানুষ আইশে গুলের সাথে, তার সঙ্গে মিষ্টি পরী বাহারে গুল। দুজনের সান্নিধ্যে জানতে থাকে সে ভালো মেয়ের গুনাবলী, মুসলিম হিসেবে আল্লাহ প্রদত্ত কিছু নিয়মাবলী।পরিচিত হতে থাকে জীবনকে দেখার ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির সাথে। এরই মধ্যের হায়াকে কেউ একজন একটা ধাঁধার বক্স সলভ করার কাজে লাগিয়ে দেয়। এই পাজল বক্স একটা বিরাট মিস্ট্রি! খুলতে গিয়ে হায়াকে একেকটি ধাঁধার সমাধান করতে হয়। এই অংশটা এত ইউনিক, এত ভালো লেগেছে। বিশেষভাবে প্রতিটি জটিল বাক্যের হায়ার প্রানান্তকর প্রচেষ্টা আর অর্থদ্ধোরের পর তার উচ্ছ্বাস পাঠকের জন্য প্রশান্তিদায়ক। তুরস্ক যাত্রার এই সাড়ে পাঁচ মাসের জীবনে হায়ার ফুলের তোড়া পাঠানো ARP ছাড়াও মেজর এহমাদের আনাগোনাও ছিল বেশ উজ্জ্বল। একজন মোটিভেটর হিসেবে মেজর এহমাদ অনন্য। তাঁর বিভিন্ন দিক নির্দেশনা আর ভারী কণ্ঠের মধুর সাহচর্য হায়াকে প্রতিটি পদেই সাহায্য করেছে। যাইহোক, অবশেষে যখন গোলকধাঁধার বক্সটা পুরোপুরি খুলতে পারে হায়া তখন শুরু হয় আসল হিসাব নিকাশের পালা। এই হিসেবটা শুধু হায়ার জন্য না, পাঠকের জন্যও ছিল বিরাট একটা ধাক্কা। আমি নিশ্চিত কোন পাঠকই এই জায়গায় হোঁচট খেয়ে তব্দা না লেগে যাবেন না, বরং কিছুক্ষণের জন্য হলেও ফ্রিজ হয়ে যাবেন, মাথা হ্যাং হবে, বই বন্ধ করে কিছুক্ষণ উল্টা গনণা শুরু করবেন। কী সেই ধাঁধা আর কী তার সমাধান? আসলে এটা তো ছিল কেবল শুরু, সংক্ষেপে যতটুকু বললাম তা ছিল অর্ধেক বইয়ের হালকা পাতলা টুইস্ট। বেশিরভাগ অংশই তো জানা বাকি। জানতে হলে পড়ে ফেলুন জান্নাত কে পাত্তে। আমি আর কিছু বলব না কারণ এখান থেকেই শুরু চাঁদের উল্টাপিঠ দেখার পরিপূর্ণ সুযোগ। আমি বরং প্রিয় কিছু চরিত্রের সাথে পরিচয় করিয়ে দেই। #জিহান_সিকান্দার- দি গ্রেইট,দি মিস্ট্রি ম্যান। সাবিন ফুপুর একমাত্র ছেলে। ইস্তিকলাল স্ট্রিটের বার্গার কিংয়ের মালিক গরীব মানুষ। সে একাধারে জুতা মেরামতকারি, চুলার ইঞ্জিনিয়ার, জেনারেটর মেকানিক, সেই বিখ্যাত তালা কারিগর যে চাবি ছাড়াই তালা খুলে ফেলতে পারে। তার গুনের শেষ নাই। আদর্শ ছেলে, হ্যান্ডসাম গাইড। গুরুগম্ভীর ব্যক্তিত্বের গোমড়ামুখো সুদর্শন সুপুরুষ। সে জানেই না হায়া কে?! কিন্তু সময় সুযোগে নিজের পরিচয়টা এভাবেই দিতে পছন্দ করে - আমি জিহান সিকান্দার, সোলেমান মামুর ভাগ্নে আর হায়ার জামাই। তবে নির্দ্বিধায় একথা বলা যায়, জিহান ভীষণ স্কিলড একজন মানুষ। শুধুমাত্র একটি কাজেই নিজেকে ব্যস্ত না রেখে সে ছোট ছোট বিভিন্ন বিষয়ে নিজেকে দক্ষ করে তুলেছে। এই বিষয়টি আমার ভীষণ ভালো লেগেছে। তার সম্পর্কিত বিস্তারিত বইয়েই পাওয়া যাবে। #আব্দুর_রেহমান_পাশা / ARP: অদেখা, অচেনা, রোমান্টিক রহস্যমানব ARP.। তার ভালোবেসে দেয়া ফুলের তোড়াগুলোই যার উপস্থিতির সাক্ষ্য দেয়। অন্যথায় তাকে খুঁজে পাওয়া দুস্কর। কিন্তু সে ছড়িয়ে থাকে সব জায়গায়। হায়া যেখানেই যেতে চায়, তার ছায়াও পৌঁছানোর আগে পৌঁছে যায় ARP আর তার ফুলের তোড়া, কখনো শুভকামনা আর কখনো ভ্যালেন্টাইনের বার্তা নিয়ে। যে খবর হায়া জানেও না, যেখানে তার যাওয়ার কথাও না, সেখানেও ARP'র ফুল চলে যায় আগে আগে। শেষ পর্যন্ত অধরা রহস্যমানব কি ধরা পড়েছিল, কি ছিল তার উদ্দেশ্য? জানা যাবে বইটা পড়তে পড়তেই। আর পড়তে পড়তেই মনে হবে এমন একটা ভিলেনকে তো ভালো বাসাই যায়! যেমন বাহারে গুল অপেক্ষায় আছে কবে তার পনেরো বছর বয়স হবে, আর সে আব্দুর রেহমানকে বিয়ে করে ফেলবে! তাদের বিয়ে ঈ হয়েছিল!? #মেজর_এহমাদ: এই বইয়ের সবচাইতে শান্ত মানুষ, শান্তির মানুষ মেজর এহমাদ। আমি জীবনে সুযোগ পেলে মেজর এহমাদের ভারী কণ্ঠের মধুর স্বরে কিছু কথা অন্তত শুনতে চাইব। হায়ার সাথে মোহনীয় আবেশে পাঠক হিসেবে আমিও বুঁদ হয়ে আছি। তার দৃপ্ত কণ্ঠে বলা সেই চমৎকার লাইন - যারা জান্নাতের পাতা আকড়ে ধরে আল্লাহ তায়া’লা তাদের অপমানিত করেন না। কেমন যেন একটা শক্ত যোগানো, সাহস জাগানিয়া ভাব দেয়। #হায়া_সোলেমান - শরীয়াহ আইনের ছাত্রী, বাবা মায়ের আদুরে একমাত্র কন্যা। সম্পুর্ণ তার স্বধীন তার চলাফেরা, ভাই আর বাবা মায়ের পূর্ণ সাপোর্ট তার সাথে। কিন্তু কোথাও তার কোন বেচাল আচরণ নেই। প্রখর বুদ্ধিদীপ্ত, দৃঢ়প্রত্যয়ী, সৎসাহসী সে। নিজের ওয়েইট বজায় রেখে চলা ব্যক্তিত্বময়ী নারী।তার দিকে ছুড়ে দেয়া প্রতিটি জটিল বাপ্রতিটি ধাঁধা মসে যেভাবে ডিকোড করেছে তা অবাক হয়ে ভাবার মতো। বিষয়টা পাঠকের জন্যও ব্রেইনস্টর্মিং এর। আবার তার ঝালপ্রেমী তায়া ফ্যামেলির প্রতিটি বিষাক্ত আচরণের বুদ্ধিদীপ্ত জবাব ছিল মনে দাগ কাটার মত। কেউ কেউ তার এই প্রবল বুদ্ধিমত্তার স্বীকৃতি না দিলেও আমি ব্যক্তিগত ভাবে তার একজন গুনমুগ্ধ অনুরাগী বলা যায়। পরিবর্তিত জীবনের আকাঙ্ক্ষা আর তা পূরণে তার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ অনঢ় ব্যক্তিত্ব পাঠক মহলেও সাহস জাগানিয়া। #ডিজে বা খাদিজা রানা - এই মটু সাইজের বইয়ের সবচাইতে প্রানবন্ত, উজ্জ্বল, ঝলমলে চরিত্র। ডিজে হায়ার বন্ধু, এমন বন্ধু যেমন প্রকৃত বন্ধুরা হয়ে থাকে। কিংবা আমরা নিজেরা বন্ধু হিসেবে যেমন ডিজে ঠিক ততটাই পারফেক্ট। সবকিছুতে নিজের দেশকে বড় দেখানোর যে প্রবণতা, সেটা ছিল চরম লেভেলের আদুরে। তার 'বলে ফেলি, সে তো আর দেখতে যাচ্ছে না' - এই চিন্তাটাই ইউনিক আবার অতি সাধারণ। কারণ আমাদের ভাবনার গন্ডিও ডিজের মতোই। ডিজের বাকি বর্ণনা বইয়ের জন্য তোলা রইল। এছাড়াও ভালো লাগার মতো চরিত্র হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে আরও কিছু মানুষ। যেমন- শান্ত স্নিগ্ধ ভীষণ পরিশ্রমী আইশে গুল। তার নম্র, মার্জিত আচরণ আর দায়িত্ববোধ ভীষণ অনুপ্রেরণাদায়ক। আনাতোলিয়ার বাহারে গুল আর তার গোলাপি পার্স। জেকেপি সবচাইতে মিষ্টি মানুষ বাহারে গুল আরও ভালো লেগেছে, সাবিন ফুপুর মার্জিত আচরণে গভীর জীবনবোধ। হায়ার বাবা মায়ের স্নেহপূর্ন সাপোর্টিভ প্যারেন্টিং। হালে নূরের সহ্যযোগিতাপূর্ন মনোভাব। ডলি বাজি আর তার স্মৃতিময় ফ্রাইপ্যান। একজন আছে যার কথা না বললে নয়, কর্ণেল রউফ গিলানি। স্যালুট ভদ্রলোকের জন্য। মন তিতা করে দেয়া চরিত্র ওয়ালিদ। মুখোশধারী ধুরন্ধর ছোটলোক। এর ভয়াবহ পরিণতি দেখতে না পাওয়াটা আফসোসের। আর রইল তায়া ফুরকান ফ্যামিলি। পুরো পরিবারই জিহানের ভাষায় ঝাল বেশি খায়। আমাদের আশেপাশেই এদের বাস। সাইমা চাচীর এমন দুমুখো আচরণই ইরামকে এমন হতে বাধ্য করেছে। এদের সম্পর্কে বলতেও উচিতে বাধে। #ভালোলাগা_দিক: যেহেতু বিশাল সাইজের বই তাই এর ভালো লাগার দিকও অসংখ্য। তার মধ্যে সবচাইতে ভালো লেগেছে, পড়তে পড়তে তুরস্ক ভ্রমণ। হায়া আর ডিজের একসাথে তাকসিম স্কয়ার, ইস্তিকলাল স্ট্রিট, টপকাপি প্যালেস, বুয়ুকআদাসহ তুরস্কের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরাঘুরি মনে হচ্ছিল যেন সাথে আমিও আছি। সুলতান মেহমেত মসজিদ, ঈসার পাহাড় আর সীমান্ত এলাকা পারাপারের টুইস্ট ভীষণ মনকাড়া। আরও বেশি ভালো লেগেছে কাপ্পাডোকিয়ার হট এয়ার বেলুন, মাটির নিচের শহর আর মাহসানের কবুতর। টাংটুইস্টারের মতো শব্দগুলো মাথায় ঘুরপাক খায়। কোন একদিন যেন সচক্ষে সেগুলো দেখতে পারি মনে মনে এই চাওয়া তীব্র করে দিয়েছে এই বই। তবে এই বইয়ের সাবচাইতে শক্তিশালী দিক হলো এর পরিচ্ছন্নতা। পরিপূর্ণ সুযোগ থাকা সত্ত্বেও এমন একটা শব্দও এখানে নেই যাকে অশালীন বলা যায়। এককথায় এই ব্যাপারটা অসাধারণ, অনন্যসাধারণ। #খাপারাপ_লাগা_দিক: বইয়ের খারাপ লাগা দিক খুঁজতে গিয়ে শুধুমাত্র তার সাইজটাই চোখে পড়ল। মানে এমন ওজন হাতে ব্যথা হয়ে যায়। আরামের নিজস্ব ভঙ্গিমায় পড়া যায় না। মানে আদুরে কিছু ত্রুটি। আমি বইটা শেষ করেছি মাস খানেক হয়ে গেছে, আর কোন বই পড়া হয়নি ইতিমধ্যে। কারণ এই বইয়ের প্রতিটি খুটিনাটি বিষয় মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। প্রথমে পড়তে গিয়ে মনে হয়েছিল, কিছু কিছু অংশ বাদ দিলেও হত, বাহুল্য লেগেছে। কিন্তু আস্তে আস্তে সব ক্লিয়ার হচ্ছে, প্রতিটি দৃশ্যেরই কার্যকারণ সম্পর্ক ছিল। আগেপরের ব্যাখ্যা বা স্পটহোল হিসেবেই লেখক আগেভাগেই সব উত্তর দিয়ে রেখেছেন। যেমন: হায়ার অফিসে বসার অংশটা। প্রথমে রিভিউ লিখে ফেললে এটাকে বাহুল্য বলতাম আমি। কিন্তু এখন দেখতে পাচ্ছি, লেখক ওটা দেখিয়েছেন হিজাব, নিকাবের আড়ালে থেকে পরিপূর্ণ পর্দার সাথে থেকেও দক্ষতা থাকলে একজন মেয়ে কতটা বিচক্ষণতার সাথে অফিসও সামলাতে পারে! এটা সত্যিই দারুণ ছিল। #অনুবাদ_সম্পর্কে: আমার বইপড়ার হাতেখড়ি কখন মনে নাই। কিন্তু অনুবাদ সাহিত্যের হাতেখড়ি কলেজ জীবনে এটা মনে হচ্ছে। ইংলিশ পড়াতেন সালাম স্যার, উনার রেকমেন্ডে পড়েছিলাম ম্যাক্সিম গোর্কির 'মা' উপন্যাস। কিছু কিছু জায়গা ছাড়া আমি আর কোন কিছুই বুঝি নাই। এরপর ভাইয়ের আনা হ্যারি পটারের পুরো সিরিজ ঘরে থাকা সত্ত্বেও একটাও পড়িনি। কারণ অনুবাদ সম্পর্কে ভয় ঢুকেছিল মনে। এর অনেকদিন পরে পড়েছি দি দ্যা ভিঞ্চি কোড। ভীষণ ভালো লেগেছে বইটা। কিন্তু আফসোস ছিল, অনুবাদটা আরেকটু বেটার হলে পড়ে আরও মজা লাগত। তবে এবার আমার সব ধরনের আফসোস ঘুচিয়ে দিয়েছে জান্নাত কে পাত্তে। এর অনুবাদ এত স্মুথ, এত সাবলীল হয়েছে পড়তে গিয়ে কখনো মনেই হয়নি অনুবাদ পড়ছি। এ ভেরি বিগ স্যালুট টু আফিফা পারভীন আপু। একদম তর্জমা না লিখে তিনি পুরো বইটা লিখেছেন একদম তার নিজস্ব প্রকাশ ভঙ্গিতে, মনের মাধুরি মিশিয়ে। তার শব্দভান্ডার এমনিতেই ভীষণ ম্যাচিউরড। সেটাই উনি কাজে লাগিয়েছেন পরিপূর্ণরূপে। এর ভেতরেও আরও কিছু অনুবাদ বই আমার পড়া হয়েছে, সত্যিকার অর্থে মনে ভরেনি, তৃপ্তি পাইনি। কারো সম্পর্কে ভালো বলতে না পারলে তার মন্দও বলো না - আমি এই নীতিতে বিশাসী বলে কিছু বলা হয়নি। নাহয় কিছুদিন আগে পড়া একটা অনুবাদ বইয়ের টাকা ফেরত চাইতাম। জেকেপি বিশাল সাইজের বই তাই এর দামও বিশাল আকারের। তাও বইটা শেষ করার পর মনে হচ্ছে পুরো পয়সা উসুল বই। যেমন সাইজ, তেমন শক্তপোক্ত বাইন্ডিং। ((অনেক টানাহ্যাঁচড়া করে বইটা পড়েছি, যেমন ছিল তেমনি আছে, অক্ষত ফিট এন্ড ফাইন)) যেমন সুন্দরভাবে লেখক তার কাহিনি বিন্যাস করেছেন, তেমনি চমৎকারভাবে অনুবাদক তা আমাদের সামনে উপস্থাপন করেছেন। পাকিস্তান ভিন্ন সংস্কৃতির ধারক বাহক হলেও, অনুবাদের মার্জিত উপস্থাপনে সেই বোধটা মনে কখনো উদয় হয়নি। ধন্যবাদ ছাপাখানাকে এত চমৎকার একটা বই অনুবাদ হিসেবে আনার জন্য। আর কৃতজ্ঞতা অনুবাদক আফিফা পারভীনের প্রতি তার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার চমৎকার একটা ফসল আমাদের উপহার দেয়ার জন্য। #বইটা_কারা_পড়তে_পারবে: জটিল একটা প্রশ্ন কিন্তু উত্তরটা খুবই সোজা। বইটা মোটামুটি সবাইই পড়তে পারবে। যারা ইসলামোফোবিক এরা ছোট বড় অসংখ্য বিষয় যুক্তিসহ জানতে পারবে। যাদের হিজাব নিকাবের প্রতি এলার্জি আছে, বোরখাকে চাপিয়ে দেয়া টেন্ট মনে করেন তারা কুরআন, হাদিসের ব্যাখার আলোকে এর যথার্থতা জানতে পারবে। যারা নতুন, কিন্তু লোক লজ্জা ও মানুষের পিঞ্চ করা কথার ভয়ে হিজাব নিকাব করতে চেয়েও দ্বিধায় ভুগছেন এই বইটা তাদের জন্য অবশ্যপাঠ্য। আবার যারা সাসপেন্স আর রোমাঞ্চকর কাহিনি পড়তে ভালোবাসেন বইটা তাদের জন্য সুখপাঠ্য হবেই। আমার পাঠক জীবনে পড়া সেরা একটা বই জান্নাত কে পাত্তে, তাই আমার পরিচিত অপরিচিত সবাইকেই বইটা পড়ার জন্য বলব। #পরিশিষ্ট: জান্নাত কে পাত্তে – রহস্য, রোমান্স আর সাসপেন্সে ভরা এক অবিস্মরণীয় উপন্যাস। একে পুরোপুরি বুঝতে হলে ধীরে ধীরে পড়তে হবে, তাহলেই লুকিয়ে থাকা কত নিগুঢ় রহস্য স্পষ্ট হয়ে ধরা দিবে। বিশাল বই তাই পুরো গুছিয়ে সব লেখা সম্ভব না, কিছুটা এলোমেলো হয়ে গেছে। ভুলগুলো ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইল। পরিশেষে বইটা শেষ করার পর দ্রবীভূত মনের একটাই একটাই চাওয়া, যে জান্নাতের পাতা আঁকড়ে ধরলে আল্লাহ তায়া’লা কাউকে অপমানিত করেন না, আল্লাহ তায়া’লা সেই জান্নাতের পাতার সান্নিধ্য এবং সেই পাতাকে আঁকড়ে ধরার মনোবাঞ্ছা ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ মনোবল যেন আমাদেরকে দান করেন।


#বুক রিভিউ 🔸বইঃ জান্নাত কে পাত্তে 🔸লেখকঃ নিমরাহ্ এহমাদ 🔸অনুবাদকঃ আফিফা পারভীন 🔸প্রকাশনীঃ ছাপাখানা 🔸প্রচ্ছদ শিল্পীঃ ফাইজা ইসলাম 🔸মুদ্রিত মুল্যঃ ১৫৯০ টাকা 🔶 প্রকাশনাঃ ছাপাখানা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত এবং জনপ্রিয় লেখিকা আফিফা পারভীন এর অনুবাদকৃত "জান্নাত কে পাত্তে" একটি পাকিস্তানি জনপ্রিয় উপন্যাস। এটা ৭৮৩ পৃষ্ঠার একটি বড় কলেবরের বই। প্রথমেই ছাপাখানাকে ধন্যবাদ জানাই এই বড় কলেবরের বইটা অনেক সুন্দরভাবে এডিটিং, প্রিন্টিং ও বাইন্ডিং এর জন্য, বইটার কোথাও কোন খুঁত চোখে পড়ে নাই। এত মোটা বইটা এত সুন্দর করে বাইন্ডিং করা হয়েছে যে এটা সত্যিই প্রশংসনীয়। এছাড়াও সুন্দর প্যাকিংয়ের মাধ্যমে নানা রকম কার্ড সংযুক্ত করে সময় মত এটা পাঠকের দোরগোরায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা ছাড়াও প্রি-অর্ডারে এত অধিক পরিমানে মূল্য ছাড় দিয়ে এই সুন্দর বইটা বইবান্ধব পাঠকদের ক্রয়ের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ছাপাখানা প্রকাশনীর প্রকাশকসহ সকল কলাকৌশলীকে ধন্যবাদ ও আগামী দিনের জন্য শুভকামনা। 🔶 প্রচ্ছদঃ "জান্নাত কে পাত্তে" এর প্রচ্ছদ অনেক সুন্দর হয়েছে। বইটার দিকে তাকালেই দেখা যায়, ভিন্ন কোন দেশের একটি শহরের খুব পরিচিত সাধারণ একটি দৃশ্য প্রচ্ছদে প্রতিফলিত হয়েছে যেটা প্রথমেই পাঠককে ধারনা দেবে এটা ভিন্ন দেশ সম্পর্কিত বই এবং এই বই আমাদের নতুন কোন দেশের সাথে পরিচিত করাবে। বইটা পড়ার পরে বুঝেছি এটা সত্যিই ভিন্ন কোন দেশের। প্রচ্ছদের দৃশ্যটিতে কোন বৃষ্টিস্নাত শহরের বৃষ্টি শেষে সন্ধা ঘনিয়ে আসার মুহূর্তের অস্পষ্ট ভাসা ভাসা কিছু দৃশ্যের সুন্দর প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। প্রচ্ছদ শিল্পী 'ফাইজা ইসলাম'কে তার সুন্দর কাজের জন্য প্রশংসা ও আগামী দিনের শুভকামনা। 🔶 লেখক পরিচিতিঃ "জান্নাত কে পাত্তে" পাকিস্তানি জনপ্রিয় লেখিকা নিমরাহ্ এহমাদ এর উর্দু ভাষায় লেখা পাঠক নন্দিত একটি উপন্যাস। বইটা পড়ার পর বুঝেছি এটা অনেক অনেক পাঠক নন্দিত হওয়ার মতই একটি উপন্যাস। আর এই জনপ্রিয় সুন্দর উপন্যাসটি অনুবাদ করেছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় লেখিকা আফিফা পারভীন। বাংলায় একটা প্রবাদ আছে, "যেমন বুনো ওল তেমন বাঘা তেতুল" বইটা পড়ে আমার তেমনই মনে হয়েছে 'যেমন রাইটার তেমন অনুবাদক'! 🔶 পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ যদি এককথায় বলতে হয় তাহলে বলব "জান্নাত কে পাত্তে" একটা মাষ্টারপিস উপন্যাস। জীবনে অনেক বই পড়েছি সেই ছোটবেলা থেকে বই পড়ার নেশা, "জান্নাত কে পাত্তে" পড়ার পর মনে হয়েছে এই বইটা না পড়লে আমার বই পড়া জীবনে অনেক বড় একটা মিস হয়ে যেত। আমার কাছে এটা একটা পিওর থ্রিলার উপন্যাস মনে হয়েছে, অনেক দিন পর মনে দাগ কেটে যাবার মত একটা চমৎকার থ্রিলার উপন্যাস পড়লাম। এটা অনুবাদিত উপন্যাস, মূল উপন্যাস লেখিকা নিমরাহ্ এহমাদ উর্দু ভাষায় লিখেছেন, নিশ্চয়ই তিনি তার নিজস্ব ভাষায় সমস্ত মাধুর্য্য দিয়ে লিখেছেন। উর্দু ভাষা মাধুর্য্যপূর্ণ একটি ভাষা হলেও এটা খুব কঠিন একটা ভাষা যা খোদ পাকিস্তানিরাও ঠিকমত বলতে বা লিখতে হিমশিম খেয়ে যায়, সেখানে ভাষার মাধুর্য বজায় রেখে একে পরিপূর্ণভাবে অনুবাদ করা খুব কঠিন একটা কাজ যেটা আফিফা আপু পারদর্শিতার সাথে করার চেষ্টা করেছেন। বইটা পড়ার সময় খুব একটা বোঝা যায়নি এটা অনুবাদিত বই। 🔸"জান্নাত কে পাত্তে" যখন পড়া শুরু করি তখন ফ্লাপে একটা লেখা পড়ে খুব অবাক হয়েছিলাম, সেখানে লেখা ছিল, "জান্নাত কে পাত্তে এমন এক তরুণীর গল্প, যে এক অপরিচিত দেশে গিয়ে নিজেই অপরিচিত হয়ে যায় " তখন প্রথমেই খটকা লাগে, যে একটা মানুষ নিজেই কিভাবে অপরিচিত হয়ে যায়! এটা জানাই ছিল আমার মূ্ল আগ্রহের কেন্দ্র বিন্দু, তারপর বইটা পড়া শুরু করি, ধীরে ধীরে জানতে পারি সেই তরুণী অর্থাৎ হায়া সুলেমান কিভাবে অপরিচিত দেশে গিয়ে মাত্র পাঁচ মাসে সে নিজেই অপরিচিত হয়ে যায়, হারিয়ে ফেলে তার পূর্বের বাহ্যিক স্বত্বা, নিজেকেই নিজে নতুন করে চেনে, জানে, আর এটাই এই বইয়ের টার্নিং পয়েন্ট। সেই তরুণী হায়া সুলেমান নিজেকে নতুন ভাবে বুঝতে শেখে, তার জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনা প্রবাহ তাকে নতুন করে নিজেকে নিয়ে ভাবতে শেখায়, আর এই শেখার মাধ্যমেই সে অপরিচিত হতে শুরু করে, তার পরিচিত স্বত্বা, সমাজ, আত্নীয় ও বন্ধু বান্ধব থেকে। তারপরও সে হার মেনে নেয়নি বরং জান্নাতের পাতা আকড়ে ধরে কন্টকাকীর্ণ পথ পারি দিয়েছে। জান্নাতের পাতা তাকে দিয়েছে নিরাপত্তা, সাহস ও অনুপ্রেরণা। তার জান্নাতের পাতা আকড়ে ধরার রিয়েলাইজেশন ও একে ধারন করে পথ চলা, এই পয়েন্ট অফ ভিউ থেকেই হয়তো উপন্যাসের নামকরন করা হয়েছে "জান্নাত কে পাত্তে"। 🔸জান্নাতের পাতা হায়া সুলেমান এমনি এমনি আঁকড়ে ধরে নি এটা সে তখনই আঁকড়ে ধরেছে যখন এর গুরুত্ব বা মাহাত্ম্য বুঝেছে। এই গুরুত্ব তাকে পরিস্থিতি বুঝিয়েছে আর বুঝিয়েছে এই উপন্যাসের ইসলামের আলোয় আলোকিত কিছু চরিত্র। ইসলামের আলোয় আলোকিত যেহেতু বললাম তাহলে বোঝাই যাচ্ছে এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য হলো মুসলিম ধর্মীয় সংস্কৃতি ও আর্দশ। আমরা মুসলিম, ধর্ম সমন্ধে হয়তো অনেক কিছুই জানি কিন্তু মানি কতটুকু, এই গল্পেও এটাই দেখানো হয়েছে এবং যারা মানে তাদের যেন ছোট করে দেখা না হয় সেটা শিখিয়েছে। এই উপন্যাসে হায়া সুলেমান যখন ইসলামের প্রকৃত বিধান বা আল্লাহকে জানছিল তখন নিজের অবস্থান নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়ছিল বারবার ওর মাথায় ঘুরছিল "আমার উপর কি নূর বা আলো নেই!" এই লাইনটা যখন পড়ছিলাম তখন আমারও ঠিক একই অনুভূতি হয়েছিল, এই উপলব্ধি লেখিকা তার নিখুঁত লেখনির মাধ্যমে জাগাতে সক্ষম হয়েছেন। লেখিকা গল্পের ছলে কী পারদর্শিতার সাথে ইসলামের সৌন্দর্য, শরীয়তের বিধান বুঝিয়েছেন। যাদের অন্তরে একটু হলেও ইসলাম বা দ্বীন আছে তাদের আত্ম-উপলব্ধি বা দিক নির্দেশনা দিবে এই বই, তারাই কেবল এই উপন্যাসের প্রকৃত রস আচ্ছাদন করতে পারবেন। আর বাকিদের জন্য আছে উপন্যাসের অসাধারণ স্টোরি লাইন যেটা পাঠককে মুগ্ধ করার জন্য যথেষ্ট। 🔸উপন্যাসে একজন বিশেষ ব্যাক্তি প্রথম জান্নাতের পাতা সম্পর্কে বলেছিলেন, "যারা জান্নাতের পাতা আকড়ে ধরে, আল্লাহ তাদের অপমান করেন না" তখন থেকে বুঝতে চেষ্টা করছিলাম 'জান্নাতের পাতা' এটা কিসের রুপক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, বুঝতে পারিনি, গল্পের প্রায় এক তৃতীয়াংশ পড়ার পর পুরোপুরি বুঝতে পারলাম জান্নাতের পাতা আসলে কি, তখন সত্যিই মুগ্ধ হয়েছিলাম। হায়া সুলেমান আত্ন-অনুধাবন থেকেই জান্নাতের পাতা আকড়ে ধরেছিল, খুব ভালো ভাবেই আকড়ে ধরেছিল এবং শেষ অব্দি সকল প্রতিকূলতাকে চ্যালেঞ্জ করে সে তার সিদ্ধান্তে স্থির থেকেছিল, কারন ছিল একটাই আল্লাহকে খুশি করা। আমার বিশ্বাস এই বইটা পড়লে মুসলিম নারী পাঠক জান্নাতের পাতা আকড়ে ধরতে উৎসাহিত হবে। সম্ভবত এই বইয়ের লেখিকা তার এই বইটার মাধ্যমে এমন কিছু বার্তাই তার পাঠকদের দিতে চেয়েছেন। বইটা পড়ার পর থেকে নিজেই নিজেকে ঝালাই করার চেষ্টা করছি, জান্নাতের পাতা আগের থেকেও বেশি আদরের সাথে আকড়ে ধরার চেষ্টা করছি। এই বইয়ের অন্তনির্হিত বার্তাগুলো আমার জীবনে অনেক প্রভাব ফেলেছে। এই উপন্যাস থেকে ইসলাম বা কুরআনের আলোকে জীবনের কিছু মৌলিক দর্শন আরো গভীরভাবে জেনেছি। কুরআনে যে ধাঁধা আছে জানা ছিল না এখন সেই ধাঁধাগুলো জানতে আগ্রহী হয়েছি। মন বলছে আমি এমন বই আরো পড়তে চাই। আমি কম বয়সী মেয়েদের এই বইটা পড়ার পরামর্শ দিব কারন তারা এটা থেকে যেমন সুস্থ বিনোদন পাবে তেমন অনেক অনেক ভালো শিক্ষাও পাবে। 'বই শুধু বিনোদনের খোরাক নয় বই হোক মানবিক সুশিক্ষার মাধ্যম', এটা এমনই একটা বই। 🔸বর্তমান যুগে কম বয়সী পাঠকরা সাধারণত সমকালীন উপন্যাস পড়তে বেশি পছন্দ করে। এরা সাধারণত ঐ উপন্যাসগুলোই পড়ে যেগুলোতে নায়ক-নায়িকার ন্যাকা প্রেম, ভালোবাসা, জোড় করে বিয়ে, ভুল করে বিয়ে, একবোনের পরিবর্তে অন্য বোনের সাথে বিয়ে, সংসার, সংসারের জটিলতা, বিচ্ছেদ, এছাড়াও থাকে ড্যাশিং নায়কের রোমান্টিকতা, এসব নিয়েই লেখা হয় আর আমাদের নিব্বা-নিব্বি পাঠক সেগুলোই পড়ে এবং মজা পায়। এখানে শিক্ষনীয় তো কিছু থাকেই না বরং এগুলো পড়ে পাঠকরা অমূলক ফান্টাসিতে ভুগতে থাকে। যখন বাস্তবতা এই ফান্টাসির বিপরীত হয় তখন তাদের মানসিক শান্তি বিনষ্ট হয়। তাই এমন বই পড়া উচিত যা মানসিক বিকাশ ও সুস্থ সংস্কৃতির ধারক হয়। "জান্নাত কে পাত্তে" এমনই একটা বই। বইটা সামাজিক, রোমান্টিক, থ্রিলার এই তিন ক্যাটাগরি সম্পন্ন উপন্যাস হলেও এর কিছু বিশেষত্ব রয়েছে। লেখিকা গতানুগতিক ধারার শুধু গল্পই লেখেননি বরং পাঠককে গল্পের মাধ্যমে কিছু মেসেজ দিতে চেয়েছেন আর সেটা অবশ্যই দ্বীন ইসলামের উৎসাহব্যঞ্জক। যদিও বইটা তার নিজস্ব সৌন্দর্য্যে পাঠকের মন কেড়ে নিতে সক্ষমতা রাখে তারপরও এটা আমার কাছে আরো বেশি বিশেষ মনে হয়েছে এটার সামাজিক প্রেক্ষাপট মুসলিম ধর্মীয় সংস্কৃতির আলোকে লেখা বলে। তিনি এখানে ধর্মীয় সৌন্দর্য যেমন দেখিয়েছেন তেমন ধর্মীয় গোঁড়ামিও দেখিয়েছেন। এই বইয়ের লেখিকা সম্ভবত কুরআনে পারদর্শী, তিনি এত সুন্দর করে কুরআনের কিছু আয়াতের বর্ণনা বা কুরআনের ধাঁধা সম্পর্কে লিখেছেন মুগ্ধ হওয়ার মত। এভাবে আসলে এর আগে ভাবিনি। এই মুগ্ধতার গল্প যদি লিখতে বসি তাহলে বিশাল একটা প্যারা লিখে ফেলতে পারব। এই বই পড়ে অনেক কিছু শিখেছি, নিজেকে নিয়ে ভেবেছি। অশ্লীলতার এই যুগে; একটা বই যদি এরকম শিক্ষা, একটা গল্পের মাধ্যমে দেয় তবে এর থেকে ভালো আর কী হতে পারে। বইটার প্রত্যেকটা লাইনে লেখিকা ইসলাম বা মুসলিম ধ্যান-ধারনা পোষণ করেছেন। পুরো গল্পে একজন প্রকৃত মুসলিমের ধ্যান-ধারনা বা করণীয় কাজ, দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কে বিভিন্ন চরিত্রের মাধ্যমে বা তাদের সংলাপ দ্বারা বুঝিয়েছেন। একটা গল্পের বই যদি জীবনকে নিয়ে ভাবতে ও সঠিক পথ চিনতে সাহায্য করে তবে শুধু কম বয়সী পাঠকই নয় সকল বয়সের পাঠকদের জন্যই এই উপন্যাস। কি নেই এতে! চমৎকার স্টোরি লাইন যে একবার গল্পটা শুরু করবে গল্পের মধ্যে একেবারে আটকে যাবে, গল্পই তাকে টেনে নিয়ে যাবে সামনের দিকে। আমার তো গল্প শুরু করার পর খাওয়া আর ঘুমেরও ঠিক ছিল না, এমন এমন এক একটা মোড় এসেছে গল্পে যে, অজান্তেই দোয়া করা শুরু করেছি, 'আল্লাহ এমন যেন না হয়!' 'আল্লাহ এখন কি হবে?' অনেক সুন্দর একটা গল্প, সুন্দর এর কাহিনি বিন্যাস। লেখিকার লেখার ধরন এত সুন্দর যে এতবড় বইটা পড়ার সময় পাঠক কোথাও ধৈর্য্য হারাবেন না! শিল্পী যেমন তার শিল্পকর্ম রং তুলির আঁচড়ে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেন লেখিকাও তার লেখা প্রতিটা দৃশ্যকে নিখুঁত লেখনির মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন, পড়ার সময় মনে হয়েছে যেন প্রতিটা দৃশ্য মনের পর্দায় দৃশ্যায়িত হচ্ছে। 🔸পাকিস্তানের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের সুন্দরী কন্যা 'হায়া সুলেমান' আর হ্যান্ডসাম ম্যান 'জিহান সিকান্দার' এর গল্প। এই সুন্দরী কন্যা হায়া সুলেমান, যে কিনা হায়ার স্টাডির উছিলায় তার বাল্যকালের বিবাহিত স্বামীকে খুঁজতে অপরিচিত দেশে চলে যায়, সেখান থেকেই শুরু হয় তার জীবনের গল্প। আর শুরু হয় এই গল্পের প্রতিটা মোড়ে মোড়ে এক একটা নতুন টুইষ্ট। এত এত টুইষ্ট যে পাঠক টুইষ্টের মধ্যে হারিয়ে যাবে আর হায়া সুলেমানের মত গল্পের একটা অংশ শুধু ধাঁধার উত্তর খুঁজতেই পার হয়ে যাবে। এছাড়াও রয়েছে অসাধারণ ব্যাক্তিত্বের অধিকারী জিহান সিকান্দার এর গল্প। এটা এমন একটা চরিত্র যার ব্যাক্তিত্বের কাছে আমার অন্য চরিত্রগুলোকে ফিকে মনে হয়েছে। এই জিহান সিকান্দার যেন নিজেই একটা ধাঁধা। এই ধাঁধাময় জিহাদ সিকান্দারকে পড়তে দারুণ এক্সাইটমেন্ট অনুভব করেছি। এই এক্সাইটমেন্ট কখনো কখনো কী নিদারুণ উদ্বিগ্নতায় বদলে গেছে বুঝতেও পারিনি! এই গল্পে যখন 'স্টোরি সুয়াপড' হলো আর হায়া সুলেমান ধাঁধা সমাধান করে ফেলল তখন সত্যি বলতে এমন একটা ঝটকা খেয়েছি যে কিছুক্ষণ থম মেরে ছিলাম, এরপরেই শুরু হয় গল্পে কাহিনির অদলবদল সেই সাথে ধাঁধার উল্টো প্যাচ খোলা, এই প্যাচ খুলতে খুলতেই গল্প টেনে নিয়ে যায় তার শেষ সীমানায়। গল্প শেষে মনে হলো চড়াই-উতরাই পথ পরিভ্রমণ শেষে গন্তব্যে পৌঁছে নির্মল আনন্দ উপভোগ করার মত অনুভব পেলাম, যদিও পথটা কিন্তু সহজ ছিল না! 🔸আমার বাড়ি উত্তর বঙ্গের শেষ সীমানায় হওয়ায় ছোটবেলা থেকে ভারতীয় চ্যানেল দেখে দেখে বাংলার পাশাপাশি হিন্দিও ভালো বুঝতাম। এছাড়াও যে পাড়ায় বসবাস করতাম সেখানে প্রচুর পরিমাণ বিহারীদের বসবাস ছিল ওদের বাচ্চাদের সাথেই খেলাধুলা করে বড় হয়েছি, এই বিহারী কিছু পরিবারের সাথে আমাদের পারিবারিকভাবেও খুব ভালো মিল ছিল, এরা আবার উর্দুতে কথা বলত তাই হিন্দি ও উর্দু ভাষা মোটামুটি ভালোই বুঝতাম, সেই সময়ই উপলব্ধি করেছি হিন্দির থেকে উর্দু ভাষাগতভাবেই অনেক কঠিন। লেখিকা আফিফা পারভীন আপু সেই কঠিন খটোমটো ভাষায় লিখিত একটা বই এত সাবলীলতার সাথে সহজভাবে অনুবাদ করেছেন। বইটা পড়েছি আর অবাক হয়েছি। উর্দু ভাষার লিখিত রুপের এত সাবলীল বর্ণনা! এটা তো আসলেই অনেক কঠিন একটা কাজ! আর এই কঠিন কাজটা তিনি দক্ষতার সাথে করেছেন। যেটা সত্যিই প্রশংসনীয়। আফিফা আপু নিজেই একজন ভালো রাইটার তার মৌলিক প্রত্যেকটা বই আমি পড়েছি তার বইগুলো একটার থেকে অন্যটা সুন্দর। ওনার লেখনি মাশাআল্লাহ অনেক ভালো। ওনার লেখনির একটা আলাদা সৌন্দর্য আছে, অনেক রাইটারের বই আমি পড়ি কিন্তু ওনার পরিশীলিত সাবলীল বর্ণনা সবসময় আমাকে মুগ্ধ করে। জান্নাত কে পাত্তে উপন্যাসে আপু তার সেই সাবলীলতা বজায় রাখতে চেষ্টা করেছেন। লেখিকার কাছে অনুরোধ থাকবে তিনি যেন তার এই চেষ্টা অব্যাহত রাখেন এবং আমাদের আরো কিছু সুন্দর উপন্যাসের অনুবাদ পড়ার সুযোগ করে দেন। 🔶 চরিত্র কথনঃ উপন্যাসটা বড় পরিসরের হওয়ার দরুন অনেক চরিত্র নিয়ে লেখা। বেশিরভাগ চরিত্র ভালো মন্দ মিলিয়ে সাধারন মানুষ হিসাবেই উপস্থাপিত হয়েছে তারপরও এদের মধ্যে কিছু চরিত্র যারা ভালো লাগায় মনে দাগ কেটে গেছে। এই চরিত্রগুলো কেন ভালো লেগেছে বা তাদের চরিত্রের শিক্ষনীয় বা বর্জনীয় দিক কী, তার সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলোঃ ✴️হায়া সুলেমানঃ এক সুন্দরী তরুণী যে আধুনিক জীবন যাপন করে অভ্যস্ত। নিজেকে সবার সামনে যতটা সম্ভব সুন্দরী হিসেবে উপস্থাপন করতে পছন্দ করা হায়া সুলেমান অন্তরে বা মননে একজন মুসলিম নারী সেটা সে প্রমান করেছে। তাইতো সময়ের আর্বতে সে তার অধুনা আধুনিকতা থেকে বেরিয়ে এসে উপন্যাসে একটা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তার এই আর্বতনকেই লেখিকা রুপক হিসেবে ব্যবহার করে উপন্যাসটা ফুটিয়ে তুলেছেন। এছাড়াও সে ভীষণ সাহসী, বুদ্ধিমতি ও বিচক্ষণ একজন নারী। উপন্যাসে এই নারীর কিছু কাজে কখনো হেঁসেছি, কখনো বিষন্ন হয়েছি, কখনো তার কষ্টে ছটফট করেছি আবার কখনো তার বিচক্ষণতায় বিস্মিত হয়েছি। এই চরিত্রটা শেষ পর্যন্ত তার সিদ্ধান্তে অটল থেকে বুঝিয়েছে মুসলিম নারী চাইলেই শরিয়তের বিধান মেনে সামনে এগিয়ে যেতে পারে সেটা যত প্রতিকুল পরিবেশ হোক না কেন। তার একটা কথা খুব ভালো লেগেছে, "মানুষ নারাজ হোক কিন্তু আল্লাহকে নারাজ করা যাবে না" কী সুন্দর অনুভব! এই অনুভবগুলোই নিজের মধ্যে ধারন করার চেষ্টায় আছি এগুলোই তার শিক্ষনীয় দিক আর হুটহাট রেগে পরিস্থিতি বিবেচনা না করে ত্বরিত ভুল পদক্ষেপ নেওয়া এবং কারো উপরে রেগে গেলেই তাকে জাহান্নামে পাঠিয়ে দেয়া তার চরিত্রের বর্জনীয় দিক। যদিও পরবর্তীতে সে নিজেই এগুলো বর্জন করেছিল। ✴️জিহান সিকান্দারঃ দ্যা মিসট্রি ম্যান। এই উপন্যাসে জিহান সিকান্দার আমার সবচেয়ে পছন্দের চরিত্র। তাকে যত পড়েছি তত ভালো লেগেছে। ভালো লেগেছে তার গাম্ভীর্য, বিচক্ষণতা, ধৈর্য্য, সহনশীলতা, কর্তব্যপরায়ণতা, সর্বপরি কর্মদক্ষতা। তার পারিবারিক শিক্ষা তাকে যেমন আয়রন ম্যান বানিয়েছে তেমন বানিয়েছে সুশীল ও ধর্মীয় অনুভূতি সম্পূর্ণ প্রগাঢ় ব্যাক্তিত্বের অধিকারি একজন সুসন্তান ও একজন আর্দশ মানুষ। তবে প্রথম প্রথম তার ভাব গাম্ভীর্যতায় একটু রাগ লাগলেও পরে এটার জন্যই তাকে বিশেষ ও ব্যাতিক্রম মনে হয়েছে। তার সম্পর্কে তার স্ত্রীর মতামত হলো, "শুরুতে ও সবসময় চুপচাপ থাকে, পরেও তেমনই থাকে, শুধু শুরু আর পরের সময়টাতে মাঝেমধ্যে একটু স্বাভাবিক হয়ে ওঠে" কী চীজ এই জিহান সিকান্দার! আবার তার সম্পর্কে তার শশুরের মতামত হলো, "জিহান মানুষের মন ভাঙতে ওস্তাদ, আবার ভাঙা মন জোড়া লাগিয়ে জিতে নেওয়াতেও ভীষণ দক্ষ" এই উক্তিও তার চরিত্রের একটা বিশেষ দিক বোঝায়। প্রথম দিকে তাকে যেমন দেখায় সে আসলে তেমন নয়, তার প্রত্যেকটা কাজে লজিক থাকে তাই তাকে বুঝতে হলে তার অবস্থানে যেয়েই তাকে বুঝতে হবে, এটাই সে মনে করে। তার চরিত্রের সবচেয়ে আর্কষনীয় ও শিক্ষনীয় দিক হলো ত্যাগের মনোভাব, অন্যের পাপের প্রায়শ্চিত্ত ও কর্তব্যের কারনে বেচারা নিজের জীবনটাই বাজী রেখে দিয়েছে। তার চরিত্রে শিক্ষনীয় অনেক দিক থাকলেও সে মাঝে মাঝে রুক্ষভাবে কথা বলে ফেলে যা সামনের ব্যাক্তিকে কষ্ট দিয়ে ফেলে, যদিও পরে ক্ষমা চেয়ে নেয়। তার মধ্যে আবেগ কম, সে সব সময় পেশাদারিত্ব নীতি মেনে চলে এর ফলে তার কাছের মানুষরা কষ্ট পেলেও সে এখানে কোন আপস করে না। তার চরিত্রে অল্প কিছু রুক্ষতা ও নিরাবেগতা ছাড়া আর কোন বর্জনীয় দিক পাইনি। ✴️আইশে গুল ও বাহারে গুলঃ ভালো মেয়ে 'আইশে গুল' এই মেয়েটা এই উপন্যাসের একটা আলোকিত স্বত্বা, সে তার প্রতিটা কথায় ও কাজে একটা ভালো মেয়ের ছাপ রেখেছে আর আলো হয়ে পথ দেখিয়েছে। আইশে গুলের ছোট্ট দুষ্ট, মিষ্টি বোন 'বাহারে গুল'। এই দুইবোন এই উপন্যাসের সৌন্দর্য্য। হায়া সুলেমান এর জীবনে এই দুই বোন আলোর দিশা হয়ে এসেছিল। ভালো মেয়ে আইশে গুল, সারাক্ষণ ভালো মেয়েরা এটা করে না, ভালো মেয়েরা ওটা করে না, ভালো মেয়েরা কিভাবে চলে, সে তার বোন বাহারে গুলকে কুরআন ও হাদিসের আলোকে শিখাতে থাকত। এই মেয়ের প্রতিটা কথাই শিক্ষনীয়। আর কিউটের ডিব্বা বাহারে গুল ওকে পড়তে সবচেয়ে বেশি মজা পেয়েছি, এই মিষ্টি বাচ্চাটাকে পড়ার সময় ওর এক একটা কান্ডে মুখে একটা মিষ্টি হাসি চলেই আসত। এই সাড়ে আট বছরের কিউটের ডিব্বা স্বপ্ন দেখে আর মাত্র সাড়ে পাঁচ বছর পর সে ত্রিশ বছর বয়সী আবদুর রেহমান পাশা কে বিয়ে করবে, বেচারি! এই বাচ্চাটা এত চেষ্টা করত, মিথ্যা বলবে না, গোপনীয়তা রক্ষা করবে, কিন্তু তারপরও বলেই ফেলত! পুরা দুনিয়াদারি গোলাপি পার্সে ঢুকিয়ে রাখা দুষ্ট মিষ্টি বাহারে গুল ও ভালো মেয়ে আইশে গুল দুজনই অনেক পছন্দের চরিত্র। ✴️সাবিন ফুপুঃ হায়া সুলেমান এর ফুপু প্লাস শাশুড়ী। এই উপন্যাসের এই চরিত্রটা বাঁধাই করে রাখার মত একটা চরিত্র। এই মহিলাকে যত পড়েছি তত মুগ্ধ হয়েছি। তার চরিত্রে এত এত ধৈর্য্যশীলতা ও সহিষ্ণুতা দেখানো হয়েছে যে তাকে প্রকৃত অর্থেই একজন উত্তম নারীর উদাহরণ বলা যেতে পারে। এত অধিক পরিমাণে দুঃখ কষ্টে থাকার পরও কখনো কাউকে নিজের দুঃখের কথা জানিয়ে সহানুভূতি নেওয়া চেষ্টা করেন নাই, একাই লড়ে গেছেন তার সমস্ত দুঃখ কষ্টের সাথে আবার এই শিক্ষা তিনি তার ছেলেকেও দিয়েছেন। যেখানে বর্তমানে মানুষ সহানুভূতি সিকার (আকর্ষক) হয়ে গেছে সেখানে এরকম চরিত্র তো একটা শিক্ষা। তিনি চাইলেই তার ভাইদের কথা মেনে নিয়ে নিজেকে ও তার ছেলেকে সুন্দর একটা জীবন দিতে পারতেন কিন্তু তিনি এটা না করে মানবিকতা দেখিয়েছেন আর দিয়েছেন একজন উত্তম স্ত্রী ও প্রকৃত মানুষ হওয়ার পরিচয়। এই সমস্ত নারীদেরকে নাকি আল্লাহ উত্তম সন্তান দিয়ে পুরস্কৃত করে, উপন্যাসেও সেটাই দেখানো হয়েছে। ✴️এহমাদ শাহঃ তিনি জিহান সিকান্দার এর দাদা। সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। একটা ইমারতের ভিত যত শক্ত হয় ইমারত তত শক্ত বা মজবুত হয় এই ব্যাক্তি জিহানকে মজবুত করে গড়ে তোলার পেছনের এক কারিগর বা জিহানের শক্ত চরিত্রের ভিত। তিনি জিহানকে বলতেন, "মানুষকে সম্মানের সাথে বাঁচতে হবে আর মরতে হবে মর্যাদা নিয়ে" তিনি ছিলেন জিহানের আর্দশ। এহমাদ শাহ চরিত্রে লেখিকা একজন আর্দশ মানুষের প্রতিফলন দেখিয়েছেন যা পছন্দনীয় চরিত্র হওয়ার জন্য যথেষ্ট। ✴️খাদিজা রানাঃ খাদিজা ওরফে ডিজে এই চরিত্রটা খুব সাধারনভাবে গল্পে প্রবেশ করে গল্পে অনেক বড় একটা ছাপ রেখেছে। প্রথমে তো বুঝতেই পারিনি এটা এত চমৎকার একটা চরিত্র হবে, পরে খুব ভালো লেগেছে আর ওর জন্য গল্পের একটা অংশে কান্নাও করতে হয়েছে। ওর একটা উক্তি এই উপন্যাসের ফেমাস উক্তি, "মানুষকে কোনো কিছুই হারাতে পারে না যতক্ষণ না সে নিজে হার মেনে নেয়" শেষে এসে এই উক্তি ওর বেলায় টিকেনি কারন "মাঝে মাঝে ভাগ্য মানুষকে হারিয়ে দেয়"-এটা ডিজেকে কেন্দ্র করে জিহানের উক্তি। 🔸উপরের চরিত্রগুলো ছাড়াও আবদুর রেহমান পাশা ও মেজর এহমাদ, এই দুটো রহস্যময় চরিত্র উপন্যাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এই চরিত্রদুটোও ভালো লেগেছে। 🔸সবশেষে বই প্রেমিদের বলব এই বইটা অবশ্যই সংগ্রহে রাখুন, নিজে পড়ুন অপরকে পড়তে দিন, যাকে পড়তে দিবেন সে আপনার রুচির প্রশংসা করবে। এই বইটা কিনে আমি ঠকিনি আপনারাও ঠকবেন না। মূল্য একটু বেশি হলেও এটা সংগ্রহে রাখার মত একটা বই, ভালো জিনিসের মূল্য একটু বেশিই হয়। হয়ত এটা আপনার জীবন বদলে দিতে পারে কিংবা আপনাকে আত্ন-অনুসন্ধানে সহায়তা করতে পারে।


বই: জান্নাত কে পাত্তে লেখিকা : নিমরাহ আহমেদ অনুবাদক: আফিফা পারভিন প্রচ্ছদ : ফাইজা ইসলাম প্রকাশনী : ছাপাখানা প্রকাশনী জান্নাত কে পাত্তে পড়ে শেষ করলাম।।পড়লাম জিহান সিকান্দারকে।। পড়লাম হায়া সুলেমানকে, যাকে কেন্দ্র করে উপন্যাসটি এবং তার জীবনের জার্নিটা তুলে ধরা হয়েছে উপন্যাসে কলমের নিঁখুত আঁচড়ে।।। লেখিকা নিমরাহ এহমাদ দারুণ লিখেছেন।। ইসলামকে খুব সুন্দর করে তুলে ধরেছেন।। কোরআনের আয়াত এবং হাদিসের আলোকে ইসলামের বিভিন্ন বিষয়কে এতো চমৎকার করে তুলে ধরেছেন যে পড়ার সময় এতটুকুও বিরক্তি আসেনি।।। বরং আগ্রহ নিয়ে পড়েছি এবং এবং জেনেছি।।। সহজ, সরল ভাষায় লেখা উপন্যাসটি জীবনের গভীর থেকে গভীরতম দর্শনকে তুলে ধরে অবলীলায় কোন রকম দ্বিধা বা সংশয় ছাড়াই।। লক্ষ্য স্থির করতে এবং রাখতে সাহায্য করে ।। পারিবারিক সম্পর্ক এবং সম্পর্কের প্রতিটি ধাপ তুলে ধরেছেন দারুণ ভাবে।। খোলসের আবরনে ঢাকা পড়ে থাকা সম্পর্কগুলো খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসে পরিস্থিতি এবং পরিবেশ ভেদে।।ব্যক্তিগত অথবা পারিপার্শ্বিক কারণে সম্পর্কের মাঝে যে দুরত্ব, টানাপোড়েন বিভেদ তৈরি হয়, সেই সময়টায় নিজেকে স্থির করে ধরে রাখে সময় দিতে হয় সম্পর্কগুলোকে।। কিছু সম্পর্ক রয়ে যায় আজীবন আর কোনটা ভেঙে যায় তাসের ঘরের মতো।। সেখানে ভালোবাসা, বিশ্বাস, মায়া হলো মরিচীকার মতো।। আমাদের সকল অভিযোগ এক আল্লাহর কাছেই। মৃত্যু চিরন্তন সত্য।। অনিশ্চিত জীবনে আগামীকাল বলতে কিছু নেই। জীবন খুবই ছোট। ছোট এই জীবনে সব কিছু আমাদের পরিকল্পনা মাফিক হবে না।। হবে ঠিক সেটাই যেটা আল্লাহ তায়ালা আমাদের জন্য পরিকল্পনা করে রেখেছেন।।আমরা ইসলামকে যখন সত্যিকারার্থে ধারণ করবো হয়তো প্রথম বাঁধা নিজের পরিবার থেকেই আসবে।।।তখনও আঁকড়ে ধরে থাকতে হবে জান্নাত কে পাত্তে।।বইয়ের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রহস্যে মোড়া।। যত সময় যায় ততই রহস্য গভীর হয়।। একটা সময় পর সকল রহস্যের উন্মোচনে বইটা পড়তে মনোমুগ্ধকর হয়ে ওঠে।। এই রহস্যে মোড়ানো ঘটনা প্রবাহের মাঝে কোরআনের আয়াত এবং তার বিশ্লেষণ দারুণভাবে মনোযোগ কেড়েছে।। আসলেই এভাবে তো আমরা জীবনকে উপলব্ধি করি না।। প্রতিটি ঘটনা যেন এক একটা দর্পণ যা নিজেকেই দেখায় নিজের সামনে।। ।উপন্যাসের সাথে সাথে পুরো শহর ঘুরেছি।।। দারুণ বর্ণনা বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানের, যেন তুরস্ক কে চোখের সামনে দেখছি।। কাপ্পাডোকিয়ার এয়ার বেলুনের মতো কল্পনার ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম সবগুলো জায়গায়।। আফিফা পারভিন আপুর লেখা সবসময়ই ভালো লাগে। অনেক সুন্দর করে নিজের ভাষায় অনুবাদ করেছেন যে পড়ার সময় মনেই হয় নি যে কোন অনুবাদ বই পড়ছি।। সরল বাংলায় নিজের মতো করে অনুবাদ করেছেন।। পড়তে এবং বুঝতে একটুও সমস্যা হয় নি।।।বরং গভীর আগ্রহে বইয়ের মধ্যে ডুবে গেছি।। প্রতিটি অংশই যেন চোখের সামনে দেখছি এমনটাই মনে হয়েছে।। বড়ো উপন্যাস হওয়ায় চরিত্রের আধিক্য আছে।। সবগুলো চরিত্রই নিজ জায়গায় অনন্য।। আমাকে কেউযদি জিজ্ঞেস করে যে উপন্যাসের প্রিয় চরিত্র কে তবে আমি হায়া সুলেমানের নামটাই আগে নেবো।। এজন্য না যে সে কেন্দ্রীয় চরিত্র।। বরং তার ধৈর্য্য, বুদ্ধিমত্তা, আত্মসম্মান, আত্মসংযম, কঠিন আত্মশুদ্ধি তাকে রূপের পাশাপাশি গুণেও সমৃদ্ধ করেছে।।।হায়া আমার প্রিয় চরিত্র।।পাশ্চাত্যের চাকচিক্য, মোহমায়া আমাদের চোখে ধুলো দিয়ে রেখেছে। হায়া সেই পরিবেশ থেকে নিজেকে আবৃত করেছে একটা শক্ত খোলসে যেমন করে ঝিনুক তার কঠিন খোলসের ভেতর মূল্যবান মুক্তা লুকিয়ে রাখে।। বিনিময়ে অনেক কটুবাক্য, তাচ্ছিল্য, একাকিত্ব উপহার পেয়েছে।। দুনিয়ার সকল মোহ মায়াকে একপাশে ফেলে কঠিন আত্মশুদ্ধি করে নিজেকে আল্লাহর কাছে সমর্পণ করেছে দৃঢ়তার সাথে।। পরিচিতির গন্ডি থেকে অপরিচিতদের মধ্যে নিজেকে নিয়ে আসার সংগ্রাম করে, নিজেকে সম্পূর্ণ পরিবর্তন করে শুধু আল্লাহর জন্য উৎসর্গ করেছে।।এটা অনেক ধৈর্য্যের অনেক লম্বা একটা সফর যে সফরে সে সফল হয়েছে।।। আল্লাহ তাকে সফল করেছে।।। হায়ার থেকে শিখার যেমন আছে তেমনই বর্জনীয়ও আছে।। তার ধৈর্য্য এবং বুদ্ধিমত্তা এবং আল্লাহর জন্য নিজেকে উৎসর্গ করার জন্য মানসিক শক্তি এবং সাহস দুটোই শিক্ষণীয়।। পরিবার পরিজন বন্ধুবান্ধব কাউকে পাশে না পেয়ে সকলের কটুক্তি উপেক্ষা করে সম্পুর্ণ একা নিজেকে ভেঙে আবার শক্ত করে গড়ে তোলার বিষয়টা আমি গ্রহণ করবো।। আর যেকোনো পরিস্থিতিতে চিন্তা ভাবনা না করে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে হুটহাট সিদ্ধান্ত নেওয়াটা সবসময়ই মঙ্গলজনক না।। অপরদিকের মানুষটাকে বলার সুযোগ দিয়ে তারপর পরিস্থিতি বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিতে হয়।। হায়ার চরিত্রের এইদিকটা আমি বর্জন করবো।। ইগো এবং আত্মসম্মানবোধ দুটো দুরকম।। সম্পর্কে ইগো রাখতে নেই, ইগো রাখলে দুরত্ব তৈরি হয়।।।। হায়ার চরিত্রের এই দিকটাও আমি বর্জন করবো।। বইটা পড়ার পর আমি অনেক কিছুই বুঝেছি এবং শিখেছি।।। আত্মপোলদ্ধির জায়গা থেকে আমি বুঝেছি পর্দার গুরুত্ব, প্রতিটি সম্পর্ককে নিজ নিজ জায়গায় সম্মান করা।। হিংসা বিদ্বেষ মূলক মনোভাব থেকে বেরিয়ে এসে আল্লাহকে ভালোবেসে জীবনকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।। জীবনের কঠিন মুহূর্তগুলোতে ধৈর্যের সাথে নিজেকে ধরে রাখা।।। মানসিক টানাপোড়েনের যারা ভুক্তভোগী তাদের জন্য অনুপ্রেরণামূলক একটা বই হতে পারে জান্নাত কে পাত্তে।। জান্নাতের পাতাকে আঁকড়ে ধরতে শিখতে হবে নাহলে আল্লাহর কাছে জবাব দেওয়ার মতো কিছু থাকবে না।।আত্মশুদ্ধি এবং আত্মোপলব্ধির জন্য চমৎকার একটা বই জান্নাত কে পাত্তে।।। সবারই বইটা পড়া উচিত।। আজ বইটা শেষ করার পর মনে হচ্ছে আরেকটু যদি পড়তে পারতাম মামুর ভাগ্নে আর হায়া সুলেমানকে।।।গল্পের প্রতিটি চরিত্র এতোটা জীবন্ত যেন আমাদের আশেপাশেই ঘটছে ঘটনাগুলো।। প্রতিটি চরিত্রই সমুজ্জ্বল নিজ নিজ জায়গায়।। এডভেঞ্চার, থ্রিলার,রহস্যে ভরপুর, ইসলামিক, পারিবারিক মোটকথা সবকিছুর সংমিশ্রণে দারুণ একটা বই।।।
প্রশ্ন ও উত্তর (Q/A)
কত পৃষ্ঠার বই এটা??
প্রিয় গ্রাহক, বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা ৭৮৩। ধন্যবাদ।
কত পৃষ্ঠার বই এটা??
প্রিয় গ্রাহক, বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা ৭৮৩। ধন্যবাদ।























