

Buy প্রজাপতি Online in Bangladesh
লেখক: সমরেশ বসু (ছদ্মনাম- কালকূট, ভ্রমর)
- Author: সমরেশ বসু (ছদ্মনাম- কালকূট, ভ্রমর)
- Publisher: আনন্দ পাবলিশার্স (ভারত)
- Isbn: 9788170664697
- Number Of Pages: 188
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Edition, 1985
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
"প্রজাপতি" বইটির ফ্ল্যাপ-এর লেখাঃ “উনিশ শাে পঁচাশি সালের চব্বিশে সেপ্টেম্বর ৩ তারিখটি বাংলা তথা ভারতীয় সাহিত্যেরই একটি স্মরণীয় দিন। ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে ওইদিনই নির্ধারিত হল সাহিত্যে শ্লীলতা-অশ্লীলতার স্পষ্টতর সীমারেখা। আঠারাে বছর ধরে অশ্লীলতার দায়ে নিষিদ্ধ গ্রন্থ, সমরেশ বসুর 'প্রজাপতি’, পেল সসম্মান পুনর্বাসন। মুক্ত ‘প্রজাপতি' ভারতীয় সাহিত্যের ক্ষেত্রে তৈরি করল এক নতুন, অনন্য নজির। সত্যিই ঐতিহাসিক এই ঘটনা, সেইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের এই উদার, সংস্কারবর্জিত রায়ও অবিস্মরণীয়। দু-দুটি নিম্ন আদালতের রায়কে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে সুপ্রিম কোর্টের দুই মহামান্য বিচারপতি, শ্রীআর. এস পাঠক ও শ্রীঅমরেন্দ্রনাথ সেন, অশ্লীলতা সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণার নিরসন ঘটালেন। স্বচ্ছ, বাস্তবধর্মী দৃষ্টিভঙ্গির পরিচ্ছন্ন দৃষ্টান্ত রেখে তাঁরা তাঁদের রায়ে দেখালেন যে, কীভাবে পূর্ববর্তী আদালতের রায়ে ‘অমার্জিত’কে ‘অশ্লীল’-এর সঙ্গে এক করে ফেলা হয়েছে। তাঁদের সুচিন্তিত অভিমতে, ‘অমার্জিত (ভালগার) লেখা মাত্রেই যে ‘অশ্লীল’ (ওবসিন) হবে, একথা বলা যায় না।প্রজাপতির অংশবিশেষ হয়তাে কিছু পাঠকের কাছে অমার্জিত মনে হতে পারে, এর মধ্যে ব্যবহৃত অগতানুগতিক ও অশিষ্ট ভাষা (স্ল্যাং) একশ্রেণীর পাঠকরুচিকে আহত করতে পারে, অংশবিশেষের কিছু বর্ণনা কারও কারও কাছে মনে হতে পারে আপত্তিকর, কিন্তু তা সত্ত্বেও, সামগ্রিকভাবে, এ-গ্রন্থ'অশ্লীল নয়। পাঠকের নৈতিক চরিত্রকে কোনওভাবেই কলুষিত করবে না এবই বা এ-উপন্যাস পড়ে তাঁরা দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে উঠবেন না । প্রায় একই কথা বলেছিলেন কবি-সমালােচক বুদ্ধদেব বসুও। চিফ প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে চাঞ্চল্যকর ‘প্রজাপতি’-মামলায় অভিযুক্ত পক্ষের সাক্ষী হিসেবে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বুদ্ধদেব বসু এক প্রশ্নের উত্তরে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিলেন, দুর্নীতিপরায়ণ করে তােলার বদলে এ-বই পাঠকের মনে সহানুভূতির উদ্রেক করবে। প্রজাপতি’র ভাষা সম্পর্কে বলতে গিয়ে বুদ্ধদেব বসুর দৃঢ় মন্তব্য, এর ভাষা অশ্লীল নয়। তাঁর কথায়, “এই বইয়ের নায়ক বা অ-নায়ক সমসাময়িক পশ্চিমবঙ্গের রকবাজ ছেলেদের টাইপ। এরা আমাদের সকলেরই পরিচিত। এই যুবকেরা সাধারণত যেসব ভাষায় কথা বলে, সেই ভাষাতেই এই উপন্যাস লেখা। এই বইতে এত বেশি স্ল্যাং’ ব্যবহারের এটাই যৌক্তিকতা। এই স্টাইল জীবন্ত এবং জীবনের অবিকল প্রতিচ্ছবি। এখানেই এ-উপন্যাসের সাফল্য।” বুদ্ধদেব বসু আরও বলেছিলেন, “হয়তাে এ-ভাষা সাহিত্যে বেশি ব্যবহৃত হয়নি। কিন্তু এ-ভাষা এখন ব্যাপকভাবে চালু। লেখক এই ভাষা ব্যবহার করে সাহিত্যের শ্রীবৃদ্ধিই ঘটিয়েছেন।” প্রায় একই কথা বলেছিলেন এ-মামলার অন্যতম সাক্ষী কবি-অধ্যাপক ডঃ নরেশ গুহও| তাঁরও দৃঢ় অভিমত, প্রজাপতি কোনওভাবেই পাঠকের নৈতিক চরিত্র কলুষিত করবে না। প্রজাপতি অশ্লীল নয়। না সামগ্রিকভাবে, না অংশত। কিন্তু মাননীয় চিফ প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট সম্পূর্ণ ভিন্নমত পােষণ করেছিলেন। তাঁর মনে হয়েছিল, ‘প্রজাপতি’ সাহিত্যগুণবর্জিত এক রচনা। এর কোনও শিক্ষাগত বা সামাজিক মূল্য নেই। সমাজের কল্যাণসাধনের অছিলায় বৃহত্তর ক্ষতিই করেছে প্রজাপতি। তাই তাঁর বিচারে, ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৯২ ধারায়, লেখক দোষী সাব্যস্ত হন। ২৯২/১০৯ ধারায় দোষী সাব্যস্ত হন প্রকাশক। লেখক ও প্রকাশক-প্রত্যেকের ২০১ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে দু-মাসের বিনাশ্রম কারাবাস, শাস্তি হিসেবে ধার্য হয়। সেইসঙ্গে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫২১ ধারায় শারদীয় ‘দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত ‘প্রজাপতি’ উপন্যাস থেকে মােট ৫৩ পৃষ্ঠা বর্জনের আদেশও দেন বিচারক। এই আদেশের বিরুদ্ধে অভিযােগকারী ও আসামী, উভয়পক্ষই দ্বারস্থ হন মহামান্য হাইকোর্টের। অভিযােগকারীর দাবি ছিল, কঠোরতর শাস্তিপ্রদান। নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ছিল আসামীপক্ষের আপিল । হাইকোর্টেও পুরােপুরি বজায় রইল নিম্ন আদালতের রায়। সেইসঙ্গে নির্দেশ দেওয়া হল, শারদীয় ‘দেশ’ পত্রিকা ও গ্রন্থাকারে প্রকাশিত প্রজাপতি বাজেয়াপ্ত করে আপত্তিকর পৃষ্ঠাগুলি বর্জিত করা হােক। প্রকাশক ও লেখক মহামান্য হাইকোর্টের এই রায় মেনে নিতে পারেননি। এরপর তাঁরা গেলেন সুপ্রিম কোর্টে। সুপ্রিম কোর্টের চুড়ান্ত রায়ে ‘প্রজাপতি’ আজ সেই উপলক্ষেই মুক্ত প্রজাপতি’র এই নতুন সংস্করণ। মূল গ্রন্থের অবিকল পুনর্মুদ্রণ ছাড়াও এই সংস্করণে যুক্ত হয়েছে লেখক সমরেশ বসুর নতুন ভূমিকা, আদালতের সাক্ষ্য ও সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পূর্ণ বয়ানের বাংলা অনুবাদ। সাড়াজাগানাে, বিতর্কিত গ্রন্থকে ঘিরে যাবতীয় কৌতূহলের অবসান ঘটাবে এই নতুন সংস্করণ।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
কি এমন আছে, যার জন্য এত বছর নিষিদ্ধ ছিলো এই বই! কথায় আছেনা, নিষিদ্ধ সবকিছুর প্রতি অন্যরকম টান থাকে, সেই তাগিদ থেকেই বইটা পড়া শুরু করি। ১৮+ অবশ্যই। আমার কাছে ভালগার মনে হয়নি। তথাকথিত ভালোমানুষদের ভালোর মুখোশের আড়ালে যে একটি ঘৃণ্য সত্তা আছে, তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং গল্পের নায়ক সুখেনের যৌনচিন্তা, বাস্তবকে অনেকাংশে তুলে ধরে বলেই মনে হয় হিপোক্রিট বাঙালির গায়ে লেগেছিল। "আমি এই সালার(প্রজাপতি) মত এত ফরফর করছি কেন? আমার শিরদাঁড়া বেয়ে ঠাণ্ডা কিছু নেমে যাচ্ছে কেন? আমি কি নিরাপদ হইতে পারতাম না?" - পড়ে মাথায় এলো, কেমন হতো কোনো দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী-গুণ্ডা-মাস্তান নিজের গল্প বলতো, যে হয়তো উপায় না পেয়ে সন্ত্রাসী হবার পথ বেছে নিয়েছে। হয়তো সে নিজের বউ বাচ্চা নিয়ে একটা সুন্দর জীবন কাটাতে চেয়েছে। সন্ত্রাসী সত্ত্বার বাইরেও গল্পের মূল চরিত্র সুখেনের অন্য আরেক সত্ত্বার সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে চেয়েছেন লেখক। দেখিয়েছেন তার প্রেমের প্রকাশের উত্তরণের পথ। ঘুণে ধরা,নোংরা, বিচ্ছিরি এই সমাজ। এই সমাজের আর্জি মেনে চলা লোকগুলো আরো বেশি নোংরামি বহন করে।


প্রজাপতি বইটি প্রাপ্তবয়ষ্কদের জন্য লেখা সমরেশ বসুর বইগুলোর একটি।গল্পের নায়ক সুখেনকে নিয়ে এই বইয়ের কাহানী। এতে তুলে আনা হয়েছে সুখেনের গোটা জীবন। গল্পের শুরুটা হয় একটা প্রজাপতি ধরার কাহিনী দিয়ে। ধরতে গিয়ে ভেসে উঠেছে জিনা নামের একটা মেয়ের কথা। এর সঙ্গে জড়িয়ে আমরা জানি শিখার কথা। শিখাকে সুখেন বিয়ে করে ঘর বাঁধতে চেয়েছিল। সে হতে চেয়েছিল শিক্ষক। দুর্নীতিপরায়ণ বাবা, বেল্লেলাপনার হাতে নিজেকে ছেড়ে দেয়া মা, বড় দুই ভাইয়ের রাজনীতি ও স্বার্থসিদ্ধিসহ নানা পাঁকচক্রে পড়ে সুখেনের আর কিছু করা হয় না। মাস্তানি হয়ে ওঠে সময় কাটানোর ও বেঁচে থাকার উপায়। কায়েমি স্বার্থবাদী লোকজন, সমাজের তথাকথিত অভিজাতেরা তাকে ব্যবহার করে। সেও সুযোগ নেয় ভোগ-বিলাসের। এবং একটি দুর্ঘটনা দিয়ে ইতি টানা হয় এ কাহিনীর। নারীদেহের বর্ণনা কিছু থাকলেও নারী-পুরুষের তুমুল কোনো সঙ্গম দৃশ্যের বর্ণনা পর্যন্ত এতে নেই। যেটুকু আছে তা আভাসে ইঙ্গিতেই আছে। এ উপন্যাসে ব্যবহৃত শব্দাবলী তুলে আনা হয়েছে কলকাতার রকবাজদের সেই সময়ের প্রচলিত কথাবার্তা থেকে।বইটি অশ্লীলতার কারণে অনেকবার নিষিদ্ধ হয়েছিল সেই সময়,কিন্তু অামার কাছে তেমন কোন অশ্লীলতা বইয়ে চোখে পড়ে নি। তাই প্রাপ্তবয়স্ক যে কেউ এই বইটি পড়ে দেখতে পারেন।
সুখেনের আসল নাম সুখেন্দু। তার বাবা বড় সরকারী চাকরি করত। অতঃপর তার দুই দাদা দুই রাজনৈতিক দলের নেতায় পরিণত হয় আর সুখেন হয় গুণ্ডা। পাড়ার মক্ষীরানি শিখাকে ভালবাসে সুখেন। সেই শিখার কাছে আবার তার দাদাদেরও যাতায়াত। তো এই সুখেনের জবানীতেও আমরা পুরো গল্পটা শুনি। একটা মানুষের গুণ্ডা হয়ে ওঠার গল্প, তার চোখে সমাজের নিচুতার নগ্ন রূপ ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক। আর দেখিয়েছেন যে এই গুণ্ডারা আসলে কারও নয়। একসময় স্বার্থসিদ্ধি হয়ে গেলে তাদের ‘মায়ের ভোগে’ পাঠানো হয়। বইটা অশ্লীলতার অভিযোগে নিষিদ্ধ ছিল। আঠারো বছর পর কোর্টের রায়ে মুক্তি পায়। কিন্তু আজকের দিনের হিসেবে এ বইয়ের কোনকিছুই অশ্লীল লাগে না। বরং সত্যের এক নির্মম সহজ কথন।























