

Buy পরদেশিয়া Online in Bangladesh
লেখক: বুদ্ধদেব গুহ
- Author: বুদ্ধদেব গুহ
- Publisher: দে’জ পাবলিশিং (ভারত)
- Isbn: 9788129512840
- Number Of Pages: 117
- Language: বাংলা
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
অসাধারণ একটি বই সবাই পড়ে দেখবেন। এখনকার পরিবেশ, প্রকৃতি কে এখানে খুব সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আভাস নামের একটা ছেলে আর অরাদেবি কে নিয়েই এই উপন্যাস টা মুলত। সবাই বইটা পড়বেন আর জানাবেন কেমন হলো,রকমারি থাকে কিনলে আরো ভালো হবে কেননা অনান্য যাগা থেকে এখানে মুল্য অনেক কম। ধন্যবাদ

বুদ্ধদেব গুহর ট্রেডমার্ক উপন্যাসগুলোর মতই এরও কাহিনি গড়ে উঠে অরণ্যকে কেন্দ্র করে।মাত্র ৬০ পৃষ্ঠার বই। ধূলো-বালির শহর কলকাতার মেয়ে অরাদেবী। মা-বাবা মরা মেয়ে অরা (Aura) থাকেন নিজের বড় ভাইয়ের পরিবারের সাথে। ত্রিশ বছর বয়সী অরা বিয়ে থা করেন নি। আভাস নামের একটি ছেলের কথা পাই। যার সাথে মন দেয়া-নেয়া হয়েছিল অরার। কিন্তু... অরা বেড়াতে যাচ্ছে তার বড় বোনের কাছে। মধ্যপ্রদেশের বিলাসপুরের কয়লা খনির বড় চাকুরে অরার দুলাভাই। অরণ্যঘেরা সেই বিলাসপুরেই এবার নিজের প্রিয় বোন স্মৃতির কাছে যাচ্ছে অরা। কয়েকটা দিন কিভাবে কলকাতার বাইরে কাটাবে অরা তাই ভাবতে ভাবতে সে ট্রেন সফর করছে। এই ফাঁকে লেখক পশ্চিমবঙ্গের বাঙালিদের দুর্দশা নিয়ে কিঞ্চিত সবক বাক্য দিলেন পাঠকের উদ্দেশ্যে। রূপবতী অরাকে ট্রেন স্টেশন থেকে নিতে এসেছে কয়লা খনির আরেক কর্মকর্তা। ঔপন্যাসিক এই লোকের নাম আগে বলেন নি। তার পুরুষসুলভ ব্যক্তিত্বের বর্ণনা দিয়েছেন। যাতে অরাদেবী প্রথমেই কাৎ। ঠিক যেন বাংলা ফিল্মটি চলছে গো! যিনি অরাদেবীকে নিয়ে এলেন তার নাম প্রাথমিকভাবে জানা গেল পরদেশিয়া। নারীমহল এবং কর্মক্ষেত্রে বিপুল জনপ্রিয় মি. পরদেশিয়া। এখানে মধ্যপ্রদেশের কয়লা খনি। এখানকার পরিবেশ, প্রকৃতি আর মানুষগুলোর কথা খুব সহজ-সরলভাবে লিখেছেন বুদ্ধদেব গুহ। এদিকে অরার সাথে সাক্ষাৎ হল বাসার গৃহকর্মী বনবাসার সাথে। সুন্দরী বনবাসাকে ফেলে চলে গেছে তার স্বামী পাগলু (দেব নয় কিন্তু)। বনবাসার ঘটনার জন্য বুদ্ধবাবু পুরুষজাতির ওপর কুপিত হলেন। এবং নিজের নারীবাদীতা দেখালেন। এই বনবাসার মনে আবার পরদেশিয়াকে নিয়ে অনেক আশা। তা ক্রমশ প্রকাশ্য। এদিকে, অরাদেবী এবং পরদেশিয়া সম্পর্ক জমতে শুরু করছে।বুদ্ধদেব গুহর কলমও অতিরোমান্টিক হবার ভান করছে ( বেশিরভাগ উপন্যাসে যা করেন আরকি) । পরদেশিয়া জিজ্ঞেস করে, " বুদ্ধদেব গুহর লেখা পড় কি তুমি? " মাত্র ৬০ পৃষ্ঠার একটা উপন্যাসে বুদ্ধদেব গুহ যতবার নিজের বইয়ের কথা, নিজের নামের উল্লেখ করেছেন তাতে বিস্মিত না হয়ে পারি নি। ভাবিই নি যে, ইমদাদুল হক মিলনের মত তিনিও রোগে আক্রান্ত। অরাদেবী আর অর্ণব তথা পরদেশিয়ার মাঝে দূরত্ব কমে আসতে থাকে। ভালোলাগা কাজ করতে থাকে। মুহূর্তরা মুহূর্তের কাছে ঋণী হয়ে তৈরি করতে থাকে মুগ্ধাতা। সেই মুগ্ধতা আবেশ কি এককেন্দ্রীক? শেষটা তুলনামূলক ভালো লেগেছে। যাইহোক , প্রকৃতির প্রতি ঔপন্যাসিকের অকৃত্রিম টানের বহিঃপ্রকাশ তাঁর কলমে বারবার উঠে এসেছে। মানবমন নিয়েও লেখকের পর্যবেক্ষণ মন্দ তো নয়ই। সে গদ্য রীতিমত দ্রুতপাঠ্য। তবে এককথায় যদি বলি, ছোট এই উপন্যাসটিতে পাঠকের জন্য এমন কিছুই নেই যেজন্য সে বইটি পড়বে। অতিমাত্রায় গতানুগতিক মালমসলায় রচিত বুদ্ধদেব গুহর আরো একটি কীর্তি (বলা যাবে কি?)। এ টুকুই বুদ্ধদেব গুহর সম্বল। তাঁর মত কাটতিওয়ালা বুঝদার লোক এমন নিজের ঢোল নিজে পেটান রোগে আক্রান্ত হওয়া ভাল লক্ষণ না। বুদ্ধদেব গুহ আপনি দ্রুত সুস্থ উঠুন!























