

Buy আমার যা আছে Online in Bangladesh
লেখক: প্রচেত গুপ্ত
- Author: প্রচেত গুপ্ত
- Publisher: দে’জ পাবলিশিং (ভারত)
- Isbn: 9788129526687
- Number Of Pages: 144
- Language: বাংলা
- Edition: 3rd Edition, 2016
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
বই এর প্রথম ফ্লাপ আধুনিক জীবনের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়ার এক আশ্চর্য উপন্যাস ‘আমার যা আছে'। নায়ক সাগর। বোহেমিয়ান, বেকার এই তরুণের পকেট শূন্য। তথাকথিত ভালভাবে বেঁচে থাকার জন্য যা যা থাকা দরকার কিছুই নেই তার। পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিলে দূরে পালায়। অথচ সে-ই বেঁচে আছে সবথেকে আনন্দে! কোন রহস্যে? এই উপন্যাস সেই রহস্যেরই সন্ধান করতে করতে এগিয়েছে। সাগরের চারপাশে ঘিরে রয়েছে অসংখ্য চরিত্র। তারা চেনা, কিন্তু অন্যরকম। বন্ধু, প্রেমিকা, ডাক্তার, বারবনিতা থেকে শুরু করে দরিদ্র অসুস্থ বই বাঁধাইঅলা, মন্ত্রী, চিড়িয়াখানার ব্যাঘ্র-রক্ষক —কে নেই? কলকাতার ঝাঁ চকচকে নগর জীবনের সঙ্গে রয়েছে শিমুলতলার পাখি-ডাকা কুয়োতলা আর রহস্যময় রেল লাইন ঘেরা একটা ছোট হলিডে হোম। সব কিছু দুহাতে বুকে টেনে এগিয়েছে নায়ক সাগর। নিজে ভাল থেকেছে, অন্যকে ভাল থাকতে শিখিয়েছে।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

পশ্চিমবঙ্গের সমসাময়িক লেখকদের মধ্যে প্রচেত গুপ্ত'র লেখা পছন্দ করি খুব। তার গদ্য ঝরঝরে। গল্প বলার ভঙ্গিও দারুণ। প্রচেতের বেশ কিছু গল্প পড়লেও উপন্যাস পড়লাম এই প্রথম। উপন্যাসের নাম- 'আমার যা আছে'। সর্বশেষ যখন কলকাতায় গিয়েছিলাম, অনেকগুলো বইয়ের সঙ্গে এটাও কিনেছিলাম। ব্যস্ততায় পড়া হয়ে ওঠেনি। অবশেষে এই ঈদের ছুটিতে পড়ার সুযোগ হলো। প্রচেতের গল্প-উপন্যাসের নামের মধ্যেই আকর্ষণীয় একটা ব্যাপার থাকে। নাম পড়েই বইয়ের প্রতি মোহ জন্মে যায়। এটাও তার একটা বড় গুন। এবার আসি 'আমার যা আছে' প্রসঙ্গে। বইটার গদ্য সহজ, সাবলীল, সুখপাঠ্য। কাহিনির কোথাও জটিলতা নেই কিন্তু আগাগোড়া টান আছে, মায়া আছে, হিউমারের কুশলী প্রয়োগ আছে। এমন বই পড়ার মজাই আলাদা। উপন্যাসের প্রধান চরিত্র সাগর। বোহেমিয়ান টাইপের। উদ্ভট কথা বলে মানুষকে ঘাবড়ে দেয়, চমকে দেয়। সবসময় একটা মিস্ট্রি তৈরি করে। ভবিষ্যতও বলে দেয় মাঝেমধ্যে। চারপাশের লোকদের জন্য কতকিছু করে, অথচ নিজের ব্যাপারে ঠিক উদাসীন। কী মিলে যাচ্ছে? ঠিকই ধরেছেন। হুমায়ূন আহমেদের 'হিমু'র সাথে প্রচেতের সাগরের মিল নব্বইভাগ। মোটা দাগে পার্থক্য হিমু হলুদ পাঞ্জাবি পরে, সাগর পাঞ্জাবি পরে না। হিমু খালি পায়ে হাঁটে, সাগরের পায়ে থাকে চটি। এছাড়া এ দুটো চরিত্রকে আলাদা করা সত্যিই বড় কঠিন। দুই বাংলার জাতিগত, ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক পার্থক্য বাদ দিলে সাগর আর হিমু যেন একই মানুষ হয়ে ওঠে! এটাই আমাকে চমকে দিয়েছে। কোথায় যেন পড়েছিলাম, হুমায়ূনের হিমু চরিত্রটিও সম্পূর্ণ মৌলিক সৃষ্টি নয়। কোনো একটা চরিত্র থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি হিমুকে বানিয়েছেন। তা হতেই পারে। কিন্তু হিমু পড়া থাকায় প্রচেতের সাগরকে ঠিক নিতে পারছি না। তার ওপর বইটা আবার পুরস্কারপ্রাপ্ত! পশ্চিমবঙ্গে প্রচেত খুবই জনপ্রিয় লেখক। তার পুরস্কারপ্রাপ্ত বইয়ের প্রতি পাঠকের তুমুল আগ্রহ থাকাটাই স্বাভাবিক। সে হিসেবে 'আমার যা আছে' (২০০৭ এ প্রথম প্রকাশিত, এরপর অনেকগুলো সংস্করণ বেরিয়েছে) ইতিমধ্যেই বহুলপঠিত। এবং এটাও ঠিক, যেসব পাঠক সাগর চরিত্রের মিস্ট্রিতে বিস্ময়ে বুঁদ হয়েছেন, তাদের বেশিরভাগেরই হুমায়ূনের হিমু পড়া নেই। যদিও হিমুর সৃষ্টি তারও বেশ আগে। যারা হিমু পড়েছেন, তারা 'আমার যা আছে' পড়তে পারেন। সাগরকে হিমু ভেবে ধাক্কা খাবেনই।

প্রচেত গুপ্তের সাগর এতবেশি অভাবনীয় এবং ঘাবড়ে দেয়ার মতো কর্মকান্ড করেন এই উপন্যাসে তাতে সবার আগে মনে আসে হুমায়ূন আহমেদের হিমুর কথা। সেই মিল আরো বেশি গাঢ় হয়ে ওঠে সাগরের 'অর্থহীন' দার্শনিক কথাবার্তা। সুনীলের নীললোহিত আর সুবোধ ঘোষের "শুন বরনারী"র হিমুকে গুলিয়ে প্রচেত গুপ্ত মহাশয় সৃষ্টি করেছেন সাগরকে - এই ধারণাকে প্রবল করার মালমশলা ঔপন্যাসিক ই যোগাড় করে দেন পাঠককে। বেকার যুবক সাগর মেয়েদের ভড়কে দেয়। সেই রমণীরা অবশ্যই হন রূপবতী। তারও একটি রূপা আছে, যার নাম রেবা। মন্ত্রীমশাইকে বোকা বানানোর কীর্তি আছে। হাসি আছে, কান্না আছে আর আছে অন্যসব ঔপন্যাসিক যেসব কালজয়ী চরিত্র ইতিমধ্যে সৃষ্টি করেছেন তার অবলম্বনে ১৪৪ পৃষ্ঠা সমৃদ্ধ একটি উপন্যাস। প্রচেত গুপ্ত সুন্দর লিখেন। মনে হচ্ছিল চাইলেই তিনি সাগর চরিত্রটিকে একেবারে নিজের করে তুলতে পারতেন। অথচ সেই ইচ্ছেটার অভাবই উপন্যাসটি ঠিক গড়ে উঠতে পারলো না। সবই যেন এর-ওর থেকে ধার করা। আপনাকে বড় রিক্ত মনে হচ্ছিল লেখককে - এই উপন্যাস পড়তে গিয়ে।























