

Buy কেয়াপাতার নৌকো Online in Bangladesh
লেখক: প্রফুল্ল রায়
- Author: প্রফুল্ল রায়
- Publisher: করুণা প্রকাশনী (ভারত)
- Isbn: 8184370482
- Number Of Pages: 623
- Language: বাংলা
- Edition: 14th Edition, 2020
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
"কেয়াপাতার নৌকো" কেয়াপাতার নৌকো বই এর ফ্লাপের লেখাপদ্মা-মেঘনা-ধলেশ্বরী-কালাবদর এবং শত জলধারায় বহমান অজস্র নদী, খালবিল, অফুরান শস্যক্ষেত্র, নানা বর্ণময় পাখি-ফুল- বৃক্ষলতা—এই সব মিলিয়ে সেদিনের পূর্ববাংলা ছিল নিসর্গের এক মায়াময় ভূখন্ড। বাতাসে বাতাসে তখন জারি-সারি-ভাটিয়ালির সুর। মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক তখন বড়ই মধুর, আবিলতায় ভরে যায় নি। হিন্দু-মুসলমান, দুই সম্প্রদায় ছিল পরস্পরের পাশাপাশি। তাদের মধ্যে অনেক সময় মতান্তরও নিশ্চয়ই ঘটেছে, মনান্তরও। কিন্তু ছিল না তীব্র বিদ্বেষ। এই পটভূমিতে বিনু নামে এক বালকের বড় হয়ে ওঠা। আবহমান কালের শান্তস্নিগ্ধ রমণীয় পূর্ববাংলা দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় থেকেই উত্তাল হয়ে উঠতে শুরু করে। এদেশে যুদ্ধ হয় নি; কিন্তু আমেরিকান এবং ব্রিটিশ সৈন্যে ছেয়ে গেল চারিদিক। তাদের হাত ধরে ছড়িয়ে পড়ল নানা ধরনের বিষ। এল কালোবাজারি, মজুতদারি, মানুষের তৈরি কৃত্রিম খাদ্যাভাব, দুর্ভিক্ষ, মূল্যবোধের চরম বিনাশ, লক্ষ লক্ষ মানুষের অনাহারে মৃত্যু। যুদ্ধশেষে ইংরেজরা দু'শো বছরের ভারতীয় উপনিবেশ ছেড়ে চলে যাবে। তার আগেই আরম্ভ হল দাঙ্গা। হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে এতকালের সম্পর্ক লহমায় ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল। তখন দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে শুধুই ঘৃণা, অবিশ্বাস এবং চরম শত্রুতা। বিষবাষ্পে ছেয়ে গেল দশ দিগন্ত। দাঙ্গায় খুন হল হাজার হাজার মানুষ, লুট হল অসংখ্য তরুণী। পুড়ে ছাই হল নগর-বন্দর, শত সহস্র জনপদ । তখন শুধুই হত্যা, রক্তপাত, ধর্ষণ। ভারত নামে এই দেশটি, বিশেষ করে পূর্ববাংলা যেন আদিম বর্বর যুগে ফিরে গেছে। দাঙ্গার পরে পরেই দেশভাগ। বিনুর প্রিয় নারী ঝিনুক ধর্ষিত হয়েছে। প্রায়-অপ্রকৃতিস্থ ঝিনুককে নিয়ে লক্ষ লক্ষ শরণার্থীর সঙ্গে এপারে চলে আসে বিনু। পশ্চিমবঙ্গও তখন উথালপাতাল। একদিকে জাতির জীবনে মহাসংকট, অন্যদিকে ঝিনুককে নিয়ে বিনুর ব্যক্তিজীবনে নানা অভিঘাত। এইসব নিয়ে ‘কেয়াপাতার নৌকো’ বিশাল পরিসরে শুধু মহাকাব্যিক উপন্যাসই নয়, বাঙালি জাতির চরম দুঃসময়ের এক মহামূল্যবান ইতিহাসও।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

শেষ করার পর মনে হচ্ছিলো এই বইটা না পড়ে মারা গেলে হয়তো অনেক বড় কিছু মিস করে ফেলতাম। অনেকদিন পর উত্তরাধিকারের মতো একটা বই পড়লাম। এতটাই অভিভূত হয়ে গিয়েছিলাম, শেষমেশ কেঁদেই ফেলেছি এটা দেখে যে, একজন লেখক এত ভালো কি করে লিখেন! বইটিতে উঠে এসেছে মূলত ১৯৪৭ এর দেশভাগের সময়কার রাজনীতি, ইতিহাস, গ্রামবাংলা/ শহরের সংস্কৃতি, প্রকৃতি, ঋতুবৈচিত্র, হিন্দু-মুসলমানের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক, শিক্ষাব্যবস্থা, যুদ্ধ, প্রেম, হিংসা সহ আরো অনেক কিছু। অবনীমোহন(বিনুর বাবা) কলকাতা থেকে ইস্টবেঙ্গলে মামা হেমনাথের বাড়ি চলে আসে, এবং একসময় ঠিক করে এখানেই থেকে যাবে। সেখান থেকেই শুরু হয় কাহিনী। সবথেকে ভালো লেগেছে লেখকের লেখা এবং শব্দের ব্যবহার। তারপর বিনু-ঝিনুকের বড় হওয়া। কাহিনি বিস্তৃত হয়েছে যদিও বিনু'কে কেন্দ্র করে, হেমনাথ, যুগল, স্নেহলতা, লারমোর, ঝিনুক, অবনীমোহন, সুরমা, সুধা, সুনীতি, হিরন, আনন্দ, ঝুমা প্রতিটা চরিত্রই অসাধারণ এবং জীবন্ত। ভালো লাগার মধ্যে আরো ছিলো, সুধা, সুনীতি দুই বোনের বন্ধুর মতো সম্পর্ক, স্কুল পেরিয়ে কলেজ ভর্তী হওয়া, আনন্দ/হিরণ নামে কোন ছেলের নতুন প্রেমে পড়া, বড়দের সামনে ধরা পড়ে যাবার ভয়, চিঠি আসা শুরু হওয়া।এই অনুভূতি গুলো নিজেও অনুভব করতে পারবেন, ঠিক ঐ বয়সে ফিরে গিয়ে। খারাপ লাগার মতো ব্যাপার ছিলো ৪৭এ দেশ-বিভাগ নিয়ে দাঙ্গার সময় ঝিনুকের ধর্ষিত হওয়া।এবং তারপর ঝিনুক'কে সাথে নিয়ে বিনুর দুঃসহ দিনগুলো। ব্যক্তিগত ভাবে এই বইটাকে ১০/১০ না দিয়ে পারছিনা। যারা সাহিত্যপ্রেমী এবং বইটা পড়েননি এখনো, অবশ্যই পড়ে ফেলবেন। শুরু করলে দেখবেন ৬০০ পৃষ্ঠা কখন শেষ হয়ে গিয়েছে, টেরই পাননি।
গুড























