

Buy মহিষমতি সমীকরণ Online in Bangladesh
লেখক: নাঈম হোসেন ফারুকী
- Author: নাঈম হোসেন ফারুকী
- Publisher: প্রান্ত প্রকাশন
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2021
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
"মহিষমতি সমীকরণ" বইটির প্রথম ফ্ল্যাপ-এর লেখাঃ প্রাচীন মন্দিরের পাশে পুরু ইস্পাতের পাতে মােড়ানাে যে কুয়াটা থেকে ঝড় বৃষ্টির রাতে গুমগুম শব্দ ভেসে আসে, কী আছে সেটার অতলে? কেন নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে শহরের বাচ্চারা? প্রবল ঝড়ের রাতে দুর্গম পাহাড়ি জঙ্গলে বাঘের রূপধারী যে প্রাণীটা অর্বাচিন চাকমার ছেলেকে খুন করেছিল সে কি আসলেই বাঘ? গােপন ল্যাবরেটরিতে আইনস্টাইন বাক্স নামের যে রহস্যময় জিনিসটা তৈরি হচ্ছে, কী আছে সেটার ভেতরে? আকবর সাহেবের কাছে অপরিচিত ঠিকানা থেকে রহিমার মা নামের যে দরদী বৃদ্ধা নিয়মিত চিঠি পাঠায়, সাথে একটা হরলিক্সের কৌটা- কী তার পরিচয়? কী চায় সে? আকবর সাহেব হরলিক্সের কৌটা খুললেন । বেলি ফুলের মিষ্টি গন্ধে ভেসে গেল চারদিক। আর খুলে গেল এমন এক রহস্যের দরজা যার শুরু হয়েছিল হাজার হাজার বছর আগে, অন্য কোনাে জগতে, অন্য কোনাে মহাজাগতিক সত্তার হাত ধরে!
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
ei boi ta sera best science fiction book eta so sobai nite paren 🤧





বুক রিভিউ: মহিষমতি সমীকরণ লেখক:নাঈম হোসেন ফারুকী জনরা: সাইন্স ফিকশন পৃষ্ঠাসংখ্যা: 128 পৃষ্ঠা মুদ্রিত মূল্য: 250 টাকা প্রকাশনী: প্রান্ত প্রকাশন রিডিং টাইম: 6.048 × 10¹⁴ ন্যানো সেকেন্ড পার্সোনাল রেটিং: 8.89/10 আকবর সাহেবের ছেলের জন্য রহিমার মা’র নাম করে কে আসলে হরলিক্স পাঠায়? কি আছে এই হরলিক্সে যা খেয়ে আকবর সাহেবের ছেলের খাবারের রুচি এতো বেড়েছে? জমিদার ঐ রহস্যময় কুয়ার মধ্যে কি দেখেছিল? শহরের বাচ্চারা হারিয়ে যাচ্ছে কেন?সোর্স আসলে কী? আইনস্টাইনের বাক্সে কি আছে? বৌ বাসর রাতে তার স্বামীকে কেন খেয়ে ফেললো? লংফেলোর ঘড়ির গুদামে কী কারণে ঘড়িগুলো বার বার গুঁড়ো হচ্ছে? স্টেইনব্রেকের ঘরে গভীর রাতে পিয়ানো কে বাজায়? মহিষমতি সমীকরণ আসলে কী? এই সব রহস্যের উত্তর আছে মহিষমতি সমীকরণ বইটিতে। পুরো বইটা মূলত দুই অংশে বিভক্ত। প্রথম অংশে বড় কল্পবিজ্ঞান দ্বিতীয় অংশে ছোট ছোট কল্পবিজ্ঞানের গল্প। প্রথম অংশটি একটি উপন্যাস, বেশ কয়েকটি ছোট বড় গল্প মিলিয়ে এই উপন্যাসের নাম দেয়া হয়েছে রহিমার মা। উপন্যাসের শুরুতে গল্পগুলো কিছুটা খাপছাড়া মনে হতে পারে।কিন্তু প্রতিটা গল্পের মধ্যে একধরণের মিল রয়েছে সেটা হচ্ছে রহস্য। প্রতিটা রহস্যের সমাধান একটাই যা এই অংশের শেষে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিটা গল্পের থিমগুলো দারুণ ছিলো। রহস্যের সমাধান পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য পাঠককে শেষ পর্যন্ত পড়তে হবে। উপন্যাসের শেষে বইয়ের প্রচ্ছদে দেয়া কোডটার সমাধান আছে। কোডটা দারুণ ছিলো। বইয়ের দ্বিতীয় অংশ হচ্ছে ১২টি বিভিন্ন ধরণের কল্পবিজ্ঞানের গল্প নিয়ে। যেমন: রূপকল্পবিজ্ঞান, টেককল্পবিজ্ঞান, বায়োকল্পবিজ্ঞান ইত্যাদি। এগুলোর মধ্যে ‘লংফেলোর ঘড়ির গুদাম, শ্মশানপুষ্প, মহিষমতি সমীকরণ’ গল্পগুলো সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। বাকি গল্পগুলোর থিমও বেশ ভালো ছিলো। প্রতিটা গল্পের শেষে ট্যুইস্টগুলো অসাধারণ ছিল। লেখক প্রতিটি গল্প রস, রহস্যে ও রোমাঞ্চর সংমিশ্রণে দারুণভাবে উপস্থাপন করেছেন। বইটির আরেকটি ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হচ্ছে লেখক তার গল্পগুলো কোথা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে লিখেছেন সেগুলো গল্পের শেষে উল্লেখ করে দিয়েছেন। বইয়ের প্লটগুলোর সাথে প্রচ্ছদের মিল থাকলেও প্রচ্ছদ খুব বেশি ভালো লাগেনি। পেইজ কোয়ালিটি এবং বাইন্ডিং মোটামুটি ভালো ছিল। সব মিলিয়ে বইটা আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। বইটি পড়ে না থাকলে আপনিও পড়ে দেখতে পারেন। হ্যাপি রিডিং
চিঠি পেতে ভালো লাগে আপনার? মনে করুন আপনি একটি চিঠি পেলেন আর সাথে একটি হরলিক্সের কৌটা। চিঠিতে প্রেরক নিজেকে রহিমার মা হিসাবে পরিচয় দিয়েছে। কিন্তু রহিমার মা যদি আপনার অপরিচিত কেউ হয়? আপনি মন খারাপ করে ভাবলেন অপরিচিত কেউ তার ছেলেমেয়ে বা আত্মীয়কে হরলিক্সের কৌটা পাঠিয়েছেন শখ করে আর তা ভুল জায়গায় চলে এলো। আপনি কুরিয়ার সার্ভিসে যোগাযোগ করবেন চিঠি আর হরলিক্সের কৌটা ফেরত দিতে? আকবর সাহেবও এই চেষ্টা করেছিলেন। ফোন নাম্বার ভুল দেওয়া। ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করেও যখন লাভ হলো না, আকবর সাহেব হরলিক্সটা নিজের ছেলে রুদ্রের জন্য রেখে দিলেন। হরলিক্স খেয়ে রুদ্রের খাওয়ার রুচি ফিরেছে। স্বাস্থ্য ভালো হয়েছে। কিন্তু বাজার থেকে আনা অন্যসব হরলিক্সের কোনোটাই রুদ্র মুখে তুলছে না। আকবর সাহেবের কাছে পার্থক্য ধরা পড়েছে। রহিমার মার দেওয়া হরলিক্স থেকে বেলি ফুলের মতো গন্ধ আসে আর স্বাদ অপূর্ব। আবার চিঠি। তার সাথে হরলিক্সের কৌটা। প্রেরক রহিমার মা। হাতের লেখা ও জায়গার নাম আগের থেকে ভিন্ন। ফোন নাম্বারও ভুল। হরলিক্সের স্যাম্পল থেকে ল্যাব টেস্টে ক্ষতিকর কিছু পাননি ডাক্তাররা, তবে অপরিচিত কিছু কেমিক্যাল রয়েছে। আবারও চিঠি ও হরলিক্সের কৌটা। চিঠি পড়ে আকবর সাহেব সত্যি চিন্তিত হয়ে পড়লেন। অদ্ভুত কথা। "গরুর খাবার হলো ঘাস, আর মানুষের খাবার হলো গরু, এটাই প্রকৃতির নিয়ম।" আর রহিমার মা নিজের মেয়েকে খাওয়াতে পারছে না, অথচ তার ছেলের জন্য হরলিক্স পাঠাচ্ছে। কিছু একটা ঠিক নেই। আকবর সাহেবের মতো আরো অনেকের কাছে যাচ্ছে হরলিক্সের কৌটা। সাধারণ হরলিক্স না। বেলি ফুলের গন্ধ তাতে আর স্বাদও ভিন্ন। বাচ্চারা এই হরলিক্স খেতে অনেক পছন্দ করে। তাদের স্বাস্থ্যে ও আচরণে পরিবর্তন আসে। এরপর তারা নিখোঁজ হয়ে যায়। তাদের মৃত্যু সংবাদ পাওয়া যায়। অদ্ভুদভাবে তাদের মধ্যে থেকে কেউ কেউ ফিরে আসে। হরলিক্সে কি আছে? আর কারা তৈরি করছে? বাচ্চাগুলো কেন মারা যাচ্ছে? মৃতদের মধ্যে থেকে কেউ কিভাবে ফিরে আসছে? যে আসছে, সে আসলে মানুষ নাকি অন্যকিছু? সবকিছুর মূলে কে বা কারা আছে? মহাকাশযানে অল্পকিছু মানুষ। তাদের উপর নির্ভর করছে মানবজাতির ভবিষ্যৎ। বিশাল এই মহাকাশযানের এক কোনায় একটি বাক্স রয়েছে। আইন্সটাইন বাক্স। তার উপরে রয়েছে এই কোড: II([U)[ (∩II)UIL DΔ⌈T[DIΔDΠLI[ΛIΠ কোডটি মানবজাতির শেষ আশা। শেষ পর্যন্ত কি হয়েছিলো? কোডটি কি ডিকোড করা সম্ভব হয়েছিলো? আইন্সটাইন বাক্সে কি আছে? প্রশ্নগুলোর উত্তর জানতে বইটি পড়ুন। বইটির প্রথম অংশে রয়েছে একটি বড় কল্পবিজ্ঞান। নাম রহিমার মা। প্রথমে প্লটগুলো পড়ে মনে হতে পারে, এগুলো আলাদা আলাদা ছোট গল্প। কিন্তু গল্পগুলো একটা অন্যটার সাথে যুক্ত। ধীরে ধীরে গল্পগুলো থেকে রহস্যে ঘেরা কাহিনী এতো সুন্দরভাবে পরিষ্কার করা হয়েছে! দ্বিতীয় অংশে রয়েছে বারোটি ছোট কল্পবিজ্ঞান। বেশ কিছু প্লট বাস্তবের সাথে সম্পর্কযুক্ত। 'আরাম-চশমা' তেমনি একটা গল্প। এটা, 'রোবট বিপ্লব' আর 'মহিষমতি সমীকরণ' গল্প তিনটা পড়ে আমার কষ্ট লেগেছে। প্রোগ্রামিং পারি না, তাই 'লংফেলোর ঘড়ির গুদাম' গল্পটা বুঝতে পারিনি। 'স্যুপ' আর 'শনি' গল্প দুইটা মজার। অসম্ভব ভালো লেগেছে তিনটা গল্প পড়ে। 'পিয়ানো', 'কার্ডিয়াক' ও 'শ্মশানপুষ্প'। বড় এবং ছোট কল্পবিজ্ঞানগুলোর প্লট ব্যতিক্রম ও অসাধারণ। লেখকের বর্ণনার ধরন অনেক ভালো লেগেছে। আর সব কল্পবিজ্ঞানের শেষে রয়েছে গল্পের পিছনের গল্প। নামঃ মহিষমতি সমীকরণ লেখকঃ নাঈম হোসেন ফারুকী ধরণঃ কল্পবিজ্ঞান প্রকাশনীঃ প্রান্ত প্রকাশন মুদ্রিত মূল্যঃ ২০০ টাকা ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৭.৮/১০ হ্যাপি রিডিং অনেক আগে একবার পড়েছিলাম। রিভিউ দেওয়া হয়নি তখন। কিছুদিন আগে আবার বইটা পড়লাম। তাই রিভিউও লিখে ফেললাম। ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করবেন। ধন্যবাদ।
বইয়ের প্রচ্ছদে বাঘের ছবি। কিন্তু টাইটেলের নাম 'মহিষমতি সমীকরণ', বাঘমতি নয় কিন্তু। পুরা বইটা পড়ার পরে কনফিউশান টা ধরা পড়ে। সায়েন্স ফিকশন এই বইটার দুইটা পার্ট। প্রথম পার্টে একটা দীর্ঘ উপন্যাস রয়েছে, যার সাথে বাঘ এর একটা সম্পর্ক রয়েছে। দ্বিতীয় পার্টে অনেকগুলো ছোট ছোট সায়েন্স ফিকশন আছে , যাদের মধ্যে শেষ গল্পটার নাম 'মহিষমতি সমীকরণ'। এই দুইটা পার্ট রিপ্রেজেন্ট করছে প্রচ্ছদটা। প্রতিটা গল্পের শেষে গল্পের পেছনের গল্প/ইন্সপাইরেশন / টেকনিলাল শব্দের ব্যাখ্যা / নির্দিষ্ট কোনো টেকনোলজি সম্ভব কি অসম্ভব - এই ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। এটা খুবই কাজের জিনিস। আমার তো মনে হয়, সকল লেখকের সকল বইয়ের শেষেই এক/দুই পাতা করে এইরকম ব্যাখ্যা থাকা উচিত। বইয়ের প্রথম পার্ট এর নাম রহিমার মা। এই টাইটেল এর আন্ডারে ৮ টা গল্প/চ্যাপ্টার রয়েছে। সবগুলো মিলে একটা পূর্নাঙ্গ উপন্যাস। আবার এগুলোকে আলাদা ছোটগল্পও বলতে পারেন। ( আমেরিকার ছোট গল্প লেখক ও হেনরি'র ক্যাবেজেস এন্ড কিংস উপন্যাস এর মাধ্যমে এই ধরনের উপন্যাসের সাথে আমার পরিচয় ঘটেছিল। ওই উপন্যাসটাও এইভাবেই লেখা হয়েছিল, যেখানে আলাদা আলাদা ১৯টা ইন্টার লিংকড ছোট গল্প ছিল।) যাইহোক, রহিমার মা'র কাহিনী এপোক্যালিপ্টিক ঘরানার৷ পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, পৃথিবীর মানুষ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, অন্য কোনো প্রাণী এসে মানুষকে মেরে ফেলছে -- এইরকম কাহিনী। গেম অফ থর্ন্স এর হোয়াইট ওয়াকারদের আক্রমণের মত অবস্থা। তবে এখানে শত্রুকে খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। শত্রুর সব কার্যক্রম কম বেশি দেখা যাচ্ছে, কিন্তু শত্রুটা যে কে, কোথায় থাকে সে, কিভাবে কাজ করে, কিভাবে তাকে ঠেকানো যায়, তার কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। দ্বিতীয় অংশে রয়েছে ১২ টা ছোট সায়েন্স ফিকশন, যেগুলা একে অপরের সাথে কানেক্টেড নয়। এগুলোর মূল উপজীব্য বিজ্ঞান হলেও বিভিন্ন সামাজিক সমস্যাকেও টাছ করা হয়েছে, এসব সমস্যা নিয়ে আমাদের ভাবতে বাধ্য করে গল্পগুলো। বিশেষ করে শেষ গল্পটা ( মহিষমতি সমীকরণ) একেবারে লা - জবাব। বিজ্ঞানের ফিল্ডে নন স্পেশিল্ট কাউকে দায়িত্ব দিলে কি অবস্থা হয়, তার অনেক উদাহরণ আমরা করোনা মহামারীর সময়েই দেখেছিলাম। আর এই গল্পে একটা রকেট উৎক্ষেপন এর দায়িত্ব বিজ্ঞানী বা ইঞ্জিনিয়ার দের পরিবর্তে অন্যদের হাতে দিলে কি অবস্থা হতে পারে, সেটাই দেখানো হয়েছে। রুপকের মাধ্যমে লেখক চোখে আঙুল দিয়ে আমাদের বর্তমান সমাজকেই দেখিয়ে দিয়েছেন স্পষ্ট করে। আরেকটা কথা। গল্পের পরতে পরতে লেখকের রসবোধের প্রমাণ পাওয়া যায়। গল্পের নায়ক যখন সংকটে, তখনো 'শাহ সিমেন্ট আর ক্রাউন সিমেন্ট একসাথে মিশিয়ে বুয়েটের ইঞ্জিনিয়ার দ্বারা পরীক্ষা করে' বাড়ি বানানোর কথা শুনে হাসি ছাড়া আর উপায় থাকে না।

এটি সায়েন্স ফিকশন সমগ্র। বইটা সম্পর্কে জানার দীর্ঘদিন পরে মহান একুশে বই মেলা ২০২৩ থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পেরেছি। এর আগে বাংলাদেশের সায়েন্স ফিকশন বলতে শুধু জাফর ইকবাল স্যারের সায়েন্স ফিকশনই পড়েছি। অন্য কারো দুয়েকটা পড়লেও সেগুলো উল্লেখযোগ্য না। জাফর ইকবাল স্যারের সায়েন্স ফিকশনের একটা ধারা আছে। সে ধারার বাইরে গিয়ে অন্য ধারার সায়েন্স ফিকশন পড়লাম এই লেখকের দুটি। একটা 'ঘুম' অন্য এটা 'মহিষমতি সমীকরণ'। দু'টো বইই অনেকটা গোয়েন্দা গল্পের ধাঁচে। ডিটেকটিভ গল্পের ভক্ত হওয়ায় স্বভাবতই বইটি আমার ভালো লেগেছে। এই বইয়ের কথা বলতে গেলে বলতে হয় যে বইটিতে ভিন্নতা আছে। লেখকের লেখার প্যাটার্ন হলো- লেখক গল্পটা তৈরিতে যেহেতু মাথা খাটিয়েছেন তাই পাঠককেও আরামে বসে থাকতে দিবেন না। পাঠককেও মাথা খাটাতে হবে। এরই ধারাবাহিকতায় বইতে বড় যে গল্পটি আছে সেটি রহস্যের জাল বিছাতে বিছাতে সামনের দিকে এগোয়। আর পাঠকের সামনে একটু একটু করে চ্যালেঞ্জ দিতে থাকে। গোয়েন্দা গল্পের মত রীতিমতো তদন্ত, অন্তর্দ্বন্দ্ব, সাংকেতিক চিহ্নের পাঠোদ্ধারের বিষয়গুলো সামনে এসেছে গল্পে। একবার মনে হয় সায়েন্স ফিকশন, একবার মনে হয় গোয়েন্দা গল্প। এদিকে এই দুটো জনরাই আমার প্রিয়। তাই বইটি পড়ে আমি উৎফুল্ল। সাথে মাথার যে কাজ দিয়ে রেখেছে লেখক তা সমাধানকল্পে মাথার ব্যায়ামও হয়েছে খানেক। যদিও রহস্যের জট খুলতে সম্পূর্ণ পারিনি কিন্তু একটু একটু পেরেছিলাম। বইটিতে বেশ কিছু ছোট সায়েন্স ফিকশন গল্প রয়েছে। শুধু যে মাথায় ঝড় তোলা সায়েন্স ফিকশনের বই এটি, তা কিন্তু নয়। রম্য, ভৌতিক এ ধরনের সায়েন্স ফিকশন রয়েছে বইটিতে। বইটিতে একটু বেশি মাত্রার খুনোখুনির উপস্থিতি লক্ষ্য করেছি। বড় গল্পটায় তো প্রচুর খুনোখুনি আছেই, সাথে ছোট বারোটা গল্পের অন্তত আটটা গল্পই খুনোখুনির মধ্য দিয়ে গেছে। বইটিকে গূঢ় সিরিয়াস বার্তা সমৃদ্ধ হাসির সায়েন্স ফিকশন সমগ্র বলে বইটির পরিচয় করিয়ে দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু বেশি খুনোখুনি, ভায়োলেন্স সে পথ রুদ্ধ করেছে। তবে যে গল্পটির নামে বইটির নাম সেই মহিষমতি সমীকরণ গল্পটা তো রীতিমতো দম ফাটানো হাসির সায়েন্স ফিকশন। এবং এটিতে গভীর ফিলোসফি রয়েছে। একইভাবে ‘চশমা’ নামের সায়েন্স ফিকশনটির গভীরে ডুব দিলে সন্ধান পাওয়া যাবে সমাজ নিয়ন্ত্রকদের বিরুদ্ধে, তাদের দিকে তোলা আঙ্গুলখানির। আসলে ভায়োলেন্স সমৃদ্ধ গল্পগুলো থেকে নজর সরাতে, একঘেয়েমি কাটাতেই কি রম্যকল্পবিজ্ঞান গুলোর আবির্ভাব? কে জানে?


























