

Buy একাত্তর এবং আমার বাবা Online in Bangladesh
লেখক: হুমায়ূন আহমেদ
- Author: হুমায়ূন আহমেদ
- Publisher: সময় প্রকাশন
- Isbn: 9789849063582
- Number Of Pages: 175
- Language: বাংলা
- Edition: 3rd Print, 2014
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
"একাত্তর এবং আমার বাবা" বইয়ের ভূমিকার লেখা: ১৯৭১ সনের উত্তাল সময়ে অনেকটা ব্যাক্তিগত ডায়েরির মতাে করে লেখা হুমায়ুন আহমেদের এই অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপিটি হঠাৎ করেই আবিষ্কৃত হয়েছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাতে। মৃত্যুবরণকারী বাবা ফয়জুর রহমানের জীবনের শেষ সময়টুকু ধরে রাখার জন্যে হুমায়ুন আহমেদ সম্ভবত অনুজ মুহম্মদ জাফর ইকবালকে দিয়ে তাদের পরিবারের বিপর্যয়ের শেষ অংশটুকু লিখিয়ে নিয়েছিলেন হুমায়ন আহমেদ বা মুহম্মদ জাফর ইকবাল কেউই তখন পরবর্তী জীবনের কথাসাহিত্যিক হিসেবে গড়ে ওঠেননি। সেই হিসেবে এটি এক ধরনের ঐতিহাসিক দলিল। বইটি প্রকাশ করার সময় পাঠকদের আগ্রহ এবং কৌতূহলের বিষয়টি বিবেচনা করে দুই ভাইয়ের মূল হাতের লেখার প্রতিচ্ছবিও এই বইয়ে সংযুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
Good

Amazing book
[পাঠ পর্যালোচনা ১৩] একাত্তর এবং আমার বাবা—বইটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে রচিত হলেও এটি ইতিহাসের বই যেমন নয়, তেমনি এটি আত্মজীবনী মূলক বইও নয়। লেখক ভ্রাতা জাফর ইকবালের মতে— ‘এটি প্রায় ব্যক্তিগত ডায়েরীর মতো’। এ কথাটিও পুরোপুরি মানা যায় না। বরং লেখাটিকে লেখকের একটি সংক্ষিপ্ত স্মৃতিকথা বলা যেতে পারে, যে স্মৃতি আবর্তিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ এবং লেখকের বাবাকে কেন্দ্র করে। বইটি প্রকাশিত হয় ২০১৪ সালে, অর্থাৎ হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর পরে। লেখাটি ঠিক কোন সময়ে লেখা সে বিষয়ে নিশ্চিত নন লেখক ভ্রাতা মুহম্মদ জাফর ইকবাল। তাঁর মতে যুদ্ধের সময়কার লেখা, তবে পড়লে মনে হয় যুদ্ধপরবর্তী সময়ে লেখা। কারণ এক জায়গায় উল্লেখ আছে—‘পুরোনো স্মৃতির কথা লিখতে গিয়ে চোখ পানিতে ভরে ওঠে’। বইটির ব্যপারে আরেকটি কথা বলে নেওয়া ভালো। এই বইয়ে লেখকের নামের জায়গায় হুমায়ূন আহমেদের নাম থাকলেও তিনি পুরো বইয়ের লেখক নন। শেষ অর্ধেক লিখেছেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল এবং বইটির নামও তাঁরই দেওয়া, আছে তাঁর লেখা চার পৃষ্ঠার ভূমিকাও। চাইলে বইয়ের নামে দুজনের নামই দিতে পারতেন, সেটাই যুক্তিযুক্ত হতো। বইটির বর্ণনা শুরু হয় ঢাকা থেকে—১৯৭১ সালের মার্চের শুরুতে যখন জাতীয় অধিবেশন স্থগিত হয় এবং সাত মার্চের ভাষণ তখনও হয়নি, পূর্ব প্রস্তুতি চলছে—সেই সময়টায়। সেসময়কার থমথমে ঢাকার কিছুটা চিত্র বইটিতে ফুটে উঠেছে। সেখান থেকে গল্প চলে যায় পিরোজপুরে। পরিবারের সাথে লেখকের কিছু সুখকর দিনের কথা যেমন পাওয়া যায় তেমনি পাওয়া যায় যুদ্ধের সময় পিরোজপুরে কী অবস্থা চলছিল সেসব কথা, লেখক পরিবারের বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় গ্রহণ করার কথা জানতে পারবো। দুঃখের বিষয় হচ্ছে হুমায়ূন আহমেদের পাণ্ডুলিপি থেকে মাঝের একটি পৃষ্ঠা হারিয়ে গেছে, যে পৃষ্ঠাটাকে মনে হয়েছে কোন বিশেষ একটা ঘটনা সেখানে ছিল। এ বিষয়ে জাফর ইকবালও কিছু লেখেন নি, যদিও উনার সেই ঘটনার কথা আংশিক হলেও জানার কথা। গল্পের সমাপ্তি হয় জাফর ইকবালের বয়ানে যেখানে পরিবারের সবাইকে তিনি তাঁর বাবার মৃত্যুর সংবাদ দিচ্ছেন। পুলিশপিতা ফয়জুর রহমানের শেষ দিনটিতে সাথে ছিলেন জাফর ইকবাল। এই বইয়ের আরেকটি বিষয় হলো লেখকদ্বয়ের পাণ্ডুলিপি বইটিতে দেওয়া আছে। এক পৃষ্টায় পাণ্ডুলিপির চিত্র, পরের পৃষ্ঠায় সেই পাণ্ডূলিপির টাইপিং। তাই বইয়ের পৃষ্ঠা ১৭৫ হলেও বইটি আদতে ছোট। তবে হুমায়ূন প্রেমীদের জন্য লেখকের হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি পড়তে পারা আনন্দদায়কই হবার কথা। বইটিতে তারিখের উল্লেখ থাকলে আরও একটু ভালো হতো। আদতে লেখাটি অনেকটা নিজের পরিবারের একটা ঘটনা যেন ভালোভাবে মনে রাখতে পারা যায় সেই চিন্তা থেকেই লেখা। তাই দেওয়া হয়নি অধিকাংশ মানুষের যথার্থ পরিচয়, যেমনটা আত্মজীবনীতে দেখা যায়। এই বইয়ের কাহিনী আমরা লেখকের আত্মজীবনী গুলোতেও খুঁজে পাবো। তবুও খুবই সংক্ষিপ্ত আকারে লেখা এই বইটি সুখপাঠ্য, তাই চাইলে পড়ে দেখতে পারেন।
এটা একটা অদ্ভুত বই। কিছুটা লিখেছেন হুমায়ুন আহমেদ আর বাকিটা লিখেছেন মুহাম্মদ জাফর ইকবাল। দুইজনই সনামধন্য লেখক। সংগ্রহে রাখার মত একটি বই।

এই বইটাকে যদি কেউ ব্যক্তিগত ডায়েরীও মনে করে তবে তাতে কোন ভুল হবে না। ১৯৭১ সালের উত্তাল সময়ে হুমায়ূন আহমেদ স্যার নিজের মতো করেই লিখে রাখতেনন প্রতিটা ঘটনা। সেই সব অপ্রকাশিত ঘটনা নিয়েই লেখা "একাত্তর এবং আমার বাবা"। ১৯৭১ সালে যখন বাবা ফয়জুর রহমান পাকিস্তানীদের হাতে মারা যান তখন স্বাভাবিকভাবেই নেমে আসে পরিবারে বিপর্যয়। কারণ হুমায়ূন আহমেদ নিজেও তখন একজন ছাত্র। মধ্যবিত্ত এই পরিবারে বাবা ফয়জুর রহমানই ছিলেন একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তখন মা আয়েশা বেগম বলা যায়, সংগ্রাম করে এই সংসারের হাল ধরেন। সেই সময়ের স্মৃতি ধরে রাখতেই ছোট ভাই মুহম্মদ জাফর ইকবালকে নিয়ে বইটি শেষ করেন। এক কথায় বলা যায়, একটি ঐতিহাসিক দলিল এটি!























