

Buy নিষাদ অরণ্য Online in Bangladesh
লেখক: সরওয়ার পাঠান
- Author: সরওয়ার পাঠান
- Publisher: বাতিঘর প্রকাশনী
- Number Of Pages: 144
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2023
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
এদেশের বন-বন্য প্রাণী এবং প্রকৃতির সাথে জুড়ে থাকা এক অতি সুপরিচত মুখ। বিচিত্র তার জীবন, অদ্ভুত অভিজ্ঞতায় পূর্ণ সেই জীবনের প্রতিটি অধ্যায়। অতীতে কখনও বন্দুক হাতে স্থানীয় মানুষের অনুরোধে মানুষকে রক্ষা করেছেন বিপজ্জনক হয়ে ওঠা প্রাণী থেকে, আবার কখনও ক্যামেরা হাতে বনের বিভিন্ন বিচিত্র বিষয় তুলে ধরেছেন। দীর্ঘদিন লেখেছেন দেশের প্রায় সব শীর্ষস্থানীয় পত্রিকায়, বাংলার প্রত্যন্ত সব বন, পশু ও রহস্যময় সব মানুষ ও মানব চরিত্র নিয়ে। নিষাদ অরণ্য; তার জীবনে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন বিচিত্র ঘটনার আখ্যান। সঙ্গে রয়েছে অভিজ্ঞতার আলোকে লেখা কিছু গল্প। ভিন্ন স্বাদের এ যাত্রায় পাঠককে স্বাগতম।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

★ "নিষাদ অরন্য" বইটিতে মোট ১৪টি গল্প আছে। প্রতিটা গল্পই শিহরণ জাগানিয়া। প্রাচীন জনগোষ্ঠীর ইতিহাস, জঙ্গল, পাহাড় ইত্যাদি এবং অসাধারণ সব গল্প দিয়ে সাজানো হয়েছে বইটা। বিচিত্র স্বাদ ও গন্ধের অনেকগুলো গল্প রয়েছে। আধুনিক সভ্যতা থেকে দূরবর্তী মানুষ হচ্ছে নিষাদ জাতি। আদিবাসী, উপজাতি, জনজাতি, যে নামই হোক তারা বাংলাদেশের ভূখণ্ডের জনগোষ্ঠী। ★ প্রচ্ছদ এবং নামকরণঃ একটা বইয়ের প্রচ্ছদ হয় বইয়ের কাহিনির সাথে মিল রেখে। এবং অনেকক্ষেত্রে প্রচ্ছদটা বেশ আকর্ষণ তৈরি করে। প্রচ্ছদ দেখতে আকর্ষণীয় হলেই সেই বই কিনতে আমাদের দ্বিধা থাকে না। সেক্ষেত্রে আধিব্যাধি বইটির কাহিনির সাথে মিল রেখে প্রচ্ছদটাকে খুবই আকর্ষণীয় ভাবে সাজানো হয়েছে। গল্পের সাথে মিল রেখে নামকরণটাও স্বার্থক হয়েছে। ১/ "নিষাদ অরন্য" গল্পটিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের মুরংদের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, মুরং ইত্যাদি গোষ্ঠীর নিদারুণ ইতিহাস তুলে ধরেছে। একটা সময় এইসব অঞ্চলে শান্তিবাহিনী এবং দেশীয় সৈন্যদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী লড়াই হতো। এখন সব থেমে হয়েছে শান্তি চুক্তি। ক্যলিফোর্নিয়ায় বসবাসরত এক ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক রবার্ট ড্যানিয়াল বাংলাদেশে আসে। তিনি নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর ইতিহাস জানতে চায় এবং সেগুলো নিয়ে একটা ডকুমেন্ট তৈরি করতে চায়। ২/ "পাখিটা বন্দি আছে দেহের খাঁচায়" গল্পটিতে ফালু ফকির নামে এক বৃদ্ধার তীক্ষ্ণ বুদ্ধির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তার অসাধারণ বুদ্ধিক্ষমতা দিয়ে তিনি বলে দিতে পারেন গর্ভস্থ শিশুটি ছেলে হবে না মেয়ে হবে! অবশেষে কি নিদারুণ ভাবে দেহ ত্যাগ করলেন ফালু ফকির! ৩/ "ফাল্গুনের আঁধার রাতে" গল্পটিতে আমিনুলের স্ত্রী'র অদ্ভুত ভয়ংকর মৃত্যু যা মানুষ মনে করে সাধারণ কোনো শক্তির কাজ নয় এটা, এমন একটি গল্প সাজিয়েছে লেখক। অদ্ভুতুড়ে ভয়ংকর এই মৃত্যু মানুষের মনকে ভীত বানিয়ে রাখে। ৪/ "এক ফোঁটা শৈশব" গল্পটিতে রয়েছে একটি ছেলের শৈশবের সে সকল সুন্দর স্মৃতি যা তার কাছে চিরকাল স্মরনীয় হয়ে থাকে। তাদের হাই স্কুলের মল্লিক স্যারকে নিয়ে অদ্ভুত ভূতুড়ে কাহিনি ঘটে। ছাত্র অথবা জনতা যে কাউকে সংগঠিত করার অসম্ভব ক্ষমতা রয়েছে মল্লিক স্যারের। কিন্তু তার মতো তেজস্বী পুরুষের তাপ সহ্য করতে অক্ষম ছিলো দুঃশাসনে জর্জরিত সমাজ। আর তার ছাত্রের শৈশব তাকে ঘিরে অদ্ভুত স্মৃতি রয়েছে। ৫/ "লাল চিঠি" গল্পটিতে রয়েছে শ্রেণী-যুদ্ধের কথা। বাঙালির সাম্যবাদী আন্দোলনের শ্রেণীশত্রু খতমের এক বিতর্কিত রাজনৈতিক দর্শনের চিত্র। ৬/ "মড়া" গল্পটিতে রয়েছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ গল্পকথা। শ্যামলালের আদিনিবাস উত্তর ভারতের রুক্ষ পাথুরে এলাকায়। জীবন বড় নির্মম। মুঘল-পাঠান এবং ইংরেজ যুগে শাসকেরা জোর করায় স্বেচ্ছায় ওরা চলে আসে উর্বর ভূমির বাংলায়। চাষ নয়, জীবিকা হয়ে ওঠে অভিজাত শ্রেণির পাল্কিবাহক। কৃষক শ্যামলালের এ পেশাও আজ লুপ্ত। যে মানুষটি মৃত পশুর চামড়া সংগ্রহ করতো, সেই কিনা কিনা একাত্তরের যুদ্ধের সময় মড়া বা নিহত রাজাকার আর পাঞ্জাবি সেপাইদের দেহ থেকে ঘড়ি, আংটি, পোশাক সংগ্রহ করতো ব্যবহার এর জন্য। আমাদের সাহিত্যে, মুক্তিযুদ্ধের সাহিত্যে এমন আখ্যান আর নেই। গল্পটির আখ্যান বড় ভয়ংকর! ৭/ "শিকারের ইতিহাস" গল্পটিতে রয়েছে এক দূরন্ত কৈশোরের শিকারের ইতি ঘটার কাহিনি। সর্বপ্রথম ৫.৫ ক্যলিবারের একটি চাইনিজ এয়ারগান হাতে নিয়ে তারা পাখি শিকার করে। ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে যাকে সে অনুসরণ করে—''Put your gun as you put your wife.' একদিন তিনজনে মিলে শিকারে বেরিয়েছিল। জঙ্গলে গিয়ে আট-দশ বয়সী এক মেয়েকে গুলির ভয় দেখাতে গিয়ে ৫.৫ ক্যলিবারের গুলি গিয়ে মেয়েটিকে গুলিবিদ্ধ করে। তার অপবাদে শিকারির জীবনের ইতি ঘটে! ৮/ "হলুদ বসন্ত" গল্পটিতে রয়েছে আট বছরের এক কিশোর ছেলে বয়সে বড় মেয়ের প্রেমে পড়ার কাহিনি। অতঃপর মেয়েটির বিয়ে হওয়ার কয়েকবছর জানতে পারে তার ক্যান্সার। একথা জানার পর সে অস্থিরতায় ভুগছিলো। ৯/ "মনের বনে" গল্পটি অসাধারণ একটা গল্প। হায়দার আলী নামে এক স্বনামধন্য লেখকের বড় ভক্ত এজাজুল হক। ছোটবেলা থেকেই লেখকে বিড়ালে ভয়। অথচ তার ভক্তের হাবভাব তাকে ভীত রাখতো। তার বাড়িতে লেখককে দাওয়াত দিয়ে নিয়ে একটা ভয়ংকর কাহিনি ঘটে গেলো। ১০/ "পুকুর পাড়ের ইতিকথা" গল্পটিতে পুকুরের মাছগুলোর প্রতি আসাদ সাহেবের সহানুভূতির কথা নিদারুণ ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ১১/ "১৯৭১" বাঙালির একাত্তরকে সাহিত্যে কোন শিল্প কৌশলে প্রতিস্থাপন করা যায়, গল্পের একটা সংলাপেই তা স্পষ্ট হয়ে যায়, 'এইডা তুই কি করলি ভাই! আপন বইনের জামাইরে (গুলি করে) মাইরা ফেললি!' ১২/ "স্বপ্ন আলোর চান পাখিরা" গল্পে কাউসার আহমেদ চৌধুরীর বহু সৃজনশীলতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। মানুষটি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সময় সহায়তা করেছেন। তিনি ছিলেন একাধারে কবি, রম্য, লেখক, চিত্রনাট্যকার, কার্টুনিস্ট, চিত্রশিল্পী ও ছোট গল্পকার। ১৩/ "অলীক উপাখ্যান" গল্পটিতে নজু ফকিরের উপদেশ অনুযায়ী মাজারে যান এক এম.বি.বি.এস পাশ করা ডাক্তারের ছেলে। নিশুতিরাতে সেখানে গিয়ে একজন অদ্ভুত প্রতিবন্ধী যুবকের সাথে তার দেখা হয় এবং যুবকের ঘাড় ব্যথা সারিয়ে তুলে সে। যুবকটির ভাবলেশহীন মুখখানা দেখে তার সহানুভূতি জেগে উঠে। ১৪/ "কার্তিক চাঁদ ফকির" গল্পটিতে ফকিরের মহৎ চিত্র ফুটে উঠেছে। এক ডাক্তার তার ছেলের অসুখ সারাতে ফকিরের কাছে যাওয়ায় ছেলেটা অবকা হয়ে বাবার কাছে জানতে চায় সে একজন ডাক্তার হয়ে কি করে কবিরাজকে বিশ্বাস করে? এই নিয়ে বাবাকে সে কটু কথা শোনায়। তারপর বাবা তাকে ঘটনা বর্ণনা করে। শীতলা দেবীর আগমনে গ্রামের সকলের গায়ে ফক্স উঠতে শুরু করে এবং সেই অসুখ সারানোর সাধ্য ডাক্তারের নেই। ফলে কার্তিক চাঁদ ফকির এর দ্বারাই সম্ভব হয়েছে সেই কঠিন রোগ সারাতে। ডাক্তার তাকে কটু কথা শুনানোর পরও ডাক্তারের জীবন বাঁচায় ফকির, তাই তার প্রতি এত মহানুভবতা ডাক্তারের। ঘটনা শুনে ছেলে তার কটু কথার জন্য অনুতপ্ত হয়। ★ছোটবেলায় এমন গল্প আমিও শুনেছি। সাদা কাপড় পরিহিতা এক মহিলা দেখা দিলে নাকি সবার গায়ে ফক্স উঠে। এমন গল্প বহুদিন পর 'নিষাদ অরন্য' বইটিতে জানতে পারলাম এবং পুরো ঘটনাই জানতে পারলাম। গল্পটা এক কথায় অসাধারণ ছিলো। বইটির প্রতিটি গল্পই হৃদয়স্পর্শী। বইটা পড়ে আমার চিন্তার জগত হয়েছিল অতলস্পর্শী। সব মিলিয়ে মোটামুটি ভালো ছিলো বইটি। ★ অন্যান্যঃ "নিষাদ অরন্য" বইটি প্রকাশিত হয়েছে জনপ্রিয় বাতিঘর প্রকাশনী থেকে। বাতিঘর প্রকাশনীর সম্পাদনা মানেই ভালো কিছু। বইয়ের প্রচ্ছদ কভারটা মোটামুটি হার্ড কভার ছিলো। অনেক বইয়ে দেখা যায় যে কোথাও কোথাও কালি লেপ্টে যায় যার কারণে পড়তে অসুবিধা হয়। কিন্তু এই বইয়ের লেখাগুলো একদম স্পষ্ট ই ছিলো। পৃষ্ঠা, লাইনে স্পেস, ফন্ট সাইজ ইত্যাদি সবরকিছুর কোয়ালিটি খুবই ভালো ছিলো। বাইন্ডিং মানও অনেক ভালোই ছিলো। আর এর পুরো ক্রেডিট বাতিঘর প্রকাশনীর। তাদের সম্পাদনার কাজ বেশ ভালো। তবে ভবিষ্যতে আরও ভালো সম্পাদনা আশা রাখছি বাতিঘর প্রকাশনীর কাছ থেকে। এছাড়াও লেখকের লেখনশৈলী নিতান্তই দারুণ। তিনি খুব সহজ সাবলীল ভাষায় গল্পগুলো লিখে শেষ করেছেন। শব্দচয়ন খুবই সুন্দর ছিলো। লেখায় খুব বেশি বানান ভুলও চোখে পড়েনি। খুব ধীরেসুস্থে লিখার গতি এগিয়েছে এবং সবগুলো গল্পের বর্ণনাতীত কোয়ালিটি ছিলো অসাধারণ। যার কারণে বইটা পড়তেও কোনো অসুবিধা হয়নি। বেশ চমৎকার ভাবে তিনি সব ঘটনার ব্যাখা দিয়েছেন। তাছাড়াও তিনি লিখায় কোনোরকম কমতি দেন নি। প্রতিটা লাইনকেই সহজ করে তুলেছেন যাতে পড়তে সহজ হয়। বইঃ নিষাদ অরন্য লেখকঃ সরওয়ার পাঠান প্রথম প্রকাশঃ অমর একুশে বইমেলা ২০২৩ মূল্যঃ ২৫০৳ ব্যক্তিগত রেটিংঃ ০৮/১০























