

Buy আমাদের কথা Online in Bangladesh
লেখক: বিজয়া রায়
- Author: বিজয়া রায়
- Publisher: আনন্দ পাবলিশার্স (ভারত)
- Isbn: 9788177566871
- Number Of Pages: 574
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Publisher,2008
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
"আমাদের কথা" বইয়ের ফ্ল্যাপের লেখা: এমন বর্ণময়, আলােকময়, চিত্রময় জীবনযাপন অবিরল। আত্মীয়তার বন্ধন সত্ত্বেও পারস্পরিক সম্মান ও ভালবাসাকে মর্যাদা দিয়ে তাঁরা দু'জন সংসার পেতেছিলেন। সংসারের ভেতরে-বাইরে, কাজের জগতে একে অন্যের পরিপূরক হয়ে উঠেছিলেন অচিরেই। এঁদের নিরবচ্ছিন্ন দাম্পত্যজীবন একদা কিংবদন্তির মর্যাদা পেয়েছিল। এঁরা হলেন সত্যজিৎ রায় ও বিজয়া রায়। প্রবাদপ্রতিম চলচ্চিত্রস্রষ্টার সহধর্মিণী জীবনের প্রান্তসীমায় এসে হাতে কলম তুলে নিলেন। নিজেদের জীবনস্মৃতি লেখার কোনও তাগিদ বাইরে থেকে ছিল না। কিন্তু অন্তরের গভীরে থাকা বহু ঘটনা, বহু জানা-অজানা কাহিনি, বহু মানুষের মুখ তাঁকে এই অনন্য স্মৃতি-ইতিহাস লেখার প্রেরণা দিয়েছে। নিজের জীবনের শৈশব থেকে যৌবন, তারপর ‘মানিক’ সত্যজিতের সঙ্গে পর্ব থেকে পর্বান্তরে যেভাবে বাহিত হয়েছে তাঁর প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি দিন—সে কথা অকপটে, সনিষ্ঠায়, বিস্তারিতভাবে লিখেছেন তিনি। ‘আমাদের কথা’র পরতে পরতে ব্যাপ্ত হয়ে আছে যে-বহুবর্ণী কাহিনি, তা জানতে না-পারলে মানুষ ও স্রষ্টা সত্যজিৎ সম্পর্কে অনেক কথা অজানা থেকে যেত। হারিয়ে যেত নানা তথ্য, অনেক মুখ। অবলুপ্ত হত সময়ের অজস্র দিচিহ্ন। এই গ্রন্থে স্মরণীয় হয়ে রইল সেই অপরূপ অতীত এবং অনতিঅতীত।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

বেশ অনেকদিন সময় নিয়ে বইটা পড়লাম। একটানা পড়ার মত বই বলবো না, অল্প অল্প করে - প্রতিদিন একটু একটু করে পড়েছি। সত্যজিৎ রায় এবং তার জীবনকাল, পরিবেশ, নিত্যদিনের সুখ-দুঃখঃ বিজয়া রায় সবকিছু নিয়ে এসেছেন এই বইয়ে। একজন লেখক, একজন পরিচালক, ফেলুদার স্রষ্টা, একজন অস্কার-বিজয়ী এবং আরো অনেক কিছু- সবকিছু দুই মলাটের মধ্যে বেঁধে ফেলা যায় না - কখনোই না। কিন্তু সেই চেষ্টা করেছেন বিজয়া রায়, বেশ সফলভাবেই। প্রথম চল্লিশ-পঞ্চাশ পৃষ্ঠা পড়তে গিয়ে দুই-একবার বোরিং লেগেছিল, কিন্তু বাকি সাড়ে পাঁচশ পৃষ্ঠা পড়তে গিয়ে আর একবারও তা মনে হয়নি। বরং মনে হয়েছে বারবার, রায় পরিবারের অন্দরমহলের গল্প এই বই। লেখায় একদম সহজ ভাষায় উঠে এসেছে ঐ সময়ের রাজনীতি, বিশিষ্ট শিল্পী, অভিনেতাসহ অসংখ্য মানুষের নাম। এসেছেন রবীন্দ্রনাথ, উত্তম কুমার, চিত্তরঞ্জন, কখনও বা ইন্দিরা গান্ধী। আধুনিকতা ব্যাপারটার সত্যিকার সংজ্ঞা পেলাম মনে হয় এই বইয়ে। আজ থেকে আরো অর্ধ-শতাব্দী আগের সমাজে সত্যিকারের আধুনিকতাকে কিভাবে হৃদয়ে ধারণ করতে হয় লিখেছেন বিজয়া রায়। বেশ অনেকদিন ধরে এই বইটা আমার অভ্যাস হয়ে গিয়েছিল। আমি মনে হয় না কোনো বই এভাবে পড়েছি আগে কখনো। রায় পরিবারকে, মঙ্কুকে (বিজয়া রায়) কেন যেন নিজের খুব কাছের মনে হচ্ছিল এক সময়। একদম শৈশব থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত - একাধিক জীবনকাল, অসংখ্য স্মৃতির খণ্ডাংশ - সব আছে এই বইয়ে। শেষের দিকে 'মানিক' (সত্যজিৎ রায়ের)-এর অবস্থা যখন খারাপ হচ্ছিল - আমারও হুট করে চোখ ভিজে ভিজে আসছিল। জানিনা কেন। সত্যজিৎ রায় খুব ভাগ্যবান ছিলেন, এমন একজনকে পেয়েছিলেন স্ত্রী হিসেবে। অনেকবার মনে হয়েছে, উনার জগদ্বিখ্যাত হবার পেছনে মঙ্কু'র অবদান এবং ত্যাগকে ছোট করে দেখার উপায় নেই কোনোভাবেই।
বিজয়া রায়ের ‘আমাদের কথা’ ভুবনবিখ্যাত চিত্রপরিচালক সত্যজিৎ রায়, তার পত্নী বর্তমান গ্রন্থের লেখিকা বিজয়া এবং তাদের পরিবারের এবং প্রসঙ্গত বিশ শতকে উচ্চশিক্ষিত তথা উচ্চ মধ্যবিত্ত বাঙালির জীবনকাহিনি। যখন ‘দেশ’ পত্রিকায় এই রচনাটি ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়, তখন বাঙালি পাঠক এক মহান কীর্তিমান বাঙালির জীবনকথা তথা তাঁর সৃষ্টিকর্মের সামাজিক পটভূমির বিবরণ হিসাবে মহা উৎসাহে লেখাটিকে সংবর্ধনা জানায়। প্রচণ্ড সামাজিক বাধা কাটিয়ে ওঁরা বিবাহসূত্রে মিলিত হয়েছিলেন। বিয়ের পর সত্যজিতের মাকে বিজয়া প্রশ্ন করেন, ‘এখন তােমাকে আমি কী ডাকব?’ শাশুড়ি উত্তর দেন, ‘এতদিন পিসীমা ডাকতে। এখন পিসীটা বাদ দিয়ে শুধু মা বলে ডেকো। সত্তর-আশি বছর আগেকার বাঙালি হিন্দু সমাজের সঙ্গে যাঁদের কিছুমাত্র পরিচয় আছে, এই আপাত-সহজ উক্তিটি কত উদার মানবিকতায় ভাস্বর তা তারা বুঝবেন। বাঙালি নিন্দাপ্রবণ, বাঙালি হুজুগে, বাঙালি আতিশয্যপ্রিয় এইসব অভিযােগের পেছনে হয়তাে কিছুটা সত্যি আছে। কিন্তু প্রতিভাবান বাঙালিকে যে অবারিত শ্রদ্ধাভক্তি ভালবাসা দিয়ে শিক্ষিত বাঙালি গর্বের ধন বলে মাথায় করে রাখে, তার পেছনে যে গভীর মানবিকতা, তাকে অস্বীকার করি কী করে? সত্যজিতের জীবনকাহিনি শিক্ষিত বাঙালির কাছে সুপরিচিত, তাঁর প্রতিটি কীর্তি, জগৎ-জনের কাছে পাওয়া তাঁর প্রতিটি সম্মান অপরিসীম আনন্দে বাঙালি প্রায় নিজেদের ব্যক্তিগত গৌরব বলেই গ্রহণ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে সেই অসামান্য জীবনকথা তারা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসরণ করেছে। কিন্তু তার পেছনে যেসব অজ্ঞাত কাহিনি রয়েছে, তাঁর পত্নী সেসব পাঠকের চেতনাগােচর করলেন। আম আঁটির ভেঁপু-র জন্য ছবি আঁকতে গিয়ে সত্যজিৎ প্রথম ‘পথের পাঁচালী’র সন্ধান পেলেন, ‘পথের পাঁচালী ছবি তােলার আগে উনি কখনও গ্রাম দেখেননি—এ সব কথা কি সহজে বিশ্বাস করা যায়? বিজয়া লিখেছেন, টাকাপয়সা বা সংসারযাত্রা নিয়ে সত্যজিৎ কখনও মাথা ঘামাতেন না। ওঁর শিল্পীচিত্ত ভােগবিমুখ ছিল না, কিন্তু বিষয়ী মানুষ উনি নন। বিজয়া একবার নিতান্তই ন্যায্য প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, আবহসংগীত রচনার জন্য ওঁর প্রাপ্য টাকা উনি নেন না কেন। সত্যজিতের উত্তর: নিলে প্রযােজকের আর্থিক কষ্ট হতে পারে। এ জাতীয় দুশ্চিন্তা আর কোনও পরিচালক কখনও করেছেন কি না জানি না। এরকম আরো অনেক কিছু জানার জন্য পড়ুন, বিজয়া রায়ের 'আমাদের কথা'























