

Buy চৌথুপীর চর্যাপদ Online in Bangladesh
লেখক: প্রীতম বসু
- Author: প্রীতম বসু
- Publisher: বাতিঘর প্রকাশনী
- Number Of Pages: 448
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2022
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
যোজনগন্ধার দিনটা সাধারণভাবে শুরু হলেও হঠাৎ করেই গতিপথ পালটে গেল পত্রিকায় ছাপা একটা ছোট খবরে। একটা মূর্তি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাচীন ঐ বৌদ্ধ মূর্তির পাশে পাওয়া গেছে একটা লাশ। নিহত ব্যক্তি আর কেউ না, নৃশংস সন্ত্রাসী ডন ছেত্রীর ছেলে। প্রাচীন ভাষা ও লিপি বিশেষজ্ঞ যোজনগন্ধা তাৎক্ষণিক ছুটে যায় সেখানে। এদিকে যোজনগন্ধা ক্যান্সারের সাথে লড়ছে, পরিস্থিতি সুবিধার না। তবুও কৌতূহল বলে কথা। সেই প্রাচীন বৌদ্ধমুর্তি অবলোকিতেশ্বরের গায়ে সিদ্ধম ভাষায় লেখাটির পাঠোদ্ধার করাতেই যেন তার জীবনের সফলতা। তবে চাইলেই কী সব সহজে ঘটে? তাহলে আর গল্প কী করে হবে? প্রেক্ষাপটে হাজির নিষ্ঠুর ছেত্রী, চলে আসলো আরেক ভিলেন মামাজী। সাথে আছে প্রাচীন একটা পুঁথি, যেটার লেখিকা স্বয়ং জ্ঞানডাকিনী গন্ধকালী। এই গন্ধকালীকে খুঁজতে চৌথুপীতে অতীতেও রক্ত বন্যা বয়েছে। কেন? পুঁথিতে লুকিয়ে আছে সব প্রশ্নের উত্তর। অনিচ্ছাকৃতভাবে সঙ্গী হিসেবে হাফি হাবিলদারকে সাথে নিয়ে শুরু হলো যোজনগন্ধার অদ্ভুত এক অ্যাডভেঞ্চার। প্রাচীন বাংলা, প্রাচীন বাংলা ভাষার লিপি, তখনকার বৌদ্ধতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা, সেই সাথে প্রাচীন বাংলার লিপি, ইতিহাস, ভাষা এবং সেইসাথে ‘চর্যাপদ’-কীভাবে হবে এসব রহস্যের সমাধান? বর্তমান সময়ের অন্যতম থ্রিলার লেখক প্রীতম বসুর অত্যাশ্চর্য উপন্যাস চৌথুপীর চর্যাপদ পাঠককে তার নিজের প্রাচীন গৌরবের উজ্জ্বল ইতিহাসের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবে।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

ইতিহাসকে কেন্দ্র করে লেখা এই থ্রিলার বইটি আমাকে প্রীতম বসুর অন্যান্য লেখা পড়তে উৎসাহী করেছে। যত টুকু সহজ ভাবে বইটি পাঠকদের কাছে তুলে ধরা যায় লেখক তা করেছেন। যাদের ইতিহাস ভিত্তিক থ্রিলার পড়তে ভাল লাগে তাদের জন্য বইটা পড়ার সাজেশ রইলো।

========= কাহিনী সংক্ষেপ ========== বাবা ডক্টর বুধাদিত্য চ্যাটার্জির মতোই তার মেয়ে যোজনগন্ধা বিখ্যাত একজন পুরাতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ। বাঙ্গালীর সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সংস্কৃতির অনুসন্ধান করতে করতেই একদিন যোজনগন্ধার বাবাও ইতিহাসের অংশ হয়ে যান। বাবার মৃত্যুটা অনেকটা রহস্যাবৃত থাকলেও বাবার অধরা স্বপ্ন পূরণ করার দৃঢ় প্রত্যয় নেয় তার যোগ্য উত্তরসূরী মেয়ে। অনেক বছর পর হঠাৎই ড. চ্যাটার্জির অন্তর্ধানস্থলে বৌদ্ধধর্মীয় অবলোকিতেশ্বরের একটি মূর্তি আবিষ্কারের পাশাপাশি একটি লাশও খুঁজে পাওয়া যায়। বাবার মৃত্যু রহস্য ও বাঙ্গালীর গোঁড়া দুটোই আবিষ্কারের নেশায় নিজের ক্যান্সার থাকা সত্ত্বেও ছুটে যায় ঘটনাস্থলে। সদ্য আবিষ্কৃত সেই মূর্তির পেছনে পাওয়া যায় সিদ্ধম ভাষায় লেখা এক ছড়া- “গঅণ পদুমা রঅণ আঠাশ পাখুরী দিবসই ন দিঠঠে অচ্ছই অন্ধারি। নিসিঅ উদ্ধমেরুত ণিচল পেখই পরিমানহ থাব গন্ধকালী ভণই।।” ইতিহাসে পাতায় হারিয়ে যাওয়া এই কি সেই গন্ধকালী! যার অস্তিত্ত্ব এখনো রহস্যাবৃত। সেখানে যাওয়ার পর সৌভাগ্যক্রমে চৌথুপীর মিউজিয়ামের অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারিন্টেন্ডেন্ট ডক্টর নলিনী রক্ষিতের মাধ্যমে কথিত গন্ধকালীর লেখা এক চর্যাপদের পুঁথি হাতে আসে যোজনগন্ধার। পুঁথিটি যতই পড়ে ততই সিদ্ধম ভাষায় অসাধারণ দক্ষতা বিশিষ্ট যোজনগন্ধার সামনে নতুন এক অজানা ইতিহাস উন্মোচিত হতে থাকে। কিন্তু যুগ যুগ ধরেই আলোর পেছনেই অন্ধকারের অবস্থান। পুঁথির অজানা জ্ঞানের নির্যাস খুলে দিতে পারে নতুন এক সম্ভাবনার দুয়ার। যা ভালো ও মন্দ দুই কাজেই ব্যবহার করা সম্ভব। যোজনগন্ধাকে কেন্দ্র করে তাই কতিপয় ক্ষমতাবান ও ষড়যন্ত্রকারী ব্যক্তির মদদে শুরু হলো নতুন এক জিম্মি দশার নাটক। ========= পাঠ প্রতিক্রিয়া ========== ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাসগুলো বরাবরই আমার খুব প্রিয়। লেখকের এর আগের কোন বই আমি পড়িনি। তাই তার লেখা নিয়ে কোনও ধারণা আমার ছিলো না। পুরো বইটি যেমন কোন দুর্দান্ত গতির থ্রিলার ছিলো না, আবার ইতিহাসের কচকচানিতে ভরা কোন প্রগৈতিহাসিক বইও ছিলো না। দুইটি টাইম লাইনে লেখা বইটির দুইটি সময়ের কাহিনী বিন্যাস লেখক এমন সুন্দর করে তুলে ধরেছেন যে ঠিক যে মুহূর্তে যে সময়ের কাহিনী একজন পাঠক শুনতে চাইবে ঠিক তখনই যেন সেটা হাজির! দুর্দন্ত গতি না থাকলেও পাতার পর পাতা পড়ে গিয়েছি শুধু কাহিনীর আকর্ষণে। দুটো টাইমলাইনেই দুইজন নারীর জ্ঞানগম্ভীর আচরণের ছাপ ছাড়াও সে সময়ের পাল রাজাদের সমাজ ব্যবস্থা, সামাজিক নানা কুসংস্কার ও বর্ণপ্রথা, মুসলিমদের আগমন ও ভারতের বিভিন্ন অংশ বিজয়, বৌদ্ধবিহারগুলোর ধ্বংস, বৌদ্ধদের নেপালে গমন ইত্যাদি উঠে এসেছে বইতে। আর পুরো বইতে চর্যাপদের বিভিন্ন শ্লোক, পদসমূহের বর্ণনা ও অন্তর্গত ব্যাখ্যাগুলো এমনভাবে দেয়া হয়েছে যে পাঠক নিজেই এক অদৃশ্য আগ্রহ অনুভব করতে বাধ্য হবেন সকল রহস্যোদ্ধারের জন্য। সকল ইতিহাস আশ্রিত বইগুলোর মতো কাহিনীর প্রয়োজনে কিছুটা ইতিহাস বিকৃতির উপস্থাপন এখানেও লক্ষ্যণীয়। মধ্যযুগে ইতিহাসের কাহিনী যেভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, তাতে মুসলিমদের শুধুই খলনায়ক হিসেবেই উপস্থাপন করা হয়েছে যার মধ্যমণি করা হয়েছে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মাদ বিন বখতিয়ার খলজিকে। ইতিহাস সচেতন যেকোন পাঠককে বিষয়টি বিবেচনায় নিতে অনুরোধ করবো। আরোও ভালো লেগেছে মধ্যযুগে দুই জ্ঞানী ব্যক্তির তর্ক দেখে। মনে হচ্ছিল নিজে দর্শক হিসেবে উপস্থিত সেটা উপভোগ করছি। মোটের উপর বলতে গেলে বইয়ের সাথে সময়টি আমার দারুণ কেটেছে। প্রোডাকশনঃ কভার ডিজাইন আমার কাছে মোটামুটি লেগেছে। অন্যদিকে বইয়ের বাইন্ডিং, ফন্ট সাইজ, পৃষ্ঠার কোয়লিটি ভালো ছিলো। বানান ভুলও তেমন একটা চোখে পড়েনি। ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৮/১০।

পৃথিবীতে যদি জাতির পরিচয়ে মানুষকে ভাগ করা হয় তবে সর্ব প্রথম আমরা বাঙালি জাতির কাতারে গিয়ে পড়বো। জাত, কাল, ভাদ্র মিলিয়ে পৃথিবীর ত্রিশ কোটি বাঙালি আমরা। যার আদি গোষ্ঠীর বাসস্থান থেকে শুরু করে আজ অব্দি এই এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণে বসবাস। সেই কলিযুগের আগে থেকে আজ পর্যন্ত বাঙালির পদচারণা রয়েছে পুরো পৃথিবী জুড়ে। তবু বাঙালির জন্মস্থান এই দক্ষিণ এশিয়ায়। তবে বাঙালির আদিকাল সম্পর্কে পৃথিবীর অন্য জাতি দূরে থাক খোদ বাঙালি কতটুকু জানে তা কি কখনো পরখ করেছি আমরা? চার হাজার বছর পূর্বে বাংলাকে গঙ্গারিডি বলেই জানতো রোম, গ্রিকের সম্রাট তথা মানুষেরা। এরপর বৈদিক যুগ, গুপ্ত, মৌর্য ইত্যাদি সাম্রাজ্য ভারতবর্ষে শাসন করে গেছে যার দরুন বাংলাতেও এদের শাসনের আধিপত্য বিস্তারের দাগ রয়ে গেছে পরতে পরতে। এরপরে আসে পাল বংশ। বইয়ের পাতা থেকে হোক অথবা বাঙলা ভাষা থেকে হোক পাল বংশকে ইতিহাসের শুরু থেকেই বহু বাঙালি চেনে। কিন্তু কেন চেনে? শুধু চারশো বছর অথবা বাংলার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি শাসন করেছিল বলেই কি পালরা ইতিহাসের স্বর্ণাক্ষর ছাড়াও মানুষের মনে গেঁথে আছে? না কি এর পেছনে রয়েছে আরও গূঢ় কিছু বাঙালিয়ানা? প্রশ্নের সমাগম চলতে থাকলে চৌথুপীতে হয়তো আরেকটা সঙ্ঘরাম ধ্বংস হয়ে যাবে তবুও প্রশ্নের বান শেষ হবে না। ধর্ম, মানুষের এক দুর্বল দিক৷ তাকে রক্ষা করার জন্য মানুষ নিজের জীবনও বলি দিতে পিছুপা হয় না। কিন্তু ধর্মকে কেন্দ্র করেও অনেক অপকর্ম হয়৷ কোনো ধর্মই এটা অস্বীকার করতে পারে না। সব গুচ্ছ বিষয় যখন এলোমেলো হয়ে আবার একগুচ্ছে পরিণত হয় তখন এলোমেলো করে দেওয়া মানবমনে এক দ্রোহের জন্ম নেয়। সে দ্রোহে হয়তো জ্বলে কলিযুগের কয়েকশো কোটি মানুষ। গুরুগম্ভীর কথা আরও অনেক বলা যাবে। যে বই পড়ে শেষ করেছি তা দৈর্ঘ্যে ততটা বড়ো না হলেও ইতিহাসে এর বিস্তর প্রভাব রয়েছে বলেই মনে করি। সেই বুদ্ধ থেকে শুরু করে বর্তমান আবার মহাভারত থেকে শুরু করে পাল বংশ এত এত টাইমলাইন থেকে উঠে আসা এই বইকে একখানা চর্যার গীতি বলে আখ্যা দিলে লোকে নাকচ করার সাহস রাখবে বলে মনে হয় না। কী সেই চর্যা যা নিয়ে ১৯০৭ সালে তিব্বত থেকে আবিষ্কারের পর মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এবং আচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়, ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্র মতো জ্ঞানীগণ দীর্ঘ নয় বছর বিশ্লেষণ করে ১৯১৬ সালে তা বাংলার কবিতা বলে স্বীকৃতি দেন? যদি বাংলায়ই তা রচিত হলো তবে কেন নেপালের রাজদরবারে তার সন্ধান মিলল? এই সব সূত্র একজায়গায় এসে চৌথুপীর চর্যাপদ বইতে মিলিয়েছেন লেখক প্রীতম বসু। সুবিন্যস্ত আলোচনা করার আগে আখ্যান থেকে ঘুরে আসি চলুন। ★ আখ্যানঃ আর্কিওলজিস্ট যোজনগন্ধা চ্যাটার্জি খবরের কাগজে একটা খবর দেখে চমকে ওঠেন। চৌথুপীতে বৌদ্ধ ধর্মের সবথেকে বেশি পূজিত মূর্তি অবলোকিতেশ্বরের পাশে একটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে একটা খবর প্রকাশিত হয় পত্রিকায়। এবং তার পাশে সিদ্ধং লিপিতে লেখা আছে অবোধ্য এক ভাষা। কিন্তু আর্কিওলজিস্ট যোজনগন্ধার কাছে তা অবোধ্য রইলো না। তিনি সেই ভাষা ডিকোড করে বুঝতে পারলেন ইতিহাসের পাতায় লেপ্টে থাকা কোনো এক গুণীর বিবরণ দেওয়া আছে ওতে। এবং মূর্তিটি যে জায়গায় পাওয়া গেছে সেখানে ইতিহাসের একসময় তার বিচরণ ছিল৷ লোকে তাকে অসত্য বলে মানতো এতদিন। কিন্তু তিনি মূর্তির পেছনে সেই ভাষায় লেখা বাক্যের অর্থ বুঝতে পেরে ক্যান্সারের সার্জারি বাদ দিয়ে রহস্যের গন্ধে চলে যান সেই চৌথুপীতে। যেখানে তার বাবাও একই রহস্য অনুসন্ধান করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন। ঘটনাক্রমে চৌথুপীর মিউজিয়ামে থাকা আরেক আর্কিওলজিস্ট নলিনী রক্ষিতের সাথে আলাপের পরে জানতে পারেন তার বাবা একটা পুরোনো পুঁথি পেয়েছিল মারা যাওয়ার আগে যা এতদিন নলিনী রক্ষিত কাকে দেবে তা ভেবে পাচ্ছিল না। হঠাৎ যোজনগন্ধার উদয়নে তিনি সেই পুঁথি তাকে দেন। এই পুঁথিতেই লুকিয়ে আছে সেই গুণীর ইতিহাস। কিন্তু তা বর্ণনা করা আছে সন্ধ্যা ভাষা এবং সিদ্ধং লিপিতে এবং তা ডিকোড করতে পারে অল্প কিছু মানুষ। তার মধ্যে যোজনগন্ধা একজন। তিনি সাথে করে নিয়ে যান সেই পুঁথি যাতে করে তিনি ডিকোড করতে পারেন তার ভেতরের ইতিহাস। এটা ডিকোড করার আরও কিছু কারণ ছিল। সেই গুণী কায়দা করে পুঁথির ভেতর লুকিয়ে রেখেছিলেন এক তথ্য। কয়েক হাজার গুপ্তপুঁথির তথ্য। এ সকল বিষয় যখন উদ্ধার করার সিদ্ধান্ত নেন যোজনগন্ধা ঠিক সেসময়ে তিনি এবং পুলিশের এক কর্মচারী টেরোরিস্টের হাতে কিডন্যাপড হন। ব্যস এরপর শুরু হয় মৃত্যুখেলা এবং ইতিহাসের যারপরনাই বিচরণ৷ তারা কী পেরেছিল বের করতে সেই গুণীর ইতিহাস এবং গুপ্তপুঁথির সন্ধান? যদি বেরই করে তবে কী ছিল সে গুণীর ইতিহাস? উত্তর খুঁজতে হলে পড়তে হবে বই। ★ মূল রিভিউঃ আখ্যানে অনেক কিছু স্পষ্ট হলেও হয়নি এর কারুকার্যতা। প্রথমে যা দিয়ে শুরু করবো তা হলো চর্যাপদ। সন্ধ্যা বা সান্ধ্য ভাষায় রচিত হওয়া কিছু পাদ বা সংকলনকে বলা হয় চর্যাপদ। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী মূল চর্যাপদ আবিষ্কার করার পরেও অনেক চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয়েছিল। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শশিভূষণ দাসগুপ্ত ১৯৬৩ সালে নেপাল এবং তআই অঞ্চল থেকে অজস্র চর্যাপদ আবিষ্কার করেছিলেন যা পরবর্তীতে ১৯৮৯ সালে নব চর্যাপদ নামে প্রকাশিত হয়েছিল। ড.মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ বা সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে ১২০০ সাল অব্দি চর্যার রেওয়াজ ছিল। কিন্তু আসলে এর পরেও গোপনে চর্যার সংকলন চলমান ছিল। প্রায় তিনশো সাল পর্যন্ত চলেছিল৷ ঠিক এই সময়কেই প্লট ধরে নিয়ে লেখক প্রীতম বসু তার বই রচনা করেছেন। অর্থাৎ ১২০৫ সালের দিকে বাংলায় তুরস্কের আক্রমণের সময় একজন জ্ঞান ডাকিনী গন্ধকালীকে নিয়ে গল্প এগিয়ে নিয়ে গেছেন। চৌথুপীর চর্যাপদ বইটিতে লেখক দুটো টাইনলাইন ব্যবহার করেছেন। প্রথমটা ২০১৬ সাল এবং দ্বিতীয়টা ১২০৫ সাল। গল্পের আকারে তুলে ধরেছেন সে সময়কার বাংলার রীতি। হিন্দু বা বৌদ্ধদের আচার আচরণ। প্রসঙ্গ আসে হিন্দু আর বৌদ্ধ কি একই সমাদরে গাঁথা কি না? স্বামী বিবেকানন্দ তার এক বক্তিতায় বলেন হিন্দু ধর্মের পূর্ণ প্রকাশ হচ্ছে বৌদ্ধ ধর্ম। এছাড়াও সনাতন ধর্মের বিশ্বাস বুদ্ধ বিষ্ণুর দশাবতারের একটি। সেদিকে পরে যাবো আগে আসি বইয়ে কীরূপ আকারে ধর্মতত্ত্বের ব্যাখ্যা প্রীতম বসু দিয়েছেন সেদিকে। দুটো টাইমলাইনেই বইটির প্রধান চরিত্র ছিল একজন মেয়ে। একাধারে ১২০৫ সালে একজন কেবট্ট (কৈর্বত্য- হিন্দুদের শূদ্র জাতের একটা অংশ) নারীর সাথে সমাজের কী হেরফের অন্যদিকে ২০১৬ সালে টেররিস্টদের হাতে বন্দী হওয়া এক ক্যান্সার রোগী নারীর ইতিহাস উদ্ধার করার গল্প নিয়েই তৈরী হয়েছে এই বই৷ প্রথম টাইমলাইন তিনি সরাসরি বর্ণনা করেননি। সেই পুঁথির মাধ্যমে যোজনগন্ধাকে দিয়ে ডিকোড করিয়েছেন। অর্থাৎ ইতিহাস পড়ার মতো করে করেছেন লেখক। বাংলায় সে সময়ে জাতের মাধ্যমে কীরূপ ভেদাভেদ তৈরি করা হতো তার নিদারুণ দৃশ্য লেখক প্রীতম বসু এই বইতে তুলে ধরেছেন। অবশ্য হিন্দু ধর্ম অনুযায়ী অনেকক্ষেত্রে এসব এখনও মানা হয়। ব্রাহ্মণরা এখনও কোনো নিচু জাতের খাবার স্পর্শ করলে তাদের জাত যায় বলে চলমান আছে। এমনকি সে সময়ে নিচু জাতের কারও জ্ঞান আহরণেও কত বড়ো বাঁধা আসতে পারে তা এই বই না পড়লে আমি জানতাম না। নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় বা বিক্রমশীল মহাবিহার সে সময়ের প্রধান বিদ্যাপীঠ ছিল বলেই মনে করেন অনেক ঐতিহাসিকরা। বইতে সেরকম বিদ্যাপীঠের মতো একটা বিদ্যাপীঠ তৈরি করে প্রীতম বসু তার গল্পে। নাম দেন চৌথুপী সঙ্ঘারাম। যেখানে বৌদ্ধ আচার্যগণ তাদের অনুচরদের রীতিনীতি শেখাতেন। এই চৌথুপী নিয়ে পুরো কাহিনি আবর্তিত হয়েছে। চারটি স্তুপ থেকে চৌথুপী নামকরণ করা হয়। সে সময়ের সমাজের হাল স্বরূপ এবং গুরুদের ভক্তি কতখানি বিন্যস্ত ছিল তার বিস্তর আলাপ লেখক করেছেন বইতে। বজ্রযানীদের কারুকার্য থেকে শুরু করে হীনযানী, মহাযানীদের মধ্যকার যে সংঘর্ষ বা দলাদলি তার বিপুল সংমিশ্রণ বইতে রয়েছে। এবং তার অধকাংশই সত্য। আশ্রিত থ্রিলার আশ্রয় যখন সত্য বলে বিবেচিত হয় তখন এর প্রতি শ্রদ্ধা বেড়ে যায়। তুরস্কের বর্বরতার কথাও উল্লেখিত হয়েছে বইতে। তবে তার অধিকাংশই বানোয়াট। সমালোচনা অংশে এর বিস্তারিত আলাপ করবো। সে সময়ের জ্ঞান গাম্ভীর্যের যে তর্কাতর্কি কতটা উচু স্থানের অধিকার পেতে পারে তারও বর্ণনা রেখেছেন লেখক। জ্যোতির্বিজ্ঞান থেকে শুরু করে ঔষধিবিদ্যা। নীতি থেকে রীতি সে সময়ের কিছুই লেখক বাদ দেন নাই। লেখকের প্লট নির্বাচন দারুণ বলবো। অর্থাৎ ইতিহাসের একটা হারানো নক্ষত্রকে অবলোকন করে লেখক সেটাকে আবার হারিয়ে ফেলে একটা সন্ধ্যা ভাষার পদ দিয়ে উদ্ধার করার ভার ছেড়ে দিয়েছেন বর্তমানের ঐতিহাসিক এবং আর্কিওলজিস্ট যোজনগন্ধার হাতে। এরকম বৌদ্ধ ধর্মকে কেন্দ্র করে প্লট নির্বাচন করা চাট্টিখানি কথা না। এর জন্য লেখককে প্রায় পঞ্চাশটা বইয়ের টীকা বা সাহায্য নিতে হয়েছিল যা বইয়ের শেষে উল্লেখ করা ছিল। এছাড়াও বর্তমানের টাইমলাইনে তিনি রেখেছেন এক বিশাল ভূমিকা। যেখানে ইতিহাস উদ্ধার ছাড়াও ছিল অনেক প্রগাঢ় বিষয়। ভালোবাসার বন্ধন, টাকার খেলা, জোচ্চুরির কারসাজি, টেরোরিস্টদের আক্রমণ, ডাকাতদের ভূমিকা ছিল অতুলনীয়। ★ পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ ইতিহাস বা মিথলিজি আশ্রিত থ্রিলার মূলত চমকের শেষ রাখে না বলেই মনে করি৷ এটাও ব্যতিক্রম কিছু করেনি। যেমনটা পীড়িত হচ্ছিলাম সে সময়ের সমাজের কলুষিত দিক দেখে আবার ঠিক ততটাই চমকপ্রদ হচ্ছিলাম ইতিহাসকে বর্ণনা করার ভঙ্গি দেখে। নিঃসন্দেহে এই বই আমার পড়া বেস্ট বইয়ের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে তবে একটু খোরাক যেন থেকেই যায়। তা নিম্নে তুলে ধরবো। বইটি আমি দুই চারদিনে শেষ করেছি। উপভোগ করেছি এর নব্বই ভাগের ওপরে। ১২০৫ সালে একজন আঠেরো বছর বয়সী শূদ্র জাতের মেয়ে বিশাল জ্ঞানী ব্রাহ্মণদের তর্ক যুদ্ধে হারায় তা দেখে বুকের ভেতরে উচ্ছ্বসিত হয়েছিল বারংবার। মূলত তার প্লটের প্রথম টাইমলাইনই ছিল আমার কাছে আগ্রহের শীর্ষে। জ্ঞানের কাছে জাত যে মাথা নত করে তার ঢের উদাহরণ মহাভারতে থাকলেও সমাজে ছিল না। অন্তত বৈদিক যুগের পর তো না-ই। সেখানে এরকম ফিকশনাল ক্যারেক্টারের বাচন ভঙ্গি বলার মহিমা মুগ্ধ করেছে আমাকে। এছাড়াও মহাভারতে বর্ণিত যুদ্ধ কত সালে হয়েছিল তা নির্ণয় করা, বিভিন্ন ঔষধের বিবরণ দেওয়া ইত্যাদি জ্ঞান গাম্ভীর্য বিষয় ছিল অত্যন্ত লোভনীয় মাত্রার। সন্ধ্যা ভাষার চর্যাগুলো লেখক নিজে সাজিয়েছেন দেখে চমকে উঠেছিলাম। আসলেই লেখক বেশ খেটেছেন বইটির জন্য। বর্তমানের টাইমলাইনও সাজিয়েছেন সুন্দর করে। এতটুকু ফাঁক রাখেননি লেখক সেক্ষেত্রে। ★ সমালোচনাঃ সমালোচনার দিক বইতে না থাকলেও যতটুকু রয়েছে ততটুকুতে যে কারোই বিভ্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে অনেক। ইতিহাস আশ্রিত থ্রিলারে ইতিহাস বিকৃত নতুন কিছু না। তবে সেই ইতিহাস যদি কোনো ধর্মের পরিপ্রেক্ষিতে গিয়ে দাঁড়ায় তবে তা অন্যায্য বলে বিবেচিত হয় বলে মনে করি। বইয়ে তুরুস্কের বৌদ্ধদের বিরুদ্ধে আক্রমণ এতটাই অমানবীয় ভাবে তুলে ধরা হয়েছে যে দেখে আশ্চর্যান্বিত হয়ে গিয়েছিলাম। লেখক বর্ণনা করেছেন যে তুর্কিরা বৌদ্ধ বা হিন্দুদের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালায়। বিহার গুড়িয়ে দেয় এবং নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় সহ অন্যান্য বিহার গুড়িয়ে দিয়েছিল। এবং তাতে মসজিদ বা মক্তব তৈরি করেছিল। মূলত ইতিহাস ঘাটলে এটা একটা বানোয়াট কাহিনি বলেই মনে হবে। তুর্কিরা কখনোই নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় বা অন্যান্য কোনো বিহার আক্রমণ করেনি। অথবা নির্বিচারে বৌদ্ধ হত্যা করেনি। এর যথেষ্ট প্রমাণ ও ভিত্তি রয়েছে। তুর্কিরা মূলত ওদান্তপুর বিহারে আক্রমণ করেছিল। নালন্দা বা অন্যান্য কোনো বিহারেই আক্রমণের উল্লেখ পাওয়া যায়নি। এক্ষেত্রে বলা যায় সাতশো শতাব্দিতে পাল বংশের আগমনের আগে বৌদ্ধদের প্রধান শত্রু ছিল রাজা শশাঙ্ক। তিনি নির্বিচারে বৌদ্ধ নিধন করেছিলেন। তারপর পাল বংশ এসে আবার বৌদ্ধ বিস্তার লাভ করে। এর প্রধান কারণ ছিল সহজিয়া বৌদ্ধদের ভূমিকা। যদিও হীনযানী বৌদ্ধরা সদ্ধর্মীদের দুচোখেও দেখতে পারতো না। এরপরে পাল বংশের পতনের পর সেন রাজারা আবার নির্যাতন চালায় বৌদ্ধদের ওপরে। বরঞ্চ তুর্কি আগমনে বাংলার বৌদ্ধরা হাফ ছেড়ে বেঁচেছিল বলা যায়। তখনকার ব্রাহ্মদের দ্বারা পরিচালিত সমাজে নিচু জাতদের বৌদ্ধ বা হিন্দুদের অবস্থা ছিল শোচনীয়। মূলত একজন ত্রাণকর্তার অপেক্ষায় ছিল সবাই। সেই সময়ে বখতিয়ার খলজির আগমন ঘটে বাংলায়। তিব্বতী বুদ্ধ ঐতিহাসিক কুলাচার্য জ্ঞানানশ্রীর বিবরনী থেকে জানা যায় মগধ থেকে এক দল ভিক্ষু মির্জাপুরে গিয়ে বখতিয়ারের সঙে দেখা করে তাকে মগধকে মুক্ত করতে আবেদন করেন (Journal of the Varendra Research Society, Rajshahi, 1940)। তাঁর আগমনে ব্রাহ্মণ্য শাসনের অবসান ঘটে। বৌদ্ধরা মুসলিম শাসনকে স্বাগত জানায়। দীনেশ চন্দ্র সেন তার পর্যবেক্ষণে বলেন, "বৌদ্ধগণ এতটা উৎপীড়িত হইয়াছিল যে তাহারা মুসলমানদের পূর্বকৃত শত অত্যাচার ভুলিয়া বিজয়ীগণ কর্তৃক ব্রাহ্মণ দলন এবং মুসলমান কর্তৃক বঙ্গবিজয় ভগবানের দানস্বরূপ মনে করিয়াছিল। শূন্যপুরাণের ‘নিরঞ্জনের উষ্মা’ নামক অধ্যায়ে দেখা যায়-তাহারা (বৌদ্ধরা) মুসলমানদিগকে ভগবানের ও নানা দেবদেবীর অবতার মনে করিয়া তাহাদের কর্তৃক ব্রাহ্মণ দলনে নিতান্ত আনন্দিত হইয়াছিল। ইতিহাসে কোথাও একথা নাই যে সেনরাজত্বের ধ্বংসের প্রাক্কালে মুসলমানদিগের সঙ্গে বাঙালি জাতির রীতিমত কোনো যুদ্ধবিগ্রহ হইয়াছে। পরন্তু দেখা যায় যে বঙ্গবিজয়ের পরে বিশেষ করিয়া উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে সহস্র বৌদ্ধ ও নিম্নশ্রেণীর হিন্দু, নব ব্রাহ্মণদিগের ঘোর অত্যাচার সহ্য করিতে না পারিয়া ইসলাম ধর্ম গ্রহণপূর্বক স্বস্তির নিশ্বাস ফেলিয়াছে। (ড. দীনেশ চন্দ্র সেন, বৃহৎ বঙ্গ, পৃষ্ঠা-৫২৮) এছাড়াও বইয়ে বর্ণিত আছে যে তুর্কিরা বর্বরতার মধ্য দিয়ে ইসলাম ধর্ম প্রচার করেছিল। এটাও ভুল। ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজি আসার পূর্বেই বাংলায় ইসলাম ধর্ম ঢুকে গিয়েছিল। মূলত বৌদ্ধ বা হিন্দুদের ধর্ম পরিবর্তন করার মূলে ছিল ব্রাহ্মণ্য সমাজ এবং তাদের কট্টর হিন্দুয়ানী রীতি৷ যেখানে জাত ভেদে সবাইকে পরিমাপ করা হয়। নৃশংসতা হয়নি এমন না। তবে তা কোনো সিভিলিয়ানদের ওপর হয়নি। হিন্দু বা বৌদ্ধদের মুসলিম হওয়ার পেছনে আরেকটা কারণ যেটা ছিল তা হলো সতীদাহ প্রথা। পাল রাজাদের আমলেও এর বিচরণ যে ছিল তা চৌথুপীর চর্যাপদ বইতেও পাওয়া যায়। এই প্রথার ভয়ে বহু হিন্দু বা বৌদ্ধ এমনকি ব্রাহ্মণরাও দলে দলে মুসলিমদের কাতারে ভীড় করেছিল। এছাড়াও বইতে উল্লিখিত এক চরিত্র চাণক্য কবিরাজের ব্যবহৃত মুসলিমদের যুদ্ধনীতি সম্পর্কে ভুল বর্ণনা করেছেন লেখক। মুসলিমদের যুদ্ধ নীতি সম্পর্কে ধারণা থাকলে তিনি তা বলতেন না বোধহয়। হাফি হাবিলদারকে মাগরিবের নামার পড়ানোর জায়গায় মাঘ্রিব বলাটাও কেমন যেন অশোচনীয় লেগেছে। একটা ধর্মকে কেন্দ্র করে আরেকটা ধর্মকে নিচু করা অনুচিত কাজ যদিও তা ফিকশন হয়। সিদ্ধং লিপিকে সিদ্ধম বলে কেন টানলো তাও বুঝিনি। সংস্কৃতর ব্যবহার রোধ করতে করেছেন মনে হয়। ★ চরিত্রায়নঃ চরিত্রায়ন ছিল অমায়িক। যে চরিত্রের যতটুকু বিশ্লেষণ দরকার ঠিক ততটুকুই লেখক করেছেন। প্রধান দুই চরিত্র গন্ধকালী এবং যোজনগন্ধার নামের মধ্যে যে মিল তিনি রেখেছেন তা বই না পড়লে বোঝা যাবে না। সবচেয়ে মজাদার চরিত্র ছিল হাফি হাবিলদারের চরিত্র। শেষের দিকে তার নামের হাফ-হাফ বিষয়টা দারুণ লেগেছে। এছাড়াও পুরো উপন্যাসে তার কৌতুকপূর্ণ মন্তব্য উপন্যাসটি নির্দ্বিধায় পড়তে সাহায্য করেছে। কিছু জায়গায় আপন মনে হেসে উঠেছিলাম। মামাজী চরিত্রটা আরেকটু বিস্তারিত আলোচনা করা যেত যদিও প্রেক্ষাপট ছিল না তেমন। বিমলা, অর্জুন, ভাণু চরিত্রগুলো আসলেই আমাদের অপরাধ জগতের একটা করুণ দিক ফুটিয়ে তুলেছিল। আর সবচেয়ে আশ্চর্যান্বিত চরিত্র ছিল লামা। তার জ্ঞানময় কথা যেন সবাইকে বিমুগ্ধ করেছিল বইতে। পাশাপাশি গন্ধকালীর টাইনলাইনে খু-স্তোন, শ্রীধর আচার্য, বাগছী, আচার্য শান্তভদ্র, গোপা, দিবাকর, মুনিয়া ইত্যাদি চরিত্র ছিল মনে রাখার মতো। এদের বিবরণ, বাচনভঙ্গি নিখুঁত ছিল। ★ লেখনশৈলীঃ লেখকের লেখনশৈলী দারুণ। এত দারুণ ভাবে জ্ঞানের কথা বলা যায় তা এঁনার বই পড়েই বুঝেছি। যদিও ইতোপূর্বে বহু ইতিহাসের বই অধ্যয়ন করা হয়েছে তবে এমন বিষয়ের উপর উপন্যাস পড়া আসলেই সৌভাগ্যের বিষয়। সে সময় বহু চর্যাচর্য হারিয়ে গিয়েছিল। সেইরকম এক চর্যাকে কেন্দ্র করে এরকম উপন্যাস তিনি বর্ণনা করেছেন তা প্রশংসার যোগ্য নিঃসন্দেহে। তবে কিছু জায়গায় আরেকটু হাত বুলানোর দরকার ছিল বলে মনে করি। লিখতে লিখতে কিছু কিছু জায়গায় 'ল' বর্গের ছন্দ চলে এসেছিল যা দৃষ্টিকটু লেগেছিল। বানান ভুল ছিল না কোনো। একরকম একটাও চোখে পড়েনি। তবে প্রমিত বানান ভুল ছিল। যদিও বইটি কলকাতার তাই সমস্যা মনে করিনি। ★ উপসংহারঃ একসাথে জ্যোতির্বিদ্যা, মূর্তি তত্ত্ব, বৌদ্ধ ধর্মের রীতি, ইতিহাস, মহাভারতের যুদ্ধ, শ্লোকের তর্ক, মেডিসিন, আর্কিওলজি, বজ্রযান, বজ্রসাধনা, কাহ্নপা-লুইপাদের চর্যাগীতির উদাহরণ, জাত ভেদে বর্ণনা এত কিছু পাওয়া অসম্ভব সেখানে পেয়ে গেছি সুতরাং ভালো লাগার বিষয় প্রগাঢ়। নিশ্চয়ই এই বই সংগ্রহে রাখার অবকাশ রাখে। ইতিহাসের সাথে আশ্রিত এত সুন্দর একটি আখ্যান যার শেষে রয়েছে প্রণয়ের উদাহরণ তা অবশ্যই পাঠের যোগ্য। নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক অ্যাডভেঞ্চারে ছিলাম এ কয়দিন। মনে হয়েছিল মৃত্যু বুঝি সাথে সাথে চলছে। এই বুঝি যোজনগন্ধার সাথে আমিও পাহাড়ারে চূড়ায় উঠেছিলাম মৃত্যু থেকে পলায়ন করতে আবার এই মুহূর্তে ফিরে গিয়েছিলাম সেই তেপান্তরে যেখানে বজ্রযানীরা তাদের মধ্যরজনীতে মৈথুনের ধ্যান করছে। নারী পুরুষের সেই মিলন যা যোজনগন্ধাকে টেনে নিয়ে গিয়েছিল তর্কে। যা না হলে হয়তো ইতিহাসের পাতা থেকে মুছে যেত গন্ধকালী ওরফে সঞ্জীবনী। অর্থাৎ যে মরে না। কেন মরে না এই প্রশ্নের উত্তর রয়েছে বইতে। মহাভারতে হনুমান যখন পুরো পাহাড় তুলে নিয়ে এসেছিল লক্ষ্মণকে বাঁচাতে একটা গাছ খুঁজে না পেয়ে সেই গাছের নাম জানতে হলেও পড়া উচিত বইটি। এবং তার সাথে আজকের পৃথিবীর কী সম্পর্ক রয়েছে তারও বিবরণ দেওয়া আছে বইতে। বইঃ চৌথুপীর চর্যাপদ লেখকঃ প্রীতম বসু প্রকাশনীঃ বাতিঘর প্রকাশকালঃ ফেব্রুয়ারি ২০২২


প্রশ্ন ও উত্তর (Q/A)
এটি কি ভারতীয় বই?
প্রিয় গ্রাহক, বইটি বাংলাদেশী প্রকাশনীর। ধন্যবাদ।
এটি কি ভারতীয় বই?
প্রিয় গ্রাহক, বইটি বাংলাদেশী প্রকাশনীর। ধন্যবাদ।























