

Buy ব্লাডস্টোন Online in Bangladesh
লেখক: নাজিম উদ দৌলা
- Author: নাজিম উদ দৌলা
- Publisher: প্রিমিয়াম পাবলিকেশন্স
- Isbn: 9789849928690
- Number Of Pages: 304
- Language: বাংলা
- Edition: 3rd Edition, 2025
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
দিন-দুপুরে চুরি হয়ে গেল মহামূল্যবান "ব্লাডস্টোন"!চোর রেখে গেছে একটি ছোট্ট চিরকুট, যাতে লেখা —"অ্যামিতিস, তোমাকে ভালোবাসি..." কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, প্রত্যক্ষদর্শীদের কেউই কিছু মনে করতে পারছে না! বাধ্য হয়ে ডিবি ইন্সপেক্টর মনসুর হালিম শরনাপন্ন হলেন 'প্রফেসর ডাবল আর' নামে খ্যাত ইতিহাসের শিক্ষক ড. রুদ্র রাশেদ-এর।দুজনের যৌথ অনুসন্ধানে খুলে গেল আড়াই হাজার বছর আগের এক অনন্ত রহস্যের দুয়ার!"ব্লাডস্টোন" — এক মূর্তিমান অভিশাপ! যার শুরু হয়েছিল ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যানে। যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে: মহাবীর আলেকজান্ডার-এর মৃত্যু রহস্য,মুঘল বাদশাহ হুমায়ূন-এর দিল্লি পুনর্দখল, ইশা খাঁ আর প্রতাপাদিত্য-র দ্বৈরথ, কিংবদন্তি নিকোলো পাগানিনি-র সুরের সাধনা,আর শতাব্দী পুরনো ব্রিটিশ চক্রান্তের গোপন ইতিহাস! যুগে যুগে এই অভিশাপের বলি হয়েছেন কত রাজা! হারিয়েছে কত সন্তান তার পিতা, প্রেমিক তার ভালোবাসা! ঘটেছে যুদ্ধ, হয়েছে বিদ্রোহ — সহস্র মানুষ হারিয়েছে প্রাণ।তবুও...শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই অভিশাপের পেছনে ছুটছে মানুষ।আসুন, আমরাও ছুটি —দেখি, এই রহস্যের কোনো কূল-কিনারা আদৌ হয় কি না!📖 “ব্লাডস্টোন” – ইতিহাস, রোমাঞ্চ আর অভিশাপের এক বিস্ময়কর কাহিনি।আপনি প্রস্তুত তো
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
দারুণ,, তার লেখা পছন্দের বই এইটা

Historical কোনো কিছুই ভালো লাগে না, তবে এটা এমন একটা Historical বই, যে ভালো না লেগে উপায় নেই!!!

একটা অসাধারণ বই এটা, পড়া শেষ করলাম।

এই প্রথম লেখক নাজিম উদ দৌলার বই পড়লাম। ৪/৫ দিন আগে বইটা পড়ে শেষ করেছি। তবে আমি এখনো ঘোরের মধ্যে আছি। ঘটনাগুলো এখনো আমার চোখের সামনে ভেসে বেড়াচ্ছে। সম্রাট নেবুচাদনেজার আর তার স্ত্রী অ্যামিতিস হচ্ছে আমার সবচেয়ে প্রিয় চরিত্র। সম্রাট নেবুচাদনেজারের মৃত্যুর কাহিনি পড়ার সময় কান্না করেছি রীতিমতো। এক কথায় বলতে গেলে ব্লাডস্টোন আমার কাছে অসাধারণ লেগেছে।

“অ্যামিতিস,তোমাকে ভালোবাসি।" “অ্যামিতিসও আপনাকে ভালোবাসে, সম্রাট।” ভালোবাসা এমন একটা শব্দ যার গভীরতা অনেক।আসলে ভালোবাসা কি? ভালোবাসা বলতে একটা তীব্র আকর্ষন এবং মানসিক সংযুক্তির অনুভূতিকে বোঝায়। ভালোবাসার রং চাকা তত্ত্ব থেকে তিনটি প্রাথমিক, তিনটি মাধ্যমিক এবং নয়টি তৃতীয় স্তরের ভালোবাসার পরিচয় পাওয়া যায়,সেগুলোকে একটি রঙের চাকায় বর্ননা করা হয়।ভালোবাসা ত্রিভুজ তত্ত্ব পরামর্শ দেয় “ঘনিষ্ঠতা আবেগ এবং প্রতিশ্রুতি” ভালোবাসার মূল উপাদান। এই ভালোবাসার প্রতিদানরূপ আপনি কি কি করতে পারবেন? ভালোবাসার মানুষকে প্রতিশ্রুতি দিলে তা কি আদতেও রক্ষা করতে পারবেন? বইয়ের নামকরণ ও জনরা: নাজিম উদ দৌলার লেখা ঐতিহাসিক থ্রিলার জনরার বই ব্লাডস্টোন।শুরুতেই আসি ব্লাডস্টোন কি? ব্লাডস্টোন হলো এক ধরনের মূল্যবান পাথর বা রক্তপাথর।এই মূল্যবান রক্ত পাথর কিসের স্বাক্ষী বহন করে? আর ব্লাডস্টোন বইয়ের সাথে কি আদতেও এর কোনো যোগসাজশ রয়েছে? ব্লাডস্টোন বইটা ঐতিহাসিক থ্রিলার জনরার। ঐতিহাসিক উপন্যাসে ইতিহাসের কোনো সত্যঘটনা অবলম্বন করে ঔপন্যাসিক তার কল্পনার জাল বিস্তার করেন। কিছু সত্য চরিত্র আর কিছু কাল্পনিক চরিত্রের মিশ্রণে ঐতিহাসিক পটভূমি হয়ে ওঠে অর্থবহ।যেখানে ইতিহাস থেমে যায়,সেখান থেকেই শুরু হয় ঐতিহাসিক ঔপন্যাসিকের কল্পনার বিচরন। ইতিহাস আর ঐতিহাসিক উপন্যাস এক নয়।যা ঘটেছে শুধু তারই নির্ভেজাল বর্ননা গ্রন্থ হলো ইতিহাস।প্রমান ছাড়া কোনো তথ্য গ্রহণের বা তথ্যের অদল বদল ঘটানোর সামান্যতম স্বাধীনতাও ইতিহাসবিদদের নেই।কিন্তু যা ঘটেছে ঐতিহাসিক উপন্যাস শুধু তারই উপর নির্ভর করে লেখা হয় না।যা ঘটেছিল বা ঘটতে পারতো বলে অনুমান করা যায়- তাকেও উপন্যাস সমমর্যাদায় গ্রহণ করে।ফলে ইতিহাসের সত্য যেখানে শুধু ঘটনার সত্য,উপন্যাসের সত্য সেখানে ঘটনার সত্যের সঙ্গে ঔপন্যাসিকের বোধ,কল্পনা ও হৃদয়ের সত্যের এক সমন্বিত রূপ।ইতিহাস আর ঐতিহাসিক থ্রিলার জনরা কিন্তু সম্পূর্ণ রূপে এক নয়। আর ঐতিহাসিক থ্রিলার জনরার মিশেলে তৈরি বই হলো ব্লাডস্টোন। কাহিনি সংক্ষেপ: ঢাকার বিখ্যাত হোটেলে চলছিল অ্যান্টিক জুয়েলারির প্রদর্শনী।এ আবার যেমন তেমন কিছু নয়! রীতিমত আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী।জাতিসংঘের শিল্প সংস্কৃতি বিষয়ক একটি অঙ্গ সংগঠন এই প্রদর্শনীর আয়োজন করে।এশিয়া ও ইউরোপ ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রাচীন আমলের রানী-সম্রাজ্ঞীদের ব্যবহার্য গহনা আনা হয়েছে।এক একটা গহনার অ্যান্টিক ভ্যালু আকাশচুম্বী। কে জানে, হয়তো গোটা দশেক গহনার বিনিময়ে সমস্ত ঢাকা শহর কিনে ফেলা যাবে! আর সেই প্রদর্শনীতে কঠিন সিকিউরিটি ব্যবস্থার মধ্যেও সবার সামনে থেকে কোনো এক দুষ্ট-হতচ্ছাড়া এসে বুলেটপ্রুফ কাঁচ ভেঙে ইংল্যান্ডের রানীর সাধের গহনা নিয়ে চম্পট দিয়েছে! আর সেই গহনার নাম ছিল ব্লাডস্টোন। ব্লাডস্টোন চুরির রহস্য সমাধান করার জন্য তদন্তে নামে বাংলাদেশ গোয়েন্দা বিভাগের ইন্সপেক্টর মনসুর হালিম। চোর চুরি করার সময় একটা চিরকুট ফেলে যায়।যাতে লেখা ছিল,“অ্যামিতিস,তোমাকে ভালোবাসি।” কে এই অ্যামিতিস? কে ভালোবাসে তাকে? কেন চোর এই চিরকুট লিখেছে? কেন সে চিরকুট ফেলে গেলো? ব্লাডস্টোন চুরির পেছনের রহস্য ইতিহাসের পাতায় লিপিবদ্ধ।যার উদ্ধার করার জন্য মনসুর হালিম শরণাপন্ন হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের এসিস্ট্যান্ট ডাবল আর এর কাছে।তারা দুজন মিলে কি খুঁজে বার করতে পারবে ব্লাডস্টোন চুরির রহস্য? নাকি কেঁচো খুড়তে গিয়ে কেউটে বের হয়ে আসবে? ব্লাডস্টোন, এক মূর্তিমান অভিশাপ।যার শুরুটা হয়েছিলো ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যানে।এর সাথে জড়িয়ে আছে মহাবীর আলেক্সান্ডারের মৃত্যু রহস্য, জড়িয়ে আছে মুঘল বাদশা হুমায়ুনের দিল্লি পুর্নদখলের ইতিহাস, বারো ভূঁইয়া ইশা খাঁ আর প্রতাপাদিত্যের দ্বৈরথ, কিংবদন্তি নিকোলো পাগানিনির সুরের সাধনা আর আছে একশো বছরের বৃটিশ চক্রান্তের স্বরূপ। শতাব্দীর পর শতাব্দী জুড়ে এই অভিশাপের পেছনে ছুটছে মানুষ।আসুন, আমরাও ছুটি।দেখি, এই রহস্যের কোনো কূল কিনারা হয় কি না! পাঠপ্রতিক্রিয়া: ব্লাডস্টোন বইটা পড়ার পর একটা ঘোরের মধ্যে চলে গেছিলাম।বইটা একসাথে পড়ার সুযোগ পাইনি।সামনে পরীক্ষা থাকায় লুকিয়ে চুরিয়ে পরেছি।আর নাজিম উদ দৌলার অন্য কোনো বই পড়া হয়নি বিধায় তার লেখা সম্পর্কে তেমন একটা ধারনা ছিল না।আমি বিজ্ঞানের ছাত্রী হওয়ার দরুন ইতিহাস সম্পর্কে আমার কোনো ধারনা ছিল না।আর ব্লাডস্টোন বইটার ও অনেক রিভিউ দেখেছিলাম যার কারনে আমি আদী প্রকাশনীর বই পড়ার জন্য ব্লাডস্টোনকে বেছে নিয়েছিলাম।আর বইটা পড়ার পর বুঝলাম ইতিহাস আর ঐতিহাসিক জনরা এক নয়।আমার মাথাটা এখন বলতে গেলে শূন্য হয়ে আছে।কি লিখবো বুঝতে পারছিলাম না।তবুও লিখতে তো হবেই তাহলেই তো সবাই দারুণ একটা বইয়ের সন্ধান পাবে। ব্লাডস্টোনের যাত্রা শুরু হয় খ্রীস্টপূর্ব পাঁচশো পঁচানব্বই অব্দে মেসোপটেমিয়ায়।ব্লাডস্টোন দুই হাজার পাঁচশত বছরের পুরনো।খ্রীস্টপূর্ব ৩৫০০ হতে খ্রীস্টপূর্ব ৩০০০ অব্দের মধ্যে মেসোপটেমিয়া সভ্যতার উন্মেষ ঘটে।একে বলা হয় সভ্যতার আঁতুড়ঘর।সম্রাট সারগন ব্যাবিলন রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেন। খ্রীস্টপূর্ব ১৭৯২ অব্দে হামুরাবি ব্যাবিলন সম্রাজ্যের সম্রাট হিসেবে অধিষ্ঠিত হন।তার মৃত্যুর পর হিট্টাইট,ক্যাসাইট,ক্যালডিয়ান এবং অ্যাসিরিয়ান জাতি হাজার বছর ধরে ব্যাবিলনের ক্ষমতা হরন করে।খ্রীস্টপূর্ব ৬২৫ সালের দিকে নাবোপোলাসা এর নেতৃত্বে ব্যাবিলন আবার জেগে ওঠে।তার মৃত্যুর পর তার ছেলে নেবুচাদনেজার ক্ষমতায় আসেন।আর সম্রাট নেবুচাদনেজারের স্ত্রী হলেন অ্যামিতিস।যাকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে ব্লাডস্টোন ও ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান।তখনকার প্রাচীন মেসোপটেমিয়া ছিল রহস্যের আখড়া। ব্লাডস্টোনকে কেন্দ্র করেই উঠে আসে রাজা নাবোনিডাস,পারস্যের সম্রাট সাইরাস,“আখিম বাদাম" বা ব্লাড ব্রাদার্স যাদের পূর্ব পুরুষের রক্তে ব্লাডস্টোন তৈরি।এছাড়াও বর্ননায় উঠে এসেছে মহাবীর আলেক্সান্ডারের মৃত্যু রহস্য,বঙ্কিমচন্দ্রের ‘দূর্গেশনন্দিনী',ইসমাইল হোসেন সিরাজীর ‘রায় নন্দিনী'।যেখানে ঈশা খাঁ এর প্রতি কেদার রায়ের কন্যা স্বর্নময়ী এবং মাহতাব খাঁর প্রতি প্রতাপাদিত্যের কন্যা অরুনাবতীর প্রণয়ের টান বর্নিত হয়েছে। এছাড়া সম্রাট হুমায়ুন, কামরান মির্জা,আস্করি মির্জা,সেনাপতি আফতাব খান, রাজা প্রতাপাদিত্য,বারো ভুঁইয়া সহ আরো অনেক চরিত্রের কথা উঠে এসেছে।এমনকি লেখক মাদার তেরেসার মতো চরিত্রকেও ব্লাডস্টোন বইয়ে টেনে এনেছেন। এছাড়া আর একটা না বললেই নয়,ব্লাডস্টোনকে ঘিরে এত বড় বইয়ে সুরের কি কাজ।কেনই বা লেখক ভায়োলিনের সুরকে টেনে এনেছেন? ভায়োলিনের সুরের সাধনার জন্য তিনি টেনে এনেছেন কিংবদন্তি নিকোলো পাগানিনিকে।ক্যাপ্রাইস নাম্বার ২৪!পাগানিনির সুরের সাধনা!এমন এক অপার্থিব সুর যা সবাইকে মন্ত্রমুগ্ধ করে দেয়! ব্লাডস্টোন বইটাতে অতীত বর্তমান সব সমানতালে চলছিল।একটা প্লটের সাথে উঠে এসেছিল একাধিক সাবপ্লট। বইটা পড়ছিলাম আর নিজেকে আবিষ্কার করছিলাম অ্যামিতিস ও রাজা নেবুচাদনেজারের সময়ে,আবার কখনো মাহতাব খান আর অরুনাবতীর সময়ে,আবার কখনো পাগানিনির ভায়োলিনের সুরে মন্ত্রমুগ্ধের মতো ছিলাম। এক কথায় দারুণ একটা বই।অনেক ভালো সময় কেটেছে এবং বইটাকে উপভোগ করেছি।বারবার নিজেকে হারিয়ে ফেলছিলাম অতীতের রহস্য মণ্ডিত সময়ে। চরিত্রায়ন: ব্লাডস্টোন বইয়ে নানা চরিত্রের সমাবেশ ঘটেছে।অতীত তথা ইতিহাসের পাতা থেকে যারা এসেছে তাদের চরিত্রকে না ঘাটানোই ভালো। তবে বর্তমান সময়ে যাদের চরিত্র রয়েছে তাদের মধ্যে থেকে দুজনের কথা না বললেই নয় তারা হলেন, ডিবি ইন্সপেক্টর মনসুর হালিম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক ড. রুদ্র রাশেদ। মনসুর হালিমঃ বাংলাদেশ পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের ইন্সপেক্টর মনসুর হালিম।“ডিটেকটিভ" শব্দটা শুনলেই সবার চোখের সামনে ভেসে ওঠে খুব ব্যক্তিত্বসম্পন্ন একজন মানুষের প্রতিচ্ছবি।গম্ভীর প্রকৃতির একজন মানুষ, সারাক্ষণ চেহারায় একটা সিরিয়াস ভাব থাকে।ক্ষুরধার মস্তিষ্ক,বুদ্ধিদীপ্ত চিন্তা-ভাবনা, ভারিক্কি চাল-চলন।কথাবার্তা বলেন মেপে মেপে।কিন্তু ডিবি অফিসার মনসুর হালিম মোটেও তেমন নয়! সে আমুদে প্রকৃতির লোক,সারাক্ষণ খোশমেজাজে থাকে।খুব সিরিয়াস বিষয় নিয়েও হালকা রসিকতার সুযোগ পেলে ছাড়ে না! রহস্যের পেছনে ছোটার সময়টাকে উপভোগ্য করার জন্য তার চেষ্টার ত্রুটি থাকে না। তার দেওয়া লাস্টের টুইস্ট এর কথা কখনোই ভাবি নি। প্রফেসর ডাবল আরঃ ড. রুদ্র রাশেদ হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। ড. রুদ্র রাশেদ সম্পূর্ণ একা একজন মানুষ।বয়স চল্লিশ ছুঁই ছুঁই কিন্তু এখনো বিয়ে করেননি।তার ভালোবাসার পুরোটা জায়গা জুড়ে আছে ইতিহাস।পুরো উপন্যাসটাতে ব্লাডস্টোন চুরির রহস্য সমাধান করার ক্ষেত্রে মনসুর হালিমের সাথে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন ড. রুদ্র রাশেদ।তার ইতিহাস নিয়ে বলা প্রতিটা তথ্য ব্লাডস্টোন চুরির কেসটাকে নতুন মোড়ের দিকে নিয়ে গেছে।প্রতিটা মানুষের জীবনে যেমন একটা অতীত থাকে তেমনি প্রফেসর ডাবল আর এর ও একটা অতীত আছে।তার বলা প্রতিটা বক্তব্য ও যেনো সবাই মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনতো। প্রিয় লাইন: ১.❝দামি জিনিস চুরি করার জন্য ব্যবহার হয়েছে একটা জং ধরা পুরনো হাতুড়ি! এ তো মাটির সানকিতে কেএফসির বার্গার খাওয়ার নামান্তর!❞ ~মনসুর হালিম ২.❝স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড থেকে বাঘা বাঘা টিকটিকি পাঠাচ্ছে ইংল্যান্ডের প্রশাসন।❞ ~মনসুর হালিম ৩.❝শার্লক হোমস নাকি খুব ভাল বেহালা বাজাতে জানতো।এই শহরে জন্মালে সে বড়জোর নামকরা একজন বেহালা শিক্ষক হতে পারত।কারন তার ভয়ংকর বুদ্ধি এখানে কোনো কাজেই আসতো না!❞ ~মনসুর হালিম ৪.❝এমন কথা বলবেন না,মহারাজ! সামান্য প্রভুত্ব পেয়ে আত্মহারা হবেন না।ভুলে যাবেন না পরকাল আছে,বিচার আছে,জীবনের হিসাব-নিকাশ আছে।❞ ~মাহতাব খান ৫.❝অ্যামিতিস,তোমাকে ভালোবাসি!❞ ~সম্রাট নেবুচাদনেজার ৬.❝সব শিক্ষকরাই পড়াতে জানেন,কিন্তু মানুষ করে গড়ে তুলতে পারে ক'জন?❞ ~ড. রুদ্র রাশেদ ৭.❝প্রকৃতি যে সুন্দর তা তো জানিই।কিন্তু বঙ্গ ললনার সৌন্দর্য যে প্রকৃতির এই সৌন্দর্যকে হার মানাতে সক্ষম তা তো নিজের চোখেই দেখছি।❞ ~মাহতাব খান ৮.❝লোকে ইউনিফর্ম দেখে যে সম্মান দেয়,তা মন থেকে আসে না।মন থেকে আসা সম্মান পাওয়ার জন্য ভাল মানুষ হতে হয়।❞ ~মনসুর হালিম লিখনশৈলী: একজন লেখকের লিখনশৈলীর মাধ্যমেই পাঠকদের আটকে রাখতে পারেন।সেক্ষেত্রে নাজিম উদ দৌলার লেখা ব্লাডস্টোন বইটা পাস মার্ক পেয়ে অনেক আগেই উতরে গেছে।লিখনশৈলী এতটাই ভালো ছিল যে বইটা শেষ না করে কেউ উঠতে চাইবে না।পাঠকদের আটকে রেখে দিবে।নাজিম উদ দৌলার লেখা ব্লাডস্টোন বইটা পড়েই আমি তার লেখার ফ্যান হয়ে গেছি।এক একটা কাহিনি অনুধাবন করতে পারছিলাম।লেখার মাঝে নিজেকে হারিয়ে ফেলছিলাম।ব্লাডস্টোন বইটা লিখনশৈলী আর বর্ননাভঙ্গির মাধ্যমে প্রতিটা কাহিনি পাঠকদের কাছে বাস্তব রূপে ধরা দিতে বাধ্য। প্রচ্ছদ: প্রচ্ছদ নিয়ে কথা বলার জন্য আমার মনটা আকুপাকু করতে ছিল।শুনেছি লেখকই নাকি প্রচ্ছদটা করেছেন।প্রচ্ছদে দেখানো উপরের কভারে নারী অবয়বের গলার গহনায় পাঁচটি পাথর রয়েছে।তবে বইয়ে চারটি ব্লাডস্টোনের কথা বলা হয়েছে যা পেছনের কভারে লক্ষ্য করা যায়।এছাড়াও উপরের কভারে দেখানো ইমেজের সাথে আমি বইয়ের কাহিনির কোনো যোগসাজশ ই বুঝতে পারছিলাম না। ভালো না লাগার দিক: ব্লাডস্টোন বইটাতে ভালো না লাগার মতো কোনো কারন বা দিক খুঁজে পাইনি।ভালোবাসার মানুষকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা রক্ষার জন্য তা আদতেও কি সুখ বয়ে আনলো? ভালোবাসার মানুষের মুখে ভালোবাসার কথাটাও শুনতে পারলো না আফসোস।আমি আসলে ইমোশনাল মানুষ।কিছু কিছু মুহূর্তের কাহিনি পড়ে কান্না করেও দিছি। বানান ও সম্পাদনা,মলাট,বাঁধাই: হাতের পাঁচ আঙুল যেমন সমান হয় না তেমনি একটা বইয়েও হয়তো সামান্য ভুল ত্রুটি থেকেই থাকে।ব্লাডস্টোন বইটাতে বানান ভূল ছিল তবে তা সমস্যার উদ্রেক করে নি।আমি বানান ভূল নিয়ে তেমন কিছু বলতে চাই না।কারন কোনো কিছুই ভূল ত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়। এছাড়াও বইয়ের মলাট ও বাঁধাই শক্তপোক্ত ছিল।আর পৃষ্ঠাও বেশ ভালো ছিল। পরিশেষে: নিঃসন্দেহে বইটাকে উইশলিস্টে রাখতে পারেন।আর যারা উইশলিস্টে রেখেছেন সময় সুযোগ মতো সংগ্রহ করবেন।ওয়েস্ট অফ মানি মনে হবে না।বইটার সাথে একটা ভালো সময় কাটবে।আবার কোনো জায়গায় ভ্রমণের ক্ষেত্রেও বইটাকে সাথে নিয়ে ভালো মূহুর্ত উপভোগ করা যাবে। বই: ব্লাডস্টোন লেখক: নাজিম উদ দৌলা জনরা: ঐতিহাসিক থ্রিলার পৃষ্ঠা: ৩০৪ মলাট মূল্য: ৩৯৫ ৳ প্রকাশনা: আদী প্রকাশন ব্যক্তিগত রেটিং: ৪.৫/৫
প্রশ্ন ও উত্তর (Q/A)
গল্পটি কি ইতিহাস নিয়ে?
প্রিয় গ্রাহক, বইটি ঐতিহাসিক থ্রিলার উপন্যাস, ধন্যবাদ।
গল্পটি কি ইতিহাস নিয়ে?
প্রিয় গ্রাহক, বইটি ঐতিহাসিক থ্রিলার উপন্যাস, ধন্যবাদ।























