

Buy আগুন পাখি Online in Bangladesh
লেখক: হাসান আজিজুল হক
- Author: হাসান আজিজুল হক
- Publisher: দে’জ পাবলিশিং (ভারত)
- Isbn: 9788129508201
- Number Of Pages: 251
- Language: বাংলা
- Edition: 3rd Edition, 2014
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
"আগুন পাখি" বইয়ের ফ্ল্যাপের লেখা: গাঁয়ের একটি মেয়ে, বাপের বাড়ি শ্বশুরবাড়ির বাইরে সে জানে চারপাশের মানুষজনকে, যাদের মধ্যে বেশির ভাগই হিন্দু। হিন্দু বলে তারা যে আলাদা, তেমন তাে কিছু বােঝে না সে। গভীর মমতায় সে গড়ে তােলে তাদের বড় একান্নবর্তী সংসার, আর রাতের নিরালায়। স্বামীর কাছে শিখে নেয় অল্পস্বল্প লেখাপড়া। সুখদুঃখের নানা অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে সে দেখে কেমন করে তার স্বামী জড়িয়ে পড়ে। সামাজিক কাজে, হিন্দু-মুসলমান দুই সম্প্রদায়ের কাছেই কতটা প্রিয় এক নেতা হয়ে ওঠে সে। কিন্তু হঠাৎ যেন পালটে যায় সব। তাদের একান্নবর্তী সংসারেও ধরে ভাঙন, আর বাইরেও কোথা থেকে রব ওঠে। যে দেশটাও না কি হয়ে যাবে ভাগ। তা কী করে হয় ? দেশ আবার ভাগ হয় কেমন করে ? অবিশ্বাস্য সেই ঘটনাও সত্য হলাে। একদিন মুসলমান পাড়া-প্রতিবেশীরা চলে যেতে লাগল ভিটে ছেড়ে। পরিজনেরাও। ' কিন্তু সে? না, সে কিছুতেই যাবে না, 'কেননা, সে বলে : ‘আমাকে কেউ। বােঝাইতে পারলে না ক্যানে আলেদা একটো দ্যাশ হয়েছে, ...[কেন] এই দ্যাশটি আমার লয়। সেই মেয়েটির মুখের আটপৌরে ভাষায় বলা এ এক বুকভাঙা দেশভাগের গল্প।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

একজন কিশোরি যে তার মা, আর ভাইকে হারিয়ে জীবন শুরু করে, একদিন বিয়ে হয় একান্নবর্তী পরিবারে। সেখানে নিতান্তই একজন সদস্য যার তেমন বিশেষ কোন মর্যাদা ছিলো না, তার কাজ ছিলো ফি বছর শুধু সন্তান দেয়া, সারাদিন সংসারের কাজ করে যাওয়া, এর বেশি কিছু নয়, এমনকি নিজের সন্তানের বিষয়েও তার মতামত দেয়ার অধিকার ছিলো না, স্বামীর দিকে তাকিয়ে কথা বলতে পারতো না ভয়ে, পূরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম উদাহরণ বলা চলে। দিন তো থেমে থাকে না,সংসারের ঘাত প্রতিঘাতের সাথে মিশে যায় প্রকৃতি ও মানুষের সৃষ্ট আঘাত। সব দুর্যোগ কাটিয়ে যখন সংসারটা সোজা হয়ে দাড়ায় তখনই শুরু হয় মানুষিক আঘাত, ভেঙে যায় ৪০ জনের একান্নবর্তী পরিবার যা তার কাছে ছিলো সবচেয়ে আপনজন। তারপর একদিন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়, হিন্দু মুসলিম জাতি স্বত্বার দোহাই দিয়ে দেশ ভাগ হয়ে যায় । কিন্তু সে কেন পাকিস্থান যাবে ? মুসলিম হওয়ার অজুহাতে? যদি তাই হয় তবে মুসলিম দেশে হিন্দু কেন থাকবে আর হিন্দু দেশে মুসলিম কেন থাকবে ? এই প্রশ্নের উত্তর কারো জানা নাই, তাই সে ধর্মের ভিত্তিতে দেশ ভাগ মানতে পারেনি, সে পূর্ব পাকিস্থান যেতে অস্বীকার করে। যেখানে সে আছে ওটা তার দেশ, তার অস্তিত্বের সাক্ষী। তাই এক সময় সে সবাইকে ছেড়ে দেয় পাকিস্থান চলে যাওয়ার জন্য, শুধু বিশাল এক শুন্যতা নিয়ে ভিটেমাটিতে সে নিজে রয়ে যায়। জীবনের শুরুতে যেমন সে একা ছিলো, শেষেও তেমনি একাই রয়ে গেলো, এমনকি স্বামীও চলে গেলো। এই গল্প মূলত ১৯৪৭ সালের দেশ ভাগ সময়ের কিছুকাল আগের ও পরের সময়ের প্রেক্ষাপটে রচিত। এই গল্পে যেমন একজন কিশোরীর বার্ধক্য পর্যন্ত জার্নিটাকে বর্ণনা করা হয়েছে নানা ঘটনা, সামাজিক, পারিবারিক, ব্যক্তিগত ভাবনার মধ্য দিয়ে, তেমনি সময়ের বর্ণনায় আমরা দেখতে পাই প্রকৃতির কাছে মানুষ কতটা অসহায় ছিলো। যুদ্ধের ভয়বহতাকে আমরা দেখতে পাই নারীর বস্ত্রহীন থাকার মধ্যে দিয়ে। হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা চলাকালীন গ্রামের সাধারণ মানুষগুলোর প্রতিক্রিয়াও দেখতে পাই বিশেষ করে গ্রামের এই আটপৌড়ে বউটির আপন চিন্তার মধ্য দিয়ে। তার দেশ ভাগ হয়, পাকিস্থানের সৃষ্টি হয়। গ্রামের সাধারণ আটপৌড়ে গৃহবধু যে কিনা অতীতে কখনো তার স্বামীর মুখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে সাহস পায়নি, সেও তার শেকড় ত্যাগ করে পূর্ব পাকিস্থানের চলে যাবার প্রশ্নে আপোষহীন প্রতিবাদি হয়ে উঠে এবঙ স্বামীকে ত্যাগ করতেও তার এতটুকু কষ্ট হয়নি। তবে একটি কথা না বলে পারছিনা, তা হলো হাসান আজিজুল হক একজন বিখ্যাত কথা সাহিত্যিক, যার মূল পরিচয় তিনি খুব ভালো গল্প লিখেন। উপন্যাসের একদম শেষাংশে তার লেখনি অনেকটাই গল্প লেখার ঢংয়ে নিখেছেন বলে আমার মনে হলো।
জীবনসংগ্রামে লিপ্ত মানুষের কথকতা তাঁর গল্প-উপন্যাসের প্রধানতম অনুষঙ্গ। আগুনপাখি কেবল প্রথাগত চরিত্র নির্মাণ ও সংলাপ ধারণার বাইরের কোনো উপন্যাস নয় বলেই বলছি না, এর কাহিনীতে সেই অর্থে কোনো গল্প ফাঁদা নেই, বলবার মতো কোনো প্রণয় নেই, আকৃষ্ট করবার মতো ন্যূনতম কোনো যৌনতা নেই; এমন কি যে ভাষায় কাহিনীটি কথিত হয়েছে, সেই ভাষাটির সাথেও এদেশের অধিকাংশ পাঠকের বিশেষ কোনো যোগাযোগ নেই। কিন্তু তবুও আপনি পাবেন পাঠ করার তৃপ্তি।অন্যরকম এক অনুভুতির সাথে মিশে যাবেন আপনি,আপনার চারিপাশ। জীবনের এই মায়াজালে আপনার সংগতি,অসংগতির রেখা আর অনুপ্রেরণার হোতা হতে পারে বইটি।























