ইয়াসমীন
বই কালেকশন

Buy ইয়াসমীন Online in Bangladesh

লেখক: আফিফা মারজানা

4.79
(27 টি কাস্টমার রিভিউ)| স্টকে আছে
Highlights:
  • Author: আফিফা মারজানা
  • Publisher: পেনফিল্ড পাবলিকেশন
  • Isbn: 9789849718055
  • Number Of Pages: 160
  • Language: বাংলা
  • Edition: 2nd Edition, 2023
৳ 249৳ 32523% ছাড়
স্টকে আছে
উপলব্ধ প্রোমো কোডসমূহ:
দ্রুত ডেলিভারি
৭ দিনের রিটার্ন
১০০% অথেনটিক

পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)

গল্প-উপন্যাস কিংবা যেকোনো ধরনের বই পড়ুয়ারাই এক জীবনে অজস্র বই পড়ে থাকেন। যার সবগুলোর ভেতরের বিষয়বস্তু তো দূরের কথা, অনেক বইয়ের নামটাও হয়তো আমাদের মনে থাকে না। কিন্তু কিছু বই থাকে, যা আমাদের মনে জায়গা করে নেয় পরম আপন কোনো বন্ধুর মতো। সেসব বইয়ের কিছু চরিত্র যেন হয়ে যায় আমাদের সত্তার এক অংশ। শৈশবের অমলিন স্মৃতির মতো। চোখ বন্ধ করলেই যার দৃশ্য ভেসে ওঠে স্মৃতির ফ্রেমে। সাতটি গল্পের সংকলনে ‘ইয়াসমীন’ এমনই একটি বই। যেমনটা আমরা বলেছি, “পড়ে শেষ করার পরও পাঠকের কানে বাজতে থাকবে বিস্তীর্ণ মাঠের শেষপ্রান্তে থাকা পাহাড়ে প্রতিধ্বনিত হয়ে ফিরে আসা শব্দের মতো। শৈশব-কৈশোরের সোনাঝরা দিনগুলির মতো যা স্মৃতির ফ্রেমে থেকে যাবে দিনের পর দিন।” ঠিক এমনই এক অসহ্য সুন্দর অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে যাচ্ছেন পাঠকবৃন্দ।

রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

4.79
(27 টি কাস্টমার রিভিউ)
5
90%
4
5%
3
5%
2
0%
1
0%
Qomaruddin Farhan
Qomaruddin Farhan ভেরিফাইড
30 Jan 2026

ইয়াসমীন— লেখিকার প্রথম বই কিন্তু বইটি পড়ে তা বোঝার জো নেই। গল্পটা দারুণ। বাক্যগঠন শব্দচয়ন বানান সবকিছু প্রশংসনীয়। বিরক্তি তো মোটেও না বরং প্রফুল্লচিত্তে পড়ে শেষ করেছি। সবকিছু মিলিয়ে দারুণ লেগেছে।

880****256
880****256 ভেরিফাইড
11 May 2025

“ইয়াসমীন” আফিফা মারজানার লেখা সাতটি গল্পের সমাহার । বইয়ের শুরু হয়েছে “ইয়াসমিন” নামক এক স্মৃতি রোমন্থনের মধ্য দিয়ে। যেখানে শৈশবের স্মৃতি ঘেরা সময়, মান অভিমান, খুনসুটিতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ইয়াসমীন-মারজানের বন্ধুত্ব। ইয়াসমীনের আসমানি নীল জড়ির খামে মোড়ানো চিঠি মারজান যে নিগূঢ় যত্নে পড়ছিলো, তার প্রতিটি শব্দের ভাঁজে ভাঁজে স্মৃতির আলাপন লেখিকার দূরদর্শিতার প্রমাণ রাখে, সাথে আমার মতো অলস পাঠকের মনেও কৌতুহলের সৃষ্টি করে যা বইয়ের প্রতি টানটা বাড়িয়ে দেয় বহুগুণে। দুটি সত্তার মমতাস্পর্শী অতিত ও বর্তমানেরর সংমিশ্রণে ইয়াসমীন যেমন বাস্তব কিছু উপলব্ধি জাগিয়ে তোলে একইভাবে “তাহিরা” গল্পে তাহিরার প্রতি তার স্বামীর শরীফ বা বেঞ্জামিন অথবা মাসউদের আপন করে পাওয়ার নেশা এবং সেই অপেক্ষা নতুন কিছু ভাবতে বাধ্য করে। “সময়”-এ অর্থের কুপ্রভাব কিভাবে মনুষ্যত্ব ছিনিয়ে নেয় তার প্রতিফলন ও সুপারস্টারে নারীর সৌন্দর্যের সঠিক মূল্যায়ন প্রদর্শন ও করতালি মুখর পরিবেশ দিতে পারে না বরং সেই খ্যাতি নামক মরিচিকা যে নর্দমা তুল্য পরিবেশে আবদ্ধ করে তাতে সম্মানহানী ছাড়া কিছু এনে দেয় না তা “ আফিফা মারজান” স্পষ্ট করে ফুটিয়ে তুলেছেন। জীবনে উপলব্ধির গুরুত্ব সত্যিই অসীম, উপলব্ধি ছাড়া ভুল জীবন ভুলই থেকে যায়। “ইয়াসমীন”-এ যে বাস্তব জীবনের সূক্ষ্ম থেকে গৌণ ভুল গুলো লেখিকা ফুটিয়ে তুলেছেন তা পাঠকের মন-মস্তিষ্কে নাড়া দিয়ে যেতে বাধ্য। সবশেষে বলবো বাস-ট্রাম-রিক্সা যেখানেই হোক, হাতে এমন একটা বই থাকলে সময় পার হবে সুন্দর কিছু উপলব্ধির সাথে। 🌼

Review Upload 1
Review Upload 2
Sumaiya Binte Abdul Kadir
Sumaiya Binte Abdul Kadir ভেরিফাইড
04 Dec 2024

ইয়াসমীন বইটিতে মোট সাতটি গল্প আছে। সবগুলোই ছোটগল্প আর ছোটগল্পের ধর্ম অনুযায়ী গল্প শেষ হয়ে যায় কিন্তু মনের মধ্যে বাজতে থাকে সেই সুর ‘শেষ হয়েও হইলো না শেষ'। সাতটি গল্পের মধ্যে আমার কাছে ‘সুপারস্টার’ এবং ‘তাহিরা’ গল্প দু'টি একটু বেশি ভালো লেগেছে। ‘সুপারস্টার’ গল্পে লেখিকা আমাদের সমাজের তথাকথিত নায়িকা রূপের নার্সিসিস্ট মালিহার গল্প তুলে ধরেছেন। যারা ‘দেখিয়ে দাও অদেখা তোমায়’ স্লোগানে বিশ্বাসী। নিজেদেরকে দেখানোর নেশা যে একসময় প্রস্টিটিউটের কাতারে নামিয়ে আনে এবং সবকিছু বিকিয়ে যখন রিক্তহস্ত, নায়িকা তখন নিজের প্রাণনাশে উদ্ভুদ্ধ হয়; লেখিকা তাই চিত্রিত করেছেন। নারী হচ্ছেন ঘরের রানী। তার রাজত্ব কেবল তার ঘরেই বিরাজ করে। কেউ যদি তার রাজত্ব বাইরে স্থাপন করতে চায় তার মনে রাখা উচিত যে নারীর সৌন্দর্য ফুলের কোমলতার ন্যায়। ফুল যতোক্ষণ তার যথোপযুক্ত জায়গায় থাকবে ততোক্ষণই তার স্নিগ্ধতায় সৃষ্টির মহিমা ছড়াবে। আর যদি নিজের যথোপযুক্ত জায়গা ছেড়ে নর্দমায় নিজের স্নিগ্ধতা ছড়াতে যায় বিনিময়ে কেবল নর্দমার কীটপতঙ্গের ছোঁয়াতে নিজের কোমলতা ও স্নিগ্ধতা দুই-ই হারাবে। ‘তাহিরা’ গল্পের তাহিরার জন্য অনেক আক্ষেপ হচ্ছে তারচেয়ে বেশী হচ্ছে তার স্বামী শরীফ যে মরে গিয়ে বেঞ্জামিন হয়ে ভুগছিলো এবং তাহিরার দেখা পেয়ে তাকে আবার নিজের করে পাওয়ার হেতু বেঞ্জামিনকে মেরে আবার বেঁচে ওঠার নেশায় মাসউদ হয়েছে কিন্তু নিয়তি তাহিরাকে আপন করে পেতে দেয়নি। তাহিরার চিঠির সেই শেষ বাক্যটি ‘আমি আপনার অপেক্ষায় থাকব’ মাসউদ ওরফে বেঞ্জামিন ওরফে শরীফের কাছে রয়ে গেলো তাহিরার শেষ স্মৃতি হয়ে। মাসউদের মৃত্যুর পরই হয়তো তাহিরার সেই অপেক্ষা শেষ হবে। তারপর কি তাদের দেখা হবে?! ‘সময়’ গল্পে লেখিকা আমাদের সমাজের আরও একটি চিরাচরিত বিষয় তুলে ধেরেছেন; অর্থের কুপ্রভাব। সমাজের একশ্রেণির মানুষ যারা দারিদ্র্যকে কখনো মনুষ্যত্বের অন্তরায় হতে দেয় না, ভাঙা টিনের ঘরে ঘুমিয়েও মনুষ্যত্বকে সদা জাগ্রত রাখে দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত হৃদয়ে। যখনই ভাগ্য তাদের ওপর সদয় হন মন থেকে মনুষ্যত্ব যেনো তখন রকেটের গতিতে পালায়। সেলিম চরিত্রটি বড় হতাশ করেছে! মালিহাকে দেওয়া মুশফিকা বেগমের শেষ চিঠিতে কি ছিল সেটা অজানাই রয়ে গেলো। প্রথম ছয়টি গল্পে যে তৃপ্তি অধরাই ছিল সেটা সাত নম্বর গল্পে পেয়েছি। শেষের শেষটা ভালো হওয়াতে পূর্বের শেষের কষ্টগুলো লাঘব হয়েছে কিছু টা। বই: ইয়াসমীন লেখিকা: আফিফা মারজানা পাবলিকেশন: Penfield Publication

Rukaiya Prodhan Mukta
Rukaiya Prodhan Mukta ভেরিফাইড
25 Nov 2024

"বেশ কয়েকজন বই পড়ে ফেবুতে স্পয়লার দিয়েছিল! এখন রাগ হচ্ছে! মনে হচ্ছে স্পয়লার না দিলে গল্পটা আরও সুন্দরভাবে উপভোগ করতে পারতাম।" ;( [পড়ার সময়কালীন অনুভূতি] - ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ লিখালিখিতে খুব একটা দক্ষ নই আমি, রিভিউ দিতে তো আরোই না। শুধু একজন পাঠক হিসেবে অনুভূতি ব্যক্ত করার সামান্য প্রয়াস করে যাই। ভেবেছিলাম, 'গুলমোহর' পড়ে দুটোর রিভিউ একসাথে দিবো। কিন্তু গুলমোহর পড়ার পর আমার অনুভূতি প্রকাশের শব্দগুলো এলোমেলো হয়ে গেছে। ঠিক যেমনটা হয়েছিল ইয়াসমিন পড়ার পর। যেজন্য আমার আর রিভিউ লেখা হয়ে উঠে না। ভাবলাম, অগোছালো ভাবই খানিকটা প্রকাশ করে ফেলি, নয়তো বিভিন্ন টপিকের আড়ালে চাপা পরে যাবে। ইয়াসমিন বইয়ের নাম জানার পর আমার সর্বপ্রথম যেই চিন্তাটা এসেছিলো সেটা হচ্ছে, বইয়ের নাম কেনো তাহিরা হলো না! যার ক্যারেক্টরে আমি নিজেকে খুঁজতে চাইতাম। তাহিরাকে নিজের কাছে না রাখতে পারার আক্ষেপও ছিলো খানিকটা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তাহিরাকে পাই! প্রতীক্ষার শুরুটা সেইদিন থেকে, যেদিন বুকশপ থেকে ফোন করে বলা হলো এই বইটা স্টক আউট। ঐদিকে লেখিকা ঘোষণা দিয়ে বসে আছেন এই বই কয়েকবছরে পুনমূদ্রণের কোনো সম্ভাবনাই নেই! দীর্ঘ এই প্রতীক্ষা শেষ হলো ২৩ এ এসে! আমি জানি না, ঠিক কতদিন পর আমি একটা বই এভাবে টানা পড়ে শেষ করতে পেরেছিলাম! আমার এক উদাস দিনের সঙ্গী হয়ে রইল ইয়াসমীন ! বলেছিলাম বইয়ের নাম তাহিরা না হওয়ায় মন খারাপ হয়েছিল আমার। কিন্তু ইয়াসমীনকে জানার পর আমি ভেবে পাই নি এর থেকে ভালো নাম আর কিছু হতে পারে কি না! বইটিতে একঝাঁক গল্পগুচ্ছ রয়েছে আর রয়েছে প্রতিটা গল্পের নিজস্বতা। কিন্তু ইয়াসমীন আমার মনে এক দীর্ঘ প্রভাব রেখে গিয়েছে। এই প্রভাব আমি কখনো কাটাতে চাই না। বইয়ের প্রচ্ছদও এখন আমার পছন্দের তালিকায় চলে এসেছে। আমি আজকাল নার্সারিতে গিয়ে ইয়াসমীনের খোঁজ করি! ভাবা যায়? পাহাড় আর ঝর্ণায় তাহিরাকে খোঁজে বেড়াই! তাহিরা, ইয়াসমীন কিংবা ইয়াসমীন, তাহিরা! লিখতে গেলে শব্দ ভান্ডারের থাকা শব্দে কমতি বেড়িয়ে আসবে। গল্প পড়তে পড়তে চোখ মুছতে থাকা আমিকে বারবার দরজার দিকে খেয়াল করতে হয়! কেউ চলে না আসে! চলে আসলে নির্ঘাত উন্মাদ ভাববে! কোনো এক উদাস দিনে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে থাকা কষ্টগুলো নিজের আর রব্বের সামনে প্রকাশ করার মাধ্যমও যে 'বই পড়া' হতে পারে সেটা 'ইয়াসমীন' কে না পেলে হয়ত ভুলতেই বসেছিলাম। কেউ যখন কাঁদতে ভুলে যায়, ভুলে যায় অনুভূতি প্রকাশ করতে, তখন সে বুঝতে পারে অনুভূতি প্রকাশ করতে পারাও অনেক বড় নিয়ামাহ। 'ইয়াসমীন' কে নিয়ে অনেক কিছু লেখার ছিলো। এতো অল্প কথায় আমার জন্য ইয়াসমীনকে জাস্টিফাই করা সম্ভব হলো না। লেখিকার প্রতি কৃতজ্ঞতা, এজন্য যে, প্রতি বিকেলে একঝাঁক গীবতের আসরে না বসে ইয়াসমীন'কে নিয়ে বসা যাবে। গীবতের প্রভাবে প্রভাবিত হওয়া থেকে বাঁচতে ভালো একটা স্পেস পাওয়া যাবে ইয়াসমীনে! ইয়াসমীনের পাঠকদের প্রতি শুভকামনা রইল।

saf****om
saf****om ভেরিফাইড
24 Nov 2024

ইয়াসমীন ~ আমার কাছে আস্ত একটা জুঁইফুল, সুরভিত করে চারিদিক, উথাল-পাতাল ব্যাকুল … লেখিকা আফিফা মারজানা আপার এই বইটির প্রথম প্রকাশ হয় ২০১৯ সালে আর দ্বিতীয়বার প্রকাশিত হয় গতবছর, ২০২৩ সাল। আর আমার হাতে এসে পৌঁছেছে প্রায় সাড়ে ৫ বছর পর। এই বই হাতে আসার পর থেকেই কৃতুপা আমাকে কতোবার বলেছে, আগে ইয়াসমীন আর তাহিরা পড়ো তারপর গুলমোহর পড়ো। যখনই বলতাম কোনো বই পড়ে শেষ করেছি, ওর একটাই প্রশ্ন, ইয়াসমীন-তাহিরা আর গুলমোহর পড়েছো? গতরাতে যখন আবার বললো, এবার আল্লাহর নাম নিয়ে বসেই পড়লাম ইয়াসমীন পড়তে। শনিবার পার হয়ে রবিবারের মধ্যরাত, দেড়টা নাগাদ ইয়াসমীনের পাতা উল্টালাম। লেখিকার কথাগুলো আগেই পড়ে রেখেছিলাম, তারপরের পাতা উল্টাতেই সূচিপত্র, ছোটোবড় মোট ৭ টা গল্প একটা মলাটে বাঁধা। প্রথম গল্পটাই ছিলো ইয়াসমীন, মোস্ট রেকমেন্ডেড। আমি পড়তে শুরু করলাম, পাতা উল্টাতে থাকলাম। রাত গভীর হয়, চোখের পাতা ভারী হয়ে আসে। আর অসুস্থতা মস্তিষ্ককে আরো দূর্বল করে দেয়। কিন্তু বই ছেড়ে আমার উঠতে মন চাইছিলো না, মনে হচ্ছিলো আমিও ওদের সাথে মাদ্রাসায় বসে আছি, মনে হচ্ছিলো আমিও ছোটোবেলায় মাদ্রাসায় পড়ার আনন্দ কুড়িয়ে পাচ্ছি। তারপর, বই রেখে উঠে পড়লাম। ইয়াসমীন শেষ না করেই ঘুমাতে গেলাম, তাও ভাবছিলাম, মারজানের কাছে সেই রাতে চিঠিটা কীভাবে এলো? তারপর সকালে উঠেই ইয়াসমীন পড়ে শেষ করলাম, কেমন একটা অনুভূতি হলো যেনো, অবর্ণনীয়। মনে হলো আমি মারজানের জায়গায় দাঁড়িয়ে, কিছু একটা হারিয়ে হাহাকার করে যাচ্ছি। ইয়াসমীনকে আমি হয়তো আজীবন মনে রাখবো, সাথে সেই হাহাকার করা অনুভূতিটা নিখুঁতভাবে উপলব্ধি করবো। হয়তো কিছু সময়ের জন্য আমি মারজান হয়ে যাবো আবার! ইয়াসমীন শেষ করে পরের গল্পটা মনে হচ্ছিলো পানসে (সত্যিই এমন লাগছিলো), ভাবছিলাম সাধারণ। কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে গল্পের শেষটা আমাকে স্তব্ধ করে দিলো। কিছুক্ষণ ঝিম ধরে বসে ছিলাম। শুধু মনে হচ্ছিলো, হঠাৎ করে টাকা হলে মানুষের অমানুষ হয়ে যাওয়াটা কি বাধ্যতামূলক? সময় মানুষকে দুনিয়ার সবচাইতে করুণ পরিস্থিতিতেও ফেলে দেয়, সেটাই বলতে চাইছিলো এই “সময়” গল্পটা। আগের গল্পের এন্ডিং যখন মানতে পারছিলাম না, ঠিক তখনই পাতা উল্টে আসে “তাহিরা” লিখা পাতাটা, ঘোর কাটার পর দেখি আরেকটা গল্প এর আগে রয়ে গেছে, নাম “সুপারস্টার”। পড়তে গিয়ে আমার মাথায় ঘুরছিলো সেইসব নিষ্পাপ প্রাণগুলোর কথা যারা মালিহার মতোই দুনিয়াবি লোভে পড়ে সর্বস্ব হারিয়ে বসে। এই লাইনটা মনে হতে পারে স্পয়লার, কিন্তু আসলে তা না, পুরো গল্পটাই যেনো কেমন ঘোরলাগা, পড়ে শেষ করার পর যখন ঘোর কাটে আর মনে পড়ে আল্লাহ আমাদের কতটা হেফাজত করেছেন আলহামদুলিল্লাহ, শুকরিয়ায় যেনো মাথা সিজদাহ্তেই পড়ে থাকতে মন চাইবে। আমার মনে হয়েছে এই গল্পটা পরিবারের বাবা মা ভাই বোন সবাইকেই পড়ানো উচিত। এখানে একদিকে যেমন প্যারেন্টিং-এ ত্রুটি ফুঁটে ওঠে, অন্যদিকে এক মহীয়সী মায়ের দুনিয়া আর আখিরাতে সফলতার গাছ রোপণের চিত্রও ফুঁটে উঠেছে। আর আজকের দিনে কিছু মানুষ যাদের সুপারস্টার বা রকস্টার বলে বাহবা দিয়ে থাকে তাদের জীবনে যে আলো বলতে কিছুই নেই, এই গল্পটা তার প্রতিটি বাক্যে তা প্রমাণ করেছে। তারপরই আসে “তাহিরা”, ইয়াসমীন নিয়ে যেমন বেশি কিছু বলতে পারলাম না, তাহিরা নিয়ে আরো পারবো না। এক কথায়, “আমি বাকরুদ্ধ”। কেনো? উত্তর জানতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই পড়তে হবে, তারপর অনুভব করতে হবে। কিন্তু হ্যাঁ, এটা পড়ে আপনি অনুভব করতে বাধ্য, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”। “রক্তভাগ্য” গল্পটায় একটাই শিক্ষা পাওয়া যায়, আর তা হলো- নিজের ধারণাকে এক সাইডে রেখে কখনো কখনো সামনের মানুষটাকেও শুনতে হয়। রাগ অভিমান আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ, তাই বলে এটা ভুলে যাওয়া উচিত না, মুদ্রার দুই পিঠ বরাদ্দ। ছোটো গল্প, তবে বিশাল উপলব্ধির ভাণ্ডার হাতে ধরিয়ে দিয়ে চলে যায় “রক্তভাগ্য”। তারপরের খুবই সাদামাটা সত্য কাহিনীটা হলো “একজন মাজেদার গল্প”। সত্যি বলতে, তাহিরা শেষ করে আমি স্তব্ধতা কাটিয়ে উঠতে পারছিলাম না৷ কেমন বিষাদময় অনুভূতি! লেখিকাকে সামনে পেলে হয়তো কান্নাকাটি করে বলতাম কলম চালিয়ে পটভূমি পরিবর্তন করে দিন মিন ফাদ্বলিক। কিন্তু সেটা হচ্ছিলো না। তারপর যখন মাজেদার গল্প পড়ে শেষ করলাম, কেমন যেনো চিন্তায় হারিয়ে গেলাম। এই গল্পটা শেষ করে আপনার অনুভূতি কেমন হবে জানিনা, কিন্তু আমি নিজেকে শুধু প্রশ্ন করছিলাম, আর কখনো দেখা হবে না এমন কোনো মানুষের সাথে কি আমি এমন কিছু করেছি যা নিয়ে আমার অনন্তকালের আফসোস বয়ে বেড়াতে হবে? উত্তর খুঁজে পাইনি, তবে অস্থির হয়েছি খুব। এই মলাটের আশ্রয়ে থাকা শেষ গল্পটা “দিলরুবা”। একটা দিলরুবা এই মলাটে আটকে থাকলেও হাজার হাজার দিলরুবা আমাদের সমাজে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। কৈশোরের রঙিন চশমা নাকের ডগায় নিয়ে আলগোছে কল্পনা করা অন্ধকার ভবিষ্যৎটা তখন রঙিন চশমায় ঝকঝকে দেখায়। কিছু দিলরুবার জায়গা হয় অন্ধকার পল্লিতে, কিছু দিলরুবা ঝুলে পড়ে ফ্যানের সাথে। আর গুটিকয়েক যেই দিলরুবারা আল্লাহর অশেষ দয়ায় তাকদীরের জোরে বেঁচে ফেরে স্বাভাবিক জীবনে, তাদেরই একজন ইয়াসমীনের মলাটে আবদ্ধ হওয়া “দিলরুবা”। কি কুৎসিত অনুভূতি দেয়া শ্বাসরুদ্ধকর লেখনিতে দিলরুবা তার জীবনের কঠিন সময়ের বর্ণনা দিয়েছে তা না পড়লে তো বোঝাই যাবে না। অন্তত কিশোরীদের উপলব্ধি এটুকুতে পৌঁছাবে যে, পরিবার কখনো খলনায়ক হয় না। আর কেউ যদি প্রমাণ নিয়ে আসে তবে তা “এক্সেপশনাল”, দ্যাট ক্যাননট বি এন এক্সাম্পল! আল্লাহ আমাদের জীবনের কঠিন সময়গুলো সবরের সাথে পার হওয়ার তাওফিক দান করুন, আমিন। ইয়াসমীনের পাতা কি শেষ হলো? হয়তো... হয়তো না... খুব ধীরে ধীরে পড়ছিলাম বইটা, দ্রুত পড়ার অভ্যাসকে আজকে একপাশে বেঁধে রেখেছিলাম। তবুও কিছু জায়গা এতো বেশি ভালোলেগেছিলো যে, ফিরে এসে আবার পড়েছি। এই বইটার গল্পগুলো এমনভাবে সাজানো যেনো, প্রতিটা গল্পের শেষে লেখিকা আলাদা আলাদা অনুভূতি যুক্ত করে রেখেছেন। মনে হচ্ছিলো, গল্পের শেষ লাইন পড়া মানেই নতুন অনুভূতি মন মস্তিষ্কে অটোমেটিক গেঁথে যাবে। আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিক আপা, আমিন।

Review Upload 1
Review Upload 2

প্রশ্ন ও উত্তর (Q/A)

দুঃখিত, কোনো প্রশ্ন উত্তর পাওয়া যায়নি।

সাদৃশ্যপূর্ণ পণ্যসমূহ (Similar Products)