

Buy তিথিডোর Online in Bangladesh
লেখক: বুদ্ধদেব বসু
- Author: বুদ্ধদেব বসু
- Publisher: আজকাল প্রকাশনী
- Isbn: 984569084x
- Number Of Pages: 303
- Language: বাংলা
- Edition: Reprinted, 2016
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
"তিথিডোর "বইটির ১ম ফ্লাপের কিছু কথা: প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তর সময়ে পৃথিবীব্যাপ্ত সামাজিক অবক্ষয়, অর্থনৈতিক বিপর্যয়, মূল্যবােধ বিচ্যুতি, মানবিক-সম্ভাবনায় অবিশ্বাস এবং পােডােজমিতে ফাঁপা মানুষের বিপন্ন অস্তিত্বের প্রতিবেশে বাংলা সাহিত্যে বুদ্ধদেব বসুর (১৯০৮-১৯৭৪) দীপ্র আবির্ভাব। কবি হিসেবে সমধিক পরিচিতি হলেও, সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তাঁর প্রতিভার ছোঁয়া লেগেছে। বাংলা সাহিত্যের বিকাশের ধারায় ঔপন্যাসিক হিসেবেও তিনি রেখেছেন তাঁর প্রাতিস্বিকতার স্বাক্ষর। তার ঔপন্যাসিক-প্রতিভার এক উজ্জ্বল প্রকাশ তিথিডাের (১৯৪৯)। বিষয়াংশ, মৌল-জীবনার্থ এবং প্রকরণ-স্বাতন্ত্রের দৃষ্টিকোণে তিথিডাের বাংলা উপন্যাসের ধারায় প্রকৃত অর্থেই এক স্মরণীয় নির্মাণ। আলােচ্য উপন্যাসে আমরা বুদ্ধদেব বসুর বাস্তব-জীবনপ্রীতি ও পরিবার-সংলগ্নতার পরিচয় পাই। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন পরিবর্তমুখী সমাজমানসের প্রেক্ষাপটে রচিত হয়েছে এ-উপন্যাস। সত্যেন ও স্বাতীর প্রেম-আখ্যানের অন্তরালে এখানে প্রতিভাসিত হয়েছে চল্লিশের দশকের বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত সমাজজীবনের নানামাত্রিক চিত্র। বুদ্ধবেদ বসু মূলত চরিত্রের অন্তঃবাস্তবতার রূপকার; কিন্তু তিথিডাের উপন্যাসে, অন্তঃবাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গে তিনি জীবনের বহিরঙ্গ রূপকেও শিল্পিত করেছেন। জীবনের এই বহিরঙ্গ রূপকে ধরতে গিয়েই তিথিডাের হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে যাওয়া একটি বিশেষ কালের শৈল্পিক দলিল। তিথিডাের উপন্যাসে একান্নবর্তী পরিবারজীবনের প্রীতিস্নিগ্ধ সম্পর্কের স্পর্শ আছে, আছে জীবনের প্রসন্নপ্রান্তরের হাতছানি। তবে একই সঙ্গে বিপ্রতীপ একটি প্রবণতাও এ-উপন্যাসের অন্তস্রোতে প্রবহমান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন এবং যুদ্ধোত্তর বিপন্ন-বিচূর্ণ সময় দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে তিথিডাের উপন্যাসের প্রধান সব চরিত্র। স্বৈরবৃত্ত-কালের অমােঘ নির্দেশে রাজেনবাবু, বিজন, শাশ্বতী, স্বাতী, হারীত, সত্যেন, প্রবীর-তিথিডাের-এর এইসব মানুষ, কখনাে হয়ে উঠেছে একাকিত্বের উপাসক, কখনাে নৈঃসঙ্গ্যপূজারী, কখনাে-বা তারা করেছে নির্বেদ-নিরানন্দের আরাধনা । বুদ্ধদেব বসুর তিথিডাের সংগঠনশৈলীতে এক মহাকাব্যিক উপন্যাস। ক্যানভাসের বিশালতা এউপন্যাসের অন্যতম সাংগঠনিক বৈশিষ্ট্য। বাংলা উপন্যাসের ধারায় তিথিডাের নিঃসন্দেহে সংযােজন করেছে এক নতুন মাত্রা। একটি বিশেষ কালকে ধারণ করে তিথিডাের হয়ে উঠেছে এক যুগন্ধর উপন্যাস, একই সঙ্গে যুগােত্তীর্ণও বটে। বুদ্ধদেব বসুর পত্নী শ্রীমতী প্রতিভা বসুর সম্মতি নিয়ে তিথিডাের প্রকাশিত হল।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
সাধারণ মানুষের সাধারন জীবন নিয়ে অসাধারণ ভাবে লেখা একটা বই।

ভালো লেগেছে একটি পরিবারের সুন্দর সম্পর্কের ঘটনা বিবরণী। পুজোর ছুটিতে কলকাতার বাড়ি মুখোড় হত দিদি ও তাদের পরিবারদের আনাগোনায়। কেউ আসত ময়মনসিং থেকে, কেউ দিল্লী থেকে, তো কেউ সুদূর বার্মা থেকে! একসাথে রান্না করা,খাওয়া, রাজেনবাবুর সাথে বড় জামাইবাবুর বাজার করা নিয়ে মজার টেক্কা, সবাই মিলে সিনেমা দেখতে যাওয়া, পুজোর বাজার করা, দিদিদের ছেলেমেয়েদের হুল্লোড়, নতুন বরকে নিয়ে খাবারের আয়োজন ও খুনসুটি, প্রতি আলাপেই উঁকি দেওয়া বিশ্ব রাজ্নীতি ও বিশ্বযুদ্ধ, আপনজনের মৃত্যু এসব নেহাতই সাধারণ ঘটনা নিয়েই এই অতি পরিচিত, অনন্য উপন্যাস। উপন্যাস এর যেই দিকটি ভালো লাগেনি তা হল, শেষের দিকের অযথা ঘটনা বর্ণনা এবং হঠাৎ গল্পের শেষ হওয়া। আমি আশা করেছিলাম স্বাতীর জীবনের নতুন অধ্যায় নিয়ে লেখক লিখবেন। আমার মনে হয়েছে শেষটা বড় তাড়াহুড়ো করে লেখা তাই ঠিক ভাবে গোছানো হয়নি।

কেনো জানি এই উপন্যাসটা আমার অনেক ভালো লাগে ।
লেখক- বুদ্ধদেব বসু। সত্যেন, "তিথিডোর" উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র, সাধাসিধে রাজেনবাবুর কনিষ্ঠ কন্যা স্বাতীকে কবিগুরুর শেষযাত্রায় নিয়ে যেতেই ছুটে এসেছে জোড়াসাঁকো হতে টালিগঞ্জের স্বাতীদের বাড়িতে। অনবদ্য একটি মধ্যবিত্তের কাহিনী জুড়ে পাতায়-পাতায় চরিত্রদের সঙ্গে একাত্ম আঠা হয়েই বহুবার পঠিত এই বাইশে শ্রাবণের কবিগুরুর মহাপ্রয়াণের ক্ষণটি যতবার পড়েছি ততবারই অদেখা মুহূর্তটি আশ্চর্য জীবন্ত দৃশ্যমান যেন বা! বইটি পড়ে সেই সময়ে পৌছে যাওয়া যায় যার কারনে আপনি বুঝতে পারবেন তখনকার পরিস্থিতি প্রেক্ষাপট।
বইটা শুরু করার আগে আমি নামের মানে বুঝার চেষ্টা করি। তিথিডোর শব্দটির অর্থ হচ্ছে শুভ ক্ষনে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া। এই বইটিতে লেখক সেই সুন্দর বন্ধন সব কটি চরিত্রের মাধ্যমেই ফুটিয়ে তুলেছেন। প্রতিটি লাইনেই লেখক চমৎকার জীবনবোধ আর জীবন ও জীবিকার বাস্তবতা ফুটিয়ে তুলেছেন। বইটি পড়ার সময় দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময় সাধারণ মানুষের মধ্যে যে চরম উত্তেজনা ছিলো সেটাও ফুটে উঠেছে। স্বাতী আর সত্যেনের সুন্দর পবিত্র চরিত্র অনেক ভালো লেগেছে তবে যে চরিত্র টা আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লেগেছে তিনি হলেন রাজেনবাবু। এক কথায় অসাধারণ একটি বই।























