শাপমোচন
বই কালেকশন

Buy শাপমোচন Online in Bangladesh

লেখক: ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়

5.00
(3 টি কাস্টমার রিভিউ)| স্টকে আছে
Highlights:
  • Author: ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
  • Publisher: সূর্যোদয় প্রকাশন
  • Isbn: 9789849589778
  • Language: বাংলা
  • Edition: 2nd Published, 2023
৳ 154৳ 28045% ছাড়
স্টকে আছে
উপলব্ধ প্রোমো কোডসমূহ:
দ্রুত ডেলিভারি
৭ দিনের রিটার্ন
১০০% অথেনটিক

পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)

শারদীয়া পূজা। বাংলার ঘরে ঘরে আনন্দের ঢেউ। কত মন্বন্তর, মহামারী ছাপিয়ে এ আনন্দের স্রোত বাংলার গ্রামে গ্রামে প্লাবন এনেছে, চিরদিনই আনে। খাদ্যে রেশন; কাপড়ে কনট্রোল, কর্মে ছাঁটাই, তবুও বাঙালি মহাপূজার আয়োজনে ব্যস্ত। মহেন্দ্র কিন্তু কিছুই করতে পারল না। বাড়িতে অন্ধ দাদা, অসুস্থ বৌদি আর একমাত্র ভ্রাতুষ্পুত্র খোকন, এই তিনটিমাত্র প্রাণীর জীবনে নিতান্ত তুচ্ছ একটা মাটির প্রদীপের আলোও সে জ্বালাতে পারল না, নিরাশ হয়ে ফিরে এল, মহেন্দ্র শুধু খোকনের জন্য একটা পাঁচসিকের সূতির জামা কিনে। ওতেই আনন্দ হয়তো উথলে উঠত বাড়িতে, কিন্তু খোকার শরীর ভালো নেই, ওদের নয়নের জ্যোতিটুকু মলিন হয়ে উঠল। সপ্তমীর দিন একটু ভালো থাকল খোকন, অষ্টমীর দিন কাকার গলা জড়িয়ে বলল: কলকাতা যাবে না কাকু? কলকাতা! কেন রে মানিক? সেই যে তুমি বলেছিলে, কলকাতায় কে তোমার কাকা আছে তার ঘরে হাতি থাকে।

রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

5.00
(3 টি কাস্টমার রিভিউ)
5
100%
4
0%
3
0%
2
0%
1
0%
SuMaiYa
SuMaiYa ভেরিফাইড
30 Jun 2024

সংগ্রহে আছে শীগ্রই পড়বো 🫶❤️‍🩹

Sakib
Sakib ভেরিফাইড
03 Jul 2023

#শাপমোচন #পাঠ_অনুভূতি ♦এক নজরেঃ •উপন্যাসের নামঃ শাপমোচন •লেখকঃ ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায় •ধরনঃ রোমান্টিক, সামাজিক •প্রকাশনীঃ সূর্যোদয় প্রকাশন •প্রচ্ছদঃ এমএ আরিফ •মুদ্রিত মূল্যঃ ২০০ •পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১৬০ লেখনীতেঃ রিফায়াত হাসান সাকিব ♦ভূমিকাঃ পৃথিবীতে পাঠক হিসেবে কিছু বই থাকে, যেগুলো না পড়ার আগপর্যন্ত কিছু মনে হবে না । কিন্তু পড়া শেষ হয়ে গেলে তারপর হঠাৎ করে একটা সময় পরে মনে হবে এই যে বইটা পড়া হয়ে গেল । আমার পাঠক জীবন তৃপ্তিতে ভরে গেল । এই ভালোলাগা নিয়ে বাকিটা পাঠক জীবন কাটিয়ে দেয়া যাক শান্তিতে, সুখে । এই বইটা যেন ঠিক তেমনই আমার কাছে ‌। হঠাৎ করে বইটি নিতে চেয়েছিলাম আমি । কেমন বইটা সে ব্যাপারে কিছুই জানতাম না । কিন্তু হঠাৎ করে নেয়া হলো । তারও অনেকদিন পরে আজকে পড়া হয়ে গেল । এই রাত আমার কাছে সারাজীবনের জন্য শাপমোচন’এর রাত হয়ে থেকে যাবে । ♦নামকরণঃ শাপমোচন ভালোবাসাকে অনুভব করে তাকে নিয়ে অপেক্ষা করা এবং তাকে ঘিরেই আঁকড়ে ধরে আবর্তিত হয়ে ভালোবাসা থেকে অপেক্ষা নামক মুহূর্তকে মুক্তি করতে চাওয়া এক আখ্যান । এই মুক্তি করতে গিয়ে কত বিশেষণে মানুষ যেন জড়িয়ে যায় । কত ভালোলাগায় আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে বসে পড়ে । ভালোবাসা থেকে আজন্ম মুক্তি আদৌ কি কারো হয়! কেউ কি ভালোবাসা থেকে অপেক্ষাকে আলাদা করতে পারে! দুইটাই যে একই সাথে গড়ে থাকে রূপকথা হয়ে । ♦ফ্ল্যাপে লেখাঃ ছোটবেলায় বাবা-মা মারা যাওয়ার পর একমাত্র ভাই দেবেন্দ্র ও বৌদি অর্পণা কাছেই মানুষ হয়েছে মহেন্দ্র । তাদের পরিবার একসময় আর্থিকভাবে সচ্ছল থাকলেও নানান জটিলতায় পারিবারিক অবস্থা বেশ শোচনীয় হয়ে পড়ে । অর্থাভাবে শুধু মেট্রিক পাশের পর আর পড়াশোনা হয় না তার । বসন্তের কারণে নিজের চোখ দুটো হারিয়ে ফেলে দাদা দেবেন্দ্র । অন্ধ দাদা-বৌদি আর দাদার ছেলে খোকনের ভরণপোষণের জন্য বিজয়া দশমীর দিন মহেন্দ্র পাড়ি জমায় কলকাতায়, পিতৃবন্ধু বিওশালী উমেশ ভট্টাচার্যের কাছে । সেখানেই পরিচয় উমেশবাবুর একমাত্র মেয়ে মাধুরীর সাথে ।বাবার একমাত্র কন্যা আর তিন ভাইয়ের একমাত্র আদরের বেন মাধুরী । মাধুরীকে মালা পরানোর জন্য মালা গাঁথে মডার্ন সমাজের অসংখ্য তরুণ, বাদ যায়নি জমিদারপুত্রও । কিন্তু মাধুরী তার মালা দিয়ে দেয় সামান্য মাইনের কেরানী মহেন্দ্রের গলায় । মহেনকে ঘষেমেজে সভ্য সমাজের উপযোগী করে তোলার দায়িত্ব নেয় সে নিজেই । মহেন্দ্র আশ্রিত থেকে সাহায্যের বদলে নিজের উপার্জিত টাকা দাদার হাতে তুলে দেবার ইচ্ছায় উমেশবাবুর বাড়ি ছেড়ে চলে যায় তবুও মাধুরী তাকে আঁকড়ে ধরে রাখে । মাধুরী সব ত্যাগ করে তাকে নিজের করে নিতে চায় কিন্তু মহেন্দ্র মাধুরীর সেই ডাকে সাড়া দেয়নি, বরঞ্চ নিজেকে একেবারেই গুটিয়ে নেয় । কিন্তু কেন সে নিজেকে গুটিয়ে নেয়? তাদের কী শেষমেশ মিলন ঘটে? ♦পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ √এই উপন্যাসটি পড়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত আমি কিছুই জানতাম না বইটি সম্পর্কে । এমনকি বইটি কোন ঘরানা নিয়ে তৈরি তাও ধারণা ছিল না আমার । তবুও একদিন আমি অপেক্ষায় থাকতাম, এই বইটি আমার নেয়া হবে এবং পড়ে ফেলাও হবে । আজকে পড়ে ফেলা হলো । আমি পড়ার মাঝে একটা অবস্থায় গিয়ে যেন অবাক হয়ে যেতে শুরু করলাম । সামাজিক অবস্থানে ভালোবাসায় বিভেদ এবং সেখানে পার্থক্য হিসেবে ভালোবাসাকে ভুল করে দেখানোর মোহ পটভূমি হিসেবে বেশ আসে । কিন্তু সেখানেই যেন অদ্ভুত সৌন্দর্য হিসেবে ফুটে আসে । ভালোবাসার প্রতি সৌন্দর্য এবং তাকে ঘিরে ধরে রাখা সমাজের প্রতিটি স্তরে মূল্যবোধ এবং অবস্থান যেন বারবার কোথাও একটা দাগ টানতে চায় । উপন্যাসের পটভূমি এক্ষেত্রে দারুণ ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে । প্রতিটি মুহূর্ত এত সুন্দর করে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে আমি বারবার মুগ্ধ হয়েছি । এছাড়াও কিছু কিছু জায়গায় ঘটনাপ্রবাহ এবং তার বর্ণনা করার জন্য বিশ্লেষণ করতে সংলাপের প্রতি আবেশ অনুভূতি কাজ করেছে আমার । পটভূমিতে গভীরতা এসেছে উপন্যাসের বিভিন্ন ভাবে । এই গভীরতাই যেন উপন্যাসের শেষ দিকে উপন্যাসকে দারুণ ভাবে আলাদা করেছে প্রথম দিকের থেকে । শেষের দিকে গভীরতা এতটাই ছেয়ে ছিল যে, প্রতিটি নিঃসঙ্গ দৃশ্যপট অদ্ভুত ভাবে জড়িয়ে রেখেছে অনুভূতি দিয়ে । উপন্যাসে দারুণভাবে আবহ সৃষ্টি করা হয়েছে । এই বর্ণনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি কখনো ভালোবাসা হিসেবে এসেছে । কখনোবা এসেছে সেতারের সুরে সুরে অদ্ভুত নিঃসঙ্গতা নিয়ে । সমাজের ধনী-গরিবের মাঝে দূরত্ব হোক কিংবা আর্থিক টানাপোড়েনে সম্পর্কের রসায়নে আবেশ অসাধারণ ভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে তোলা হয়েছে । উপন্যাসের শেষটা তাই ভীষণ সুন্দর এবং দারুণ অনুভূতি নিয়ে ঘেরা যেন । √উপন্যাসের চরিত্র গঠনেও যেন দারুণ ভাবে ফুটিয়ে তোলার একটা চেষ্টা করা হয়েছে । পরিবারকে ভীষণ ভালোবাসা মহেন্দ্র জীবনে শুধু সুখ চেয়েছে পরিবারকে নিয়ে । তার সাধারণ জীবনযাপনে অদ্ভুত মিশে যাওয়া স্বভাবে তা দারুণ খাপ খেয়ে যায় । এছাড়াও মাধুরী চরিত্রের প্রতিটি মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা হোক কিংবা প্রতিটি মানুষকে সম্মান করার এক চেষ্টা তার প্রতি ভালোলাগা বাড়িয়ে দেয় যেন । এছাড়া উপন্যাসে ভেসে আসে সুখের প্রতিটি আবেশ । মাধুরীর বড় বৌদি’র বন্ধুত্বপূর্ণ হাসিখুশি স্বভাব হোক কিংবা অপর্ণা এর মায়ের মতো খেয়াল রাখা বেশ অসাধারণ কিছু মুহূর্ত দেয় যেন । এছাড়া উমেশ বাবুর মিশে যাওয়াটা হোক কিংবা দেবেন্দ্র এর সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকাটা বেশ মুগ্ধ করে । উপন্যাসে ভালোবাসায় অপেক্ষা হোক কিংবা ভালোবাসায় সুখ আসুক এই দুইয়ের তুলনা হোক কিংবা মিশেলে যেন ভেসে আসে শাপমোচন নামক এক আখ্যান । যে আখ্যান বিজয়া দশমীর প্রতিটি অনুভূতিতে ভেসে আসে, ভেসে আসে সেদিনের চিঠিতেও । এই আখ্যান তাই মনকাড়া হয় যেন । অসাধারণ ভাবে এই উপন্যাসের প্রতিটি চরিত্র গঠন এবং উপস্থিতি নিয়ে আসা হয়েছে । যেভাবে উপন্যাসের ঘটনাপ্রবাহ অনুসারে উপন্যাসকে সাজানো হয়েছে তা বেশ সুন্দর ছিল । এছাড়াও প্রিয় চরিত্র হিসেবে মাঝে মাঝে মনে হয়েছে মাধুরী চরিত্রটিকেও বেশ লাগে । ♦প্রিয় অংশঃ এই উপন্যাসে যত সময় গিয়েছে তত যেন আমি অনুভূতিতে ভেসে গিয়েছি । আমার প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে পড়া উপন্যাসটিতে আমি বারবার পটভূমির গভীরতায় আটকে গিয়েছি । উপন্যাসের পটভূমিতে গভীরতা যখন বেশ ভালো থাকে সাথে আবহ এসে সঙ্গ দেয় দারুণ ভাবে, তখন সেই উপন্যাসকে মায়া দিয়ে ঘেরা মনে হয় । মনে হয় যেন পাঠক হিসেবে এটাই বড় পাওয়া । এই উপন্যাসও আমার কাছে সেরকম । উপন্যাসের সবথেকে প্রিয় মুহূর্ত সেটিই । বিশেষ করে উপন্যাসের শেষের দৃশ্যপটগুলো বেশ পছন্দের আমার । তাছাড়া প্রতিটি ভালোবাসার গল্প আলাদা । সেই আলাদা জীবনে ভালোবাসাকে ফুটিয়ে তোলাও যেন অদ্ভুত এক সৌন্দর্য গড়ে দেয় । এই উপন্যাস যেন সেভাবেই গড়ে তোলা হয়েছে । ভালোবাসার নতুন এক আখ্যান এটি । এছাড়া সামাজিক সম্পর্কের টানাপোড়েনে ভালোবাসার ধাঁচ, অপেক্ষা কিছুটা ত্যাগ সব মিলিয়ে এই উপন্যাসের পুরোটা অংশই প্রিয় । এছাড়াও উপন্যাসে বেশ কিছু মনস্তাত্ত্বিক সংলাপ আছে যেগুলো বেশ ভালো লাগা বাড়িয়ে দেয় । ♦অন্যান্য বিষয়ঃ √প্রকাশনীঃ মূলত এই বইটির প্রধান প্রকাশনী সূর্যোদয় প্রকাশন নয় । তবুও তাদের প্রকাশনী যেভাবে বইটিকে নতুন ভাবে প্রকাশ করেছে তা বেশ ভালো দিক । তবে বইটির বাঁধাই ভালো আসলেও বেশ কিছু টাইপিং মিস্টেক এসেছে । যা আশা করি ঠিক হয়ে যাবে । ♦লেখক প্রসঙ্গেঃ লেখক ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায় এর লেখা প্রথম কোনো উপন্যাস পড়া হলো আমার । উপন্যাসের সবথেকে যা ভালো দিক তা হলো তার পটভূমি বাছাইয়ের মাঝে লিখনশৈলীতে দারুণ এক ধাঁচ রাখা । যার জন্য প্রতিটি দৃশ্যপটে একই রকম ছাপ রেখে উপন্যাসটি এগিয়ে যায় যে কারণে উপন্যাসটিকে একই রকম পড়তে থাকার কারণে পড়ার সময়ে সমস্যা হয় না, এবং ভালোলাগা নিয়েও সমস্যা হয় না । তাছাড়া লেখক যেভাবে পটভূমিতে গভীরতা আনার জন্য শব্দপ্রয়োগ এবং তা দিয়ে বাক্যালাপ করেছেন তা বেশ ভালো ছিল । এছাড়া বর্ণনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি হোক কিংবা সংলাপ ধারণ হোক দুই বিভাগেই বেশ অসাধারণ কাজ করা হয়েছে । ♦রেটিংঃ ৪.৯/৫ ♦উপসংহারঃ উপসংহারে এসে মনে পড়লো লেখকের যে বইটি আমার প্রথম নেওয়ার ইচ্ছা ছিল, সেই বইটি প্রথম নেয়া হলেও প্রথম হিসেবে পড়া হলো না আমার । হয়তো যেদিন পড়বো, সেদিন আরো কিছুটা অবাক হয়ে অনুভব করবো যে এই বইটা পড়ার কারণে পাঠক মনে আরো কিছুটা দারুণ মুহূর্ত এসেছে আমার । ততদিন পর্যন্ত অপেক্ষায় রইলাম ।

Al Amin Sarker
Al Amin Sarker ভেরিফাইড
04 Dec 2021

#বুক_রিভিউ শাপমোচন ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায় শারদীয় দূর্গাপুজা। ঘরে ঘরে উৎসব আর আয়োজনের মহা সমারোহ। কিন্তু মহেন্দ্র ওরফে মহীন কিছুই করতে পারলো না, ঘরে বৌদি, অন্ধ দাদা আর সোনার টুকরো ভাতিজা খোকন। মহীনদের অবস্থা ভালোই ছিল, বাবা ছিলেন বড় ভালো মানুষ, আয় রোজগার ভালোই ছিল দিনকাল ভালোই যেত, বাবার মৃত্যুর পরে দাদা হাল ধরলেন, দাদা দেবেন্দ্রনাথ সংগীত ভালো করতেন তাই দিয়ে ভালো রোজগারও করতেন মহীনকে স্কুলে পড়াশোনা করালেন, কিন্তু কপালের অদৃষ্টে দুচোখের দৃষ্টি হারালেন অবস্থা খারাপ হতে শুরু করল। মহীন অনেক চেস্টা করেও কিছু উপায় খুজে পেলেন না যাতে করে দুমুঠো খেয়ে দিনাতিপাত করা যায়। ভাগ্যের সন্ধানে নবমীর দিন কলকাতায় রওনা হলো মহীন গন্তব্য পিতৃবন্ধু উমেশ ভট্টাচার্যের বাড়ি। উমেশ ভট্টাচার্যের অনেক উপকার করেছেন মহীনের বাবা মৃত্যু শয্যা থেকে ফিরিয়ে এনেছিলেন মহীনের বাবা। তার কাছে যাওয়া কাজ বা চাকরি যেকোনো একটা করে সংসার টাকে সচল রাখা আর তার চেয়ে বড় স্বপ্ন খোকাকে মানুষের মত মানুষ করা। উমেশ ভট্টাচার্যের কাছে কোন দয়া নয়, কারণ মহীনদের বংশ অনেক উচু কারো কাছে দয়া নেয়া এ বংশে নেই। মহীনের মেট্রিকের সময় দাদা অন্ধ হয়ে যায়, তারপর আর পড়তে পারে নি মহীন কিন্তু খোকার কপালেও যেন এরকম না হয়। খোকাকে নিয়েই সকল আশা মহীনের, খোকার জন্যই আদরের খোকাকে ছেড়ে কলকাতায় যাত্রা। ২৪ নং কাঠালবাড়ি লেন সুবিশাল বাড়ি উমেশ বাবুর, গেটের ভিতরে টেনিস কোট, গাড়ি রয়েছে পার্ক করা, বিশাল তিন তলা ভবন, রয়েছে তিন জন দারোয়ান। উমেশ বাবু উন্নতি করেছেন আয় রোজগার করেছেন জীবনে অনেক। গেটের ভিতরে প্রবেশ করে মহীন মনে মনে ভাবতেছিল এই বুঝি দারোয়ান ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিল। মহীনের পোশাকের যা অবস্থা তাতে বের করে না দেয়াই অস্বাভাবিক। পরনে রয়েছে জীর্ণ শীর্ণ ধুতি খানি আর পাতলা গেঞ্জি, খালি পায়ে হেটে এসে আর ধুলোবালিতে ভিক্ষুকের চেয়েও অধম দেখাচ্ছিল মহীনকে। প্রবেশ করল মহীন দারোয়ান আটকালেন না, উমেশ বাবুরই সাক্ষাত পেল প্রথমে, উমেশ বাবু জিজ্ঞেস করলেন কার কাছে এসেছো কি চাও। উত্তরে মহীন জানাল, আমি ক্ষেত্রনাথ মুখুর্যের ছেলে মহীন চন্ডীগড় থেকে আসছি বলে গড় প্রনাম করল। উমেশবাবু খুব সাদরে গ্রহণ করলেন মহীন। জানালেন মহীনের পিতা তার কতবড় উপকার করেছিলেন। উমেশবাবুর তিন ছেলে এক মেয়ে অতীন যতীন রতীন আর মাধুরী। বড় ছেলেই এখন ব্যবসা বানিজ্য সবকিছু দেখাশোনা করছেন, বিয়েও দিয়েছেন সতীলক্ষ্মীর সাথে। মেজ ছেলে বিয়ে করেছেন বিলেতি মেমকে। মহীন এ বাড়িতে আসার পর পরই উমেশবাবু ৫০ টাকা পাঠালেন দাদা দেবেন্দ্রনাথ কে আর মহীনের পৌছানোর খবর। দেবেন্দ্রনাথ যখন বুঝতে পারলেন এ টাকা মহীনের রোজগারের টাকা নয় এ টাকা দান করেছেন উমেশবাবু দেবেন্দ্রর মরমে মরে যেতে ইচ্ছে করল। আজ অসহায় হয়ে অন্যের দানের টাকা টা নিতে হচ্ছে তাকে। মহীন উমেশ বাবুর বাড়িতে আড়াই মাস থাকলো কিন্তু তার কোন কাজ বা চাকরি নিয়ে কারো কোনো মাথা ব্যাথা নেই। সারাদিনে শুধু একটু টাইপিং শিখছে আর টুকটাক গান সাহিত্যের আসর। আর প্রতিদিন মাধুরীর সাথে গাড়িতে করে বেড়ানো বাইরে ঘুরাঘুরি খাওয়া দাওয়া। এখানে এসে খোকার কথা ভুলেই গেছিলো মহীন যখন মনে পড়ল কিভাবে সে খোকাকে ভুলে থাকল সে নিজেও ভেবে পেল না। না এজীবন তার নয় এভাবে চলবে না। মহীন কেরানীর চাকরি পেল ৬০ টাকা বেতনের। আর একটা সাহিত্য ম্যাগাজিন গল্প লিখে জমা দিল সেখান থেকে পেল ১৫ টাকা। এই টাকা পেয়ে সাথে সাথে মানি অর্ডার করে দিল দাদার নামে সাথে চিঠি।কেননা মহীন জানে যে তার দাদা কতটা অনিচ্ছায় উমেশবাবুর পাঠানো টাকা টা গ্রহন করেছেন। মানি অর্ডার হাতে পেয়ে দেবেন্দ্রনাথ বুঝলেন এবারের টাকা মহীনের রোজগারের টাকা, আনন্দে কেদে ফেললেন দেবেন্দ্র। চাকরি পেয়ে মহীন মেসে উঠলে উমেশবাবুর বাড়ির কেউ কিছু না বললেও সকলে মনক্ষুন্ন হলেন। মেসে প্রতি শনিবার মাধুরী আসে মহীনকে নিয়ে গাড়িতে করে বাইরে যায় কত আড্ডা হয়। আসলে মাধুরী মহীনকে ভালবেসে ফেলেছিল, কিন্তু মহীন যখন তা বুঝতে পারে সে নিজে কে দূরে সরিয়ে নিতে চায়। কিছুতেই এ হতে পারে না মহীনও ভালবেসে ফেলে মাধুরী কে। মহীন মাধুরীকে আঘাত করে দূরে সরিয়ে দেয় কিন্তু মহীন বুঝতে পারে সে আঘাত কতখানি তার নিজের উপরই এসে পড়েছে। মাধরীর বড় বৌদি বুঝতে পারে যে মাধুরী মহীনকে ভালবাসে, তাই তো সে অন্য কাউকেই বিয়ে করতে চায় না। কিন্তু মাধুরীর দাদারা তাকে খুব বেশি কিছু বলে না একটা মাত্র বোন ওর যাতে খুশি তাই করুক। মহীন মাধুরীকে আঘাত করে বদলী নিয়ে মাদ্রাজ শাখায় চলে যায়। মাধুরী তাকে ভুলে যাক, ভালো ঘরে সুবধূ হয়ে সুখের ঘরকন্যা করুক। কত কষ্ট যে মহীন নিজে পাচ্ছিল তা হারে হারে টের পাচ্ছে, মাঝরাতে মাধুরীর দেয়া সেতারখানা বাজিয়ে সুরের ঝংকার তুলে। হটাৎ মহীন মরনব্যাধিতে আক্রান্ত হয়, ডাক্তার বলেছেন বাড়ি চলে যান শেষ ক'টা দিন আপন জনদের কাছেই কাটান। বাড়ি চলে আসে মহীন, বৌদি অপর্ণা কাদছেন। খোকা কিছুই বুঝতে পারে না, তার কাকা বাড়ি এসেছে এতো খুশির খবর কিন্তু তার মা কেন কাদছেন, বাবাই বা কেন এত নিশ্চুপ হয়ে আছেন। মহীন মারা গেল। মহীনের তিন টা উপন্যাস আর একটা গানের ক্যাসেট বের হয়েছিল। "মন যমুনা" উপন্যাস টি বেশ ভালো সাড়া জাগায় যেটি উৎসর্গ করেছিল মাধুরী ভট্টাচার্য কে। মাধুরী মহীনের বাড়ি আসা মারা যাওয়া কিছুই জানতে পারে নি। মাধুরী বিয়ে করেনি, দমদমার বাগানে গোশালা বানায় সমাজসেবায় আত্ম নিয়োগ করে, সমাজের দুঃখী মানুষের সেবায় নিয়োজিত করে নিজেকে। মাধুরী প্রতি বছর দশমীতে বাড়ির ঠিকানায় নীল কাগজে চিঠি পাঠায় ভালবেসে যায় নিজের মত করে মহীনকে। কলকাতায় পড়াশোনা করে খোকা, নয় বছর পরে খোকা যখন চিঠিদাতা সম্পর্কে জানতে পারে খুজে বের করে মাধুরী দেবিকে, মাধুরী খোকাকে কাছে পেয়ে অনেক আদর করে, মহীন কেমন আছে জিজ্ঞেস করে, মহীনের ছেলে মেয়ে কয়টা ইত্যাদি। খোকা ভেবে পায় না কি করে কাকার মৃত্যু সংবাদ দিবে দেবীকে, যে দেবী তার কাকাকে এত ভালবেসে যাচ্ছে আপনার মত করে তাকে কি করে এ সংবাদ সে দিবে। খোকার চোখে বার বার কান্না এসে পরছিল মাধুরীর বিভিন্ন কথায়। খোকা অনেক কষ্টে নিজেকে সংবরণ করে সেখান থেকে চলে যায়। অজানায় থাক এ সত্য।

প্রশ্ন ও উত্তর (Q/A)

দুঃখিত, কোনো প্রশ্ন উত্তর পাওয়া যায়নি।

সাদৃশ্যপূর্ণ পণ্যসমূহ (Similar Products)