

Buy আরণ্যক Online in Bangladesh
লেখক: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
- Author: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
- Publisher: মাটিগন্ধা
- Isbn: 9789847034304688
- Number Of Pages: 175
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Edition, 2015
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
#বইয়ের_শহরে_রকমারির_উৎসব #বিভূতির_জন্মদিনে_বুক_রিভিউ বইয়ের নাম- আরণ্যক লেখক- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় পৃষ্ঠা - ১২৮ মূদ্রিত মূল্য- ১২০ প্রকাশনী- নাঈম বুকস্ ইন্টারন্যাশনাল আরণ্যক বিভূতিভূষণের চতুর্থ উপন্যাস। "পথের পাঁচালী" রচনার সময়েই নাকি এই উপন্যাস রচনার পরিকল্পনা তৈরি হয়েছিল। অনেকে "আরণ্যক" উপন্যাসকে ভ্রমণ উপন্যাস হিসেবে ধরে নিলেও আদতে এটা ভ্রমণ উপন্যাস নয়। এটি বিভূতিবাবুর অভিজ্ঞতা ও কল্পনার মিশ্রণে লেখা। তাছাড়া বিভূতিভূষণের প্রকৃতিপ্রেম সম্পর্কে কে না জানে! উপন্যাসের নায়ক সত্যচরণ বেকার হয়ে বসেছিলেন, দৈবক্রমে একদিন দেখা হয় বন্ধু অবিনাশের সাথে। সেই সাক্ষাৎ তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। অবিনাশ তাদের জমিদারি সম্পর্কে সত্যচরণের সাথে আলাপ করে এবং সেই আলাপের পরবর্তী ফলস্বরূপ বিশ-ত্রিশ হাজার বিঘার জমি বন্দোবস্তের চাকরি নিয়ে সত্যচরণ সেই নির্জনে থাকা জমিদারির সাময়িক ভার নিতে অরণ্যপ্রদেশে চলে যায়। প্রথম প্রথম নির্জনতা ও নিঃসঙ্গতা তাকে বিরক্ত করলেও ধীরে ধীরে সে মিশে যায় সেখানকার পরিবেশের সাথে। এভাবে কিছু বছর সেখানে কাটিয়ে বনভূমিতে লোকারণ্য সৃষ্টি করে সে ফিরে আসে নগর-নদীতে। পরবর্তীতে তার আফসোস হতে থাকে। দিনের পর দিন যে অরণ্য তাকে মুগ্ধ করেছিল, যে বনের ফুলের গন্ধ মাঝরাতেও তার ঘুমন্ত মস্তিষ্কে আলোড়ন তুলেছিল, সেই বনভূমি সে রক্ষা করতে পারেনি। অল্প অল্প করে তার হাতেই ধ্বংস হয়েছিল সে অরণ্য! সত্যচরণকে নায়ক না বলে কেন্দ্রীয় চরিত্র বলা ভালো কারণ তাকে কেন্দ্র করেই তো সমস্ত ঘটনা। বইটির কিছু উক্তি এত চমৎকার লেগেছে যে এগুলো সম্পর্কে না বললেই নয়। ১. " মানুষ কি চায় - উন্নতি, না আনন্দ? উন্নতি করিয়া কি হইবে যদি তাহাতে আনন্দ না থাকে? ২. যে জিনিস যত দুস্প্রাপ্য মানুষের মনের কাছে তাহার মূল্য অনেক বেশি। ৩.জ্যোৎস্না ফুটিয়াছে, নক্ষত্রদল জ্যোৎস্নালোকে প্রায় অদৃশ্য, চারিধারে চাহিয়া মনে হয়, এ সে পৃথিবী নয় এতদিন যাহাকে জানিতাম ৪. বনের ফুল যারা ভালোবাসে না, সুন্দরকে চেনে না, দিগ্বলয়রেখা যাদের কখনো হাতছানি দিয়া ডাকে নাই, তাদের কাছে এ পৃথিবী ধরা দেয় না কোনো কালেই। রিভিউদাতা- কৃষ্ণা


আরণ্যক বিখ্যাত কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় (১৮৯৪-১৯৫০) রচিত চতুর্থ উপন্যাস। ১৯৩৯ সালে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিহারে তার কর্মজীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে উপন্যাসটি রচনা করেন। আরণ্যক উপন্যাসটির রচনাকাল ১৯৩৭-৩৯ খ্রিষ্টাব্দ। "কাত্যায়ণী বুক স্টল" থেকে তা গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। বই হিসাবে প্রকাশের আগে প্রবাসী মাসিক পত্রিকায় কার্তিক ১৯৩৮ থেকে ফাল্গুন ১৯৩৯ পর্যন্ত ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয়। বিভূতিভূষণ এই উপন্যাসটি অকালে-লোকান্তরিতা তার প্রথমা স্ত্রী গৌরী দেবীকে উৎসর্গ করেন।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন একজন জনপ্রিয় ভারতীয় বাঙালী কথাসাহিত্যিক। তিনি মূলত উপন্যাস ও ছোটগল্প লিখে খ্যাতি অর্জন করেন। "আরণ্যক" উপন্যাসের নামই উপন্যাসের মূল কথা বলে দিচ্ছে। 'সত্যচরণ' চরিত্র দিয়ে উপন্যাসের শুরু যে পড়া লিখা শেষ করে আজকালকার সাধারণ যুবকদের মতোই চাকরীর খোঁজ করছিল বিভিন্ন জায়গায়, এমন সময় হুট করেই তার এক বন্ধু তাকে জঙ্গলে চাকরী দেয়। প্রথমে সে অনেক ভাবছিল কি করে শহরের মানুষ হয়ে জঙ্গলে থাকবে বা কীভাবে তার সময় পার করবে কিন্তু যতই দিন যেতে লাগলো জঙ্গলের প্রতি তার ভালো লাগা গভীর হতে থাকলো। তার সামনে একের পর এক চরিত্র গুলো আসতে থাকে, বন-জঙ্গল এর রহস্য তাকে ঘিরে ধরতে থাকে। কখনো বাঘের ভয়, কখনো বন্যমহিষের সব ভয় এক হয়ে তার এক একটা দিন এক একটা বছর খুব রোমাঞ্চক ভাবে তার কাটতে থাকে। তার ভাগ করে দেয়া জঙ্গলের জমিতে মানুষ গুলো ফসল চাষ করতে থাকে। পাহাড় - নানান রকম গাছ - পশু- পাখি -ঝর্না - পাহাড়ি মানুষ- সেসব মানুষদের কথা- সংস্কৃতি সব কিছুর একার দর্শক হয়ে থাকে সত্যচরণ সে সব মুগ্ধ হয়ে চোখ ভরিয়ে দেখে নিতে থাকে কিন্তু কখনো তাদের সাথে গভীর আরণ্যে ডুবে যেতে পারে না কারণ তার চাকরী শহুরে লোক সামান্য চাকুরীর জন্য সেখানে গিয়েছে, জঙ্গলে তার কোন স্থান নেই। শেষ সময়ে যখন তিনি পেছন ফিরে তাকিয়ে ছিল তখন নিজের অজান্তেই চোখের কোণে অশ্রু এসেছিল কারণ তিনি না চাইতেও প্রকৃতি মাকে খণ্ডে খণ্ডে ভাগ করে এক বীভৎস রূপে সাজিয়ে ফেলেছিল কারণ সেটাই তার চাকুরীর কাজ ছিল। যদিওবা তারও ইচ্ছে হয়েছিল সাঁওতাল রাজকন্যা ভানুমতীকে জীবনসঙ্গী বানিয়ে তাদের সাথেই আরণ্যের গর্ভে ডুব দিতে কিন্তু তিনি পারেনি নিজের গণ্ডী পার হতে, পারেনি অজানা একটা শৃঙ্খল ভাঙতে। উপন্যাসটি পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিল আমি নিজেই সত্যচরণ হয়ে গেছি , আমি বনে-জঙ্গলে ঘোড়ায় চড়ে বেড়াচ্ছি -পাহাড়ি মানুষদের সাথে কথা বলছি-অবাক চোখে সব দেখছি; বইটা পড়া মুহূর্তের সময় গুলো আমার মুগ্ধতায় কেটেছে, বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় খুব সূক্ষ্ম - সুনিপুণ ভাবে উপন্যাসটি রচনা করেছেন কারণ প্রকৃতির সৌন্দর্য কাগজে কলমে বর্ণনা করা বেশ কঠিন কাজ। 'আরণ্যক' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় এর রচিত চতুর্থ উপন্যাস। ১৯৩৯ সালে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিহারে তার কর্মজীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে উপন্যাসটি রচনা করেন। উপন্যাস পড়া শেষ করে ভেবেছিলাম-অনেক সুন্দর করে অনেক কথায় অনেক গুছিয়ে একটা প্রতিক্রিয়া লিখবো কিন্তু এখন লিখতে বসে সেসব কিছুই লিখতে ইচ্ছে করছে না কারণ আমি চাচ্ছি যারা এখনো বইটি পড়েনি তারা যেন আমার প্রতিক্রিয়া পড়ে কিছুটা বিরক্ত নিয়ে বা আমি যা বলেছি সেসবের সত্যতা খোঁজার জন্য হলেও বইটি পড়ে দেখে, আমি চাই সবাই বইটি পড়ুক আমার মতো মুগ্ধ না হোক অন্ততঃ জানুক আরণ্যক নামক উপন্যাসে আরণ্যের ছোঁয়া আছে। শুভ হোক আপনার পাঠ্য কার্যক্রম।

‘আমি এটা বিশ্বাস করি যে মানুষের আয়ু দ্বারা মানুষের বৃহত্তর জীবন মাপা যায় না, এ একটা বিরাট বৃত্ত, হাজার হাজার বছর এর পরিধি। তুমি নেই, আমি নেই। আছে তোমার আত্মা, আমার আত্মা- লক্ষ বছর আগেও তাদের স্থিতিকাল। সে বিরাট vision দিয়ে জীবনকে যে দেখচে, জীবনকে সত্যিকার সে-ই চিনেচে।’ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মশতবর্ষ আমরা সম্প্রতি পার হয়ে এসেছি। মিডিয়া-আগ্রাসনের কিংবা বিস্তৃতির এই সময়ে অপু-দুর্গার অস্তিত্ব হয়তো প্রায় অসম্ভব; কিন্তু বিভূতির সৃষ্ট সমাজ-নিসর্গ-মানুষের জগচ্ছবির সুগভীর সত্য আজও আমাদেরকে প্রত্যাবর্তনের হাতছানি দিয়ে ডাকে।























