তুমি চাইলেই আমার হতে পারতে
বই কালেকশন

Buy তুমি চাইলেই আমার হতে পারতে Online in Bangladesh

লেখক: আদেল পারভেজ

5.00
(2 টি কাস্টমার রিভিউ)| স্টকে আছে
Highlights:
  • Author: আদেল পারভেজ
  • Publisher: বই অঙ্গন প্রকাশন
  • Number Of Pages: 144
  • Language: বাংলা
  • Edition: 1st Edition, 2026
৳ 301৳ 35014% ছাড়
স্টকে আছে
উপলব্ধ প্রোমো কোডসমূহ:
দ্রুত ডেলিভারি
৭ দিনের রিটার্ন
১০০% অথেনটিক

পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)

এই যে হিসেব কষেই বেশ চলছিলো জীবন,তবুও থমকে গেছে সময়—জীবন নামের ট্রাফিক জ্যামে।থমকে গেছে সম্পর্ক। চাইলে সব কিছু স্বাভাবিক করা যেত। যেই ছন্দে চলছিল সংসার চাইলেই চালিয়ে নেওয়া যেত। আমাদের এই ছোট জীবনে আমরা যে যাকে চেয়েছি চাইলেই তারা আমাদের হতে পারতো।আমাদের জীবনটা নাটকের সংলাপ এর চেয়েও নাটকীয়, যদি তাই না হবে তবে জীবন কেন নাটক হবে?আবার সেই নাটক কেনই'বা মানুষ দেখবে!.রাস্তাঘাটের ট্রাফিক জ্যামের মুখোমুখি আমরা কম বেশি সবাই হই!.কিন্তু জীবন নামের ট্রাফিক জ্যামের ক্ষেত্রে কম বেশি হওয়ার সুযোগ নেই— আমাদের জীবনটাও রাস্তার ট্রাফিক জ্যামের মতো অনেকটা সময় থমকে যায়।কারণ সবার জীবনেই সম্পর্ক, ভালোবাস, বিশ্বাস, মায়া, নানান ক্রাইসিস ও ট্র্যাজেডির একটা গল্প থাকে! গল্প থাকে গভীররাতে আত্মহত্যার পরিকল্পনা করা সত্তার।মলিন চাদরের আড়ালে নিজেকে লুকিয়ে রাখার পেছনে একটা গল্প থাকে। সেই খবর আমরা ক'জন রাখি?মূলত জীবন কাঁটাতারের আদলে লেখা সামাজিক ক্রাইসিস এবং অস্থিরতার এক গল্প।ব্যর্থতা, হাতাশা, সম্পর্কের নানা রকম জটিলতায় জীবন হয়ে যায় স্থবির, তাই আমার এই উপন্যাস "তুমি চাইলেই আমার হতে পারতে" সেই সব জীবনের লেগে থাকা ট্রাফিক জ্যামেরই গল্প।কথা সাহিত্যিক---------------আদেল পারভেজ

রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

5.00
(2 টি কাস্টমার রিভিউ)
5
100%
4
0%
3
0%
2
0%
1
0%
Sadia tasnim Shirin
Sadia tasnim Shirin ভেরিফাইড
16 Mar 2026

#বইয়ের_রিভিউ "তুমি চাইলেই আমার হতে পারতে" উপন্যাসটি পড়ে যতটা আনন্দ পেয়েছি তার থেকে বেশি কষ্ট পেয়েছি আমি। মানুষ কীভাবে এত স্বার্থপর হতে পারে? যার জন্য জীবনের সকল কিছু ত্যাগ করে নিজের সব কিছু বিলিয়ে দেওয়া হয় সেই মানুষ কীভাবে এতটা নিষ্ঠুর হয়? নিজের সমস্ত সুখ বিসর্জন দিয়ে দিনের পর দিন কীভাবে একটি মানুষ ভালবাসার মানুষটির জন্য অপেক্ষা করে "তুমি চাইলেই আমার হতে পারতে" বইটি পড়লে তা বুঝা যাবে? বইয়ে আরেকটি দিক না বললে নয়,সেটি হলো সন্দেহ। অতি সন্দেহ একটি খারাপ দিক যা আমাদের জীবন থেকে অনেক কিছু কেড়ে নেয় এছাড়াও অতিসন্দেহ হলো আমাদের রক্তের সম্পর্কের মানুষগুলো থেকে আলাদা করার একটা যন্ত্র।বইয়ে প্রত্যেকটি লাইন,স্মৃতি কাহিনি আমার শরীরে নাড়া দিয়ে যায় এখনো।সব হাসি কান্না, ভাল মন্দ মিলিয়ে উপন্যাসটি আমার কাছে খুব ভাল লেগেছে।সর্বশেষে সঙ নয় সংসার কবিতার মধ্য দিয়ে বইটির পাতা শেষ হয়েছে কবিতার প্রত্যেকটি চরণ আমার কাছে বেশ ভাল লেগেছে। ♦বইয়ের তথ্য .............................. বইয়ের নাম : তুমি চাইলেই আমার হতে পারতে লেখক : আদেল পারভেজ প্রকাশক : মোঃ আল আমিন প্রকাশনী : বই অঙ্গন প্রকাশনা প্রচ্ছদ :তানিয়া সুলতানা ♦প্রচ্ছদ নিয়ে কিছু কথা .............................................. প্রচ্ছদকারীকে প্রশংসা না করলে আমার মনে হয় কোনো দিক দিয়ে কম হয়ে যাবে।বইটির এত সুন্দর ভাবে প্রচ্ছদ করেছেন তানিয়া সুলতানা আপু।প্রচ্ছদ দেখতে এতটা জাঁকজমকতা নেই। খুব সাধারন ভাবে বইটির প্রচ্ছদ সুন্দর ভাবে করা হয়েছে। ♦মূল চরিত্র ............................ উপন্যাসে মূল চরিত্র ফুটে উঠে নিলয় ও তিশাকে নিয়ে। এছাড়াও উপন্যাসটিতে লায়লা, রিমি ও অর্ক ছাড়াও, লাবন্য আর বিপুলকে নিয়ে চরিত্র উপস্থাপন হয়।এই কয়টি চরিত্র ছাড়াও আরো কিছু ভাললাগা চরিত্র বইয়ে ফুটে উঠে যা বইটি পড়লে জানা যাবে। ♦কাহিনী সংক্ষিপ্তসার ...................................... বইয়ের মূল কাহিনী ফুটে উঠে নিলয় আর তিশাকে নিয়ে। নিলয়ের মা মা*রা যায় দ্বিতীয় সন্তান প্রশব ব্যাথা উঠার পর হাসপাতালে নেওয়ার সময়। আর মারা যাওয়ার কারণ হল হাসপাতালে নেওয়ার সময় রাস্তায় প্রচন্ড জ্যাম থাকার কারণে হাসপাতালে পৌছতে পারেনি,রাস্তায় প্রচুর জ্যামের মধ্যেই তার মা আর গর্ভে থাকা সন্তানের মৃ*ত্যু হয়। নিলয়ের মায়ের যখন মৃ*ত্যু হয় তখন নিলয় মাত্র ৯বম শ্রেনীতে পড়তো।নিলয়ের মায়ের মৃ*ত্যুটাকে তার বাবা ছোরাব উদ্দিন কিছুতেই মেনে নিতে পারলেন না। অতি কষ্টে একটি বছর পার করে আবার ২য় বিয়ে করে নিলয়ের জন্য নতুন মা নিয়ে এলেন।নিলয়ের প্রতি তার সৎ মায়ের অত্যাচার দেখে নিলয়কে লায়লাদের বাড়িতে আশ্রয় দেয়। লায়লা মনু মিয়ার মেয়ে, মনু মিয়া ছোরাব উদ্দিনের বন্ধু। তার কিছুদিনের মধ্যে লায়লায় বিয়ে হয়ে যায় এক ধনী বয়ষ্ক লোকের সাথে।লায়লার বিয়ে হয়ে যাওয়াতে নিলয় একা হয়ে যায়, তারপর সে চলে যায় তার ফুফুর বাড়ি সেখান থেকে পড়াশোনা চালিয়ে সে এইচ এস সি পাশ করে। ফুফুর বাড়িতে নিলয় একমাত্র অভিবাবক ও বোন হিসেবে ফুফাতো বোন রিমিই ছিলো এভাবে দিন কাটতে থাকে নিলয়ের। একদিন নিলয়ের ভার্সিটিতে ভর্তি হবার জন্য ফর্ম আনতে গিয়ে তিশার সাথে পরিচয় হয় ।এভাবে পরিচিত হয়ে একপর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে নিলয় আর তিশার মাঝে। পরে তাদের বিয়ে হয়ে যায় আর এর মাঝে অনেক কাহিনী ঘঠে যায়। যা জানতে হলে আপনাকে পড়তে হবে পুরো উপন্যাসটি। রাতুল সাহেবের সাথে লায়লার বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর নিলয়ের সাথে আর যোগাযোগ রাখা সম্ভব হয়নি। এভাবে কেটে গেল অনেক বছর।যদিও রাতুল সাহেব লায়লাকে কোনো দিক থেকে কোনো জিনিসের কমতি রাখেনি। তার পরেও লায়লার মনে একটাই দুঃখ রাতুল সাহেব তাকে সময় দিতে পারত না।তাকে ভালবাসা দিতে পারত না সারাদিন ব্যাস্ত থাকত। লায়লা একদিন পার্কে বসে ছিল সেখানে অর্ক নামের এক ছেলের সাথে তার পরিচয় হয়ে উঠে। অর্ক লায়লার সাথে ভালবাসার অভিনয় করত, কিন্তু লায়লা সরল সোজা মেয়ে এত কিছু বুঝে উঠতে পারেনি। সে ভেবেছিল অর্ক বুঝি লায়লাকে খুব ভালবাসে যে ভালবাসা রাতুল সাহেবের কাছে সে পায়নি।এই ভেবে সে তার দেহ মন সব উজার করে ভালবাসে অর্ককে। দিন যত যায় লায়লা অর্কের মায়াজালে আবদ্ধ হয়ে তার দেহ সহ অর্ককে বিলিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে ভালবাসার মায়াজাল কেন টিকে থাকেনি কেন অন্ধকারে ডুবে যায় তা জানতে হলে বইটি আবশ্যই পড়তে হবে। এদিকে রিমি তার জীবনের মায়া ত্যাগ করে সব সুখ জীবন যৌবন বিসর্জন দিয়ে নিলয়ের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। কোথায় গেল নিলয় নিলয় কি ফিরবে নাকি ফিরবে না। কি হয়েছিল নিলয়ের ও তিশার। তা জানতে হলে উপন্যাসটি শেষ পর্যন্ত আপনাকে পড়তেই হবে।এদিকে লাবণ্য আর বিপুলের সম্পর্ক কেন ভাঙলো গল্পের শেষে কার পরিণতি কই গিয়ে দাঁড়াল সর্বশেষে বইয়ে ঘটে যাওয়া অনেক ঘটনা জানতে হলে আমি মনে করি একমাত্র "তুমি চাইলেই আমার হতে পারতে উপন্যাসটি পড়তে হবে। ♦বইয়ে ভাল লাগা কিছু লাইন .......................... ........... ১.একটা ছেলের জীবনে প্রথম যখন ভাল লাগা,ভালোবাসার ছোট বড় অনুভূতিগুলো একটু- একটু করে আবেগের দুরন্ত আকাশে উড়ে জীবনের প্রথম বেলায়। ২.মানুষের জীবনে হঠাৎ করেই কিছু ঘটে যাওয়া মুহূর্তগুলো, যে-কোনো ঘটনাচক্রে মানুষকে নতুন করে খুব ভাবায়। ৩.তিন বেলা পেট ভরে ভাত, নিত্য নতুন শাড়ি, গায়না এগুলো দিলেই কি অনেক ভালোবাসা প্রকাশ হয়? ৪.হলুদ হচ্ছে বন্ধুত্বের রঙ। ৫.এতটা বছর একসাথে থেকেও যে মানুষ মন ছুঁতে পারেনি, শরীর ছোঁয়ার অধিকার সে কেন রাখবে? ৬.সুখটা যদি ছোঁয়াচে কোনো অসুখ হতো তাহলে সুখী কাউকে ছুঁয়ে দিতাম। ৭.জানি একদিন মৃত্যু এসে ছুঁয়ে যাবে আমাকে হয়তো আরও কিছু দিন বাঁচবো বা আরো কিছু মাস নয়তো আরো কিছু বছর,তবুও বাঁচতে ইচ্ছে করে শুধু তোমাকে ভালোবাসি বলে কিংবা তুমি আমাকে ভালবাসো বলে। ৮.তুমিই তো আমার আয়না তুমি দেখলেই আমার দেখা হয়ে যায়। ৯.আসলে ভাত হোক আর প্রেম হোক দুটোর জন্যই মানুষ একই রকম ভিখারি। ১০.সম্পর্ক হলো চারাগাছের মত। ♦বইয়ের উল্লেখ কিছু মূল্যবান কিছু লাইন/কথা .................................................... ♥মায়ের চোখে সব মেয়েরাই সুন্দর মা। ♥গাড়ি-বাড়ি থাকলেই কি সব মানুষ সুখী হয়রে বোকা? ♥রক্তের সম্পর্কের বাহিরেও একটি আত্মার সম্পর্ক বলে কথা আছে। ♥বাবা মা কি কখনো সন্তানের অপরাধ মনে রাখে? ♥পৃথিবীতে যত সম্পর্ক হোক হয়তো একদিন ভেঙে যায়, ভুলে যায় কেউ কেউ, কিন্তু রক্তের সম্পর্ক কখনোই ভাঙে না রয়ে যায় মৃত্যুর পরও। ♥জীবন বড় অদ্ভুত কখন কোথায় কাকে কার কাছে আত্মসমর্পণ করতে হয় তা কেউ জানে না। মানুষের এত দাম্ভিকতা অহংকার - সবকিছুই এক নিমিষে চূর্ণ হতে পারে সহজেই ভুলে যাই আমরা। ♥সৃষ্টিকর্তার কি অদ্ভুত নিয়ম -বলা নেই কওয়া নেই যখন যাকে খুশি চিরতরে পৃথিবী থেকে উঠিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। ♥জন্মের সাথে সাথেই মৃত্যুটা অনিবার্য হয়ে যায়, তবুও মানুষ মৃত্যুকে সাথে করে নিয়েই বেঁচে থাকার কীযে আপ্রাণ চেষ্টা করে। ♥আমরা সম্পর্কের চাইতে ব্যক্তিকে বেশি মূল্যায়ন করতে চাই বা মূল্য পেতে চাই। ♥কেউ কেউ মায়া ভূলে গেলেও একজন মা সে মায়া ভূলতে পারেন না কোনোদিন। ♥পৃথিবীতে নিজের সবচেয়ে প্রিয় মানুষটির সাথে জীবন কাটানোয় স্বার্থকতা নেই। স্বার্থকতা সেখানেই যখন একই অনুভূতি দুজনের মধ্যে সমানভাবে বয়ে যায় ♥যদি আজীবন বেঁচে থাকতে হতো মানুষ নিজেকে মুক্তি দিতে মৃত্যু কোথায় পেত? ♥কিছু মানুষ তোমাকে অনেক মূল্যায়ন করবে তার কাছে পাবার জন্য আর যখন তুমি তার কাছে চলে যাবে ঠিক তখন থেকেই তুমি মূল্যহীন হয়ে পড়বে, এটাই বাস্তবতা ♥প্রতারণা হচ্ছে এক ধরনের মৃত্যুদায়ক যন্ত্রনা বেঁচে থেকেও নিজেকে প্রতিনিয়ত মৃত্যুর সাথে লড়াই করে টিকিয়ে রাখা। ♥যদি কাউকে ভালোবেসে সেই ভালোবাসার পূর্ণতা নাই দিতে পারো তবে তাকে ভালোবাসি বলতে যেও না। ♥পৃথিবীতে মানুষের মনের মত বেহায়া মন আর কোন কিছুরই নেই, যা পাবার নয় তাই চায় মন বেশি করে ♦লেখকের উদ্দেশ্যে কিছু কথা .......................................... লেখক আদেল পারভেজ তার উপন্যাসটিতে খুব সুন্দরভাবে গুছিয়ে চরিত্র ও কাহিনী উল্লেখ করেছেন।যা আশা করি প্রত্যেক পাঠকের ভাল লাগবে। তুমি চাইলেই আমার হতে পারতে উপন্যাসটি একটি ইতিহাস হয়ে থাকবে লেখকের জীবনে।লেখকের জন্য একরাশ শুভকামনা ও ভালবাসা রইল, যিনি এত সুন্দর উপন্যাস রচিত করে পাঠকদের পড়ার ও কিছু শেখার সুযোগ করে দিয়েছেন। সর্বশেষে লেখকের পরবর্তী সব বইয়ের জন্য অপেক্ষায় থাকব। ♦ব্যাক্তিগত রেটিং ........................... ১০/১০ ♦রিভিউদাতা .............................. তাসনিম শিরিন ঝিনাইদহ, হরিণাকুন্ডু।

Review Upload 1
Review Upload 2
Sayfa Shanta
Sayfa Shanta ভেরিফাইড
13 Mar 2026

#বুক_রিভিউ( সাইফা শান্তা)  ★বইয়ের নাম:- তুমি চাইলেই আমার হতে পারতে লেখক:- আদেল পারভেজ  প্রকাশক:- মুহাম্মদ আল- আমিন প্রকাশনী:- বই অঙ্গন প্রকাশনা   প্রচ্ছদ:- তানিয়া সুলতানা  ★প্রচ্ছদ ও নামকরণের স্বার্থকতা :- ---------------------------------------------------- প্রচ্ছদ যখন কথা বলে। শুরুতেই প্রচ্ছদে চোখে পড়ে সবুজ গাছপালায় মোড়ানো দুটি বাড়ির বেলকুনিতে দুজন যুবক যুবতী তৃষ্ণাতুর চোখে তাকিয়ে আছে। প্রচ্ছদের কয়েকটা কালারের সংমিশ্রণ ছিল অসম্ভব সুন্দর । আদৌও উপন্যাসটি উপলব্ধি না করতে পারলে প্রচ্ছদের মর্মার্থটির গভীরে যেতে ভাবতে হবে। এত সুন্দর প্রচ্ছদকারী তানিয়া সুলতানা আপু নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার কেননা তিনি উপন্যাসের নামকরণ ও কাহিনীর সাথে মিলিয়ে প্রচ্ছদটিকে ফুটিয়ে তুলেছেন ও সবচেয়ে আকর্ষণীয় বইটির কভারের পিছনে গোটা গোটা অক্ষরে লিখা- সুখটা যদি ছুঁয়াচে কোনো অসুখ হতো তাহলে সুখী কাউকে ছুঁয়ে দিতাম। "তুমি চাইলেই আমার হতে পারতে" উপন্যাসের নামকরণে অবশ্যই লেখক স্বার্থক কেননা উপন্যাসের মাঝে ঘটে যাওয়া চরিত্রদ্বয়ের বর্ণনা ও নিত্য নতুন যন্ত্রণা- ভোগান্তি সম্পর্কের মধ্যে লেগে থাকা জ্যাম যেন ট্রাফিক জ্যামের মতোই যাতে আটকা পড়ে কত সুন্দর করে শেষ হয়ে যেতে পারে তিলে তিলে গড়ে ওঠা সুসম্পর্ক তা কেবল উপন্যাস পাঠেই বুঝা যাবেও নামকরণের স্বার্থকতায় তখন উপলব্ধি করতে সহায়ক হবে। ★আত্মকথন:- ----------- উপন্যাসের দিকে প্রবেশ করার আগেই সকলের চোখ আঁটকে যাবে লেখকের আত্মকথনে যা কোন লেখকই এভাবে সুস্পষ্ট ইঙ্গিতে এতো সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করে বলে আমার জানা নেই যা লেখক নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তার শব্দচয়ন ও লিখনশৈলীর মাধ্যমে। দেখে নেওয়া যাক লেখকের দারুণ আত্মকথন গুলো:-   ~যন্ত্রণার ঘ্রাণ যখন তীব্রভাবে আমার নিজস্ব জগৎটাকে ভরিয়ে তুলে, তখন দম আটকে যায়। ~জীবনের নিত্যনতুন আয়োজনে সুখের ঔষধগুলো যখন ফুরিয়ে যায়,তখন আবার ইচ্ছে করে সেই আগের পুরোনো চেনা কিছু অতীতকে আঁকড়ে ধরতে। ~শুধু শুধুই  মানুষ পরিচয়ে বাঁচার কোন অর্থ বা স্বার্থকতা আছে কী? ~বেঁচে থাকা দারুণ একটি খেলা, স্বচ্ছ বিলের জলে তিত পুঁটি লাফানোর মতোই। ~বিশাল আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকি ভালো একটি দিনের অপেক্ষায়। নিঃশ্বাস ফেলতে ফেলতে যেদিন ফুরিয়ে যায় তাঁর ভালোমন্দ কী? ~অবশেষে আমি জেনেছি, বেঁচে থাকা মানে শুধু নিঃশ্বাস নেয়া নয়,বেঁচে থাকা মানে প্রতিটা নিঃশ্বাসের সাথে নেয়া এক একটা আনন্দের ঘ্রাণ। ~ভাঙনের দহন মুছে স্বপ্ন ছুঁয়ে তাই আমার এই সম্ভাবনার পথে ছুট। ★বইটির সংক্ষিপ্তসার:- ---------------------------------- "তুমি চাইলেই আমার হতে পারতে" কথাসাহিত্যিক আদেল পারভেজ রচিত সামাজিক ক্রাইসিস ও অস্থিরতামূলক জীবনঘেঁষা একটি উপন্যাস। মূলত আমরা জীবনে চলার পথে বহুমুখী সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকি তার মধ্যে নিত্য ভোগান্তিকর একটি সমস্যা হলো ট্রাফিক জ্যাম। জীবন নামক কাটাতাঁরের আদলে লেখা এই সামাজিকধর্মী উপন্যাসটিতে লেখক সুস্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাফিক জ্যাম নামক শব্দটির বিরূপ প্রভাব কতটা ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে ঘটে যাওয়া সামাজিক ক্রাইসিস সৃষ্টি করে।  লেখক উপন্যাসের এমন এমন পয়েন্টে এমন ভাবে আপনাকে আটকে রাখবে  যে খুব সহজে বিষয়টি ধরাও দিবেনা যতক্ষণ না চরিত্রের মধ্যে নিমগ্ন থেকে উপলব্ধি করা যাবে বিষয়বস্তুকে।  উপন্যাসের মূল নায়ক নায়িকা নিলয় ও তিশাকে নিয়ে উপন্যাসের অগ্রযাত্রা। ক্লাস নবমে পড়ুয়া নিলয়ের মা যখন দ্বিতীয় সন্তান প্রসব বেদনায় মৃত্যুবরণ করে ঠিক তখন থেকেই নিলয় অনাদর,অযত্ন ও অবহেলায় বেড়ে ওঠা বাবার দ্বিতীয় বিয়ে মেনে নিতে পারেননি। সঙ্গহীন নিলয়ের একমাত্র ভরসা হয় লায়লাবু নামে উপন্যাসে জড়িয়ে থাকা আরেকটি অনন্য চরিত্র যার নির্ভরতা ও বেশিদিন পায়নি নিলয় তার আগেই বিয়ে হয়ে সংসার নামক শব্দে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে যায় লায়লা ও রাতুল দম্পতি। উপন্যাসের একপর্যায়ে নিলয়কে যখন তার ফুপির বাসায় নিয়ে যাওয়া হয় সেখানেই নিলয়ের নির্ভরতার ও ভরসার অন্যতম নাম হয় রিমি নামে তার ফুপাতো বোন যে কি-না অজান্তেই জড়িয়ে যায় নিলয়ের মায়াজালে। তারপর আসলে কি হয়েছিল নিলয়ের জীবনে? রিমিই বা কতোটা ত্যাগ করে নিলয়ের জন্য নিজেকে রেখেছিল মৃতপ্রায় বাঁচিয়ে। নিলয়ের জীবনে মোড় নেওয়া তিশাই বা ঠিক কতটুকু উপন্যাসের অংশজুড়ে ছিলো? নিলয় ও তিশার লড়াইয়ের অপেক্ষা হিসেবে দু'জন একত্রিত হতে পেরেও কি হয়েছিল শেষাবধি?  নিলয় ও তিশার মাঝে আসা সুপর্ণা ই বা কতোটা অংশজুড়ে উপন্যাসের মূল ভূমিকায় ছিল। তবে লায়লা রাতুল দম্পতিদের মধ্যে দেয়াল হিসেবে অর্ক নামক ছেলেটিও কী জানতো-- জীবনে বিশ্বাসঘাতকতা বা অবহেলা কীভাবে একই সাথে শেষ করে দিতে পারে কয়েকটি সতেজ প্রাণ? দুঃখ নামক বিষাদে লেপ্টে থাকা অনাদরে বেড়ে ওঠা ছেলে নিলয়ের জীবনে কি আদৌও সুখ নামক মরিচীকা বেশিদিন টিকতে পেরেছিল? কি দোষের দায়েই বা রিমিকে পোহাতে হলো একজীবনের একাকিত্ব ও বিষাদ আঁকড়ে বেঁচে থাকার সেই অকল্পনীয় ক্ষণ। ট্রাফিক জ্যাম নামক বিষবাষ্প ছড়িয়ে দেওয়া সেই যানজট কি জানতো? একটু একটু করে গড়ে তোলা সম্পর্ক গুলো বিষিয়ে যাবে ও পরিণতি হিসেবে যাবে অহেতুক ভীড় জমানো সেই ট্রাফিক জ্যাম।   নিলয় তিশা দম্পত্তি ও লায়লা রাতুল দম্পত্তি অন্যদিকে রিমি ও লাবণ্য ও অর্ক নামক চরিত্র গুলো উপন্যাসের মূল অংশজুড়ে এতোটাই প্রভাবিত ও আন্দোলিত করেছে যে উপন্যাসের একটা অংশ জুড়ে হলেও ভাবিয়ে তুলতে বাধ্য। জীবন সত্যি অদ্ভুত কখন হঠাৎ মেঘে ভেসে আসা বৃষ্টির মতো ঝরিয়ে দিয়ে যায় বিষাদ, মায়া, সম্পর্ক, জীবনের এই মূল্যবান মুহূর্ত গুলোও উপলব্ধি করতে শিখিয়েছে লেখক এমনকি সামাজিক মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা সম্পর্ক ও সমস্যার মধ্যে কীভাবে থমকে যায় কুড়িয়ে গড়ে তোলা সম্পর্ক।   নিলয়- তিশার গড়ে ওঠা সম্পর্ক ও পরিণতি, রিমির অবদান ও পোষা কষ্ট, লায়লা রাতুল, অর্কের মধ্যে ঘটে যাওয়া কাহিনী ও সর্বোপরি পরিবারের মাঝে দেয়াল নামক শব্দ জুড়ে দেওয়ার কারণ ও সমস্যা চিহ্নিত করণের জন্য ও সাবলীল উল্লেখযোগ্য ঘটনায় লেখকের স্বার্থক উপন্যাস।  "তুমি চাইলেই আমার হতে পারতে উপন্যাসটি পড়ার আমন্ত্রণ রইলো আশা করি সকল প্রশ্নের।"

Review Upload 1
Review Upload 2

প্রশ্ন ও উত্তর (Q/A)

দুঃখিত, কোনো প্রশ্ন উত্তর পাওয়া যায়নি।

সাদৃশ্যপূর্ণ পণ্যসমূহ (Similar Products)

বাবলি

বাবলি

৳ 400৳ 400
4.63(2)
কিনুন