

Buy সুবর্ণ-রাধিকা Online in Bangladesh
লেখক: সাখাওয়াত হোসেন
- Author: সাখাওয়াত হোসেন
- Publisher: সতীর্থ প্রকাশনা
- Isbn: 9789849720584
- Number Of Pages: 208
- Language: বাংলা
- Edition: ২য় মুদ্রণ, ২০২৫
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
‘সুবর্ণ-রাধিকা’ সাখাওয়াত হোসেন-এর প্রথম গল্পগ্রন্থ। গত চার বছরে (২৪-১০-২০২৩) লেখক যত গল্প লিখেছেন, সেখান থেকে পাঠক হিসেবে পড়ে যে গল্পগুলো সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে লেখকের নিজের, সেগুলোই এই বইয়ে জড়ো করা। বইয়ের মোট গল্প সংখ্যা একুশ। নির্দিষ্ট কোনো জনরা নেই, হিজিবিজি জনরায় ভর্তি। লভক্রাফটিয়ান হরর, অতিপ্রাকৃত, সাইকোলজিক্যাল, থ্রিলার কিংবা জীবনধর্মী। যারা গল্প পড়েননি, তাদের জন্য- গল্পগুলো সম্পর্কে কয়েক লাইন ধারণা দেওয়া যাক।📖 ‘আদিম’ সন্তান অন্ধকার ভয় পায়, বদ্ধ ওয়াশরুম ভয় পায়। এক সন্ধ্যায় গলা চড়িয়ে ঝগড়া করায় অল্পবয়সীকে সন্তানকে ওয়াশরুমে ঢুকিয়ে দরজা বন্ধ করে লাইফ অফ করে দিলেন মা। সন্তান মুখোমুখি হলো অবর্ণনীয় এক ভয়ের। এই ভয়ের নাম, শূন্য।📖 ‘প্রসূন’ হাসান ছোটোখাটো একটা চাকুরি করে, সংসারটাও ছোট তার। বউ ও একটা আট মাস বয়সী বাচ্চা। সমস্যাটা বাচ্চা। বাচ্চা ঘুমালে মাথার কাছে ফুল পড়ে থাকে তার। ছোট ছোট ফুল। সাদা রঙা। ছয়টা করে পাপড়ি। ফুলগুলোতে রসুনের গন্ধ।📖 ‘গ্রন্থন’ স্বর্গ ও মানুষ। সব স্বর্গেই থাকে গন্দম বৃক্ষ। মানুষ তীব্র নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ওই বৃক্ষের দিকে ছোটে। এই গল্পের একজনও ছুটেছিল। অজান্তে। অজ্ঞাতে।📖 ‘বৃশ্চিক’ পুষ্প স্বপ্ন দেখে। স্বপ্নগুলো স্বাভাবিক থাকে প্রথমদিকে। ফলে তার জানা হয় না, ওগুলো স্বপ্ন। একটু পরই স্বপ্নে মোড় আসে। ওই মোড়গুলো রক্তাক্ত। সর্বশেষ স্বপ্নে মা দরজায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। মায়ের ঘাড়ের দিককার মাংস ছিল উধাও।📖 ‘অপার্থিব’ তর্কসাপেক্ষে জগতের সবচেয়ে শক্তিশালী বিষের নাম অ্যাকোনাইট। ভদ্রলোক রোজ একটু একটু করে অ্যাকোনাইট খাচ্ছেন। পাকস্থলী বিষক্ষম করে তুলছেন। কেননা তার অনুমান, খুব শীঘ্রই তার বউ তাকে বিষ খাইয়ে হত্যা করবেন।📖 ‘অন্তরকলন’ অন্তরকলন হচ্ছে গণিতের একটি শাখা, যেখানে একটি রাশির সাপেক্ষে অন্য রাশির পরিবর্তনের হার পরিমাপ করা হয়। অংকটা যদি ব্যক্তির ব্যক্তিগত হয়, তার অন্তরকলন সমাধান করবে কে?📖 ‘বিভাস’ এক বৎসর এগার মাস তের দিন আগে ভদ্রলোক প্রেমে পড়েছিলেন। ভিনদেশী এক নারীর। নাম, মারিয়া। তাদের বিয়ে ঠিক হয়েছিল চব্বিশে এপ্রিল। বিয়ের দুই দিন আগে মারিয়া উধাও হয়েছেন। ভদ্রলোক খুঁজতে বের হয়েছেন তাকে। গন্তব্য তার জানা, যাওয়ার পথটা শুধু জানা নেই।📖 ‘শালুক’ স্বামীর কবরের সামনে দাঁড়িয়ে নারী। সঙ্গে কন্যা সন্তান। কন্যার নাম, তৃপ্তি। হঠাৎ একজন তৃতীয় নারীর আগমন। ওই নারী একটা চিঠি নিয়ে এসেছেন নারীর জন্য। চিঠিটা পড়া দরকার তার।📖 ‘পারাবার’ ভার্সিটির ক্যাম্পাসের কোণায় একটা লাশ পাওয়া গেল। নগ্ন লাশ। মাথা থেকে কোমর অবধি মাটিতে পোঁতা। পা দু’টো উপরে শুধু, আসমানের দিকে তাক করা। পায়ের বুড়ো আঙুলে আটকানো কাগজে লাশের বয়স ও নাম ঝুলানো। লাশের নাম তওকীর।📖 ‘অংশন’ গীর্জার কনফেশন রুমে একজন যুবক এসেছেন। উদ্দেশ্য কনফেস করা। কনফেসের গল্পটা শুরু হয় গ্রিক মিথোলজি দিয়ে। পৃথিবীর প্রথম নারী প্যান্ডোরাকে নিয়ে। যিনি শুধুমাত্র কৌতুহলের বশে একটা বাক্স খুলে ফেলেছিলেন। আর পৃথিবীকে উপহার দিয়েছিলেন ঘৃণা, হিংসা, লোভ, অসুখ অথবা মৃত্যু।📖 ‘মোচক’ খোরশেদ আলম অনুভব করতে পারছেন, তিনি কুকুর হয়ে যাচ্ছেন। রুপক নয়, আক্ষরিক অর্থে কুকুর। আস্তে আস্তে প্রকাশ পাচ্ছে সব চিহ্ন। আজকাল গরম লাগে তার খুব, আর তখন তিনি প্রায়শই জিহ্বা বের করে বসে থাকেন। কুকুর কখনও ঘামায় না। ওরা উষ্ণতা বের করে জিহ্বা দিয়ে।📖 ‘মন্দির’ পুকুরে মাছ হয় না ভালো। সংসারে অর্থনৈতিক টানাপোড়েন। কর্তা একটা পশুবলী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তখন। পুকুরপাড়ের ভগ্নমন্দিরে গোপনে বলী দেওয়া হবে কুচকুচে কালো রঙা একটা ছাগল। জোগাড়যন্ত্র হলো সব। মধ্যরাত্তিরে বলী দেওয়ার সময় সমস্যা হলো একটা। কোপানোর পর ছাগল দড়ি ছিড়ে পালালো, ঘাড়ে গাঁথা ছুরি নিয়ে।📖 ‘ঘুম’ ঘুমপরীরা আসে স্বর্গের একটা বাগান হতে। ওরা যেচে আসে না কোনোদিন। ওদের ডেকে আনতে হয়। ওরা পৃথিবীতে নেমে উঁকিঝুঁকি দিয়ে দেখে, কোথায় কোন ঘরে কার বাচ্চা ঘুমাচ্ছে না। ওদের হাতে থাকে একটা ম্যাজিক স্টিক। যখনই ওদের ডাকা হয়, ওরা ওই ঘরে পা রাখে, ওই বাচ্চার কপালে ম্যাজিক স্টিক ছুঁয়ে দেয় আলতো করে, আর বাচ্চা ঘুমিয়ে পড়ে। বাকিরা জেগে থাকে। বাকিদের ঘুম হয় না। বাকিদের ঘুম হয় না একশো বৎসর।📖 ‘হাওয়া’ প্রত্যন্ত গ্রাম। রবিউল তখন কিশোর। এক রাত্তিরে মোষ আনতে গেল জঙ্গল থেকে সে। ফিরে এলো খালি হাতে। নগ্ন, মাথা এলোমেলো, ফ্যাকাসে চেহারা, উদভ্রান্ত দৃষ্টি। জানালো, ওর একজন সঙ্গী হয়েছে। ওই সঙ্গী তাকে ছেড়ে কোনোদিনও কোথায় যাবে না।📖 ‘লা পেরেগ্রিনা’ নেক্সাসের এক গহীন জঙ্গলে এক যুবক কবর খুঁড়ছেন। নিজের কবর। তার হাতে একটা ম্যাপল পাতা। গলায় মুক্তা আর সঙ্গে একখানা গল্প। ওই গল্প পাঁচশো বৎসর পুরনো।📖 ‘অন্বয়’ অক্সালিস ট্রায়াঙ্গুলারিস হলো পাতাবাহার জাতীয় একধরণের উদ্ভিদ। অন্যান্য ফুলগাছের ফুল সুন্দর, অক্সালিসের পাতা সুন্দর। হার্ট শেইপ। এক ডাঁটে তিনটা করে পাতা। প্রজাপতির মতোন। বড়ই অভিমানী এই গাছ। অল্প একটু অবহেলায়ও মরে যায়। বলা হয়, সব মানুষের হাতে অক্সালিসের ফুল হয় না। শুধুমাত্র যারা সৌভাগ্যবান, তাদের গাছে ফুল হয়। প্রশ্ন হলো, হাতে অক্সালিস নিয়ে ফুল ফোটার জন্য একটা মানুষকে কতকাল অপেক্ষা করতে হয়? কতদূর যেতে হয়?📖 ‘নবমী’ ড্যান একটা বাসায় পা রেখেছেন। মধ্যরাত। তার উদ্দেশ্য চুরি করা। চুরি করে সহজেই ভেগে যাওয়ার সুযোগ থাকার পরও বেডরুমের দরজার দু’টো ফুটো আটকালো তাকে। কৌতুহলের বশে ফুটোয় চোখ রাখলেন ড্যান। এবং তার সর্বনাশ হলো।📖 ‘দাহ’ বাবার বয়স হয়েছে। ভীষণ অসুস্থ তিনি। পুত্র সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বাবাকে বাঁচিয়ে রাখার। ওই বাঁচিয়ে রাখার পেছনের কারণ স্বাভাবিক নয়। বাবা একটা প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন। ওই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার আগ অবধি তার মৃত্যু নেই।📖 ‘জননী’ একটা বদ্ধ লিফট। দু’জন মাত্র মানুষ। একজন কিশোরী, অন্যজন মা। দুইজনের মধ্যে সম্পর্কটা স্বাভাবিক নয়, জটিল। বদ্ধ জায়গায় কিশোরী ঠিকঠাক, মা নন। কেননা মায়ের আছে একটা অসুখ। ক্লস্ট্রোফোবিয়া। লিফট ঠিক হতে সময় নেবে পনের মিনিট। গত চার বৎসরে যতগুলো গল্প লিখেছি, সবচেয়ে বেশী তৃপ্তি পেয়েছি এই গল্পের শেষ লাইন লিখে। এই গল্প ডায়েরীর খুব পছন্দ।📖 ‘অর্বুদ’ জেনিফারের বয়স যখন দশ বৎসর, তার বাবা মা চূড়ান্ত ঝগড়া করলেন একদিন। একই ছাদের তলায় দুইজন আলাদা হয়ে গেলেন। দুইজনের জিনিসপত্র আলাদা হয়ে গেল। কিন্তু জেনিফার তাদের একমাত্র সন্তান হওয়ায়, তারা পড়লেন বিপাকে। যতবড়ো ঝামেলা, তত সহজ সমাধান। ওই সকালবেলায় বাহির থেকে কাঠ কাটার করাত নিয়ে আসলেন তারা। জেনিফারকে ঠিক মাঝখান বরাবর কাটা হবে।📖 ‘সুবর্ণ-রাধিকা’ রাধিকা সদ্য মা হয়েছেন। রাধিকার স্বামীর নাম সুবর্ণ। ওদের বাচ্চার বয়স মাত্র পাঁচ দিন। রাধিকা বাচ্চার নাম কী রাখবেন ভেবে দিশা পাচ্ছেন না। এমন একটা নাম দরকার, যে নামটা হবে তীব্র অথচ কোমল। ধারালো আবার স্নিগ্ধও। রাধিকা বাচ্চাটার নাম রাখতে পারলেন না। কেননা হসপিটাল থেকে ফেরার পর ছয়দিনের মাথায় বাচ্চাটা রেলিং থেকে নিচে পড়ে থেঁতলে মারা গেল। রাধিকা জানেন বাচ্চাকে উপর থেকে নিচে ফেলে দিয়েছে কে। কিন্তু তার হাতে কোনো প্রমাণ নেই।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

খুব ভালো!

•| কখনো লাভক্রাফটিয়ান হরর, কখনো অতিপ্রাকৃত, কখনো সাইকোলজিক্যাল, কখনো বা থ্রিলার, আবার কখনো সমকালীন। পাঁচমিশালি ঘরানার একুশটা গল্পের অগোছালো এক জগৎ নিয়ে সাখাওয়াত হোসেন এর প্রথম গল্পগ্রন্থ "সুবর্ণ-রাধিকা" |• ................................................................... ◾বই : সুবর্ণ-রাধিকা ◾লেখক : সাখাওয়াত হোসেন ◾ঘরানা : Supernatural. ◾প্রকাশনী : সতীর্থ প্রকাশনা ◾প্রচ্ছদশিল্পী : পরাগ ওয়াহিদ ◾পৃষ্ঠা : ২০৮ ◾মলাট মূল্য : ৪০০৳ ◾পার্সোনাল রেটিং : (৪.৫/৫) ................................................................... সংক্ষিপ্তসার : •••••••••••••• •রাফায়েতের বর্ণনাতীত শূন্য-ভীতি এবং শূন্যের ভেতর আটকা পড়ার গল্প ; (আদিম)। • হাসানের নির্ঝঞ্ঝাট সংসারে হঠাৎ কোনো এক অপার্থিব সাদা রঙা ছয় পাপড়ি বিশিষ্ট ফুলের আগমনের গল্প ; (প্রসূন)। •অবচেতন মনে অস্তিত্বহীনতায় ভোগা পুষ্পর দুঃস্বপ্নের তীব্রতার গল্প ; (বৃশ্চিক)। • কর্ণপুর রেলওয়ে স্টেশনে খুঁজে পাওয়া ভীনদেশী মারিয়ার প্রতি বাংলাদেশি যুবকের প্রেমের বহিঃপ্রকাশ এবং স্টেশনের পর স্টেশন তাকে খুঁজে বেড়ানোর অনন্ত যাত্রার গল্প ; (বিভাস)। • হতভাগা বালিকা তৃপ্তির দেড় বৎসর বয়সের বিভৎস স্মৃতির গল্প; (শালুক)। • টুইন কাইমেরিজমের মাধ্যমে ডিএনএ বদলে যাওয়ার মতো চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুষঙ্গী গল্প ; (অংশন)। • ভাইয়ের প্রতি ছোট্ট মিমির অফুরান ভালোবাসার গল্প বিষন্নতা দিয়ে শেষ হবে। ভাই-বোন যুগলের মধ্যে কেও চিরতরে ঘুমিয়ে যায়, অপর জনের জন্য রেখে যায় আমরণ নির্ঘুম রাত ; (ঘুম)। • গহিন গ্রামে বেড়ে ওঠা অনূর্ধ্ব সপ্তম শ্রেণীর রবিউল এর তৈরি করা নিছক কোনো গল্প? নাকি সত্যতা?। ভাবাবেগ এবং বিস্ময় যুগপৎ জাগ্রত করতে সাইকি-রবিউলের অঅতিপ্রাকৃত গল্প অব্যর্থ ; (হাওয়া)। • পাতাবাহার জাতীয় এক ধরণের উদ্ভিদ অক্সালিস ট্রায়াঙ্গুলারিস। ভীষণ অভিমানী এই বিটপীর দেখ-ভালে যৎসামান্য ত্রুটি রাখলে গাছটি মরে যায়। মরে যাওয়ার পরও যদি পর্যাপ্ত রোদ পায় মাটি, যদি নিয়ম করে ঢালা হয় জল, ফের গজিয়ে উঠে একদিন। সম্পর্কগুলোও হয় এমন। এই যেমন ধরুন, বন্যা, রিমি আর বিন্তির সম্পর্ক ; (অন্বয়)। • অপত্যশোকে পিতার অকৃত্রিম অনুশোচনা, কবর খুঁজে বেড়ানোর এবং জিতুর দীর্ঘশ্বাস এর গল্প ; (দাহ)। • ঘৃণা মাপার যন্ত্র ছাড়াই ইভার ঘৃণার চূড়ান্ত সীমা অতিক্রম করে শায়না। এত ঘৃণার কারণ? ক্লস্ট্রোফোবিয়াক্রান্ত শায়নার প্রতি তীব্র ঘৃণা থেকে তাকে চূড়ান্ত স্তরের কষ্ট দিতে গিয়ে তিন বছর অতীতের মর্মোপলব্ধি করে, মাফ করে দেয় ইভা। শায়নার মাথা বুকে জড়িয়ে ধরে। সম্ভবত সেদিনই সুস্থ হয়ে ওঠে শায়না ;(জননী)। • অতিপ্রাকৃত অথবা অপার্থিব কোনো নিয়মে প্রস্থচ্ছেদ করার পরও বেঁচে থাকে জেনিফার অথবা জেনি এবং ফার এর গল্প ; (অর্বুদ)। • সর্বশেষ, সুবর্ণ এবং রাধিকা। একজন দিন-রাত এক্সপেরিমেন্টের নেশায় মত্ত তো আরেকজন অহেতুক জল্পনা-কল্পনায় তিলকে তাল করে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত। যার প্রভাব সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশুর ওপর ; (সুনর্ণ-রাধিকা)। ( বি:দ্র: এখানে কেবল আমার পছন্দের গল্পগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে) - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - পাঠ-প্রতিক্রিয়া : - - - - - একই বইয়ে একই সাথে পাঁচ ঘরানার গল্প পড়ার এক অন্য রকম আনন্দ আছে। লভক্রাফটিয়ান হররে আপনাকে সেঁটে থাকতে হবে না। মেডিকেল সাইন্স পড়তে পড়তে আপনি ক্লান্ত? অমনি জীবন-ধর্মী গল্পের সম্পর্কের টানা-পোড়ন আপনাকে নিয়ে যাবে অন্য এক দিশায়। সাইকোলজির অস্তিত্ব পাবেন পদে পদে। আবার থ্রিলার দেবে আপনাকে উত্তেজনার স্বাদ। একঘেয়েমিপনাও পেয়ে বসতে পারে বটে, তবে গল্পে গল্পে জনরা বদলই আপনাকে জিইয়ে রাখবে বইখানা শেষ করার আগ পর্যন্ত।

সবকিছু মিলিয়ে অসম্ভব সুন্দর বইটা

২০২৫ সালে যে গুটিকয়েক বই পড়া হয়েছে যার মধ্যে এই বইটা অন্যতম এবং যদি র্যাঙ্কিং করি তবে নি:সন্দেহে ভালো বইয়ের তালিকায় এটি এক নম্বরে থাকবে। ২১ টা ভিন্ন স্বাদের গল্প আছে এতে, অনেকে সাখাওয়াতের লেখায় হুমায়ূনীয় অদ্ভুত গল্পের ভাইব পেতে পারেন তার জন্য লেখকের স্বকীয়তা কোনোভাবেই ক্ষুন্ন হয়না। এই বইটির গল্পগুলো আমাদের দৈনন্দিন চেনা জগত নিয়েই তবে প্রত্যেকটা গল্পেই সেই চেনা জগতেরই কিছু একটা যেনো ঠিক নেই বা কোনো একটা বিষয় একটু এদিক-সেদিক, আর এই ব্যপারটাই গল্পগুলোর মূল আকর্ষণ। প্রত্যেকটা গল্পের একটা কমন ফ্যাক্টর আছে- তা হলো পরিবার বা বন্ধুত্ব- এর কারণেও পাঠক নিবিড়ভাবে কানেক্ট করতে পারে। সাখাওয়াত হোসেন তাঁর বয়সের তুলনায় অত্যন্ত পরিপক্ব লেখনী উপহার দিয়েছেন। লেখক সাজ্জাদ সিয়াম সম্ভবত তাঁর এক পোস্টে বলেছিলেন সাখাওয়াত হোসেন একদিন বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ লেখক হবেন। "সুবর্ণ রাধিকা" পড়ার পর মনে হচ্ছে আসলে আশাবাদী হওয়াই যায়!





বর্তমান লেখকদের মধ্যে আমার সবচেয়ে প্রিয় লেখকের বই প্রিয় পেইজ থেকে নেওয়া। আর কি লাগে!























