

Buy প্রতীক্ষা Online in Bangladesh
লেখক: মৌরি মরিয়ম
- Author: মৌরি মরিয়ম
- Publisher: অধ্যয়ন প্রকাশনী
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2026
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
প্রিয় ধ্রুব,এই শ্যাওলা পড়া ছাদটাই এখন আমার জগত। দিন শেষে যখন গোধুলি নেমে আসে, আমি আজও এই পানির টাঙ্কির পাশে এসে বসে থাকি। এখানকার বাতাসে এখনো কেমন অদ্ভুত মায়া মিশে আছে। আমি কান পাতলে এখনো তোমার গলার স্বর শুনতে পাই। স্পষ্ট অনুভব করি তোমার সুবাস।লোকে বলে সময় সবকিছু মুছে দেয়। তোমার স্মৃতিগুলো যে দিল না? আমার ঘড়ির কাঁটা কি তবে থমকে আছে?ধ্রুব, আমি জানি তুমি সহস্র মাইল দূরে আছো। তবুও এই বোকা মন বলে তুমি আসবে। এই ছাদ, এই নির্জন চিলেকোঠা আর আমার এই পোড়া চোখ দুটো আজও অন্তহীন প্রতীক্ষার প্রহর গুনে চলেছে।-তোমারই আয়েশা।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

অসাধারণ একটা উপন্যাস।

বই:প্রতীক্ষা লেখিকা: মৌরি মরিয়ম জনরা: অতিপ্রাকৃত প্রচ্ছদ: রূপক রাসেল প্রকাশনী: অধ্যয়ন পৃষ্ঠা: ৭৯ মানুষ যখন কাউকে প্রকৃত অর্থে ভালোবাসে, তার জন্য এক জীবন হাসিমুখে কাটিয়ে দিতে পারে। কিন্তু কথা হলো, সেই এক জীবনটা আসলে কতোদিনের। আক্ষরিক অর্থে বয়স নাকি ইহকাল পরকাল দুটোই! দীর্ঘ দুই যুগ জার্মানিতে থেকে নিজের দেশে ফিরে আসে ধ্রুব নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে। দেশের মাটিতে পা রেখেই ফিরে যায় পুরোনো সেই দিনগুলিতে যা সে রেখে গেছে এই শহরের ধুলোবালিতে। ঢাকায় ফিরে প্রথম যার কথা মনে আসে তার খোঁজেই বের হয়। আরমানীটোলার সেই বাড়িতে, যেখানে প্রথম এসেছিলো ধ্রুব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরে। থাকতে। প্রথমে ভেবেছিলো বাকি সবকিছুর মতো এই বাড়িটাও ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে কিন্তু অবাক হয়ে দেখলো এখনো সেই বাড়িটা আগের মতোই রয়ে গেছে। বাড়ির মালিক গত হয়েছেন অনেক আগেই। মালকিন এখনো আছে তবে তাকে দেখলেও চেনার উপায় নেই। উনার অনুমতি নিয়েই ধ্রুব চিলেকোঠার সেই ঘরে যায় যেখানে সে তার ভালোবাসা রেখে গিয়েছিলো। কিছু সময়ের জন্য ফিরে গিয়েছিলো ২৫ বছর পিছনের সেই দিনগুলিতে। ধ্রুবর কল্পনাতেই উঠে আসে গল্পের ভিতরে আরেক গল্প। আরমানীটোলা চার্চের ঠিক পাশেই এই বাড়িটাতে রয়েছে অন্য একটি গল্প যা ধ্রুবর গল্পকে প্রভাবিত করে। এই বাড়িতেই আয়েশা নামের কিশোরীর সাথে পরিচয় হয় ধ্রুবর। এর আগে কোন নারীর সঙ্গ না থাকায় প্রথমে অস্বস্তি থাকলেও আসতে আসতে ঠিক হয়ে যায়। মেয়েটা বিভিন্ন অজুহাতে ধ্রুবকে এটা ওটা খেতে দিয়ে যায়, কখনো কখনো মায়ের কথা রাাখতেও আসে ধ্রুবর জন্য খাবার নিয়ে। এভাবেই একটা সময় অনুভব করে আয়েশার মনের ভাব। সময়ের সাথে সাথে ধ্রুবও ভালোবেসে ফেলে কিশোরী মেয়েটাকে। এদিকে চিলেকোঠার ঘরে থাকতে শুরু করলে কিছুদিনের মধ্যে অনুভব করে পাশের ঘর থেকে আসছে চাপা কান্নার সুর। এক সময় সেই কান্না ভয়ংকর ভাংচুরে রুপ নেয়। বিজ্ঞানের ছাত্র ধ্রুব প্রথমে বিশ্বাস না করলেও পরে নিজের ডিপার্টমেন্টের হেড স্যারের কাছে যায় এবং সব খুলে বলে। স্যারের পরামর্শ মতোই ধ্রুব এগিয়ে চলে এবং বেরিয়ে আসে অজানা রহস্যময় তথ্য। গল্পটাকে সুন্দর করতে ধ্রুব, আয়েশা ছাড়াও বিভিন্ন চরিত্র ছিলো যাদের ভুমিকা একদম পার্ফেক্ট। কোন চরিত্রই অযথা ছিলো না। কোন চরিত্রই আপনাকে বিরক্ত করবে না। একটা কথা বলতে চাই, অতিপ্রাকৃত গল্পে যদি রোম্যান্স খুঁজে থাকেন তাহলে ভুল করবেন তবে এখানে ভালোবাসা ছিলো। দুইটা ভিন্ন সময়ের মানুষের ভালোবাসা আপনি অনুভব করবেন। মৌরি আপুর লেখা গল্পের সুন্দর দিক হলো, সহজে পড়া যায় এবং কোন রকম অপ্রাসঙ্গিক বাড়তি কথা ছাড়া গল্পটা উপস্থাপন করে থাকেন। এই গল্পটাও তার ব্যতিক্রম হয়নি। খুব সুন্দর ছিমছাম একটা উপন্যাসিকা। গল্পটা পড়তে শুরু করলে আপনি নিজে বুঝে উঠার আগেই দেখবেন বইয়ের শেষে চলে এসেছেন। বইটা উৎসর্গ করা হয়ে সেই দুজন মানুষকে যাদের মাথায় প্রথম এই কাহিনী টা এসেছিলো বা বলা যায় যারা গল্পটা বুনেছিলো। সামিউল রাদিন, যিনি মৌরি আপুর জীবন সঙ্গী এবং মিনহাজ মারজু, যিনি রাদিন ভাইয়ার বেষ্টফ্রেন্ড। বইটার প্রচ্ছদ করেছেন রূপক রাসেল ভাইয়া। গল্পের সাথে মিল রেখেই প্রচ্ছদটি করা। নামের সাথে যথার্থই হয়েছে প্রচ্ছদটি। উপন্যাসিকার নামটা আসলেও গল্পটার গন্তব্য। গল্পটা আসলেও প্রতীক্ষারই। শেষে বলবো, ৭৯ পাতার ছোট একটা গল্প যা আপনাকে কিছু সময়ের জন্য ভাবাবে, কেন এগুলো হচ্ছে। আরেকদিকে চিন্তায় ফেলবে আয়েশার কি হয়। শেষে মনে হবে, এটাই হওয়ার ছিলো। হ্যাপি রিডিং 🫶
প্রশ্ন ও উত্তর (Q/A)
Boi tar page koto
প্রিয় গ্রাহক, বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা 0। ধন্যবাদ।
Boi tar page koto
প্রিয় গ্রাহক, বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা 0। ধন্যবাদ।























