

Buy প্রিয় চৈত্রমাস Online in Bangladesh
লেখক: আসরিফা সুলতানা জেবা
- Author: আসরিফা সুলতানা জেবা
- Publisher: নবকথন প্রকাশনী
- Isbn: 9789849711728
- Number Of Pages: 140
- Language: বাংলা
- Edition: 3rd Edition, 2025
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
গম্ভীরমুখো রাজপুত্রকে তেড়ে আসতে দেখে চৈত্রিকা অশ্রুসিক্ত টলমল চক্ষু মেলে এক পল চাইল। বুকে ধুপধাপ কম্পন অনুভব করল। পা দুটো গুটিয়ে পুরাতন দেয়ালের সাথে আরেকটু সেঁটে বসল৷ বলিষ্ঠদেহী সাফারাত অর্থ্যাৎ তার কথিত রাজপুত্রের ধূসর রঙের জ্বলজ্বল করা মণিজোড়ায় বেশিক্ষণ চেয়ে থাকতে অপারগ হলো সে। নজর সরিয়ে আনল তৎক্ষণাৎ। তাকায় অন্যত্র। পায়ে স্পর্শ অনুভব হতেই আঁতকে ওঠে, সর্বাঙ্গে বয়ে যায় শিহরণ। কানে ঝংকার তুলে প্রবেশ করে তীক্ষ্ণ কণ্ঠস্বর, “আপনি কি নিজেকে রাজকুমারী ভাবেন না?” চৈত্রিকা তড়াক করে নিজের রক্তাক্ত পায়ের দিকে তাকাল। চেয়ে রইল পলকহীন, নির্নিমেষ। চোখে ভাসছে সফেদ একটা রুমাল দিয়ে রক্ত মুছে দেওয়ার দৃশ্য। আচ্ছা রুমালটার দাম কত হবে? ও শোধ করতে পারবে? নিশ্চয়ই অনেক বেশি। ভেতরের ভাবনা, উত্তাল ঢেউ থামিয়ে নিষ্প্রাণ ও মলিন স্বরে নিজের জীবনের সত্যটা সাফ সাফ জানায়, “আমি কলঙ্কিত পুষ্প, রাজকুমারী নই!”
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
অনেক সুন্দর একটি গল্প। সমুদ্র রাজপুত্র আর তার চৈত্র মাস কে পড়ে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছি। শব্দচয়ন মাশা'আল্লাহ। এককথায় গোছানো একটা বই! 🎀
Test

অসাধারণ একটা বই 🥰🥰সত্যিই অনেক ভালো লাগছে

onk vlo lglo.......
আঘাতে,অপমানে, তাচ্ছিল্যে বহমান রক্তের ধারা অদম্য সাহসের জোরে স্বপ্ন সমীকরণকে জানায় ইশারা। তাচ্ছিল্যতার শহরে হঠাৎ প্রেমতরঙ্গের আগমন মনের অজান্তেই প্রিয় সত্তাকে জানায় প্রণয়ের স্বাগতম। হাজারও অবহেলার ভীরে রাজপুত্রের শহরে প্রণয়ীর মুগ্ধতার বসবাস সমুদ্র রাজ্যের রাজপুত্রের একান্ত প্রিয় চৈত্রমাস! [~মোহসিনা রুদ্র ] 💠বই পরিচিতি:- বইয়ের নাম :- প্রিয় চৈত্রমাস লেখিকার নাম: আসরিফা সুলতানা জেবা জনরা:- (সামাজিক + রোমান্টিক)উপন্যাস প্রকাশনী : নবকথন প্রকাশনী প্রকাশকাল: ২০২৩ সাল মুদ্রিত মূল্য: ৩৮০ টাকা পৃষ্ঠা সংখ্যা:- ১৪০ 💠লেখক পরিচিতি:- লেখিকা "আসরিফা সুলতানা জেবা" রসমালাইয়ের জন্য বিখ্যাত কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মায়ের তিন সন্তানের মাঝে তিনিই প্রথম। শৈশবের দুরন্তপনা ও কৈশোরের মিষ্টি সময় পেরিয়ে তিনি এখন অনার্স তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত।জেবা আপু ভার্চুয়াল সাহিত্য গন্ডির মোটামুটি পরিচিত একজন লেখিকা। লেখালেখির সময়কাল তেমন বেশি নয়,তবে নিজের লেখনীর মুগ্ধতা দিয়ে পাঠক হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। পাঠকদের একনিষ্ঠ সমর্থকেই 'প্রিয় চৈত্রমাস' বই বের করেছেন। ⚫ ফ্লাপ থেকে:- গম্ভীরমুখো রাজপুত্রকে তেড়ে আসতে দেখে চৈত্রিকা অশ্রুসিক্ত টলমল চক্ষু মেলে এক পল চাইল। কানে ঝংকার তুলে প্রবেশ করে তীক্ষ্ণ কন্ঠস্বর," আপনি কি নিজেকে রাজকুমারী ভাবেন না?" ভেতরের ভাবনা,উত্তাল ঢেউ থামিয়ে নিস্প্রাণ ও মলিন কন্ঠে নিজের জীবনের সত্যটা সাফ সাফ জানায়," আমি কলঙ্কিত পুষ্প, রাজকুমারী নই!" 💠কাহিনীর সারসংক্ষেপ :- অবহেলা, অপমানে বেড়ে উঠা স্বপ্নজয়ী এক প্রণয়ীসত্তার জীবন সমীকরণ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। পারিবারিক টানাপোড়েন, সামাজিক কালকূটের বেড়াজাল থেকে বেড়িয়ে এসে অদম্য সাহসের সাথে নিজের স্বপ্ন পূরনের পথে এগিয়ে যায়। হাজারো তুচ্ছতাচ্ছিল্য, অপমান উপেক্ষা নিজের জীবন সমীকরণকে আলোর দুয়ারে নিয়ে যাওয়ার তীব্র আন্দোলন। গুটিকয়েক সত্তার সার্বিক অনুপ্রেরণায় নিজেকে কলঙ্ক মুক্ত করার লড়াই চালিয়ে যায়। হঠাৎ সমুদ্র পথের রাজকুমারের আগমন,পারিপার্শ্বিক আলাপন। গুটি গুটি অনুভূতির মিলনে প্রণয় সমীকরণ গড়ে উঠে। এই স্নিগ্ধ প্রণয়ের পূর্ন পরিনয় আদোও সম্ভব, নাকি অপূর্নতার বেড়াজালে আঁটকে পড়ে দুই সত্তা!? অপরদিকে ভিন্ন জুটির প্রেমময় আখ্যান, ভাই-বোনেরের স্নেহকাতর মেলবন্ধন, বন্ধুত্বের সমীকরণ, পিতার অবর্তমানে কলঙ্ক নিয়ে বেড়ে উঠা মানবীর জীবন সমীকরণ, অধিপত্যের দাপট জাহির করা পুরুষ দ্বারা এক নারীর সম্মানহানির সমীকরণ,চরিত্রে দাগের কলঙ্ক নিয়ে বেড়ে উঠা নারীর কালকূটময় জীবন সমীকরণ, কিছু অপূর্নতার কালরেখার উপর গল্পটি উপস্থাপন করা হয়েছে। 💠ব্যাক্তিগত পাঠ প্রতিক্রিয়া:- পড়ন্ত বিকেলে গোধূলি লগ্নের নিঃসঙ্গতায়, বন্ধুত্বের সমীকরণ গড়ে উঠে 'প্রিয় চৈত্রমাস'বইয়ের প্রতিটি পাতায়। আমি আস্তে আস্তে হারিয়ে যাই কাহিনির রহস্যময়তায়। লগ্ন পেরিয়ে পরবর্তী ক্ষণের সূচনা হলেও,গল্পের প্রতি মুগ্ধতা লেপ্টে আছ হৃদয় জুড়ে! কলঙ্ক নিয়ে বেড়ে উঠা এক মানবীর জীবনবিন্যাস দিয়ে গল্পের সূচনা। মানবী প্রতিনিয়ত অবহেলা, অত্যাচারে জর্জরিত হতো। মূলত মায়ের সম্মানহানির কলঙ্ক থেকে নিস্পাপ মেয়েটা জন্মলগ্ন থেকে নিষ্পেষিত হতে থাকে৷ মায়ের এবং চাচাতো ভাইয়ের সাহায্য ও অনুপ্রেরণায় অদম্য সাহসের সহিত স্বপ্ন পূরনের পথে অগ্রসর হয়। সূচনালগ্ন থেকে যে রহস্য আমার মনে বাড়ি খেতো,তা হলো__ কিসের কলঙ্ক মেয়েটার? কেন এতো অত্যাচারিত হচ্ছে? কলঙ্কিত সমীকরণ খোলাসা হওয়ার পর,মনে গহিনে প্রশ্ন উঁকি দিতো__ কে এই কলঙ্কের রেখা টানলো? অতঃপর ভাবী নামক বোনস্বরপ সত্তা সহায়তায় একটা নির্দিষ্ট আশ্রয়স্থল পায়। হঠাৎ স্বপ্নের রাজপুত্রের আগমনে, ভালোবাসার সুই বোনা শুরু হয়। আদোও এই বামন ও চাঁদের প্রণয়মিলন হবে তো? নাকি হারিয়ে যাবে একে অপরের থেকে বিপরীত সমীকরণে?__ এই প্রশ্ন, উৎকন্ঠা নিয়ে গল্পের প্রতিটি পাতা আগ্রহের সহিত পড়া শেষ করেছি। গল্পটা পড়ে কোন একঘেয়েমি লাগে নি! পুরো গল্পটা খুবই মাধুর্যপূর্ণভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে! 💠 বইয়ের নামের স্বার্থকতা:- বইয়ের নামটা শুনেই অদ্ভুত ভালো লাগা কাজ করে। চৈত্রমাস যেমন ঝা ঝা রোদ্দুরে পরিপূর্ণ,প্রখর দাবদাহ, প্রকৃতিতপ মুগ্ধতার রেশ ছড়িয়ে দেয় __তেমনি গল্পের মূল চরিত্র চৈত্রিকা- সকল অপমান, অত্যাচার,তাচ্ছিল্য সহ্য করে অদম্য বেগে স্বপ্ন পূরনের পথে অগ্রসর হয়। চৈত্রিকার প্রতিবাদী ঝংকার, অদম্য আকাঙ্খা, তেজস্বী মনোভাবের আদলে গল্পের নামের স্বার্থকতা পরিপূর্ণভাবে ফুঁটে উঠেছে। 💠প্রচ্ছদ নির্বাচন:- বইয়ের প্রচ্ছদটা এতো সুন্দর, দেখলেই একরাশ মুগ্ধতা ঘিরে ধরে। প্রচ্ছদে ফুটে উঠেছে দুই সত্তা প্রেমময় যুগলবন্দী। গল্পে চৈত্রিকা ও সারাফাত এর প্রণয় লগ্নের সমীকরণই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে প্রচ্ছদে। গল্পের সাথে প্রচ্ছদের আনুষঙ্গিক মিলের পরিপূর্ণতা প্রকাশ পেয়েছে। 💠গল্প বিষয়ক নিজস্ব মতবাদ :- ◾লেখনী ও শব্দচয়ন :- গল্পের লেখিকার লিখনশৈলী অতুলনীয়। শব্দচয়ন যথেষ্ট মার্জিত ও সহজবোধ্য ছিল। প্রত্যেকটা বিষয় এতো সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছে, আর লেখার ধরনও সম্পূর্ন গোছানো। লেখিকা নিজের অন্যবদ্য লেখনির মাধ্যমে গল্পের প্রতিটি চরিত্রকে এতো সুন্দর, সাবলীল ভাবে ফুটিয়ে তুলেছে, মনে হচ্ছিল বাস্তবিক কোন কাহিনিচিত্র। গল্পের অধিকাংশ বচন,উক্তি এতোটাই মনোমুগ্ধকর ছিল,যা পাঠক হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।লেখার মধ্যে তেমন কোন ভুল নেই বললেই চলে।সর্বোপরি লেখিকার লেখনি আমার হৃদমাঝারে গভীরভাবে গেঁথে গেছে। ◾প্লট:- 'প্রিয় চৈত্রমাস' বইটি সামাজিক ও রোমান্টিক পরিমন্ডলে লিখিত। গল্পে ফুটে উঠেছে কলঙ্ক নিয়ে বেড়ে উঠা এক মানবীর জীবন সমীকরন, সম্মাহানির শিকার এক সিঙ্গেল মাদারের কালকূটময় জীবনের কালরেখা, কয়েক সত্তা প্রণয়ের সূচনা, কিছু বিচ্ছেদ রেখা, অপকর্মের সমীকরণ, আলো - আধারিয়ার সমীকরণে গল্পটা অসাধারণ ছিল। ◾পজিটিভ মতবাদ:- গল্পটি সকল ধারনের অসামাজিক কর্মকান্ড বহির্ভূত,কোন ধারনের অশ্লীলতাবিবর্জিত ,বাস্তববাদী একটি গল্প। গল্পের প্রতিটি বিষয় এতো সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, সত্যিই মনোমুগ্ধকর। গল্পের কিছু উক্তি আমার হৃদয়ে গেঁথে গেছে । সর্বোপরি গল্পটির সকল দিকই আমার কাছে পজিটিভ মনে হয়েছে। ◾নেগেটিভ মতবাদ:-গল্পটিতে আমার নিজস্ব দৃষ্টিতে তেমন কোন নেগেটিভ দিক খুঁজে পাই নি। সবকিছু বিবেচনা করে গল্পের 'পছন্দের বই তালিকায়' রাখা যায়। 💠পাঠক হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়ার ক্ষমতা :- সুখ-দুঃখের অনুভূতির মিশ্রনে গল্পটি পাঠকদের হৃদয়ে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে।বিশেষ করে গল্পের কিছু উক্তি হৃদয়ে গেঁথে গিয়েছে। সকল অনুভূতির সমাহারে গল্পটি সকলের কাছেই ভালো লাগবে আশা করি। 💠ভালো/খারাপ লাগা কাহিনীচিত্র:- ◾ভালো লাগা:- চৈত্রিকা অদম্য সাহসী সত্তা, ফাহমিদার প্রতিবাদী ঝংকার এবং আত্নমর্যাদার সমীকরণ, রুম্পার স্নেহময়তা, সারাফাতের কেয়ারিং, স্নিগ্ধ ভালোবাসার সমীকরণ, দিহানের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, প্রিয়ন্তি ও ফাইয়াদের খুনসুটির সমীকরণ, আলো ও সিয়ার মাতৃসুলভ আচরন__ভালো লাগার অন্যতম কাহিনীচিত্র ছিল। ◾খারাপ লাগা:- হুসনা খাতুনের মনমানসিকতা ও ব্যবহার, তাহাফের অশ্লীল ব্যবহার,মিন্নাতের অহংকারী আচরন,কামাল সাহেবের অপকর্মের সমীকরণ, পারিপার্শ্বিক লোকসমাজের কটুক্তি, ফাহমিদা ও চৈত্রিকার সাথে হওয়া অন্যায়,অত্যাচারের সমীকরণ খুবই খারাপ লেগেছে। গল্পে ভালো খারাপ উভয় সমীকরণই ফুটিয়ে তোলা হয়। 💠বইয়ের অন্যতম কয়েকজন চরিত্র :- চৈত্রিকা,সাফারাত,ফাহমিদা, রুম্পা, সারিম, মিম ,হুসনা খাতুন,আলো আনিয়া, সিয়া, প্রিয়ন্তী,ফাইয়াদ,দিহান,কামাল সাহেব, তাহাফ!..... 💠চরিত্র বিশ্লেষণ :- অনেকগুলো চরিত্রের মিলিত অংশগ্রহনে গল্পের কাহিনিচিত্র গড়ে উঠে। গল্পের প্রতিটি চরিত্র নিজ নিজ অবস্থানে মূখ্য ভূমিকা পালন করে। প্রতিটি চরিত্র নিজ নিজ অবস্থানে সংলাপ,উক্তি,ভাবাবেগের মাধ্যমে পাঠকের হৃদয়ে আলাদা আলাদা জায়গা করে নেয়।প্রতিটি চরিত্রকে সাবলীলভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারাই গল্পের অন্যতম স্বার্থকতা। 'হলদে খামে নীল ব্যাথা' ই-বুকটিতেও বেশ কিছু চরিত্র রয়েছে। কয়েকটি চরিত্রের আংশিক বিবরণ দেওয়া হলো:- ★★★ চৈত্রিকা:- শান্ত নদীর ন্যায় নিশ্চুপ, আত্নমর্যাদাবান, প্রতিবাদী, অদম্য সাহসী স্বভাবের এই মানবী। নিজের স্বপ্নপূরণে সকল ঝড়-ঝাপটা উপেক্ষা করে স্বীয় উদ্যমে পথ চলে। অবশেষে রাজপুত্রের আগমনে তার জীবনেও প্রণয়ের সূর্যদ্বয় হয়। ★★★ সাফারাত:- কাঠখোট্টা, গম্ভীর, প্রতিবাদী,রাগী, ব্যাক্তিত্বসম্পন্ন এই মানব। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সর্বদা সোচ্চার। গম্ভীর এই মানবও একসময় প্রণয়ের রঙে নিজেকে রাঙায়। সপ্তর্ষীর প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসার জানান দেয়। ভালোবাসার অন্যরূপ সমুদ্রের রাজপুত্র সাফারাত এহমাদ। ★★ফাহমিদা:- প্রতিবাদী, কলঙ্কিত এক সিঙ্গেল মাদার। শত শত বাধা অতিক্রম করে নিজের অস্তিত্ব, নিজের মেয়েকে লালন-পালন করে বড় করেছেন। প্রতিনিয়ত অত্যাচারের সম্মুখীন হয়েও কখনো থেমে থাকে নি। ★★সারিম:- প্রতিবাদী, নিঃস্বার্থ ভালোবাসার বীজ রোপনকারী। প্রণয়ী সত্তাকে সাহায্য, অনুপ্রেরণা যুগিয়ে চলার পথ সহজতর করে দিত। কিন্তু উপসংহারে বিচ্ছেদ মেনে নিলেও প্রণয়ীর অনুভূতিকে আঘাত করেনি। গল্পের অন্যতম প্রিয় চরিত্র সারিম। ★★ রুম্পা:- প্রতিবাদী, সুন্দর মন মানসিকতার একটি মেয়ে। মেয়েটার আচরনে একরাশ মুগ্ধতা বিরাজ করে। আত্নমর্যাদাবান, অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোষহীন এই সত্তা বোন রূপী স্নেহময়তার আখ্যান জারি করেছে। ★ফাইয়াদ:- হাসিমজার একটা চরিত্র। ওর বাঙালি কথাগুলো খুবই হাসি মজার ছিল। বিদেশী হলেও বাঙালী কন্যার রূপে আঁটকে পড়ে এই সত্তা। ★প্রিয়ন্তি:- হাসিখুশি, চটপটে, চঞ্চল, মিষ্টি স্বভাবের মেয়ে। সবসময় হাসিমজা নিয়েই মেতে থাকে। অহংকারের রেশ নেই ব্যবহারে। খুনসুটির আড়ালেই নিজের মনে জায়গা দেয় ঝগড়ার সাথীকে। ✘কামাল সাহেব:- অধিপত্যের দাপট জাহির করে অপকর্মে লিপ্ত এক নিকৃষ্ট পুরুষ সত্তা। অহংকারের জোরে একটা মেয়ের সম্মান হরণ করতেও দ্বিধাবোধ করে নি। নিষ্ঠুরতম, নিকৃষ্ট এই পুরুষের অপকর্মের বিনাশ হয় তার চির বিদায়ের মাধ্যমে। এই চরিত্র পুরো গল্পে একরাশ ঘৃণার আলোড়ন তুলেছে। 💠প্রিয় কিছু চরিত্র :- ◾প্রিয় এবং প্রধান চরিত্র:- চৈত্রিকা, সাফারাত ◾পার্শ্ববর্তী প্রিয় চরিত্র:- সারিম,রুম্পা, প্রিয়ন্তি,ফাইয়াদ,দিহান। 💠অপ্রিয় চরিত্র :- কামাল সাহেব, হুসনা বেগম,মিন্নাত, তাহাফ। 💠প্রিয় উক্তি:- ◼️ভালোবাসাকে কেউ ভুলে না,ভুলে গেলে সেটা ভালোবাসা ছিল না।ধরে নিতে হবে ক্ষনিকের মায়া ছিল, যা বিষন্ন বিকেলে সূর্য অস্তাচলে যাওয়ার মতোই হারিয়ে যায়। ◼️আপনাকে উপেক্ষা করার ক্ষমতা আমাকে বিধাতা দেয়নি চৈত্রিকা। আপনাকে অস্বীকার করা মানে নিজেকে অস্বীকার করা। আর নিজের অস্তিত্বেকে আমি ভয়াবহরকম ভালোবাসি। ◼️আমার বাজে কোনো অভ্যাস নেই।তবে আসক্তি আছে,আপনাকে ভালোবাসার আসক্তি। ◼️মোহর লাগিয়ে দিলাম, আপনি আমার। ◼️আমি চৈত্রকে দেখব।তাকে না দেখলে মন সুস্থ হবে না,শরীর আমার সঙ্গ ছেড়ে দিবে। ◼️ পাঁচ দিনে পাঁচশ বছরের তৃষ্ণায় তৃষিত করে গেলেন চৈত্র। আপনাকে আমৃত্যু ভালোবাসাই এখন আমার লক্ষ্য। 💠বানান ভুল :- গল্পটি আমি তেমন কোন বানান ভুল পাই নি। যে কয়টা পেয়েছি __ [ভুল] _____________ [সঠিক] বেঝার ______ বোঝার ওপরে __________ উপরে ধ্বংস্তূপ _______ ধ্বংসস্তূপ অস্বিস্তে ___________ অস্বস্তিতে ব্যথা ______________ ব্যাথা হিউম্যালিট _____________ হিউম্যালিয়েট আত্নসম্পর্ণ ____________ আত্মসমর্পণ বিরহীনি _____________ বিরহিণী 💠 সংলাপের গরমিল :- গল্পটি লেখিকার নিজস্ব বিবরণীতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।কিছু কিছু জায়গায় কয়েক সত্তার নিজস্ব বিবৃতি রয়েছে। সকল সত্তার বিবৃতিতে বক্তা হিসেবে লেখিকা ছিলেন না। সম্পূর্ণ গল্পে আমি সংলাপের কোন গরমিল পাইনি। সকল চরিত্রের বিবরণী লেখিকা খুব সুন্দর গুছিয়ে উপস্থাপন করেছেন। 💠 শিক্ষনীয় বিষয়াবলি :- ◼️সামাজিক বেড়াজালে আঁটকে না থেকে প্রতিটি মানবী সত্তার উচিত জীবনটাকে নতুনভাবে উপভোগ করা। নতুন স্বপ্নের রং তুলিতে নিজেকে রংধনুর সত্তায় পরিচিত করা উচিত। সমাজের পুরুষগণ আপনার সম্মানহানি শিকার চেষ্টা করবেই,এই বিষয়ে সর্বদা সচেতন থাকা উচিত। ◼️ পারিবারিক কিংবা পারিপার্শ্বিক লোকসমাজের কথা কিংবা কাজে নিজেকে প্রভাবিত করা উচিত নয়। মানুষের কাজই হচ্ছে, অন্যকে নিজের কথা দ্বারা প্রভাবিত করে তার স্বপ্নকে ঘুড়িয়ে দেওয়া। স্বীয় সত্তাকে আন্তমর্যাদাবান হিসেবে গড়ে তুলে অদম্য সাহসের সহিত জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে পা মিলাতে হবে। 💠বইয়ের মূল্য নির্ধারন:- বইয়ের মূল্য সাধারণত একটু বেশিই হয়। তবে অনেক সময় আমরা টাকা দিয়ে বই কিনার পর, বই পড়ে আফসোস করি 'কেন কিনলাম?' কিন্তু এই বইটি পড়ে পাঠক হৃদয়ে মুগ্ধতার রেশ ছড়িয়ে যাবে আশা করি। টাকা দিয়ে বই কিনার পর কারো এরকম মনে হবে না যে,'টাকাটা বৃথা গেলো'। গল্পপ্রেমী যেকোনো বয়সের পাঠকরা পড়তে পারেন এই বইটি। 💠সর্বপরি বিশ্লেষণ :- বইয়ের নাম নির্ধারন থেকে শুরু করে প্রচ্ছদ নির্বাচন, গল্পের প্লট, শব্দচয়ন, সংলাপ, উক্তির সমাহার, ভাবাবেগ সবকিছুই খুব সুন্দর ছিল। প্রতিটি পাতায় ছিল একরাশ মুগ্ধতার ছোয়া। সকল দিক বিবেচনা করে গল্পটা আমার খুবই ভালো লেগেছে। মাস্টারপিস বলা না গেলেও প্রিয় গল্পের বইয়ের তালিকায় এই গল্পটিও যুক্ত হলো। 💠লেখিকা সম্বলিত নিজস্ব মতবাদ :- বইয়ের লেখিকা জেবা আপু একজন অসাধারণ মানুষ। তার লিখনশৈলী অতুলনীয়। সবচেয়ে মুগ্ধতার বিষয় হচ্ছে আপু পাঠকদের সাথে বন্ধুসুলভ সম্পর্ক বজায় রাখে। অনেক সুন্দর হয়েছে গল্প'টা। আপনার থেকে এরকম আরো গল্প আশা করি আপু। আপনার সাহিত্যিক যোগ্যতার রেখাবিন্যাসেই একদিন 'মাস্টারপিচ স্টোরি' সৃষ্টি হবে এই আশায় আমরা সকল পাঠকবৃন্দ। ভবিষ্যতের জন্য অনেক অনেক দোয়া ও শুভকামনা রইল! 💠ব্যাক্তিগত রেটিং:- বইয়ের সার্বিক বিষয়াবলির উপর ভিত্তি করে আমি ৯.৬/১০ দেবো। 💠শেষোক্ত কিছু কথা :- 'রঙ বেরঙের চিরকুটের ভাঁজে গল্প লেখার স্বচ্ছতা, থাকবে কিছু কিছু সাধারণ ভু'ল-ভ্রান্তি,অপা'রগতা। পাঠক হৃদয়ে জায়গা করার মধ্যেই নিহিত আছে গল্প লেখিকার স্বার্থকতা!!' [~মোহসিনা রুদ্র ] গল্পে ছোট খাটো ভুল-ত্রুটি থাকবে এটাই স্বাভাবিক। লেখনীর মাধ্যমে পাঠক হৃদয়ে জায়গা করে নিতে পারাটাই স্বার্থকতা। ভুল-ভ্রান্তি শুধরে লেখিকা আপা যেন আরো সুন্দর গল্প আমাদের উপহার দিতে পারে এই আশাবাদ ব্যক্ত করছি। পাঠকের শুভকামনায় লেখিকার প্রাপ্তি ছড়িয়ে পড়ুক সাহিত্য অঙ্গনের অলিগলিতে! রিভিউদাতা :- মোহসিনা সুলতানা রুদ্রমনি

























