

Buy পপকর্ন Online in Bangladesh
লেখক: তৃধা আনিকা
- Author: তৃধা আনিকা
- Publisher: ছাপাখানা প্রকাশনী
- Isbn: 9789843525774
- Number Of Pages: 128
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2022
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
ছোট ছোট বেশ কয়েকটা গল্প লিখার কথা ছিল। শুরুতেই আমি একটা বড় গল্প লিখে ফেললাম। গল্প পড়ে নিজেরই মাথায় হাত। চেষ্টায় থাকলাম পরের গল্পগুলো ছোট করবো। হলো কি-না বুঝতে পারলাম না। পান্ডুলিপি তৈরি হয়ে যখন ফাইনাল রেডী হলো, আমার তখন মনে হলো, গল্প আরো বলার ছিল আমার। আরো অনেক লিখার ছিল। ইদানিং নিজের সমস্যা বুঝতে পারছি না। যেটা পরিকল্পনা করি শর্টকাট করবো, তাই দীর্ঘ হচ্ছে। আর দীর্ঘ পরিকল্পনার ব্যাপারগুলো মিটে যাচ্ছে নিমিষেই। লিখালিখির ক্ষেত্রে ব্যাপারটা অতি ব্যাপক আকারে প্রভাব ফেলছে। এর পেছনে কী কারণ, কে জানে? যাই হোক, পপকর্ন আপাতত প্রিন্টে যাচ্ছে। ছোট গল্পের দীর্ঘসূত্রিতা ঘাড় থেকে নামছে। ভালো লাগছে। শান্তি পাচ্ছি মনে মনে।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
💚💚💚
💞💞💞

অসম্ভব সুন্দর তিনটা গল্প 💙

#পপকর্ন #পাঠ_অনূভূতি ♦এক নজরেঃ •নামঃ পপকর্ন •লেখকঃ তৃধা আনিকা •ধরনঃ রোমান্টিক •প্রকাশনীঃ ছাপাখানা প্রকাশনী •প্রচ্ছদঃ খালেদ সাইফুদ্দিন •মুদ্রিত মূল্যঃ ৩০০ •পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১২৮ •প্রকাশকালঃ মে ২০২২ লেখনীতেঃ রিফায়াত হাসান সাকিব ♦ভূমিকাঃ আমি যখন কোনো বই কুরিয়ার থেকে নিয়ে আসি, তখন একগাদা চিন্তা মনের মাঝে সাজিয়ে নেই । সেই চিন্তায় প্রথম যে ধাপটি থাকে, সেই ধাপে শুধু বইটা কখন পড়বো তাই থাকে । তাই বই পড়াটার জন্য যতটুকু আয়েশ করা দরকার আমার, ততটুকু না পেলেই সেই ধাপটা কেনো যেনো শেষ হয় না । তার পরের ধাপে থাকে, বইটা পড়তে বসার শেষের সময়টায় আমার অনুভূতি ঠিকভাবে প্রকাশ করার বিষয়টা । জানি না কতটুকু কি পারি, তবে যতটুকু করি নিজের মনের অনুভূতি যেন আরো পুরো পৃথিবীতে বিচরণ করে বেড়ায় সেজন্যেই করি । ♦পারিপার্শ্বিক দিকঃ প্রচণ্ড ব্যস্ততার মধ্যে দিয়ে কাটানো হঠাৎ আমি ইদানিং ভাবতে পারছিলাম না, কখন বইগুলো পড়বো । বিশেষ করে এই বইটা নিয়ে আমি প্রচণ্ড চিন্তায় পড়েছিলাম । তারপর নিজের সবসময়ের অভ্যাসকে ছাড়িয়ে দিনেই পড়তে শুরু করলাম বইটি । পপকর্ন, এই বইটি হাতে নিয়েছি আজকে ঠিক দুপুর ১২টার সময়ে । আয়েশ করে পড়তে যখন বসেছি তখন সময়টা ১২টা ১৫ মিনিট । আর পড়া শেষ করে অনুভূতি লিখতে বসেছি দুপুর ৩টা ২০ মিনিটে । ♦নামকরণঃ আমি যখন বইটি হাতে নিয়েছিলাম প্রথম, তখন মনে হয়েছিল এই বইটার নাম পপকর্ন হতে হবে কেনো! তারপরে হঠাৎ আজকে প্রথম গল্পটা পড়ার পরে মনেও হয়েছিল এটা । প্রথম গল্পটার নামেই তো দেয়া যেতো এটা । তারপর যখন দ্বিতীয় নামবাহী ‘পপকর্ন’ আসলো তখন মনে হলো বইটির নামকরণ এই গল্পের নামকরণেই হওয়া উচিত ছিল । যে কারণে মনে হচ্ছে নামকরণ সঠিক হয়েছে । ♦প্রচ্ছদঃ এই বইটির প্রচ্ছদটা অসাধারণ । এত সুন্দর করে প্রচ্ছদটা চোখের সামনে ফুটে উঠেছে যে কারণে আরো মনের মাঝে আবেগ লাগছিল । মানুষের নিত্যনৈমিত্তিক জীবনে পপকর্ন রোজকার আয়েশ করে চেয়ারের ওপরে দুই পা গুটিয়ে বসে একটু একটু করে নাড়াচাড়া করতে করতে নেয়া খাবার । সেই খাবারটাই এত সুন্দর মোড় ছাপিয়ে চলে এসেছে যা ভাবতে ভালো লাগছে । বিশেষ করে যা বললেই নয়, বইটার পিছনের অংশের প্রচ্ছদটা আরো বেশি ভালো লেগেছে আমার । ♦প্রিয় চরিত্রঃ এই গল্প সংকলন এর সবথেকে প্রিয় চরিত্র যদি বলতে হয়, তবে আমি দ্বিধায় পড়বো । কারণ প্রতিটি পৃষ্ঠার ভাঁজে ভাঁজে থাকা যতগুলো চরিত্র আছে, তারা সবাইই প্রিয় চরিত্র হওয়ার অনুভূতি নিয়ে যেন দাঁড়িয়ে আছে আমার জন্য । তবুও মৌটুসী অন্যরকম এক চরিত্র । তার অপেক্ষা, নিজেকে সামলানো সব অসাধারণ ছিল । প্রিয়ম এর সবকিছু ছাপিয়ে ভালোবাসার বিষয়টা অন্যরকম এক আবেশ তৈরি করে দিয়েছে । আকাশের দায়িত্ববোধ অসাধারণ ছিল । সবকিছু মিলিয়ে যতগুলো চরিত্র সবাই পছন্দ হওয়ার মতো চরিত্র । ♦গল্প বিশ্লেষণঃ তিনটা গল্প আছে বইটিতে । তিনটি নিয়েই আলোচনা করবো । ♦চোখ ছুঁয়ে প্রজাপতিঃ পৃথিবীতে ভালোবাসা কেমন যেন হুট করে চলে আসে । তখন চারপাশটা লণ্ডভণ্ড হয়ে যাক বা না যাক, মনের মাঝে চুপটি করে থাকা যে শহরটা সেটা কেমন একটা করে যায় । দুষ্টু-মিষ্টি, চাইনিজ ড্রামা দেখতে পছন্দ করা মেয়ে মৌটুসী হঠাৎই সব উজাড় করে দিয়ে কারো প্রেমে পড়লো । সেই প্রেমে পড়ায় কি হলো জানি না, কতগুলো পরিবেশের অদলবদল হয়ে গেল । সেই মিষ্টি প্রেমের দুষ্টু দুনিয়ায় ভালোবাসার জগতটা কিরকম একটা করতে থাকে তা নিয়েই মৌটুসীর জীবনে বোধহয় চলে আসে ‘চোখ ছুঁয়ে প্রজাপতি’ । •বিশেষ উক্তিঃ আমি জানি না, আমায় যদি কেউ কখনো জিজ্ঞেস করে, আমি আমার সারাজীবনে কী চাই? আমি বলবো, মৌটুসীর কান্নার সময়ে পাশে থাকতে চাই । ♦পপকর্নঃ পৃথিবীতে ডাক্তারদের সেবা করাটাই জীবনের সবথেকে বড় ধর্ম । সেই ধর্ম পালন করতে গিয়ে জীবনের সাথে অনেক কিছুর মুখোমুখি হতে হয় । সেই মুখোমুখিতে হঠাৎ কাউকে জীবনের বিভিন্ন ধাপের গণ্ডিতে আবদ্ধ হয়ে ভালোবাসায় পড়ে যাওয়াটা নতুন কিছু নয় । কিন্তু সেই ভালোবাসার গল্পটায় ধৈর্যটা কতটুকু তা ডাক্তার আকাশ এর জন্য অনেকটাই প্রভাব ফেলেছে । ডাক্তার আকাশ এবং তার বুক পকেটে রেখে দেয়া অমূল্য ভালোবাসা পপকর্নের মতো জুড়ে থাকে কিনা তা নিয়েই গল্প ‘পপকর্ন’ । •বিশেষ উক্তিঃ আকাশ, তোমার জীবনের সমস্ত সত্যি ভালোবাসাটুকু তুমি আজ এই মুহূর্তে এই মানবীটিকে বেসে ফেলো । এই মানবীটি তোমায় ভালোবাসুক বা না বাসুক, তোমার জীবন, তোমার মন, সব তুমি এই মানবীটির জন্য রেখে দেবে সারাজীবন । কথা দাও, দাও । ♦দুই এক্কে দুইপাখিঃ পৃথিবীতে প্রেমে পড়ার থেকেও ভালোবাসায় আটকে যাওয়ার মাঝে একটা ব্যাপার আছে । এই ব্যাপারে সবথেকে যা আত্মতৃপ্তির মতো তা হলো অপেক্ষা । সেই অপেক্ষা কখনও বিষাদের, কখনও ঘটমান সুখস্মৃতির মতো । রক্ষণশীল পরিবারে বড় হওয়া ঝিলির জীবনের সেই ধৈর্য ধরে করা অপেক্ষায় দুটো পাখি কিভাবে বিচরণ করে তা নিয়েই গল্প ‘দুই এক্কে দুইপাখি’ । ♦অনুভূতি আলোচনাঃ •চোখ ছুঁয়ে প্রজাপতিঃ এটি এই গল্প সংকলন এর প্রথম গল্প । যদি আকৃতির দিক থেকে বলি, তাহলে এটিকে ছোটখাটো একটা উপন্যাস বললেও ভুল হবে না । গল্পটির প্রথম অংশের আবহ বয়ে চলেছিল মৌটুসীর নিজস্ব ধাঁচে । কিন্তু হঠাৎ গল্পটি পরিবর্তন হয়ে গেল এক মুহূর্তে । প্রথমে গল্পটিকে একটু সাধারণ লাগতে থাকলেও হঠাৎ করে তা আমার কাছে মোড় নিতে শুরু করলো । এই গল্পটিই অসাধারণ ভাবে ভালো লাগতে শুরু করলো ৫৩ পৃষ্ঠা থেকে । এবং এর পর থেকেই এই গল্পটির মায়ায় জড়িয়ে যেতে ইচ্ছে করলো প্রতি পরতে পরতে । এই গল্পের অন্যতম প্রিয় অংশ হলো ৫৮-৫৯ পৃষ্ঠা । এবং সেই যে চিঠিটা । যা মৌটুসী পড়েছিল । সেটা পড়তেও ভালো লেগেছে আমার । পৃথিবীতে প্রতিটি হাসি যেরকম গুরুত্বপূর্ণ, প্রতিটি কান্না বোধহয় তার থেকেও বেশি করে গুরুত্বপূর্ণ । •পপকর্নঃ পপকর্ন গল্পটিও আকারের দিক থেকে একটি বড় গল্প বলা যায় । এই গল্পটি প্রথম থেকেই আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে । কারণ এটি লেখকের সচরাচর লেখার ধরন থেকে বেরিয়ে অন্যরকম এক লেখা পড়ার আবেশ দিয়েছে আমাকে । আমি প্রতিটি মুহূর্তে, প্রতিটি সময়ে যে লেখক তৃধা আপুর লেখায় ভাসি তা থেকে একটু অন্যরকম শব্দপ্রয়োগ করে অন্যরকমের আবহে তৈরি করা একটি গল্প পপকর্ন । সে কারণেই এই গল্পটি পড়ার সময়ে আমার সবথেকে বেশি ভালো লেগেছে । •দুই এক্কে দুইপাখিঃ একটি আদর্শ ছোট গল্প যদি বলা যায় তাহলে অবশ্যই এই গল্পটি তার সবথেকে সেরা উদাহরণ । প্রথম দুইটি গল্পের সাথে যদি তুলনা করতে যাই তাহলে তুলনায় এটি অবশ্যই একটু পিছিয়ে থাকবে । তবে অনুভূতির দিক থেকে, অপেক্ষায় ধৈর্য ধরে রাখলে যে সুখ একসময় ফিরে আসবেই তা বোঝা যায় । ♦প্রিয় গল্পঃ এই বইটিতে থাকা আমার প্রিয় গল্প যদি বলি তাহলে ‘চোখ ছুঁয়ে প্রজাপতি’ হবে । কিন্তু নিজেকে ভেঙ্গে একটু অন্যরকম আবহে, অন্যরকম শব্দপ্রয়োগ করে লেখার জন্য ‘পপকর্ন’এর মানও একটা বিশেষ খাতে থাকবে । তাই বিশেষ এবং প্রিয় হিসেবে এই দুইটি গল্পকেই ধরে রাখলাম । ♦অন্যান্য বিষয়ঃ এবার অন্যান্য বিষয়ে আসি । √প্রকাশনীঃ প্রকাশনী হিসেবে ছাপাখানা প্রকাশনী বইটির প্রচ্ছদটির অনেক সুন্দর করে প্রোডাকশন করেছে । যার জন্য বইটি হাত দিয়ে ধরে রাখতে বেশ ভালো লাগে । তাছাড়া গল্প সংকলনে টাইপিং মিস্টেক হলে সমস্যায় পড়তে হয়, যা এই বইটিতে তেমন একটা নেই বলে পড়তেও বেশ ভালো লেগেছে । ♦লেখক প্রসঙ্গেঃ ‘পপকর্ন’ লেখক তৃধা আনিকা এর দ্বাদশ বই । এবং তার প্রতিটি লেখাই আমার পড়া বলে এটা বুঝতে পারি যে কেমন লাগতে পারে । তৃধা আনিকা আপু তার লেখার মাঝে প্রতিটি সম্পর্কের মাঝের অনুভূতিকে যা আস্তরণ করে থাকে চারপাশ তাকে অন্যরকম এক সুন্দর ভাষায় প্রকাশ করে থাকেন । কখনও কখনও পড়লে মনে হয়, এটি যেন আমার পৃথিবীরই কোনো পাশের একটি মুহূর্ত, যে মুহূর্তের সাক্ষী আমি । সেই অনুভূতিগুলোই এত সুন্দর তুলে ধরে তা আরো সুন্দর করে দিতে পারে । যাহোক এই গল্পেও প্রথম দুইটা গল্পেরই শেষ অসাধারণ সুন্দর ভাবে করা হয়েছে । দুইটা গল্পেই বেশ সুন্দর করে অন্যরকম এক শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছে । বিশেষ করে প্রথম দুইটি গল্পেরই শব্দপ্রয়োগ, ভাষা, সংলাপ ধারণ অন্যরকম এক সুন্দর ছিল যেন । ♦রেটিংঃ ৪.৪/৫ । ♦উপসংহারঃ শেষ গল্পটা যখন পড়া শেষ হয়ে গেল, তার ঠিক পরের মুহূর্তে হঠাৎ মুখ ফসকে বলে ফেলেছিলাম, যা! শেষ হয়ে গেল । তৃধা আপুর থেকে বড় উপন্যাস পড়তে চাওয়ার এক অন্যরকম এক ইচ্ছে আছে আমার মনে । যে রাতে পড়তে চাইবো, সে রাতেরই সন্ধ্যায় হঠাৎ পড়তে বসা উপন্যাসের রাত কেটে গিয়ে ভোর রাতে অনুভূতি জানানো বিষয়টা কেনো যেন তৃধা আপুর জন্য খুব যায় । সেরকমই এক উপন্যাসের অপেক্ষায় রইলাম না হয় । তার আগে না হয় পপকর্নে জুড়ানো ভালোবাসা থেকে যাক আমাদের কাছে ।























