

Buy নিছক গল্প নয় Online in Bangladesh
লেখক: তাসনিয়া আহমেদ
- Author: তাসনিয়া আহমেদ
- Publisher: সতীর্থ প্রকাশনা
- Number Of Pages: 160
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2022
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
কখনও ভেবে দেখেছেন কি, বইয়ের পাতায় যে গল্পগুলি পড়ে আপনি হো-হো করে হেসে উঠছেন, চুপি চুপি একটু কেঁদে নিচ্ছেন, মাঝে মাঝে একটু-আধটু ভয় পাচ্ছেন কিংবা হুটহাট মন খারাপ করে বসে আছেন; সেই গল্পগুলি কি শুধুই সাদা পাতায় কালো অক্ষরের কিছু লেখা, নাকি তারচেয়েও বেশি কিছু? দুই মলাটের মধ্যে এই যাত্রায় বন্দী হয়েছে মোট তেরোটি গল্প। নিতান্ত কাল্পনিক হলেও, নানা অনুভূতির এই গল্পরা পাঠককে কিছুক্ষণ হলেও ভাবাবে; গল্পগুলি কি জীবন থেকে নেয়া, নাকি জীবনের সমান্তরাল অন্য কোনও জীবনের গল্প। গল্পের এই ভুবনে হারিয়ে পাঠক নিজেই একসময় বলে উঠবেন, ‘না, এ তো নিছক গল্প নয়!
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

সবকিছু মিলিয়ে অসম্ভব সুন্দর বইটা

Not bad

বইটার সবচে বড় নেগেটিভ ফিচার হলো, প্রায় প্রত্যেকটা গল্পই সম্পূর্ণ ইলজিক্যাল ও আনরিয়েলিস্টিক প্রশ্নের সামনে দাড় করিয়ে শেষ করে দেয়া হয়েছে। তাছাড়া যেকোন কাব্যগ্রন্থের নাম কবিতা, গল্পগ্রন্থের নাম গল্প.. এমনকি সিনেমার টাইটেল ট্র্যাকটাও থাকে সবচে এক্সক্লুসিভ। কিন্তু এখানে "নিছক গল্প নয়" শিরোনামের গল্পটায় হুবহু আবরার হত্যাকাণ্ডের কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে যা আমার কাছে খুবই বিরক্তিকর লেগেছে। আমি এই বইকে কোন রেটিং ই দিতাম না, কিন্তু আমাকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে "অজ্ঞাতসারে" এবং "ত্রিৎক্লাক এবং একটি নীলচে গোলক" এই দুটি গল্প। বিশেষ করে 'অজ্ঞাতসারে' গল্পটার কথা বলতেই হয়! গল্পটার শুরু, বিন্যাস, বর্ণনা এবং সমাপ্তি সবই ছিলো পারফেক্ট। এখানে যেমন সুচারুভাবে উঠে এসেছে এক টিনেজ মনের ভাবনা ও আবেগ, সেভাবেই ফুটে উঠেছে পরিনত বয়সের ম্যাচুরিটি। আমার কাছে এই গল্পের রেটিং ১০ এ ১০ কিংবা তারো বেশী। 'ত্রিৎক্লাক এবং একটি নীলচে গোলক' একটি সাইফাই গল্প। যেটি অনায়াসেই হতে একটি উপন্যাস। লেখিকার কাছ থেকে এমন লেখা আশা করি ভবিষ্যতে। নিশ্চই বুঝতে পারছেন এটি একটি গল্পগ্রন্থ। মোট ১৩ টি গল্প আছে বইটিতে। আমার কাছে ঐ দুইটা গল্প বাদে বাকীগুলো এভারেজ বা বিলো এভারেজ লেগেছে। সেখানের কোন গল্প হয়তো আপনাদের কাছে খুবই ভালো লাগতেই পারে... সেই বিচার আপনাদের হাতেই রইলো।।। হ্যাপি রিডিং।
[স্পয়লার থেকেও নেই। অর্থাৎ রিভিউয়ে সামান্য স্পয়লারের ঘ্রাণ পাওয়া গেলেও বই পড়ার সময় অসুবিধায় পড়তে হবে না, ইনশাআল্লাহ ] পছন্দ এবং অপছন্দ মানুষের থাকবে এটাই স্বাভাবিক। সেটা হতে পারে একটা বইয়ের ক্ষেত্রেও।কারো কারো পছন্দ সামাজিক জনরা, করো হয়ত রোমান্টিক, হরর,থ্রিলার,সায়েন্স ফিকশন ইত্যাদি -এসব। বইয়ের ক্ষেত্রে জনরা ছাড়াও আরো কিছু পছন্দের বিষয় পাঠকদের থাকতে পারে, যার মধ্যে লক্ষ্যণীয় একটি হচ্ছে পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস এবং গল্পগ্রন্থ; অনেকের হয়ত পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস ভালো লাগে আবার অনেকর হয়ত গল্পগ্রন্থ। আমার কাছে অবশ্য দুটোই ভালো লাগে। তবে ভালো লাগার মাঝে কমবেশি করলে আমি গল্পগ্রন্থকেই এগিয়ে রাখব। কারণ এখানে বিভিন্ন ধরনের গল্প বিদ্যমান থাকে, প্রতিটি গল্প থেকে ভিন্ন ভিন্ন স্বাদ ; বই পড়ার আনন্দকে আরো বাড়িয়ে দেয়। আজ আমি এমন একটি ভিন্ন স্বাদের গল্পগ্রন্থ নিয়ে কথা বলব, যেখানে রয়েছে প্রেম, সামাজিক কিংবা হরর-থ্রিলার, সায়েন্স ফিকশন এবং একটি রম্য গল্প। ☆ ব্যক কভার থেকেঃ ~~~~~~~~~~~~~~~ কখনও ভেবে দেখেছেন কি, বইয়ের পাতায় যে গল্পগুলি পড়ে আপনি হো-হো করে হেসে উঠেন, চুপি চুপি একটু কেঁদে নিচ্ছেন, মাঝে মাঝে একটু-আধটু ভয় পাচ্ছেন কিংবা হুটহাট মন খারাপ করে বসে আছেন; সেই গল্পগুলি কি শুধুই সাদা পাতায় কালো অক্ষরের কিছু লেখা, নাকি তার চেয়েও বেশী কিছু? দুই মলাটের মধ্যে এই যাত্রায় বন্দী হয়েছে মোট তেরোটি গল্প। নিতান্ত কাল্পনিক হলেও, নানা অনুভূতির এই গল্পরা পাঠককে কিছুক্ষণ হলেও ভাবাবে ; গল্পগুলি কী জীবন থেকে নেয়া, নাকি জীবনের সমান্তরাল অন্য কোনও জীবনের গল্প।গল্পের এই ভুবনে হারিয়ে পাঠক নিজেই একসময় বলে উঠবেন, ‘না, এ তো নিছক গল্প নয়!’ ☆ ব্যক্তিগত অভিব্যক্তিঃ ~~~~~~~~~~~~~~~~~ ‘নিছক গল্প নয়' বইটির নাম যখন প্রথমবার শুনেছিলাম তখন ভেবেছিলাম বইটা মনে হয় একটি পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস। এর পর বইয়ের এবং লেখিকার উপর খোজখবর চালিয়ে বেশ ভালো কিছুই জানতে পারলাম। বইটার প্রতি আমার আগ্রহ জন্মেছিল যখন জানতে পারলাম বইটা ভিন্ন ধর্মী বা স্বাদের বেশ কয়েকটি গল্পের সমন্বয়ে নির্মিত। যা জানার পর আমি আমাকে আর ধরে রাখতে পারিনি। কয়েক দিনের মধ্যেই ক্রয় করে ফেলি এই ছোট্ট ক্রাউন সাইজের গল্পগ্রন্থটি। ১৫৬ পৃষ্ঠার এ বইটিতে রয়েছে ১৩ টি ভিন্ন ভিন্ন ঘরনার ছোট আকারের গল্প। ছোট গল্প হওয়ায় পড়ে ফেলা যায় খুব দ্রুতই। দ্রুত পড়ার ফলে মনের ভিতরে অস্থিরতা বা বিরক্তি জিনিসটা আর কাজ করে না। এছাড়াও গল্পগুলো পড়ার সময় আমার মনের মাঝে ঠাই পেয়েছিল ভিন্ন ধরনের কিছু অনুভূতি। কখনো ভয়,কখনো হাসি, মন খারাপ, আবার অনেক সময় চলে গিয়েছিলাম গভীর ভাবনার মাঝে। ◑ এবারে কথা বলব বইয়ের সেই ১৩ টি ভিন্ন ভিন্ন গল্প সম্পর্কে। যদিও প্রতিটা গল্প সম্পর্কে বেশী কিছু লিখব না, কারণ ছোট গল্প - একটু বলতে গেলেই পুরো স্পয়লার সামনে চলে আসবে। তাই আমার সাধ্যে যতটুকু বলা সম্ভব আমি ততটুকুই বলার চেষ্টা করব। ☆ খালাসঃ ~~~~~~~~ বইটির প্রথম গল্পের নাম ‘খালাস' । এখানে লেখিকা একজন ডাক্তারের চরিত্রে ফুটে উঠেছেন।এ গল্পের সারমর্ম হিসেবে এক বাক্যে বলব - ‘ক্ষুধার জ্বালায় মানুষ তার সবচেয়ে আদরের ধনকেও বিসর্জন দিতে পারে।' সত্যি কথা বলতে গল্পটা পড়ার পর আমার চোখের কোটরে পানি চলে এসেছিল। ☆ ট্রফিঃ ~~~~~~ খালাসের পরবর্তী গল্প ‘ট্রফি'। সম্পূর্ণ বই জুড়ে এই গল্পটাই আমাকে সবচেয়ে বেশী ভাবীত করেছিল। যা দুই বার পড়ার পর সম্পূর্ণ বিষয়টা ক্লিয়ার হতে পেরেছি। প্রথম থেকেই রোমান্টিক একটা ভাব ছিল গল্পে যা শেষে গিয়ে এমন আকার ধারণ করেছে, তা পড়ে আমি রীতিমতো অবাক বনে যাই। অসাধারণ টুইস্টের মাধ্যমে ইতি ঘটিছে এই গল্পটির। ☆ মোতালেব সাহেবের বাস ভ্রমনঃ ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~ এই গল্পের প্লটটা লেখিকা খুব সুন্দর সাজিয়েছেন। গল্পে ফুটে উঠেছে একজন নিকৃষ্ট মানুষের জীবনচরিত। এমন চরিত্রের মানুষ আজও খুজে পাওয়া যায় আমাদের এই সমাজে।এ গল্পের মূলভাব হিসেবে বলতে পারি - ‘নারীর প্রতি আকৃষ্টতা তার রক্তের সম্পর্কের মানুষটিকেও নিস্তার দেয় না।' ☆ আধাঁরলীনাঃ ~~~~~~~~~~~ হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া এক গল্প এটি। সম্পর্কের মাধ্যমে স্বামী অর্জন। এবং কিছুদিন পর সেই স্বামী হারিয়ে দিসে হারা হয়ে শেষ পর্যন্ত করুণ পরিণতির সৃষ্টি হওয়া লেখিকা বেশ সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। ☆ ত্রিৎক্লাক এবং একটি নীলচে গোলাপঃ ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~ এ গল্পের সুন্দর স্টোরিলাইনের জন্য লেখিকাকে প্রথমেই ধন্যবাদ জানাই । অনেক চমৎকার লেগেছে আমার কাছে। এখানে ভিন গ্রহের একটি প্রানী অর্থাৎ এলিয়েনের মাঝে পৃথিবী নামক গ্রহের মানুষের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের বিষয়টি উঠে এসেছে। ☆ (প্লান) ও (ফেরা) ~~~~~~~~~~~~~ এই দুটি গল্পই প্রায় একই ধাঁচে লেখা৷ তাই আলাদা ভাবে আর কিছু বলার প্রয়োজন বোধ করলাম না। ‘ভ্রম' বিষয়টা মানুষকে খুবই ঘায়েল করে ফেলে। প্লান এবং ফেরা গল্পদুটিতে ভ্রমের ইঙ্গিত পাওয়া যায় খুব সহজেই। এছাড়াও রয়েছে - রোমাঞ্চ, মার্ডার -মিস্ট্রি এবং ভরপুর টুইস্ট। ☆ ইউ ক্যন নট রিপ্লাই টু দিস কনভারসেশনঃ ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~ এখানে প্রতিফলিত হয়েছে সমাজের কিছু তরুনের কথা যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার করে নিজের ফায়দা লুটে নেয় নিদারুণ কিছু পন্থায়। লেখিকা নিজে একজন নারী হয়ে পুরুষের মনের ভিতরের আকুতি মিনতি যেভাবে তুলে ধরেছেন তা প্রশংসার দাবি রাখে। ☆ অক্সিজেনঃ ~~~~~~~~~~ প্রাণ বাঁচাতে অক্সিজেনের গুরুত্ব অপরিসীম। সামান্য অক্সিজেনের অভাবে মানুষের যে করুণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় তা গল্পের মাধ্যমে উঠে এসেছে। এ গল্পটি প্যন্ডামিক টাইমে লেখা তা গল্পটি পড়লেই বুঝা যায়। প্যন্ডামিকে মানুষের সামান্য অক্সিজেনের জন্য যে লড়াই করতে হয়েছিল তা লেখিকা তার এই গল্পের মাধ্যমে সাজিয়েছেন খুব সুন্দর ভাবে । ☆ অনুঃ ~~~~~~ লেখিকের রুমমেট এবং ক্লাসফ্রেন্ড অনুর নামে গল্পের নাম অনু রাখা হয়। গল্পে অনুর আজব সব কান্ড কারখানা আবাক করে দিয়েছিল আমাকে৷ সামান্য হররের মিশেলে খুব সুন্দর কিছু থ্রিল রেখেছেন এই গল্পটিতে। যা হয়ত গল্পটি পড়লেই দারুণ উপভোগ্য হবে। ☆ অজ্ঞাতসারেঃ ~~~~~~~~~~~~ একটা সময় কিছু না পাওয়ার ঘটনাই শেষ পর্যন্ত এনে দিতে পারে বিশাল কোনো প্রাপ্তি। গল্পটা ঠিক এ ধরনের। পাওয়া না-পাওয়ার এই ছোট্ট গল্পটি কেড়ে নিতে পেড়েছে আমার মনকে। ☆ আগুনের দিনেঃ ~~~~~~~~~~~~~ এই বইয়ের ১৩ টি গল্পের মধ্যে যে গল্পটা পড়ে আমার সবচেয়ে বেশি খারাপ লাগা কাজ করেছিল, সেটাই এই ‘আগুনের দিনে'। এ গল্প শেষ করার পর আমার ঘৃণা চলে আসে সমাজের কিছু মানুষের প্রতি। আজকাল সমাজের মানুষ শুধু নিজের স্বার্থটাকেই বড় করে দেখে। পরের স্বার্থে তারা সামান্য টুকুও অগ্রসর হয় না। আজ শুধু পরিবারের লোক ছাড়া কোনো বিপদে কাউকে পাশে পাওয়া যায় না। তারাই সবচেয়ে আপনজন। যে কোনো বিপদীয় পরিস্থিতিতে সমাজ এবং পরিবারের অবদান নিয়ে অসাধারণ একটি গল্পের মাধ্যমে খুবই দক্ষতার সহিত ফুটিয়ে তুলেছেন লেখিকা। ☆ নিছক গল্প নয়ঃ ~~~~~~~~~~~~~ বইয়ের শেষ গল্প এটি । এই গল্পের নামের সাথে বইয়ের নামলিপির পুরোপুরি মিল লক্ষ্যণীয়। গল্পটির মূলভাব হিসেবে বলব - ‘কোনো কিছু পাওয়ার আকাঙ্খা শেষ করে ফেলতে পারে একটা তরতাজা জীবন।' গল্পটা লেখনী এবং গল্পের দিক দিয়ে আমার যেমন ভালো লেগেছে, অন্যদিকে কিছু নির্দয় প্রজাতের মানুষের করুন আচরণ আমার মন নিমিষেই খারাপ করে দিয়েছিল। অনেকেই বলে থাকেন যে, গল্প গ্রন্থ মানেই কিছু গল্প খারাপ থাকবে আবার কিছু ভালো। হ্যা,আমি এই কথার সাথে একমত। তবে এটা সব বইয়ের ক্ষেত্রে নয়। যেমন এই বইটির কথাই যদি আমি বলি, ব্যাক্তিগত ভাবে আমার কাছে সব গল্পই ভালো লেগেছে। শুধু একটু কম আর বেশী। ☆ নেগেটিভ দিকঃ ~~~~~~~~~~~~~ বইয়ের ক্ষেত্রে এমন একটা পরিস্থিতি দাড়িয়েছে যে, ভালো - খারাপ ছাড়া বই-ই পরিপূর্ণতা পায় না। এই বইয়েও কিছু নেগেটিভ অংশ লক্ষ্যণীয়। গল্প ভিন্ন হওয়ায় একেক গল্প একেক ভাবে উঠে এসেছে। এর কোনোটায় একটু বর্ণনার অভাব বোধ হয়েছে আবার দু-এক জায়গায় অতিরিক্ত বর্ণনার অভাস পাওয়া যায়। ‘ইউ ক্যান নট রিপ্লাই টু দিস কনভারসেশন' নামক গল্পটার কথা যদি বলি; এখানে ফেসবুক প্রোফাইল চেঞ্জ করার বিষয়টায় প্রয়োজনের অতিরিক্ত আলোচনা করা হয়েছে। কখন কোন প্রোফাইল দিল, কেন দিল, কোন ক্যমেরা দিয়ে ছবি তুলেছিল, কোন কোন পজিশনে, কীভাবে, কেন ছবি তুলেছিল - এ অংশটা আমাকে বোর করে তোলার হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছে । এছাড়া ‘ট্রফি', ‘প্লান' এবং ‘অনু' এই গল্পগুলো প্রথম থেকে যেমনটা এগুচ্ছিল, শেষে গিয়ে তা মন মতো মিলেনি,একটু তাড়াহুড়োর ছাপ লক্ষ করা গেছে। আশা করি পরবর্তী মুদ্রনে লেখিকা এই বিষগুলোতে নজর রাখবেন। এছাড়া অভার অল আমার কাছে ভালোই লেগেছে। ☆ লেখন-শৈলী > বর্ণনাভঙ্গিঃ ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~ একটা বইয়ের যে অংশটাকে আমি সবচেয়ে বেশি নজর দেই সেটা হচ্ছে লেখন-শৈলী। আমার প্রিয় একজন লেখক হুমায়ুন আহমেদ স্যার- তার বইয়ের প্লট নয় বরং লেখন-শৈলী আমাকে তার বইয়ের প্রতি আকৃষ্ট করেছে। তার অনেক বইয়ের স্টোরি আমার কাছে ভালো না লাগলেও তার লেখনীর মাঝে হারিয়ে গিয়ে সেই লেখাটাও গো গ্রাসে গিলে ফেলতে বাধ্য হয়েছি। যা হোক অন্য দিকে কিছু কথা বলার জন্য দুঃখীত। এখন আসি এই বইয়ের লেখন-শৈলীর কথায়। বইয়ের গল্পগুলো পড়েই বুঝা যায় লেখিকার লেখার ধরন বা মান সম্পর্কে - সুনিপুণ হাতে, নিদারুণ ভাবে লিখে গেছেন পুরো বইটি। তাই প্রতিটা গল্পই তরতরে পড়ে ফেলা সম্ভব হয়েছিল খুব সহজ ভাবেই। বর্ণনা ভঙ্গির কৌশলও ছিল অনুভব করার মতো। সুন্দর এবং সাবলীল বর্ণনার কারনেই বোধহয় আমি নিজেও ঢুকতে পেরেছিলাম লেখিকার গল্পেগুলোর ভিতরে। এটাই লেখক-লেখিকাদের লেখনীর সার্থকতা। ☆ চরিত্রায়নঃ ~~~~~~~~~ বইয়ের স্টোরিকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিতে চরিত্র গঠন বেশ ভালো একটা অবদান রাখে। এই বইয়ের চরিত্র গঠন পদ্ধতিটাও ছিল ঝকঝকে। যে গল্পে যতটা চরিত্রের প্রয়োজন হয়েছে, সে গল্পে ঠিক ততটা চরিত্রকেই রেখেছেন। অতিরিক্ত কোনো চরিত্রের আভাস মেলেনি কোনো গল্পে। এককথায় চরিত্র গঠনের দিক থেকে বইটা পারফেক্ট। ☆ মজার এবং ভালো লাগার মতো কিছু লাইনঃ ~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~ ◑ মহান কিছু করতে গেলে লোকে টিটকারি দেবেই। টিটকারিতে কান দিলে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে গেলে মহান কিছু হবে না। ◑ মেয়ে ধরে মুরগী বানিয়ে লাভ নেই। মেয়ে মানুষ হচ্ছে বিড়ালের মতো। ◑ লালনা হৃদয়ে ঝড় না টর্নেডো উঠবে ভাই। ◑ ফাইনাল প্রুফ দিতে কেউ ইনহেলার ছাড়া আসে নাকি? ◑ পাশ-ফেলের সিস্টেম যারা বানিয়েছে, তাদের মাথার বুদ্ধি এত কম ছিল কেন কে জানে! ☆ লেখিকা সম্পর্কেঃ ~~~~~~~~~~~~~~~ ‘ নিছক গল্প নয় ' এই গল্পগ্রন্থের লেখিকা তাসনিয়া আহমেদ আপু। তিনি পেশায় একজন চিকিৎসক, নেশায় লেখক। মেডিকেল পড়াকালীন সময় থেকে তার লেখালেখী শুরু হয় অনলাইনে। এখন পর্যন্ত তার বইয়ের সংখ্যা ৪ টি। বইসমূহঃ ১. বয়স যখন ষোলোই সঠিক (২০১৯) ২. শহরের উষ্ণতম দিনে (২০২০) ৩. দুইশো তেরোর গল্প (২০২১) ৪. নিছক গল্প নয় (২০২২) এর মধ্যে শুধু একটা বই-ই পড়া হলো আমার। তবে বাকী বইগুলোও আমার লিস্ট ভারী করে ধরে আছে,কোনো এক সময় লিস্ট হালকা করে ফেলব,ইনশাআল্লাহ। আপুর জন্য অনেক অনেক ভালোবাসা, দোয়া ও শুভকামনা। তিনি যেন সুস্থ থেকে লোখালেখী চালিয়ে যেতে পারেন। তার প্রকাশিত সব বইয়ের প্রতি রইল ভালোবাসা এবং আপ কামিং বইগুলোর জন্য অগ্রীম শুভকামনা। ☆ প্রচ্ছদ ও নামলিপিঃ ~~~~~~~~~~~~~~~ প্রচ্ছদ একদম চোখ এবং মন জুড়িয়ে দেয়ার মতো।পুরো প্রচ্ছদ জুড়ে ছড়িয়ে আছে বইয়ের নামলিপি-টুকু । একেকটি চারকোণা চতুর্ভূজে একেকটি অক্ষর আঁকা হয়েছে। যা দেখতে আরো আকর্ষনীয় হয়ে উঠেছে। প্রচ্ছদের নিচের দিকে সাদার মাঝে লাল অক্ষরে ফুটে উঠেছে লেখীকার নাম। প্রচ্ছদের কালার কম্বিনেশন এবং নামলিপির প্যাটার্ন এককথায় - চমৎকার। প্রচ্ছদ করেছেন সানজিদা স্বর্ণা আপু। সুন্দর একটি প্রচ্ছদ উপহার দেয়ার জন্য আপুকে ধন্যবাদ। সেই সাথে তার জন্য রইল শুভকামনা। ☆ প্রোডাকশনঃ ~~~~~~~~~~~ প্রোডাকশন একেবারেই টপনচ। এ নিয়ে আমার কোনোই আপত্তি নেই। আমি লাস্ট যে ৪,৫ টা বই পড়লাম সব গুলাই ছিল সতীর্থ প্রকাশনীর। সতীর্থের প্রোডাকশনের মান আগে থেকে দারুণ লাগে আমার কাছে । তেমনি এ বইটার ক্ষেত্রেও। মলাট ঠিকাঠাক, কোনো কমতি নেই। বাঁধাই এবং পৃষ্ঠার মান যতটা উন্নত করার দরকার, করেছেন। সবমিলিয়ে প্রোডাকশন ফুল মার্কস পেয়েছে। ☆ বানান ও সম্পাদনাঃ ~~~~~~~~~~~~~~~~ এখন পর্যন্ত সতীর্থের যে কয়টি বই পড়া হইছে আমার, এর মধ্যে যে দিকটায় সবচেয়ে বেশি ঝামেলা পোহাতে হয়েছে সেটা হচ্ছে “বানান"। বানানের মান একদম নাজেহাল ছিল । কিন্তু ‘নিছক গল্প নয়' বইটা বানানের দিক থেকে একদম ঠিকঠাক পেয়েছি । যে সামান্য দু-এক জায়গায় ভুল রয়েছে এর জন্যে অবশ্যই লেখীকাকে দায়ী করব না । এটা টাইপিং মিস্টেকেরই ফল । তবে এই সামান্য ভুল বই পড়াতে কোনো বাধার মুখে ফেলে দিবে না, ইনশাআল্লাহ। এছাড়া বইয়ের সম্পাদনার মানও অনেক ভালো ছিল। তেমন কোনো কমতি আমার চোখে পড়েনি। বইটির বানান সংশোধন এবং সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তাহমিদ রহমান ভাই। ভাইয়ের জন্য দোয়া, এবং শুভকামনা অবিরাম। ☆ পরিশিষ্টঃ ~~~~~~~~ বইটির সম্পূর্ণ রিভিউ পড়ে আপনারা কে কতটুকু বুঝেছেন বা এই বইটা সম্পর্কে কার কতটুকু ধারণা হয়েছে আমি জানিনা। তবে সকলকেই বলব বইটা একবার হলেও চেখে দেখতে। আপনি যে কোনো জনরা প্রেমীই হোন না কেন - ছোট এবং ভিন্ন জনরার গল্প হওয়ায় সব ধরনের পাঠকেরই ভালো লাগবে বলে আশা রাখি। একঘেয়েমি এবং মন মেজাজ ভালো রাখার জন্য এই ছোট ছোট গল্পগুলো আপনার কাছে বেশ ভালো উপভোগ্য হয়ে দাঁড়াবে, ইনশাআল্লাহ। হ্যাপি রিডিং…💙 ☆ বই পরিচিতিঃ ~~~~~~~~~~~ ❑ বইয়ের নামঃ “নিছক গল্প নয়" ❑ লেখিকাঃ তাসনিয়া আহমেদ ❑ ধরনঃ গল্পগ্রন্থ ❑ প্রকাশনীঃ সতীর্থ প্রকাশনা ❑ পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১৫৬ ❑ নির্ধারিত মূল্যঃ ১৮০৳ বন্ধুত্ব হোক বইয়ের সাথে...

#বুক_রিভিউ_নিছক_গল্প_নয় এটি একটি রহস্য গল্প সংকলন, সর্বমোট তেরোটি রহস্য গল্প রয়েছে এতে। আমি সংক্ষেপে প্রতিটি গল্প সম্পর্কেই কিছু বলার চেষ্টা করছি। “খালাস”ঃ সামাজিক গল্প। পরম কাঙ্ক্ষিত সন্তানকেও কোন পরিস্থিতিতে পড়ে জন্মের আগেই বিসর্জন দিতে বাধ্য হয় মানুষ? “ট্রফি”ঃ সাইকো থ্রিলার গল্প। রাফির অভ্যাস প্রেমিকাদের ফ্ল্যাটে নিয়ে ধর্ষণের পর ট্রফি হিসেবে বাম হাতের অনামিকা কেটে নেওয়ার। “মোতালেব সাহেবের বাস ভ্রমণ”ঃ মোতালেব সাহেবের একটু স্পর্শদোষ আছে। বাসে উঠেই আশেপাশের মেয়েদের শরীরের গায়ের স্পর্শ পাওয়ার ব্যাপারটা তিনি বেশ উপভোগ করেন। কিন্তু একদিন এই স্পর্শদোষ তার নিজের কাছেই ফিরে এল ব্যুমেরাং হয়ে। কীভাবে? আঁধারলীনাঃ ভৌতিক গল্প। যদিও রহস্য ধরে ফেলেছিলাম শুরুতেই, তারপরও স্টোরি টেলিং এর গুণে গল্পটি ভালো লেগেছে। ত্রিতক্লাক এবং একটী নীলচে গোলকঃ এটি একটি সায়েন্স ফিকশন গল্প, বর্তমান বাংলা সাহিত্যের একটি অবহেলিত শাখা। আমার মনে হয় সায়েন্স ফিকশন ক্ষেত্রটি নিয়ে কাজ করলে তাসনিয়া আহমেদ আমাদের ভালো কিছু গল্প উপহার দিতে পারবেন। প্ল্যানঃ আরেকটি ভৌতিক কিংবা থ্রিলার গল্প। এটা বেশ ভালো হয়েছে। গল্পের শেষ পর্যন্ত রহস্য বজায় ছিল। ফেরাঃ আরেকটি ভৌতিক গল্প। যদিও ভৌতিক আমেজটা তেমন ছিল না। কিন্তু তাসনিয়ার স্টোরি টেলিং এর গুণে উতরে গেছে। ইউ ক্যান নট রিপ্লাই টু দিস কনভারসেশনঃ রম্য গল্প এবং এই বইয়ের সেরা গল্প। অক্সিজেনঃ রোমান্টিক গল্প, শেষে সামাজিক হয়ে উঠেছে। অনুঃ আরেকটি হরর থ্রিলার গল্প। রহস্য শুরুতেই ধরে ফেলতে পারলেও গল্পের উৎকণ্ঠা ভাব বজায় ছিল পুরো গল্প জুড়ে যা হরর কিংবা থ্রিলার গল্পের বড় সার্থকতা। অজ্ঞাতসারেঃ অন্যরকম একটী ভালোবাসার গল্প। এই বইয়ের দ্বিতীয় সেরা গল্প। আগুনের দিনঃ এই বইয়ের তৃতীয় সেরা গল্প। সমসাময়িক সামাজিক প্রেক্ষাপটে এত সুন্দর গল্প খুব কমই লেখা হয়েছে। নিছক গল্প নয়ঃ এই গল্পটি পড়ে আমি কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে বসে ছিলাম। সমসাময়িক বাস্তবতার আরো একটি সাহসী গল্প। পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ তাসনিয়া আহমেদের প্লটের বৈচিত্র্য, অসাধারণ স্টোরি টেলিং পাঠককে আটকে রাখবে চুম্বকের মত। গল্প বলবার এক সহজাত দক্ষতা রয়েছে তার। কিন্তু একটি ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। সব পাঠক হরর কিংবা থ্রিলারপ্রেমী নয়। তারা এই বইয়ের ভৌতিক গল্পগুলো পড়তে গিয়ে কিছুটা অস্বস্তি বোধ করতে পারেন। এ ব্যাপারে আরেকটু চিন্তাভাবনা করা যেতে পারে। পুরো বইটি ছিল তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করার মত। বানান ভুল কিংবা বাক্য গঠনগত ভুল ছিল না বললেই চলে। তবে তাসনিয়া আহমেদের “খাইসিশ’, “বলসিশ” এর সাথে আমি এখনো অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারিনি। চোখে লাগে। অন্যান্য বিজ্ঞ পাঠকরা “খাইছিস”কে “খাইসিশ”, “বলছিস” কে “বলসিশ” দেখতে কেমন অনুভব করেন, জানার ইচ্ছে রইল। “সতীর্থ প্রকাশনী” পাঠকদের কম দামে সুন্দর সুন্দর বই দিচ্ছে, এটি একটি ভালো ব্যাপার। এত সুন্দর একটি বইয়ের জন্য লেখকের প্রতি রইল আন্তরিক অভিনন্দন ও পরের বইয়ের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা। এক নজরেঃ বইয়ের নাম: নিছক গল্প নয় লেখকঃ তাসনিয়া আহমেদ জনরাঃ মিশ্র গল্প সংকলন প্রচ্ছদ: সানজিদা স্বর্ণা মলাট মূল্যঃ ১৮০/= প্রকাশনী: সতীর্থ রেটিংঃ ৯.৫/১০ প্রকাশকাল: অমর একুশে বইমেলা ২০২২























