

Buy মেঘের আড়ালে উড়োচিঠি Online in Bangladesh
লেখক: নুরুন্নাহার তিথী
- Author: নুরুন্নাহার তিথী
- Publisher: নবকথন প্রকাশনী
- Isbn: 9789849711773
- Number Of Pages: 112
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2023
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
ছুটির ঘণ্টা বাজলে মাশরিফ ও তার বন্ধুরা ক্লাসরুমে আসে ব্যাগ গোছাতে। হাসতে হাসতে মাশরিফ ব্যাগ গুছাচ্ছিল আর ততক্ষুনি দেখে একটা লাল ছোটো রঙিন কাগজ। মাশরিফ বুঝে যায় এটা চিঠি। একটু সাইডে গিয়ে চিঠিটা খোলে। "শুভ জন্মদিন কল্পপ্রেমিক, আজকের দিনে প্রায় দুই দশক আগে তোমার জন্ম। তোমার মায়ের মুখে ফুটে ওঠা এক টুকরো হাসি ও চোখের কার্ণিশ থেকে গাল গড়িয়ে পড়া কয়েক ফোঁটা সুখের অশ্রুবিন্দুর কারণও তুমি। সময়ের পরিক্রমায় তুমি আজ কিশোর বয়স পেরিয়ে গেছ। যাইহোক, তোমার দিনটা খুব আনন্দঘন হোক। সবসময় তোমার ঝুলিতে সুখপাখিরা জমা হোক। -ইতিতে কল্পপ্রেমিকা।"
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

Shundor💓

"মনের কোনে লুকিয়ে রাখা না বলা কথা গুলো উড়োচিঠি রুপে উড়ে বেড়ায় মেঘের আড়ালে!" ♦সারকথাঃ দুজন মানুষের মনের অজান্তে গড়ে উঠা ভালোবাসা। কল্পপ্রেমিককে ঘিরে কল্পপ্রেমিকার অনুভূতি মিশ্রিত লেখা চিঠি। এক ধোঁকার সম্মুখীন হবার পর কল্পপ্রেমিক ও কল্পপ্রেমিকা কি মিলতে পারে? সেই সকল দৃশ্য নিয়েই রচিত "মেঘের আড়ালে উড়োচিঠি "। ♦নামকরণঃ "মেঘের আড়ালে উড়োচিঠি" নামটা সত্যি দারুণ। নামটা দেখেই পড়ার আগ্রহ জেগেছিল। ইচ্ছে পূরণ করতেই বইটা আমার করে নেই। ♦প্লটঃ নামের সাথে প্লট না মিললে বই তার স্বার্থকতা হারায়। নাম যেমন হবে প্লট ভিন্ন হলে বইটি পড়ার প্রতি আগ্রহ থাকে না। এই উপন্যাসের নাম এবং প্লট একে অপরের পরিপূরক। ♦প্রচ্ছদঃ আধুনিক প্রযুক্তির রং তুলিতে ডিজাইন কৃত প্রচ্ছদটা দেখে আর এখন বই পড়ে, সত্যি মনে হয় নামের সাথে এবং বইয়ের প্লটের সাথে বইটির প্রচ্ছদ দারুণ মিলেছে। প্রচ্ছদটা দেখলে কেমন জানি মনে হয় এই বইয়ের সাথে অন্য আর কোনো ডিজাইনের প্রচ্ছদ একদম মিল হতো না। এটাই দারুণ। ♦পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ চিঠি লিখতে কার না ভালো লাগে। আর তা যদি হয় প্রিয় মানুষকে ঘিরে লেখা। তাহলে তা অন্যতম এক অনুভুতির সাথে পরিচয় করায়। মনে না বলা কথা গুলোই তো অনুভূতি মিশিয়ে চিঠিতে রুপান্তর করা হয়। অনেকেই বলে একতরফা ভালোবাসার মতো স্নিগ্ধ অনুভূতি নাকি অন্য কিছুতে নেই। এতে নাকি কষ্ট পেতে হয় না। যারা পাবে না জেনেও নিজ মনে নানা সুখের কল্পনার রাজ্য সাজায় আবার নিজেই তা শেষ করে। আমি নিজেও কিছুটা এমন। উপন্যাসের পাতায় একটা কথা আমি তীব্র ভাবে ভেবছি মিথ্যে দিয়ে কোনো সম্পর্কের ভিত কখনো শক্ত হতে পারে না। কোনো না কোনো দিন তা সামনে এসে তাসের ঘরের মতো ভেঙে যাবেই। অন্যের সুখ কেড়ে নিয়ে নিজে বেশিদিন ভালো থাকা যায় না তা আবারও উপন্যাসের পাতায় প্রমাণ হলো। উপন্যাসের কিছু দৃশ্য পড়ে মন খারাপ হয়েছে। মাঝে মধ্যে নিজেকে সেই দৃশ্যে দাঁড় করিয়েছি, দৃশ্য গুলো কল্পনা করে ভেবেছি। লেখক/লেখিকার লেখার স্বার্থকতা বোধহয় তখনই হয় যখন পাঠক/পাঠিকা উপন্যাস বা বই পড়ার সময় নিজেকে বিভিন্ন দৃশ্য কল্পনা করে। প্রিয় মানুষ বা কাছের মানুষের কাছ থেকে অবহেলা মানুষকে বড্ড বেশি পীড়া দেয়। উপন্যাসের কিছু জায়গায় তাই দেখে খুব খারাপ লেগেছে। হয়তো অনেকের কাছে স্বাভাবিক লেগেছে কিন্তু আমার লাগেনি। কারণ এর সম্মুখীন আমিও হয়েছি অনেকবারই। তাই আমার ভালো লাগেনি। শুধু তো ভালোবাসি বললেই ভালোবাসা প্রমাণ হয় না। এই উপন্যাসে দেখেছি এমন কিছু দৃশ্য। যেখানে মুখে বললেও কাজে কখনো প্রমাণ হয়নি ভালোবাসা। গল্প উপন্যাসের মতো জীবন হয় না। হ্যাঁ জীবন থেকেই গল্প উপন্যাস রচিত হলেও বাস্তব জীবনে সবসময় সুখময় হয় না আর না সবসময় শেষ টা সুন্দর হয়। তবে উপন্যাসের শেষ টা সুন্দর হওয়াতে অনেক ভালো লাগছে। বাস্তব জীবনের তিক্ততা ভুলতে তো বই হাতে নেওয়া সেখানেও সুখময় নাহলে বাস্তব আর গল্প উপন্যাসের ভিন্নতা কোথায়। ♦সমালোচনাঃ প্রথম বই হিসেবে বইটি দারুণ। তবে আমার মনে হয় বইটিতে আরো কিছু পৃষ্ঠা যুক্ত করে মাশরিফ এবং তিতিরে সুখময় সময়ের দৃশ্য দেখানো হলে বইটি আরো সুন্দর হতো। ♦চরিত্রের নামঃ তিতির, মাশরিফ, লিরা, এরিক, জ্যাক, কাশফা, কেয়ান, অভি, রাতুল, অর্ক, রণিত, রাফি, শুভ, রিনি, ইত্যাদি। ♦চরিত্র উপস্থাপনঃ প্রথম বই হলেও প্রতিটি চরিত্রের উপস্থাপন অনেক সুন্দর ছিলো। কোনো চরিত্রের সাথে কোনো চরিত্র গুলিয়ে যায় নি যার জন্য বইটি পড়ে ভালো লাগছে। ♦এক নজরেঃ •উপন্যাসের নামঃ মেঘের আড়ালে উড়োচিঠি •লেখকঃ নুরুন্নাহার তিথী •ধরনঃ রোমান্টিক •প্রকাশনীঃ নবকথন প্রকাশনী •প্রচ্ছদঃ ফাহিম মাহমুদ •মুদ্রিত মূল্যঃ ৩২০ •পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১০৯ •প্রকাশকালঃ ৩১ মে ২০২৩ ♦প্রিয় অংশঃ পুরো বইয়ে অনেক গুলো প্রিয় অংশ রয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি প্রিয় অংশ হলো তিতিরের অনুভূতি মিশ্রিত চিঠিগুলো। তার কল্পপ্রেমিক নিয়ে লেখা চিঠি গুলো এক কথায় সাধারণে অসাধারণ। ♦প্রিয় কিছু লাইনঃ 🔹"পাখির মতো ফুড়ুত করে উড়ে চলে আসে তিতিরপাখি!" 🔹"কল্পপ্রেমিকা তিতিরপাখি!" 🔹"উইল ইউ ম্যারি মি কল্পপ্রেমিকা?" 🔹"এই শুভ্রপরী, ভালোবাসি!" ♦অন্যান্য বিষয়ঃ প্রকাশনী: এই প্রথম নবকথন প্রকাশনীর বই পড়েছি। আমার বইয়ে একটু সমস্যা ছিলো তবে এটা ছাপাখানায় ভুল হয়েছে তা বুঝতেই পারছি। এতো এতো বই ছাপা হয় এর মাঝে এমন হতেই পারে এটা স্বাভাবিক। বানান: কিছু কিছু জায়গায় বানান ভুল ছিলো যা টাইপিং মিস্টেক বলা যায়। এমন আমাদেরও হয় আর বইয়ে এতো শব্দের মাঝে দু একটা হতেই পারে। ♦লেখক/লেখিকা পরিচিতিঃ "নুরুন্নাহার তিথী" বাবা-মায়ের তিন কন্যার জ্যেষ্ঠ কন্যা। নারায়ণগঞ্জ জেলায় জন্ম ও স্থানীয় হলেও গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর। তিনি ঢাকার স্বনামধন্য প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি "ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে" ফার্মাসি বিভাগে অধ্যায়নরত। ♦ লেখক/লেখিকা প্রসঙ্গেঃ এতোদিন অনলাইন প্লাটফর্মে তার লেখা পড়েছি। অনলাইনে গল্প গুলোও সুন্দর এবং সাবলীলভাবে লেখা। "মেঘের আড়ালে উড়োচিঠি "লেখিকার প্রথম বই। প্রথম বই হিসেবে ভালোই হয়েছে।সামনে আরো ভালো কিছু হবে ইন শা আল্লাহ্।

#মেঘের_আড়ালে_উড়োচিঠি #পাঠ_অনুভূতি ♦এক নজরেঃ •উপন্যাসের নামঃ মেঘের আড়ালে উড়োচিঠি •লেখকঃ নুরুন্নাহার তিথী •ধরনঃ রোমান্টিক •প্রকাশনীঃ নবকথন প্রকাশনী •প্রচ্ছদঃ ফাহিম মাহমুদ •মুদ্রিত মূল্যঃ ৩২০ •পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১০৯ •প্রকাশকালঃ ৩১ মে ২০২৩ লেখনীতেঃ রিফায়াত হাসান সাকিব ♦ভূমিকাঃ ইদানিং এই অভ্যাসটা আমার ভীষণ ভালো লাগে । রোজ একটা করে বই পড়তে বসলে মনে আনন্দ জাগে খুব । বারবার মনে হয়, একেকটা বই শেষ করার বিষয়টা যেন একেকটা ঘুরে আসা যাত্রা । এই যাত্রায় সুখ থাকে, শান্তি থাকে । কখনোবা দুঃখরাও এসে জমা হয় । কিন্তু সবকিছু ছাড়িয়ে ছাপিয়ে ভালোলাগা উত্তরোত্তর হারে বৃদ্ধি পেতে থাকে । ♦পারিপার্শ্বিক দিকঃ আজকে বই পড়া হচ্ছিল না একদমই । হঠাৎ কি মনে করে ছোট বইটা নিয়ে পড়তে ইচ্ছে হলো । সারা রাতে জেগে থাকা আমি বইটা নিয়ে বসে পড়লাম অনুভূতির রাজ্য ভাসিয়ে তুলতে । ঠিক রাত ৩টা ২০ মিনিটে বইটি পড়া শুরু করেছিলাম । সময়টা এখন ভোর ৫টা ১৫ মিনিট । চারদিকের আলো যেন সাক্ষী দেয় রাত কাটিয়ে ভোরের মুহূর্তের সাথে বইটি শেষ করার । ♦নামকরণঃ ভালোবাসায় চিঠি কিংবা চিরকুটের যখন ব্যাখ্যা আসে তখন আমার মনে কিভাবে যেন ভালোলাগার এক মিষ্টি আবহ তৈরি করে দেয় । কিছু ভালোবাসায় চিঠি আসে । যেগুলো লুকিয়ে প্রিয়জনকে দিতে গিয়ে যেন মেঘে মেঘে ভাসিয়ে দিয়ে বলে দেয়া হয়, নেও চিঠি পাঠিয়ে দিলাম প্রিয়জনের তরে, অনুভবের সাথে উপলব্ধি আর ভালোবাসা দিয়ে যেন বুঝে নিও ভালোবাসার মানুষটি তোমাকে ভালোবেসে অপেক্ষা করে যাচ্ছে শুধু । এই লুকায়িত ভালোবাসা যেন আকাশের মেঘের তৈরি করা লুকায়িত আকাশের মিষ্টি স্নিগ্ধ রূপের মতো । মেঘের আড়ালে উড়োচিঠি তাই ভালোবাসার মানুষটির জন্য লুকায়িত ভালোবাসার মতো মিষ্টি ভালোবাসা । ♦ফ্ল্যাপে লেখাঃ ছুটির ঘণ্টা বাজলে মাশরিফ ও তার বন্ধুরা ক্লাসরুমে আসে ব্যাগ গোছাতে । হাসতে হাসতে মাশরিফ ব্যাগ গোছাচ্ছিল আর দেখে একটা লাল ছোটো রঙিন কাগজ । মাশরিফ বুঝে যায় ওটা চিঠি । একটু সাইডে গিয়ে চিঠিটা খোলে । “শুভ জন্মদিন কল্পপ্রেমিক, আজকের দিনে প্রায় দুই দশক আগে তোমার জন্ম । তোমার মায়ের মুখে ফুটে ওঠা এক টুকরো হাসি ও চোখের কার্নিশ থেকে গাল গড়িয়ে পড়া কয়েক ফোঁটা সুখের অশ্রুবিন্দুর কারণও তুমি । সময়ের পরিক্রমায় তুমি আজ কিশোর বয়স পেরিয়ে গেছ । যাইহোক, তোমার দিনটা খুব আনন্দঘন হোক । সবসময় তোমার ঝুলিতে সুখপাখিরা জমা হোক । -ইতিতে কল্পপ্রেমিকা ।” ♦প্রচ্ছদঃ যেদিন আমি এই প্রচ্ছদটি প্রথম দেখেছিলাম, মনে হয়েছিল বাহ্! এই প্রচ্ছদটা বেশ দারুণ তো । রংয়ের ধাঁচ যেন প্রচ্ছদের বিভিন্ন রঙের আবেগ এবং আবেশকে আমার চোখে জাদুর মায়া নামক এক ভাষা তৈরি করে দিয়েছিল । আমি যত এই প্রচ্ছদটা দেখেছি তত যেন আবেগে ভেসেছি । জীবনভর বয়ে যাওয়া ভালোবাসার মতো সুন্দর এই প্রচ্ছদটির পাশাপাশি বইয়ের পিছনের প্রচ্ছদটিও বেশ দারুণ । মুগ্ধ হয়ে যেতে হয় প্রতিটি সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম মুহূর্তগুলোতেও! ♦পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ √উপন্যাসের পটভূমি বইয়ের প্রথম দিকে বেশ ভালো ছিল । এবং বেশ সুন্দর করে সাজানোও ছিল । পটভূমির জন্য যেভাবে দৃশ্যপট এবং ঘটনাপ্রবাহ সাজানো হয়েছিল তা ঘিরে থাকা জীবনধারা বেশ দারুণ ভাবে মোড় নিয়েছিল প্রতিটি ক্ষণে ক্ষণে । এছাড়াও কিছু বর্ণনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি ফুটে উঠেছে । বর্ণনামূলক দৃষ্টিভঙ্গির জন্য আবহের সামান্য জায়গা প্রথম দিকে থাকলেও উপন্যাসের মাঝামাঝিতে গিয়ে সেই জায়গাটি যত সময় গিয়েছে তত যেন কমেছে । এছাড়াও উপন্যাসের পটভূমিতে কিছু কিছু দৃশ্যপটে যেন তারপরে তাড়াহুড়োর একটা ব্যাপার এসেছে । উপন্যাসটি আরো সুন্দর ভাবে সময় নিয়ে শেষ করা যেতে পারতো । তাছাড়া একটা সময়ে দৃশ্যপটকে শুধু বলে যাওয়ার অনুভূতির মতো করে প্রকাশ করা হয়েছে । যাকে মুগ্ধতা নিয়ে শেষ করা যেতে পারতো । মূলত এই ধরনের চিঠি কিংবা চিরকুটের সংবলিত প্রেম বা ভালোবাসার গল্পে আবহের সংযোগটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয় । বাহ্যিক সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে তা দারুণ ভূমিকা রাখে । এই উপন্যাসে আবহের জায়গাটি ধীরে ধীরে কমে এসেছে । √একটি উপন্যাসে চরিত্র গঠন এবং তার উপস্থিতি দৃশ্যপট এবং ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে সাজানো বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপার । এই উপন্যাসেও বেশ কিছু চরিত্র রয়েছে । যাদের গঠন এবং উপস্থিতি রয়েছে । তিতির চরিত্রের গঠন এবং উপস্থিতি বেশ ভালো ছিল । উপন্যাসের পটভূমি অনুযায়ী বেশ সুন্দর ভাবে তার উপস্থিতি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে । এছাড়াও মাশরিফ এর চরিত্রের উপস্থিতিও বেশ ছিল । লিরা চরিত্রের গঠন এবং উপস্থিতি বেশ সুন্দর থাকলেও তার সংলাপ এবং বন্ধুর পাশে থাকা গুণ বেশ ভালো লাগা দিয়ে থাকলেও উপন্যাসের যত সময় গিয়েছে তত এই চরিত্রের গঠন এবং উপস্থিতি মনে হয়েছে খানিকটা কমেছে । তবে কেন্দ্রীয় চরিত্রগুলো ছাড়া উপন্যাসের পটভূমিতে বাকি চরিত্রগুলো সেভাবে নির্ভরযোগ্য না হলেও সেই চরিত্রের গঠন এবং তাদের উপস্থিতি অনুযায়ী বর্ণনার জায়গাটিতে একটু দুর্বল ভাব কাজ করেছে । বিশেষত কাশফা চরিত্রের গঠন আরো সুন্দর ভাবে করা যেতে পারতো । তাছাড়া তাহির সাহেব, নাজমা বেগম কিংবা রেহমান সাহেব এবং মহিমা বেগম প্রতিটি পার্শ্ব চরিত্রের প্রতিক্রিয়া এবং অনুভূতি যতটা বর্ণনা করা যেতে পারতো তা যেন খুব সহজেই এবং তাড়াহুড়ো করে শেষ করা হয়েছে । এবং কিছু কিছু মুহূর্তের দৃশ্যপট এবং আবেগ যেন পঠন এর মতো করে বলে যাওয়ার একটা ব্যাপার ছিল । তাছাড়া মাশরিফ এর বন্ধুদের সংলাপ এবং বন্ধুত্বপূর্ণ আবেগ বেশ সুন্দর ছিল । ♦প্রিয় অংশঃ এই উপন্যাসের সবথেকে প্রিয় যে মুহূর্ত তা হলো চিঠি । উপন্যাসে যতগুলো চিঠি ছিল তা সবগুলোই আমার প্রিয় । কোনো ভালোবাসার গল্পে চিঠির গুরুত্ব আছে শুনলেই আমার মনে কেমন একটা ভালোলাগা কাজ করে । মনে হয় যেন এর চেয়ে ভালোবাসাকে প্রকাশ করা আর যায় না । এছাড়াও উপন্যাসের শুরুর দিকে পটভূমি বেশ ভালো লাগার মতো ছিল । তাছাড়া কিছু সংলাপ এবং কাব্যিক আবেগের ধাঁচে অনুভূতি এবং সংলাপে এসেছে, যা বেশ ভালো লাগা তৈরি করে । ♦অন্যান্য বিষয়ঃ √প্রকাশনীঃ প্রকাশনী হিসেবে নবকথন প্রকাশনী এর বেশ কয়েকটি বই পড়া হয়ে গেল । এই প্রকাশনীর সবথেকে যা ভালো দিক তা হলো, বইয়ের প্রচ্ছদ দারুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয় । যাহোক এই বইয়ের বাঁধাই বেশ সুন্দর ভাবে হয়েছে । বইটি হাতে নিয়ে ধরতে বেশ লাগে । এই বইটি আমি পাওয়ার পরে কত যে শুধু ধরে থেকেছি । সাথে বইয়ের প্রচ্ছদও অসাধারণ সুন্দর করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে । স্নিগ্ধ একটা ভাব আছে যেন । তবে বইয়ের প্রথম দিকে সেভাবে টাইপিং মিস্টেক না থাকলেও মাঝামাঝির কিছুটা পরে গিয়ে যেন টাইপিং মিস্টেক বেশ অনেকগুলো হয়েছে । আশা করি এগুলো ঠিক হয়ে যাবে । আরেকটা ব্যাপার হলো উপন্যাসের জলছাপের দিকে একটু নজর রাখা দরকার ছিল । যেভাবে লেখা দৃশ্যপট অনুযায়ী সাজিয়ে রাখা হয়ে থাকে, একই দৃশ্যপটে পরবর্তী সংলাপ কিংবা বর্ণনা পরিবর্তন করার একটা বিষয় থাকে যা একই ধাঁচে একই ভাবে লেখাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় । সেক্ষেত্রে পৃষ্ঠা পরিবর্তন করে নতুন ধাঁচে শুরু করার বিষয়টি সামান্য অস্বস্তির মধ্যে ফেলে দেয় যেন । ♦লেখক প্রসঙ্গেঃ ‘মেঘের আড়ালে উড়োচিঠি’ লেখক নুরুন্নাহার তিথী এর প্রথম উপন্যাস । ফেসবুকে তার লেখা কোনো গল্প আমার আগে পড়া হয়নি । এটাই তার লেখা আমার প্রথম কোনো পড়া গল্প যা উপন্যাস হিসেবে বইয়ে প্রকাশ পেয়েছে । যাহোক তার লিখনশৈলীর শুরুটা বেশ ভালো হয়েছে এবং আমার মনে হয়েছে বেশ সুন্দর ভাবেই যেন তৈরি হয় । আবেগ থাকে, অনুভূতি থাকে । এক ধরনের মায়া দিয়ে ঘেরা থাকে । আস্তে আস্তে সময় নিয়ে লেখা শেষ করার একটা চেষ্টা লেখক করবেন বলে আশা রইলো । এই বইতে চিঠির পাশাপাশি লেখক কিছু কাব্যিক এবং অনুভূতিপূর্ণ সংলাপ বা বর্ণনামূলক আবহ ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন । যা বেশ ভালো ছিল । পড়ার সময়ে দারুণ লেগেছে কিন্তু কিছু কিছু জায়গায় শব্দপ্রয়োগে সামান্য ত্রুটি থাকায় তা বাক্যালাপে গিয়ে প্রভাব ফেলেছে । আশা করবো সময় কেটে যাওয়ার মতো করে অনুভূতি বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি লেখক দারুণ দারুণ উপন্যাস আমাদের পাঠকদের উপহার দিবেন । তার জন্য শুভকামনা রইলো । ♦রেটিংঃ ৩.৭/৫ ♦উপসংহারঃ ভোরের সামান্য আলো থেকে পূর্ণ আলোর দিকে তাকিয়ে মাঝে মাঝে ছাদ থেকে দেখতে থাকলে মানসপটে যেন এক নতুন ধরনের আবেগ তৈরি হয় । পৃথিবী কি সুন্দর এবং প্রকৃতিতে ঘিরে রাখা এক মায়া দিয়ে তৈরি । আমাদের মন নামক অনুভূতিগুলোও তো সব কিছু নিয়ে তৈরি । প্রতিটি সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম অনুভূতি মনের রাজ্যে গিয়ে প্রভাব ফেলতে থাকে যেন । এই প্রভাবে ভালোলাগা আরো যেন বৃদ্ধি পেতে থাকে ।























