

Buy লক্ষণরেখার এপারে Online in Bangladesh
লেখক: লুনা নুসরাত
- Author: লুনা নুসরাত
- Publisher: পেন্সিল পাবলিকেশনস
- Isbn: 978-984-96586-5-8
- Number Of Pages: 136
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Edition, 2023
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
এক হাতে ছেঁড়া জুতা নিয়ে পীচঢালা তপ্ত রাজপথে হাঁটতে থাকে দীপা মাথা নীচু করে। ফিরে তাকায় না। জানে ফিরে তাকাবার উপায় তার নেই। শুধু বুকের ভেতর তীব্র এক কষ্ট, ব্যথার এক ঢেউ খেলে যায়। এলোমেলো করে দেয় তার পদক্ষেপ। ফিরে তাকিয়ে মঞ্জুর চোখের তারায় তাকাতে ইচ্ছে করে। গালের খরখরে দাড়ি ছুঁয়ে দেবার এক দুর্নিবার আকর্ষণ বোধ করে নিজের ভেতর। তবু ফিরে তাকায় না। ইচ্ছেগুলোর গলায় হাতচাপা দিতে শিখে গেছে দীপা, শিখতে হয়েছে তাকে। নিজেকে প্রবোধ দেয় নিজেই। ফিরে যাওয়া যায় না দীপা, যায় না। যদি ফিরে তাকাত একবার তবে দেখতে পেত মঞ্জুকে যেখানে ফেলে হারিয়ে গিয়েছিল দীপা বছর খানেক আগে, বোকা ছেলেটা ঠিক সেখানেই দাঁড়িয়ে আছে এখনও।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

#লক্ষণরেখার_এপারে #পাঠ_অনুভূতি ♦এক নজরেঃ •উপন্যাসের নামঃ লক্ষণরেখার এপারে •লেখকঃ লুনা নুসরাত •ধরনঃ সামাজিক, মনস্তাত্ত্বিক •প্রকাশনীঃ পেন্সিল পাবলিকেশনস •প্রচ্ছদঃ নির্ঝর নৈঃশব্দ্য •মুদ্রিত মূল্যঃ ৩৮০ •পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১৩৬ •প্রকাশকালঃ অমর একুশে বইমেলা ২০২৩ লেখনীতেঃ রিফায়াত হাসান সাকিব ♦ভূমিকাঃ কোনো কোনো উদাসীন দুপুরে নিজেকে নিয়ে ভাবতে ভাবতে মনে হয় আমাদের এই জীবনে থাকা উদাসীন ভাবই উপন্যাসেও জাপটে ধরে বসে থাকে । এই উদাসীনতা হওয়ার যে ভাষা, তাই উপন্যাসে শব্দ হয়ে বয়ে চলে মুগ্ধ করতে চেষ্টা করে । এই শব্দের প্রাধান্য থাকা মায়াই উপন্যাসে আলগোছে জড়িয়ে পাঠককে ভাসিয়ে দিতে চায় । এজন্যই এই উদাসীন ভাবের সাথে থাকা নিশ্চুপ দুপুরগুলো আমার খুব প্রিয় । এরা মনে এসে আটকে দম লাগা অনুভূতি তৈরি করে দেয় । ♦পারিপার্শ্বিক দিকঃ অনেকগুলো দিন পরে, বলা যায় বেশ কয়েক বছর পরে এই একটি উপন্যাস আমি আমার পড়ার অভ্যাসের বাইরে গিয়ে পড়লাম । পাঠক হিসেবে অন্য রূপে নিজেকে খুঁজে পেলাম । অনেকগুলো দিন পরে একনাগাড়ে একটা উপন্যাস পড়িনি । দুই তিনবার দূরত্ব রেখে রেখে অবশেষে আমি বইটি পড়েছি । গতকাল অনেক রাতে বইটা পড়া শুরু করেছিলাম । পড়তে পড়তে মনে হলো, বইটা আমার মনে বসে থাকতে চাচ্ছে । তাও আমি পড়া থামিয়ে বসেছিলাম কেনো জানি । ভাবতে চেষ্টা করেছিলাম খুব । তারপর আজকে আবারও পড়া শুরু করলাম । একটু আগে পড়া শেষ হয়ে গেল । ♦নামকরণঃ এই উপন্যাস নিঃশব্দের গল্প । নিশ্চুপ আবেগের গল্প । নিজের জীবনের নিজ নিজ সীমানায় লক্ষণরেখা টানার গল্প । সবাই সুখী হতে চায় । সবার জীবনে হওয়া সুখের কামনা মানুষকে আবেগতাড়িত করে । কখনও ভাসিয়ে দিতে চায় । মানুষ নিঃসঙ্গতায় চুপটি করে নিজের জীবনের সবথেকে অদৃশ্যে হওয়া মুদ্রার এপিঠে থাকাবস্থায় অপর পিঠের ভাসমান সৌন্দর্যের সুখ আলগোছে ধরে রাখতে চায় । এই সুখে মায়া লাগে । ভালোবাসা লাগে । জীবন ধরে চাওয়া বন্ধন লাগে । কিছু নিঃসঙ্গতায় জীবন ঠিকই বয়ে যায়, কিন্তু তাতে ঘিরে থাকা আলগোছে বাতাস বয়ে যেতে থাকে প্রতিটি প্রবাহে, প্রতিটি চরিত্রের লক্ষণরেখায় । এই উপন্যাস সুখে থাকতে চাওয়ার গল্প । সুখ সুখ কামনায় অনুভূতিকে অদৃশ্য ভাবে ধরে রাখতে চাওয়ার গল্প । এত সুন্দর একটি নামকরণ এই উপন্যাসের জন্য যথার্থ । ♦ফ্ল্যাপে লেখাঃ ঘোর লাগা সন্ধ্যা বলে একটা সময় আছে । যে সন্ধ্যায় মন উচাটন হয়, কাছে-দূরের কোথাও কোনো কিছুতেই মন লাগে না । জানালার শিকে হাত রেখে দূরের আকাশসীমায় ক্রমশ ম্লান হতে থাকা লালচে রং হৃদয়ের জমিনেও আবির মাখিয়ে যায় পরম নিষ্ঠুরতায় । ইচ্ছে হয়... ইচ্ছে হয় এ শহর, এই চেনা-পরিচিত মুখগুলো মুছে মনের ক্যানভাসে অন্য মুখের আদল আঁকতে । কিন্তু যে মুখ আঁকা হয়ে গেছে নিজের অজান্তে তা কি এতই সহজ মুছে ফেলা? তবু ইচ্ছে করে । আর পারে না বলেই নিষ্ফল আক্রোশে আঁকড়ে ধরে জানালার ধাতব ঠান্ডা শিক । আরও তীব্রতায় আঙুল চেপে বসে । রক্ত সরে ফ্যাকাশে হয়ে আসে আঙুলের ডগা । কত সহজেই তো ভুলে যায় অনেকে । কত সহজেই তো ভুলে যায় অনেকে । কত সহজেই ফেলে আসা অতীত অস্বীকার করে । সে কেন পারে না? আঁধারে ডুবে গেলে সব, যখন চোখে সয়ে আসে ঘরের জমাট আঁধার, খুলে যায় মনের দুয়ার, চুপচাপ সে পথে হেঁটে আসে এক মায়াবতী, কাজল কালো ডগার আঁখি কুঁচ-বরণ কেশ! ♦প্রচ্ছদঃ এই প্রচ্ছদটি দেখলেই আমার কেনো যেনো খুব মায়া লাগে । বারেবারে মনে হয় জীবনজুড়ে থাকা মনের যে আবেগ, তাতেও একটা সীমারেখা আছে । সেই সীমারেখায় লক্ষণরেখার মতো সীমানা আচ্ছন্ন করে রাখে । তাকে পেরিয়ে গিয়ে সুখ সুখ ভাব অনুভূত হওয়া খুব দরকার । অসাধারণ লাগে তখন উপন্যাসের সাথে বয়ে যেতে গিয়ে । এই প্রচ্ছদটি তাই মায়ায় ঘেরা । ♦পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ √এই উপন্যাসটি আমার ভালো লেগে যাওয়ার কিছু কারণ আছে । প্রথম যে কারণটি সেটি হলো, ঘটনাপ্রবাহ । উপন্যাসের ঘটনাগুলো যেন আমাদের পাশে থাকা নিত্যনৈমিত্তিক জীবনের অলিগলিতে বয়ে চলা পাশাপাশি মানুষদের গল্প । তার থেকেও সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি তা হলো এরকমই এই পটভূমিকে উপন্যাসে যেভাবে সাজানো হয়েছে তা অসাধারণ । সহজ এবং সবসময় ব্যবহার করা শব্দের মাধ্যমেই উপন্যাসের পটভূমিতে জীবনধারায় গভীরতা এত সুন্দর করে যে আনা যায় তা উপন্যাসটি না পড়লে আমি বুঝতেই পারতাম না । এত সুন্দর করে উপন্যাসে প্রতিটি মানুষের জীবনের নিঃসঙ্গতা এবং তাকে ছাপিয়ে ভালোবেসে যাওয়া এবং ভালো থাকার চেষ্টাকে দেখানোর জন্য উপন্যাসটি সাজানো হয়েছে যা বেশ অসাধারণ ছিল । সবাই জীবনে সুখী হতে চায়, ভালো থাকতে চায় । ভালোবাসা পেতে চায় । কিন্তু নিজ নিজ জীবনের সুখ নিজের হাতে না থাকলেও সেটা যেন নিজের জীবনের ঘরদোরের ঠিক বাইরে, লক্ষণরেখার ওপারেই । এই উপন্যাস সেই ওপারে থাকা সুখকেই এপারে নিতে চাওয়ার গল্প । উপন্যাসের পটভূমিতে বারবার যে আবহ বয়ে গিয়েছে, প্রতিটি আবহতে আমি নিঃসঙ্গতার সুর পেয়েছি । কিন্তু প্রতিটি সুরই আমার এত প্রিয় লেগেছে যা মনে দাগ কাটার মতো । √উপন্যাসে চরিত্র সংখ্যা খুবই কম । যদিও যারা ছিল তাদের গঠন এবং উপস্থিতি অসাধারণ ছিল । প্রত্যেকটি চরিত্রের জীবনের লক্ষ্য এবং তাদের ভূমিকা উপন্যাসে আলাদা আলাদা আবহ এনেছে, আবেগ ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করেছে । বিশেষ করে দীপা, মঞ্জু, মীরা এই তিনজন বন্ধুদের চরিত্র যেভাবে সাজানো হয়েছে কিংবা তাদের চরিত্রে ফুটে ওঠা যে আবেগ তা অসাধারণ ভাবে উপন্যাসে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দারুণভাবে এসেছে । তাছাড়া মাহতাব চরিত্রটির জীবনের টানাপোড়েন কিংবা তার মানসিক পরিস্থিতি বোঝার জন্য যে শব্দপ্রয়োগ তা অসাধারণ ছিল । √এই উপন্যাসের আরেকটি প্রিয় যে বিষয়, তা হলো শব্দ প্রয়োগ এবং বাক্যালাপ । যা দারুণ ভালো লাগার মতো ছিল । আমি জানি না কেনো, আমি যখনই শব্দগুলো পড়তে ছিলাম, বারবার মনে হচ্ছিল শব্দগুলো আমাকে আকর্ষণ করে গল্পে আটকে রেখেছে । যেন আমি চোখ বুঁজে কখনও একটু হলেও অনুভব করতে করতে আবেগতাড়িত হয়ে যাই । এছাড়াও উপন্যাসে কবিতা ব্যবহার করা হয়েছে । এই কবিতাগুলোও মনের ভাব যেভাবে প্রকাশ করেছে তা অসাধারণ ছিল । ♦প্রকাশনীঃ পেন্সিল পাবলিকেশনস এর বই আমার অনেকগুলো পড়া হয়েছে । তাদের লেখা পড়তে আমার সবথেকে যে কারণে ভালো লাগে তা হলো তেমন একটা টাইপিং মিস্টেক থাকে না উপন্যাসে । যা উপন্যাস থেকে মন অন্যদিকে ঘুরতেই দেয় না । তাছাড়া বই বাঁধাই এবং প্রচ্ছদ তারা অসাধারণ ভাবে ফুটিয়ে তোলে । এই উপন্যাসেও তেমন টাইপিং মিস্টেক নেই । যা অবশ্যই ভালো লাগার মতো ছিল । ♦লেখক প্রসঙ্গেঃ ‘লক্ষণরেখার এপারে’ লেখক লুনা নুসরাত এর তৃতীয় উপন্যাস । আমার তার লেখা আগে কখনও পড়া হয়নি । অথচ আমার তার লেখা প্রতিটি বই সংগ্রহ করার খুব ইচ্ছে লাগে মাঝেমাঝে । বারবার আমার মনে হয় তার লেখা আমি না পড়তে পারলে পাঠক হিসেবে আমার কোনো অনুভূতি কিছু কিছু জায়গায় শব্দ খুঁজে পাবে না । এই বইটি ছাড়াও আজকেই তার প্রথম উপন্যাসটি আমার সংগ্রহে এসেছে । যাহোক এই উপন্যাসে তিনি যেভাবে বর্ণনামূলক দৃষ্টিভঙ্গির জন্য উপন্যাসে ঘটনাপ্রবাহ এনেছেন তা অসাধারণ ছিল । তার শব্দপ্রয়োগ এবং সেই শব্দ দিয়েই গল্পের গভীরতা বোঝানো বিষয়টাও ভালো ছিল । ♦রেটিংঃ ৪.৫/৫ ♦উপসংহারঃ মাঝে মাঝে মনে হয় যৌথ পরিবারে জীবনে যেমন ঘর থেকে এক পা বাইরে রাখলেই জীবনে নতুন কোনো যাত্রা শুরু হয় কিন্তু ফিরে আসার তাড়া থাকে । ঠিক সেই ফিরে আসার পরে একগাদা সুখ সুখ অনুভূতি থাকে । এই উপন্যাসও তেমন । এই নামটিই আমাকে বারবার মুগ্ধ করে সেরকম । বারবার মনে হয় জীবনে সুখপাখিকে তাড়া করে বেড়ানোও যেন এমন । সেই তাড়া করে বেড়ানোতে নিঃসঙ্গতার গল্প বলে । নিশ্চুপ আবহ মনের সুরে যেন মাদল তোলে ।























