

Buy কাচবন্দি সিম্ফনি Online in Bangladesh
লেখক: মাহরীন ফেরদৌস
- Author: মাহরীন ফেরদৌস
- Publisher: পেন্সিল পাবলিকেশনস
- Isbn: 9789849385189
- Number Of Pages: 88
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2018
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
“কাচবন্দি সিম্ফনি” বইটির ফ্ল্যাপের কথাঃশব্দরা থেমে যায়...থেমে যেতে হয়, বহুদূর হেঁটে যাবার পরও।। ঝিরিপথে একরাশ ভেজা বালির মতাে জমে থাকা সেই শব্দ পেরিয়ে কিছু পথ হাঁটলে খুঁজে পাওয়া যায় অদ্ভুত এক নৈঃশব্দ্য। আর গাছের ছায়ায় পথভােলা হয়ে বসে থাকা যায় একটা জীবন। সেখানে চাদের আলােয়। বাতাসের শব্দে ঝরে পড়ে চুপচাপ পাতারা। দ্বিমাত্রিক সেই পৃথিবীতে কেউ সূর্য খোঁজে না। মানুষের। অনুভূতির চড়া সুরে পুড়ে গেছে অসংখ্য চোখের আলাে, তৈরি হয়েছে নৈর্ব্যক্তিক কাচের দেয়াল। এক আকাশ ভরা জ্বলজ্বলে তারার কোনাে অর্থ নেই সেখানে, বরং একমাত্র ভাষা হলাে শব্দ। অষ্টপ্রহর ফিরে ফিরে হয় শুধু কোলাহল, আর কখনােবা। নীরবতা। তারপরও, যেদিন বিষন্ন জ্যোৎস্না এসে সেই শহরের রােদভেজা পথে নতুন করে আলপনা তৈরি করে, সেদিন সেই ছায়া ছায়া শব্দগুলাে কেমন একটা নির্যাসের মতাে ছড়িয়ে পড়ে শহরময়। বন্ধ জানালায় বাধা পেয়ে দেয়ালের আড়ালে বেঁচে থাকা মানুষগুলাের কাছে ছুটে যেতে চায় অসংখ্য গল্প, কখনাে না তৈরি। হওয়া কোনাে সিম্ফনির মতাে... কাচবন্দি সিম্ফনি....
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
রকমারি_রিভিউ_প্রতিযোগ_আগস্ট_২০১৯ বইয়ের নাম: কাচবন্দি সিম্ফনি; লেখক: মাহরীন ফেরদৌস; প্রকাশক: পেন্সিল পাবলিকেশনস; ধরন: সমকালীন গল্প সাহিত্যের সকল মাধ্যমের মাঝে কবিতাকে যদি প্রাচীন এবং কঠিনতম মাধ্যম ধরা হয়ে থাকে, তাহলে তার পরপরই ছোটগল্প স্থান পাবে। ছোটগল্প যুগে যুগে সময়ের সাথে ক্রমশই হচ্ছে আধুনিক এবং একইসাথে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। সব ছোটগল্পকে তাই গল্প বলা গেলেও সব গল্পমাত্রই হয়ত ছোটগল্প না। জীবনের নানা অনুভূতি, ঘটনা-দূর্ঘটনা ও অসঙ্গায়িত আখ্যানকে নতুন রূপে উপস্থাপনকে ছোটগল্প বলা যেতে পারে। আবার অল্প কথায় অধিক ভাব প্রকাশকেও ছোটগল্প বলা যেতে পারে। এরসাথে ‘শেষ হইয়াও হইল না শেষ’ অনুভূতিটুকুকেও বলা যায় গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যা উল্লেখ না করেও অনেক কিছুই বলে দিয়ে যায়। সে কারণেই ছোটগল্পের আবেদন অন্যরকম। আজ এমন একটি বই নিয়ে বলছি যে বইয়ের লেখকের নাম মনে করিয়ে দেয় তার পূর্বের বইগুলোর কথা। যে বইয়ের শব্দের সাথে আমার চমৎকার কিছু সময় কেটেছে। গল্পের শেষে এসে পুরো গল্পটাই পাঠকের হাতে তুলে দিয়ে তাদেরকে নিজের মত একটি কল্পনার রাজ্য তৈরি করার যে অবাধ স্বাধীনতার সাথে কথা সাহিত্যিক এবং গল্পকার মাহরীন ফেরদৌস আমাকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন, সেই লেখনীর সূত্র ধরেও লেখাটা শুরু করা যায়। কোথা থেকে শুরু করি? আচ্ছা, বাহুল্য বাদ দিয়ে সরাসরি বরং কাচবন্দি সিম্ফনির কাছে চলে যাওয়া যায়। বইটি নিয়েই আজ কথা হোক। বইটি হাতে নিয়েই এর চমৎকার প্রচ্ছদের পর যে বিষয়টি সবার আগে চোখে পড়ে, তা হচ্ছে সূচিপত্রকে তিন অধ্যায়ে ভাগ করা। যা বইটির প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়। হারাও: বইয়ের প্রথম অধ্যায় ‘হারাও’। আমিও হারানোর পণ নিয়েই গল্পের পাশে আর শব্দের সাথে হাঁটতে শুরু করেছিলাম। শব্দ কী আমাকে হারাতে সাহায্য করেছিলো বাক্যের পথ বেয়ে? তা না হলে নিজের তৈরি করা একটা জগতের মাঝে দিন কাটানো গল্পের ‘আমি’ কিংবা গল্পকথক ছেলেটি এবং অনেক দূরে কোথাও চলে যাওয়ার কথা ছিল যে কোঁকড়া চুলের প্রজ্ঞা, তাদের সাথে সাথে আমিও কেন স্পাইডার লিলির মৃদুমন্দ ঘ্রাণ পাবো? অথবা সেই লাল দেয়ালের সবুজ মানিপ্ল্যান্টে ছেয়ে থাকা জীর্ণ বাড়ি, তাকেই বা কেন দেখতে পাবো ছবির মত? আমি কি গল্পের কেউ? নাকি গল্প আমাকে ততক্ষণে বন্দী করে ফেলেছে? সেই বাড়িটার ছাদ, কয়েক বছর পরে সেই ছাদে বাসাবাঁধা একটা খেয়ালি বিকেল…. আচ্ছা, সেই বিকেলের গল্পটা কেমন হবে? সূর্যের কমলা রঙের আলো কি সেই বিকেলে আনন্দের গল্প লিখবে? নাকি বিমর্ষতায় ডুবে যাওয়া এক বিকেল হয়ে রইবে? গল্পটা শেষ করে বাইরে বের হওয়ার তাড়া ছিল, কিন্তু আমি বসে রইলাম। কিংবা কে জানে, ঐ বাড়িটার সামনেই হয়তো দাঁড়িয়ে রইলাম তখন। কোন এক বিকেলে এখানে যে গল্প বুনবে সময়, তার অপেক্ষায় হয়তো! অথচ সত্যিই আমার তাড়া ছিল। কিন্তু আমিই কি জানতাম, অনেক আগেই আমি নিজেকে হারিয়ে বসে আছি কাচবন্দি সিম্ফনির ‘হারাও’ অধ্যায়ের ‘নিঝুম বিদায়বেলা’ গল্পের শব্দের কাছে? ডুব: সেই সন্ধ্যায় আসলে আমার কোন কাজ ছিল না। ঘরে ফেরার তাড়া বা ব্যস্ততাও না। কিন্তু গল্পের ‘আমি’র তাড়া ছিল। ফেরার তাড়া। ব্যস্ততাহীন সেই সন্ধ্যায় কাচবন্দি সিম্ফনির শব্দের পুকুরে ডুব দিতে নেমে কখন যেন বইয়ের পাতায় ভাসতে ভাসতে একতলা এক বাড়ির সামনে এসে দাঁড়াই। বাড়ির দু’পাশের দেয়ালে শ্যাওলার পুরু আস্তরণ। মরচে পড়া টিনের চালের একটা অংশ হেলে পড়ে আছে। এই বাড়িতে কারো থাকার কথা নয়। তবু যেন কেউ থাকে। আমি যেন একটা পরিবারকে দেখি। পরিবারের ছোট ছেলেটাকে দেখি। দেয়াল ধরে হাঁটতে হাঁটতে বড় হতে দেখি। বয়স বাড়তে দেখি। বাড়িটারও বয়স বাড়ে। তারপর একদিন….নাহ! আর কিছু দেখতে পাই না! শূন্যতা কেমন শ্যাওলার মত ছেয়ে থাকে চারপাশ। বড়িটা কি দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে? দীর্ঘ দীর্ঘশ্বাস? এরপর কোন একদিন বড় হয়ে যাওয়া সেই ছোট ছেলেটাকে ফিরতে দেখি। এখন সে ক্লান্ত হতে জানে। জীবন যাপনের জটিলতায়, হিসেবের খাতায় অভিমান জমাতে জানে। কিন্তু বাকিরা কোথায়? ছেলেটাকে ফিরতে দেখে হয়তো ধুলোর মত শূন্যতাকে ঝেড়ে ফেললো বাড়িটা, কিন্তু সবটুকু কি আর ঝেড়ে ফেলা যায়? আর, সত্যিকার অর্থেই কি আমাদের ফেরা হয়? আমরা কী ফেরার মত করে ফিরতে পারি? গল্পের নাম ‘বিষাদের ডাকনাম’। ডুব অধ্যায়ের এই গল্পটা শেষ হতেই আমি এক ধরণের আকুলতা বোধ করি। একটি বাড়ির কাছে ফেরার আকুলতা। যে বাড়ির দেয়ালে দেয়ালে এখনো আমার শৈশবের গল্প আছে, যে বাড়ির বাতাসে এখনো আমার শৈশবের ঘ্রাণ আছে। আর আমার পরিচিত সেই মানুষদের জন্য আকুলতা, যারা এখন অতীত হয়েছে। বিদায়বেলা: গল্পের নাম ‘চৈতালি সন্ধ্যায় সামরিন ও আমি’। বিদায়বেলা অধ্যায়ের এই গল্পটা নিয়ে যখন বসি তখন বেশ রাত। কিন্তু গল্পের শুরু এক সকাল থেকে। গল্পের ‘আমি’র নাম অনিক। যে এক শীতের সকালে জানতে পারে গত রাতে তার পাশে যে ঘুমিয়েছিলো, সে সামরিন আসলে রাতে বাসায় ছিল না। তার স্ত্রী সামরিন, গত রাতে তার বান্ধবীর বাসায় ছিলো৷ কী অদ্ভুত! তাহলে যে এই বিছানায় ঘুমালো, সে কে ছিল? চিন্তায় ছেদ পড়ে যখন কলিংবেল বাজিয়ে আবার সামরিনই ঘরে ঢোকে। অনিক আশায় থাকে তার স্ত্রী তাকে বলবে, রাতে সে বাসায়ই ছিলো। সকালে হয়তো কোন প্রয়োজনে বাইরে গিয়েছিলো। কিন্তু সে এমন কিছু বলে না। অনিকের চিন্তা বাড়ে। সেই চিন্তা বইয়ের পাতা ছেড়ে গুটি গুটি পায়ে কখন যেন আমার ভেতরেও বিস্তৃত হয়। মধ্যরাতে দেয়াল ধরে হেঁটে বেড়ানো কোন টিকিটিকি ডেকে যায় টিক টিক টিক। সময় বয়ে যায়। আর সময়ের সাথে বিভাজিত হতে থাকে সামরিন। সামরিন এক, সামরিন দুই, সামরিন তিন… তবে কি আসল সামরিন বলে কেউ নেই? ছিল না কখনো? অনিক উত্তর খোঁজে। ভুল হলো একটু। শুধু অনিক নয়, আমিও তার সাথে উত্তর খুঁজে চলি। সামরিনকে খুঁজে চলি… আমার মস্তিষ্কে অজস্র ঘুণপোকা শব্দ করতে থাকে গল্পের সাথে সাথে। হারাও, ডুব, বিদায় বেলা, এই তিন অধ্যায় মিলিয়ে সর্বমোট ১০টি গল্প আছে কাচবন্দি সিম্ফনিতে। আমি এখানে মাত্র ৩টি গল্প নিয়ে লিখলাম। এই বইয়ের সব থেকে শক্তিশালী গল্প মনে হয়েছে ‘উপহার’ গল্পটিকে। খুব ভিন্নরকমের গল্প, কিন্তু এত বেশি চিন্তার খোরাক জাগায়! আর এতসব চমৎকার বুননের গল্পের মাঝে ‘হেমন্ত’ গল্পটি নিয়ে আমার একটু অতৃপ্তি রয়ে গেছে। এই গল্পটি নিয়ে গল্পকার চাইলে আরও কাজ করতে পারতেন। এছাড়া প্রতিটি গল্পই আসলে আমাকে মুগ্ধ করেছে। লেখকের সব থেকে বড় সফলতা তিনি শব্দে শব্দে ছবি আঁকতে পেরেছেন। শব্দের সাথে সাথে আমি যেন পরিস্কারভাবে সব চরিত্রকে দেখতে পাচ্ছিলাম। তাদের জীবন যাপন, তাদের আনন্দ, বিষাদ, যাপিত জীবনের জটিলতা… ছবির মত ভেসে উঠছিলো একের পর এক! আর হ্যাঁ, ঠিক পূর্বের মতই গল্পের শেষে এসে তিনি গল্পগুলো পাঠকের হাতে তুলে দিয়েছেন। পাঠককে দিয়েছেন কল্পনার রাজ্য তৈরির অবাধ স্বাধীনতা। বইটি সম্পর্কে লেখক বলেন, ‘বন্ধ জানালায় বাধা পেয়ে দেয়ালের আড়ালে বেঁচে থাকা মানুষগুলোর কাছে ছুটে যেতে চায় অসংখ্য গল্প, কখনো না তৈরি হওয়া কোনো সিম্ফনির মতো… ’। ‘কাচবন্দি সিম্ফনি’ পড়তে গিয়ে আক্ষরিক অর্থেই গল্পগুলো ছুটে এসেছে আমার কাছে। আমি হারিয়েছি, কখনো ডুবে গিয়েছি শব্দের মাঝে আর বিদায় বেলায় এসে মনে হয়েছে, লেখক আরো কিছু গল্প রাখলেই পারতেন! আরো কিছুটা সময় না হয় মুগ্ধতায় কাটতো! এভাবেই শব্দের বুননে আমাদের মুগ্ধ করে রাখুন মাহরীন ফেরদৌস। আপনার চোখ দিয়ে আমাদের প্রবেশ করান অজস্র গল্পজগতে। আমার মতো অনেকেই সেই অপেক্ষায় আছে। আরও থাকবে। আর চমৎকার কিছু সময় উপহার দেয়ার জন্য রইলো ভালোবাসা। কাচবন্দি সিম্ফনির আশ্চর্য্য সুরে মুগ্ধ হোক প্রতিটি পাঠক।
মেলোম্যানিয়াকদের শহরে সাড়া পড়ে গেছে। কারণটা একটু অদ্ভুত। নতুন একটা সুরে বাঁধা পড়ছে শহরবাসী। নাগরিক জীবন উঁচুতলার কাঁচঘেরা দেয়ালে মোড়ানো হয়। সেই কাঁচের দেয়ালে আটকে থাকা মানুষগুলোর থাকে একটা করে গল্প। সবার গল্পগুলো মিলেমিশে একটা গান হতে পারতো। আর সেই গানগল্পের যদি নাম দিতে হয়, নামটা হবে ‘কাচবন্দি সিম্ফনি’। কেন? এই প্রশ্নের উত্তরটা দেয়ার একটা ছোট্ট চেষ্টা করছি। কোএভাল (coeval) ঘরানার লেখক মাহরীন ফেরদৌসের নতুন বই ‘কাচবন্দি সিম্ফনি’। বই হাতে নিলে প্রথমে একটু থমকে যেতে হয় প্রচ্ছদ দেখে। সাদা রঙের দেয়াল ভেদ করে লাল-কমলা জারবারা আর নীল জারুলের মতো রঙগুলোর পাশে স্তব্ধ কিছু মানব মুখাবয়ব দেখা যায়। একটানা কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলে তাদের আকুতি দেখা যেতে পারে, সেই আকুতি সাথে নিয়েই যেন বইটির সাম্রাজ্যে আমরা প্রবেশ করি। বইয়ের প্রথমটায় মখমলের মতো সবুজ রং বইটিতে এক রাজসিক সৌন্দর্য নিয়ে এসেছে। যেন বইটি একটি সবুজ দীঘি আর তার অতলান্তিতে হারিয়ে শ্রান্ত মনকে শান্ত করবার জন্যই এই চেষ্টা। শুরুতেই উইলিয়াম বার্কলের বিখ্যাত উক্তিটি পড়ার পর মনে 'আহারে আহারে' ডাক ডেকে যায়। আর সেই হাহাকার নিয়ে আমরা গল্পের ক্রমতে চলে যাই। ‘কাচবন্দি সিম্ফনি’ একটি গল্প সংকলন। গল্পগুলোকে লেখক তিনটি ভাগে ভাগ করেছেন। হারাও, ডুব এবং বিদায়বেলা। জীবনের এই বন্ধুর চলার পথে অসংখ্যবার আমাদের মনে হয় যেন হারিয়ে যাই, আর কেউ বিষাদমনে আমাদের খুঁজে ফিরুক, তাই না ? ‘কাচবন্দি সিম্ফনি’র ‘হারাও’ অংশটি আমার কাছে ঠিক তেমনই মনে হয়েছে । ‘নিঝুম বিদায়বেলা’ গল্পটির প্রজ্ঞা মেয়েটিকে মনে হয় আমাদের পাশের বাসার, যার জীবনের গল্পটি খুব পরিচিত, যার স্বপ্ন আকাশ ছুঁতে চাওয়ার আর তারপর আমরা দেখতে পাই তার ডানা ভাঙ্গার কষ্ট। উচ্চতাভীতিতে ভোগা গল্পের প্রোটাগনিস্ট ছেলেটির কল্পনা আর বাস্তবতার মিশেলে প্রজ্ঞার পরিণতি আমাদের চোখে ধরা দেয়। প্রজ্ঞার জন্য আমাদের বুকের ভেতর একটা শূন্যতা তৈরি হয়। তার জন্য আমাদের প্রার্থনা করতে ইচ্ছে হয়। এই ইচ্ছে তৈরি করে দেয়ার জন্য লেখককে ধন্যবাদ। ‘চিরকুট’ গল্পটি আমার বেশ হালকা মনে হয়েছে, যেমন গল্প পড়লে যে কোন মিলেনিয়ালের মনে হতে পারে আরে! এতো আমার ছেলেবেলার কথা। গল্পটি পড়ার পর ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি ফুটে ওঠে মনের অজান্তেই। ‘হয়তো নয়নতারা জানে’ গল্পটি আমাকে নাড়িয়ে দিয়ে গেছে ক্ষণে ক্ষণে। গল্পে বাবা চরিত্রটি নয়নতারা নামক গৃহকর্মীর শরীর থেকে মাছের গন্ধ পান আর তার বখে যাওয়া ছেলে সেই শরীরে নাক ডুবিয়ে বুঁদ হবার প্রবল আকাঙ্খায় পুড়তে থাকে। গল্পের প্রতি পাতায় একেকবার রেগে যাচ্ছিলাম। ভাবছিলাম দোষ কাকে দেবো? শরীরী ঘ্রাণে অভিজ্ঞ বাবা নাকি তার বখে যাওয়া ছেলে কে? ছটফট করছিলাম নয়নতারার পরিণতি কী হবে তাই ভেবে। এইটুক বলতে পারি, শেষ পর্যন্ত ধরে রাখার আশ্চর্য এক ক্ষমতা লেখকের আছে । বই এর দ্বিতীয়ার্ধের নাম ‘ডুব’। মোট চারটি গল্প আছে এই অংশে। প্রথম গল্পের নাম ‘হেমন্ত’ । হেমন্ত ঋতুটি বছরের প্রায় সায়াহ্ণে আসে। বিদায় বেলার আগে শেষ ঝলক আলোর মতো। কোমল কিন্তু উজ্জ্বল। মোমেনা আখতার অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষিকা। তার প্রবাসী কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার ছেলে একটা রোবটের প্রোটোটাইপকে পরীক্ষামূলকভাবে মায়ের একাকীত্বের সঙ্গী হিসেবে বাসায় পাঠিয়ে দেয়। সাহিত্যমনা মোমেনা নিজের পড়ন্ত সময়ের কথা ভেবেই হয়তো মিলিয়ে রোবটের নাম রাখেন ‘হেমন্ত’। এই পর্যায়ে গল্পটিকে সায়েন্স ফিকশন মনে হতে পারে কিন্তু গল্প শেষে একজন মাঝবয়সী নারীর বোধ, একাকীত্ব, কষ্টের সাথে মিলিয়ে গল্পটি অনেক বেশি মানবিক হয়ে ওঠে। আরেকবার মন হয় বাষ্পময়। ‘মেরিনার মেঘমালা’ মূলত একটি দুঃস্বপ্নের গল্প। কেমন লাগবে যদি অন্য কারোও দুঃস্বপ্নে আমরা আটকে পড়ি? গল্পটি পড়তে পড়তে তাই ভাবনা জাগে, আহ জীবন! ‘মহুয়ার গুঞ্জরণে’ গল্পটি পড়ার পর কিছুক্ষণ স্তব্ধতায় চারপাশ থেমে থাকে। জীবন সুন্দর আর তা মনে না রেখে পারিপার্শ্বিক জটিলতায় হারিয়ে যাওয়ার যে কদর্য রূপ তা আমাদের ভাবায়। গল্পটিতে চমৎকার কিছু উক্তি ব্যবহার করা হয়েছে আর লেখকের কাব্যিক অলংকরণে হয়েছি মুগ্ধ। ‘বিষাদের ডাকনাম’ কলেবরে ছোট বলেই হয়তো মনে হয়েছে ঠিক মন ভরে ওঠেনি। এ একান্তই আমার অভিমত। বলতে বলতে গল্পের শেষার্ধে চলে এসেছি। শেষ ব্যাপারটার সাথে মিল রেখেই যেন এর নামকরণ করা হয়েছে ‘বিদায়বেলা’। ‘চৈতালি সন্ধ্যায় সামরিন ও আমি’ গল্পটির সাথে একজন খুব জনপ্রিয় লেখকের ‘দ্বিতীয়জন’ গল্পটির কিছুটা মিল রয়েছে। তবে আশার কথা হলো, এই মিলটুকু ছাপিয়ে অচিরেই গল্পটি নিজস্ব ভঙ্গিতে চলে গিয়েছে বহুদূর। গল্পের গাঁথুনি ছিল খুবই সুন্দর। এই ফাঁকে বলে রাখি, কল্পনা থেকে স্বত্তার সৃষ্টি নিয়ে ‘রুবি স্পার্কস’ নামের চমৎকার একটি ইংরেজি চলচ্চিত্রও আছে। চাইলে প্রিয় পাঠক দেখে নিতে পারেন। ‘ফেলে আসা সুগন্ধি’ আরেকটি কন্টেম্পোরারি ঘরানার গল্প। ব্যস্ত নাগরিক জীবন, স্মৃতির টানা-পোড়েন, দায়িত্ববোধ আর মনের গলি-ঘুপচিতে আটকে পড়া এই নিয়েই কাহিনি এগোয়। এমন গল্পগুলো আমাদের কাতর করে। মনে হতে থাকে জীবন আরেকটু সহজ, সরলরেখার মতো হলে খুব কি ক্ষতি হতো? গল্পের একদম শেষ সংযোজনের নাম ‘উপহার’। উপহারে কী আছে তা পাঠককুলের জন্য বরং ভিন্ন রকমের উপহার বা চমক হিসেবে থাকুক! তবে তা পড়ে শেষ করার পর পাঠক যে অকস্মাৎ ঝটকার শিকার হতে পারে তার দায়ভার সম্পূর্ণই লেখকের। নির্ঝর নৈঃশব্দ্যের ঝকঝকে প্রচ্ছদ বরাবরের মতোই নান্দনিক হয়েছে। তবে অসম্ভব ভালোলাগা কাজ করেছে প্রতি গল্পের আগে থাকা ফাইজা ইসলামের করা চমৎকার অলংকরণ দেখে। যা বইটিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। বইটির পাতাগুলো সুন্দর, বাইন্ডিং দারুণ! জানা মতে ‘পেন্সিল পাবলিকেশনস’ এবারের মেলা দিয়েই তাদের প্রকাশনা যাত্রা শুরু করেছে। তবে বইয়ের মানা, উপস্থাপন দেখলে তা কেউ বলবে না। বরং প্রথম শ্রেণীর প্রকাশনীর কাজের মতো মান সম্মত হয়েছে। বইটির আরেকটা ব্যাপার আমার খুব ভালো লেগেছে তা হলো ছোট্ট গল্প সংকলন হলেও বইটিতে একটি বুকমার্ক সংযোজন করা হয়েছে। সাধারণত খুব ভারী উপন্যাস না হলে বই্য়ে বুকমার্ক থাকে না। পেন্সিল পাবলিকেশন্স থেকে আসা ‘কাচবন্দি সিম্ফনি’ বইটি অনলাইনে রকমারিতে পাওয়া যাচ্ছে। মুদ্রিত মূল্য ২০০ টাকা।























