

Buy কাচের চুড়ি Online in Bangladesh
লেখক: সালমা সুলতানা
- Author: সালমা সুলতানা
- Publisher: চলন্তিকা
- Isbn: 978-984-97185-4-3
- Number Of Pages: 102
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Edition 2023
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
ডাকে কান্নায়ও এখন যে আর মন বসছে না! তবে কি কান আমার ভুল শুনেছে? না, নিশ্চয়ই ভাইয়া এসেছে! এমন করে ভাইয়া ছাড়া আর কে ডাকবে আমাকে! এতদিন পর ও এসেছে, আজ তো আমার ঈদের দিনের মতো খুশি হওয়ার কথা। অথচ ওর কাছে ছুটে যাবার প্রবল ইচ্ছাকে সংবরণ করতে হচ্ছিল, ওর কাছেই কান্না লুকাতে। যখন নিশ্চিত হলাম ভাইয়া এসেছে, কান্নাগুলো তখন আরো জোরালো হয়ে একসাথে হুড়মুড় করে বের হয়ে আসতে লাগল। সবার ধারণা ছিল, ও চলে গেলে আমি খুব খুশি হব। কারণ, দুজনের মধ্যে সারাক্ষণ খুনসুটি লেগেই থাকত। অথচ ওর অনুপস্থিতি আমাকে আরো বেশি অভিমানী আর মেজাজি করে তুলেছিল। সকাল-সন্ধ্যা দুজন আষ্টেপৃষ্ঠে লেগে থ াকতাম। ঝগড়া লাগত, কখনো মারামারির পর্যায়েও চলে যেত। একজনের বিরুদ্ধে আরেকজনের তুমুল অভিযোগ, তারপরও দুজনকে ছাড়া দুজনের চলত না। ভাইয়া খুব ছোটবেলা থেকেই ভীষণ ডানপিটে, অস্থির, পড়াশোনায় ফাঁকিবাজ।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

#কাচের_চুড়ি ❝এই তো জীবন! চাওয়া আর পাওয়ার মাঝে কিছুটা ফারাক রেখেই ফুরায় বেলা। আর তা আছে বলেই আমরা জীবনের রঙ বুঝতে পারি।❞ ছোটোগল্প পড়তে বরাবরই বেশ ভালো লাগে। সম্প্রতি পড়ে শেষ করলাম লেখক সালমা সুলতানার লেখা ‘কাচের চুড়ি ’ গল্পগ্রন্থটি। বইটিতে বিভিন্ন জনরার ৯ টি ছোটোগল্প রয়েছে। নীচে কয়েকটি গল্প নিয়ে আলোচনা করছি: ♦️কাচের চুড়ি: দুই ভাই-বোনের চমৎকার বন্ধনের গল্প ‘কাচের চুড়ি ’। সুজানার সারাদিন কাটে ভাই সাজিদের সাথে ঝগড়া, খুনসুটি, দুষ্টুমি করে। পড়ালেখার জন্য সাজিদকে মামার কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এরপর.... ♦️কুমারী মাতা: এক কুমারীর মা হয়ে উঠার কাহিনী নিয়ে ‘কুমারী মাতা’ গল্পটি রচিত হয়েছে। সমাজ, পরিবার এই কুমারী মাতার সাথে ছিল কিনা জানতে হলে গল্পটি পড়তে হবে। ♦️ঘর বান্ধিমু: আমিনার কোনো ঘর-বাড়ি নেই। অসুস্থ মা আর ভাইকে নিয়েই তার জীবন কাটে। রমনা পার্ক থেকে কুড়িয়ে পাওয়া ফুলের মালা গেঁথে বিক্রি করে আমিনা। আমিনার স্বপ্ন নিজেদের একটা ঘর হবে। তার স্বপ্নটা কী পূরণ হয়েছিল? ♦️মিতির সংসার: অল্প বয়সে বৈধব্য বরণ করে নেয় প্রাণোচ্ছল মিতি। বাবার বাড়িতে ঠায় হয় মিতির। সবসময়ের চঞ্চল, হাসি-খুশি মেয়েটি বর্তমানে পাথরের মূর্তির মতো নিশ্চুপ হয়ে গেছে। মিতি কী জীবনে আর স্বাভাবিক হতে পারবে না? ♦️সুনীতকে ভালোবাসতাম আমি: নীতু আর সুনীত দুইজন সম্পর্কে চাচাতো ভাই-বোন। একসাথে হেসে খেলে তারা বড় হয়ে উঠেছে। নীতু একসময় ভালোবেসে ফেলে সুনীতকে। তাদের ভালোবাসা কী পূর্ণতা পায়? লেখক সমাজের বিভিন্ন দিক গল্পগুলোর মধ্যে তুলে ধরেছেন। রোমান্টিক জনরার ছোটোগল্পগুলো দারুণ ছিল। এছাড়া, লেখকের বর্ণনাশৈলী ও লেখনশৈলী চমৎকার। গল্পগুলো পড়ার সময় একটুও একঘেয়ে লাগেনি। একবসাতে গল্পগুলো পড়ে ফেলা যায়। বইয়ের কোয়ালিটি, বাইন্ডিংও বেশ ভালো। বানান ভুল তেমন নজরে আসেনি। বইয়ের প্রচ্ছদটি অসাধারণ। বইয়ের প্রথম গল্পের নামে, বইটির নামকরণ করা হয়েছে। প্রচ্ছদটিও বইয়ের নামের সাথে একদম মিলেছে। তবে, বইয়ে ‘ঝরা পাতা’ গল্পের পরে অন্য গল্পের কয়েকটি পাতা ভুলবশত প্রিন্ট হয়েছে। এই ভুলটি ছাড়া, বইয়ে আর তেমন কোনো ভুল নেই। এই প্রথম লেখক সালমা সুলতানার লেখা বই পড়েছি। বইটি আমার কাছে দারুণ লেগেছে। আমি মনে করি, ছোটোগল্প প্রেমীদের বইটি অবশ্যই ভালো লাগবে। ♦️প্রিয় লাইন: • এটা করলে ভালো হতো, ওটা করলে মন্দ হতো না, এমন সব ভাবনা আসলে জীবনের জন্য অমূলক। জীবনের অলিগলি সব সময়ই অচেনা, অজানা। বুকে ছোট-বড় ঢেউ নিয়ে জীবন নদী বয়ে চলে নিরন্তর। সে ঢেউ কাউকে ভাঙে, কাউকে গড়ে, কাউকে শূন্য করে, কাউকে পূর্ণ করে। • চারদিকে এত জল, সুপেয় জল কই! এত আলো সবদিকে আলো কই! এত মানুষ চারপাশে মন বোঝবার মানুষ কই। • জীবনের ছোট ছোট ঢেউ এভাবে আমাদেরও দূরে সরিয়ে দেয় কাছের মানুষগুলো থেকে। ♦️বই পরিচিতি: বই: কাচের চুড়ি লেখক: সালমা সুলতানা প্রকাশনী: চলন্তিকা প্রকাশকাল: জানুয়ারি ২০২৩ প্রচ্ছদ: সাদিত উজ জামান ধরন: গল্পগ্রন্থ মুদ্রিত মূল্য: ৩০০ টাকা পৃষ্ঠা সংখ্যা:১০২
#কাচের_চুড়ি "মন ভার করা, বুকভাঙ্গা কথাগুলো, কার অভিমান যেন ছুঁয়ে গেল , কে যেন চলে গিয়ে, বড় বেশি থেকে গেল, 'চলমান' কথাটা, কাঁটার মতো বিঁধে গেল। " এমনই চলমান সমসায়িক কিছু ছোটোগল্প নিয়ে রচিত পাঠকপ্রিয় লেখক সালমা সুলতানা'র নতুন একক গল্পগ্রন্থ "কাচের চুড়ি"। এটি লেখকের সপ্তম একক বই এবং চতুর্থ গল্পগ্রন্থ। ৯টি চমৎকার এবং বাস্তবধর্মী কাহিনি নিয়ে বইটি রচিত। ★ পাঠ প্রতিক্রিয়া : সাধারণত গল্পগ্রন্থ পড়ার সময় আমি দ্বিধা নিয়ে শুরু করি। আমার মনে সংশয় থাকে এই বইটি উপন্যাসের মতো টানবে তো? সব গল্প আবার একইরকম না হয়ে যায়। বইটি মনমতো হবে তো? এই বইটি পড়ার সময়ও একই অনুভূতি হয়েছিল শুরুতে। কিন্তু বইটির যত গভীরে গিয়েছি ততটাই আমার সংশয় কেটে গেছে। বইয়ের ৯টি গল্পই পাঠক হিসেবে আমাকে ভিন্ন ভিন্ন স্বাদ দিয়েছে। কোন গল্পে সংসার চিত্র, কোনটায় মায়ের মমতা,কোনটাতে বন্ধুত্ব আবার কোনটায় বিচ্ছেদের সুর ফুটে উঠেছে। কিন্তু প্রতিটা গল্পে যে জিনিস কমন ছিলো তা হলো, একটা সার্থক ছোটগল্পের গুণাবলী। প্রতিটা গল্প শেষ করার পরই পাঠকমনে প্রবল আকুতি জাগে আর একটু বেশি জানার। বইয়ের বেশ কিছু গল্প নিয়ে একটু বিস্তারিত আলোচনা করি তবে, ★কাচের চুড়ি : "এটা করলে ভালো হতো, ওটা করলে মন্দ হতো, এমন সব ভাবনা আসলে জীবনের জন্য অমূলক।জীবনের অলিগলি সবসময়ই অচেনা-অজানা। বুকে ছোট-বড় ঢেউ নিয়ে জীবন নদী বয়ে চলে নিরন্তর। সে ঢেউ কাউকে ভাঙ্গে, কাউকে গড়ে, কাউকে শূন্য করে, কাউকে পূর্ণ করে। " সাজিদ আর সুজানা দুই ভাই বোনের ভালোবাসা, খুনসুটি আর বিচ্ছেদের কাহিনি হলো কাচের চুড়ি গল্পের সারমর্ম। ★কুমারি মাতা : "মুখ ও মুখোশের দুনিয়ায় কাউকে বেহিসাবি ভালোবাসায় হয়তো আমার দোষ ছিল।সে দোষ আমি মেনে নিয়েছি নির্দ্বিধায়, নিঃসংকোচে আমি সমাজ ছেড়েছি, পরিবার ছেড়েছি, আমার ভুল ভালোবাসা সত্য ফুলকে সঙ্গী করে। একটা লাল বেনারসীতে জড়ালেই কি ভালোবাসা মহিমান্বিত হয় কিংবা তার বীজ প্রোথিত হয় গভীর থেকে গভীরে শেকড় ছড়াবে বলে। " সমাজ থেকে নিগৃহীত মাধবী একজন কুমারী মাতা। সে কি পারবে এই সমাজের বিরুদ্ধে গিয়ে তার ভালোবাসার ফুলকে আগলে রাখতে? ★ঘর বান্ধিমু : "আকাশের নিচে যখন যেখানে জায়গা পায় সেখানেই আমিনাদের ঘর।পুরো আকাশটাই তাদের ঘরের চাল।" সমাজের সুবিধাবঞ্চিত এক পথশিশুর করুন জীবনের কাহিনী নিয়ে গল্পটি রচিত হয়েছে । আমিনাদের ঘরবাধাঁর স্বপ্নটাকি পূরণ হয়েছিল শেষ পর্যন্ত? "কোথায় হারালো আমিনা! তবে কি আরেক ভুবনে ঘর বাঁধলো সে।যেখান থেকে কেউ আর ফিরে না ফিরতে পারে না। থেকে থেকে মনে পড়ছে আমিনার সেই ছোট্ট কথাটা ঘর বান্ধিমু।" ★মায়ের শাড়ি : "মেয়েরা বড় বেশি আড়াল করতে জানে নিজের একান্ত যন্ত্রণার গল্প। মেলে ধরতে পারে হাসির আড়ে সব বেদনাহত সুখ। " এমনই একটি নারী ও মায়ের জীবনের পাওয়া না পাওয়ার গল্প তার ছেলের ভাষায় বর্ননা করেছেন লেখক এই গল্পে। ★মিতির সংসার : "ভালোবাসা, মায়া এক অদ্ভুত আত্মিক অনুভূতি আর ভালোবাসার এক অনিন্দ্য সুন্দর রূপ হচ্ছে অধিকার। খুব যত্ন পেলে রন্ধে রন্ধে প্রবাহিত হয় সেই অধিকারের ধারা। " নিলয় কি পারবে সেই অধিকারের জোড়ে মিতির জীবনে আবার সব রঙ ফিরিয়ে দিতে? মিতির সংসার করার স্বপ্ন কি পূরণ হবে? ★সুনীতকে ভালোবাসতাম আমি : "যে পথের শেষ নেই সে পথে না এগোনোই ভালো। যে কথার পরিণতি নেই সে কথা বাড়িয়ে বা লাভ কী।" নীতু আর সুনীতের ভালোবাসার মাঝে শত শত ভুল ছিল নাকি তাদের ভালোবাসাটাই ভুল ছিল? বইয়ের একদম শেষ গল্পি পড়লে জানা যাবে। ★একজন পাঠকের জন্য এই বইয়ের সবগুলো গল্পই নিঃসন্দেহে সুখপাঠ্য। প্রিন্টং,বাঁধাই,শব্দ চয়ন, কাহিনি সবকিছুই ছিলো দারুণ। আর প্রচ্ছদটা ছিলো চোখে তৃপ্তি লাগার মতো। সবকিছু মিলিয়ে দারুণ উপভোগ করেছি।























