

Buy বীক্ষণ প্রান্ত Online in Bangladesh
লেখক: মাহফুজ সিদ্দিকী হিমালয় পাই
- Author: মাহফুজ সিদ্দিকী হিমালয় পাই
- Publisher: আদর্শ
- Isbn: 9789849469650
- Number Of Pages: 152
- Language: বাংলা
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
অনুসন্ধানে অরুচি তৈরি হলে ভিটামিন সি খেতে পারেন। ভিটামিন সি-তে অ্যালার্জি থাকলে নিঃশব্দে দেয়াল টপকে পুকুরে ডুবসাঁতার দিয়ে চিতল মাছ শিকার করলে কেউ আপত্তি তুলবে না; দিলাম প্রতিশ্রুতি! তবে মুশকিল হলো, পুকুরে কি আদৌ চিতলের চাষ হয়? প্রশ্ন করলে উত্তর আবিষ্কারে কয়েক বছর সময় ব্যয়িত হবে। আছে সেই সময়ের মজুত, নাকি যত্রতত্র খরচ করে ফুরিয়ে ফেলেছেন? আপনাকে ইমপ্রেস করতে কতগুলো দুপুর বিকেল হয়ে গেল, কতগুলো নির্দোষ টি-ব্যাগ আত্মাহুতি দিল, প্রিয়জন ফিরিয়ে নিল আস্থার নির্মেদ স্পর্শ; ইমপ্রেস তবু করতেই হবে? কিসের এত দায় বলুন তো! যদি না-ই জানেন, সামনে থেকে সরুন; মাথায় চড়ে হাঁটব… কী অনুসন্ধান করবেন না জানলে রুচি-অরুচির সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন কীভাবে?— এটা কিন্তু গুরুতর জিজ্ঞাসা। আপনাকে ৭০৯ বিঘা জমি উইল করেছেন একজন; নৈতিকতার স্বার্থে তার পরিচয় উহ্য রাখতে হচ্ছে। উইলটা পৌঁছে দিলাম, জমি খোঁজার খেয়াল কিংবা দায় একান্তই আপনার। আমি তো ডাকহরকরা মাত্র!
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
প্রেম-বিরহ-ভালবাসা, মধ্যবিত্তের জীবন সংগ্রাম, গ্রামীন-জীবনের স্নিগ্ধতা কিংবা শহুরে নাগরিক-জীবনের গতিময়তা, ইত্যাদি আমাদের সমকালীন সাহিত্যে ছোটগল্পের চিরায়ত প্লট। কিন্তু এই-সবকিছুর বাইরে বেরিয়ে একদম ভিন্ন ফ্লেভারে, বাস্তবতা-কল্পনা, ঘটনা-অঘটনার সম্ভাবনা আর ক্রিটিক্যাল থিংকিং-এর অদ্ভুত মিশেলে মাহফুজ সিদ্দিকী হিমালয় গড়ে তুলেছেন অনবদ্য কিছু ব্যতিক্রমী ছোটগল্প। কোনও ঘটনায় যা যা ঘটার সম্ভাবনা থাকে, সেইটুকু বাদ দিয়ে যতটুকু থাকে, মূলত ততটুকুই হচ্ছে তার গল্পের মূল প্লট। তার গল্পগুলো পাঠককে দেয় অনাবিল ভাবনার খোরাক, নিয়ে যায় চিন্তার ডুবসাঁতারে। . লেখক প্রত্যেকটা গল্পের ক্যানভাস হিসেবে ব্যবহার করেছেন আমাদের চিরচেনা চারপাশকেই। কিন্তু ব্যতিক্রমী আর বৈচিত্র্যময় রঙে সেই ক্যানভাস-ই হয়ে উঠেছে অনন্য। এই বইয়ে গল্প রয়েছে মোট দশটি। আকারে প্রত্যেকটিই মাঝারি ধরনের। বিষয়বস্তুর নিরিখে প্রায় সব-কয়টিই আকর্ষণীয়। ভালোলাগার ক্রমানুসারে বলতে গেলে যে-গল্পটি সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে, সেটি হচ্ছে "ঢ়-তত্ত্ব"; লেখক এখানে প্রশ্ন তোলেন, সভ্যতা যেমন সামনে এগিয়ে যায়, তেমনি কি পিছনে ফিরে আগের বিন্দুতে মিশে যেতে পারে? "কিন্তু"-তে লেখক পিঁপড়ার মনোজগতের তাৎপর্যপূর্ণ এক প্রশ্নের উপস্থাপন করেন। "বরফ বিম্ব" দেখায়, আদতে আমরা সারাজীবন ধরেই বিশেষ একটা খেলনা খুঁজি, সেটা পেয়ে গেলেই চলে যাই; কিন্তু কোথায় যাই, সেটাই হচ্ছে প্রশ্ন। "ধাঁধায় দ্বিধা" আরেকটি চমৎকার গল্প; লেখক কল্পনা করেন এমন এক রাষ্ট্রের, যেখানে সব অপরাধের সমাধান হবে ধাঁধার মধ্য দিয়েই। "অমূলদ ডট ডট ডট" এর মূল বার্তা ব্যতিক্রমী না হলেও, কাহিনী ও উপস্থাপনা চমৎকার; লেখকের প্রশ্ন, কাকের পেছনে আসলে কী? "গ্রে স্কেচ" লেখকের ব্যক্তিগত জীবনের প্রতারণার শিকার হওয়ার আক্ষেপপূর্ণ এক আখ্যান। "তৃতীয় বন্ধনী"-তে লেখক প্রশ্ন তুলেছেন, মানুষ কি চাইলেই তার গোষ্ঠীপ্রবণতাকে ছাপিয়ে যেতে পারে? "কর্মচারী যজ্ঞ" আমাদের ভাবায়, মহান মানুষেরা মহত্ত্ব থেকে আসলে কী পায়? "গল্প গবেষণা প্রকল্প" এ লেখক ছোটগল্পের নতুন কিছু কাঠামোর প্রস্তাব করেন, যেটা অনেকাংশেই উদ্ভট ঠেকেছে আমার কাছে। "গ্যাড ফ্লাই"-এ তেমন অভিনবত্ব নেই বললেই চলে, সাধারণ বিশ্বাস-অবিশ্বাস-ষড়যন্ত্রের গল্প। . বইয়ে লেখকের যে-বিষয়টি বিশেষভাবে মনোযোগ কাড়ে, সেটি হচ্ছে তার বর্ণনাশৈলী আর শব্দ-চয়নে অসামান্য দক্ষতা। কিছু কিছু জায়গায় লেখক তৈরি করছেন একদম নতুন, অভিনব, নিজস্ব কিছু শব্দ। তবে বর্ণনাশৈলী ও শব্দ-চয়ন দুটোই অসাধারণ হলেও, কিছু কিছু জায়গায় মনে হয়েছে লেখক অপ্রয়োজনীয় বাক্যের অতিব্যবহার করেছেন। এই দুয়েকটা জায়গার কথা বাদ দিলে, লেখকের বলার ভঙ্গি একেবারেই অনবদ্য। তাছাড়া, উল্লেখ করার মতো আরেকটা দিক হচ্ছে, প্রত্যেকটা গল্পের শেষে লেখক বলেছেন গল্প লেখার পূর্বপট, চিন্তা অক্ষরে রূপ নেওয়ার ইতিহাস। এইটুকু পাঠককে গল্প লেখাকালীন লেখকের মস্তিষ্কের কেমিস্ট্রিটুকু বুঝতে সাহায্য করে। . বইটি প্রকাশ করেছে আদর্শ। বইয়ের পৃষ্ঠার মান থেকে শুরু করে বাঁধাই, প্রচ্ছদ সব-কিছুই প্রশ্নাতীত প্রশংসার দাবিদার। বইয়ে বানান-সংক্রান্ত ভুলচুক চোখে পড়েনি কোনও। লেখক শব্দগঠনে কিছুটা স্বাধীন হলেও তাতে ভালোলাগা বৈ বিরক্তি আসে না। তাই সব মিলিয়ে দারুণ-ই বলা চলে। . বইটির বিষয়বস্তু যেহেতু চিরায়ত সাহিত্যের বিষয়ের সাথে সমরৈখিক নয়, তাই অনেকেরই হয়তো বিরক্তি আসতে পারে। এজন্য বলা ভালো- এই বইটা সবার ভালো লাগবে না। তবে ধীরে ধীরে লেখকের চিন্তা-ভাবনাগুলোকে নিজের মধ্যে আত্তীকরণ করে এগোতে পারলে, পাঠক মস্তিষ্কের কোটরে এক নতুন ধরনের দোলার টের পাবেন। সেই দোলা আপনাকে নিয়ে যাবে হিমালয়-এর চিন্তারাজ্যের বীক্ষণ প্রান্তে। বীক্ষণ প্রান্ত মাহফুজ সিদ্দিকী হিমালয়
আমরা খুব স্বাভাবিকভাবেই বই পড়ার কথা ভাবলেই বিখ্যাত লেখকদের বইয়ের কথা ভাবি। আমাদের কি ‘মাহফুজ সিদ্দিকী হিমালয়’ এর মত নতুন লেখকদের সুযোগ দেয়া উচিৎ নয়? লেখকের লেখা দশটি গল্প নিয়ে সাজানো হয়েছে ‘বীক্ষণ প্রান্ত’ । প্রথম গল্প ‘কিন্তু’।কিন্তু’ একটি কল্পনাশ্রিত,আধুনিক রূপকধর্মী গল্প।‘ষৎকো’ নামের এক পিঁপড়া এ গল্পের প্রধান চরিত্র।ষৎকোর বিপ্লবের গল্প নিয়েই বেড়ে উঠেছে ”কিন্তু” গল্পটি।স্বতন্ত্র পরিচয়ের উদ্দেশ্যে ষৎকো তার দল নিয়ে কলোনী ছেড়ে আচমকা একদিন বেরিয়ে পড়ে জাদুর জগতের খোঁজে। শেষ পর্যন্ত সে একাই ফড়িং হবার অনন্ত পথে উঠতে থাকে।এখানে লেখক পিপড়ের মাধ্যমেই মানুষের জীবনের বিভিন্ন দিকের প্রকাশে দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। দ্বিতীয় গল্প "ধাঁধায় দ্বিধা"।"ধাঁধাঁয় দ্বিধা" গল্পে লেখক মানুষকে শুদ্ধ করার এক অভিনব পন্থার কথা বলেছেন।সেজন্য পরিবর্তন দরকার সমাজব্যবস্থা, প্রশাসনব্যবস্থা আর শিক্ষাব্যবস্থার।এই গল্পে লেখক মূলত অসংখ্য ধাঁধাঁ সমাধানের মাধ্যমে নতুন, পরিপূর্ণ সমাজ এবং রাষ্ট্র নির্মাণের স্বপ্ন দেখেছেন।পুরো বিষয়ের ধারণাটি খুবই চমৎকার, গল্পের খাতিরে হলেও বাস্তবায়নের পথে দূরত্বটা খুব বেশি না। তৃতীয় গল্প ‘৩য় বন্ধনী’।শরিফুল রিংকিকে ভালোবেসে বিয়ে করতে চায়।সে তার বাবা জহুরুল আর মাকে রাজিও করায়। কিন্তু হঠাৎ করেই শরিফুলের বাবা জহুরুল বেঁকে বসেন।তিনি চান তার ছেলের বিয়েতে কোন স্বর্ণের আদানপ্রদান হবে না, কোন দেনমোহরের ব্যাপার থাকবে না।এর প্রধান কারণ শেষ বয়সে এসে নতুন আঙ্গিকে তার ব্যক্তিত্বের বিকাশ। ৪র্থ গল্প “অমূলদ ডট ডট ডট” শহরের রাস্তায় মৃত একটি কাকের পড়ে থাকার মাধ্যমে চমৎকার কাহিনী বিন্যাস নিয়ে শুরু হয়েছে। রথমে মোবাইলে এসএমএস, ই-মেইল, ফেস্টুন, দেয়াল লিখন এবং তারপর সারা শহরের পোষ্টারে “so, what is behind the Crow” লেখা কাকের ছবিযুক্ত একটি বিজ্ঞাপণ পুরো শহরে হইচই ফেলে দেয়। জোর তদন্তের পর বিজ্ঞাপণটির কর্ণধার “ল্যাম্বডা গ্রুপ”-এর এমডি’র বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর শুনানিতে বেরিয়ে আসে বিজ্ঞাপণটির পেছনের চমকপ্রদ উদ্দেশ্য। শিশু অধিকারে সচেতন এই গ্রুপটির পরবর্তী ব্যবসায়িক সাফল্য এবং সামাজিকভাবে উদ্দেশ্যটির প্রতিফলন দিয়ে গল্পের শেষ পাঠককে ভাবিয়ে তুলবে। ৫ম গল্প ‘গ্রে স্কেচ’ ।অনুবাদক হিসেবে তিনি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন মিলান কুন্ডেরার সঙ্গে। মিলান কুন্ডেরার উপন্যাস অনুবাদ করে গল্পের নায়ক যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন এবং পরিস্থিতির সম্মুখিন হয়েছেন তা সংঘাতের মূল কারণ। মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব ও প্রকাশনার সমূহ সংকট তাকে প্রতিশোধ প্রবণ হতে সহায়তা করেছে। একজন নতুন লেখক যেভাবে অবহেলা ও প্রতারণার শিকার হন তা এই গল্পে সহজে উঠে আসলেও সমাপ্তিটা চমৎকার- প্রতিশোধ নেয়ার কৌশলটা অভিনব। পরের গল্প ‘বরফবিম্ব’।লেখক এই গল্পে রওনক মিশকাত নামক একটি চরিত্রের মাধ্যম।মানুষ আসলে কীসের খোঁজে পৃথিবীতে এসেছে এমন প্রশ্ন ভাবায় পাঠককে! পরের গল্প ‘কর্মচারী যজ্ঞ’।মহৎ মানুষ অপরের মহত্মকেও সম্মানের চোখে দেখবে, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আজীবন মহৎ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া মানুষটার কি বিবেকবোধ লোপ পেতে পারে না? সে কি তার মহত্বকে ধরে রাখতে কখনো কখনো ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে না? এমনই এক কাহিনী নিয়ে এই গল্প। হাশেম এবং প্রান্তিক চাষী ময়নাল এ দুজনের পারিবারিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগায় ‘গ্যাড ফ্লাই’ । হাশেমের সামাজিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ ও শত্রুতা উদ্ধারের প্রচেষ্টা গল্পকে রাজনীতির পাঠে রূপান্তরিত করে। ভার্সিটি পড়ুয়া অনুপ ও হাশেমের সাক্ষাত যেন গ্রামীণ ও অভিজাত রাজনৈতিক চিন্তার মেলবন্ধন ও তুলনামূলক চিত্র। শেষটায় গ্যাট ফ্লাই হাশেমকে চট করে গরুর লেজ বানিয়ে পাঠককে চমকে দেয় লেখক। দিন দিন জনসংখ্যার ব্যাপক বৃদ্ধি এবং সাথে সাথে প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পদের ক্রমহ্রাসমান অবস্থায় একটি দেশের কি পরিস্থিতি হতে পারে তা রুপক অর্থে লেখক গল্পে তুলে ধরেছেন শেষ গল্প- “ঢ়-তত্ত্ব” গল্পে । তাই বলব পড়েই দেখুন না হয়তো নতুন লেখককে সুযোগ দিতে গিয়ে নিজেকেই সুযোগ দিলেন একঘেয়েমি কাটানোর ।। :)
লেখকের দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ বীক্ষনপ্রান্ত।প্রথম বইটি পরা হয়নি। বীক্ষনপ্রান্ত ও অনেক পরে পরা হল। ফ্ল্যাপে লেখা কথাগুলো পরে লেখকের লেখার সাথে পরিচিত হওয়ার ইচ্ছা জাগে। প্রথম গল্প ‘কিন্তু’।কিন্তু’ একটি কল্পনাশ্রিত,আধুনিক রূপকধর্মী গল্প।‘ষৎকো’ নামের এক পিঁপড়া এ গল্পের প্রধান চরিত্র।ষৎকোর বিপ্লবের গল্প নিয়েই বেড়ে উঠেছে ”কিন্তু” গল্পটি।স্বতন্ত্র পরিচয়ের উদ্দেশ্যে ষৎকো তার দল নিয়ে কলোনী ছেড়ে আচমকা একদিন বেরিয়ে পড়ে জাদুর জগতের খোঁজে। শেষ পর্যন্ত সে একাই ফড়িং হবার অনন্ত পথে উঠতে থাকে।এখানে লেখক পিপড়ের মাধ্যমেই মানুষের জীবনের বিভিন্ন দিকের প্রকাশে দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। দ্বিতীয় গল্প "ধাঁধায় দ্বিধা"।"ধাঁধাঁয় দ্বিধা" গল্পে লেখক মানুষকে শুদ্ধ করার এক অভিনব পন্থার কথা বলেছেন।সেজন্য পরিবর্তন দরকার সমাজব্যবস্থা, প্রশাসনব্যবস্থা আর শিক্ষাব্যবস্থার।এই গল্পে লেখক মূলত অসংখ্য ধাঁধাঁ সমাধানের মাধ্যমে নতুন, পরিপূর্ণ সমাজ এবং রাষ্ট্র নির্মাণের স্বপ্ন দেখেছেন। পরের গল্প ‘৩য় বন্ধনী’।শরিফুল রিংকিকে ভালোবেসে বিয়ে করতে চায়।সে তার বাবা জহুরুল আর মাকে রাজিও করায়। কিন্তু হঠাৎ করেই শরিফুলের বাবা জহুরুল বেঁকে বসেন।তিনি চান তার ছেলের বিয়েতে কোন স্বর্ণের আদানপ্রদান হবে না, কোন দেনমোহরের ব্যাপার থাকবে না।এর প্রধান কারণ শেষ বয়সে এসে নতুন আঙ্গিকে তার ব্যক্তিত্বের বিকাশ। পরের গল্প ‘অমূলদ ডট ডট ডট’।এই গল্পে সবার মোবাইলে, ই-মেইলে একটা অদ্ভুত ম্যাসেজ আসছে যেখানে লেখা so, what is it behind the crow? তারপর ধীরে ধীরে সমস্ত শহর কাকের বিজ্ঞাপন, ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টারে ছেয়ে যায়।কিন্তু কেন...এই রহস্যের জট খুলবে 'মূলদ অমূলদ ডট ডট ডট' গল্পে। পঞ্চম গল্প ‘গ্রে স্কেচ’ ।এই গল্পে দেখানো হয় একজন তরুণ লেখক কুণ্ডেরার উপন্যাস অনুবাদ করতে গিয়ে নানারকম বিড়ম্বনার সম্মুখীন হন।একজন নতুন লেখক যেভাবে অবহেলা ও প্রতারণার শিকার হন তা এই গল্পে সহজে উঠে আসে। পরের গল্প ‘বরফবিম্ব’।লেখক এই গল্পে রওনক মিশকাত নামক একটি চরিত্রের মাধ্যম।মানুষ আসলে কীসের খোঁজে পৃথিবীতে এসেছে...এই দার্শনিক প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। সপ্তম গল্প ‘কর্মচারী যজ্ঞ’।আফসার আহমেদ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র। তিনি একজন খুবই সফল ব্যাবসায়ী। সারাজীবন তার অধীনে হাজার হাজার কর্মচারী কাজ করেছে আর তিনি তাদের বিভিন্নভাবে ছাড় দিয়ে আজীবন মহৎ সাজার অভিনয় করে গেছেন।দীর্ঘদিন মহৎ মানুষের তকমা গায়ে এঁটে থাকা ব্যক্তির কাধ থেকে ক্রমেই যদি মহত্মের ভার নেমে যেতে থাকে, তাহলে তার মানসিক পরিণতি কেমন হয়,কখনো কখনো ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে।এমনই এক কাহিনী নিয়ে এই গল্প। পরের গল্প ‘গল্প গবেষণা প্রকল্প’।এখানে লেখক গদ্যের ভিতরে ছন্দের অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছেন।ছোট পরিসরে লেখা হলেও ‘অন্তরক’ এবং ‘চা-মামা’ গল্প দুটি বেশ ভালই হয়েছে। নবম গল্প ‘গ্যাডফ্লাই’।কাশেম গ্রামের মেম্বার নির্বাচনের প্রার্থী। সে এই নির্বাচনে জয়লাভের জন্যে যে কোন কিছু করতে রাজি।হাশেম যখন বলছিল সে গ্রাম থেকে সব দুর্নীতি তাড়াতে চায় এবং সে যখন নিজেকে মাছির সাথে তুলনা করল তখন পাঠকের সক্রেটিসের গ্যাডফ্লাইয়ের কথা মনে পড়ে। দশম ও শেষ গল্প ‘ঢ়-তত্ত্ব’।বাকি গল্পগুলোর মত এটিও অসাধারন গল্প। দাম কিছুটা বেশি মনে হলেও এই বইটা পাঠকদের অবশ্যই ভালো লাগবে।
এবইয়ের গল্পগুলো চিন্তার দেয়ালে কিছু প্রশ্ন রেখে যায়,মনের দু-একটা দরজা খুলেও যেতে পারে।নিজস্ব চিন্তাগুলোকে তুলে ধরতে লেখক গল্পের আশ্রয় নিয়েছেন।রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থা নিয়ে চিন্তাভাবনা কমবেশি সবলেখকই করেন। কিন্তু একে ছোটগল্পের পরিসরে রূপ দেবার দুঃসাহস করন খুব কমই। 'ধাঁধায় দ্বিধা' ও 'ঢ়-তত্ত্ব' তেমনই ২টি গল্প। ঢ়-তত্ত্ব গল্পের প্লটটা আমার ধারণা, একটি চমৎকার উপন্যাস দাবি করে।'কর্মচারী তত্ত্ব'-সাধারণ ধাঁচে শুরু করা একটি গল্প কীভাবে শেষমেশ অসাধারণ হয়ে উঠতে পারে---তার চমৎকার নিদর্শন এই গল্পটি।'কিন্তু' গল্পটাও দারুন।সমাজতত্ত্ব নিয়ে আরেকটি দারুণ গল্প '৩য় বন্ধনী'। তাঁর শব্দ চয়ন দেখে মনে হয়েছে প্রচলিত প্রথাকে ভাঙার তীব্র আকাঙ্ক্ষা।আসলে গল্পগুলোকে হ্যান্স এন্ডারসনের রূপকথার সাথে তুলনা করা যেতে পারে। যারা গল্পের শরীরে নিছক 'কাহিনী' না খুঁজে অন্য কিছুর সন্ধান করেন,তারা এই গ্রন্থটি পড়ে দেখতে পারেন।বইটিতে লেখক মানব জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রকে সচেতনভাবে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরতে চেয়েছেন এবং সফলও হয়েছেন।
বীক্ষণ প্রান্ত আমার পড়া হিমালয় ভাইয়ের দ্বিতীয় বই, মাঝখানে তার একটি অনুবাদ বের হয়েছে, সেটা পড়া না হলেও তার প্রথম বইটি কিনে পড়া হয়েছিলো। পাঠক হিসেবে আমি বেশ কিপ্টে প্রকৃতির, নতুন লেখকদের বই খুব একটা পড়া হয় না, এর পেছনে আমার যে চিন্তাটা কাজ করে, তা হলো, এখনো অনেক অনেক ভালো লেখকের অসাধারণ সব লেখা আমার অপাঠ্য রয়ে গেছে। আমার বোধকরি সেগুলোই আগে পড়ে ফেলা উচিত। তো এই বৃত্ত থেকে বের হয়ে কেমন কেমন করে যেন একদিন “বীক্ষণ প্রান্ত” কেনা হয়ে গেলো, অনেক গুলো “ক্যাওস থিওরি” এর প্রতিক্রিয়াশীল ফলাফল বলা যেতে পারে। তারপরে একটা সময় কেনো যেন মনে হলো, রিভিউ লেখাটা খারাপ হয় না। সত্যিকার অর্থে বলতে, প্রতিযোগিতার জন্য আমার এই রিভিউ লেখা না। আমি নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, বেশ কিছু বিষয়, যা বই পড়তে গিয়ে আমার কাছে খটকা লেগেছে, অনেক কিছুই দুর্বোধ্য মনে হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে রূপক বিষয়টি আপাত অর্থে কি বোঝায় যা বুঝতে আমি অপারগ হয়েছি, এইগুলো নিয়ে হিমালয় ভাইয়ের সাথে আলোচনা করবো। রিভিউ এর বিষয়টি চলে আসাতে তা সমাধান হয়নি, তবে আলোচনার বিষয়বস্তু যা হতে পারতো, তার প্রতিফলন এখানে স্থাপন করার একটা সুযোগ পাওয়া গেছে। একটু বলে রাখি, পাঠক হিসেবে আমি একান্তই যাচ্ছেতাই, আমি এমন প্রকৃতির পাঠক, যে বইয়ের কভার দেখে বই বিচার করি, লেখকের নাম দিয়ে বই বিচার করি, এবং ক্ষেত্রবিশেষে লেখকের ব্যাক্তিস্বত্বাও আমার পঠনে প্রতিক্রিয়া ফেলে। সুতরাং, রিভিউ অবশ্যই কোনো নির্দিষ্ট আদর্শের মাপকাঠিতে সাজানো নেই, বরং অনেকটাই আমার নিজ চিন্তাধারা দ্বারা প্রভাবিত। একদম গোড়া থেকেই শুরু করা যাক। পেপারব্যাক বইয়ের ফ্রন্ট কভারের উলটো দিকেই রুবেল ভাইয়ের কিছু কথা ছিলো। সে অংশটুকু বেশ ভালো লেগেছে। তার মতে, এখানে অনেকটা মজলিসের আয়োজন করা হয়েছে, তার মধ্যে স্থান করে নেওয়াটা অনেকটা পাঠকের নিজের দায়। এ বিষয়টুকু নিয়ে তর্ক থাকতেই পারে, পাঠকের কাছে পৌছানোটা লেখকের দায়িত্ব, পাঠকের লেখকের ভাব অন্তরঙ্গম করাটা শুধুমাত্র বোধ করি জনপ্রিয় লেখকদের ক্ষেত্রেই খাটে, কাজেই বলতেই হবে, বইয়ের লেখক এবং মুখবন্ধের লেখক এক্ষেত্রে একরকমই সাহসই দেখিয়েছেন। সাহসের মাত্রাটা কম/বেশি এটা যতটা না গুরুত্বপূর্ণ, তার থেকে গুরুত্বপূর্ণ কারো দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে লেখকের নিজের চিন্তাটাকে তুলে ধরা। কাজেই এই ক্ষেত্রে একজন লেখকের অবস্থানের সাপেক্ষে চিন্তা করলে, লেখকের মূল উদ্দেশ্যে সফল। এবার গল্প প্রসঙ্গে আসা যাক। প্রথমেই বীক্ষণ প্রান্তের আদ্যন্তের দিকে চোখ গেলো, নামগুলো দেখে একটু অনিয়মিত পাঠকদের ভড়কে যাওয়া স্বাভাবিক। নামগুলো ঠিক নিয়মিত নয়। আমার ব্যাক্তিগত মতামত হচ্ছে, লেখক এ ক্ষেত্রে তার সম্পূর্ণ নিজের স্বাধীনতা ব্যাবহার করেছেন, কোনো রকম নির্দেশনা অনুসরণ না করেই, প্রত্যেকটি গল্পে একটি গল্পমানচিত্র আছে, যা গল্পের ভাবটাকে সহজবোধ্যভাবে প্রকাশ করার পরিবর্তে উলটো বিভ্রান্তি আরো বাড়িয়ে দেয় বলেই মনে হয়েছে। তবুও, নামকরণের ভঙ্গিমা এবং গল্পমানচিত্রের বক্তব্য আমার ভালো লেগেছে। সব কিছুই খুব স্পষ্ট হবার প্রথা কোথাও নেই বলেই আমার জানা। রিভিউ মানে গল্পের প্রত্যেকটি লাইনের অর্থ, কি বুঝিয়েছে, এরকম কিছুর আলোচনা, আমার কাছে তা মনে হয় না। কাজেই আমি রিভিউ প্রসঙ্গে আমার যা বক্তব্য, সেটা একজনের কাছে সম্পূর্ণতা লাভ করবে যদি তার গল্পটি মাত্রই পড়া হয়, অথবা বীক্ষণ প্রান্ত বইটি এবং আমার রিভিউ, এই দুটো পাশাপাশি নিয়ে বসা হলে। প্রথম গল্পের নাম “কিন্তু”। এখানে প্রথমে পিঁপড়া কলোনীর একটি স্বাভাবিক সমাজব্যাবস্থার চিত্র স্থাপন করা হয়েছে, তারপরে সেখানে কিছু চরিত্র নিয়ে কাজ করা হয়েছে,। মূল চরিত্র ষৎকো নামের একটি পিঁপড়া, তার চিন্তাভাবনা এবং কার্যক্রমের চিত্রই মোটামুটি পুরো গল্প জুড়ে। গল্পে ষৎকোর চারপাশ এবং তার চিন্তাধারার অনুসারী হয়ে বেশ কিছুটা সম্মোহিত হয়েই পড়েছিলাম গল্পটা। একটা পর্যায় পর্যন্ত গল্প চলে যাবার পর চিরায়ত একটা অনুভূতিও ফিরে এসেছে, সামনে কি হবে তা জানার চেষ্টা। কাজেই শেষমেষ যখন গল্পটা একটা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মধ্যে ছেড়ে দিয়ে শেষ করে দেওয়া হয়েছে, আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। গল্পটা অই অংশের একটু আগে, বা একটু পরে শেষ হলেও আমার কাছে এটি পরিপূর্ণতা পেতো না। গল্পের বিবরণী স্পষ্ট, সাবলীল এবং গতিশীল, এবং ক্লোজিং এক কথায় চমৎকার। গল্পের মূলভাব স্পষ্ট মনে না হলেও, গল্পাশ্রমে ভ্রমণ অংশের আলোচনা থেকে থেকে কিছুটা ধারণ লাভ করা যায়, এবং আমার গল্পটি সম্পর্কে আমার নিজস্ব অনুমিত বিষয়গুলো কাছাকাছি থাকাতে আমার বেশ ভালোই লেগেছে। এরপর ধাঁধায় দ্বিধা নামক গল্পটি। গল্পের প্রায় পঞ্চাশ ভাগ জুড়ে আমার কাছে মনে হয়েছে, একটা আদর্শ সমাজ ব্যাবস্থা যেভাবে হওয়া উচিত, লেখক এই ব্যাপারে তার নিজস্ব চিন্তাভাবনা এখানে এক এক করে স্থাপন করেছেন। পুরো বিষয়ের ধারণাটি খুবই চমৎকার, গল্পের খাতিরে হলেও বাস্তবায়নের পথে দূরত্বটা খুব বেশি না। যে কারণে সমাজকে আরো কয়েক ধাপে উন্নত করার চিরায়ত যে চিন্তা সবার মধ্যে ঘোরে, সেটির সাথে সমান্তরাল বলে প্রথমেই গল্পটি মনযোগ নিয়ে নেবে বলে আমার ধারণা। এরপর গল্পের মূল চরিত্র, পানচেনির জীবনে তার অপরাধ, তার জন্য শাস্তি, এবং ধাঁধা নিয়েই বাকি অংশটুকু। ধাঁধার অংশটুকু পাঠকের মনযোগ ধরে রাখবে পরেরটুকুতে, এবং প্রথম অংশের জন্য সমাজ ব্যাবস্থার যে চিত্রায়ণ, সেটি তো আছেই, এই দুইটি বিষয়ই আমার ক্ষেত্রে মনযোগ ধরে রাখতে পুরোপুরি সক্ষম! যদিও গল্পের কিছু ক্ষেত্রে বিস্তৃত ব্যাখা, সংজ্ঞায়ন বিরক্তিকর লেগেছে, তবে অই অংশটি বাদ দিয়ে, এবং বাদ না দিয়ে গল্পের অর্থ এবং পাঠ্যানুভূতির কোনো হেরফের হয় না। গল্পের শেষাংশে সমাপ্তির অংশটুকুও ভালো লেগেছে, সুতরাং, আমি বলবো, গল্পটি এক কথায় চমৎকার। এই গল্পের গল্পাশ্রমে ভ্রমণ থেকে মনে হলো, গল্পটি বিরাট মাত্রায় চমক ভাইয়ের অংক দাদুর ধারণা দ্বারা অনুপ্রাণিত। তবে অংক দাদু থেকে সম্পূর্ণ আরেকটি প্ল্যাটফর্মে নিয়ে গিয়ে গল্পকে প্রতিস্থাপনের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব হিমালয় ভাইয়ের। ৩য় বন্ধনী গল্পের ক্ষেত্রে আমার অনুভূতি একটু অন্যরকম, গল্পকে একটা পর্যায়ে গিয়ে অযথা লম্বা করা হয়েছে বলে মনে হয়েছে। গল্পের অর্থ শেষমেষ কি দাঁড়ায়, বুঝে উঠতে পারি নি। তৃতীয় বন্ধনীতে আবদ্ধ লেখকের বক্তব্য প্রথমদিকে মজা লাগলেও পরে গিয়ে বিরক্তিকর মনে হয়েছে। মোটমাট গল্পের কোনো সামগ্রিক অর্থ দাড় করিয়ে উঠতে পারি নি। তবে প্রচলিত বিবাহ প্রক্রিয়া এবং তদ-সংক্রান্ত বিষয়ে লেখকের যে অনেক চিন্তাভাবনা আছে, এটি পরিষ্কার! গল্পাশ্রমে ভ্রমণ এই ক্ষেত্রে খুব বেশি সহায়ক কোনো কিছু হিসেবে দাড়াতে পারেনি। অমূলদ ডট ডট ডট গল্পটি এদিক থেকে আমার সম্পূর্ণ বিপরীত। গল্পের ভাষাশৈলী একটা নির্দিষ্ট পর্যায়ের পরে ভালো লাগেনি। কিন্তু গল্পের থিম চমৎকার লেগেছে। শুধুমাত্র বিজ্ঞাপনের ধারণাটি গল্পে নতুন একটা মাত্রা তৈরি করেছে। গল্পাশ্রমে আশ্রম থেকে মূল গল্পটি অনেকটাই সরে এসেছে, তবে তাতে গল্পের সৌন্দর্য বেড়েছে। লেখনী পরের ক্ষেত্রে আরো শক্ত হলে গল্পট অনবদ্য হতে পারতো। তবে এতো কিছুর পরও, ভালো লেগেছে। গ্রে স্কেচ কোনো গল্প নয়, অনেকটা নিজের মেমোয়ার্স হিসেবেই প্রতিফলিত হয়েছে, যারা কোনো না কোনো সৃজনশীল কাজে কখনো না কখনো সংযুক্ত ছিলো, আমার ধারণা সবারই মধ্যে এই ধরনের একটা চিন্তাভাবনার প্রতিফলন রয়েছে। হিমালয় ভাই লেখক, তার ক্ষেত্রে মিলান কুন্ডেরা, আমার ক্ষেত্রে হয়তো অন্য কেউ... কিন্তু সামগ্রিক অর্থের বিচারে, অনেকগুলো মানুষের সমন্বিত পরিবেশ এখানে চিত্রিত হয়েছে। ফলাফল, লেখার ধরণ এবং গল্পের প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও, এটা প্রকৃত অর্থে আমাদের অনেকেরই গল্প। এ জন্য লেখার সাথে তরতরিয়ে এগিয়ে গিয়েছি, এবং মন্তব্য, ভালো লেগেছে। বরফবিম্ব পড়তে বিরক্ত লেগেছে, গল্পের আদ্যোপান্ত কোনো অংশই ভালো লাগে নি। অনর্থক জটিলতা তৈরির একটা চেষ্টা মনে হয়েছে, গল্পের ভেতরের শিরোনামের নামকরণ, গল্পের বর্ণা, ধারাবাহিকতার লেশমাত্রের অনুপস্থিতি মোটামুটি আমার জন্য অপাঠযোগ্য ছিলো, সুতরাং কোনোমতে একবার পড়ে শেষ করে ভুলে গিয়েছি, কাজেই এই প্রসঙ্গে আর কিছু বলার নেই। লেখকের এ বিষয়ে আরেকটু যত্নবান হওয়া উচিত। পাঠকের বিরক্তি উৎপাদন কোনো অবস্থাতেই কাম্য নয়। কর্মচারী যজ্ঞের গল্পটি আরো সুন্দর হতে পারতো, ছোটখাটো অনেকগুলো ক্ষেত্রে কাজ করার সুযোগ ছিলো বলে আমার বিশ্বাস। কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত খুটিনাটি যোগ করে গল্পের আবেদনটা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। গল্পটির বৈচিত্র্য কম, এবং নেয়াহেতই সাদামাটা। কিন্তু এই প্লটেই লেখক অনেক কাজ করতে পারতেন বলে আমার বিশ্বাস। গল্প গবেষণা প্রকল্প আমার এই বইয়ের পঠিত সবথেকে ভালো লাগার অংশটুকু। পুরো লেখাটা আমি একাধিকবার তন্ময় হয়ে পড়েছি, গল্পে নতুন অনেক কিছু ছিলো বলে, একসাথে অনেকগুলো সমতলের সমন্বয় হয়েছে বলে। পুরোটা সম্পর্কে এক কথায় বলবো, অনবদ্য। এমন লেখা হাজারবার পড়েও ক্লান্তি নেই। গ্যাডফ্লাই গল্পটিতে আকর্ষণ খুজে পাইনি খুব বেশি। প্রথমদিকে আগ্রহ নিয়েই পড়েছি, একটা পর্যায়ে গিয়ে অতীত টেনে আনা, চরিত্রগুলোর স্বাভাবিক কদর্যতার প্রকাশ, খুব বেশি গতানুগতিক, নতুন কোনো কিছু চোখে পড়েনি যার জন্য গল্পে সেটে থাকতে হবে। গল্পের গাথুনি বা ধারাবাহিকতায় অনাকর্ষণীয় একটা ভাব চোখে পড়েছে, এ গল্প আমি সমস্য কাটানোর জন্য একবার পড়তে পারি, তবে দ্বিতীয়বার পড়বো না। ঢ়-তত্ত্ব আমার বিচারে এই বইয়ের দ্বিতীয় শ্রেষ্ট লেখা। পুরো গল্পটি আমি তন্ময় হয়ে পড়েছি, একাধিকবার। গল্পেটা অনেকটা বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর ধাঁচের, বিশাল একটা সমাজ ব্যাবস্থার সামগ্রিক প্রতিক্রিয়া এবং সচল মিথষ্ক্রিয়া দেখেছি। গল্পের ভবিষ্যত যদিও লেখকের হাতে, তারপরও একটা পর্যায়ে নিজের মত করে বেশ কিছুক্ষণ চিন্তা করতে হয়। পাঠককে দিয়ে গল্পের উপাদান ছন্দবদ্ধ করতে পারাটা আমার মনে হয় লেখকের জন্য বিরাট প্রাপ্তি, এবং এই ক্ষেত্রে উনি সফল। সুতরাং, পুরো বইটিতে ভালো লাগার বিষয় আছে, বিরক্তি উৎপাদনের বিষয় আছে, একেবারে নিরীহ ধাঁচের এগিয়ে যাওয়া গল্পও আছে। লেখার অনেকগুলো জায়গাতে লেখকের যথেচ্ছাচারীর প্রভাব স্পষ্ট, সেটার কারণে গল্প কখনও কখনও আকর্ষণ হারিয়েছে বলে মনে হয়েছে। লেখকের ছাপ স্পষ্ট রেখে এ জায়গাগুলোতে আরেকটু সতর্ক হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। আরেকটি ব্যাপার হলো, বীক্ষণ প্রান্ত পড়বার আগে লেখক হিমালয় হিমু সম্পর্কে আমার খুব বেশি আগ্রহ ছিলো না। মনে হতো, তার লেখনী এমন কোনো একটা স্তরে, যে স্তর সম্পর্কে আমার খুব বেশি আগ্রহ কখনই জন্মাবে না। কিন্তু বইটি পড়ে আমার অভিমত অনেকাংশেই পরিবর্তিত হয়েছে। নিঃসন্দেহে আমি তার ভবিষ্যতের লেখাগুলোর জন্য নির্ধারিত পাঠক হয়ে গেছি। লেখকের সর্বাঙ্গীন কামনা করি। লেখা চলুক। সমালোচনা চলুক। গঠনমূলক কিছু না আসলেও চলবে, ভালো কিছু আসুক। ধন্যবাদ।























