

Buy এতদিন কোথায় ছিলে? Online in Bangladesh
লেখক: মুনির হাসান
- Author: মুনির হাসান
- Publisher: স্বপ্ন ৭১ প্রকাশন
- Isbn: 9789849853220
- Number Of Pages: 88
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2024
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
সাধারণত গল্প বইয়ের ভূমিকা হয় না। কিন্তু এটা ঠিক গল্পের বই নয়। এখানে যে লেখাগুলো স্থান পেয়েছে সেগুলোকে আদৌ গল্প বলা যাবে কিনা– তা হলফ করে বলা মুশকিল। এগুলোর কোনো কোনোটি পুরোটাই কল্পনাপ্রসূত। কোনো কোনোটার কাঠামো, ধারণা বহুল প্রচলিত। যেমন এলিয়েনদের নিয়ে যে লেখাগুলো। এ গল্পগুলোর বেশিরভাগই বিদেশি কোনো না কোনো গল্পের ছায়ায় রচিত, যদিও মূল গল্পের পুরোটা এখন আর আমার মনে নেই। আবার অবশেষে পোস্টমাস্টারের ভূমিকা আলাদা। বুয়েটে পড়ার সময় আমরা কয়েক বন্ধু ঠিক করি যে, যে গল্পগুলো ছোটবেলাতে পড়ার পর আমাদের মনে হয়েছে এগুলো শেষ হয়নি সেগুলো আমরা শেষ করব। আমার ভাগে পড়ে– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পোস্টমাস্টার। আমি আমার মতো করে সেটার একটা পরিণতি দেওয়ার চেষ্টা করি। এভাবে গণিত-বিজ্ঞান-উদ্যোগের বাইরে আমার এই অন্যরকম লেখাগুলো। কয়েকটা ছাপা হয়েছে প্রথম আলোর রস আলো, কিশোর আলো ও বিজ্ঞান চিন্তায়। কয়েকটা ফেসবুকে। কয়েকটা আনকোরা। সব মিলিয়ে একটা অন্যরকম চেষ্টা।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

যদিও সংগঠক মুনির হাসানই আমার বেশি প্রিয়, তবে লেখক মুনির হাসানও আমার কম প্রিয় নয়; তার সহজপাঠ্য ও প্রাঞ্জল ভাষার জন্য এবং তার কাজকর্মের বিষয়ের সাথে এককালে সংশ্লিষ্টতা থাকার জন্য। সেই সূত্রে তার নতুন বই কিনে ফেলা আমার জন্য একরকম অবশ্য করণীয়ই বলা যায়। বইয়ের উৎসর্গ পড়তে পড়তে আমার বড় আম্মার(আব্বুর দাদী) কথা মনে পড়লো। ১২ ছেলে মেয়ে বড় করার পেছনে প্রখর চিন্তাভাবনা সম্পন্ন একজন মহিলার প্রমাণ মিলে, যেটা আমার ছোট দাদা তার "শিকড়ের সন্ধানে" বইয়ে বেশ চমৎকারভাবে বর্ণনা করেছেন। চট্টগ্রামের পাহাড়তলী আর আইস ফ্যাক্টরি রোডের সাথে সম্পূরক যে জীবন। সত্যি বলতে লেখকের সাথে আমার এই ছোট দাদার বেশ মিল পাই আমি; ভ্রমণ উৎসুক, খোঁজ খবর উৎসাহী আমার এই দাদা মানুষের সাথে মিশে যেতে পারেন সহজেই। যাই হোক, বইয়ের কথায় ফিরি... বইটা এক গুচ্ছ ছোটগল্পের সংকলন। চট্টগ্রাম থেকে ফেরার পথে এক বসায় কয়েকটা বিরতিতে পড়ে ফেললাম। গল্পগুলি সুন্দর, ভালো লাগার মত। মুগ্ধ হই নাই, আর মুগ্ধ করাবেন বলে লেখক লেখেছেন বলে মনে হয় না আমারও। পোস্টমাস্টার গল্পের ফ্যান ফিকশন বাদে বাকি গল্পগুলির প্রেক্ষাপট ভালো লাগছে। পোস্টমাস্টার খারাপ লাগে নাই, তবে মনে হয় আশা ছিল আরও বেশি৷ মূল গল্পটা পড়া হয় নাই এইজন্যও হতে পারে। ফিউচার অ্যাটাকে ম্যাথ অলিম্পিয়াডের যে পটভূমি, আমি চাই ব্যাপারটা হোক। ২০১৮ সালের স্বর্ণ জয়ের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম, তাই আকাঙ্ক্ষা আরও বেশিই। ওয়াটসনের গল্পটাতে মাসুদ রানার প্রসঙ্গটাও বেশ। তবে এধরণের রেফারেন্স এর খারাপ দিক হচ্ছে নস্টালজিয়া আক্রান্ত হতে হয় বেশ। সব মিলিয়ে বইটি বেশ ভালোই লেগেছে বলবো। পুনশ্চঃ পোস্টমাস্টার মূল গল্পটা পড়ে আসলেও মনে হল যে গল্পটা শেষ হয় নাই। বিনোদিনী চরিত্রটা চোখের বালি থেকে নেয়া বোধ করি, সুহাসিনী আর কেতকী চরিত্র দুইটা সঠিক মনে পড়ছে না। তবে এখন মনে হচ্ছে যে উপসংহারটা একরকম মানানসই হয়েছে।
‘এতদিন কোথায় ছিলে’ বইটার নাম শুনে আমি নিশ্চিত ছিলাম এইটা একটা প্রেমের গল্প/উপন্যাস হবে। কাহিনী যাই হোক না কেন, মোটামুটিভাবে ঠিক করেই রেখেছিলাম মুনির ভাইকে বলবো, ‘ভাই আপনার ইমেজের সাথে প্রেম বিষয়টা ঠিক যায় না। নিজ্ঞান, গণিত, স্টার্টআপ নিয়েই লেখেন’। কিন্তু বই পড়ে আমি সত্যি অবাক। বিজ্ঞান-রোবট-গণিত অলিম্পিয়াড-ভালোবাসা সব আছে এই বইয়ে। শার্লক হোমসের সংগে দর্শনের আগে রাস্তার ওপারে দাঁড়িয়ে শার্লক হোমসের বাড়ি খোঁজার গল্পটা দারুণ। তবে যদি বলি এই বইয়ে একেবারে প্রেম নাই তাহলে ভুল হবে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পোস্টমাস্টার গল্পের শেষটা মুনির ভাই নিজের মতো করে করেছেন। আবার মারা যাওয়ার পরেও তরুর প্রতি শরীফের ভালবাসাটাও ঠিকঠাক ফুটে উঠেছে। এই দুই গল্পেই বেশ একটা প্রেম প্রেম ভাব আছে। কিন্তু বিজ্ঞান-রোবট-গণিতের মানুষ মুনির হাসান। এতো সহজ নাকি এইসব থেকে বের হওয়া? ঠিকই জাজিরার মেয়র রোবট না মানুষ তা নিয়ে এলাকার মানুষের দ্বিধা কাটিয়েছেন। মেয়রের চড় খেয়েও এলাকার লোকজনের খুশি নিশ্চিতভাবে আপনার ঠোঁটের কোনে হাসি আনবে। বইটির মজার বিষয় হলো প্রথম গল্পে আমাদের মোটামুটি বেশ কয়েকজন সহকর্মীর দেখা পাবো। এই গল্পে এতবার জুয়েলের কথা বলা হয়েছে, পাশাপাশি বসেও এতবার জুয়েলকে মুনির ভাই ডাকছেন কিনা সন্দেহ। গণিত অলিম্পিয়াডের বাচ্চারা যে কত মেধাবী এইরকম ভয় ঢুকায়ে না বললেও আমরা জানি। অবশেষে পুরো বই পড়া শেষে বুঝলাম কাকে জিজ্ঞেস করেছেন ‘এতদিন কোথায় ছিলে’। পাঠক হিসেবে একটা কথা না বললেই নয়- আমার কাছে মনে হয়েছে এই বইয়ের সবচেয়ে সুন্দর গল্পটা বইয়ের উৎসর্গপত্র হিসেবে স্থান পেয়েছে। ফিল্ড মার্শাল দাদীর গল্পটাই সেরা। উৎসর্গপত্রটা পড়েই মনে হচ্ছিল- আমাকে আমার পরের প্রজন্মের কেউ এতো ভালোবাসবে? আমি চলে যাওয়ার এতো বছর পরও কেউ আমাকে মনে করবে? আমি কোনদিন ফিল্ড মার্শাল হতে পারবো?
এতদিন কোথায় ছিলে? আমি এখন ২২২৩ সালে , তারপর দেখলাম উন্নত দেশগুলো AGI এর কাছে পরাস্ত, সিকিউরিটি রিসার্চগুলো কাজে দেয়নি বরং ব্যাকফায়ার করেছে। প্রেসিডেন্ট এখন মানুষ নাকি রোবট বুঝার উপায় কি? ফুল কি প্রেমিকাকে দিতেছি নাকি রোবটকে 🤲 তবে এরকম দুই এক খানা গল্প পড়তে হলে Munir Hasan স্যার এর বই নতুন প্রকাশিত বই এতদিন কোথায় ছিলে পড়তে পারেন। ছোটগল্প পড়ার সময় শেষ হয়েও হইলোনা শেষ যে ব্যাপারটা থাকে তা প্রথম গল্পে বিদ্যমান তবে বইয়ের এক গল্পে রবীন্দ্রনাথ এর পোস্টমাস্টার এর শেষ হইয়েও হইলো না শেষ কে সুন্দর করে ইতি টেনেছেন। আমার প্রিয় শার্লক এর ২২১ বেকার স্ট্রিট নিয়েও একটা লেখা আছে। এই ভিনদেশে বসে নতুন বই পড়ে বই মেলার মজা দেওয়ার জন্য স্যারকে ধন্যবাদ। আর এই বই কিনতে হলে বইমেলায় স্বপ্ন ৭১ প্রকাশনীতে যেতে হবে আর রকমারীতেও পাওয়া যাবে।























