

Buy আঁধার Online in Bangladesh
লেখক: মারিয়া কবির
- Author: মারিয়া কবির
- Publisher: এশিয়া পাবলিকেশন্স
- Number Of Pages: 192
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Edition, 2023
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
ফ্ল্যাপ সাবলেট বাসা হলেও শান্তি আছে এখানে। মাঝারি আকারের একটা রুম, এটাচড বাথরুম, বেশি বড় না হলেও সুন্দর একটা বারান্দা আছে। বারান্দা দিয়ে ওয়াশিত্ব টাওয়ার স্পষ্ট দেখা যায়। ওয়াশিত্ব টাওয়ারের নিচ তলায় একটা রেস্টুরেন্ট আছে। রংধনু নাম, খুব বেশি বড় না। তবে খাবার ভালো। রাসেল এখানে আসার পর দুইবার নিয়ে গেছিলো। আমাদের বিয়ের দুই মাস পার হয়েছে। এখনো আমি সহজ হতে পারিনি। যতবারই সে আমার কাছে আসে ততবারই আমার দম আটকে আসার উপক্রম হয়। বিশ্রী একটা গন্ধ নাকে আসে। মনে হয় এখনই আমাকে মেরে ফেলবে ও। কিন্তু ও তা করে না। বরংচ কপালে চুমু দিয়ে বলে, " এখন ঘুমাও। " আমার কেন এমন মনে হয়? আমি কেন এই আঁধার থেকে মুক্তি পাই না?
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

"জীবন হচ্ছে একটা পথ। সেই পথে অনেকে ক্ষণিকের জন্য আসে কিন্তু কেউই চিরস্থায়ীভাবে থেকে যায় না। " 🔥 জীবনের পথচলা কখনোই সহজ সরল নয়। সেই পথে ছায়া ফেলে যায় কত সম্পর্ক, কত টানাপোড়েন। কিছু স্মৃতি থেকে যায় তীক্ষ্ণ কাঁটার মতো, কিছু মানুষ চলে যায় ক্ষণিকের জন্য, আবার কিছু সম্পর্কই হয়ে ওঠে অন্ধকারে ঢাকা রহস্য। মারিয়া কবিরের উপন্যাস ‘আধাঁর’ ঠিক সেই রকম এক বাস্তব ও অনাবিষ্কৃত মানসিক ভূগোলের দরজা খুলে দেয়, যেখানে ভালোবাসা, অবহেলা, বিশ্বাসঘাতকতা আর মানসিক ভাঙাচোরা নিয়ে গড়ে উঠেছে এক করুণ কিন্তু গভীর গল্প। 🔥 কাহিনি সংক্ষেপে : ‘আধাঁর’ মূলত একটি সমকালীন সামাজিক উপন্যাস, যেখানে ভালোবাসা, অবহেলা, বিশ্বাসঘাতকতা ও মানবমনের জটিলতা অত্যন্ত বাস্তব ও তীক্ষ্ণভাবে ফুটে উঠেছে। গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে আছে 'মিলা' এক মানসিকভাবে বিপর্যস্ত তরুণী, যে কিনা শৈশবেই বঞ্চনা ও একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ভেতরে ভেতরে গুঁড়ে গেছে। অন্যদিকে রয়েছে রাসেল, যে ১২-১৩ বছর ধরে তার খালাতো বোন রাকার সাথে প্রেমের সম্পর্কে যুক্ত। তবুও অবাক করা বিষয় হলো, রাসেল পরিবারের চাপে বা নিজের কোনো সুদূরপ্রসারী উদ্দেশ্যে মিলা কে বিয়ে করে, একেবারেই সাদাসিধেভাবে। গল্পের মোড় নেয় যখন রাকার স্বামী মাহমুদ বুঝতে পারে তার স্ত্রীর সাথে রাসেলের গোপন সম্পর্কের কথা। এর পর কী হবে? মাহমুদ কি রাকা এবং রাসেলকে ছেড়ে দেবে? রাসেল কি মিলাকে সত্যিই ভালোবাসে, নাকি কেবল অন্য কোনো চক্রান্তে মিলা তার হাতের পুতুল? উপন্যাসের শেষাংশে উঠে আসে এমন এক চমকপ্রদ সত্য, যা পাঠককে স্তব্ধ করে দেবে। 🔥 চরিত্র বিশ্লেষণ: এটি সামাজিক মনস্তাত্ত্বিক চিন্তাধারার উপন্যাস হলেও, এর মূল উপজীব্য বিষয় পরকীয়া, ধর্ষণ এবং বিয়ের মতো পবিত্র সম্পর্ককে কেন্দ্র করেই। তাই পুরো কাহিনি সামান্য কিছু চরিত্রের মধ্যেই আবর্তিত রয়েছে। ★ মিলা - শৈশবে অবহেলা ও এক নির্মম ঘটনার শিকার হয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তার সত্তার ভেতর নীরব যন্ত্রণা, ভয় ও একাকিত্ব গেঁথে আছে। তবু সে নির্লিপ্তভাবে সংসার করার চেষ্টা করে। " যে সম্পর্কটা প্রত্যেকটা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সহজ এবং স্বাভাবিক একটা বিষয়। সে সম্পর্কটাই আমার কাছে সবচেয়ে কষ্টের আর বিরক্তিকর। " ( মিলা - পৃ: ২৪) ★ রাসেল - একটি ধূর্ত, দ্বিমুখী চরিত্র। বহুবছর প্রেমের সম্পর্ক রেখে হঠাৎ মিলাকে বিয়ে করে, এবং তাকে ধরে রাখার জন্য আপাতদৃষ্টিতে নানারকম কৌশল নেয়। ভালোবাসা তার কাছে স্বার্থকেন্দ্রিক। কিন্তু এই চরিত্রটার জন্যই আবার পাঠকের মায়া সৃষ্টি হতে বাধ্য এক পর্যায়ে। " জীবনে সুখ অনেক রূপ নিয়ে আসে। আমার কাছে এসেছে মিলার রূপ ধরে। মিলার রূপ ধরে না স্বয়ং মিলাই আমার সুখ। " ( রাসেল- পৃ: ১৯২) ★ রাকা - রাসেলের খালাতো বোন, একসময়ের প্রেমিকা। সংসার করলেও রাসেলের সাথে সম্পর্ক চালিয়ে যায়। নিজের চাওয়া-পাওয়ার জন্য সে স্বামী ও সংসারকে অবহেলা করতে দ্বিধা করে না। এই চরিত্রটা আমাদের সমাজেরই কিছু নারীর নোংরা রূপের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। " রাসেল আমার টেম্পোরারি কোন সে* ক্স পার্টনার হলে তো পাত্তাই দিতাম না। আই লাভ হিম টু মাচ। " ( রাকা - পৃ: ১৩৪) ★ মাহমুদ - রাকার স্বামী, যে ধীরে ধীরে বুঝতে পারে তার স্ত্রী ও রাসেলের সম্পর্কের গভীরতা। এখানেই তার সহনশীলতা, হতাশা ও ক্ষোভের দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হয়। এই চরিত্রটা আমার সবচেয়ে বেশি পছন্দের। এক কথায় অসাধারণ একজন মানুষ। " জানো তো রাসেল মানুষকে বিশ্বাস করতে হয় চোখ কান খুলে। চোখ কান বন্ধ করে না। আমি প্রথমটা করেছি আর তুমি দ্বিতীয়টা। " ( মাহমুদ - পৃ: ১৬৯) 🔥 পাঠ প্রতিক্রিয়া: ‘আধাঁর’ একেবারেই তার নামের মতো, গল্পের আবহ, চরিত্রের মনস্তত্ত্ব, কাহিনির বাঁক সবকিছুতে এক ধরনের অন্ধকার ও ঘোলাটে বাস্তবতার ছাপ আছে। লেখক মারিয়া কবির অত্যন্ত নিখুঁতভাবে মানুষের অসহায়তা, আত্মকেন্দ্রিকতা, এবং সম্পর্কের ভঙ্গুরতা ফুটিয়ে তুলেছেন। শৈশবের ট্রমা যে কীভাবে একজন মানুষের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক ও মানসিক স্বাস্থ্যকে তছনছ করে দিতে পারে, মিলা চরিত্রের মাধ্যমে সেটি খুবই স্পষ্ট হয়েছে। আবার রাসেল ও রাকার সম্পর্ক দেখায়, সমাজের তথাকথিত ‘শুদ্ধ’ সম্পর্কের আড়ালেও কত বড় ভাঙন লুকিয়ে থাকতে পারে। উপন্যাসের ক্লাইম্যাক্সে আসা চমকপ্রদ সত্য এক নিমিষে হতবাক করে দিয়েছে । শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত আগ্রহ ধরে রাখার মতো টান টান উত্তেজনা এই উপন্যাসের অন্যতম সম্পদ। 🔥 ‘আধাঁর’ এমন একটি উপন্যাস যা আমাদের আশেপাশের সম্পর্কগুলোর অসুস্থ দিক, মানুষের মনস্তত্ত্বের জটিলতা, এবং অপ্রকাশিত কষ্টগুলোর কথা বারবার মনে করিয়ে দেয়। এটি কেবল একটি গল্প নয়, এক ধরনের অস্বস্তি ও বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করানো।



shundor chilo🥰
বইটি পড়ে অনেক ভালো লাগলো। অপেক্ষায় রইলাম পরবর্তী বইয়ের জন্য।
এই আঁধার উপন্যাসটা হলো আমাদের সমাজের কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রতিচ্ছবি। যার অধিকাংশর জন্যে দায়ী তাদের So-Called নামক স্বামী। আর এই সব কারনে একটা মেয়েকে যে কতো ups & downs পরিস্থিতির মধ্যে যেতে হয় এই আঁধার উপন্যাসে খুব সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছেন । যখন এই গল্পটা ফেসবুকে পড়িছিলাম তখন একটা অন্যরকম ভালো লাগা তৈরি হয়েছিল। আবার যখন আঁধার উপন্যাস আকারে বের হলো এবং আবার যখন আঁধার উপন্যাসটা পড়লাম এবং যতোই এর গভিরে যাচ্ছিলাম তখনি আঁধার উপন্যাসের গভীরতা খুঁজে পাচ্ছিলাম। প্রতিটা চরিত্রের আলাদা আলাদা বিশেষ বৈশিষ্ট্য আছে । আর যারা ফেসবুকে পড়েছিলেন এবং আবার আঁধার উপন্যাসে পড়বেন আরো নতুন নতুন চমক থাকবে যা আগের ফেসবুকের চাইতে অসাধারণ লাগবে এই আঁধার উপন্যাস। মারিয়ার যতো গল্প উপন্যাস আমি পড়েছি আমি কখনও হতাশ হয়নি আশা করি যারা আঁধার উপন্যাসটি পড়বেন তারাও হতাশ হবেন না বরং একরাশ ভালো লাগা কাজ করবে। এই আঁধার উপন্যাসে একটা Twist & Turns হচ্ছে উপন্যাসের যে মেইন চরিত্র আছে মানে নায়কের জীবনে যে টুকরো আলো হয়ে এসেছিলো তাকে কি আঁলোর নিশানা দেখাতে পেরেছিলো না আঁলো আঁধারের খেলায় হারিয়ে যায়? সেটা জানতে হলে অবশ্যই আমাদের সবার প্রিয় মারিয়ার আঁধার উপন্যাসটা পড়তে হবে 😊
লেখকের বাকি বইগুলোর মতোই আশা করছি এই বইটিও পাঠকপ্রিয়তা পাবে। খুবই সাধারণের মাঝে অসাধারণ কাহিনীটি সকল শক্ত মন এবং মানসিকতার মানুষদের মন ছুঁয়ে যাবে। তারাও গল্পের চরিত্রের সাথে হাসবেন, কাঁদবেন এবং তাদের কল্পনাও করবেন। লেখকের জন্য অনেক অনেক শুভ কামনা।























