

Buy উত্তরাধিকার Online in Bangladesh
লেখক: সমরেশ মজুমদার
- Author: সমরেশ মজুমদার
- Publisher: মিত্র ও ঘোষ পাবলিশার্স প্রাঃ লিঃ (ভারত)
- Isbn: 8172930011
- Number Of Pages: 372
- Language: বাংলা
- Edition: 56th Edition, 2015
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
"উত্তরাধিকার" বইটিতে লেখা ফ্ল্যাপের কথাঃ এই উপন্যাসের কাহিনীর শুরু উত্তরবঙ্গের একটি চা-বাগানের পটভুমিকায়। ১৯৪৭ সালের পনেরই আগস্টে আমাদের প্রথম স্বাধীনতা দিবস উদ্য়াপনের সময় অনিমেষ নামে একটি কিশোর প্রথম শুনেছিল ‘বন্দেমাতরম্’ শব্দটি। শব্দটির অর্থ পুরোপুরি উপলব্ধি করতে না পারলেও তার ধ্বনি-ব্যঞ্জনা তার মনকে নাড়া দিল। এই শব্দটির ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা আর তার মূল্য বুঝতে না বুঝতে সেই কিশোর হয়ে উঠল সদ্য তরুণ। তারপর সেই তরুণ উচ্চশিক্ষার জন্য এল কলকাতায়। সেইদিন সারা শহরে আগুন জ্বলছে- এক আন্দোলনের ভয়ঙ্কর পরিবেশ। নিজের সম্পর্কে, দেশের সম্পর্কে পুরনো বিশ্বাস, শ্রদ্ধা-ভালবাসার সঙ্গে নতুন করে তার মুখোমুখি পরিচয় শুরু হল। এই কাহিনী সেদিনকার সেই কিশোর তরুণ অনিমেযের আত্ম-অনুসন্ধানের কাহিনী। বাংলা সাহিত্যের বর্তমান কথাশিল্পীদের মধ্যে সমরেশ মজুমদার অগ্রগণ্য। তাঁর বিশিষ্ট রচনাশৈল্পীদের জন্য একতম বেললেও অন্যায় হবে না। ইতিপূর্বে তাঁর অন্য উপন্যাসে পাঠকেরা সে পরিচয় পেয়েছেন। ‘উত্তরাধিকার’ উপন্যাসে তিনি এবার নিজেকেও অতিক্রম করে গেছেন। এই ধরনের ঘরোয়া গল্পে অনুপম প্রসাদ-গুণে ভরা মনোমুগ্ধকর রচনার মধ্যে একালের তরুণের জীবন-জিজ্ঞাসাকে মূর্ত করে তোলার দৃষ্টান্ত বাংলা সাহিত্যে অতি বিরল। ১৯৮৪ সালে অকাদেমি পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছে নায়ক অনিমেষের মধ্যজীবন-পর্বের কাহিনী, যে জীবনের উন্মেষ হল এই ‘উত্তরাধিকার’ গ্রন্থে।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

এত সহজে ইন্ডিয়ান অরিজিনাল প্রিন্ট পাব ভাবিনি
আমার খুব ভালো লেগেছ

📚বই নিয়ে আলোচনা ‘উত্তরাধিকার’ হচ্ছে কোনো প্রপার্টির বর্তমান কর্তার পরবর্তী অংশীদার। আর এই আলোচ্য বইটিও রচিত হয়েছে কোনো এক উত্তরাধিকারকে কেন্দ্র করে। তবে এই গল্পের প্রপার্টি কোনো ব্যক্তির নিজস্ব সম্পত্তি না। তাহলে কার উত্তরাধিকার হবে গল্পের প্রধান চরিত্র? চলুন শুরু করি- স্বর্গছেড়ার নয়নাভিরাম চা বাগান এলাকায় অনিমেষের জন্ম। প্রাকৃতিক এই সৌন্দর্যের মাঝে বেড়ে উঠতে থাকা অনিমেষের সাথে সাথে আরো একজনেরও নতুন জন্ম হলো। জন্ম হলো নতুন একটি স্বাধীন দেশের সবুজে ঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে অনিমেষ এখন যাবে জলপাইগুড়িতে। সেখানে তার জীবন গড়া শুরু হয়। সেখানেই জীবনের নতুন নতুন অধ্যায়গুলো সে আবিষ্কার করতে থাকে। সে তার সরল চোখ দিয়ে দেখতে থাকে রাজনৈতিক দলগুলোর অনৈতিক আচরণ গুলো। সদ্য স্বাধীন হওয়া দেশ এখন তার মতোই কিশোরে পরিনত হয়েছে। অথচ সেই দেশ মাতার সন্তানরা এখনো তাদের মাঝে দ্বৈরথ তৈরি করে আছে। তাদের এই রেষারেষিতে পদদলিত হচ্ছে সাধারণ থেকে অতি সাধারণরা। অনিমেষ নিজের মনেই ভাবতে থাকে, এদের কি দোষ? এরা কেনো কম দামে ভাত পাবে না? স্বর্গছেড়া থেকে জলপাইগুড়ি, তারপর রাজপথের রঞ্জিত পিচঢালা পথ পাড়ি দিতে দিতে অনিমেষ উপনীত হয় কলকাতায়। স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে কলেজে ভর্তি হবে এবার অনিমেষ। অনিমেষ এখানে এসে আবিষ্কার করে তার জীবন ট্রামের চাকার মতনই ঘূর্ণন এবং ঘর্ষনের মধ্যে স্ফুরিত স্ফূলিঙ্গ। অনিমেষের এই পথচলার পথ থেকে তার অনেক নিকট আত্মীয়কে বিদায় জানাতে হয়। আর বিদায় দৃশ্যগুলো খুবই কষ্টের। পাঠক হয়েও আমি যেন অনিমেষের সব কষ্ট বুঝতে পারছি। ‘উত্তরাধিকার’ বইটি লিখেছেন বিখ্যাত ঔপন্যাসিক ‘সমরেশ মজুমদার’। ভারত ইংরেজদের কবল থেকে স্বাধীন হবার পর, সেই দেশের রাজনৈতিক দল কংগ্রেস এবং কমিউনিস্টদের মধ্যকার সম্পর্ক পাঠকদের অনির চোখ দিয়ে অতি সরল ভাবে তুলে ধরেছেন। লেখক এই গল্পটিকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন, এবং তার জন্য যে পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন সেই সবকিছুর ছাপ দেখতে পাওয়া যায় এই গল্পের পরতে পরতে। অনিমেষ চরিত্রটির পেছনে তিনি অনেক শ্রম দিয়েছেন। তাই এই অনিমেষকে যে কোনো কিশোর নির্দ্বিধায় নিজের মধ্যে আবিষ্কার করতে পারেন। লেখক অতি সুকৌশলে কিশোরদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করাতে পারেন এই চরিত্রটি দিয়ে। তিনি তার এই গল্পের মাধ্যমে পাঠকদের ভারতের রাজনৈতিক একটি চিত্র দেখিয়েছেন। যার মাধ্যমে তিনি হয়তো বলতে চেয়েছেন যে… ‘তোমরা যে এতো দেশপ্রেম দেশপ্রেম করো, তা এই দেশপ্রেমটা কী? যখন বন্যার্তরা সাহায্য পায় না কেবল তারা অন্য মতাদর্শের বলে, তখন দেশপ্রেম কোথায় থাকে? অথবা দেশ দেশ বলে যে মানুষের উপর গুলি চালাও তখন কি তোমরা বোঝো না যে, ওরা তোমার ভাই। একই মায়ের সন্তান। তখন দেশপ্রেম কই থাকে?’ যাইহোক, উত্তরাধিকার বইটি থেকে আমি অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। অন্তত দেশপ্রেম বলে যে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নাই সেটা ভালো বুঝেছি। অনির কাকার মত করে আমারও বলতে ইচ্ছে হয়… ‘এই স্বাধীনতা মিথ্যা’ ধন্যবাদ বই হোক আপনার, আর আপনি বইয়ের
এই বইটি পড়ার সময় আপনি অনেকবার স্তব্ধ হয়ে যাবেন! কখনো হাসবেন আবার কখনো চোখের কোণে পানি চলে আসবে! কখনো,কখনো বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে যাবেন! অসাধারণ লেখনী! ঔপন্যাসিক এই উপন্যাসটি এমনভাবে শেষ করেছেন যে এই বইটি শেষ করার পর আপনি এই সিরিজের দ্বিতীয় বই কালবেলা পড়ার জন্য দিন গুণতে থাকবেন!

best























