

Buy সুবর্ণলতা Online in Bangladesh
লেখক: আশাপূর্ণা দেবী
- Author: আশাপূর্ণা দেবী
- Publisher: মিত্র ও ঘোষ পাবলিশার্স প্রাঃ লিঃ (ভারত)
- Isbn: 817293002X
- Number Of Pages: 438
- Language: বাংলা
- Edition: 47th Edition, 2015
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
'সুবর্ণলতা' বইয়ের লেখকের কথা আপাতদৃষ্টিতে ‘সুবর্ণলতা’ একটি জীবনকাহিনী, কিন্তু সেইটুকুই এই গ্রন্থের শেষ কথা নয়। সুবর্ণলতা একটি বিশেষ কালের আলেখ্য। যে কাল সদ্যবিগত, যে কাল হয়তাে বা আজও সমাজের এখানে সেখানে তার ছায়া ফেলে রেখেছে। সুবর্ণলতা’ সেই বন্ধন-জর্জরিত কালের মুক্তকামী আত্মার ব্যাকুল যন্ত্রণার প্রতীক। আর একটি কথা আবশ্যক। আমার প্রথম প্রতিশ্রুতি গ্রন্থের সঙ্গে এর একটি যােগসূত্র আছে। সেই যােগসূত্র কাহিনীর প্রয়ােজনে নয়, একটি ভাব’কে পরবর্তী কালের ভাবধারার সঙ্গে যুক্ত করার প্রয়ােজনে।। সমাজবিজ্ঞানীরা লিখে রাখেন সমাজ-বিবর্তনের ইতিহাস, আমি একটি কাহিনীর মধ্যে সেই বিবর্তনের একটি রেখাঙ্কনের সামান্য চেষ্টা করেছি মাত্র। – লেখিকা
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

অসাধারণ
Good writing obviously but best one is Prothom Protusruti.
আপাতদৃষ্টিতে ‘সুবর্ণলতা’ একটি জীবনকাহিনী, কিন্তু সেইটুকুই এই গ্রন্থের শেষ কথা নয়। সুবর্ণলতা একটি বিশেষ কালের আলেখ্য। যে কাল সদ্যবিগত, যে কাল হয়তাে বা আজও সমাজের এখানে সেখানে তার ছায়া ফেলে রেখেছে। সুবর্ণলতা’ সেই বন্ধন-জর্জরিত কালের মুক্তকামী আত্মার ব্যাকুল যন্ত্রণার প্রতীক। আর একটি কথা আবশ্যক। আমার প্রথম প্রতিশ্রুতি গ্রন্থের সঙ্গে এর একটি যােগসূত্র আছে। সেই যােগসূত্র কাহিনীর প্রয়ােজনে নয়, একটি ভাব’কে পরবর্তী কালের ভাবধারার সঙ্গে যুক্ত করার প্রয়ােজনে।। সমাজবিজ্ঞানীরা লিখে রাখেন সমাজ-বিবর্তনের ইতিহাস, আমি একটি কাহিনীর মধ্যে সেই বিবর্তনের একটি রেখাঙ্কনের সামান্য চেষ্টা করেছি মাত্র। – লেখিকা।
পশ্চিমবঙ্গের উপন্যাস ও গল্প

:::রিভিউ::: মানুষ হয়ে জন্মানো অনেক সহজ, একটা রক্ত মাংসের কাঠামোর সাথে চামড়ার জামা চড়িয়ে চলে এলাম পৃথিবী নামের এই ধামে। কিন্তু মানুষ হয়ে বেঁচে থাকাটা কি ততটা সহজ? ঐ রক্ত মাংসের গঠনের প্রভেদে মানুষের করা হয় ভাগ। একভাগকে বলা পুরুষ আর একভাগকে বলা হয় নারী। পুরুষ তো শক্তিমান, সে রূপে জন্ম তাই স্বার্থক। স্রষ্টাও তো তাই পুরুষ, পুরুষই তাই প্রকৃত মানুষ। আর নারী ? সে দুর্বল এক মাংসে ঢেলা। হোক সে জননী, হোক সে মা। তাই বলে ওদের মানুষ বলে মেনে নিতে হবে? কখনো না পরম ভাগ্য ওদের পুরুষেরা ওদের দাসীত্ব করার সুযোগ দিয়েছে। দুর্বল এই জীবগুলোকে তিনবেলা খাদ্য সংস্থানের, মাথার উপর ছাদের নিশ্চয়তা দিয়েছে। সারাটা জীবন ধরে দাসীত্ব করেও কি এই ঋণ ঘোচে? ঘোচে না। কিন্তু এই হাজার বছর ধরে চলে আসা সত্যিটা মেনে নিতে এতো কেন আপত্তি কলকাতার এক গৃহস্থ বাড়ির বউ সুবর্ণলতার? নাকি সেও তার মায়ের মত হাজার বছর ধরে লক্ষ নারীর মানুষ না হতে পারার ঋণের বোঝা শোধ করতে চায়। বইয়ের নামঃ সুবর্ণলতা ( সত্যবতী ট্রিলজি ২ ) লেখিকার নামঃ আশাপূর্ণা দেবী প্রকাশনাঃ মিত্র ও ঘোষ পৃষ্ঠাসংখ্যাঃ ৩৩৮ প্রথম প্রকাশঃ চৈত্র, ১৩৭৩ সুবর্ণলতা নয় বছর বয়সে যেদিন বিয়ে হয়ে কলকাতার দর্জিপাড়ার শ্বশুরবাড়িটিকে প্রবেশ করেছি সেদিন শৈশবের গন্ধ নিঙরে বের করে সুবর্ণলতাকে কয়েদের অন্ধকার কারাগারে বন্দী করেছিলো। কথা ছিলো ঐ অন্ধকারে একটু একটু করে হারিয়ে যাবে সুবর্ণ। সে কথা তো মিললে না। সুর্বণ হারায়নি। আর নিজের স্বত্বাকে যেন প্রতিটি দিন আরও স্পষ্ট করেছিলো শ্বশুরবাড়ির নরকের প্রতিটি জল্লাদের হাতে। জীবনের ৩৬ টি বছর স্বামী নামের যে পুরুষটির সাথে কাটিয়ে দিয়েছে। যে মানুষটি সময়ের প্রবাহে কোন সাধ অপূর্ণ রাখেনি সুবর্ণলতার। দক্ষিণ বারান্দা দেয়া নিজেদের ভিন্ন একটা ঝলমলে বাড়ি, সবুজ রঙের রেলিঙ। কি বাদ রেখেছে দিতে সুবর্ণকে? সেই মানুষটিকে বিনিময়ে ঘেন্নার বদলে একটু মমতা দিতে পারলো না সুবর্ণ? প্রশ্ন কি এক পক্ষে শেষ হয়? হয় না। ৩৬ টি বছর ধরে এক ঘরে সুবর্ণ নামের এক নারীর শরীরের সাথে শরীর ঘেঁষে শুয়ে স্বামী প্রবোধ কি কখনো জানতে চেয়েছে এই দীর্ঘ বছরগুলোতে কেন সুবর্ণ বার বার বিদ্রোহী হয়েছে? কখনো গলায় দড়ি দিয়ে, কখনো বিষ খেয়ে মরার জন্য কেন এতো আকুতি ছিলো সুবর্ণর? কেন প্রবোধ সুর্বণকে বোঝার চেষ্টা করেনি? বুঝতে না পারার অক্ষমতা, ব্যর্থতা মেনে নিতে না পেরে কেন বার বার পাষন্ডের মত মেরেছে? শাশুড়ী মুক্তাকেশীর হাতে নয় বছরের সুবর্ণ যখন এসে পরে সবাই ভেবেছিলো ডাকাবুকো মুক্তাকেশী ঠিক তার শাসন নামের অত্যাচার আর নিপীড়ন দিয়ে ঠিকই মেজ সন্তানের এই বৌকে ভেঙ্গে গড়ে নিবেন। কিন্তু একটা দিনের জন্য কি মুক্তাকেশী সুবর্ণকে ভাঙ্গতে পেরেছিলেন? পারেন নি। সুবর্ণকে জীবনের পরের ৩৬ টা বছরের আগে যে নয়টি বছর মা সত্যবতীর কাছে কেটেছে সেই বছরগুলি বাকী জীবনের উপর রাজত্ব করে গেছে। একটা দিনের জন্যও জায়গা ছাড়েনি। সোনার খাঁচায় সুবর্ণ নামের যে পাখিটিকে প্রবোধ বন্দী রাখতে চেয়েছিলো। শেষ পর্যন্ত সেই পাখিটিকে কি আর বন্দী রাখতে পারলো প্রবোধ। সংসারকে কানায় কানায় পূর্ণ করে দিয়েছিলো সুবর্ণ। শুধুটা ফাঁকিটা দিলো স্বামী প্রবোধকে। এ যেন প্রতিশোধ নয়, প্রতিকার। ৩৬ বছর আগে অবিশ্বাস, ঘেন্না আর অশ্রদ্ধার যে ব্যাধি বাসা বেঁধেছিল এই নবাগত বধুর হৃদয়ে। মৃত্যুর কালো অন্ধকারেই যেন সেই ব্যাধির প্রতিকার লেখা ছিল। ব্যক্তিগত মতামতঃ আমার ক্ষুদ্র বইপোকা জীবনে আমি অসাধারণ কিছু বই পড়েছি। সেই সময়, সাতকাহন, পার্থিব আর অনেক। কিন্তু কোন বই পড়ে আমার মনে হয়নি। বইটা আবারও পড়া প্রয়োজন। আজ সুবর্ণলতা শেষ করার পর মনে হচ্ছে। আরেকবার বই পড়া প্রয়োজন। সুবর্ণলতাকে হয়তো জানা হলো না। কোথায় যেন অনুসন্ধান অসম্পূর্ণ রয়ে গেল এক তৃষিত হৃদয়ের বোবা হয়ে থাকা না পাওয়া সুখের স্তুপকৃত অনুভূতিগুলির। ওরে প্রাণের বাসনা প্রাণের আবেগ রুধিয়া রাখিতে নারিদেহকে বন্দী রাখলেই স্বত্বাকে বন্দী করা যায়? যায় না। হাজার বছরের কোন পাহাড়ী গুহায় গুমরে থাকা অন্ধকার একদিন একদিন খুঁজে নেবেই রবির আলো। তাই তো কবিগুরু বলেছেন, আজি এ প্রভাতে রবির কর কেমনে পশিল প্রাণের পর, কেমনে পশিল গুহার আঁধারে প্রভাতপাখির গান! না জানি কেন রে এত দিন পরে জাগিয়া উঠিল প্রাণ। জাগিয়া উঠেছে প্রাণ, ওরে উথলি উঠেছে বারি, ওরে প্রাণের বাসনা প্রাণের আবেগ রুধিয়া রাখিতে নারি।
প্রশ্ন ও উত্তর (Q/A)
page koyta ?
প্রিয় গ্রাহক, বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা ৪৩৮। ধন্যবাদ।
page koyta ?
প্রিয় গ্রাহক, বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা ৪৩৮। ধন্যবাদ।























