

Buy শকুনি উবাচ Online in Bangladesh
লেখক: মাহমুদুর রহমান
- Author: মাহমুদুর রহমান
- Publisher: নালন্দা
- Isbn: 9789849504467
- Number Of Pages: 120
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2021
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
“শকুনি উবাচ" বইটির ফ্ল্যাপ এর লেখাঃ কার কুটিলতায় কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল? এমন প্রশ্ন উঠলে মহাভারত সম্পর্কে ন্যূনতম জ্ঞান রাখা ব্যক্তিও নির্দ্বিধায় একটি নাম উচ্চারণ করবেন— শকুনি। আমাদের অন্যতম জনপ্রিয় দুটি বাগধারা কংস মামা আর শকুনি মামা'। কংসের পরিচয় সবিস্তারে না জানলেও শকুনি সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানি যে এই লােকটি পাশা খেলে দ্রৌপদীকে অপমানের দরুন এক সময় কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ হয়েছিল। | কিন্তু এই সাধারণ জ্ঞান’-এর বাইরে মহাভারতের মহারণ্যে শকুনিকে খুঁজতে গেলে অনেক বাধাবিপত্তি বেরিয়ে তার কাছে পৌঁছতে হয়। কেননা, প্রথমত, ব্যাসদেব একটা অসাধারণ খল চরিত্র সৃষ্টি করলেন বটে কিন্তু তার সম্পর্কে মহাকাব্যে তেমন কিছুই আমাদের জানিয়ে যাননি। দ্বিতীয়ত, যেটুকু জানিয়েছেন, আমাদের প্রচলিত ভার্সনে আমরা শকুনিকে ব্যাসদেবের অঙ্কন অনুসারে পাই না। বাজার অর্থনীতির যুগে শকুনি চরিত্রটি সিনেমার ‘ভিলেন’রূপে আমাদের কাছে পরিচিত। মহাভারতের শকুনির প্রতিটি কাজের পেছনে রয়েছে কিছু কারণ। আমরা শকুনির কুটিলতা সম্পর্কে জানি কিন্তু শকুনির শকুনি’ হয়ে ওঠার গল্পটা জানা হয়নি। আমি সেই শকুনির খোঁজ করেছি যিনি ধর্ম অর্থাৎ কর্তব্যের উপরে বুদ্ধিকে, পরিকল্পনাকে স্থান দেন। এমন একটি মানুষকে সন্ধান করার চেষ্টা করেছি যে মূলত তার সময় থেকে অনেক এগিয়ে ছিলেন। অর্থাৎ, আধুনিক মূলত ব্যাসদেব যে চরিত্রটি সৃষ্টি করেছেন তিনি নিজে সে চরিত্রের পূর্ণতা দেননি। হতে পারে সৃষ্টিশীল মানুষের খামখেয়ালি স্বভাবের স্বীকার হয়েছিলেন শকুনি। অথবা এমন হওয়া সম্ভব, ব্যাসদেব আসলে শকুনিকে একটা সাইড ক্যারেক্টার হিসেবেই নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে মহাভারত যখন ‘কাহিনি' হয়ে গেল তখন শকুনি হলেন এর খলনায়ক আর হাজার হাজার বছর পরে তাকে খল চরিত্র করে সহজেই চালু সিনেমা তৈরি করা গেল। শকুনিকে খল চরিত্র করেই জটিল মহাভারত হয়ে গেল সহজ। কিন্তু সেখানেও শকুনিকে ‘গথাম সিটি’র ‘জোকার’-এর মতাে জটিল চরিত্র তৈরি করে প্রায় সবাই তাকে বলিউডি ভিলেন’ করেই রেখে দিলেন।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
MOTAMUTI VALO, CINEMATIC
আচ্ছা ভিলেন বা হিরো আমরা কিভাবে নির্ধারণ করি? যখন কেউ ভালোর দলে থাকে ভালো কাজ করে তখন সে হিরো যখন কেউ খারাপ কাজ করে তখন সে খারাপ তাই তো? কিন্তু যদি এই ভালো খারাপের কনসেপ্টটায় প্রশ্নবিদ্ধ হয় তখন তাকে কি বলবেন? ব্যাটমান ভালো জোকার খারাপ এমনটা নির্ধারণ করা সহজ কিন্তু সুপারম্যান আর ব্যাট ম্যানের মাঝে যখন দ্বন্দ তখন কে ভালো আর কেই বা খারাপ? তাহলে বোঝা গেল এতো সহজে ব্যাপারটা নিয়ে বলা যায় না। মানুষের চরিত্র এমন সাদা কালোতে নির্নয় সম্ভব নয় এর মাঝে অনেক ধুসর অংশ আছে। এমনই এক দ্বন্দ আছে মহাভারত নিয়ে। মহাভারত হিন্দু মিথলজির এক অমোঘ গাঁথা। এর পাত্র পাত্রীগণ যেমন শৌর্য বীর্যের প্রতীক তেমনি তাদের সবারই আছে কিছু দুর্বলতা, কিছু পাপ কিছু পুন্য। তাই চট করে কাউকে ভিলেন বলা এতো সহজ না। ভিলেনের ও আছে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ। বলা হয়ে থাকে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ভিলেনদের একজন মহাভারতের শকুনি। সত্যিই কি তাই? এমনই কিছু কথা নিয়েই লেখা মাহমুদুর রহমান এর উপন্যাস “শকুনি উবাচ” মানে শকুনির কথা। চলুন তাহলে আজকে শকুনির কথা শুনি। শকুনির পরিচয় ঃ শকুনির আসল পরিচয় তিনি গান্ধার রাজ্যের যুবরাজ আর সম্পর্কে হস্তিনাপুরের সম্রাজ্ঞী গান্ধারীর ভাই। এ হিসেবে হস্তিনাপুরের বড় কুটম্ব। উল্লেখ্য যে শকুনি ভগ্নি অন্তপ্রাণ। তাই হস্তিনাপুরের অন্ধ রাজার জন্য একমাত্র ভগ্নীর বিবাহের প্রস্তাব মেনে নিতে পারেননি। গান্ধার রাজ সম্মতি প্রদান করেন ভীস্মের ভয়ে। কারণ এ প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলে বা অসম্মতি জানালে ভীস্ম এটাকে হস্তিনাপুরের অসন্মান জ্ঞানে গান্ধার আক্রমণ করতে দ্বিধা করবে না। আবার এই বিয়েও সম্পন্ন করতে হবে হস্তিনাপুরে তাই গান্ধারী সহ হস্তিনাপুরে আগমন শকুনির। কিন্তু তিনি মনে প্রাণে এ সম্বন্ধ মেনে নিতেল পারেন নি। দাম্ভিক ভীস্ম যিনি রাজা নাহয়েও হস্তিনাপুরের সর্বময় কর্তা। আর ধৃতরাষ্ট্র নিজের অন্ধত্ব নিয়ে যিনি হিন্যমনতায় ভোগেন। যেকোনো সিদ্ধান্ত নেবার জন্য যাকে প্রধানমন্ত্রী বিদুর আর ভীস্মের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। এমন বিশাল ঐশ্বর্যশালী সাম্রাজ্য আর এর দাম্ভিক রাজাদের দর্প চুর্ণ করতেই শকুনি নিজের অজান্তেই এক কালজয়ী আখ্যানের অন্তর্গত হয়ে পড়েন। বইয়ের ফ্ল্যাপ থেকেঃ আদতে শকুনি ছিলেন একজন বুদ্ধিমান, প্রতিভাশালী মানুষ। আর্যাবর্তের উচ্চ-নীচ ভেদাভেদের প্রতি তার কিছু ক্ষোভ ছিল, অভিযোগ ছিল। সেখান থেকেই প্রতিশোধ পরায়ণ হয়েছেন। হয়ত লোভীও ছিলেন। শকুনিকে বুঝতে গেলে তার এই ক্ষোভ, প্রশ্ন, লোভ আর মহাভারতের নানা কার্যকারণের দিকে লক্ষ্য করতে হয়। সেখান থেকে শকুনি চরিত্র বিশ্লেষণ করলে তাকে হয়ত সাহিত্যের প্রথম ‘সাইকোপ্যাথ’ বলেও ধরা যাবে। সে চেষ্টা করতে গিয়েই দেখলাম শকুনির মধ্যে রয়েছে নানামুখী প্রতিভা। তিনি ভালো পাশারু, হিসাবে দক্ষ। মানুষের মনস্তত্ত্ব নিয়ে ভাবতেন। আসলে মহাভারতে শকুনি কোন দৈব ক্ষমতা ব্যবহার করেনি। মানবীয় ক্ষমতা দিয়েই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। কিন্তু একালে একতরফা ‘ভিলেন’ বানিয়ে শকুনির প্রতি যে অবিচার মানুষ করছে, সেরকম অবিচার করেছেন খোদ ব্যাসদেব। মহাকাব্যে যথেষ্ট জায়গা নিয়ে তিনি শকুনিকে আঁকেননি। কোথাও না কোথাও শকুনিও বঞ্চনার শিকার। শকুনি অবশ্যই ‘খল’ ছিলেন কিন্তু তাকে আরও গভীর ভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি মনে করি। সে বঞ্চনার ইতিহাস লেখা হয়নি। আমার মনে হয়েছে শকুনির কিছু বলার আছে। মহাভারতে দাঁড়িয়ে একমাত্র শকুনির পক্ষেই এমন অনেক কথা বলা সম্ভব যা বলার সাহস অন্য কারও ছিল না। বেশির ভাগ মানুষের ধারণা শকুনির পাশার দানেই উলটে যায় নিয়তি রচনা হয় এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের। সত্যি কি তাই? এক পাশার কি এতোই ক্ষমতা? এর পেছনে কি কুরুবংশের সর্বগ্রাসী লোভ ছিল না? স্বীয় ভাইদের ঠকানোর হীন মানুসিকতা? ছিল না পুত্রপ্রেমে অন্ধ রাজার আস্কারা? ছিল না পান্ডবদের সর্বজয়ের অহংকার? তাহলে শকুনিকেই ভিলেন ভাবার কারণ কি? বইয়ের ভালো মন্দ নিয়ে কিঞ্চিৎ আলাপঃ সবার আছে আত্মপক্ষ সমর্থনের অবকাশ। সেখান থেকেই এই বইটি পড়ার বাসনা হয়। জানতে চাইছিলাম সবার সামনে দাঁড়িয়ে আসলে শকুনি কি বলেছিল? হতাশ হলাম আসলে শকুনিকে এক্সপ্লেইন করতে দেয়া হয়নি কিছুই। ব্যাসদেব এমনিতেই শকুনিকে সেই সুযোগ দেননি। সে তার নিজ জিঘাংসা চরিতার্থ করতে দুর্যোধন কে স্কাপগোট বানিয়েছে। ভায়ে ভায়ে বিবেধ, হিংসা,দ্বেষ,লোভ আর কাম কে পুঁজি করে কুরুবংশের নাশ ডেকে আনতে প্ররোচিত করেছে এবং শেষে সবার সাথে তার নিজেরও ইতি ঘটেছে সহদেবের হাতে। বইটির ভালো দিক আন ইউজুয়াল ভিলেনকে পুঁজি করে লেখা। খারাপ দিক গল্পের ন্যারেসান খাপছাড়া । পাঠক গল্পের সাথে নিজেকে রিলেট করতে অক্ষম। পুরো মহাভারতে শকুনি সব সময় যে সামনে থেকেই তার স্কিমিং চালিয়েছেন তা কিন্তু নয় কিন্তু তার ব্লেন্ডিং ছিল রন্ধ্রে রন্ধ্রে। গান্ধারীর কথায়, বিদুরের ভ্র কুঞ্চনে, ভীস্মের তাচ্ছিল্যে। কিন্তু সেটা বইতে ফুটে ওঠেনি। গল্পে হঠাৎ করেই গল্পের ন্যারেটারদের আগমন যেন নাটকে বিবেকদল বলে ভ্রম হয়। তাদের এক্সপ্লেনেশন চিত্তগ্রাহী হবার কথা ছিল,হয়নি। এর আগে চিত্রা ব্যানার্জি দিব্যকরনীর “প্যালেস অব ইলুশন” পড়ে দেখলাম। বইটা দ্রোপদীর আক্ষানে মহাভারত বলায় বেশি যুক্তিযুক্ত হবে। বইটিতে দারুণভাবে দ্রোপদীর চাওয়া, পাওয়া, ঈর্ষা আকাঙ্খা ও আত্মগ্লানির প্রতিফলন দেখানো হয়েছে। সেখানে দ্রোপদীর সাথে সাথে পাঠকও আকুল হয়েছেন পুড়েছেন আত্মগ্লানিতে। মহাভারত নিয়ে আসলে নতুন করে লেখার কিছু না থাকলেও ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে তার ব্যাখ্যা তো করাই যায়। এমনই কিছু আশা করেছিলাম বইটি থেকে। দুঃখের বিষয় মাহমুদুর রহমান এর শকুনি উবাচ এ সে সব মিসিং মনে হয়েছে। মানছি পুরো মহা ভারতে শকুনির অবস্থান খুব বেশি নয় কিন্তু তার প্রভাব ছিল দীর্ঘ মেয়াদি। এটাকে পুঁজি করেই লেখক শকুনিকে চিত্রায়িত করতে পারতেন তা না করে তিনি যা এক্সপ্লেইন করেছেন তা খাপছাড়া দুর্বল এক্সকিউজ মনে হয়েছে। সাধু রীতির ব্যবহার, বানান ভুল সর্বপরি কর্ণের মতো চরিত্রে নাম ভুল বিরক্তির উদ্রেক করেছে। মোস্তাফিজ কারিগরের প্রচ্ছদ গতানুগতিক আহমরি কিছু নয়। সব মিলিয়ে ভালো প্রসপক্টের হতাশাজনক বই। এক নজরে শকুনি উবাচ ঃ বইঃ শকুনি উবাচ লেখকঃ মাহমুদুর রহমান প্রকাশনী ঃ নালন্দা প্রকাশকালঃ ফেব্রুয়ারী ২০২১ প্রচ্ছদ ঃ মুস্তাফিজ কারিগর পৃষ্ঠা ঃ ১২০ মুল্যঃ ২৭৫ টাকা

জানার জন্য মহাভারত, রামায়ণ পড়তে গিয়ে মোটা দাগে অনেক কিছু আমাদের চোখ এড়িয়ে যায়। আমরা বিস্মৃত হই পার্শ্ব-চরিত্র সমূহ। নায়ক আর খলনায়কের বর্ণনায় সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ ক্ষমতাও যায় হারিয়ে কখনো। তেমনই মহাভারতের একটি পার্শ্ব-চরিত্র শকুনি। দুর্যোধন,দুঃশাসনের মামা গান্ধাররাজ শকুনি। সাধারণভাবে আমরা দেখি দুর্যোধনের যাবতীয় কু-কর্মে, কুমন্ত্রণায় শকুনির সরব উপস্থিতি ৷ তার ভূমিকা এতই শঠতাময়, কুমন্ত্রণাময় যে মহাভারতের মূল গল্পের অবতারণাই যেন হয়েছে তার জন্য! আমাদের বাংলা বাগধারাতেও শকুনি মামা স্থান করে নিয়েছেন কুচক্রী ব্যক্তি হিসাবে। অথচ তার মনস্তাত্ত্বিক চিন্তাধারা সম্পর্কে আমরা বিন্দুমাত্র ভাবতে অনিচ্ছুক। শকুনিকে যেনো স্বয়ং ব্যাসদেবই নিতান্ত অবহেলায়, অনিচ্ছায় জায়গা দিয়েছেন মহাভারতে । কিন্তু কেনই বা নিজ রাজ্য ছেড়ে তিনি পড়ে রইলেন হস্তিনাপুরে৷ পুরো আর্যাবতকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে আনার পেছনে কি ভগিনীর জন্য ভালোবাসা স্থান পায় নি! এমন প্রশ্ন জেগেছিল কি মনে? শকুনির কি কিছুই বলার ছিলো না? হ্যাঁ ছিলো, একমাত্র তার পক্ষেই বলা সম্ভব ছিলো সবকিছু। দুই বাংলায় প্রতিনিয়ত মহাভারত, রামায়ণ নিয়ে গবেষণা চলছে৷ পৌরাণিক কাহিনি একেকজন একেকভাবে বিশ্লেষণ করছেন। দারুণ সব কাজ হচ্ছে। রাজনীতি,যুদ্ধনীতি, সমাজ,সংস্কৃতি, চরিত্ররা ভেঙে নতুন করে তৈরি হচ্ছে। সাধারণ পাঠকদের সুবিধা হচ্ছে চরিত্রগুলো নিয়ে আরো বিস্তৃত চিন্তা করার । তেমনি তরুণ কথাসাহিত্যিক মাহমুদুর রহমান বিশ্লেষণ করেছেন মহাভারতের খল চরিত্র শকুনিকে। তার যা কিছু খল তা একপাশে রেখে তিনি শুধু তার খল হয়ে উঠার পেছনের গল্পটা শব্দে গেঁথেছেন৷ তরুণেরা মানসম্মত কিছু লিখতে পারছে না, বাংলা সাহিত্যের ভরাডুবি আসন্ন এমন অসংখ্য অভিযোগ কাঁধে নিয়ে তরুণেরা লিখে চলেছেন৷ পুরাণ, ইতিহাস, ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করা তরুণের সংখ্যাটিও কম নয়৷ বিশেষ করে মাহমুদুর রহমান'র কথা বলতেই হয়৷ প্রতিনিয়ত নিজের প্রতিভার শতভাগ দিয়ে যাচ্ছেন লেখালেখিতে। বড় পরিসরে মোঘলদের নিয়ে কাজ করে মহাভারতের মহাসাগরে নেমেছেন তিনি৷ মহাভারত নিয়ে কাজ করা যেকোনো তরুণ সাহিত্যিকের জন্য ট্রেনিং ছাড়া প্রথমবার হিমালয়ে আহরণ করার মতোই৷ গতবছর পৌরাণিক চরিত্র কর্ণকে নিয়ে লেখা 'রাধেয়' প্রশংসিত হয়েছে দুই বাংলায়। এবছর বের হয়েছে মহাভারতের আরেক পৌরাণিক চরিত্র শকুনিকে নিয়ে লেখা ' শকুনি উবাচ '৷ কি দুর্দান্তভাবেই না তিনি শকুনির মনস্তাত্ত্বিক চিন্তাধারা সম্পন্ন তুখোড় বুদ্ধির একটি মানুষ সৃষ্টি করেছেন! এই শকুনিকে যেমন মনে হতে পারে অচেনা তেমনিই কে জানে হয়তো আপনার থেকে কিছুটা সমবেদনাও তিনি পেতে পারেন৷ বর্তমান সময়ের বৃষ্টিস্নাত একদিনে কেরালার নির্জন শকুনি মন্দিরে এক বৃদ্ধের মনোমুগ্ধকর বয়ানে গল্প শুনছে দুই তরুণ। বৃদ্ধের বয়ানে যেন শকুনি নিজস্ব দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করে চলেছেন তার সকল কর্মকাণ্ডের। মহাভারতে যতটুকু তার উপস্থিতি ততটুকুতেই তিনি পুরো আর্যাবতকে কাঁপিয়ে দিয়েছেন। মহাভারতে যেখানে বারবার তাকে ঐ পাহাড়ি মানুষ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রাণপ্রিয় বোন গান্ধারীকে বিয়ে দিতে হয়েছে অন্ধ ধৃতরাষ্ট্রের সাথে। পুরো কাহিনিতে শকুনিকে মনে হবে তুখোর বুদ্ধিসম্পন্ন, প্রতিশোধপরায়ন এক সাইকোপ্যাথ। মাহামুদুর রহমানের সত্যান্বেষী কলমে নিছক এক চরিত্র থেকে সৃষ্টি হয়েছে রক্তমাংসের এক শকুনি। 'শকুনি উবাচ' সাধারণ পাঠকদের মনে শকুনিকে জানার আকাঙ্খা বহুগুণে বাড়িয়ে দিবে তা নিশ্চিত। বিশ্লেষণ, শব্দচয়ন, টীকা এবং গল্প বলার ঢংয়ে যথেষ্ট যত্নের ছাপ লক্ষণীয়। ক্ষেত্রবিশেষে টীকার আরো প্রয়োজন বলে মনে হয়েছে কিন্তু গল্পের গতিশীলতায় তা পাত্তা পায় নি৷ তাহলে আসুন শোনা যাক 'শকুনি উবাচ'৷ শকুনি উবাচ সবার কাছেই সুখপাঠ্য হয়ে উঠুক এই কামনা করি ❤️ বইঃ শকুনি উবাচ লেখকঃ মাহমুদুর রহমান প্রচ্ছদঃ মোস্তাফিজ কারিগর প্রকাশনীঃ নালন্দা প্রকাশ সনঃ ২০২১ পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ১২০ মলাটমূল্যঃ ২৭৫/=





















