

Buy স্বর্ণবাজ Online in Bangladesh
লেখক: সিদ্দিক আহমেদ (লেখক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা)
- Author: সিদ্দিক আহমেদ (লেখক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা)
- Publisher: ঋদ্ধ প্রকাশ
- Number Of Pages: 286
- Language: বাংলা
- Edition: 1st Published, 2022
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
সারসংক্ষেপ: দিল্লীর মসনদে হুমায়ুনকে বিতাড়িত করে যখন চেপে বসেছেন শের খান শূরি, ঈসা খাঁর পিতা সোলায়মান খানের মাথায় তখন একটাই চিন্তা৷ পুরো বঙ্গের সুলতান হবেন৷ আর সেজন্য প্রথমেই শের খানের বিরুদ্ধে করতে হবে বিদ্রোহ৷কয়েক দফা যুদ্ধ হয়ে গেল দুই পক্ষে৷ মধুর ভাণ্ডে করে সোলায়মান খানের শিবিরে কী পৌঁছালো? কামানের আঘাতে মারা পড়ল শত শত যোদ্ধা৷ উন্মত্ত হাতি পিষে ফেলল পক্ষ-বিপক্ষের সবাইকে৷এদিকে সোলায়মান খানের দুর্গে কী ষড়যন্ত্র বয়ে গেল?আততায়ীর ছায়া দ্বারে দ্বারে৷ তিনি কীভাবে মোকাবেলা করবেন সব? তার পুত্রদ্বয় ঈসা আর ইসমাইলের জীবন কোন স্রোতে প্রবাহিত হবে?বারো ভূঁইয়াদের মাঝে সবচেয়ে প্রতাপশালী এবং রহস্যময় চরিত্র ঈসা খান। ছোট্ট বালক থেকে সমগ্র বাংলার সালতানাতের ভীত কাঁপিয়ে দেওয়া প্রবল প্রতাপশালী ঈসা খান হয়ে ওঠার পেছনের এক মহাকাব্যিক যাত্রা উঠে এসেছে এই বইয়ে। মধ্যযুগের কূটনীতি ভরা রোমাঞ্চকর এক যাত্রায় স্বাগতম৷
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
One of the best.
7

#Book_Mortem 44 #স্বর্ণবাজ লেখকঃ সিদ্দিক আহমেদ প্রচ্ছদঃ ফরিদুর রহমান রাজীব প্রকাশনীঃ ঋদ্ধ প্রকাশ পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ২৮৬ মূদ্রিত মূল্যঃ ৪৫০ টাকা "Only The Dead Have Seen The End of War" বাংলার বারো ভূইয়া কিংবা ঈসা খাঁন, তাদের সম্পর্কে খুব অল্প করে পড়েছিলাম সেই কোন স্কুলে থাকতে। তাও বাধ্য হয়ে পড়ার কারনেই কি না, সেই সময়ে এতো আগ্রহ পেতাম না ইতিহাস নির্ভর কোনো কিছু পড়তে। তবে এখনকার কথা ভিন্ন। এখন ইতিহাসই আমাকে বেশী টানে। তার উপর সেই ইতিহাসের গল্প যদি লেখা হয় সিদ্দিক আহমেদ নামক একজনের হাত দিয়ে, তাহলে সেটা তো আমার জন্য একেবারে সোনায় সোহাগা। #পর্যালোচনাঃ স্বর্ণবাজ লেখা হয়েছে ঈসা খানের জীবনী অবলম্বনে এটা জেনেই বইটা কিনেছিলাম। কিন্তু সেই জীবনী একদম তাঁর শিশু বয়স থেকে শুরু হবে তা ভাবিনি। এই বইয়ের কাহিনী শুরু হয় শের খান শূরির দিল্লীর বাদশাহ হুমায়ুনকে বিতারিত করে সেই সিংহাসনে বসার সময় থেকে। যখন ঈসা খান একদমই নাবালক এক শিশু মাত্র। আর তাই বইয়ের দুই তৃতীয়াংশ জুড়েই আমরা দেখতে পাই নাবালক ঈসার পিতা সোলায়মান খানের কাহিনী। উফ!! কি অসাধারণ চমৎকার সেই কাহিনী। লেখক বইয়ের শুরুতেই বলে দিয়েছেন তিনি মধ্যযুগের কাহিনীকে ধরতে চেয়েছেন ইতিহাসের মধ্যে থেকেই। কল্পনার আশ্রয় নিলেও তা কখনোই ইতিহাস থেকে দূরে সড়ে যায়নি। আর তাই বইটা পড়তে গিয়ে প্রতি পদে পদে আমি রোমাঞ্চিত হয়েছে সেই সময়ের মানুষদের জীবন যাপন, রীতিনীতি কিংবা যুদ্ধের কৌশল দেখে। তৎকালীন সেনাদের উৎসর্গ, রাজাদের প্রতি সাধারণ মানুষদের মনোভাব, রাজাদের নৃশংসতা, একের পর এক বুদ্ধির কূটকৌশল এ সব কিছুই আবিষ্কার করে বিমোহিত হয়েছি। এই বইটা টার্নস এন্ড টুইস্টের না, এই বইটা হাই অকটেন একশনেরও না। এই বইটা স্রেফ পড়ে যাওয়ার। এখানে নেই কোনো পাজল, নেই কোনো জমাট রহস্য, এখানে আছে শুধুই যুদ্ধ, জীবনবোধ আর অহংবোধ। সিদ্দিক ভাইয়ের লেখনশৈলীর মাধ্যমে এই বিষয়গুলো এতো এতো এতো চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে যে আমি স্রেফ গোগ্রাসে গিলেছি পুরোটা বই। বিভিন্ন কারনে টানা পড়তে পারিনি। তবে যতোবারই বইটা হাত থেকে রেখে উঠতে বাধ্য হয়েছি, ততবারই মনটা বইয়ের ভিতরেই রেখে এসেছিলাম। বইয়ের প্রতিটি পৃষ্টা তড়িয়ে তড়িয়ে উপভোগ করেছি। পুরো বইটাই আগাগোড়া আমাকে তার সাথে আকড়ে ধরে রেখেছিলো। টার্নস এন্ড টুইস্ট নেই বলেছিলাম; ভুল বলেছিলাম, বইয়ের প্রতিটা পৃষ্ঠাই উত্তেজনার। প্রতিটা পৃষ্ঠা শেষ করার পর অবধারিতভাবে পরের পৃষ্ঠায় কি আছে তা পড়ার জন্য মন ব্যাকুল হয়ে ছিলো। ভাইয়ের প্রতি ভাইয়ের ভালোবাসা কিংবা সাহসী মানুষের শত্রু হওয়ার পরেও তাদের প্রতি সম্মানের যে বহিঃপ্রকাশ এখানে দেখেছি তা এই আধুনিক যুগেও বড্ড দূর্লভ। বইয়ে যে সামান্য কিছু দূর্বলতা ছিলো না, তা অস্বীকার করবো না। লেখক নিজেই ভূমিকায় বলেছেন এই বই উনি এক যুগ আগে লেখা শুরু করেছিলেন। যদিও লেখনশৈলী দেখে তা বিন্দুমাত্র বুঝার উপায় নেই। মধ্যযুগীয় সময়ের ভাব গাম্ভীর্যপূর্ন ভাষাশৈলী একটু কঠিন হলেও, বইয়ের কাহিনীর সময়কালের সাথে চমৎকারভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিলো। চমৎকার মধ্যযুগীয় আবহ তৈরী করেছেন লেখক। তবুও ওয়াক্ত নসীব বিষয়ক উক্তি কিংবা সুলতানের প্রতি কর্চিদের দায়িত্ব বিষয়ক বাক্যগুলোর বারবার পুনরাবৃত্তি ক্ষেত্র বিশেষে খুব সামান্য হলেও বিরক্তির জন্ম দিয়েছে। হতাশ হয়েছি অবশ্য শেষটুকু পড়ে। এটা একটা ট্রিলোজি তা আমরা জানি, কিন্তু তাই বলে এমন হুট করেই শেষ হয়ে যাবে?? দ্যান এগেইন, এই বইটাই এমন যে, যেকোনো জায়গাতেই শেষ করলেও সম্ভবত এই সেইম ফীলিংই হতো। এটা আগাগোড়া একটা এডভেঞ্চার, যা কোনো খন্ড আকারে নয়, পুরোটা একসাথে পড়ে যেতে হয়। আমি খুশী হতাম ট্রিলোজি না করে ডুয়োলজি করলে। এতে করে অন্তত ঈসার কাহিনী শুরু হতে না হতেই শেষ হয়ে যেতো না। এছাড়া দূর্গে কে সোলায়মান খানের উপর হামলা করিয়েছিলো, ফাতেমা খানম এবং সাউন্নেসার ভাগ্যে কি ঘটেছিলো? এমন কিছু প্রশ্ন রয়ে গেছে, যার উত্তর সম্ভবত আগামী বইগুলোতে পাওয়া যাবে। তবে এ সবকিছুই অত্যধিক গৌণ বিষয়। মোটাদাগে এটা একটা মাস্টারপিস আমার চোখে৷ পুরো বইটাই যদিও আমি উপভোগ করেছি, তবুও একটা সিকুয়েন্স বেছে নিতে বললে ঝট করে আমার মাথায় সোলায়মান খানের বিচারের দরবারটা চলে আসে। সামান্য কয়েকটা পাতায় এতো সুন্দর কোর্ট রুম ড্রামার অবতারণা করা, দ্যাট ওয়াজ মাস্টারক্লাস রাইটিং ফ্রম সিদ্দিক আহমেদ ভাই। #চরিত্রায়নঃ মাত্র ২৮৬ পাতার বইয়ে অসংখ্য চরিত্র উঠে এসেছে। এবং অদ্ভুতভাবে সেই সব চরিত্রদের ব্যাপ্তি যতো সংক্ষিপ্তই হোক না কেনো, তারা মনের ভিতর গেড়ে বসেছে। আমি সোলায়মান খানের ভক্ত হয়ে গিয়েছি। ভুল ভ্রান্তি মিলিয়ে বড্ড মানবিক এক সুলতান, পরিবারের প্রতি যার অগাধ মায়া এবং ভালোবাসা। তার ব্যক্তিত্ববোধ আমাকে ছুঁয়ে দিয়েছে গভীরভাবে। রহস্যময় এবং ক্ষুরধার বুদ্ধির দরিয়া খান ছিলেন বইয়ের আরেক বড় আকর্ষনীয় চরিত্র। এছাড়া সোলায়মান খানের তিন সেনাপতি, সোলায়মান খানের বড় ভাইজান কুতুবউদ্দিন খান, তাজ খান এরা সবাই বইয়ের প্রথম দুই ভাগে ভালোই রাজত্ব করেছেন। না থেকেও ছিলেন বাদশা হুমায়ুন। বইয়ে তার কোনো ভূমিকা না রেখেও চমৎকারভাবে হুমায়ুনকে বিশ্লেষন করেছেন লেখক। শেষ ভাগে এসে ইসমাইল এবং ঈসা, দুই ভাইয়ের জীবনের কাহিনী পড়তে গেলে চোখ আদ্র হতে বাধ্য। চরিত্রায়নের ক্ষেত্রে এটাই কি সিদ্দিক আহমেদের সেরা কাজ?! #প্রোডাকশনঃ ঋদ্ধ প্রকাশনের প্রথম বই, তাই সবদিকেই টপ নচ প্রোডাকশন বলা যাবে না। প্রচন্ড শক্ত বাইন্ডিং ছিলো, যা এই সাইজের বই পড়তেও বেশ প্যারা দিয়েছে। তবে বইয়ের বাকী সবই বেশ ভালো কোয়ালিটি সম্পন্ন ছিলো। বইয়ের ভিতরের অলংকারন এবং পেইজ কোয়ালিটি চোখজুড়ানো অনুভূতির জন্ম দিয়েছে। প্রতি কিস্তি শুরুর আগের চিত্রাংকন ছিলো নজরকাড়া। অল্প কিছু মূদ্রণ বিভ্রাট ছাড়া তেমন একটা বানান ভুল ছিলো না। একটা জায়গায় নাম বিভ্রাট ছাড়া, সম্পাদনাও বেশ ভালো হয়েছে। প্রচ্ছদ নরমালি সুন্দর বলা যায়। তবে কি না প্রচুর গেম খেলার কারনে এই বইয়ের প্রচ্ছদের সাথে একটা গেমের আর্টওয়ার্কের মিল খুঁজে পাই আমি। ঋদ্ধ প্রকাশনীর বাঁধাই এর প্রতি নজর দেয়ার অনুরোধ এবং উনাদের প্রতি শুভকামনা রইলো। #পার্সোনাল_রেটিংঃ ৯/১০ (#মাস্টরিড, আর কোনো কথা নাই।) #পরিশিষ্টঃ এই অংশটুকু শুধুই সিদ্দিক আহমেদ ভাইয়ের প্রতি। প্লিজ যতো দ্রুত সম্ভব পরের খন্ডগুলো নিয়ে আসুন। সামনে যতো বইই পড়ি না কেনো, এই বইটা মাথায় নিয়ে পড়তে হবে। দয়া করে আমাদেরকে এই কষ্টের মাঝে বেশীদিন রাখবেন না।

👌





















