

Buy সেই সময় Online in Bangladesh
লেখক: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় (নীললোহিত)
- Author: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় (নীললোহিত)
- Publisher: আনন্দ পাবলিশার্স (ভারত)
- Isbn: 9788170669708
- Number Of Pages: 709
- Language: বাংলা
- Edition: 14th Edition, 2014
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
‘সেই সময়’ বইয়ের ফ্ল্যাপের কথাঃ এই সেই সময় যখন কলকাতার বাবুসমাজ সূরা, নারী ও বুলবুলি-বিলাসে মগ্ন, যখন নব্যশিক্ষিত যুবকেরা প্ৰাণপণে ইংরেজ-অনুকরণে মত্ত, গ্রাম নিঃস্ব করে প্রজাশোষণের অর্থে চলেছে সংস্কৃতিচার্চা, সমাজ ও ধর্ম সংস্কার, তরুণ বিদ্যাসাগর রাত্রি জেগে রেড়ির তেলের আলোয় রচনা করছেন বাংলা গদ্যভাষা, জেগে উঠছে মধ্যবিত্ত শ্রেণী, এই সেই সময়- হ্যাঁ, একটি বিশেষ সময়ই সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের এই সুকীর্তিত উপন্যাসের মুখ্য চরিত্র। তিনি নিজেও এ-উপন্যাস সম্পর্কে লিখতে গিয়ে বলেছেন- “আমার কাহিনীর পটভূমিকা ১৮৪০ থেকে ১৮৭০ খ্ৰীষ্টাব্দ। এবং এই কাহিনীর মূল নায়কের নাম সময়।” লিখেছেন, “সময়কে রক্ত-মাংসে জীবিত করতে হলে অন্তত একটি প্রতীক চরিত্র গ্রহণ করতে হয়। নবীনকুমার সেই সময়ের প্রতীক। তার জন্মকাহিনী থেকে তার জীবনের নানা ঘটনার বৈপরীত্য, শেষ দিকে এক অচেনা যুবতীর মধ্যে মাতৃরূপ দৰ্শন এবং অদ্ভুত ধরনের মৃত্যু, সবই যে সেই প্রতীকের ধারাবাহিকতা, আশা করি তা আর বিশদভাবে এখানে বলবার প্রয়োজন নেই। প্রয়োজনীয় কথা শুধু এই যে, নবীনকুমারের চরিত্রে এক অকাল-মৃত্যু অসাধারণ ঐতিহাসিক যুবকের কিছুটা আদল আছে। অন্য কোনো প্ৰসিদ্ধ পুরুষের নাম বা জীবনকাহিনী আমি বদল করিনি...”। সত্যিই তাই। নাটকের শুরুতে যেমন দেওয়া থাকে পাত্ৰপাত্রীর নাম ও পরিচয়, তেমনভাবে এই বিপুল বর্ণাঢ্য উপন্যাসেরও গোড়াতেই যদি দেওয়া থাকত বিস্ময়কর মনে হত সেই তালিকা৷ মাইকেল, বিদ্যাসাগর, ডিরোজিও, হেয়ার সাহেব, দেবেন ঠাকুর-কে নেই। সমগ্র উনবিংশ শতাব্দীই যেন নানান চরিত্র হয়ে চোখের সামনে জীবন্ত। যেটুকু তফাৎ তা হল, গবেষকের রচনায় প্ৰাণ থাকে না, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সেই প্ৰাণটি প্রতিষ্ঠা করেছেন। এক দুরন্ত সময়ের জীবন্ত চলচ্চিত্র ‘সেই সময়’। বঙ্কিম ও আকাদেমি পুরস্কারে সম্মানিত এই গ্রন্থের দুটি খণ্ডকে এক মলাটের মধ্যে এনে সম্পূর্ণ নতুন আকারে প্রকাশিত হল এই রাজসংস্করণ। এ-গ্রন্থের বিপুল সমাদর ও স্থায়ী কীর্তিমূল্যের কথা মনে রেখে এ-এক আনন্দ-শ্রদ্ধাঞ্জলি।
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)
অসাধারণ সময় কাটল এই বইয়ের সাথে। সেই সময়েই যেন ঘুরে এলাম। ঘটনাগুলো কিছু সময় পর পর মনে জাগে। কী সুন্দর বর্ণনা! এত বড় বই খুব দ্রুতই পড়া হয়ে গেল। চমৎকার উপন্যাস!

"সেই সময়" লেখক: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় প্রকাশকাল: ১৯৮১ ধরন: ঐতিহাসিক উপন্যাস '' সমাজ পরিবর্তন সহজ নয়, তবু ইতিহাস বলে, কিছু মানুষ এগিয়ে আসে, প্রতিবাদ করে, এবং নতুন যুগের সূচনা করে '' সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের সেই সময় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সেরা ঐতিহাসিক উপন্যাস। এটি ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলার সমাজ, সংস্কৃতি, রাজনীতি , অর্থনীতি ও ধর্মীয় পরিস্থিতির এক বিস্তৃত চিত্র তুলে ধরে। এই উপন্যাসে লেখক বাস্তব চরিত্র ও কল্পনার সংমিশ্রণে এক অনন্য সাহিত্যিক ইতিহাস রচনা করেছেন। এটি কেবল অতীতের দলিল নয়, বরং একটি সময়ের স্পন্দন যা পাঠককে ফিরিয়ে নিয়ে যায় এক পরিবর্তনশীল কালের দ্বারপ্রান্তে। উপন্যাসের সময়কাল ১৮২০ থেকে ১৮৭০ সাল পর্যন্ত, যা বাংলার নবজাগরণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সময়। ভৌগোলিক বিস্তৃতি কলকাতা, বাংলার গ্রামাঞ্চল এবং ব্রিটিশ শাসিত ভারত।এই সময়কালেই বাংলার সমাজে এক নতুন চিন্তার জোয়ার আসে—যেখানে ধর্মীয় কুসংস্কারের বিরুদ্ধে যুক্তিবাদী ও আধুনিক চিন্তাভাবনার উত্থান ঘটে। ব্রিটিশ শাসনের অধীনে কলকাতা তখন ভারতের সাংস্কৃতিক ও শিক্ষার কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল। বাংলার নবজাগরণ, সমাজ সংস্কার আন্দোলন, নারী শিক্ষার প্রসার, ব্রিটিশ শাসনের দুঃসহ দিকগুলো, জমিদার ও কৃষকশ্রেণীর বৈষম্য—এসবই গল্পের সাথে মিশে গেছে অবিচ্ছেদ্যভাবে। উপন্যাসে উঠে এসেছে রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, দীনবন্ধু মিত্র, রানি রাসমণি, দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, ডিরোজিও, দ্বারকানাথ ঠাকুর, কেশবচন্দ্র সেন-এর মতো ব্যক্তিত্বের কর্মকাণ্ড, যাঁরা বাংলার সমাজকে বদলে দেওয়ার অগ্রনায়ক ছিলেন। মূল চরিত্র নবীনকুমার, যাঁর প্রতিচ্ছবি আমরা কালীপ্রসন্ন সিংহের জীবন থেকে পাই, গল্পের শুরুতেই তার জন্মের মাধ্যমে উপন্যাসের কাহিনি গড়ে ওঠে। নবীনকুমার এক সম্ভ্রান্ত ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করে, কিন্তু সমাজের প্রচলিত রীতিনীতির বিরুদ্ধে সে এক নতুন পথের সন্ধান করে, তাঁর মানবিকতা ও সমাজসেবামূলক চিন্তাধারা তাঁকে এক অনন্য চরিত্রে পরিণত করে। তাঁর মতোই গঙ্গানারায়ণও গল্পে এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করেছে। সমাজের নানা স্তরের মানুষের দ্বন্দ্ব, চিন্তাধারা এবং জীবনযাপনের পার্থক্য তুলে ধরার ক্ষেত্রে লেখক অনবদ্য দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। 📖 প্রধান বিষয়বস্তু 🟤 সমাজ পরিবর্তনের দ্বন্দ্ব উপন্যাসে একদিকে আছে রক্ষণশীল হিন্দু সমাজ, যেখানে সতীদাহ, বর্ণপ্রথা ও বিধবাদের প্রতি বৈষম্য চলছিল। অন্যদিকে, শিক্ষিত বাঙালিরা ইংরেজি শিক্ষা গ্রহণ করে নতুন সমাজ গঠনের স্বপ্ন দেখছিল। 🔹 পুরাতন বনাম নতুন ধ্যানধারণার লড়াই: নবীনকুমারের মতো চরিত্রদের মাধ্যমে লেখক দেখিয়েছেন, কীভাবে এক তরুণ ব্রাহ্মণ শিক্ষার আলোতে আলোকিত হয়ে সমাজের প্রচলিত নিয়মের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলে। 🔹 সতীদাহ প্রথার বিরোধিতা: রাজা রামমোহন রায়ের মতো চরিত্ররা সতীদাহ প্রথা রদের জন্য আন্দোলন গড়ে তোলেন, যা সমাজে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। 🔹 নারী শিক্ষার প্রসার ও বিধবা বিবাহ: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রচেষ্টায় বিধবা বিবাহ বৈধতা পায়, যা সামাজিক পরিবর্তনের এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ ছিল। 🟤 ব্রিটিশ শাসনের প্রভাব ও আধুনিক শিক্ষা 🔹 ব্রিটিশরা ভারতীয় সমাজকে শাসন করলেও তাদের ইংরেজি শিক্ষার বিস্তৃতি নবজাগরণের ভিত্তি তৈরি করে। 🔹 উপন্যাসে হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিওর ‘ইয়ং বেঙ্গল’ আন্দোলন ও তার প্রভাব স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। 🔹 মিশনারি স্কুল, প্রেসিডেন্সি কলেজের শিক্ষার মাধ্যমে কীভাবে এক নতুন বুদ্ধিবৃত্তিক প্রজন্ম তৈরি হচ্ছিল, তার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। 🟤 ধর্ম ও সংস্কারের সংঘাত 🔹 একদিকে হিন্দু সমাজের রক্ষণশীল অংশ পুরনো প্রথা বজায় রাখতে চায়, অন্যদিকে ব্রাহ্ম সমাজের মতো সংগঠন নতুন চিন্তা ছড়িয়ে দিতে চায়। 🔹 দ্বারকানাথ ঠাকুর, কেশবচন্দ্র সেনের মতো ব্যক্তিত্ব সমাজ সংস্কারের পথে কাজ করেন। 🟤 অর্থনৈতিক পরিবর্তন ও শিল্পবাণিজ্যের বিকাশ 🔹 দ্বারকানাথ ঠাকুরের মতো ব্যবসায়ী চরিত্রদের মাধ্যমে উপন্যাসে দেখানো হয়েছে, কীভাবে কলকাতা এক ব্যবসায়িক কেন্দ্রে পরিণত হয়। 🔹 ব্রিটিশদের মাধ্যমে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা নতুন বাণিজ্য শুরু করে। 🔹 নতুন সমাজব্যবস্থা তৈরি হলেও এতে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে বৈষম্য তৈরি হয়। এই উপন্যাস বাংলার সমাজ সংস্কারের ইতিহাস তুলে ধরার পাশাপাশি বর্তমান সমাজের জন্যও শিক্ষণীয়। এটি বাঙালির আত্মপরিচয়ের খোঁজ দেয় এবং আমাদের শেখায় যে সমাজ পরিবর্তন সহজ নয়, তবে তা অসম্ভবও নয়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের গদ্যের সাবলীলতা ও শক্তিশালী ভাষাশৈলী এই উপন্যাসকে নিয়ে গেছে অন্য এক উচ্চতায় । ইতিহাস আশ্রিত এই উপন্যাস গবেষণাধর্মী হলেও, কেবলমাত্র তথ্য উপস্থাপন নয়, বরং গল্প বলার দক্ষতায় লেখক এটিকে আকর্ষণীয় করে তুলেছেন।তাই ৭০০ পৃষ্ঠার উপন্যাস হওয়া সত্ত্বেও পাঠকের এক মুহূর্তের জন্যও একঘেয়ে লাগবে না।ইতিহাসের প্রতি আগ্রহী ও সমাজতাত্ত্বিক পরিবর্তন বুঝতে চাওয়া পাঠকদের জন্য এটি অবশ্যপাঠ্য। "সেই সময়" শুধুমাত্র একটি উপন্যাস নয়, এটি বাংলার নবজাগরণের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। লেখক অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ইতিহাস, সমাজ, রাজনীতি ও মানুষের মনস্তত্ত্বকে মিলিয়ে এক অসাধারণ সাহিত্য রচনা করেছেন। এটি একদিকে যেমন পাঠকের মনে ইতিহাসের প্রতি গভীর অনুরাগ তৈরি করে, অন্যদিকে সমাজ পরিবর্তনের জন্য আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। এই উপন্যাস আমাদের শেখায়— ''যে সমাজ একবার পরিবর্তন হয়, সে আর কখনও আগের জায়গায় ফিরে যেতে পারে না। নবজাগরণই প্রকৃত সমাজের পথপ্রদর্শক '' পছন্দের উক্তি “ঘটনার চেয়ে রটনার রূপ অনেক বেশী বিচিত্র এবং গতিবেগও প্রচন্ড”


good










#Rokomari_Book_Club_Review_Competition পোস্ট :১৪ প্রতিযোগির নাম :- Mohammed Siddik কোন উপন্যাসে যদি বিখ্যাত মানুষ যেমন মাইকেল-মধুসূদন-দত্ত,প্রিন্স দ্বারকানাথ,ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ঠাকুর যদি আপনার সামনে ঘুরে বেড়ায়।যদি এই সকল মনীষীগণ আমাদের কানে কানে কথা বলে তখন কেমন কেমন হবে! তেমনই এক অসাধারণ উপন্যাস "সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের" লিখা 'সেই সময় '।'সেই সময়' বলতে লেখক বুঝাতে চেয়েছেন ১৮৪০ থেকে ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত।যেখানে কলকাতার বহুল ঘটনা ও কাহিনী উল্লেখ আছে।সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের 'সেই সময়' উপন্যাস এক অনবদ্য রচনা। সেই সময় বলতে যখন কলকাতার সমাজ সুরা,নারী ও ভোগবিলাসে মত্ত ছিল।নব্য যুবকরা ইংরেজদের অনুকরণে ব্যস্ত।গ্রাম নিঃস্ব করেছে প্রজা শাসন। আর অন্যদিকে জেগে উঠেছে একদল যুব সমাজ। কোন একটি সময়কে উপস্থাপন করতে হলে একটি অবলম্বন দরকার।এই উপন্যাসের সেই অবলম্বন হলো নবীনকুমার।যিনি তৈরি হয়েছেন কালীপ্রসন্ন সিংহ চরিত্রের আদলে।নবীনকুমার এর সাথে বিভিন্ন চরিত্রে এসে মিশে যায়।প্রথমত হলো ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।যিনি উচ্চ সরকারী পদে চাকরি হওয়ার পর সমাজে বিধবা বিবাহ,কুসংস্কার,বালিকা বিদ্যালয় এবং সমাজ সংস্কারের জন্য কি পরিমান সংগ্রাম করে গেছেন তা এই উপন্যাস থেকে জানা যায়।নবীনকুমার জমিদার পুত্র।তার দাদা ছিলেন গঙ্গানারায়ণ সিংহ।তিনি পড়তেন কলকাতা হিন্দু কলেজ।হিন্দু কলেজে তিনি একদিন দেখতে পেলেন একজন যুবক শ্যাম বর্ণের,সে সুরাপান করেছে।এই ছিল সেই সময়কার সমাজের চিত্র।যে বেয়ারা তাকে বয়ে বাড়ি নিয়ে যেতেন,সে পকেটে হাত দিয়ে যা পেতো তাই সে তাদের কে দিয়ে দিত।বলতো রাজনারায়ণ দত্তের পুত্র কখনো গুনে পয়সা দেয় না। মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম থেকে নিজকে ইংরেজ কবি মনে করতেন।তিনি মনে করতেন বাংলা ভাষা হল মধ্যবিত্ত,গ্রাম্য ও কৃষক শ্রেণীর ভাষা।বাংলা ভাষার প্রতি তার তীব্র ঘৃণা ছিল।তবে মাইকেল মধুসূদন দত্ত অস্থির স্বভাবের লোক ছিলেন।তিনি শর্মিষ্ঠা নাটক লিখেছেন, মেঘ্নাদবদ কাব্য তিনি লিখেছেন। তাকে সংবর্ধনার জন্য ডাকা হলে তিনি বলেন ঐ (বাংলা)বলতে হবে! এই রকম নানান ঘটনা রয়েছে এই উপন্যাসে। প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর ছিলেন প্রচন্ড ব্যবসায়িক বুদ্ধি।তার বাবার অনেক ঋন ছিলো, তিনি তা শোধ করে।তবে তিনি বিলাসবহুল জীবনযাপন ছেড়ে আধ্যাত্মিকতা চর্চা করতেন। উপন্যাসে ব্রাহ্মণ সমাজের এর কথা ও জানা যায়।তবে উপন্যাসের অলীক চরিত্র হলো গঙ্গানারায়ণ সিংহ।তিনি একাধারে মেধাবী ছাত্র,আদর্শ জমিদার।সাধু-সন্ন্যাসী পছন্দ করতেন। তবে তা খুব বেশিদিন স্থায়ী ছিল না। গঙ্গানারায়ণ সিংহের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য এই যে,তিনি নীল বিদ্রোহের সময় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। একদিন মাইকেল মধুসূদন দত্ত বসে আছেন তার বন্ধুদের সঙ্গে।একজন পোস্টমাস্টার আসলেন একটা অনুরোধ করলেন নীল চাষীদের কষ্ট নিয়ে একটা নাটক লিখেন।মধুসূদন দত্ত বলেন আমি নাটক লিখবো না, আমি কাব্য লিখবো।আপনি লিখেন! তারপরই রচিত হয় অমর নাট্য কাহিনী 'নীলদর্পণ',তিনিই "দীনবন্ধু মিত্র"। সেই সময় কলকাতার দাদাবাবুদের দিকে যদি আমরা তাকাই তাহলে দেখব যে,তারা কঠিন রকমের ইংরেজি অনুকরণে ব্যস্ত এবং নানান রকমের অনৈতিক কাজ করতেন। এই উপন্যাসে যাকে নায়ক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে,তিনি নবীনকুমার। বিভিন্নভাবে বুঝানো হয়েছে তিনি আসলে কালীপ্রসন্ন সিংহ।যিনি সম্পূর্ণভাবে মহাভারত গদ্যে লিখেন,যেটা বিদ্যাসাগরের তত্ত্বাবধায়নে হয়েছে।যা তিনি উৎসর্গ করেছিলেন রানী ভিক্টোরিয়াকে।নবীনকুমার অকালমৃত্যু হয়,বিশাল জমিদারি থাকা সত্ত্বেও তিনি সমাজ সংস্কার,হুতোম প্যাঁচার ট্রাজেডি তিনি লিখেছিলেন।তবে নবীনকুমার(কালীপ্রসন্ন সিংহ) যখন মৃত্যু হয় সে-সময় খুব দুঃখ প্রকাশ করেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এবং খুবই কষ্ট পান। পরিশেষে বলা যায়, অনবদ্য এক উপন্যাস "সেই সময়" কে বলা হয়ে থাকে ১৮৪০থেকে ১৮৭০ সালের কলকাতার দলিল। ________________________ বই:- সেই সময় লেখক :- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় প্রথম অখন্ড সংস্করণ:- ১ বৈশাখ ১৩৯৮ প্রচ্ছদ :-সুনীল শীল প্রকাশক :- আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড পৃষ্ঠাসংখ্যা:-৭০৪ মূল্য:-৬০০৳ ব্যক্তিগত রেটিং:-৪.৭০/৫.০০ _________________________________
[পাঠ পর্যালোচনা ০৮] সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কিছু অমর সৃষ্টির মধ্যে অন্যতম একটি বই হলো 'সেই সময়'। প্রায় সাত শতাধিক পৃষ্ঠার বিশাল কলেবরের এই বইটি বাংলা সাহিত্যের একটি অমূল্য সৃষ্টি। ইতিহাস কে উপজীব্য করে লেখা হলেও কাঠখোট্টা টাইপের ইতিহাস বই নয় এটি। এটি একটি পুরোদুস্তর উপন্যাস। লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় পাঠক হিসেবেও যে সমৃদ্ধ, তাছাড়া ইতিহাস প্রাঞ্জলভাবে বলায় এবং এত বড় বইয়ে কোথাও খেই হারিয়ে না ফেলার যে মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন তা এক কথা বাহবা পাওয়ার যোগ্য। তবে একটা কথা বলে নেওয়া ভালো—অনেকেই ‘সেই সময়’ ‘প্রথম আলো’ এবং ‘পূর্ব পশ্চিম’ এই তিনটি বইকে সুনীলের ‘টাইম ট্রিলোজি’ বলে আখ্যা দেন। তবে বই তিনিটি তিন ভিন্ন সময়ের হলেও এবং সময়ের ধারাবিহকতা বজায় থাকলেও এরা কোন ট্রিলজির অন্তর্ভুক্ত নয়। এক বইয়ের সাথে নেই আরেক বইয়ের চরিত্রগত কোন সম্পর্ক। ‘সেই সময়’ এর সাথে ‘প্রথম আলো’র পটভূমি গত মিল থাকলেও নেই চরিত্রগত কোন মিল, আবার ‘পূর্ব পশ্চিম’ এর সাথে ঐ দুই বইয়ের নেই একেবারে মিল, সেখানে বাস্তব সময়ের বিভিন্ন ঘটনা উল্লেখ থাকলেও বাস্তব চরিত্রদেরকে উপন্যাসের মুখ্য চরিত্র হিসেবে পাওয়া যায় না। তাই এই তিনটি মাস্টারপিস বইয়ের যেকোন বই দিয়েই আপনি আপনার পড়া শুরু করতে পারেন। আবার প্রকাশের কাল বা ঘটনা প্রবাহের কাল অনুসারেও উপরিউক্ত সিরিয়াল মোতাবেক পড়তে পারেন। সেই সময়—বইয়ের কাহিনী গড়ে উঠেছে ঊনিশ শতকের কলকাতাকে ঘিরে। প্রধানত ১৮৪০ সাল থেকে ১৮৭০—এই ত্রিশ বছরের কাহিনীই বইটিতে জায়গা পেয়েছে। এই বই থেকে আমরা সেই সময়ের সাহিত্যের বাঘা বাঘা লোকদের উত্থান কীভাবে হয় তা জানতে পারবো। আমরা জানবো মাইকেল মধুসূদনের কথা, বিদ্যাসাগর, রাজশেখর বসু, প্র্যারীচাঁদ মিত্র বা দীনবন্ধু মিত্রের কথা। আবার আমরা ব্রাহ্ম সমাজের কথাও জানবো, জানবো ইয়ং বেঙ্গলের কথাও। আমরা পাবো ঠাকুর বাড়ির ইতিহাস থেকে শুরু করে দ্বারকানাথ ঠাকুরের কথা, তাঁর পুত্র দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথাও, এবং এক লাইনে জানতে পারবো রবীন্দরনাথ ঠাকুরের জন্মের সংবাদ। সেই ঊনিশ শতকে কলকাতার উচ্চবিত্ত সমাজের জীবনযাপন কেমন ছিল, তাদের নেশায় মত্ত জীবন, প্রায় প্রত্যেকেরই রক্ষিতা রাখার চল, যা বাবুপ্রথা নামে বেশী পরিচিত। তাদের অন্দরমহলের ভেতরের কথাও জানা যায়। সাথে বারবণিতাদের জীবনের কথাও উঠে আসে, উঠে আসে বড় জাত-ছোট জাত নিয়ে সমাজের বিশ্রী রূপ, যার ছিটেফোঁটা এখনও আমাদের সমাজে বিদ্যমান। তখনকার রাজনৈতিক ভাবনা কেমন ছিল, সবার ইংরেজী শিক্ষার ঝোক, ক্ষেত্রবিশেষে ইংরেজপ্রীতি, তার মধ্যেই আবার দেখতে পাবো সিপাহী বিদ্রোহ, নীল চাষী সহ সাধারণ মানুষদের উপর ইংরেজদের অকথ্য অত্যাচার, দেখতে পাব নীল বিদ্রোহও। এছাড়া বেথুন কলেজ, হিন্দু কলেজের মতো ইতিহাসবিখ্যাত কিছু কলেজের পূর্ব ইতিহাসও জানা যাবে বইটি থেকে। গল্পচ্ছলে ইতিহাসের এমন বিচরণ সচরাচর চোখে পড়ে না। ইতিহাস আশ্রয় করে অনেককেই লিখতে দেখা যায়, কিন্তু এত বিশদভাবে, বাস্তব চরিত্রের দিনযাপন এরূপ খুব একটা দেখা যায় না। লেখকের কল্পনা শক্তির পরিপূর্ণ ব্যবহার যেন লেখাটিকে ভিন্ন মাতা যোগ করেছে। লেখকের মতে এই বইয়ের মূল চরিত্র হলো সময়। কিন্তু তবুও আমরা যেন একটা মূল চরিত্র খুঁজে পাই। তাঁর নাম নবীন কুমার সিংহ। লেখক আভাস দিয়েছেন যে এই চরিত্রটি ইতিহাসের এক ক্ষণজন্মা স্বল্পায়ু যুবকের আদলে তৈরী। বুদ্ধিমান পাঠকের বুঝতে অসুবিধা হয় না যে সেই চরিত্রটি আসলে কালীপ্রসন্ন সিংহ এর চরিত্র থেকে অনুপ্রানিত। কালীপ্রসন্ন সিংহ সম্পর্কে যেটুকু জানা যায় তার বাইরে যেটুকু বইয়ে উল্লেখ আছে তা কতখানি সত্য তা লেখকই ভালো বলতে পারবেন। প্রায় চার দশক আগে প্রকাশিত এই বইটি দিনকেদিন পাঠক সমাজে আরও জনপ্রিয়তা অর্জন করছে। বইটি যে কালজয়ী বই সেটি বলতে আর দ্বিধা রাখে না। তাই আপনি যে ধরণের পাঠকই হন না কেন, আপনার জন্য এই বইটি একটি অবশ্যপাঠ্য বই।
প্রশ্ন ও উত্তর (Q/A)
Original ?
Of course, It's an original imported book.
এটা কি ১ম খন্ড নাকি ২য় খন্ড?
প্রিয় গ্রাহক, এটি অখণ্ড সংস্করণ। ১ম ও ২য় খণ্ড উভয়ই আছে।
Original ?
Of course, It's an original imported book.
এটা কি ১ম খন্ড নাকি ২য় খন্ড?
প্রিয় গ্রাহক, এটি অখণ্ড সংস্করণ। ১ম ও ২য় খণ্ড উভয়ই আছে।























