রুদালী
বই কালেকশন

Buy রুদালী Online in Bangladesh

লেখক: মহাশ্বেতা দেবী

4.56
(1 টি কাস্টমার রিভিউ)| স্টকে আছে
Highlights:
  • Author: মহাশ্বেতা দেবী
  • Publisher: দে’জ পাবলিশিং (ভারত)
  • Isbn: 9788129519641
  • Number Of Pages: 128
  • Language: বাংলা
  • Edition: 7th Edition, 2014
৳ 380৳ 4005% ছাড়
স্টকে আছে
উপলব্ধ প্রোমো কোডসমূহ:
দ্রুত ডেলিভারি
৭ দিনের রিটার্ন
১০০% অথেনটিক

পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)

গল্প ক্রম রুদালী - ৯ টুং-কুড় - ৫৬ গােহুমনি - ৭২

রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

4.56
(1 টি কাস্টমার রিভিউ)
5
100%
4
0%
3
0%
2
0%
1
0%
Harun-Ar-Rashid
Harun-Ar-Rashid ভেরিফাইড
30 Jul 2019

ভারতের রাজস্থানের টাহাড গ্রামে এক হতদরিদ্র নিম্নবর্ণের কোলে জন্ম শনিচরীর। জাতে গঞ্জু। গঞ্জু ও দুসাদবা এখানকার সংখ্যাগুরু। খেয়ে না খেয়ে, কখনও এক বেলা, কখনও দু'বেলা, কখনো আধপেটে আবার কখনো না খেয়েই দিনাতিপাত করছে এই সম্প্রদায়ের মানুষ। শনিবারে জন্ম বলেই নাকি ওর নাম শনিচরী রাখা হয়েছে। একদিকে দারিদ্র্যের সাথে চরম লড়াই, অন্যদিকে শ্বাশুড়ির 'অপয়া' খুটা শনিচরীর জীবনটাকে বিষিয়ে তুলেছে। ভয়াবহ শোথজ্বরে আক্রান্ত হয়ে শনিচরীর শ্বাশুড়ি ইহকাল ত্যাগ করলো। শনিচরীর চোখ দিয়ে এক ফোটা জলও গড়িয়ে পড়লো না। তিন বছর যেতে না যেতেই ভাশুড়, জা সবাই সাফ। তখনো কাঁদেনি শনিচরী। লাশ জ্বালানো, সস্তায় শ্রাদ্ধ করার আয়োজন, অপরদিকে দারিদ্রতার নিষ্ঠুর কষাঘাতে শনিচরীর চোখের জল শুকিয়ে গেছে। স্বামী আর ছয় বছরের ছেলে সন্তান বধুয়াকে নিয়ে শনিচরী কঠিন নিয়তির মুখোমুখি ভেলা বাসালো। তোহরীতে বৈশাখী মেলায় শিবঠাকুরকে দেওয়া পঁচা দুধ পান করে শনিচরীর স্বামী 'হায়জা'য় আক্রান্ত হয়ে ইহকালের মায়া ত্যাগ করেন। গ্রামের লোকজন শনিচরীকে কাঁদার সময়টুকুও দেয় নি। অন্যেরা হায়জায় আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে চোখের পলকে লাশ জ্বালিয়ে দেয় শনিচরীর স্বামীর। কুরুডা নদীর জলে মেঠে সিঁদুর মুছে দিয়ে হাতের শাখা ভেঙ্গে গৃহে ফিরে শনিচরী। চরম দারিদ্রতার নিষ্ঠুর জোয়াল কাঁধে নিয়ে বড় হলো বধুয়া। বিয়েও করলো। কষ্টের নীলাকাশে হঠাৎ আলোর ঝলকানি। পুত্র সন্তান জন্ম দিলো বধুয়ার স্ত্রী। শনিচরী শখ করে নাম রাখলো হারোয়া। আকাশে বিজলী চমকানোর মতো শনিচরীর সুখের প্রস্থান। বধুয়া আক্রান্ত হলো খোঁখী রোগে। রাতে জ্বর, দিনে ঘাম, কাশির সঙ্গে রক্ত। বধুয়াকে শয্যাশায়ী রেখেই চরম সুখের প্রত্যাশায় ডাইনী স্ত্রীর সংসার ত্যাগ। চোখের পলকে বধুয়ার জীবনবশান। চোখের জল অনেক আগেই শুকিয়ে গেছে, তাই এবারো কাঁদতে পারলো না শনিচরী। শনিচরী ভাঙ্গা সংসারের ঘানি টানতে টানতে যখন ক্লান্ত তখন কোনো এক ঘটনাচক্রে দেখা হলো বাল্য সখী বিখ্নির সাথে। কে বা কারা খুন করলো গ্রামের জোতদার ভৈরব সিং কে। লাশ দাহ করা হবে। ধর্মীয় প্রথা অনুযায়ী শোকের বাড়িতে আবহ তৈরী করতে 'রান্ডী' (পেশা যাদের বেশ্যাবৃত্তি করা) ডেকে আনা হতো। বাহ্যিক দৃষ্টিতে অদ্ভূত মনে করা হলেও ভারতের রাজস্থানে কয়েকশ বছরে ধরে চালু ছিল এই রীতি। এই সম্প্রদায়ে রান্ডী যারা ছিল তাদেরকে এখন শুকনো কাকের মতো মনে হয়। তেমন করে আর শোকের পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে না তারা। ভারত সিং এর শোকের মাতম অন্যরকম হওয়া চাই। দরকার দক্ষ 'রুদালী'র, যে নানা ভঙ্গিমায় রোদন করতে পারে। তাই ভারত সিং এর পেয়াদা দুলন রুদালী কাজের জন্য প্রস্তাব করলো শনিচরীকে। কিন্তু সংসারের চরম ঘানি টানতে টানতে, দারিদ্র্যতার নিষ্টুর কষাঘাতে পিষ্ট হয়ে, চোখের সামনে এতগুলো আপনজনের মৃত্যুতে চোখের সবটুকু জল শুকিয়ে গেছে শনিচরীর। সে কি পারবে দক্ষ ভঙ্গিমায় রোদন করে শোকের আবহ তৈরি করে পেয়াদা দুলনের মান রক্ষা করতে? দুলন বুঝালো, এ কান্না রুজির কান্না, এ কান্না বেঁচে থাকার কান্না, এ কান্না জীবন সংগ্রামে নিজেকে একটু সুখের ঠিকানায় নিয়ে যাওয়ার কান্না। রাজি হয়ে গেলো শনিচরী। সাথে আছে বাল্য সখী বিখ্নি। ভৈরব সিং এর শবদাহের আয়োজন করা হচ্ছে। রুদালীদের পেট ভরে গুড় চিড়ে খাওয়ানো হলো। শনিচরী আর বিখ্নি এমন স্বরে কাঁদলো, কান্নার সাথে এমন সুরে সুরে বললো ভৈরব সিং এর গুণের কথা, বাজারের রান্ডীরাও ঘোল খেয়ে গেলো। সারাদিন রোদন করে নগদ পাঁচ টাকা ও আড়াই সের চাল পেলো একেকজন। সারা রাজস্থানে ছড়িয়ে পড়লো শনিচরী আর বিখ্নির নাম যশ। যখনই কারো মৃত্যু হয়, তখনই ডাক পড়ে শনিচরী আর বিখ্নির। তারা পরিচিত হতে থাকলো রুদালী নামে। রুদালীদের পড়নে থাকে কালো পোশাক। মৃত্যুর দূত যমের পছন্দের রং নাকি কালো, আর তাই মৃত্যুর দূতকে খুশি করতেই কালো রঙের পোশাক পরেন তারা। এই রুদালীদের ব্যক্তিগত জীবনও অনেকটা তাদের পেশার মতোই। তথাকথিত নিচু বর্ণ থেকে উঠে আসা এই রুদালীদের সমাজে বিয়ে করার অনুমতি নেই! কারণ তারা যদি নিজের পরিবারের মধ্যে সুখের ঠিকানা খুঁজে পায় তাহলে শেষকৃত্যে গিয়ে কাঁদবে কারা? কিন্তু প্রশ্ন আসতে পারে শোকের পরিবারে অন্য মানুষের কাঁদার কী প্রয়োজন? আসলে সমাজের তথাকথিত উচ্চবর্ণের নারীদের অন্য সম্প্রদায়ের সামনে নিজেদের আবেগ-অনুভূতি প্রদর্শনের অনুমতি নেই। তাঁরা বড় বাড়ির আড়ালে থাকতেই অভ্যস্ত। আর তাঁদের জমানো দুঃখের বহিঃপ্রকাশ ঘটান এই রুদালীরা। রুদালীদের এই পেশা সাধারণ মানুষের কাছে অর্থহীন মনে হলেও, রাজস্থানের বেশকিছু জনগোষ্ঠীর কাছে এটি অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং সত্য। রুদালীদের কাজে নিয়োগ করার ক্ষেত্রে লিঙ্গ, জাত, শ্রেণী, অর্থনৈতিক অবস্থা ইত্যাদি আগে বিবেচনা করা হয়। যদি কেউ নিচু বর্ণের মানুষ হয় এবং তার অর্থের প্রয়োজন খুব বেশি হয়, তাহলে অনেকক্ষেত্রে জমিদার শ্রেণী তাদের রুদালি হতে বাধ্য করে- এমন নজিরও বর্তমান। তাদের চোখের জল এমনই এক বস্তু, যা টাকার বিনিময়ে খুব সহজেই কিনে নিতে পারে জমিদার শ্রেণীর মানুষ। তাই এটা কখনওই বলা যায় না যে, তারা নিজের ইচ্ছায় এমন পেশা বেছে নিয়েছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের এমনটা করতে বাধ্য করা হয়। বলা ভাল এই উচ্চবর্ণ এবং নিচু বর্ণের প্রকারভেদই সমাজে রুদালিদের জন্ম দিয়েছে। আর তাই প্রায়শই উচ্চবর্ণের শোষণের শিকার হন। এইসব নারীরা অনেকেই উঁচু বর্ণের ব্যক্তিদের অবৈধ সন্তানের জন্ম দেন। তবে যদি তারা কণ্যা সন্তানের জন্ম দেয়, তাহলে সেও ভাগ্যের ফেরে রুদালীর দলে যোগ দেয়। যদিও তাদের অন্ধবিশ্বাস কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়া রুদালী সমাজের জন্য অভিশাপ বয়ে নিয়ে আসে। তাই তাদের মধ্যে একটি প্রবাদ প্রচলিত রয়েছে যে, ‘পান্দো ভালো না কসকো, বেটি ভালি নায়েক’- যার অর্থ হল, খালি পায়ে মাইলের পর মেইল হেঁটে যাওয়াও ততটা কষ্টকর নয়, যতটা কষ্ট কন্যাসন্তান ঘরে এলে হয়। তবে পুত্রসন্তান হলেই যে সে সৌভাগ্য সঙ্গে নিয়ে আসে এমনটাও নয়। পুত্রসন্তান জন্ম নিলেও তার পিতৃ পরিচয় ব্যবহার করার কোনও অনুমতি নেই। কাজেই বংশপরম্পরায় তারা সমাজের কাছ থেকে অচ্ছুত আখ্যাই লাভ করে। নাম না-জানা, অপরিচিত মানুষের জন্য অশ্রু বিসর্জন করেও তাদের ভাড়ার অপূর্ণই থেকে যায়। ফুপিয়ে কাঁদা হোক বা মাটিতে গড়াগড়ি দিয়ে কাঁদা হোক মৃত ব্যক্তির সত্কার হওয়া পর্যন্ত অশ্রু বিসর্জনের জন্য জোটে নামমাত্র মুজুরি। সেইসঙ্গে ২টি বাসি রুটি আর কাঁচা পেঁয়াজ। তবে কেউ কেউ আবার ভাত এবং পড়নের কাপড়ও দান করেন। তবে যে যা-ই দান করুন না কেন, নিজেদের অভিনয় ফুটিয়ে তুলতে নিজেদের জীবনের দুঃখ-কষ্ট মনে করার চেষ্টা করে। সবসময় কিন্তু চাইলেই চোখ থেকে জল পড়ে না, তখন অঙ্গ-ভঙ্গি এবং বিলাপই ভরসা। তবে পেশাদার মহিলারা চোখে জল আনার বেশ কিছু কৌশল ব্যবহার করে। সেক্ষেত্রে অনেকে এক ধরনের গাছের শিকড় ব্যবহার করেন যা অনেকটা গ্লিসারিনের মতো কাজ করে। কেউ কেউ আবার চোখে কালি লাগান, যা থেকে তীব্র জ্বালা অনুভব এবং চোখ থেকে জল পড়তে থাকে। এই সম্প্রদায়ের জীবনের কঠিন সত্য অবলম্বনে রুপোলি পর্দায় চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়েছে ১৯৯৩ সালে। ছবিটির পরিচালনা করেন কল্পনা লাজমী। ছবিটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করে ডিম্পল কাপাডিয়া যথেষ্ট খ্যাতি অর্জন করেন। কিন্তু দুঃখ পিছু ছাড়ে নি শনিচরীদের। নিজের জীবন জীবিকার জন্য তীর্থের কাকের মতো প্রত্যাশা করতে হয় কারো মৃত্যুর। এ কেমন আজব পেশা রুদালীদের? শেষ পর্যন্ত কি আছে রুদালী এই শনিচরী আর বিখ্নিদের ভাগ্যে? শনিচরী কি পেরেছিলো এই রুদালী পেশা বেঁচে নিয়ে নিজেকে দারিদ্রতার নিষ্ঠুর কষাঘাত থেকে মুক্ত করতে? জানতে হলে পড়তে হবে 'রুদালী'। বিঃদ্রঃ এই রুদালীদের সম্পর্কে আমি প্রথম জানতে পারি ইন্টারনেটে একটি আর্টিকেল পড়ে। পরবর্তীতে রুদালীদের পূর্নাঙ্গ জীবন ধারা সম্পর্কে জানতে খুবই আগ্রহ হয় আমার। সেই আগ্রহ থেকেই গত ২৯ জুলাই বইপোকাদের আড্ডাখানা গ্রুপে একটি পোস্ট দেই। বইপোকাদের কাছে জানতে চাই রুদালীদের সম্পর্কে কোনো বই আছে কিনা। মুহূর্তেই হুমড়ি খেয়ে পড়ে বইপোকারা। চরম আগ্রহে অনেকেই জানতে চায় তাদের সম্পর্কে। কিছু বইপোকা 'রুদালী' বইটির পিডিএফ লিংকও দেয়। চরম আগ্রহে শত ব্যস্ততার মাঝেও আজ পড়া শেষ করি 'রুদালী' বইটি। তাদের জীবন ধারা লেখক এত সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন যে আমি অভিভূত না হয়ে পারলাম না। তবে জীবনের এই প্রথম পিডিএফ কোনো বই পড়লাম। পিডিএফ থেকে বই পড়া আমার কোনোকালেই পছন্দ ছিল না। কেননা, পিডিএফ থেকে বই পড়ে পুরো স্বাদ আমি পাইনি কখনো। সকল বইপোকাদের অনুরোধ রইলো, বইটি পড়ার জন্য। আশা করি সবারই ভালো লাগবে। বই : রুদালী লেখক : মহাশ্বেতা দেবী প্রকাশনায় : দে'জ পাবলিশিং, কলকাতা প্রচ্ছদ : দেবব্রত ঘোষ পৃষ্টা সংখ্যা : ১২৮ মূল্য : ২৫ রুপি রেটিং : ৪.৫/৫

প্রশ্ন ও উত্তর (Q/A)

দুঃখিত, কোনো প্রশ্ন উত্তর পাওয়া যায়নি।

সাদৃশ্যপূর্ণ পণ্যসমূহ (Similar Products)