

Buy প্রতিদ্বন্দ্বী Online in Bangladesh
লেখক: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় (নীললোহিত)
- Author: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় (নীললোহিত)
- Publisher: দে’জ পাবলিশিং (ভারত)
- Isbn: 9788129530681
- Number Of Pages: 112
- Language: বাংলা
- Edition: 6th Edition, 2017
পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)
প্রতিদ্বন্দ্বী (কিছু অংশ) এক সিদ্ধার্থ বাড়ি থেকে বেরুতে যাচ্ছিল, এমন সময় দেখলো ওদের বাড়ির সামনে একটা মোটর গাড়ি থেমে আছে। সামনে ড্রাইভার, পিছনের সীটে এক ভদ্রমহিলা। ড্রাইভার এদিক-ওদিক তাকাচ্ছে-এ-গলির শেষ বাড়ি সিদ্ধার্থদের। ওকে জিজ্ঞেস করলো, পঁচিশের এক? পঁচিশের এক, কালীপ্রসাদ চৌধুরী, কোন্ বাড়িটা? সিদ্ধার্থ একটু ভুরু কুঁচকে বললো, এই বাড়ি- ড্রাইভার নেমে পেছনের দরজা খুলে দিল। ভদ্রমহিলা নামলেন। চল্লিশ থেকে পঁয়তাল্লিশের মাঝামাঝি কোথাও বয়েস, ফরশা মুখে সোনার চশমা, বেশ ব্যক্তিত্বময়ী। স্পষ্টভাবে উচ্চারণ ক'রে তিনি বললেন, আমি কালীপ্রসাদ চৌধুরীর সঙ্গে একটু দেখা করতে চাই। তিনি বাড়ি আছেন? ছোটোকাকার সঙ্গে এ-রকম কোনো মহিলা আগে কোনোদিন দেখা করতে আসেনি। সিদ্ধার্থ কিছুটা অবাক হয়। দরজা খুলে দিয়ে বলে, আসুন, ভেতরে আসুন । দরজার পরেই বারান্দা, বারান্দার একপাশে টেবিল ও কয়েকটা চেয়ার পাতা, বাইরের কেউ এলে এখানেই বসতে হয়। চেয়ারের ওপর থেকে দোমড়ানো খবরের কাগজ সরিয়ে সিদ্ধার্থ বললো, আপনি একটু বসুন, আমি ওঁকে ডেকে দিচ্ছি। সেই মুহূর্তে ছোটোকাকার সঙ্গে মুখোমুখি হওয়ার কোনো ইচ্ছে ছিল না সিদ্ধার্থর। ভেতরে ঢুকে ডাকলো, টুনু! টুনু ! সাড়া নেই, টুনু বাড়ি নেই। মা মেঝেতে চাল ছড়িয়ে কাঁকর বাছছেন। এর মধ্যে কোনো-এক ফাঁকে তিনি জানালা দিয়ে ভদ্রমহিলাকে দেখে নিয়েছেন নিশ্চয়ই, কেননা সিদ্ধার্থকে দেখে জিজ্ঞেস করলেন, কে রে? কোত্থেকে এসেছেন? সিদ্ধার্থ হঠাৎ ঝাঁঝিয়ে উঠলো, আমি তা কী ক'রে জানবো? আমার কাছে এসেছে নাকি? —নাম জিজ্ঞেস করিসনি?
রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

প্রতিদ্বন্দ্বী কে? কিভাবে শুরু করব বুঝতে পারছি না! আচ্ছা, কখনও মধ্যবিত্ত ছেলে দেখেছেন? খুব গরীব ঘর থেকে আসা, মেধাবী ছেলে? এমন ছেলে যে বি এস সি দেওয়ার পর টাকার অভাবে পড়াশোনা শেষ করতে পারেনি? চাকরির জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছে? আমার মনে হয় দেখেছেন। এমন ছেলে আমাদের আশেপাশেই থাকে। আমাদের সমাজে যেকোন তিনজনের মধ্যে একজন ছেলে আসে টিপিক্যাল মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে। এই গল্পের নায়ক সিদ্ধার্থও এসেছে তেমনই একটি পরিবার থেকে। মেধাবী ছেলে সে। বি এস সি শেষ করে ডাক্তার হতে চেয়েছিল। কিন্তু বাবা মারা যাওয়ার পর ঘরে চলে আসে অপরিসীম অভাব। আত্মীয় স্বজনরা মুখ ফিরিয়ে নেয়। বিধবা মা আর ছোট ভাইবোনদের নিয়ে অকুল পাথারে পড়ে সিদ্ধার্থ। বড় ছেলে হয়েও এই পোড়াদেশে হাতে ডিগ্রির বোঝা নিয়ে হেঁটে বেড়ায় দুয়ারে দুয়ারে। অথচ একটা ছোটখাটো চাকরিও মেলে না তার। সংসারের হাল ধরতে ছোট বোনকেও লেখাপড়া অসম্পূর্ণ রেখে নেমে পড়তে হয় কর্মসংস্থানে! কিন্তু দিনশেষে আদৌ কি কোন লাভ হয়? সিদ্ধার্থ কি পারে জীবনকে হারাতে? নাকি নিজেই হেরে যায় জীবনের কাছে? প্রিয় পাঠক, কিছু কিছু বই থাকে যেগুলো পড়ার পর আমি এক ধরণের ঘোরের মধ্যে চলে যাই। চোখের সামনে চরিত্রগুলোকে এমনভাবে ভাসতে দেখি, গল্পের প্রতিটা দৃশ্যপট এমনভাবে বাস্তবিক মনে হয়, তখন আসলে সেই জিনিসগুলোকে নিয়ে কিছুই লিখতে পারি না। প্রতিদ্বন্দ্বী তেমনই একটি বই! উপরের লেখা পড়ে হয়ত অনেকে ভাবতে পারেন যে স্পয়লার দিয়ে ফেলেছি। আসলে তা না। এধরণের গল্পে রহস্য করার কিছু নেই। এগুলো জীবনের গল্প, আশেপাশের গল্প, আমাদের গল্প! আমরা প্রতিদিন এমন জীবনের সাথে বারবার পরিচিত হই। এক সাথে মেলামেশা করি। হাসি, আড্ডা দেই। একহাতে সিগারেট ধরে চায়ের কাপে ঝড় তুলি। আচ্ছা একটু ভাবুন তো, প্রতিদ্বন্দ্বী আসলে কে? কাকে আমরা প্রতি মুহুর্ত হারাতে চাই? ক্লাসের ফার্স্টবয়কে? অফিসের কলিগকে? বাসের কন্ডাক্টরকে? পাশের রিক্সাওয়ালাকে? নাকি নিজেকে? আমাদের আসল প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছে আমাদের নিজেদেরই জীবন। যে জীবন প্রতি মুহুর্ত আমাদের হারানোতে ব্যস্ত থাকে। আর আমরা? আমরা লড়াই করি তার সাথে। আঘাত পাই, দুঃখ পাই, হেরে যাই, জিতে যাই! এই হারজিতের খেলাই হচ্ছে বেঁচে থাকার একমাত্র মাধ্যম! লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এই হারজিতের গল্পটাই বলার চেষ্টা করেছেন। একটা মধ্যবিত্ত বেকার ছেলের স্বপ্ন, দুঃখ, ইচ্ছে, ভালোবাসা, পাওয়া, না পাওয়া, মনের অবাস্তব কথা... সব বিষয়গুলোই যেন ছবির মত ফুটে এসেছে তাঁর লেখায়। এখানে তিনি কোন দুঃখ দেখান নি। শুধু ছবির মত তুলে ধরেছেন এদেশের লক্ষ লক্ষ সেই সব যুবকের জীবন যারা যোগ্যতা থাকার পরও হেরে যায়! আবার সেই হেরে যাওয়া ভষ্ম থেকে জেগে ওঠে নতুন আশা নিয়ে। স্বপ্ন দেখে, একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে! প্রিয় পাঠক, আপনাদের কাছে অনুরোধ, বইটি না পড়ে থাকলে পড়ে ফেলুন। একজন বইপোকা হিসেবে এমন চমৎকার বই না পড়াটা আসলেই আফসোসে কারণ হবে! ও হ্যা! আরেকটা কথা। সত্যজিৎ রায় এর নাম শুনেছেন তো? উনি তৎকালীন কলকাতার জনজীবন নিয়ে ৩ টা সিনেমা করেছিলেন। এমন সব সিনেমা যেখানে সমাজের আসল চিত্র ফুটে উঠেছে। এই ৩ টে সিনেমাকে একসাথে বিলেতি ভাষায় ক্যালকাটা ট্রিলজি বলে। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রতিদ্বন্দ্বী সেই ক্যালাকাটা ট্রিলজি এরই প্রথম সিনেমা! ধন্যবাদ! হ্যাপি রিডিং! বইয়ের নামঃ প্রতিদ্বন্দ্বী লেখকঃ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় প্রকাশকালঃ ১৯৬৯ সালে প্রকাশকঃ দে’জ পাবলিশিং (১৯৮৯ সাল থেকে) পৃষ্ঠাঃ ১১২ মূদ্রিত মূল্যঃ ১০০ রুপি বাংলাদেশে মূল্যঃ ১৮০ টাকা (১.৮ কনভার্সন রেট) গুডরিডস রেটিংঃ ৪.০৮/৫ ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৪.৫/৫























