পালাবার পথ নেই
বই কালেকশন

Buy পালাবার পথ নেই Online in Bangladesh

লেখক: সুচিত্রা ভট্টাচার্য

5.00
(1 টি কাস্টমার রিভিউ)| স্টকে আছে
Highlights:
  • Author: সুচিত্রা ভট্টাচার্য
  • Publisher: আনন্দ পাবলিশার্স (ভারত)
  • Isbn: 9788172159955
  • Number Of Pages: 172
  • Language: বাংলা
  • Edition: 7th Edition, 2014
৳ 800৳ 800
স্টকে আছে
উপলব্ধ প্রোমো কোডসমূহ:
দ্রুত ডেলিভারি
৭ দিনের রিটার্ন
১০০% অথেনটিক

পণ্য সারসংক্ষেপ (Summary)

‘পালাবার পথ নেই’ বই এর ফ্ল্যাপের লেখাসাধারণ মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ে রূপসী বিদিশার লোভ ছিল আরও উপরে ওঠার। তার বিয়ে হয়েছিল এক ধনী ঘরে। কিন্তু সুখের শুরুতেই বিদিশার জীবনে নেমে এল এক সর্বগ্রাসী বিভীষিকা। শুরু হল ব্ল্যাকমেলিং। টেলিফোনে এক ধাতব কণ্ঠস্বর তাকে ক্রমাগত ভয় দেখিয়ে চলেছে, নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা না-দিলে বিদিশার সমস্ত অতীত-বৃত্তান্ত ফাঁস হয়ে যাবে। টাকা জুগিয়েও নিস্তার নেই। হঠাৎ ঘটে গেল এক নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড। অদৃশ্য আড়ালে কে এই ব্ল্যাকমেলার ? বিদিশা কোন পাপের ফল ভুগছে? নিজের লোভের? নাকি বহুচারিতার ? রহস্যের জটিল জাল ছাড়াতে এগিয়ে এল স্বনামখ্যাত গোয়েন্দা প্রজ্ঞাপারমিতা ওরফে মিতিন। কাকে সন্দেহ করছে মিতিন? কীভাবেই বা সে উন্মোচিত করল রহস্যের ঘেরাটোপ? চেনাজানা চরিত্রকে নিয়ে লেখা এই উপন্যাসের পরতে পরতে চমক। নিছক রহস্যকাহিনী নয়, তার চেয়েও বেশি কিছু এই উপন্যাস। সমসময়ের প্রতিচ্ছবি।

রিভিউ ও রেটিং (Review & Rating)

5.00
(1 টি কাস্টমার রিভিউ)
5
100%
4
0%
3
0%
2
0%
1
0%
সৈয়দা ফাতিমা বানু
সৈয়দা ফাতিমা বানু ভেরিফাইড
17 Apr 2019

ফোনটা এলো দুপুরবেলা। উত্তরের বারান্দায় বেতের দোলনায় দোল খাচ্ছিলো বিদিশা। দুপুরের খাওয়ার পালা চুকিয়ে শ্বশুরমশাই শুয়ে পড়েছেন, অর্চিষ্মানও নিলামঘরে। এসময়টা তাই বিদিশার অখন্ড অবসর। টিপটিপ বৃষ্টি পড়ছে। বাগানের দোলনচাঁপার নেশা নেশা সুবাসে চোখ জড়িয়ে এসেছিল মাত্র। বেজে উঠলো কোলের কর্ডলেস সেটটা। একটা হিম হিম কন্ঠস্বর বলে উঠলো 'সুখে আছ, বিদিশা?' লাইনটা কেটে দিয়েছিল বিদিশা প্রথমবার, হেঁয়ালি বা উড়ো ফোন ভেবে। আবার এলো। পঞ্চাশ হাজার টাকা চাইলো রহস্যময় কন্ঠস্বর। বিদিশার পায়ের নিচের জগত টলিয়ে দিয়ে বললো, 'সব ফাঁস করে দেব। সমস্ত প্রমাণ আছে আমার কাছে।' সরসর করে চোখের সামনে টুকরো স্মৃতি উড়ে এলো বিদিশার। সেই মহিম হালদার লেনের বাবার বাড়ি৷ পলেস্তারা খসা দেয়াল, সর্বাঙ্গে দারিদ্র্যের ছাপ, ওখানে জীবনের চব্বিশ বছর কাটিয়েছে বিদিশা। মধ্যবিত্ত ঘরের রূপসী মেয়েটি কম বয়সেই নিজের রূপকে ব্যবহার করা শিখে নিয়েছিল। টুকটাক যে শখগুলো বাবা-মা পূরণ করতে পারতেন না, তাই পুষিয়ে দিত কলেজের মিহির, তারও আগে ভাস্কর... অরুণ... এরপর অর্ক...! শ্বশুরমশাই দিননাথ রুদ্র নিজে বাড়ি বয়ে এসে বিয়ের কথাটা পেড়েছিলেন। রাস্তায় বিদিশাকে দেখে তাঁর ভারী ভালো লেগেছে, মা-মরা ছেলে অর্চিষ্মানের জন্য এমন লক্ষীই ঘরে নিতে চান। বনেদী বংশ, বিশাল আদি ব্যবসা, সল্টলেকে প্রাসাদের মতো বাড়ি - বয়সের পার্থক্য থাকলেও বিদিশার মা-বাবার আপত্তি করার কোনো কারণ ছিল। ব্যস, রূপকথার গল্পের মতোই সব ভুলে ঘুঁটেকুড়ানি থেকে রাজরাণী হয়ে গেল বিদিশা। কিন্তু সেসব জীবন তো পেছনে ফেলে এসেছে কবেই। কে আবার নিস্তরঙ্গ পুকুরে ঢেউ তুললো? লুকিয়ে গয়না বেচে টাকা জুগিয়েও নিস্তার পেলো না, আবার এলো ফোনটা। এবার চাই দু লাখ। বাপের বাড়িতে সস্তার খোপে লুকিয়ে রাখা প্রেমপত্রগুলোও চুরি হয়ে গেল! তারপর ঘটে গেল নৃশংস এক হত্যাকাণ্ড! বিদিশাকে আমূল কাঁপিয়ে দিয়ে সেই পুরনো ধাতব কন্ঠস্বর বেজে উঠলো ফোনে 'কেমন লাগছে এখন, বিদিশা?' কে এই খুনী ব্ল্যাকমেইলার? বিদিশার অতীত লোভ আর স্বার্থপরতার শাস্তি দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছে? কোনো পুরনো প্রেমিক? আপন অকর্মণ্য দাদা চিত্রভানু? নাকি স্বামী অর্চিস্মানই? সাহায্য করতে এগিয়ে এলো গোয়েন্দা প্রজ্ঞাপারমিতা মুখার্জি ওরফে মিতিন। সুচিত্রা ভট্টাচার্যের তার সৃষ্ট গোয়েন্দা চরিত্র মিতিনকে নিয়ে যেমন কিশোর কাহিনী লিখেছেন, তেমনি লিখেছেন বড়দের জন্যও। চার বছরের ছেলে বুমবুম আর স্বামী পার্থকে নিয়ে মিতিনের সংসার। এরমাঝেই তার শখের গোয়েন্দাগিরি। স্বামীপ্রবরটি মনখোলা মজার মানুষ, নিজেকে নির্দ্বিধায় মিতিনের সহকারী পরিচয় দেয়। দুজনে মিলেই গোয়েন্দাগিরিটা করে, তবে বুদ্ধি খেলানোর কাজটা মিতিনের। সুচিত্রা ভট্টাচার্যের লেখার মূল বৈশিষ্ট্য হলো তিনি মেয়েদের নিয়ে লেখেন, মেয়েদের জন্য লেখেন। তার উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র তাই নারীই হন। সুচিত্রার মতো করে নারীর মনস্তত্ত্বে উঁকি দিতেও আর কেউ পারেন না।  বিদিশার চরিত্রটিও লেখিকা ফুটিয়ে তুলেছেন এমনই এক দক্ষতায়। মধ্যবিত্ত পরিবারে রূপ-লাবণ্যকে পুঁজি করে বিদিশার পথ চলা, এবং একসময় অর্থবিত্তের লোভে বিয়ে করে ফেলাটা প্রাথমিক দৃষ্টিতে নারীত্বের প্রতি অপমান মনে হতে পারে। কিন্তু তলিয়ে ভাবলে এমন চরিত্র খুব বাস্তব, আমাদের চারপাশেই আছে। যদিও বিয়ের পর বৈভবের জীবনে বিদিশা জীর্ণ বাপের বাড়িকে করুনার চোখে দেখে, কিন্তু তার ওপর ঠিক রাগ হয় না। বরং পাঠকের তার জন্য একরকম মায়াই হবে। মানবচরিত্রের জটিল সমীকরণের পাশাপাশি, গল্পের রহস্যের জায়গাটাও লেখিকা রেখেছেন একদম ঠিকঠাক। চমৎকার সব মোড় আছে কাহিনীতে, টানটান উত্তেজনা, গল্পের গতি এবং পরিণতি সব যুৎসই বলা যায়। সেইসাথে আছে মিতিনের বুদ্ধির ধার এবং পার্থকে সাথে নিয়ে রহস্যের সুতাগুলো জোড়া লাগানো। তবে এটিকে কেবল রহস্য উপন্যাস বলা চলে না। ফেলে আসা পাপের ঝলক, অন্যায়ের মূল্য চুকানো এবং পরিতাপের গল্প বলেছেন সুচিত্রা ভট্টাচার্য। লোভ-কামনা-বাসনার যে পাপ, তার দাম না দিয়ে মানুষের পালিয়ে থাকতে পারে না। চেনাজানা চরিত্রের গল্প নিয়ে জীবনের প্রতিচ্ছবি আঁকা সুচিত্রা ভট্টাচার্যের রহস্য উপন্যাস 'পালাবার পথ নেই'।  বই: পালাবার পথ নেই লেখিকা: সুচিত্রা ভট্টাচার্য প্রকাশনায়: আনন্দ পাবলিশার্স  প্রকাশকাল: জানুয়ারি, ২০০০ পৃষ্ঠাসংখ্যা: ১৭২  ভারতীয় মূল্য: ৭০ টাকা

প্রশ্ন ও উত্তর (Q/A)

দুঃখিত, কোনো প্রশ্ন উত্তর পাওয়া যায়নি।

সাদৃশ্যপূর্ণ পণ্যসমূহ (Similar Products)